১৮৯৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওড়া গ্রামে মুসলিম লীগপন্থী শহীদুল হকের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৮ সালে।

১৮৯৪ সালে রংপুরে আইনজীবী ও রাজনীতিক সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকারের জন্ম, মৃত্যু-১৭-০৪-১৯৬৯ তারিখ। তিনি ১৯৫৫ জুন থেকে ১৯৫৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

১৮৯৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বিরামদি গ্রামে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ'র জন্ম, মৃত্যু-২৯-০৩-১৯৭৮।

১৮৯৪ সালে সাধক মালেক দেওয়ানের জন্ম. মৃত্যু-১৯৮৮ সালে, (বাংলা-১৩০১-১৩৯৫)।

১৮৯৫ সালে বিক্রমপুরের গাঁওদিয়া গ্রামে বিখ্যাত বিপস্নবী যোগেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। এই বিপস্নবীর ০৬-০৪-১৯২৭ তারিখে কাকোরী ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁর দ্বীপান্তর হয়। ১১১ দিন অনশন করার পর মুক্তি পান ২৪-০৮-১৯৩৭ তারিখ। তবে চীফ কমিশনার তাঁর ওপর দিল্লি ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

১৮৯৫ সালের জুলাই মাসে, চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়া গ্রামের এক জমিদার পরিবারে ইতিহাসের অধ্যাপক কালিরঞ্জন কানুনগোর জন্ম, মৃত্যু-২৯-০৪-১৯৭২ তারিখ লক্ষ্নৌর নিজ বাসভবনে। অধ্যাপক কালিরঞ্জন কানুনগোর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল উপমসহাদেশের মধ্যযুগের ইতিহাস মুসলমান শাসক, রাজপুত এবং মারাঠাদের বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ ছিল।

১৮৯৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার জয়কালিপুর গ্রামে অধ্যাপক মাওলানা আবদুল হামিদের জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-১৯৫৪ সালের জানুয়ারি মাসে। ১৯৪৭ সালে কলকাতা ছেড়ে আসার সময় প্রায় ১৪-মণ কিতাব ও অন্যান্য গ্রন্থ সঙ্গে এনেছিলেন সে কারণে এলাকার মানুষের কাছে 'চৌদ্দমণি' মাওলানা নামে বেশ পরিচিতি ছিলেন। তিনি আরবী ও ইংরেজী উভয় বিষয়ে এম. এ. পাশ।

১৮৯৫ সালে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার কইরাল গ্রামে দোতারাবাদক লোকগীতি রচয়িতা ও সংগ্রাহক এবং সুরকার কানাইলাল শীলের জন্ম, মৃত্যু-২০-০৭-১৯৭৪ তারিখ ঢাকায়।

১৮৯৫ সালে পশ্চিমবাংলায় ক্ষণজন্মা আবুল ফয়েজ (এ. এফ.) মুজিবুর রহমানের জন্ম, মারা গেছেন জানা নেই। তিনি ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ গণিতে (স্নাতকোত্তর) প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। প্রথম আলো পত্রিকা(০৮-১২-২০১৪ তারিখে লেখা আছে যে ভারতবর্ষের প্রথম বাঙালি মুসলিম আইসিএস কর্মকর্তা। আমার কাছে তথ্য আছে অবিভক্ত ভারতের বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম আইসিএস কর্মকর্তা সিলেটের গজনফর আলী খান, ১৮৯৭ আই.সি.এস. হন। কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক আমার জানা নেই)। ক্ষণজন্মা এই মানুষটির স্মরণে তাঁর নামে ১৯৮৫ সালে তাঁর ছেলে রেজাউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন ফাউন্ডেশন। গণিতের বাতিঘন এ. এফ. মুজিবুর রহমানের নামে 'গণিত ভবন' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করে দেন ফাউন্ডেশন।

১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি, যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক আবুল হুসেনের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৫-১০-১৯৩৮ তারিখ।

১৮৯৬ সালের ৩ এপ্রিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার খেওড়া গ্রামে আধ্যাত্মিক সাধিকা আনন্দময়ী মা'র জন্ম, মৃত্যু-২৭-০৮-১৯৮২ তারিখ কলকাতায়।

১৮৯৬ সালের ২৪ নভেম্বর, সমাজহিতৈষী ও দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার জন্ম হয় সাভারের অদূরে শিমুলিয়ার কাছৈড় গ্রামে মাতুলালয়ে(বাবারবাড়ি মির্জাপুর, টাংগাইল), যার নাম আরপি সাহা। ১৯৩৮ সালে ৭৫০(সাতশত পঞ্চাশ) শয্যাবিশিষ্ট বিখ্যাত কুমুদিনী হাসপাতাল স্থাপন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মে, গভীর রাতে পাক বাহিনী রনদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র রবিকে ধরে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। বাবার নাম-দেবেন্দ্রনাথ পোদ্দার, মা-কুমুদিনী দেবী।

১৮৯৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মধ্যনগর গ্রামে মৌঃ মোঃ জুরু মাষ্টারের জন্ম, মৃত্যু-১৯৭৫ সালে। তিনি ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

১৮৯৬ সালে খুলনা জেলার পয়গ্রামে শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক কাজী আকরম হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-১৮-০২-১৯৬৩ তারিখ।

১৮৯৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, মরিচাকান্দি গ্রামে বাঙ্গালী মুসলমানের মধ্যে প্রথম ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমানের জন্ম, মৃত্যু-১৫-০৮-১৯৮১ তারিখ। তিনি ১৯২৬ সালে প্রথম বি. সি. এস. লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। ১৯২৭ সালে সাংবাদিক জনাব মোঃ মাহবুব জামাল জাহেদী (বুলু মামার) জন্ম। বুলু মামা বাঞ্ছারামপুর থানার প্রথম সাংবাদিক। ১৯৩৮ সালে জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন, সি. এ.'র জন্ম।

১৮৯৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার রসুল্লাবাদ গ্রামে দারোগা মোঃ মালু মিঞার জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৯ সালে।

১৮৯৭ সালের ২ মার্চ, উত্তর ভারতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০নং সাবেক উপাচার্য ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। উনি ভারতের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ড. জাকির হোসেনের ছোট ভাই।

১৮৯৭ সালের ১১ মার্চ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডাবিরঘর গ্রামে সঙ্গীতের বাদ্যযন্ত্র নির্মাণকারী ইসরাইল খাঁ'র জন্ম, মৃত্যু-২৩-০১-১৯৭৬ তারিখ।

১৮৯৭ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বড় সালঘর-এ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ-এর জন্ম, মৃত্যু-২০-০২-১৯৭৯ তারিখ।

১৮৯৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর খাঁ বাড়িতে মৌঃ আলী আজগর খানের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৪ সালে। উনি ১৯১৭ সালে রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন।

১৮৯৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর গ্রামের নোয়াব আলী কবিরাজের জন্ম, মৃত্যু-১৯৮০ সালে। উনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রথম কবিরাজ।

১৮৯৭ সালের ২৩ নভেম্বর, কিশোরগঞ্জ জেলায় "বাঙ্গালী থাকিব না মানুষ হইব'' বইয়ের লেখক নিরুদ চন্দ্র চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৯৯ সালে লন্ডন শহরে।

১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই, কুষ্টিয়ার কুুমারখালী উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মাতুলালয়ে বিচিত্র ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, প্রখ্যাত জ্ঞানতাপস, ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'আজীবন অধ্যাপক' পদে নিযুক্ত হন ও জাতীয় অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-০৯-১০-১৯৮১ তারিখ। তার ছোটবেলা কেটেছে রাজবাড়ী (ফরিদপুর) জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামের পৈত্রিক নিবাসে। ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষ সমাবর্তন উৎসবে তাঁকে সম্মানসূচক 'ডক্টর অব সায়েন্স'(ডিএসসি) ডিগ্রি দেওয়া হয়।

১৮৯৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মিরপুর গ্রামে মৌলভী আবদুল হামিদ (হামিদ মাষ্টারের) জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-১৯৮৫ সালে।

১৮৯৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামে এডভোকেট এ. কে. এম. জহিরুল হক (লিল মিঞার) জন্ম, মৃত্যু-২১-০৪-১৯৮১ তারিখ।

১৮৯৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে মোহাম্মদ তাহেরের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬১ সালে। মোহাম্মদ তাহের ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং নাট্যকার আলী যাকেরের পিতা।

১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর, ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-০৪-০৩-১৯৭৮ তারিখ।

১৮৯৭ সালের ১৮ নভেম্বর, বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার নরোত্তমপুর গ্রামে উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, নারীপ্রগতি ও মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম পথিকৃৎ মনোরমা বসুর জন্ম, মৃত্যু-১৯৯০ সালে।

১৮৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রামে কবি গোলাম মোস্তফার জন্ম, মৃত্যু-১৩-১০-১৯৬৪ তারিখ।

১৮৯৭ সালে সীতাকুন্ড উপজেলার বড়দারগাহাটের জাফরাবাদ গ্রামের তীর্থবাসী চক্রবর্তী (বগলা)'র জন্ম। ২০১১ সালের মার্চ। উনি তিন শতকের জীবন্ত মানুষ।

১৮৯৮ সালের ২১ জানুয়ারি, যশোর জেলার সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে সমাজকর্মী, এম.এল.এ., সাংবাদিক ও ইসলামি শাস্ত্রে পন্ডিত আহমদ আলী এনায়েতপুরীর জন্ম, মৃত্যু-০৪-০১-১৯৫৯ তারিখ।

১৮৯৮ সালের ৮ মার্চ, কবি ও সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-০২-১১-১৯৭৪ তারিখ।

১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে উপমহাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের জন্ম, ১৮-০৩-১৯৭৯ তারিখ।

১৮৯৮ সালের ১ মে, চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ গ্রামে কথাশিল্পী মাহবুব-উল-আলমের জন্ম এবং ১৯৮১ সালের ৭ আগষ্ট কাজীর দেউড়ীস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।

১৮৯৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার গোপিনাথপুর গ্রামে কৃষক নেতা আবদুল মালেকের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৫ সালে।

১৮৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর, কলকাতায় (বরিশালের সন্তান) অকুতোভয় পাইলট ইন্দ্রনীল রায়ের জন্ম, মৃত্যু-১৮-০৭-১৯১৮ তারিখ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাঁর বিমাণ ভূপাতিত হলে তিনি মারা যান। পাইলট ইন্দ্রনীল রায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ দিয়ে প্রমাণ রাখেন যে-বাঙ্গালীরা বীরের জাতি। ১৯১৬ সালে বিশ্বে প্রথম বিমান বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় ''ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীতে ক্যাডেট পাইলট হিসাবে তিনি লাভ করেন কিংস কমিশন''। ১৮ জুলাই তাঁর জঙ্গী বিমানটি ফের গুলি বিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হয়। বিধবস্ত বিমানের সাথে তিনি প্রাণ হারান। মাত্র ২০(বিশ) বছর আয়ু পেয়েছিলেন। ''পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসাহসী মানুষের মধ্যে যাঁরা অগ্রগণ্য, তাদের মধ্যে ইন্দ্রনীল রায় একজন...এ অঞ্চলের একমাত্র ফাইটার এইস পাইলট হিসাবে তিনি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।'' তাঁর পিতা পিএল রায় ছিলেন বরিশাল জেলার লকুতিয়ার জমিদার।

১৮৯৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর গ্রামে মোহাম্মদ ওয়ালী সওদাগরের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৫ সালে। ওয়ালী সওদাগর বালুয়াকান্দি বাজেরর মুসলমানের মধ্যে প্রথম দোকানদার।

১৮৯৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে এডভোকেট মৌলভী মোহাঃ আবদুল কুদ্দুসের জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-১৩-১১-১৯৮৬ তারিখ। ১৯১৯ সালে ম্যাট্রিক, ১৯২১ সালে আই. এ. ও ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় থেকে ১৯২৩ সালে র্গযাজুয়েট।

১৮৯৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামে মোঃ দেলোয়ার হোসেন ওরফে সুরুজ মাষ্টারের জন্ম, মৃত্যু-১৯৮৬ সালে।

১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে চিত্রকলা শিল্পী অতুল বসু জন্মগ্রহণ করেন, মৃত্যু-১৯৭৭ সালে।

১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বরিশাল জেলায় বাংলা আধুণিক কাব্যবিক জীবনানন্দ দাশের জন্ম, ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর, কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যু। ১৯১৫ ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯১৭ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই. এ., ১৯১৯ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি. এ. এবং ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. এ. পাস করেন। ১৯২২ সালে কলকাতা সিটি কলেজে শিক্ষকতা, ১৯২৯ সালে খুলনা জেলার বাগেরহাট কলেজে মাস তিনেক অধ্যাপনা করেন তারপর দিল্লি রামযশ কলেজে। ১৯৩০ সালের মে মাসে চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরেন। ১৯৩০ সালের ৯ মে বিয়ে করেন। ১৯৩৫ সালে আবার ব্রজমোহন কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৪৬ সালের ৮ জুলাই কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে কলকাতা যান ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর আসেননি। তাঁর আদি নিবাস গাউপাড়া গ্রাম, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর। পিতা বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্যানন্দন দাশ।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম, মৃত্যু-২৯-০৭-১৯৭৬ তারিখ বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা বেজে ১০ মিনিটে। ১৯২১ সালের ১৭ জুন নজরুলের সঙ্গে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সৈয়দা নার্গিস আসর খানম ওরফে সৈয়দা খাতুনের বিয়ে হয়। অজ্ঞাত কারণে বিয়ের রাতেই শেষ হয়ে যায় এ সম্পর্ক। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রমিলার সাথে দেখা হয় মানিকগঞ্জে। পরে ১৯২৪-এর ২৪ এপ্রিল কুমিল্লা শহরে প্রমিলাকে বিয়ে করেন নজরুল। নজরুল-নার্গিস বিবাহবিচ্ছেদের ১৫ বছর পর নজরুলকে একটি চিঠি দেন নার্গিস। উত্তরে নার্গিসকে এ চিঠি লেখেন নজরুল। ০১-০৭-১৯৩৭ সালে লেখা চিঠিটি তুলে ধরা গেল না। ১৯৪২ সালের ১০ জুলাই, থেকে কবি আলজাইমার্স ডিজিজে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ। মা জাহিদা খাতুন। ১৯১৭ সালে করাচীতে গিয়ে তিনি সৈনিকের খাতায় নাম লেখান। তিনি ১৯২০ সালে সেখান থেকে ফিরে এসে দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজকে উৎসর্গ করেন। কবি-পত্নী প্রমীলা নজরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছিলেন কলকাতায় ৩০-০৬-১৯৬২ তারিখ। কবি-পত্নীর ইন্তেকালের প্রায় এক দশক পর কবিকে ঢাকায় আনা হয়েছিল ২৪ মে, ১৯৭২ সালে। প্রমিলা, বাড়ি-তেওতা গ্রাম, থানা-শিবালয়, জেলা-মানিকগঞ্জ, যমুনার তীর, জমিদারবাড়ির পাশ্র্বে। চলচ্চিত্রে কবি নজরুল ইসলাম। অসুস্থ (১৯৩১-১৯৪২) পর্যন্ত। ২০-২১টি ছবির সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৩১ সালে কাজী নজরুল ইসলাম চলচ্চিত্রে জড়িত হয়ে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে পথিকৃতের মর্যাদা পান। কবি নজরুল ইসলাম তাঁর বন্ধু আলী আকবর খানের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন ১৯২১ সালের মার্চ কি এপ্রিল মাস কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। সেখানে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় সৈয়দা খাতুনের সঙ্গে। নজরুল এই বিয়ের অনুষ্ঠানে হারমোনিয়াম বাজিয়ে সবাইকে গান শুনিয়েছিলেন। নজরুলের গানের সুর মাতিয়ে দিল সৈয়দা খাতুনকে আর সৈয়দা খাতুনের রূপ মুগ্ধ করে ফেলল নজরুলকে। কবি প্রেমে পড়ে গেলেন প্রথম দর্শেনই। সৈয়দা খাতুনও সমান আগ্রহে কবির প্রেমে সাড়া দিয়েছিলেন। তারপর তাঁদের সময় কাটতে লাগল গান আর সুর নিয়ে। সৈয়দা খাতুনকে ভালবেসে তাঁর নামও বদলে দিলেন। তিনি তাঁর নাম দিলেন নার্গিস। নার্গিস ইরানী এক সাদা গুম্মপুস্পের নাম। কত দিন কবি নজরুল নার্গিেসর সঙ্গে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। বেশি দিন কিন্তু একেবারেই নয়। কবির অস্থির মন। দৌলতপুরে থাকা অবস্থাতেই সিদ্ধান্ত নিলেন, নার্গিসকেই তিনি বিয়ে করবেন। বিয়েও হয় গেল কয়েক দিনের মধ্যে। কিন্তু ইতিহাস রচনা করল এক দুঃখের নাটক। বিয়ে হলো ঠিকই, বাসর আর হলো না। কোনো এক অজানা অভিমানে বাসর রাতেই নজরুল বাড়ি ছেড়ে যান।দৌলতপুর থেকে চলে আসেন কুমিল্লায়। কিন্তু কবির সেই অভিমানের কারণ কবি কোনো দিন কাউকে মুখ ফুটে বলেননি। ইতিহাসও তা স্পস্টভাবে খুঁজে বের করতে পারেনি। নজরুল কুমিল্লায় থাকাকালে কুমারী প্রমীলা সেনগুপ্তার সাথে পরিচয় হয়। তাঁদের এই বিয়ে হয়েছিল ১৯২৪ সালের এপ্রিল মাসে। বিয়েতে বাধা ছিল একটাই ধর্ম। বিবাহ-আইনের নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে তাঁদের বিয়েটা হয়েছিল স্ব-স্ব ধর্মপরিচয় বহাল রেখেই। কবি ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় ফজিলাতুন্নেসার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী) সঙ্গে পরিচয় হয়। ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মুসলমান ছাত্রী। কবি তখন সাহিত্যসমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন ঢাকায়। কবি একটু-আধটু জ্যোতিবিদ্যা জানতেন। কাজী মোতাহার হোসেন সে কারণে কবিকে নিয়ে যান ফজিলাতুন্নেসার বাসায়। বাস। শুরু হয়। হয়ে গেল হাত দেখা। প্রথমে হাতে হাত, পরে চোখে চোখ। কবির মন প্রেমে টালমাটাল হয়ে উঠল। কবি চলে গেলেন ঢাকা ছেড়ে কলকাতায়। কিন্তু ফজিলাতুন্নেসা থেকে গেলেন তাঁর মন জুড়ে। তারপর থেকে নজরুল লিখে চললেন একটার পর একটা প্রেমপত্র। নজরুলকে নিয়ে আরও কিছু নারীর নাম এসেছে।