।ভারতের প্রেসিডেন্টগণ:।
| ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ | ২৬.০১.১৯৫০-১৩.০৫.১৯৬২ |
| ড. সর্বোপল্লি রাধাকৃঞ্চ | ১৩.০৫.১৯৬২-১৩.০৫.১৯৬৭ |
| ড. জাকির হোসেন | ১৩.০৫.১৯৬৭-০৩.০৫.১৯৬৯ |
| বরাহগিরি ভেঙ্কটগিরি | ০৩.০৫.১৯৬৯-২০.০৭.১৯৬৯ |
| মুহাম্মদ হিদায়েতুল্লা (অস্থায়ী) | ২০.০৭.১৯৬৯-২৪.০৮.১৯৬৯ |
| বরাহগিরি ভেঙ্কটগিরি | ২৪.০৮.১৯৬৯-২৪.০৮.১৯৭৪ |
| ফকরুদ্দিন আলি আহমদ | ২৪.০৮.১৯৭৪-১১.০২.১৯৭৭ |
| বিডি জাত্তি | ১১.০২.১৯৭৭-২৫.০৭.১৯৭৭ |
| নীলম সঞ্জিব রেড্ডি | ২৫.০৭.১৯৭৭-২৫.০৭.১৯৮২ |
| জ্ঞানী জৈল সিং | ২৫.০৭.১৯৮২-২৫.০৭.১৯৮৭ |
| আর ভেঙ্কটরমন | ২৫.০৭.১৯৮৭-২৫.০৭.১৯৯২ |
| ড. শঙ্কর দয়াল শর্মা | ২৫.০৭.১৯৯২-২৫.০৭.১৯৯৭ |
| কে. আর. নারায়ণ | ২৫.০৭.১৯৯৭-২৫.০৭.২০০২ |
| ড. এপিজে আবদুল কালাম | ২৫.০৭.২০০২-২৫.০৭.২০০৭ |
| প্রতিভা দেবীসিং পাতিল | ২৫.০৭.২০০৭-২৫.০৭.২০১২ |
| প্রণব কুমার মুখার্জি | ২৫.০৭.২০১২-বর্তমান |
।১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম:।
| পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু | ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭-২৭ মে, ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত |
| গুলজারে লাল নন্দ | ২৭ মে, ১৯৬৪-৯ জুন, ১৯৬৪ |
| লাল বাহাদুর শাস্ত্রী | ৯ জুন,১৯৬৪-১১ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তাসকন্দে |
| গুলজারে লাল নন্দ | ১১ জানুয়ারি,১৯৬৫-২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৬ |
| ইন্দিরা গান্ধী | ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৬-২৪ মার্চ, ১৯৭৭ সাল |
| মুরারজি দেশাই | ২৪ মার্চ, ১৯৭৭-২৮ জুলাই, ১৯৭৯ সাল |
| চৌধুরী চরণ সিং | ২৮ জুলাই, ১৯৭৯-১৪ জানুয়ারি, ১৯৮০ |
| ইন্দিরা গান্ধী | ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮০-৩১ অক্টোবর, ১৯৮৪ |
| রাজীব গান্ধী | ৩১ অক্টোবর, ১৯৮৪-১ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ |
| ভি.পি.সিং(রাজা সাহেব) | ০২-১২-১৯৮৯ থেকে ১০-১১-১৯৯০ তারিখ |
| চন্দ্র শেখর | ১০ নভেম্বর, ১৯৯০-২১ জুন, ১৯৯১ সাল |
| পিভি নরসীমা রাও | ২১ জুন, ১৯৯১-১৬ মে, ১৯৯৬ সাল |
| অটল বিহারী বাজপেয়ী | ১৬ মে, ১৯৯৬-১ জুন, ১৯৯৬ সাল |
| এইচ. ডি. দেব গৌড়া | ১ জুন, ১৯৯৬-২১ এপ্রিল, ১৯৯৭ সাল |
| আই. কে. গুজরাল | ২১ এপ্রিল, ১৯৯৭-১৯ মার্চ, ১৯৯৮ সাল |
| অটল বিহারী বাজপেয়ী | ১৯ মার্চ, ১৯৯৮-২২ মে, ২০০৪ সাল |
| ড. মনমোহন সিং | ২২-০৫-২০০৪-২২-০৫-২০০৯ তারিখ ও ২২-০৫-২০০৯-২৬-০৫-২০১৪ |
| নরেন্দ্র দামোদার দাস | ২৬-০৫-২০১৪ তারিখ থেকে |
| মোদি-প্রেসিডেন্ট ভবনে ইতিহাসের |
| স্বাক্ষী রাইসিনা হিলস | দেশী-বিদেশী |
| চার হাজার অতিথীর সামনে সপথ নেন |
| ০১-০৪-২০১৬ তারিখ থেকে ৩১-০৩-২০১৭ | বাজেট বর্ষ=মোট ১৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি | আগামী অর্থবর্ষে |
| তারিখ পর্যন্ত | অবকাঠামো বাবদ মোট ২ লাখ ২১ হাজার ২৪৬ রুপি | ২০১৮ |
| সালের মধ্যে সারা ভারতের সব গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ পাবে |
২০১৪ সালের ইন্টারনেটের সংবাদ-ভারতের রেল রোড ৬৫ হাজার কিলোমিটার। মোট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা-১,৪০,০০০(এক লক্ষ চল্লিশ) হাজার।
২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো : ৮০০ বছর পর আবার চালু নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। ভারতে বিহার রাজ্যে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস। বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজগির শহরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো। শহরটি বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান। সেখান থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে আজও দাঁড়িয়ে আছে দ্বাদশ শতকের প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়টির ধ্বংসাবশেষ। তুর্কি বাহিনীর এক অভিযানের সময় সেটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ৫ ছাত্রীসহ ১৫ জন শিক্ষার্থী ও ১১ জন শিক্ষক নিয়ে ০১-০৯-২০১৪ তারিখ থেকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপাচার্য জানান, গতকাল সকালে বাস্তত্মবিদ্যা ও পরিবেশ শিক্ষা এবং ইতিহাস শিক্ষা বিভাগের ক্লাশের মাধ্যমে ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম চালু করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখ কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শনকালে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ভারতের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ নোবেলজয়ী অমত্র্য সেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষেদর চেয়ারম্যান।
২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর, প্রথম আলো : বিপাকে মোদি। ভারতকে ''হিন্দু রাষ্ট্র'' করার স্বপ্ন চ্যালেঞ্জের মুখে। ভারতকে দীর্ঘ ৮০০ বছর পর আবার 'প্রকৃত হিন্দু রাষ্ট্রে' পরিণত করার যে স্বপ্ন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) আজন্ম স্বপ্ন দেখে আসছে, যে স্বপ্নের শরিক নরেন্দ্র মোদি নিজেই, তা তাঁকে দাঁড় করিয়েছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে। এতটাই যে, মোদির অসন্তোষ ও ক্ষোভও সংঘ পরিবারদের শরিকদের দমাতে ব্যর্থ। তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাটে ২০০ খ্রিষ্টানকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে এনে তাঁরই পরিবারের সদস্যরা তাদেরই প্রধানমন্ত্রীকে পরিহাস করেছে। ৮০০ বছর পর ভারত আবার অকৃত্রিম হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। সিংঘলের ইতিহাসজ্ঞান অনুযায়ী, এয়োদশ শতকে রাজপুত রাজা পৃথ্বিরাজ চৌহানের পরাজয়ের পর থেকেই নাকি ভারতের হিন্দুত্বে কালি লেপা শুরু।
২০১৫ সালের ৪ আগস্ট, প্রথম আলো : ছয় দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান! নাগা বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পরই নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল (এনএনসি) নামে স্বাধীন নাগা রাষ্ট্রের দাবিতে নাগাল্যান্ডে সশস্ত্র লড়াই শুরু হয়।
২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো : মায়ের কষ্টের কথা বলে কাঁদলেন নরেন্দ্র মোদি। মা অন্যের বাড়িতে বাসন মাজতেন-বাবা ক্যান্টিন চালাতেন। এ কথা বলে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে নরেন্দ্র মোদি। এ কথার সাথে তাঁর কাজের মিল নেই।
২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর, প্রথম আলো : পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন নয়ন তারা। ভারতের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন দেশটির ইংরেজি ভাষার লেখক নয়নতারা সেহগাল। ভারতের বৈচির্তেযর ওপর 'বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণ' ও একে সুরক্ষা দিতে সরকারের 'ব্যর্থতার' প্রতিবাদে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন লেখক। ৮৮ বছর বয়সী নয়নতারা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ভাগনি। তিনি ১৯৮৬ সালে ওই সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন। পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় নয়নতারা গরুর মাংস খাওয়ার গুজবের জেরে সম্প্রতি এক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা এবং যুক্তিবাদী এম এম কালবুর্গি, নরেন্দ্র দাভোলকার ও গোবিন্দ পানসারের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর, প্রথম আলো: ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষে এই সংবিধানের ৯৯তম সংবিধান-সংশোধন বিলটি পাস হয়ে আইনে রূপান্তরিত হয়। শুধু তা-ই নয়, দেশের ২০টি রাজ্যের বিধানসভাও এই আইনকে অনুমোদন করে।
২০১৬ সালের ১ এপ্রিল, প্রথম আলো: ৩১-০৩-২০১৬ তারিখ রাত ১০টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন একটি উড়ালসড়কের একাংশ ভেঙে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গুরুতর আহত হয়েছে ৭৮ জন। উত্তর কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলের জোড়াসাঁকো এলাকায় বিবেকানন্দ উড়ালসড়ক ভেঙে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
২০১৬ সালের ২৮ জুন, প্রথম আলো: এনএসজির সদস্য হওয়ার আশা বাড়ল। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিনিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠীতে ঢুকল ভারত ৩৫তম সদস্য হিসেবে। চীন যত দিন ভারতকে এনএসজিতে ঢুকতে বাধা দেবে, ভারতও তত দিন এমটিসিআরে চীনকে ঢুকতে দেবে না।
পাকিস্তান:
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছর আগে সিন্ধু উপত্যকায় তুলোর চাষ হত।
৩০০০-২০০০ খৃষ্টপূর্ব সিন্ধু সভ্যতা।
১০০১ সালে পেশোয়ারের কাছে গজনীর সুলতান মাহমুদ রাজা জয়পালকে পরাজিত করেন।
১০৩০ সালের ৩০ এপ্রিল, গজনীর সুলতান মাহমুদের মৃত্যু।
১১৫২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, সুলতান মাহমুদ গজনভীর ইন্তেকাল।
১৮৮২ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব, লাহোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৬ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর চেষ্টায় লক্ষ্ণৌ শহরে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যুক্ত অধিভেশন বসে।
১৯২২ সালে সিন্ধু সভ্যতা আবিস্কৃত হয়।
১৯২৩ সালের ৭ মার্চ, তৃতীয় পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়।
১৯৩০ সালে মুহম্মদ আলী জিন্নাহর মুসলিম লীগের স্থায়ী সভাপতি পদ লাভের পর মুসলিম লীগের অগ্রগতি আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করে, যেখানে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে একাধিক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। কংগ্রেস এ প্রস্তাবকে পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে চালিয়ে দিতে সক্ষম হয়। ইতোমধ্যে বৃটিশ সরকার ১৯৪৬ সালে মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা পেশ করে এ পরিকল্পনায় ভারতকে ৩-ভাগে বিভক্ত করার কথা বলা হয়। বর্তমান পাকিস্তান ও ভারতের পূর্ব পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যকে নিয়ে 'খ' অঞ্চল, বর্তমান বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিম বঙ্গ ও সেভেন সিস্টার এলাকা নিয়ে 'গ' অঞ্চল এবং ভারতের অবশিষ্ট বিশাল এলাকাকে 'ক' অঞ্চল করে একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব থাকে মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনায়। 'খ' অঞ্চলের সাথে 'গ' অঞ্চলের কোন প্রকার আলাদা সম্পর্কের ব্যবস্থা ছাড়াই মুসলিম লীগ স্বাধীন বৃহত্তর বাংলাকে গঠনের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালে মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা মেনে নেয়। ১৯৪৬ সালে বৃটিশ সরকার এ দেশ ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ মুহূর্তে বাংলা ও আসাম নিয়ে অবিভক্ত বাংলা গঠনের জন্য বাংলার প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী, কংগ্রেস নেতা শরৎ বসু ও কিরণ সঙ্কর রায় ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৭ সালে বাংলাকে অখন্ড রাখার বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি মুসলিম লীগ ও মুহম্মদ আলী জিন্নাহ র্কতৃক সমর্থন লাভ করে। কংগ্রেস পুনরায় স্বাধীন ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনের প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করে।
১৯৩০ সালের ২৯ ডিসেম্বর, নিখিল ভারত মুসলিম লীগের এলাহাবাদ সম্মেলনে ড. আল্লামা ইকবাল প্রথম উপমহাদেশে মুসলিম রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
১৯৩৫ সালের ৩১ মে, পাকিস্তানের কোয়েটায় ভূমিকম্পে ৫০,০০০ হাজার লোকের মৃত্যু।
১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে ছিল উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চালের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাসমূহে একাধিক স্বতন্ত্র, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করা।
১৯৩৯ সালের ১৬ মে, ক্যাবিনেট মিশন তার পরিকল্পনাটি প্রকাশ করে। আমার ১৫ এপ্রিলের বিবৃতিতে প্রদত্ত্ব ছকের সঙ্গে মূলত তা অভিন্ন ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনায় বলা হয়, মাত্র তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকবে। তিনটি বিষয় বলতে-প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রীয় ব্যাপার আর যোগাযোগ-যা আমার পরিকল্পনায় বাতলানো হয়েছিল। মিশন অবশ্য পরিকল্পনায় একটি নতুন জিনিস যোগ করে। এতে গোটা দেশকে 'ক', 'খ' ও 'গ' তিনটি মন্ডলে ভাগ করা হয় এই কারণে যে, মিশনের সদস্যেরা মনে করেছিলেন তাতে সংখ্যালগুদের মধ্যে ঢের বেশি ভরসার ভাব আসবে। 'খ'-অংশের মধ্যে পড়বে পাঞ্জাব, সিন্ধুপ্রদেশ, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ আর ব্রিটিশ বালুচিস্তান। এটা হবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল। 'গ'-অংশে, যার মধ্যে পড়বে বাংলা আর আসাম, বাকি সকলের চেয়ে মুসলমানদের সংখ্যা হবে সামান্য বেশি। ক্যাবিনেট মিশন ভেবেছিল, এই ব্যবস্থায় মুসলিম সংখ্যালঘুরা পুরোপুরি ভরসা লাভ করবে এবং লীগের যেসব ন্যায্য ভয়ভীতি তা দূর হবে।
অধিকাংশ বিষয়ের ব্যবস্থা হবে প্রাদেশিক স্তরে-মিশন আমার এই মতটি গ্রহণ করে। এইভাবে মুসলমানেরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশে প্রায় ষোলআনা স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। কেবল কয়েকটি স্বীকৃত বিষয়ের কার্যিনর্বাহ হবে আংশিক স্তরে। এখনও 'খ' ও 'গ' অংশে মুসলমানদের গরিষ্ঠতার নিশ্চয়তা মেলে এবং তারা তাদের সমস্ত ন্যায়সঙ্গত আশা পূরণ করতে পারে। কেন্দ্রের কথা ধরলে, কেবল তিনটি মাত্র বিষয় স্বাভাবিক কারণেই প্রাদেশিকভাবে চালনা করা যাবে না। ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার সঙ্গে আমার প্রস্থাবের আত্মিক মিল ছিল এবং তাতে একমাত্র সংযোজন ছিল তিনটি অংশের প্রবর্তন-সেই কারণে আমি মনে করেছিলাম যে প্রস্তাবটি আমাদের গ্রহণ করা উচিত। (মৌলানা আবুল কালাম আজাদ-ভারত স্বাধীন হল: এ বইয়ে পৃষ্ঠা-১১২)
১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনের সিদ্ধান্তে (রেজুলেশন) ভারতবিভক্তির কথা ছিল না। এই রেজুলেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিমপ্রধান এলাকা নিয়ে মুসলমানদের স্বাধীন বাসভূমি অখন্ড ভারতের মাঝে হওয়ার কথা বলা হয়েছে।' ১৯৪০ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছিলেন, 'টাইম অ্যান্ড টাইড' পত্রিকায় ১৯ জানুয়ারি, ১৯৪৬ সালে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপে। কনফেডারেশন নিয়ে পুরনো কাসুন্দি : পাক-বাংলা-ভারত উপমহাদেশের 'কনফেডারেশন' বিষয়টি এমন একটি ঢেঁকুর। অবশ্য এ আলোচনা গত ৬৮ বছর ধরেই চলছে। শ্রী কুলকার্নি প্রশ্ন করেছেন, 'কেন ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান হলো? পরবর্তীকালে বাংলাদেশ কেন পাকিস্তান ছাড়ল? এমন বহু প্রশ্ন আর এর জবাব ও দিয়েছেন তিনি।
একটি সত্য তিনি বলেছেন, 'ভারতবিভক্তির জন্য শুধু কায়েদে আযম দায়ী নন; বরং দায়ী জওহরলাল নেহরু ও বল্লভভাই প্যাটেল। আর মহাত্মা গান্ধী তাদের সমর্থন করেছেন।' কেন জিন্নাহ শেষের দিকে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য অনড় হলেন তার দ্বিজাতিতত্ত্বের মাঝ দিয়ে? 'অথচ তিনি সারা জীবন অখন্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন। তিনিই একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি মুসলিম লীগ ও ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি একসাথে ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূতহিসেবে পরিগণিত হতেন।' সরোজিনি নাইডু এ উপাধি তাকে দিয়েছিলেন।
কুলকার্নি কেন মনে করলেন, জিন্নাহ অখন্ড ভারত এবং কনফেডারেশনের পক্ষে ছিলেন? নিজের বক্তব্যে এর জবাব তিনি উল্লেখ করেছেন-১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনের সিদ্ধান্তে(রেজুলেশন) ভারতবিভক্তির কথা ছিল না। এই রেজুলেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিমপ্রধান এলাকা নিয়ে মুসলমানদের স্বাধীন বাসভূমি অখন্ড ভারতের মাঝে হওয়ার কথা বলা হয়েছে।' কুলকার্নি দাবি করেছেন, জিন্নাহ এই রেজুলেশন পাসের দুই মাস আগেও হিন্দু-মুসলমানের সাধারণ(কমন) মাতৃভূমি বলে লন্ডনের 'টাইম অ্যান্ড টাইড' পত্রিকায় ১৯ জানুয়ারি, ১৯৪০ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছিলেন।
জিন্নাহ ভারতবিভক্তি চাননি, জিন্নাহ মনে করেন, স্বাধীন পাকিস্তান ভারতের কনফেডারেশনের অংশ হবে।' এবং এ বক্তব্যকে 'ক্যারিকেচার করে হিন্দু সংবাদমাধ্যম লীগের দাবিকে ভারত বিভাগ বলে প্রচার করত।
কুলকার্নি বলেন, 'জিন্নাহকে তার দাবি(দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের স্বতন্ত্র স্বাধীন এলাকা) থেকে সরে আসার জন্য গান্ধী ১৯৪৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, ও ২৭ সেপ্টেম্বরের মাঝে ১৪ বার দেখা করেন এবং ২৪টি পত্র দেন। সেখানে ভারত বিভক্ত আন্দোলন না করে প্রথমে বিদেশী শক্তিকে তাড়ানোর ওপর জোর দেন।' কুলকার্নি গান্ধীর অনেক চিঠির কিছু অংশের উদ্ধৃতি দিলেও জিন্নাহর জবাবের মাত্র একটি উদ্ধাতাংশ দেন। সেখানে জিন্নাহ বলেছেন, 'বিদেশী তাড়ানোর আন্দোলনের আগে হিন্দু-মুসলমান সামস্যার সমাধান করতে হবে, যদি স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে হয়। কুলকার্নি গান্ধীর সাথে সুর মিলিয়ে লেখেন, 'এটা একটা অ্যাবসার্ড দাবি। দ্বিজাতিতত্ত্বের নিন্দা করে গান্ধীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'জিন্নাহ যদি মনে করেন হিন্দু ও মুসলমানেরা দু'টি জাতি, তাহলে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রে হিন্দু জাতির কী হবে?'' তিনি ভারতে মুসলমানদের কী অবস্থা হবে তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
জিন্নাহ কেন পাকিস্তান চাইলেন? টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রশ্নের জবাবে এর বিশেস্নষণ তিনি দেন। টাইম ১৯৪৬ সালে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপে। টাইম ম্যাগাজিন জিজ্ঞেস করে-আপনি(জিন্নাহ) খাঁটি মুসলমান নন(কেননা তিনি মদ খেতেন, দাড়ি রাখেননি), তবে কেন মুসলমানের জন্য পৃথক বাসভূমি চাইছেন? জিন্নাহ জবাবে গান্ধী-নেহরু-প্যাটেলের সাথেএক ভোজন অনুষ্ঠানের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, 'আমি তাদের (গান্ধী-নেহরু-প্যাটেল) জিজ্ঞেস করলাম, মুসলমানদের শাসনব্যবস্থায় কেমন অংশীদারিত্ব থাকবে। ইংরেজরা মুসলমানদের কাছ থেকেই এ দেশের শাসনব্যবস্থা কেড়ে নেয়। এ ছাড়া মুসলমানেরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-তারা এর জবাবে নিশ্চুপ থাকলেন। একই প্রশ্ন তিনবার পূনরাবৃত্তি করলেও তারা নিশ্চুপ রইলেন। তখনই বুঝতে পারলাম, তারা মুসলমানদের ক্ষমতার কোনো অংশ দিতে রাজি নয়। মুসলমানেরা সংখ্যালঘিষ্ঠ হওয়ার কারণে কোনো দিনইএই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার অংশ পাবে না। আমি তখনই পাকিস্তান দাবির সাথে একাত্মতা অনুভব করলাম।' পাকিস্তান দাবির আসল জনক কবি ইকবাল। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবিতে অনড় হওয়ার জন্য এটি একটি চমৎকার বিশেস্নষণ। বিশেষ করে বিভিন্ন আলোচনায় জিন্নাহ ছাড় দিলেও নেহরু তাঁর নীতিতে ছিলেন অটল।