নেহরু ছিলেন কেন্দ্রে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পক্ষে। কিন্তু জিন্নাহ ফেডারেল ব্যবস্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার বলয়ে মুসলমানেরা তথাকথিত গণতান্ত্রিক পন্থায় কোনো দিনই ঢুকতে পারত না। কারণ, তারা সংখ্যালঘিষ্ঠ। 'ভারত বিভক্তির জন্য ভারতীয় নেতা ও পত্রপত্রিকা জিন্নাহকে পুরোপুরি দোষারোপ করলেও-এটা সত্য নয়।' দি সার্চ ফর দি ভিলেন অব পার্টিশন ডিভাইডস ইন্ডিয়া' প্রবন্ধে(লন্ডনের গার্ডিয়ানে ১৮ আগষ্ট, ২০০৯ প্রকাশিত) অ্যান্ডু বানকমবে এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এর দায়িত্ব প্রধানত নেহরু ও প্যাটেলের। তারা যদি ক্যাবিনেট মিশনের প্রথম ফর্মুলা মেনে নিতেন, তাহলে ভারত বিভক্তির প্রয়োজন হতো না। ১৯৪৬ সালের ১৬ মে, ক্যাবিনেট মিশন অষন্ড ভারতে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ ঠিক করার একটি ফর্মুলা দেয়। এতে লুজ কনফেডারেশনের ইঈিত থাকে। জিন্নাহ এই প্রস্তাব মানলেও, নেহরু তা প্রত্যাখান করেন। এরপর ১৬ জুন ক্যাবিনেট মিশন ভারত বিভক্তির প্রস্তাব দেয়। জিন্নাহ দু'টি প্রস্তাব মেনে নেন এ জন্য যে, এতে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার বিষয় ছিল। কংগ্রেস প্রথম প্রস্তাবের প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন অধিকার বাদ দিয়ে কেন্দ্রশাসিত ভারতের দাবি তোলে এবং ''কুইট ইন্ডিয়া'' নামে হিংসাত্মক আন্দোলনের সূত্রপাত করে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ যশোবন্ত সিং তার ''জিন্নাহ :ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইন্ডিপেন্ডেন্স'' বইতে বলেছেন 'নেহরু-প্যাটেল যদি ক্যাবিনেট মিশনের প্রথমপ্রস্তাব মেনে নিতেন তাহলে ভারত বিভক্ত হতো না। কিন্তু তাঁরা ছিলেন অনমনীয়।'

'ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম' বইতে মওলানা আবুল কালাম আজাদও (ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী) একই মন্তব্য করেছেন। তিনি নেহরু প্যাটেলকে দেশ বিভাজনের জন্য দায়ী করেন।

ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতার প্রাক্কালে (১৯৪৭) যে দাঙ্গা ও রক্তবন্যা বইয়ে দেয়া হয়, তা-ও ছিল নেহরু-প্যাটেলের অনমনীয় দাবির ফসল। এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মূলত কেন্দ্রীভ্থত ছিল পাঞ্জাব ও বাংলায়। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবীতে এ দুটি প্রদেশ বিভক্ত করারা বিরোধিতা করা হয়। যদি এ বিভক্তি না হতো, তাহলে যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়, সামান্য ঘটনাগুলো থেকে তা হতো না এবং অন্তত ১০ লাল মানুষের জীবন বেঁচে যেত। দেড় কোটি লোক গৃহহীন হতো না। নেহরু-মাউন্টব্যাটেন এ দুটি প্রদেশকে ভাঙার কাজটি করেন। এর ফলে ইতিহাসের সর্ববৃহত দেশান্তর ঘটে এবং সাথে সাথে ঘটে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা।

আসলে সত্য কথা কেউ বলতে পারছে না। যেমন সামান্য সত্য বলার জন্য যশোবন্ত সিংকে বিজেপি থেকে বের করে দেয়া হয়। আবার ভিজিটর বইতে এল কে আদভানি 'জিন্নাহ হিন্দু-মুসলিম' মিলনের দূত' বলার জন্য পার্টিও পদ হারান। ভারত বিভাগ ও নেহরুর অনেক ইচ্ছার রূপায়ণে যে নারীর সবচেয়ে বেশি অবদান, তিনি হলেনতৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী এডউইনা। নিশিদ হাজারি তার বইতেও এর রেফারেন্স দিয়েছেন। অবশ্য মাউন্টব্যাটেনের কন্যা পামেলা পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার মায়ের সাথে নেহরুর গভীর সখ্য ছিল, তবে তা ছিল নিস্কাম ভালোবাসা। অবশ্য অনেক গবেষক এ বক্তব্য মানতে চাননি। মাউন্টব্যাটেন-এডউইনার স্কুলবন্ধু ছিলেন নেহরু। ফলে তাদের রাজনৈতিক মূল্যায়নেও এর প্রভাব পড়ে। যখন কাশ্মির পাকিস্তান প্রায় দখল করে নিচ্ছিল, তখন নেহরুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাউন্টব্যাটেন তাকে জাতিসংঘে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আর পাকিস্তানকে সৈন্য পাঠানো থেকে বিরত রাখেন, যদিও নেহরু সেখানে সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এ ধারণাটি দিয়েছিলেন এডউইনা। অথচ তখন দেয়া গণভোটের প্রস্তাব জাতিসংঘের দপ্তরে ৬৭ বছর পর এখনো ঝুলে আছে।

হাজারি এবং বহু লেখক প্রায়ই একই কথা বলেছেন, কনফেডরেশন হলে লাভবান হবে ভারত। তাহলে কেন বিভক্তির জন্য তারা সাড়া দিয়েছিল? একটি একটি জবাব হলো, তৎকালীন প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে ( যা ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ) মুসলমানদের স্বতন্ত বাসভূমির প্রতি যে ইচ্ছা তার সম্যক প্রকাশ ঘটে। আর অন্য পক্ষের উসকানিতে রক্তক্ষয় হওয়ার কারণে তাদের স্বার্থের জন্য কী করণীয় তা স্পষ্টত প্রকাশ পায়। যেমন হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি (যার সাথে ফজলুল হক মন্ত্রিসভাও গঠন করেছিলেন) পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করে হুমকি দিয়েছিলেন-হিন্দুরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এর বিরোদিতা করবে। এরপরই দাঙ্গা শুরু হয়।

সম্প্রতি পাকিস্তান ও ভারতের কয়েকটি টিভি টকশোতে এই কনফেডারেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বভাবতই দুই দেশের বক্তব্য দুই রকম হয়েছে। ভারতীয় টকশোর মূল বক্তব্য হলো, 'এটা (কনফেডারেশন) হলে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে।' পাকিস্তানের টকশোতে ভারতের বিরামহীন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার হিসাব তুলে ধরা হয় (প্রতিদিন অন্তত একটি) এবং মুসলমানেরা (২৫% হওয়া সত্ত্বেও) কোনো অংশদারিত্বে নেই, বরং কৌশলে সব সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এর মাঝে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারত অন্তত চারটি পথ দিয়ে পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার অনুমতি পেলেও বাংলাদেশ তেমন কোনো সুবিধা পায়নি। টকশোতে বলা হয়, জিন্নাহ একটি করিডোর দাবি করেছিলেন, কিন্তু নেহরু তা নাচক করে দেন।

১৯৪১ সালে ভারতবর্ষের আদমশুমারি অনুযায়ী পাঞ্জাব আর বাংলার মুসলিম গরিষ্ঠ জেলাসমূহ: মৌলানা আবুল কালাম আজাদ-ভারত স্বাধীন হল: এ বইয়ে ১৮৬ পৃষ্ঠায় দেখা যেতে পারে: ১. পাঞ্জাব: লাহোর বিভাগ-গুজরানওয়ালা, গুরুদাসপুর, লাহোর, শেখপুরা ও শিয়ালকোট।

রাওয়ালপিন্ডি বিভাগ: আটক, গুজরাট, ঝিলাম, মিয়াঁওয়ালী, রাওয়ালপিন্ডি, শালপুর। মুলতান বিভাগ: ডেরা গাজী খাঁ, ঝং, লায়ালপুর, মন্টগোমারি, মুলতান, মুজফফর গড়।

(২) বাংলা: চট্টগ্রাম বিভাগ-চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, ত্রিপুরা। ঢাকা বিভাগ-বাখরগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ। প্রেসিডেন্সি বিভাগ-যশোর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া। রাজশাহী বিভাগ-বগুড়া, দিনাজপুর, মালদহ, পাবনা, রাজশাহী, রংপুর।

১৯৪৫ সালের মহাযুদ্ধের পর অখন্ড ভারতে দেশরক্ষার খাতে খরচ হত এক শো কোটি টাকার কাছাকাছি। লর্ড ওয়াভেল নিজে মনে করতেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন বিভাগের জন্যে একশো কোটি টাকাই যথেষ্ট। এরপর এল দেশভাগ। অখন্ড বাহিনীর এক-চতুর্থাংশ পাকিস্তানে চলে গেল। এ সত্ত্বেও, ভারতকে তার প্রতিরক্ষা বাহিনী পোষার জন্যে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ভারত সরকারের রাজস্বের প্রায় অর্ধেক গলে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা বাবদ। পাকিস্তানের হাল এর চেয়ে খারাপ ছাড়া ভালো নয়। যদিও তার রাজ্যের আয়তন এবং সেনাবাহিনীর বহর ভারতের মাত্র এক-চতুর্থাংশ, তবু নিজের রাজস্ব থেকে সে খরচ করে চলেছে কম করে একশো কোটি টাকা; তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া সহায়সম্বলতো আছেই। শান্ত হয়ে ভেবে দেখলেই বোঝা যাবে, এতে করে কী বিরাট জাতীয় অপচয় হয়ে চলেছে। এ টাকা যদি অর্থৈনতিক উন্নতির জন্যে বরাদ্দ করা হত, তাহলে দেশের অগ্রগতি ঢের বেশি ত্বরান্বিত হতে পারত।

১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই, পাকিস্তান ইস্যুর উপর সিলেটে দু'দিনব্যাপী গণভোট শেষ হয়।

।পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল।

ক্রমিকনামমেয়াদকাল
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ১৪.০৮.১৯৪৭-১১.০৯.১৯৪৮
খাজা নাজিমউদ্দীন১১.০৯.১৯৪৮-১৯৫১
গোলাম মোহাম্মদ১৯৫১-১৯৫৫
ইস্কান্দার মির্জা১৯৫৫-১৯৫৬

।পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টগণ।

ক্রমিকনামমেয়াদকাল
ইস্কান্দার মির্জা২৩.০৩.১৯৫৬-২৭.১০.১৯৫৮
মোহাম্মদ আয়ুব খান২৭.১০.১৯৫৮-২৫.০৩.১৯৬৯
আগা মোঃ ইয়াহিয়া খান২৫.০৩.১৯৬৯-২০.১২.১৯৭১
জুলফিকার আলী ভুট্টো২০.১২.১৯৭১-১৩.০৮.১৯৭৩
চৌধুরী ফজল ইলাহি১৩.০৮.১৯৭৩-১৬.০৯.১৯৭৮
মোহাম্মদ জিয়াউল হক১৬.০৯.১৯৭৮-১৭.০৮.১৯৮৮
গোলাম ইসহাক খান১৭.০৮.১৯৮৮-১৮.০৭.১৯৯৩
ওয়াসিম সাজ্জাদ১৮.০৭.১৯৯৩-১৪.১১.১৯৯৩
ফারুক আহমেদ লেঘরী১৪.১১.১৯৯৩-০২.১২.১৯৯৭
মোহাম্মদ রফিক তারার০১.০১.১৯৯৮-২০.০৬.২০০১
পারভেজ মোশাররফ২০.০৬.২০০১-১৮.০৮.২০০৮
আসিফ আলী জারদারী০৯.০৯.২০০৮-০৯-০৯-২০১৩
মামনুন হুসাইন০৯-০৯-২০১৩-থেকে

।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীগণ।

ক্রমিকনামমেয়াদকাল
লিয়াকত আলী খান১৪.০৮.১৯৪৭-১৬.১০.১৯৫১
খাজা নাজিম উদ্দীন১৭.১০.১৯৫১-১৭.০৪.১৯৫৩
মোহাম্মদ আলী বোগরা১৭.০৪.১৯৫৩-১২.০৮.১৯৫৫
চৌধুরী মোহাম্মদ আলী১২.০৮.১৯৫৫-১২.০৯.১৯৫৬
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী১২.০৯.১৯৫৬-১৭.১০.১৯৫৭
ইব্রাহিম ইসমাইল চন্দ্রিগড়১৭.১০.১৯৫৭-১৬.১২.১৯৫৭
মালিক ফিরোজ খান নুন১৬.১২.১৯৫৭-০৭.১০.১৯৫৮
মোহাম্মদ আয়ুব খান০৭.১০.১৯৫৮-২৮.১০.১৯৫৮
আগা মো. ইয়াহিয়া খান১৯৬৯-১৯৭১
নুরুল আমিন০৭.১২.১৯৭১-২০.১২.১৯৭১
জুলফিকার আলী ভুট্টো১৪.০৮.১৯৭৩-০৫.০৭.১৯৭৭
মোহাম্মদ জিয়াউল হক১৯৭৭-১৯৮৫
মোহাম্মদ খান জুনাই২৪.০৩.১৯৮৫-২৯.০৫.১৯৮৮
মোহাম্মদ জিয়াউল হক(২য় মেয়াদে)১৯৮৮-১৯৮৮
বেনজির ভুট্টো০২.১২.১৯৮৮-০৬.০৮.১৯৯০
গোলাম মোস্তফা জাতোই০৬.০৮.১৯৯০-০৬.১১.১৯৯০
মঈন নেয়াজ শরীফ০৬-১১-১৯৯০-১৮.০৭.১৯৯৩
মঈনুদ্দিন আহম্মেদ কোরেসি১৮.০৭.১৯৯৩-১৮.০৭.১৯৯৩
বেনজির ভুট্টো১৮.০৭.১৯৯৩-০৫.১১.১৯৯৬
মালিক মেরাজ খালিদ০৫.১১.১৯৯৬-১৭.০২.১৯৯৭
মঈন নেয়াজ শরীফ(২য় মেয়াদে)১৭.০২.১৯৯৭-১২.১০.১৯৯৯
পারভেজ মোশাররফ১৯৯৯-২০০২
মীর জাফরুল্লাহ খান জামালি২১.১১.২০০২-২৬.০৬.২০০৪
চৌধুরী সাজ্জাদ হোসাইন৩০.০৬.২০০৪-২০.০৮.২০০৪
শওকত আজিজ২০.০৮.২০০৪-১৬.১১.২০০৭
মোহাম্মদ মিয়া সুমোরো১৬.১১.২০০৭-২৫.০৩.২০০৮
ইউসুফ রাজা গিলানি২৫.০৩.২০০৮-২২.০৬.২০১২
রাজা পারভেজ আশরাফ২২.০৬.২০১২-০৬-০৬-২০১৩
মঈন নেয়াজ শরীফ(৩য় মেয়াদে)০৬-০৬-২০১৩-থেকে

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানগণ

ইংরেজ জেনারেল
সেনা প্রধান জেনারেল ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খান
সেনা প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান
সেনা প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ জিয়াউল হক
সেনা প্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ
সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি(অব.)-১৪০৭-০৭-২০০৭-২৯-১১-২০১৩
সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ(১৫তম)২৯-১১-২০১৩-থেকে

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতিগণ

ইফতেখার মুহাম্মদ চৌধুরী১২-১২-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ছিল
৬৪ বছর বয়সী জিলানী১২-১২-২০১৩ তারিখ থেকে

২০১৩ সালের ২৯ নভেম্বর, পাকিস্তানের ছয় লাখ সদস্যের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এএফপি।

১৯৪৮ সালের ১ জুলাই, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা।

১৯৪৭ সালের ৫ আগষ্ট, পূর্ববঙ্গ পার্লােমন্টারী দলের নেতা নির্বাচনে নাজিমুদ্দিনের কাছে সোহরাওয়ার্দীর পরাজয়।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, করাচিতে নবগঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিভেশন।

১৯৪৮ সালের ৯ জুলাই, পাকিস্তান ডাক বিভাগ নিজস্ব ডিজাইনে ডাকটিকিট প্রকাশ করে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত মোট ৩০১টি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে ২০৭টি ডাকটিকিটেই উপজীব্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের বিষয় এবং পক্ষান্তরে ৩০টি ডাকটিকিটেই উপজীব্য ছিল প্‌ূর্ব-পাকিস্তানের বিষয়।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তান আমলে 'আনসার আইন' পাস হয়।

১৯৫০ সালের ৮ এপ্রিল, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান দিল্লী গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহর লাল নেহরুর সঙ্গে এ চুক্তি করেন যে, ভারতে কিংবা পাকিস্তানে যেখানেই সংখ্যালঘুদের ওপর অবিচার হোক না কেন, তা উভয় সমাজের প্রতিনিধিরা তদন্ত করে সুবিচারের বন্দোবস্ত করবেন। এটা ঐতিহাসিক দিল্লী চুক্তি বা নেহরু-লিয়াকত চুক্তি নামে খ্যাত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরু এ চুক্তির ১৮ দিন পর ১৯৫০ সালের ২৬ এপ্রিল, পাকিস্তান সফর করেছিলেন।

১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থেন আমলা গভর্ণর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনকে বরখাস্ত করেন।

১৯৫৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের মন্টোগোমারিতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আড়াইশ' যাত্রী নিহত হয়।

১৯৫৯ সালের ২৬ অক্টোবর, পাকিস্তান সরকার মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ জারি করে।

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পানিচুক্তি স্বাক্ষর।

১৯৬৫ সালের ৯ এপ্রিল, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৬৭ সালে জুলফিকার আলী ভূট্টোর নেতৃত্বে ''পাকিস্তান পিপলস পার্টি'' প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৬৭ সালের ৩০ এপ্রিল, পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক মুভমেন্টের ৮ দফা কর্মসূচী পেশ করা হয়।

১৯৬৭ সালের ৮ আগষ্ট, দক্ষিণ এশীয় জাতিসমূহের সংস্থা 'আশিয়ান' প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ, পাকিস্তানের একনায়ক আইয়ূব খান ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ইয়াহিয়ার নেতৃত্বে নতুন সামরিক শাসন জারি হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পাকিস্তানী সামরিক জান্তা মধ্যরাতে বাংলাদেশের জনগণের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করে ও পাশবিক গণহত্যা শুরু করে।

১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর, ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দেন। এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৭২ সালের ২১ এপ্রিল, পাকিস্তান কমনওয়েলথের সদস্যপদ ত্যাগ করে।

১৯৭৭ সালের ৫ জুলাই, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতাচ্যুহন। জেনারেল জিয়াউল হক প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন, দেশে ইসলামী আইন চালুর ঘোষণা দেন।

১৯৭৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ফাঁসির আদেশ বহাল ঘোষণা করে।

১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোর ফাঁসি কার্যকর।

১৯৮৮ সালের ২৯ মে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক সে দেশের জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেন।

১৯৮৮ সালের ১৭ আগষ্ট, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

১৯৮৮ সালের ১ ডিসেম্বর, বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানের প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বািচত।

১৯৯০ সালের ৬ আগষ্ট, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট গোলাম ইসহাক খান বেনজীর ভুট্টোর সরকারকে বরখাস্ত করেন।

১৯৯০ সালের ৬ নভেম্বর, পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১৯৯৩ সালের ১৭ এপ্রিলের হিসেব-পাকিস্তানে ৫২(বায়ান্ন) হাজার ডাক্তার আছে অর্থাৎ প্রতি ২,৫৩৮ জনে ১(এক) জন ডাক্তার।

১৯৯৩ সালের ১৮ এপ্রিল, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট গোলাম ইসহাক খান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সরকারকে বরখাস্ত করেন।

১৯৯৮ সালের ১৯ জুন ইত্তেফাকের রিপোর্ট: পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচীতে আরব দেশগুলো দিয়েছে-১৫০(একশত পঞ্চাশ) কোটি ডলার।

১৯৯৯ সালের ১১ অক্টোবর, পাকিস্তানের সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান পারভেজ মোশাররফ প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে অপসারণ করে ক্ষমতাসীন হন।

২০০০ সালের ২ জানুয়ারি, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার জন্য বিশ্ব সম্প্রায়ের কাছে ভারতের আহবান।

২০০০ সালের ৬ এপ্রিল, পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন আদালত সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেন।

২০০০ সালের ২২ জুলাই, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড।

২০০৩ সালের ২ জুলাই, পাকিস্তানের শিশু-কিশোরদের কাছে সিগারেট বিক্রি এবং বাস, ট্রেন ও বিমানে ধুমপান নিষিদ্ধ ঘোষণা।