১৬৩৭ সালে সম্রাট শাহজাহানের আমলেই তারই তত্ত্বাবধান এবং নির্দেশনায় নির্মাণ করা হয় 'লাহোর শালিমার বাগ'। বাগানটি উন্মোচিত হয় ১৬৪২ সালে।

১৬৩৯ সালের ৮ জানুয়ারি, মোগল সেনা অধিনায়ক হিসেবে দারাশিকোহ পারস্যের বিরুদ্ধে কান্দাহারে প্রথম অভিযান চালান।

১৬৩৯ সালের ১৯ জানুয়ারী, সম্রাট শাহজাহানের পুত্র দারা শিকো'র লেখা 'সাফিনাৎ-উল-আউলিয়া' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

১৬৩৯ সালে সাবেক ব্রিটিশ সরকার 'মাদ্রাজ পাটনাম' নামকরণ করে।

১৬৩৯ সালে মাদ্রাজে ফোর্ট সেন্ট জর্জ নির্মিত হয়।

১৬৪০ সালের ১ মার্চ, বৃটিশরা মোগলদের কাছ থেকে মাদ্রাজে বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি পায়।

১৬৪৮ সালের ১৩ মে, মুঘল সম্রাট শাহজাহান দিল্লীতে লালকেল্লার নির্মান কাজ শুরু করেন।

১৬৫১ সালে শাহ্‌ সুজা ইংরেজদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যে সনদ দান করেন তা-ই তার শেষ পরিণতি।

১৬৫৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, তাজমহল নির্মাণ করা হয়।

১৬৫৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মোগল সম্রাট শাহজাহান আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সিংহাসন নিয়ে সন্তানদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ২২ জুলাই, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ভারতের সম্রাট হিসাবে সিংহাসনে বসেন। ৯৪ বছর বয়সে ও প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজত্ব করার পর মারা যান।

১৬৫৮ সালের ২১ জুলাই, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন।

১৬৫৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র সুজা বাহাদুরপুরে তার ভাই দারার কাছে পরাজিত হন।

১৬৫৮ সালের ৮ জুন, আওরঙ্গজেব তার পিতা সম্রাট শাহজাহানকে অন্তরীণ রেখে আগ্রার দুর্গ দখল করেন।

১৬৫৮ সালের ২১ জুলাই, মুগল সম্রাট আওরঙ্গজেব দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন।

১৬৫৮ সালের ৩১ জুলাই, সম্রাট আওরঙ্গজেব আগ্রা থেকে দিল্লীতে রাজধানী স্থানান্তর করেন।

১৬৫৯ সালের ১৪ এপ্রিল, দিল্লীর সিংহাসন নিয়ে সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদ্বয় আওরঙ্গজেব ও তার ভাই দারাশিকোহ'র সৈন্যদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

১৬৫৯ সালের ১৫ জুন, আওরঙ্গজেব আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেণ।

১৬৫৯ সালের ৩০ আগষ্ট, মোগল সম্রাট শাহজাহানের জ্যেষ্ঠপুত্র যুবরাজ দারাশিকোহ ঘাতকের হাতে নিহত হন।

১৬৬১ সালের ৩ এপ্রিল, ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি যুদ্ধে অংশ নেয়া এবং অস্ত্র নির্মাণ ইত্যাদির অধিকার সংক্রান্ত সনদ লাভ করে।

১৬৬১ সালে পর্তুগীজরা আসার পর এ শহরটির নাম দেয়া হয়েছিল 'বোম বাহিয়া' যার অর্থ 'শুভ সাগর'। ব্রিটিশরা আসার পর উচ্চারণের সুবিধার জন্য-এর নাম দেয়া হয় বোম্বে।

১৬৬৩ সালের ৩১ মার্চ, মোগল সেনাপতি মীর জুমলার ইন্তেকাল।

১৬৬৪ সালের ১৯ মার্চ, শায়েস্তা খাঁ বঙ্গের সুবাদার হিসেবে ঢাকায় আসেন। বাংলায় চলছিল কৃতিম খাদ্য সংকট। সায়েস্তা খাঁ বিভিন্ন রাজ্য পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি নিজের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি ইতিহাসে স্থান করে নেন কিংবদন্তি পুরুষ হিসেবে। তৎকালীন মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীর তখন মির্জা তালিবকে ''শায়েস্তা খান'' উপাধিতে ভূষিত করেন। শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় ৮(আট) মণ চাল পাওয়া যেত। জনগণের মনে এখনো ''শায়েস্তা খাঁর আমল'' কথাটির ব্যবহার হয় জিনিসপত্র সুলভে প্রাপ্তির প্রবাদবাক্য হিসেবে। কতিপয় অসৎ ব্যবয়ীর কারণে বাজারে যখন 'তোঘলিক কারবার' (তোঘলকের শাসনকাল ছিল ১৩২৫ থেকে ১৩৫১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত)।

১৬৬৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব ও মারাঠা নেতা শিবাজির মধ্যে পুরন্দর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৬৬৫ সালের ২৮ জুলাই, কবি আলাওলের 'তোহফা' কাব্যগ্রন্থ রচনা সমাপ্ত হয়।

১৬৬৫ সালের ৪ নভেম্বর, বিজাপুরের সুলতান মুহম্মদ আদিল শাহের ইন্তেকাল।

১৬৬৬ সালের ১২ মে, আগ্রায় মোগল সম্রাট আলমগীর ও মারাঠাধিপতি শিবাজীর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর।

১৬৭০ সালের ৩ অক্টোবর, শিবাজি সুরাট অভিযান শুরু করেন।

১৬৭৪ সালের ১ জুলাই, বিশাল বাহিনীসহ শিবাজী পাঞ্জাবের পেদগাঁওয়ে মোগল সেনাপতি বাহাদুর খাঁর শিবিরে হামলা চালান এবং কয়েক শত অশ্ব ও কোটি টাকার মালামাল লুণ্ঠন করেন।

১৬৭৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর, দিল্লীতে নবম শিখগুরু তেগ বাহাদুরের শিরশ্চেদ।

১৬৭৬ সালের ১৫ অক্টোবর, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব বিজাপুর অধিকার করেন।

১৬৭৬ সালের ১৫ অক্টোবর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতে টাকা মুদ্রনের অনুমতি লাভ করে।

১৬৮৬ সালের ২০ ডিসেম্বর, হুগলি ত্যাগ করে জব চার্নক সুতানুটিতে আশ্রয় নেন।

১৬৮৭ সালের ১৬ জুন, ইংরেজরা মোগল সাম্রাজ্যের সুতানুটিতে অস্ত্রাগার ও পোতাশ্রয় নির্মােণর অনুমতি পায়।

১৬৮৭সালের ৩০সেপ্টেম্বর,মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব হায়দরাবাদের গোলকুন্ডা দখল করেন।

১৬৮৭ সালের ১১ ডিসেম্বর,ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী সর্বপ্রথম মাদ্রাজে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেন।

১৬৯০ সালের ২৪ এপ্রিল, বৃটিশ নাগরিক জব চার্নক ভারতের সুতানুটিতে এসে বৃটেনের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীেত এই স্থানটি কলকাতা হিসেবে পরিচিতি পায় এবং উক্ত দিনটি কলকাতা নগরীর প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে গণ্য হয়।

১৬৯১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, মোঘল সাম্রাজ্যে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যের অনুমতি দিয়ে সম্রাট আওরঙ্গজেবের ফরমান জারি।

১৬৯৮ সালের ১০ নভেম্বর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী সনদ লাভ করেন।

১৭০০ সালের ৮ জুন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানটির বদলে ক্যালকাটা লেখা শুরু করেন।

১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ শাসনকার্যের সুবিধার্থে ঢাকা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করে মকসুদাবাদে আনেন। এ মকসুদাবাদই পরবর্তীকালে নবাব দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খাঁর নামানুসারে মুর্শিদাবাদ হয়।

১৭০১ সালের ২৮ এপ্রিল, মোগল সম্রাট আরঙ্গজেবের সাথে বিখ্যাত বৃটিশ লেখক জন মরিসের সাক্ষাৎ।

১৭০২ সালের ৬ অক্টোবর, ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে প্রথম বারের মতো বৃটিশ পতাকা উত্তোলন করা হয়।

১৭০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, অবিভক্ত বাংলায় পুলিশী ব্যবস্থার প্রবর্তন।

১৭০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, পন্ডিচেরির প্রথম ফরাসী গভর্নর জেনারেল ফ্রান্সিস মার্টিন-এর মৃত্যু।

১৭০৭ সালের ৩ মার্চ, দাক্ষিণাত্যের শিবিরে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব ইন্তেকাল করেন।

১৭০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি, প্রথম বাহাদুর শাহ হায়দরাবাদ দখল করেন।

১৭১২ সালের ১৯ এপ্রিল, জাহান্দার শাহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন এবং ১৭১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট জাহান্দার শাহ নিহত হন।

১৭১৬ সালে মুর্শিদ কুলী খান বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন।

১৭১৭ সালে ইংরেজরা মুঘল সম্রাট ফারুখ শিয়ারের কাছ থেকে শুল্কবিহীন বাণিজ্যের ছাড়পত্র দত্ত্বক পেয়েছিল।

১৭২৭ সালের ৩০ জুন, বাংলার সুবাদার মুর্শিদ কুলি খাঁর ইন্তেকাল।

১৭২৭ সালের ১৮ নভেম্বর, বিদ্যাধর চক্রবর্তীর নকশা অনুযায়ী মহারাজা দ্বিতীয় জয় সিং রাজস্থানের জয়পুর শহরের পত্তন করেন।

১৭২৭-২৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে জাফর আলী খান, নবাব আলীবর্দী খানের বৈমাত্রের ভগিনী শাহ খানমের সাথে বিবাহ হয়। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মায়ের সৎ ফুফুকে বিয়ে করেন মির জাফর আলী খান। এক কথায় সিরাজ-উদ-দৌলার নানার সৎ বোনের স্বামী-মির জাফর।

১৭২৮ সালে নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-০৩-০৭-১৭৫৭ সালে। তাঁর পূর্ণ নাম ও পদবি হয়-নবাব মনসুর-উল-মুলক মির্যা মোহাম্মদ শাহ কুলি খান সিরাজ-উদ-দৌলা হয়বত জঙ বাহাদুর নামে ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ এপ্রিল মহা জাঁকজমকের সঙ্গে তাঁর মাতামহের মসনদে আরোহণ করেন। তাঁর মাতামহ নবাব আলিবর্দী খান (১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল, না ৯ এপ্রিল, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলীবর্দী খাঁর ইন্তেকাল। মারা যাওয়ার ৭(সাত) দিন পর ক্ষমতা গ্রহণ করে নবাব সিরাজ-উদ্দৌলাহ'র সিংহাসনে আরোহণ করেন। নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত হন ২৩-০৬-১৭৫৭ সালে। মীরজাফর ও মীরনের অচিরেই সন্দেহ হলো রায়দুর্লভ বুঝি সিরাজের ছোট ভাই মির্জা মেহেদিকে সিংহাসনে বসানোর ষড়যন্ত্র করছেন। মীরন মেহেদিকে কালবিলম্ব না করে হত্যা করলেন; এবং এবং রায়দূর্লভকে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে হত্যা করার সুযোগ খুঁজতে লাগলেন। ক্লাইভের কল্যাণে রায়দুর্লভ প্রাণে বেঁচে গেলেও হারালেন তাঁর দেওয়ানি। সিরাজের বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গিনী লুৎফুন্নেসাকে; তিনিও ধরা পড়েছিলেন তাঁর একমাত্র কন্যা উম্মে জোহরাসহ ১৭৫৭ সালের ২৪ জুন। ধরা পড়ার পর লুৎফুন্নেসার ওপর মীর কাশিম অত্যাচার চালান গোপনে রাখা সোনাধানার সন্ধান চেয়ে। ১৭৫৮ সালে তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়। বন্দী করে রাখা হয় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী জিঞ্জিরা প্রাসাদে। এখানে তাঁরা বন্দী থাকেন সাত বছর পর্যন্ত। মীরজাফর ও মীরন দুজনই তাঁকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ঘৃণাভরে সেই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বারবার। ১৭৬৫ সালে লুৎফুন্নেসা মুক্তি পেয়ে কন্যাসহ ফিরে যান মুর্শিদাবাদে। ইংরেজরা তঁকে সামান্য ভাতা দিত। তাই দিয়ে জীবন নির্বাহ করতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭৯০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্বামী সিরাজদ্দৌলার কবরের ওপর প্রদীপ জ্বালিয়ে দিতেন।

১৭৩০ সালের ৩০ ডিসেম্বর, জাপানের হোক্কাইডুতে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে প্রায় দেড় লাখ লোক মরে।

১৭৩৮ সালে কুশধ্বস রায় ও তার পুত্র বলরাম রায় ভাওয়ালের রায় চৌধুরী বংশের পত্তন ঘটান। ৭ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত দ্বিতল এ ভবনে রয়েছে ছোট বড় ৩৬৫টি কক্ষ।

১৭৩৯ সালের ১৩ মার্চ, বাংলার সুবাদার সুজাউদ্দিন খানের ইন্তেকাল।

১৭৩৯ সালের ২৬ মে, মোগল সম্রাট মোহাম্মদ শাহ ও ইরানের নাদির শাহ'র মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে ভারত থেকে আফগানিস্তান পৃথক হয়ে যায়।

১৭৩৯ সালে সুজাউদ্দিন তাঁর পুত্র সরফরাজ খানকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেন।

১৭৫৬ সালের ২০ জুন, কলকাতায় অন্ধকুপ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

১৭৫৬ সালের ২০ জুন, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন।

১৭৫৭ সালের ৪ জানুয়ারি, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানিকে তাদের বিশেষ অধিকার ফিরিয়ে দেন।

১৭৫৭ সালের ৯ জানুয়ারি, রবার্ট ক্লাইভ হুগলি দখল করেন।

১৭৫৭ সালের ১৩ জুন, রবার্ট ক্লাইভ নবাব সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যুদ্ধ অভিযান শুরু করেন।

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, প্রথম পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবাব সিরাজ দৌল্লাহ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদ হ'তে যাত্রা শুরু করেন এবং মীরজাফর, খাদিম হোসেন ও রায়দুর্লভ তাঁরা সৈন্যদের নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে নিস্ক্রীয় দর্শেকর ভূমিকা পালন করেন।

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়।

১৭৫৭ সালের ২৮ জুন, মীর জাফর আলী খান নবাব হন এবং রবার্ট ক্লাইভ বেঙ্গলের গবর্নর নিযুক্ত হন।

১৭৫৭ সালের ২৯ জুন, মীর জাফর আলী খাঁর বাংলার নবাব হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ।

১৭৫৭ সালের ৩ জুলাই, মীরজাফর তনয় মীরনের নির্দেেশ মোহাম্মদী বেগ নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লার শাহাদাতবরণ করা হয়।

১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের ব্রিটিশ গভর্নর, গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়দের নাম ও সময়: গভর্নর:

লর্ড ক্লাইভ১৭৫৭-১৭৬০
লর্ড ভ্যান্সিটার্ট১৭৬০-১৭৬৫
লর্ড ক্লাইভ১৭৬৫-১৭৬৭
লর্ড ভেরেলস্ট১৭৬৭-১৭৬৯
লর্ড কার্টিয়ার১৭৬৯-১৭৭২
লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস১৭৭২-১৭৭৪

গভর্নর জেনারেল:

লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস১৭৭৪-১৭৮৫
স্যার জন ম্যাকফারসন১৭৮৫-১৭৮৬
লর্ড কর্নওয়ালিস১৭৮৬-১৭৯৩
স্যার জন শোর১৭৯৩-১৭৯৮
স্যার এ ক্লার্ক১৭৯৮-১৭৯৮
লর্ড ওয়েসেলি১৭৯৮-১৮০৫
লর্ড কর্নওয়ালিস১৮০৫-১৮০৫
স্যার জন মার্লো১৮০৫-১৮০৭
লর্ড মিন্টো১৮০৭-১৮১৩
লর্ড হেস্টিংস১৮১৩-১৮২৩
স্যার জন অ্যাডাম১৮২৩-১৮২৩
লর্ড আর্মহাস্ট১৮২৩-১৮২৮
লর্ড উইলিয়াম বেইল১৮২৮-১৮২৮
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক১৮২৮-১৮৩৫
লর্ড অকল্যান্ড১৮৩৬-১৮৪২
লর্ড এলনবরা১৮৪২-১৮৪৪
লর্ড উইলিয়াম বার্ড১৮৪৪-১৮৪৪
লর্ড হাডিং১৮৪৪-১৮৪৮
লর্ড ডালহৌসি১৮৪৮-১৮৫৬
লর্ড ক্যানিং১৮৫৬-১৮৫৮

ভাইসরয়:

লর্ড ক্যানিং১৮৫৮-১৮৬২
লর্ড এলথিন১৮৬২-১৮৬৩
লর্ড জন লরেন্স১৮৬৩-১৮৬৯
লর্ড মেয়ো১৮৬৯-১৮৭২
লর্ড নর্থব্রুক১৮৭২-১৮৭৬
লর্ড লিটন১৮৭৬-১৮৮০
লর্ড রিপন১৮৮০-১৮৮৪
লর্ড ডাফরিন১৮৮৪-১৮৮৮
লর্ড ল্যান্স ডাউন১৮৮৮-১৮৯৪
লর্ড এলগিন (দ্বিতীয়)১৮৯৪-১৮৯৯
লর্ড কার্জন১৮৯৯-১৯০৫
লর্ড মিন্টো(দ্বিতীয়)১৯০৫-১৯১০
লর্ড হার্ডিজ (দ্বিতীয়)১৯১০-১৯১৬
লর্ড চেমসফোর্ড১৯১৬-১৯২১
লর্ড রিডিং১৯২১-১৯২৬
লর্ড আরউইন১৯২৬-১৯৩১
লর্ড উইলিংডন১৯৩১-১৯৩৬
লর্ড লিনলিথগো১৯৩৬-১৯৪৩
লর্ড ওয়াভেল১৯৪৩-১৯৪৫
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন১৯৪৫-১৯৪৭

১৭৫৭ থেকে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত (পলাশীর যুদ্ধের পর) মীর জাফর নামেমাত্র নবাব ছিলেন।

১৭৫৮ সালের ১২ ডিসেম্বর, ফরাসি জেনারেল ল্যালি ইংরেজ অধিকৃত মাদ্রাজ দুর্গ দখল করেন।

১৭৫৮ সাল থেকেই ফকীর বিদ্রোহের নেতা মজনু শাহ প্রথমদিকে বাস করতেন ভারতের কানপুর থেকে চল্লিশ মাইল দূরে মকানপুর নামক শাহ মাদারের দরগায়।

১৭৫৮ সাল থেকে শুরু হয়ে আঠার শতকের পর উনিশ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত ফকীর অভিযান অব্যাহত ছিল। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘটিত সংঘবদ্ধ আন্দোলন ছিল-ফকির আন্দোলন।

১৭৫৯ সালেল ১৫ জুন, আওরঙ্গজেব আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রার সিংহাসনে আরোহন করেন।

১৭৫৯ সালের ৩০ নভেম্বর, মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর নিজ মন্ত্রীর হাতে নিহত হন।

১৭৬০ সালের ১১ জুন, মহীশুরের নবাব হায়দার আলীর সাথে বৃটিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ হয়।

১৭৬০ সালে বর্ধমাণ জেলায় সন্ন্যাসীরা বৃটিশদের বিরোদ্ধে ১ম সংগ্রাম শুরু করে।

১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত।

১৭৬১ সালের ৬ জানুয়ারি, পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ। পেশোয়া বালাজি বাজিরাও, গোয়ালিওর রাজসিন্দিয়াসহ পাঠান সর্দারদের সম্মিলিত বাহিনী আহমদ শাহ আবদালীর নিকট পরাজয়বরণ করে। একদিনের যুদ্ধে ২-লক্ষাধিক মারাঠা সৈন্য নিহত।

১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি, মারাঠা বাহিনী ও আহমদ শাহ দুররাণীর মধ্যে তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।

১৭৬১ সাল হ'তে নুতন কোম্পানী সরকার বার বার রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে থাকে।

১৭৬১ সালে বৃটিশ মিশনারী ও বাংলা গদ্যের প্রথম যুগের লেখক উইলিয়াম কেরীর জন্ম।

১৭৬১ সালে ফকিররা ইংরেজদের ঢাকা কুঠির আক্রমণ ও লুটপাট করেন।

১৭৬৩ সালে ফকীর বাহিনী ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর ঢাকা কুঠিতে আক্রমণ চালায়।

১৭৬৩ সালের ২৪ জুন, বৃটিশ সৈন্যদের মুর্শিদাবাদ দখল এবং মীর জাফর আলী খাঁকে বাংলার নবাবী প্রদান।

১৭৬৩ সালের ২ আগষ্ট, মুর্শিদাবাদ দখলের পর বৃটিশ সৈন্য গিরিয়াতে মীর কাশিমের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ যুদ্ধে মীর কাশিম পরাজিত হয়।

১৭৬৩ সালের ৬ নভেম্বর, নবাব মীর কাশিমের কাছ থেকে ব্রিটিশের পাটনা দখল।

১৭৬৩ সালে ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে এদেশে যে ফকির আন্দোলন বা সন্ন্যাস আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেই আন্দোলনের নেতা ছিল ফকির মজনু শাহ। ফকির মজনু শাহ ছাড়া আর কে ছিল-ভবানী পাঠক।

১৭৬৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, বৃটিশ বাহিনী রাজমহলের কাছাকাছি উদয়নালায় মীর কাশিমকে পরাজিত করে।

১৭৬৩ সালে বরিশালে ফকিররা প্রথম ইংরেজদের ওপর হামলা করে।

১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর, মীর কাসিম এবং ইংরেজদের মধ্যে 'বক্সার' নামক যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ১৭৬৪ সালের ২৩ অক্টোবর, বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম ব্রিটিশদের কাছে পরাজয় বরণ করেণ।