১৮৩২ সালের ১১ জুলাই, সতীদাহ প্রথা বিলোপের বিরুদ্ধে ভারতের গোঁড়া হিন্দুদের আবেদন ব্রিটিশ পার্লােমন্টে নাচক হয়ে যায়।
১৮৩৪ সালের ১৯ এপ্রিল, বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৩৪ সালে বাজেয়াপ্তি আইন প্রবর্তন হয়।
১৮৩৫ সালে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা অফিস-আদালতে ইংরেজী ভাষা ব্যবহারের জন্য ইংরেজদের নিকট আবেদন করে। তাই তারা ১৮৩৭ সালে ফার্সীর পরিবর্তে ইংরেজী ভাষা চালু করার নির্দেশ দেন এবং ১৮৪৪ সালে ইংরেজী জানার সকল যুবকরা চাকুরি পেল।
১৮৩৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, লর্ড মেকলে উচ্চশিক্ষায় ইংরেজী শেখার পক্ষে প্রস্তাব দেন।
১৮৩৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, ভারতে প্রেস কালাকানুন বাতিলের দাবি জানিয়ে ব্রিটিশ রাজার কাছে পত্র দেন উইলিয়াম এ্যাডাম, দ্বারকানাথ ঠাকুর, ডেভিড হেয়ার প্রমুখ।
১৮৩৫ সালের ৭ মার্চ, ব্রিটিশ সরকার ভারতের সরকারী অফিস-আদালতে ফার্সী ভাষার পরিবর্তে ইংরেজী ভাষার প্রচলন শুরু করে।
১৮৩৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, ভারতে মুদ্রাযন্ত্রকে সংবাদ পরিবেশনের কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে 'লিবার্টি অব দি প্রে অ্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।
১৮৩৫ সালের ১২ নভেম্বর, ভারতে জমিদার সভা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৩৫ সালে ডান্ডিতে পাটের কলে কাজ শুরু হয়।
১৮৩৫ সালে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী প্রথম ভারতবর্ষের জমিদারী প্রথা নিলামে তোলে।
১৮৩৫-৫০ সাল পর্যন্ত সরকার ভারতবর্ষে শিক্ষানীতির ব্যাপারে বিভিন্ন ঘোষণা জারি করেন।
১৮৩৬ সালের ৪ মার্চ, লর্ড অকল্যান্ড ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
১৮৩৬ সালের ৮ মার্চ, কলকাতায় পাবলিক লাইব্রেরী উদ্ভোধন হয়।
১৮৩৭ সালে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী এদেশে ১ম ডাকঘর আইন বলবৎ করেন।
১৮৩৮ সালের ১৯ মার্চ, লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকের ভারতবর্ষ ত্যাগ।
১৮৩৯ সালের ১ জানুয়ারী, বৃটিশ সরকার আইন ও শুল্ক বিষয়ে ভারতে ফার্সি ভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
১৮৩৯ সালের ১৪ জুন, কলকাতায় বাংলা পাঠশালার ভিত্তি প্রস্ত্তর স্থাপিত হয়।
১৮৩৯ সালের ১৪ জুন, বাংলা দৈনিক 'সংবাদ প্রভাকর' ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত
১৮৪১ সালে ''ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর'' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পন্ডিত নিযুক্ত হন।
১৮৪২ সালের ১২ মার্চ, লর্ড অকল্যান্ড ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন।
১৮৪৬ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেষ্টায় এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে পত্রিকার মাধ্যমে "ব্রাহ্মসভা'' হিন্দু সমাজের মধ্যে রূপান্তরিত হয়।
১৮৪৭ সালে দুধু মিয়া সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
১৮৪৮ সালের ১২ জানুয়ারি, ভারতের গভর্নর জেনারেল হয়ে লর্ড ডালহৌসি কলকাতায় আসেন।
১৮৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ''সাপ্তাহিক অরুণোদয়'' প্রকাশিত হয়।
১৮৪৯ সালের ২৯ মার্চ, গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি সমগ্র পাঞ্জাবকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভূক্ত করেন।
১৮৫১ সালের ১১ ডিসেম্বর, স্ত্রী শিক্ষার প্রসার ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য বেথুন সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, ইস্ট-ইন্ডিয়া রেলওয়ে উদ্বোধন।
১৮৫২ সালে বাঙালি গণিতজ্ঞ রাধানাথ সিকদার(আবিস্কার) অঙ্ক কষে জানিয়ে দিলেন এভারেষ্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল, বোম্বাইয়ে প্রথম ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষে রেল যোগাযোগের সূচনা হয়। এটি চলেছিল বরিবন্দর থেকে থানে পর্যন্ত।
১৮৫৩ সালে ভারতবর্ষে চালু হয় ল্যান্ডফোন।
১৮৫৩ সালের পর হ'তে ভারতবর্ষে ইংরেজী শিক্ষা দ্রুত বিস্তার লাভ করতে থাকে।
১৮৫৪ সালের ১৫ আগষ্ট, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছিল হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত।
১৮৫৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, অবিভক্ত বাংলায় প্রথম ডাকটিকিট বিক্রি শুরু হয়।
১৮৫৪ সালে বোম্বে শহরে নতুন কাপড়ের কল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৫৪ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়।
১৮৫৫ সালের ১৪ জুন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'বর্ণ পরিচয়' দ্বিতীয় ভাগ প্রকাশিত হয়।
১৮৫৬ সালের ২ জানুয়ারি, ফটোগ্রাফী সোসাইটি অব বেঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলী ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে আত্মসমর্পণ।
১৮৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি, লর্ড ক্যানিং ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেলের দায়িত্বভার গ্রহণ।
১৮৫৬ সালের ৪ জুলাই, মৌলভী আহমদ উল্লাহ ও লাখনৌর বেগম হযরত মহলের সাথে যুদ্ধে ইংরেজদের পরাজয়।
১৮৫৬ সালের ১৬ জুলাই, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় লর্ড ক্যানিং হিন্দু বিধবা বিবাহকে বৈধতা দেন।
১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইন বিধিবদ্ধ ও চালু হয়।
১৮৫৬ সালে ইংরেজরা 'এনফিল্ড' নামের বন্দুকের ব্যবহার চালু করে।
১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি, কলকাতা, মুম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু।
১৮৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারি, ব্যারাকপুরের সিপাহিরা প্রথম বিদ্রোহ করে।
১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ, ভারতের ব্যারাকপুর সেনা ব্যারাকে মঙ্গলপান্ডের গুলী ছোঁড়ার মধ্য দিয়ে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বভারতীয় প্রথম সংগ্রাম কোনটি ''সিপাহী বিদ্রোহ''।
১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ, সিপাহী বিল্লব সংগঠিত হয়। ভারতীয় সৈনিক দ্বারা ইউরোপীয় অফিসারদের ব্যারাকপুরে আক্রমণ করা হয়।
১৮৫৭ সালের ৩ এপ্রিল, রাণী ভিক্টোরিয়াকে 'ভারত সম্রাজ্ঞী' ঘোষণা করা হয়।
১৮৫৭ সালের ৮ এপ্রিল, সিপাহী বিদ্রোহের অগ্রণী সৈনিক মঙ্গল পান্ডের ফাঁসি হয়।
১৮৫৭ সালের ১০ মে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়।
১৮৫৭ সালের ১১ মে, দিল্লীতে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হয়।
১৮৫৭ সালের ১৭ মে, সিপাহী বিপস্নবের নেত্রী ঝাঁসির রানী লক্ষীবাঈ নিহত হন।
১৮৫৭ সালের ৩০ মে, বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে লক্ষ্নৌতে, সমগ্র আওয়াধ অঞ্চলে।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের নায়িকা-ঝাঁসির রাণীর উপর কিছু নাটক লেখা হয়, ১৮৭০ সাল নাগাদ, মহারাষ্ট্রে।
১৮৫৭ সালের ৫ জুন, নানা সাহেব ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্র-ধারণ করল এবং দেড় মাস যেতে না যেতেই ১৮ জুলাই, ইংরেজদের কাছে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হল।
১৮৫৭ সালের ১৩ জুন, লর্ড ক্যানিং ভারতে সংবাদপত্র আইন চালু করেন।
১৮৫৭ সালের ৩০ জুন, লিখিত কার্ল-মার্কস র্কতৃক যে, ২০(বিশ) কোটি দেশীয়রা দমিত হচ্ছে ২(দুই) লাখ লোকের এক দেশীয় সৈন্যবাহিনী দ্বারা, যাদের অফিসাররা সব ইংরেজ; আর এ দেশীয় সৈন্যবাহিনীকে আবার সংযত করে রাখছে মাত্র ৪০,০০০ হাজার লোকের এক ইংরেজ সৈন্যবাহিনী।
১৮৫৭ সালের ৭ জুলাই, ইংরেজরা উপমহাদেশে শান্তি ঘোষণা করে।
১৮৫৭ সালের ১০ জুলাই, মিরাটে সিপাহী বিপস্নবের সূত্রপাত হয়।
১৮৫৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, বিদ্রোহী সিপাহীদের হাত থেকে বৃটিশ সেনাদের দিল্লী পুনর্দখল
১৮৫৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, দিল্লীর সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ বৃটিশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
১৮৫৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামকে নস্যাৎ করতে যে সব ইংরেজ উপমহাদেশবাসীর ওপর নারকীয় উপায়ে হত্যাকান্ড চালায় এবং শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায়।
১৮৫৭ সালের ১৭ নভেম্বর, স্যার কলিন ক্যাম্পবেল সিপাহী বিদ্রোহীদের কাছ থেকে লক্ষ্নৌ উদ্ধার করেন।
১৮৫৭ সালের ২৫ নভেম্বর, সিপাহী বিদ্রোহ দমনকারী ব্রিটিশ সেনা অফিসার স্যার হেনরি হ্যাভলকের মৃত্যু।
১৮৫৭ সালের ৬ ডিসেম্বর, স্যার কলিন ক্যাম্পবেল-এর বাহিনী কানপুরের যুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহীদের পরাজিত করে।
১৮৫৭ সালে মোহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ।
১৮৫৭ সালে মহাবিপস্নবের প্রতি উচ্চ ও শিক্ষিত মধ্য শ্রেণীর ভূমিকা সত্যই নিন্দনীয় ছিল।
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপস্নবের পর ইংরেজরা দিল্লী পুণর্দখল করে।
১৮৫৭ সালে প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা-যুদ্ধ।
১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সংগ্রাম সংঘটিত হয়।
১৮৫৮ সালের ২৭ জানুয়ারি, দেওয়ান-ই-খাসে বাহাদুর শাহ জাফরের বিচার শুরু।
১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ, ব্রিটিশ সরকার র্কতৃক ভারতের শেষ মুগল সম্রাট আবু জাফর সিরাজুদ্দিন মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ জাফর(দ্বিতীয়)-রেঙ্গুনে নির্বািসত হন। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের পর শেষ মুগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে শেকলে বন্ধী করে বার্মায় নির্যাতনে পাঠানো হয়। এর আগে তার পুত্রদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। বাহাদুর শাহ জাফর দীর্ঘ ৪-বছর এক গ্যারেজে অন্তরীণ থাকার পর (ভারতের শেষ মুগল সম্রাট আবু জাফর সিরাজুদ্দিন মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ জাফর(দ্বিতীয়)-এর জন্ম-১৭৭৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর) পরিচয়হীনভাবে অবমাননাকর অবস্থায় রেঙ্গুনের উপকন্ঠে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এ মৃত্যতেও ব্রিটিশ সিংহের ভয় কাটেনি বলেই মনে হয়। কারণ তার কবরের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন রাখা হয়নি। রেঙ্গুনে বাহাদুর শাহ জাফরের মাজার অলংকরণে ভারতের প্রস্তাব গ্রহণ করলো মিয়ানমার: তার এ কবরের সঠিক অবস্থান বহুকাল অঙ্গাত থাকার পর মাত্র ১৯৯১ সনে একটি স্মারক ভবন নির্মােণর জন্য খোঁড়াখোঁড়ির সময় কবরটির অবস্থান আবিস্কৃত হয়। কবরের নিচের মাটিতে রয়েছে এই কবর। ওপরেরটি নকল। দৃশ্যতঃ মনে হয় ভারতের শেষ সম্রাটকে নিয়ে ভারতে যাতে জাতীয়তাবাদী আবেগের জোয়ার না সৃষ্টি হয় সেজন্যই এ কৌশল। এ ধরণের মর্মািন্তক পরিণতির কথা অনুমান করেই খুব সম্ভবত তিনি তার এ অমর কাব্যচরণ লিখতে প্রেরণা পেয়েছিলেন "দো গজ জমিন ভি না মিলি"। অর্থাৎ যে আসমুদ্র হিমাচল ভারতের অধীশ্বর ছিলেন তিনি সেই তারও শেষ শয়নের জন্য হিন্দুস্তানের মাটিতে মাত্র দু'গজ জায়গাও মিললো না।
১৮৫৮ সালের ২০ জুন, গোয়ালিয়র দুর্গ ব্রিটিশ সৈন্যদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে সিপাহী বিদ্রোহের অবসান হয়।
১৮৫৮ সালের ৩১ আগষ্ট, ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে বৃটিশ সরকার ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে।
১৮৫৮ সালের ২ আগষ্ট, লর্ড স্ট্যানলির ভারত বিল পাশ, এতে করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির অবসান ঘটল। মহারাণী ভিক্টোরিয়ার সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হল ভারত। যুক্তরাজ্যের আয়তন-৯৪,২৫১ বর্গমাইল। তাঁরা তাদের দেশের আয়তনের চেয়ে-২৫২ গুন বেশী জায়গা দখল করে কলোনী গড়ে ছিল। তখন তাদেরকে বলা হত যে, তাদের সাম্রাজে সূর্য অস্ত যেত না। তাঁর মানে বুঝাতো যে, সূর্য পশ্চিমে উঠলে পূর্বে ডুবতো তাদেরই সাম্রাজ্যে, তার কারণ ছিল যে-৯৪,২৫১ঢ২৫২=২,৩৭,৫১,২৫২ বর্গমাইল যায়গা দখল করেছিল ইংরেজরা। পৃথিবীর আয়তন-৫,৭০,১৭,০০০ বর্গমাইল এর শতকরা ৪১.৬৬ ভাগ জায়গা ইংরেজরা দখল করেছিল।
১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট, ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতের শাসনভার সর্বোচ্চ শাসককে ''ভাইসরয়'' পদবি দেয়া হয়।
১৮৫৮ সালে রাণী ভিক্টোরিয়াকে ''ভারতেশ্বরী'' উপাধি দেওয়া হয়। ব্রিটিশগণ উপমহাদেশে আর রাজ্যবিস্তার করবে না-উক্তিটি কার-''রাণী ভিক্টোরিয়ার''।
১৮৫৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, দু'টি বিচারের বাংলা রায়ের প্রতিলিপি ব্যবহার করা হয়েছে। আট আনা মূল্যোর দলিলে ডেপুটি কালেক্টরের আপীলে আদালতের রায়টি বাংলায় লিখিত। ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রীমকোর্ট চালু হওয়ার পর ইংরেজদের আগ্রহেই ফারসী ও বাংলায় বহু ইংরেজী আইনের অনুবাদ করা হয়েছিল। সম্ভবত ১৮৬২ সালে কলকাতায় হাইকোর্ট চালু হলে বাংলা পুরোপুরি নির্বািসত হয়। ঢাকায় হাইকোর্ট স্থাপনের পর ইংরেজী প্রাধান্য পেয়ে আসছে।
১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর, বৃটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে ভারতের শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
১৮৫৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সম্পাদনায় মাসিক ''পূর্ণিমা' পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয়।
১৮৫৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, সিপাহী বিপস্নবের বীর যোদ্ধা নানা সাহেব নেপালে নির্বাসনকালে মারা যান।
১৮৫৯ সালে বীরবাঙ্গালীর সফল আন্দোলন হিসেবে ইতিহাসে উৎকীর্ণ হয়ে আছে নীল বিদ্রোহ।
১৮৫৯-৬১ সাল পর্যন্ত নীল বিরোধী আন্দোলনের প্রচন্ডতায় ব্রিটিশ সিংহাসনে টলটলয়মান অবস্থার সৃষ্টি হয়।
১৮৬০ সালের ২৩ জুন, উমেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পদনায় সাপ্তাহিক মনোহর প্রকাশিত।
১৮৬০ সালের ২৯ ডিসেম্বর, ভারতের প্রথম লৌহ নির্মিত জাহাজ সাগরে ভাসানো হয়।
১৮৬০ সালে ইন্ডিগো কমিশন গঠিত হয়।
১৮৬০ সালে বোম্বে শহরে বিশ্বের প্রথম ছাতি তৈরী হয়। ১৯০২ সালে বোম্বে শহরে আধুনিক ছাতা প্রস্তুত করা হয়।
১৮৬০ সালে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়।
১৮৬০-১৮৭০ সালের মধ্যে বহু বৃটিশ ও আমেরিকান মিশনারী ভারতে আসে।
১৮৬১ সালে বাংলার কৃষকদের বিদ্রোহের মুখে নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়।
১৮৬১ সালের ১ আগস্ট, মহষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অর্থানুকুল্যে ও মনোমোহন ঘোষের সম্পাদনায় পাক্ষিক 'ইন্ডিয়া মিরর' প্রকাশিত হয়।
১৮৬২ সালের ১৮ জানুয়ারি, বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল গঠিত হয়।
১৮৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, বঙ্গীয় আইন সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
১৮৬২ সালের ২১ জুন, অবিভক্ত ভারতের প্রথম ব্যারিস্টার জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর ইংল্যান্ডের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারী সনদ পান।
১৮৬৩ সালের ২ এপ্রিল, কলকাতায় মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৬৩ সালে স্যার সৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে সায়েন্টিফিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বইপত্রগুলো যখন উর্দুেত অনুবাদ করার কাজ হচ্ছিল সে সময়ে উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে উর্দু-হিন্দী বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। ১৮৭৬ সালের ২৮ এপ্রিল, রাণী ভিক্টোরিয়া 'ভারত সম্রাজ্ঞী' উপাধি গ্রহণ করার পর তখন সে সময়ে বড়লাট লর্ড লিটনের আমলে ১৮৭৭ সালের ১ জানুয়ারি, সোমবার দুপুরে ভারতের পূর্বতন রাজধানী দিল্লীতে যে রাজকীয় দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে মহারাজ্ঞীর রাজরাজশ্বরী উপাধি কেবলমাত্র ইংরেজী ও উর্দুেত পঠিত হয়। ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ, লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ২৭তম অধিবেশনে কায়দে-ই-আযমও উর্দুেত বক্তৃতা শুরু করেছিলেন, তবে বিদেশী সাংবাদিকরা থাকায় পরে তিনি ভাষণ ইংরেজীতে দেন।
১৮৬৩ সালের ৩০ এপ্রিল, ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভারতীয় নৌবাহিনীকে ব্রিটিশ এ্যাডমিরালের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
১৮৬৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১ম ভারতীয় আই. সি. এস পরীক্ষায় উওীর্ণ হন।
১৮৬৫ সালের ১৪ নভেম্বর, মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটক প্রথম অভিনীত হয়।
১৮৬৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, নারী সংগঠন 'ব্রহ্মিকা সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৬৭ সালের ৫ জানুয়ারি, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে 'জোড়াসাঁকো থিয়েটার'-এর উদ্বোধন করা হয়।
১৮৬৭ সালে ইংল্যান্ডে ১ম বক্তিতায় বাঙ্গালী ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি ভারতে প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্বপূর্ণ সরকার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।
১৮৬৮ সালের ৩০ মে, উপমহাদেশের বিখ্যাত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতের দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা।
১৮৭০ সালের ২৭ আগস্ট, শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম শ্রমজীবী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৮৭১ সালে দিল্লীতে রানী ভিক্টোরিয়াকে ভারতের সম্রাজ্ঞী ঘোষণা করা হয়।
১৮৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি, ভাইসরয় লর্ড মেয়ো আন্দামানে শের আলী খাঁ র্কতৃক ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
১৮৭২ সালের ২৮ মে, মহারাজ প্রতাপ সিংহ মেবারের সিংহাসন দখল করেন।
১৮৭২ সালে অবিভক্ত বাংলায় ১ম নাট্যশালা "ন্যাশনাল থিয়েটার'' প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৭২ সালে বৃটিশরা এ দেশের জনগণকে শাসন ও শোষনের উদ্দ্যেশে সিভিল সার্ভিস আরম্ভ করেছিল।