১৮৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে মাতুলালয়ে, নয়নন্দ গ্রামে রোহিণীকান্তের ঔরসে ও শরৎকামিনী দেবীর গর্ভে প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিক নলিনীকান্ত ভট্টশালীর জন্ম, মৃত্যু-০৫-০২-১৯৪৭ তারিখ। (পিতার নিবাস পাইকপাড়া গ্রাম, বিক্রমপুর) ১৫৫৭ সালে মুঘল-পাঠানদের যুদ্ধের সময় কেদার রায়ের রাজ্যে বিক্রমপুর চলে আসেন এবং বসবাস শুরু করেন টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামেই বাস করত বাৎস গোত্রীয় এক ব্রাহ্মণ পরিবার-ভট্টশালীরা।
১৮৮৮ সালের ২ মে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দির(ইমামনগর) বড়বাড়িতে মাজুজেল ইসলাম ব্যাপারী (মাজু ব্যাপারীর) জন্ম, মৃত্যু-১২-০৮-১৯৭১ তারিখ।
১৮৮৮ সালে ঢাকা শহরে সাংবাদিক ও রাষ্ট্রদূত ড. সৈয়দ হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৯/১৯৬২ সালে কায়রোতে। ড. সৈয়দ হোসেন ১৯০৪ সালে এন্ট্রান্স পাশ করে ১৯০৬ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এফ. এ. পাশ করেন, তারপর ১৯০৬ সাল থেকে সরকারী চাকুরী করেন ১৯০৮ সাল পর্যন্ত। এরপর বোম্বাই হয়ে জাহাজে করে বিলেত চলে যান। বিলেতে যেয়ে পন্ডিত জওহর লাল নেহেরুর সাথে বন্ধুত্ব হয়। নেহেরু থেকে এক বছরের বড়। লেখাপড়ায় নেহেরু থেকে পিছিয়ে পড়ে। বিলেত যেয়ে আইনের উপর লেখা-পড়া শুরু করেন এবং ইংরেজী পত্রিকায় লেখালেখি করেন। পন্ডিত জওহর লাল নেহেরু ও ড. সৈয়দ হোসেন ভারতে আসেন ১৯১৫ সালে। পন্ডিত মতিলাল নেহেরু একটি ইংরেজী পত্রিকা বাহির করে। সেই পত্রিকার দায়িত্ব তাঁকে দেয়া হয় এবং তাকে এলাহাবাদে তাদের বাসার দোতালায় একটি রুম আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ দেয়া হয়। তখন থেকেই বিজয়লক্ষী পন্ডিতের সাথে তাঁর প্রেম হয়। বিজয়লক্ষী পন্ডিতের জন্ম ১৯০০ সালে এলাহাবাদ শহরে। ড. সৈয়দ হোসেনের বয়স ৩১ এবং বিজয়লক্ষী পন্ডিতের বয়স হলো ১৯ বছর। তিনিই বিজয় লক্ষী পন্ডিতকে এলাহাবাদে ১৯১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সকাল ১০টা থেকে ১১-ঘটিকার সময় ইসলাম ধর্ম অনুসারে বিয়ে করে ৫(পাঁচ) জন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে মাওলানা শওকত আলী বিয়ে পড়ান। পরে তাদের বিয়ে কংগ্রেসের উগ্রবাদী হিন্দুরা মেনে নিতে পারেননি। তাই পন্ডিত জওহর লাল ও মহাত্মা গান্ধী তাঁদেরকে আলাদা থাকতে দেন। ড. সৈয়দ হোসেন হলো-মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর ঢাকাইয়া ফুফা।
১৮৮৮ সালের ৭ মে, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিপাহীপাড়া গ্রামের সম্ভান্ত ভূঁইয়া পরিবারে আব্দুল বারী ভূঁইয়ার জন্ম, মৃত্যু-০২-০৭-১৯৬৪ তারিখ। তিনি ১৯২০ সালে মক্তব, ১৯২৮ সালে মাদ্রাসা ও ১৯৩৩ সালে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৩৬ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য ও ১৯৪০ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বািচত হন এবং একটানা আঠারো বছর বহাল থাকেন।
১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, পাবনা জেলার হিমাইতপুর গ্রামে হিন্দুসাধক, চিকিৎসক এবং সৎসঙ্গ আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা অনুকুলচন্দ্র ঠাকুরের জন্ম, বিহারের দেওঘরে মৃত্যু-২৬-০১-১৯৬৯ তারিখ।
১৮৮৮ সালের ৫ নভেম্বর, চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার কবুরখালী গ্রামে কবি ও লোকগীতি সংগ্রাহক আশুতোষ চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৪ সালে।
১৮৮৮ সালের ২০ নভেম্বর, চাঁদপুর জেলার পাইকারদী গ্রামে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, 'সওগাত' সম্পাদক ও বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-২১-০৫-১৯৯৪ তারিখ। ১৯১৭ সালে কলকাতা শহরে 'সওকাত' পত্রিকা প্রকাশ করে। উনি ১৯৭৭ সালে সাহিত্যিক হিসেবে ''একুশে পদক'' প্রদান করা হয়। একুশে পদক দেয়া শুরু হয় ''১৯৭৬ সাল থেকে''। উনি বেঁচেছিলেন ১০৬(একশত ছয় বছর)।
১৮৮৮ সালের ৪ ডিসেম্বর, ফরিদপুর জেলার খন্দরপাড়ায় ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদ ও বাঙালি ঐতিহাসিকদের পুরোধা অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদারের(আর. সি. মজুমদার) জন্ম, ভারতের কলকাতা শহরে মৃত্যু-১২-০২-১৯৮০ তারিখ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ উপাচার্য ছিলেন।
১৮৮৮ সালের ১০ ডিসেম্বর, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার গ্রামে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ প্রফুল্ল চাকীর জন্ম এবং ১৯০৮ সালে নিজের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন। পালাবার সময় ক্ষুধিরাম গ্রেফতার হন।
১৮৮৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর দক্ষিণপাড়াতে অধ্যাপক মৌলভী সানাউল্লাহ'র জন্ম, কুমিল্লা শহরে মৃত্যু-১৯৫২ সালে। উনি ভেলানগর গ্রামের এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রথম অধ্যাপক (আরবী ও ফারসি ভাষা সাহিত্যে অধ্যাপনা করতেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয় কলেজে) এবং অধ্যাপক সানাউল্লাহ সাহেব মাদ্রাসা শিক্ষার শেষ পরীক্ষায় স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন।
১৮৮৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর দক্ষিণপাড়ার পূর্বপাড়াতে আবদুর রেজ্জাক দারোগার জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৯ সালে।
১৮৮৯ সালে হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নে নিভৃত পল্লি কাপাসাটিয়ার সাধারণ একটি পরিবারে মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর জন্ম, তিনি ১৯৭০ সালের ২৪ জুন চিকিৎসার জন্য ভারতে যান এবং কলকাতায় পরলোগমণ করেন ০৯-০৮-১৯৭০ তারিখ। ১৯৭০ সালের ২৫ জুলাই, কলকাতা পৌরসভা আয়োজন করে নাগরিক সংবর্ধনার। তৎকালীন ইন্দিরা সরকার ৬ আগষ্ট পার্লােমন্টে তাঁকে সংবর্ধনা দেয় এবং ৮ আগষ্ট, মহারাজের সম্মানে ভোজসভার আয়োজন করা হয়। ১৯০৬ সালে তিনি বিপস্নবী পুলিনবিহারী দাশের কাছ থেকে স্বদেশি মন্ত্রের দীক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯০৮ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কারাবাস ছিল মহারাজের জন্য কঠিন পরীক্ষা। পাকিস্তান সরকার দুই বছরের জন্য কারারুদ্ধ করে রাখে। জীবন-যৌবনের ৩০টি বছর কারাগারে কেটে গেলেও তাঁর বিপস্নব ছিল চিরজাগ্রত।
১৮৮৯ সালের ৫ আগষ্ট, নোয়াখালী জেলার সন্দ্বীপে (ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি-১৯২০) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রগতিবাদী লেখক কমরেড মুজাফফর আহমদের জন্ম, মৃত্যু-১৮-১২-১৯৭৩ কলকাতায়।
১৮৮৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ভারতের জলপাইগুড়িতে শিক্ষাবিদ স্যার আহমদ ফজলুর রহমানের জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৫ সালে। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য ছিলেন।
১৮৯০ সালে ফরিদপুরে অবিভক্ত বাংলার অন্যতম তেজস্বী মুসলিম লীগ নেতা, প্রথম মুসলমান সরকারী কৌসুলি, ফরিদপুর আইনজীবী সমিতির সুদীর্ঘকালের সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একদা প্রবীণতম আইনজ্ঞ খান বাহাদুর মৌলভী মোহাম্মদ ইসমাইলের জন্ম, মৃত্যু-ঢাকায়-০৮-০৫-১৯৮১ তারিখ।
১৮৯০ সালে পাঁচবাগ, গফরগাঁও, ময়মনসিংহে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বাংলার প্রথম স্বাধীনতাকামী রাজবন্দী (জাতীয় সংসদে স্বীকৃত) এবং একাধারে তিন দশক ধরে নির্বািচত এম. এল. এ. ও এম. এন. এ. হয়রত মাওলানা শামসুল হুদা পাঁচবাগী(রহ.)'র জন্ম, মৃত্যু-২৪-০৯-১৯৮৮ তারিখ।
১৮৯০ সালে ফরিদপুর জেলার শিবচর উপজেলার ভান্ডারিয়াকান্দি গ্রামে খান বাহাদুর আবদুর রহমান খানের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৪ সালে। ১৯৪৮ সালে জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন এবং ১৯৫৬ সালে অবসর নেন। তিনি ১৯০৮ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন।
১৮৯১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে অবিভক্ত বাংলার সিনিয়র মন্ত্রী ও কুমিল্লা জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নবাব স্যার কাজী গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকীর জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৯৮৪ সালে। তিনি ১৯২৯ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত বাংলার মন্ত্রী ছিলেন।
১৮৯১ সালে নড়াইল জেলায় প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, জীবন্ত কিংবদন্তী ও এডভোকেট সৈয়দ নওশের আলীর জন্ম, ঢাকায় পি.জি. হাসপাতালে মৃত্যু-০৬-০৪-১৯৭২ তারিখ। তিনি ১৯৩৭ সালে ১১ সদস্যের শেরে-বাংলার বেঙ্গল মন্ত্রী সভায় মন্ত্রী ছিলেন। তিনি কংগ্রেসী ছিলেন।
১৮৯১ সালে চাঁদপুর জেলার গুলবাহার গ্রামে আশেক আলী খানের জন্ম, মৃত্যু-০২-০৮-১৯৭৪ তারিখ। ১৯৪৬ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন শিক্ষকতা পেশা থেকে। তিনি ১৯১১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত চাঁদপুর বাবুরহাট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯১০ সালে সর্বপ্রথম ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার প্রচলন হয় ব্রিটিশ ভারতে। ১৯১৩ সালে ইন্টামেডিয়েট পাস করেন। ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি.এ. পাস করেন। তিনি সারা জীবন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। উনি চাঁদপুর জেলার মুসলমানদের মধ্যে প্রথম র্গযাজুয়েট।
১৮৯১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার পূর্বহাটী গ্রামে ডাক্তার আনসার আলীর জন্ম, মৃত্যু-১০-১২-১৯৭১ তারিখ। উনি কুমিল্লা জেলার মুসলমানের মধ্যে প্রথম এম.বি.।
১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, পশ্চিমবাংলার মেদেনীপুরে রাজনীতিক, আইনজীবী ও জাতীয় নেতা স্যার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম, মৃত্যু-০৫-১২-১৯৬৩ তারিখ।
১৮৯৩ সাল বা বাংলা ১৩০০ সালের বৈশাখ মাসে লালমনিরহাট জেলার তিস্তাপারের রাজপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে তেভাগা আন্দোলনের জীবিত নেতা ধরাকান্ত বর্মেণর জন্ম। বলতে পারেন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের কথা, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযদ্ধের কথা; দেশভাগ, ভাষা আন্দোলনসহ আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা। ১৯৪৬ সালে শুরু হয় তেভাগা আন্দোলন। তখনো ধরাকান্ত বর্মেণর বয়স পঞ্চাশের ওপরে। তেভাগা আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল রংপুর, দিনাজপুর আর জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তীর্ণ অষ্ণল।
১৮৯৩ সালের ৬ অক্টোবর, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বংশাই নদীর তীরে শেওরাতলী গ্রামে দারিদ্রপীড়িত এক পরিবারে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ মেঘনাথ সাহার জন্ম, মৃত্যু-১৯৫৬ সালে বিখ্যাত এই জ্যোতিঃপদার্থিবদ মৃত্যুবরণ করেন। দোকানদার বাবার ছেলে হিসেবে সবাই ভেবেছিল ছেলেটিও দোকানি হবে। ১৯০৯ সালে এন্ট্রান্স ও ১৯১১ সালে এফ.এ. পাস করেন। তিনি জগৎ বিখ্যাত পদার্থ ও অংক শাস্ত্রবিদ। ১৯৩৪ সালে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৮৯৩ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বড় সালগরে মন্ত্রি খান বাহাদুর মফিজউদ্দিন আহমদের জন্ম এবং মৃত্যু-১৯৭৯ সালে।
১৮৯৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নূরুল আমীনের জন্ম, পাকিস্তানে মৃত্যু-০২-১০-১৯৭৪ তারিখ।
১৮৯৩ সালে কবি শাহাদাৎ হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-১৯৫৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর।
১৮৯৩ সালে কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার রামকৃঞ্চপুর গ্রামে পীরজি হুজুরের জন্ম, মৃত্যু-৩০-০৯-১৯৭৬ তারিখ।
১৮৯৩ সালে মুন্সীগঞ্জ শহরের কোটগাঁও গ্রামে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর জন্ম, মৃত্যু-০৪-০৭-১৯৮৭ তারিখ। ১৯৩৭ সালে ও ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বািচত হয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে প্ূর্ব পাকিস্তান পরিষদের সদস্য নির্বািচত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সমাজসেবক ও সুসাহিত্যিক।
১৯৯৩ সালে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে রাজনীতিবিদ ও প্রকাশক আবদুর রশিদ খানের জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৪ সালে। তিনি ১৯১৭ সালে বি. এ. পাস করেন।
১৮৯৩ সালে বিক্রমপুরের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের রাউতভোগ গ্রামে হরগঙ্গা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, দানশীল, শিল্পপতি আশুতোষ গঙ্গোপাধ্যায়ের (গাঙ্গুলী) জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১০-১০-১৯৭৫ তারিখ। তিনি ১৯১১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। জগন্নাথ কলেজ থেকে আই. এ. পাস করেন এবং রাজশাহী কলেজ থেকে বি. এ. পাস করেন। তিনি ১৯৩৮ সালে হরগঙ্গা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৮৯৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, নোয়াখালীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় কর্মী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, কবি ও সমাজসেবিকা আসালতা সেনের জন্ম, মৃত্যু-দিল্লীতে পুত্রের বাসভবনে ০৩-০২-১৯৮৬ তারিখ।
১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ, চট্টগ্রামে বিপস্নবী মাস্টার দা সূর্যেসনের জন্ম, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের নায়ক মাষ্টারদা সূর্যেসনের ফাঁসি হয়-১২-০১-১৯৩৪ তারিখ।
১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল, ফরিদপুর জেলার পাংশ্া উপজেলার অন্তর্গত বাংমারা গ্রামে শিক্ষাবিদ ও প্রগতিশীল লেখক কাজী আবদুল ওদুদের জন্ম, মৃত্যু-কলকাতায় ১৯-০৫-১৯৭০ তারিখ।
১৮৯৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ভোলাচঙ্গের অধিবাসী (আনন্দমোহন রায় চৌধুরীর পুত্র) বিপস্নবী অতীন্দ্রমোহন রায়ের জন্ম, মৃত্যু-১৯৭৯ সালে। তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন।
১৮৯৪ সালে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বিঞ্চুপুরে আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও বিচারপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিমের জন্ম, মৃত্যু-১৩-১১-১৯৬৬ তারিখ।
১৮৯৪ সালে কুমিল্লা (তৎকালীন ত্রিপুরা) বটগ্রামের এক জমিদার পরিবারে আশরাফউদ্দীন আহমদ চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-২৫-০৩-১৯৭৬ তারিখ। রাজনীতিক ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের এম.এন.এ. ছিল।
১৮৯৪ সালের ১৯ জুলাই, ঢাকায় পূর্ববঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ও মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমউদ্দিনের জন্ম, রাজনীতিবিদ খাজা নাজিমউদ্দিনের ইন্তেকাল-২২-১০-১৯৬৪ তারিখ। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবরের পর খাজা নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের প্রধামন্ত্রী হন। খাজা নাজিমউদ্দিনকে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে উৎখাত করেন গোলাম মোহাম্মদ ও আইয়ূব খানের সহযোগিতায় তখনকার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সচিব মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্যা। মীর জাফরের বংশধর মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্যা। এস.পি. টুনি মির্যার ছেলে হলো মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্যা। ইস্কান্দার মির্যার জন্ম বাংলায় ছিল। সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৯৫৫ সালে ইস্কান্দার মির্যা পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেলের পদ দখল করেন। আর বরখাস্ত করেন মোহাম্মদ আলীকে। ১৯৫৬ সালে আরেক বাঙালি রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহওয়ার্দীেক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। আর নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা দেন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর, প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্যা পাকিস্তানের সামরিক আইন জারী করে ১৯৫৮ সালের ৮ অক্টোবর, প্রধান সেনাপতি আইয়ূব খানকে দেশে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধান সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত করেন। ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর, প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্যােক দেশত্যাগে বাধ্য করে নিজে জেনারেল আইয়ূব খান পাকিস্তানের স্বনির্বািচত প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন এবং ২৪-০৩-১৯৬৯ তারিখ পর্যন্ত ছিলেন। আবার ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ, জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের স্বনির্বািচত প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খানকে সরিয়ে নিজে ক্ষমতা দখল করেন এবং পাকিস্তানের ক্ষমতায় ছিলেন ২০-১২-১৯৭১ তারিখ পর্যন্ত। সে বছরই সাবেক প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্যা লন্ডনে মারা যান। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্টকে নিজ দেশে দাফনের অনুমতি দেননি। তাই লন্ডন থেকে ইস্কান্দারের মরদেহ ইরানে নেওয়া হয় এবং পরে তেহরানে তাঁকে দাফন করা হয়। জেনারেল ইয়াহিয়া খান রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগণের সাথে এটি ছিল সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা। ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বারবার রাজনীতিতে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করেছে। জেনারেল জিয়াউল হক ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। তারপর আবার ১৯৯৯ সাল থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন জেনারেল (অব.) পারভেজ মোশাররফ ২০০৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৬৯ সালে ইস্কান্দার মির্যােক তেহরানে দাফন করা হলেও তাঁর প্রেতাত্মা এখনো জীবিত। শুধু নাম বদল হয়েছে, কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। জেনারেল আইয়ূব খান, জেনারেল ইয়াহিয়া খান, জেনারেল জিয়াউল হক হয়ে বেঁচে ছিলেন এবং জেনারেল পারভেজ মোশাররফ হোসেন হয়ে বেঁচে ছিলেন।