১২৬০ সালের দিকে ভারতবর্ষের প্রথম বই ফার্সী ভাষায় লেখা তবকাত-ই-নাসিরী। এর পূর্বে ভারতবর্ষে আর কোন ভাষায় বই লেখা হয়নি।
১২৬৬ সালের ১৬ জুলাই, ভারতবর্ষের সাধক সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের ইন্তেকাল।
১১'শ শতকে শুরু হয় ভারতে মুসলিম ধর্ম প্রচারের সময় এবং ১২'শ শতকে কেরলাতে ভারতের প্রথম মসজিদ তৈরী হয়।
১২৯৬ সালের ১৯ জুলাই, জালালুদ্দিন খিলজিকে হত্যা করে আলাউদ্দিন খিলজি দিল্লীর সিংহাসন অধিকার করেন।
১২৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, আলাউদ্দিন খিলজী দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
১৩০৩ সালের ২৬ আগষ্ট, আলাউদ্দিন খিলজী 'চিতোর গড়' দখল করেন।
১৩০৭ সালের ২৪ মার্চ, আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুর দেবগিরি দূর্গ দখল করেন।
১৩২৬ সালের ৫ জানুয়ারি, দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর ইন্তেকাল।
১৩৩৮ সালে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা করেন।
১৩৩৮ সাল থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল অব্যাহত ছিল। ২০০ বছর পর্যন্ত সুলতানি আমল অব্যাহত ছিল।
১৩৪২ সালে ইলিয়াস শাহের সিংহাসনে আরোহণ।
১৩৪৫ সালে ইবনে বতুতার বাংলায় আগমণ।
১৩৫১ সালের ২৩ মার্চ, ফিরোজ শাহ তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ র্কতৃক সোনারগাঁ বিজয়।
১৩৫৩ সালে ফিরোজ শাহ তুঘলকের বাংলা আক্রমণ।
১৩৮৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের ইন্তেকাল।
১৩৮৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলক(দ্বিতীয়) দিল্লীতে নিহত হন।
১৩৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর, পানিপথের যুদ্ধে তৈমুর লং দিল্লীর এক লক্ষ লোক হত্যা করেন এবং দিল্লীর সুলতান মুহম্মদ তুঘলকের কাছ থেকে দিল্লী দখল করে নেন।
১৩৯৯ সালের ১ জানুয়ারি:তৈমুর লং দিল্লী দখল করে নিজেকে ভারত সম্রাট ঘোষণা করেন।
১৩৯৯ সালের ১১ মার্চ, তৈমুর লঙ সিন্ধুনদ অতিক্রম করে ভারতে আসেন।
১৩৯৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর, পানিপথির যুদ্ধে তৈমুর লং দিল্লীর সুলতান মুহম্মদ তুঘলককে পরাস্ত করেন।
১৪০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষার্ধে, অর্থাৎ মুসলমান শাসনামলে। অনেকেই এটিকে পূর্ণাঙ্গ বাংলা অক্ষরে রচিত সর্বপুরাতন' গ্রন্থ বলে দাবী করেন। বলা বাহুল্য, 'চর্যাচর্য বিনিশ্চয়' সার্বজনীনভাবে বাংলা ভাষার আদিতম পান্ডুলিপি বলে স্বীকৃত হয়। বাংলা ভাষার জন্ম মুসলিম শাসনামলে।
ভারতবর্ষের প্রাচীন নাম ছিল-জম্মুদ্বীপ। ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষ আসার পথ আবিস্কার করে পর্তুিগজরা ১৪৮৭ সালে, আর ভারতবর্ষে আসে পর্তুিগজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে, পর্তুিগজরা বাংলায় ঘাঁটি স্থাপন করেন ১৫১৬ সালে ঘাঁটি স্থাপন করেন এবং গোয়াতে ঘাঁটি স্থাপন করেন ১৫১০ সালে পর্তুিগজরা।
১৪০১ সালের ২৪ মার্চ, তৈমুর লং দামেস্ক অধিকার করেন।
১৪৫৯ সালে রুকুনউদ্দিন বরকত শাহের সিংহাসন আরোহণ।
১৪৯৩ সালে আলাউদ্দিন হুসাইন সিংহাসন লাভ।
১৪৯৮ সালের ৩১ জুলাই, ক্রিস্টোফার কলম্বাস ত্রিনিদাদে উপস্থিত হন।
১৫০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, পর্তুিগজ নাবিক ভাস্কো দা গামা দক্ষিণ ভারতের কান্নানো বন্দর থেকে মোজাম্বিকের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
১৫০৫ সালের ৬ জুলাই, ভুমিকম্পে আগ্রা বিধ্বস্ত।
১৫১০ সালে পর্তুগীজরা গোয়ায় এসে পৌঁছায়। ১৫১১ সালে পৌঁছল মালয় উপদ্বীপের মালাক্কাতে। ১৫১৬ সালে পর্তুগীজরা প্রথম বাংলাদেশে আগমণ করে।
১৫২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, পঞ্চম দফা অভিযানের মধ্য দিয়ে মোঘল সম্রাট বাবরের ভারত বিজয়।
১৫২৬ সালের ২০ এপ্রিল, পানিপথের যুদ্ধে মোগলরা আফগানদের পরাজিত করে।
১৫২৬ সালের ২১ এপ্রিল, পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে সম্রাট বাবর ভারতে মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
১৫২৬ সালের ২৭ এপ্রিল, বাবর দিল্লীর সম্রাট হন এবং মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫২৬-১৮৫৭ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের স্থিতিকাল ছিল-৩৩১ বছর পর্যন্ত।
১৫২৬ সালের ১০ জুলাই, পানিপথের যুদ্ধে জয়লাভ করে মোগল সম্রাট বাবর আগ্রায় পদার্পণ
১৫২৭ সালের ১৬ মার্চ, মেবারের রানা সংগ্রাম সিং(প্রথম)-কে পরাজিত করে মোগল সম্রাট বাবর চিতোর জয় করে।
১৫২৮ সালের ২৯ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট বাবর চান্দেরী দুর্গ দখল করেন।
১৫২৮ সালে মোঘলসম্রাট বাবরের নির্দেেশ রামমন্দির ভেঙে (২.৭ একর জমির ওপর) মসজিদ নির্মাণ করা হয় হিন্দুদের দাবি। বাবরি মসজিদ নিয়ে হিন্দ-মুসলমানদের মধ্যে বিতন্ডা চলছে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে। মুসলমানদের দাবি, তারা বহুদিন ধরে, ওই মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছে। কিন্তু ১৯৪৯ সালে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে মসজিদের ভেতর রামের মূর্তি রেখে দেয়। এর পর থেকে সেখানে পূজা শুরু হয়। পরে ওই জমি নিয়ে ১৯৫০ সালে একটি মামলা করা হয়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, উগ্র হিন্দুরা অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ধ্বংস করে। হিন্দুদের বিশ্বাস, মোঘলসম্রাট বাবরের সময় নির্মিত বাবরি মসজিদের স্থানটিতেই তাদের ধর্মাবতার রামের জন্ম। অনেকের দাবি, রামমন্দির ভেঙেই সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। এ বিরোধের জেরধরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা রামমন্দির তৈরির লক্ষ্যে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতজুড়ে সাম্প্রতিক দাঙ্গা শুরু হয়। এতে অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়। এ নিয়ে বিতর্কের সুত্রপাত হয় ১৯৪৯ সালে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ঃ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রামলালা সমান তিন ভাগ পাবে। রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। শান্তি বজায় রাখার আহবান কংগ্রেসের(৩০-০৯-২০১০ তারিখ)।
১৫২৯ সালের ২৫ জুন, বঙ্গ বিজয়ের পর মোঘল সম্রাট বাবর আগ্রা প্রত্যাবর্তন করেন।
১৫৩৩-১৫৩৮ সাল পর্যন্ত মাহমুদ শাহ বাংলার সুলতান ছিলেন।
১৫৩৮ সালে মুঘল সম্রাট হুমায়ূন প্রথম বাংলা জয় করেন।
১৫৩৮ সালে বাংলা অধিকার করেন শের খান।
১৫৩৮ সালে গৌড় দখল করার পর সম্রাট হুমায়ূন জাহিদ বেগ নামক তাঁর এক আমীরকে বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
১৫৩৮ সালের ২৫ নভেম্বর, পর্তুগীজ নৌবাহিনী ভারত থেকে নৌ-সেনাদের সরিয়ে নেয়।
১৫৩৯ সালের ২৬ জুন, বক্সারের কাছে চৌসারের যুদ্ধে শের শাহের কাছে মোগল সম্রাট হুমায়ূনের পরাজয়।
১৫৪০ সালের ১৭ মে, শেরশাহ কনৌজের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে পরাজিত করেন।
১৫৪২ সালের ৬ মে, খ্রীস্টান মিশনারী ফ্রান্সিস খ্যাভিয়ের গোয়ায় আসেন।
১৫৪৫ সালের ২২ মে, আফগান সম্রাট শেরশাহ নিহত হন।
১৫৫০ সালে বাংলার ভূমি ও নদনদীর নক্শা প্রথম তৈরী করে জাও দ্য ব্যারোস-কৃত।
১৫৫৪ সালের ২২ মে, দিল্লীর সম্রাট শেরশাহ নিহত হন।
১৫৫৫ সালের ২২ জুন, মোগল সম্রাট হুমায়ূন সিরহিন্দ যুদ্ধে জয়লাভের পর আকবরকে তার উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন।
১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, কিশোর জালালুউদ্দিন আকবর ১৪ বছর বয়সে মোগল সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। পিতা হুমায়ূনের স্থলাভিষিক্ত হন।
১৫৫৬ সালের ১৪ এপ্রিল, সম্রাট আকবরের শাসনামল থেকে পহেলা বৈশাখকে বাংলা সালের প্রথম দিন ধরে আনুষ্ঠানিক বাংলা বর্ষ গণনা শুরু হয়।
১৫৫৬ সালের ১৩ অক্টোবর, মোগল সর্মর্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্রাট আকবরের রাজত্বকালের সূচনা হয়।
১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর, পানিপথের ২য় যুদ্ধে মোগল সম্রাট আকবরের বাহিনীর হাতে হিমু'র পরাজয়।
১৫৬১ সালের ৩১ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট আকবরের প্রধানমন্ত্রী বৈরাম খান নিহত হন।
১৫৬১ সালে বাংলায় কররাণী বংশের প্রতিষ্ঠা।
১৫৬৫ সালের ১৩ এপ্রিল, বাদশা আকরের আমলে বাংলা সন গণনা করা হয়।
১৫৬৫ সালের ৭ জুন, দাক্ষিণাত্যের রাজা হুসাইন নিজাম শাহের ইন্তেকাল।
১৫৬৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট আকবরের কাছে চিতোরের রানা উদয় সিং-আত্মসমর্পণ করে।
১৫৭০ থেকে ১৫৮৬ সাল পর্যন্ত মোঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল আগ্রা শহর থেকে ৪০ কি. মি. পশ্চিম দিকে অবস্থিত ফতেহপুর সিক্রি। সম্রাট আকবর-এর কোন ছেলে ছিল না।
১৫৭৬ সালের ১৮ জুন, মহারাজা প্রতাপ সিংহ ও মোগল সম্রাট আকবরের মধ্যে হলদিঘাটে যুদ্ধ শুরু।
১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই, হোসেন কুলি খান বাংলার শাসক নিযুক্ত হন।
১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই, দাউদ খান কররানীর পরাজয় ও মৃত্যু।
১৫৭৭ সালের ২৪ অক্টোবর,শিখ সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ভারতের অমৃতসর নগরী'র পত্তন হয়।
১৫৮০ সালে পর্তুগীজ র্কতৃক হুগলী শহর প্রতিষ্ঠার ফলে নিকটবতী বিখ্যাত সাতগাঁও বন্দরের পতন।
১৫৮৫ সালের ১০ মার্চ, মোঘল সম্রাট আকবর প্রচলিত বাংলা সন (বঙ্গাব্দ) চালুর ফরমান জারি করেন। আমির ফতেহউঁল্লাহ সিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলী সন প্রবর্তিত হয়। এই সনই বর্তমানে প্রচীলত বাংলা সন।
১৫৮৬ সালে কাসিম খান কুচবিহার হ'তে হুগলি যাওয়ার পথে গৌড় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যান।
১৫৮৬ সালে ইংরেজ পর্যটক র্যালফ ফিচ বাংলা ভ্রমণ করেন।
১৫৮৮ সালের ১৯ এপ্রিল, জাহান্দর শাহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
১৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে মোঘল আমলে দিল্লি থেকে প্রকাশিত একটি বইতে কুলফি তৈরির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। কুলফি তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে ওই বইতে বলা হয়েছে ত্রিকোণ একটি ধাতব ছাঁচে দুধ, পেস্তা ও জাফরান একসঙ্গে মিশিয়ে রুটি বা লুচির বর্জয দিয়ে মুখ বন্ধ করে তীব্র ঠান্ডায় কয়েক ঘন্টা রাখলেই কুলফি তৈরি হয়ে যায়। বিশ্বের প্রথম কুলফি, কুলফি আসলে এক ধরনের আইসক্রিম। উত্তর ভারতে মোঘল শাসনামলে প্রথম কুলফি তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়।
১৫৯১ সালের কবি মুহম্মদ কুলি কুতুব শাহ গোলকোন্ডের পাঁচ মাইল পূর্বে মুন্সিনদীর তীরে হায়দরাবাদের গোড়াপত্তন করেন। ভারতের অন্ধ প্রদেশে অবস্থিত ভারতের ৫ম বৃহত্তম নগরী হায়দরাবাদ।
১৫৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, লন্ডনে ফাউন্ডার্স হলে ২৪ জন ব্যবসায়ী ভারতে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয়ার মধ্যদিয়ে ''ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'' গড়ে ওঠে।
১৫৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, ইংরেজরা সর্বপ্রথম বাংলাতে আসে।
১৬০০ সালের ২৪ আগষ্ট, ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর প্রথম জাহাজ 'হেক্টর' সুরাট পৌঁছে।
১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর, ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীকে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন করেন।
১৬০২ সালের ২০ মার্চ, ওলন্দাজ বা ডাচ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী গঠিত হয়।
১৬০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ভারতবর্ষে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর পদচারণা শুরু।
১৬০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ক্যাপ্টেন ল্যাঙ্কেমটরের নেতৃত্বে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর জাহাজ বহর ভারত পৌঁছে। শাহ সুজা ৩০০০(তিন হাজার) টাকা শুল্ক দেওয়ার শর্তে ইংরেজদেরকে বাংলায় বাণিজ্য করার অনুমতি দেন।
১৬০২ সালের ২২ আগষ্ট, মোগল যুগের ঐতিহাসিক ও সম্রাট আকবরের মন্ত্রী ও সভাসদ আবুল ফজল নিহত হন।
১৬০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর, শিখদের পঞ্চম গুরু অর্জন দেব এ সংকলনটি তৈরী করেন, এটি আদি গ্রন্থ নামেও পরিচিত এবং বিশ্বাস করা হয়। এদিনে শিখরা স্বর্ণমন্দিরে সমবেত হয়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অধিষ্ঠানের ৪শ' বছর পুর্তি পালন করেন। এটি হচ্ছে শিখদের সর্বািধক পবিত্র তীর্থস্থান।
১৬০৫ সালের ২৪ অক্টোবর, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
১৬০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, কুতুবুদ্দিন খান বাংলা ও বিহারের সুবাদার নিযুক্ত হন।
১৬১০ সালে দক্ষিণ কলকাতার বড়িশার সাবর্ণ রায় চৌধুরীদের পরিবারে প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, তাঁদেরই গড়া আটচালা মন্ডপে। তবে সর্বজনীন বা বারোয়ারি দুর্গপূজার প্রথম প্রচলন হয় পশ্চিবঙ্গের হুগলির গুপ্তিপাড়ায়, সেই ১৭৬১ সালে। সেদিন ১২ জন যুবক মিলে চাঁদা তুলে আয়োজন করেছিল এই বারোয়ারি দুর্গাপূজার। এর পরে কলকাতায় ১৯১০ সালে প্রথম বারোয়ারি পূজা শুরু হয় বলরাম বসু ঘাট রোডের ধর্মোৎসাহিনী সভায়। তারপর ধীরে এই বারোয়ারি বা সর্বজনীন দুর্গাপূজা ছড়িয়ে পড়ে কলকাতার সর্বত্র। পূজার সনাতনী ঐতিহ্যের পাশাপাশি শুরু হয় পূজার প্রতিমা আর মন্ড নির্মাের্ণ থিমের লড়াই। অমর সাহা: প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি।
১৬১২ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাটে বাণিজ্য-কুঠি স্থাপন করার অনুমতি লাভ করে।
১৬১২ সালে মহাপরাক্রমশালী শাহজাহান ১৫ বছরের আর্জুমান্দ বানুকে বিয়ে করলেন। বিয়ের পর সম্রাট তাঁর নতুন নাম দিলেন 'মমতাজ মহল'। ১৭ বছর স্থায়ী ছিল তাঁদের দাম্পত্য জীবন। ১৬২৯ সালে মমতাজ পাড়ি জমালেন পরপারে। সম্রাট তখন তাঁর বিরহে উন্মাদপ্রায়। স্ত্রীর স্মৃতিকে চির জাগরুক রাখার জন্য তিনি অসাধারণ একটি সমাধিসৌধ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। নাম ''তাজমহল''। প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক এবং এক হাজার হাতির সমন্বয়ে গঠিত কর্মিবাহিনী ২০ বছর সময় নিল এ সৌধ নির্মােণ। সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি ১৩৭ ফুট উচ্চতার এ সৌধের অভ্যন্তরীণ সজ্জা করা হয়েছিল রঙিন মার্বেল আর দামি সব পাথরে। ১৬৫৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, তাজমহল নির্মাণ করা হয়। শোনা যায়, শাহজাহানের খুব ইচ্ছা ছিল, তাঁর গড়া প্রিয়তমা স্ত্রীর সৌধের পাশে নির্মাণ করবেন নিজের জন্য কালো পাথরে তৈরি সমাধিসৌধ, যা স্ত্রীর জন্য শোক ও গভীর ভালোবাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। কিন্তু তাঁর সে আশা পূর্ণ হয়নি। তার আগেই তিনি ছেলে আওরঙ্গজেবের হাতে বন্দী হন এবং আগ্রার লাল দূর্গে তাঁকে বন্দী করে রাখা হয়। মৃত্যুর পর তাজমহলে স্ত্রীর পাশে তাঁকে কবর দেওয়া হয়।
১৬১৩ সালের ১১ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সুরাটে কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেন।
১৬১৫ সালের ৭ জুন, ইংরেজ ও ডাচদের বহিস্কারের লক্ষ্যে পর্তুিগজদের সাথে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সন্ধি হয়।
১৬১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, ভারতবর্ষের প্রথম রাষ্ট্রদূত টমাস রো মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ভারতে পৌঁছেন।
১৬১৬ সালের ১০ জানুয়ারি, বৃটিশ রাজদূত টমাস রো মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে পৌঁছেন।
১৬১৬ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীর তার বেগম নূরজাহানের উদ্দেশ্যে 'কাশ্মীরের শালিমার বাগ' বর্তমান শ্রীনগরে এ বাগানটি নির্মাণ করেন।
১৬১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে বৃটিশ রাষ্ট্রদূত টমাস রো ভারত ত্যাগ করেন।
১৬২১ সালের ১৫ নভেম্বর,মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর উত্তর ভারতের কাংড়া দুর্গ অধিকার করেন।
১৬২১ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কুঠিয়ালদের ওপর কাঁচামাল খরিদ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তথাপি ইংরেজরা পরে কাসিমবাজারে একটি বড় কারখানা স্থাপন করে। কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা বলে যার নাম বহুদিন যাবৎ প্রচারিত হয়েছে সেই জব চার্নকও এক সময় এ কাসিমবাজার কুঠিতেই একজন অধঃস্তন কর্মচারী ছিলেন।
১৬২৬ সালের ৬ মে, ওলন্দাজ বসতি স্থাপনকারীরা ভারতীয়দের কাছ থেকে 'ম্যানহাটন' দ্বীপ কিনে।
১৬২৭ সালের ২৮ অক্টোবর, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইন্তেকাল।
১৬২৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, সম্রাট শাহজাহান আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
১৬৩১ সালে শাহজাহানের প্রিয়তম স্ত্রী মমতাজমহল সন্তান জন্মদানের সময় মারা গেলে আগ্রার যমুনা নদীর তীরে তাঁকে সমাহিত করা হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় তাজমহল গড়ার। আজও তাজমহল দুনিয়াজুড়ে প্রতীক হয়ে আছে প্রেম-ভালোবাসার। তাজমহল পরিদর্শেন এখন টিকিটের প্রয়োজন হয়।
১৬৩২ সালে তাজমহলের কাজ শুরু হয়। আর শেষ হয় ১৬৫৩ সালে।
১৬৩৩ সালের মে, মহানদীর মুখে হরিহরপুরে ইংলিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী এদেশে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে; তখন হ'তে রচিত হ'তে থাকে পলাশীর পটভূমি।
১৬৩৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র দারাশিকোহ কান্দাহার বিরোধী তৃতীয় অভিযান পরিচালনা করেন।