১৮৭৮ সালের ২৫ জানুয়ারি (বাংলা-১০ মাঘ, ১২৮৪ বঙ্গাব্দ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে সাধক ও কবি মহর্ষি মনোমোহন দত্তের জন্ম, মৃত্যু-০৫-১০-১৯১০ তারিখ (বাংলা-২০ আশ্বিন, ১৩১৬ বঙ্গাব্দ)। মহর্ষি মনোমোহন দত্ত বেঁচেছিলেন ৩১ বছর ৮ মাস ১০ দিন। মানবতাবাদী মহর্ষি মনোমোহন দত্ত তাঁর স্বল্প আয়ুতে ২০টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ রচনা করে গেছেন। যার মধ্যে মলয়া (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড) সবচেয়ে আলোচিত ও উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। মলয়া কাব্যগ্রন্থে গানের সংখ্যা সর্বেমাট ৪২৬টি। এর মধ্যে প্রথম খন্ডে ২৮৭ এবং দ্বিতীয় খন্ডে ১৩৯টি মরমি গান লিপিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ মরমিসংগীত মলয়ার প্রতিটি গানের সুরারোপ করেছেন মনোমোহনের আধ্যাত্মিক জীবনের অন্যতম সাথি ও শিষ্য ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁ। এ ছাড়া তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, যোগপ্রণালী, উপাসনা প্রণালী, উপবন, তপোবন, লীলারহস্য, আরাধনা, গিরিজা মালতি, প্রেম পরিজাত, পথিক, পাথেয়, দেববাণী প্রভৃতি।

১৮৭৮ সালের ২৫ জুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে (তাঁর মাতুলালয়ে জন্ম তাঁর বাবারবাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাধীন শ্রীকাইল গ্রামের বাসিন্দা) আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ কামিনীকুমার দত্তের জন্ম, মৃত্যু-০৪-০১-১৯৫৯ তারিখ। তাঁর পিতা কৃঞ্চকুমার দত্ত চট্টগ্রাম সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান পন্ডিত ছিলেন।

১৮৭৮ সালের ১৬ জুলাই, যশোরের বগচর গ্রামে বাঙালি বিজ্ঞানী জ্যোতির্বিদ রাধাগোবিন্দ চন্দের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৯৭৫ সালে।

১৮৭৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, বিক্রমপুরে বানাড়ি গ্রামে চারণ কবি, গায়ক, নাট্যকার, সমাজসেবক ও অভিনেতা পরিচালক মুকুন্দ দাসের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৮-০৫-১৯৩৫ তারিখ। পদ্মা নদীতে বানাড়ি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে পিতা গুরুদয়াল দে সপরিবারে চলে যান বরিশালে ডেপুটির আদালতে তিনি আর্দািলর চাকরি নেন। পিতৃপ্রদত্ত নাম যজ্ঞেশ্বর।

১৮৭৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, সিলেট শহরে শিক্ষাবিদ আবু নসর ওহীদ সামসুল উলামার জন্ম, মৃত্যু-৩১-০৫-১৯৫৩ তারিখ।

১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও, বিক্রমপুরে ভারতের কবি, রাজনীতিবিদ, বাগ্মী, স্বাধীনতা আন্দোলনের নেত্রী ও 'প্রাচ্যের বুলবুল' সরোজিনী নাইডুর জন্ম, লক্ষ্নৌ গভর্নর হাউসে মৃত্যু-০১-০৩-১৯৪৯ তারিখ। তিনি ১৮৯১ সালে বার বছর বয়সে এন্ট্রান্স পাস। সরোজিনী নাইডু ১৯৪৫ সালে অল-ইন্ডিয়া ওমেন্স কনফারেন্স এ সভাপতি নির্বািচত হন। উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল নিযুক্ত ১৫ আগষ্ট, ১৯৪৭ সাল থেকে আমৃত্যু এ পদে দায়িত্ব পালন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ছিল মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও। তাঁর পিতার নাম ড. অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন হায়দ্রাবাদ রাজ্যের নিজামের শিক্ষা উপদেষ্টা।

১৮৭৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর গ্রামের শ্রী জয় মঙ্গল সাহার জন্ম, বাঞ্ছারামপুর উপাজেলার প্রথম এন্ট্রান্স-১৯০০ সালে, র্গযাজুয়েট-১৯০৪ সালে এবং ১৯০৬ সালে বি.এল., কলকাতায় মৃত্যু-১৯৫৭ সালে।

১৮৭৯ সালে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ারে রাজনীতিবিদ, জনহিতৈষী ও জমিদার আবদুল হালিম গজনবীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৫৬ সালে।

১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই, সিরাজগঞ্জে মুসলিম জাতীয়তাবাদের রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক ও বাগ্মী সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর জন্ম, মৃত্যু-১৭-০৭-১৯৩১ তারিখ।

১৮৮০ সালের ৩০ নভেম্বর, মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের অন্তর্গত সোনারং গ্রামে শিক্ষবিদ ও প্রবন্ধকার ক্ষিতিমোহন সেনের জন্ম, মৃত্যু-কলকাতায়-১২-০৩-১৯৬০ তারিখ।

১৮৮০ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি উপজেলার রাউথভোগ গ্রামে হতদরিদ্র ঘরে সূর্য কুমার বসুর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। এ কৃতীপুরুষ পূর্ববঙ্গে সর্বপ্রথম ১৯২২ সালে 'ঢাকেশ্বরী কটন মিলস' নামে বস্ত্রকল প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর, রংপুর জেলার পায়রা বন্ধ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে বেগম রোকেয়ার জন্ম এবং মৃত্যু কলকাতায় ভোর রাতে-০৯-১২-১৯৩২ তারিখ। ১৮৯৮ সালে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয় তৎকালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খান বাহাদুর সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সাথে। ১৯১৬ সালে কলকাতায় 'আঞ্জুমানে খাদেমুন ইসলাম' নামে মুসলিম মহিলা সমিতি গঠন করেন। ১৯২৯ সালে তিনি কলকাতায় প্রথম মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৮১ সালের জানুয়ারি মাসে সাভার পৌরসভার রাজাসনে জবেদ আলী পালোয়ান জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যু-২৭-০১-২০০৭ তারিখ। তিনি ২৫ পয়সায় ৫ কেজি চাল, ১৬ আনায় (এক টাকায়) ১টি বড় গরু বিক্রি হতে দেখেছেন।

১৮৮১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী খানেপাড়াতে বাবু মহিম চন্দ্র রায়ের জন্ম, মৃত্যু-১৯৩২ সালে। বাবু মহিম চন্দ্র রায় ১৯০১ সালে এন্ট্রান্স পাস করেন এবং রূপসদী গ্রামের প্রথম এন্ট্রান্স পাশ ব্যক্তি এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দ্বিতীয় ব্যক্তি। উনি রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

১৮৮২ সালের ২৫ জানুয়ারি, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সাজিউড়া গ্রামে অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী ও প্রখ্যাত বাম রাজনীতিক কমরেড নলিনীরঞ্জন সরকারের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৯৫০ সালে। তিনি ১৯৩৫ সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন, ১৯৪৮ সালে পশ্চিবঙ্গ মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী এবং ১৯৪৯ সালে কিছুদিন অস্থায়ী মূখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিছুদিন দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-চ্যান্সেলরেরও দায়িত্ব পালন করেন। কমরেড নলিনীরঞ্জন সরকারের পৈত্রিক বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

১৮৮২ সােেলর ৯ এপ্রিল, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা বাজার গ্রামে কবি ও সাহিত্যিক শেখ ফজলুল করিমের জন্ম, ইন্তেকাল ২৮-০৯-১৯৩৬ তারিখ।

১৮৮২ সালে বরিশালের উলানিয়া জমিদার পরিবারে আলহাজ খান বাহাদুর আব্দুল লতিফ চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৭৩ সালে।

১৮৮২ সালে বিক্রমপুরের মূলচর গ্রামে শতবর্ষ আগে বিক্রমপুরের ইতিহাস রচনাকারী যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৪ সালের মে মাসে কলকাতায়।

১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর, খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের জন্ম, মৃত্যু-কলকাতায় ২০-০৩-১৯২৬ তারিখ।

১৮৮৩ সালে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানার উলানিয়া জমিদার পরিবারে মুসলিম ঐতিহ্য ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নুরুল হক চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-০৩-০২-১৯৮১ তারিখ।

১৮৮৩ সালে বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন জনাব মোহাম্মদ হাফিজ-উদ-দীন চৌধুরী, মৃত্যুবরণ করেন ১৯৪৪ সালে।

১৮৮৪ সালের ১২ মার্চ, টাঙ্গাইল জেলার বিল্লাইক গ্রামে আইনজীবী ও সাহিত্যিক অতুলচন্দ্র গুপ্তের জন্ম, মৃত্যু-১২-০২-১৯৬১ তারিখ কলকাতায়।

১৮৮৪ সালের ২০ এপ্রিল, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার মিজিতলা গ্রামে বৌদ্ধ ধর্মগুরু ও সপ্তম সংঘনায়ক অভয়তিষ্য মহাস্থবিরের জন্ম, মৃত্যু-০১-০৭-১৯৭৪ তারিখ।

১৮৮৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী গ্রামে সাবেক বঙ্গীয় আইন সভার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট এবং বছরখানেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন (১৯৪০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত) এবং (১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় তদানীন্তন পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন) ও প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক স্পীকার (১৯৬২-১৯৬৮) আব্দুল হামিদ চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-০৪-০৯-১৯৬৯ তারিখ।

১৮৮৪ সালের ২৬ এপ্রিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর খাঁ পরিবারে উজ্জল রত্ন ও সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ'র জন্ম, মৃত্যু-০২-০৯-১৯৬৭ তারিখ।

১৮৮৪ সালের ৬ এপ্রিল, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্রামে নরেন্দ্রনাথ দত্তের (ক্যাপ্টেন দত্ত নামে সুপরিচিত) জন্ম, মৃত্যু-২১-০৯-১৯৪৯ তারিখ। তিনি শ্রীকাইল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪১ সালে।

১৮৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ গ্রামের বাঘবাড়িতে বিপস্নবী উল্লাসকর দত্তের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৭-০৫-১৯৬৫ তারিখ।

১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই, পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় শিক্ষাবিদ, পন্ডিত, বহু ভাষাবিদ ও মনীষী ইমিরিটাস অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ'র জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-১৩-০৭-১৯৬৯ তারিখ। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উক্ত সালের জুন মাসে সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে লেকচারার হিসাবে যোগদান করে ২৩ বছর অধ্যাপনা করে ১৯৪৪ সালে (অব.)। ১৯০৪ সালের প্রবেশিকা। তাঁর ছেলে-১৯৩২ সালের ১৭ আগষ্ট, শিল্পী মুর্তজা বশীরের জন্ম।

১৮৮৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার উজানচর গ্রামে মোঃ কামালউদ্দিন খাঁর জন্ম, মৃত্যু-১৯৫০ সালে। ১৯১৫ সালে উজানচর বাজারে দোকান দেন। বাঞ্ছারামপুর থানার উজানচর বাজারের প্রথম মুসলমান দোকানদার।

১৮৮৫ সালের ১২ ডিসেম্বর, পাবনা জেলা সিরাজগঞ্জ শহরের কিছু দূরে এবং যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ধানগড়া গ্রামে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানীর জন্ম, মৃত্যু-১৭-১১-১৯৭৬ তারিখ। ১৯২৪ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেন এবং সেখান থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে ''ভাসানী'' শব্দটি যুক্ত হয়। (১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর, ভারত সরকারের নথিতে এবং তাঁর পাসপোর্ট অনুযায়ী মাওলানার জন্ম তারিখ)।

১৮৮৫ সালে বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাধক হজরত মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলভির জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৪ সালের ১২ জুলাই, তাবলীগ জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস(রহ.) ইন্তেকাল। উপমহাদেশের মুসলমানদের ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে তাবলিগ জামাতের শুভ সূচনা হয় ও দাওয়াতে তাবলিগ জামাতের পুনর্জাগরণ করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এক জনবিরল নীরব অঞ্চল 'মেওয়াত'। চারিত্রিক বিপর্যস্ত ধর্মকর্মহীন, অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন নামেমাত্র মুসলমান 'মেও' জনগোষ্ঠীকে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, ধর্মেও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন ও কালেমার দাওয়াতি মর্ম শিক্ষাদান এবং বিভ্রান্তির কবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে হজরত মাওলানা ইলিয়াস(রা.) তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৪১ সালে প্রথম ইজতেমা দিল্লির নিজামউদ্দীন মসজিদের ছোট এলাকা মেওয়াতের নুহ মাদ্রাসায় আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ২৫ হাজার তাবলিগ দ্বীনদার মুসলমান অংশ নেন। এভাবে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে মেওয়াতের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কিছু মানুষের কাছে দ্বীনের কথা প্রচারের মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাতের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে ঢাকার পার্কসংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে, ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে ইজতেমা টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে আয়োজন করা হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে বর্তমান অবধি (২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে) 'বিশ্ব ইজতেমা' টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের উত্তর-পূর্ব তীরসংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু মিলিয়ে রাজউকের হুকুমদখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার রাজউকের ১৬০-একর ভূমি বিশ্ব ইজতেমার জন্য অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ করলে এটি স্থায়ী ইজতেমার মাঠে রূপ নেয়। বিশ্বের ৫০ থেকে ৫৫টি দেশের লোক আসে। প্রতিবছর এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৭০০ জামাত বিশ্ব ইজতেমা থেকে দেশে-বিদেশে এক চিল্লা-৪০ দিন, তিন চিল্লা-চার মাস, ছয় মাস ও এক বছরের জন্য আল্লাহর দ্বীনের তাবলিগ ও দাওয়াতের জন্য বের হয়। বিশ্ব ইজতেমার উৎপত্তি ও বিকাশ।

১৮৮৬ সালের ২৭ জানুয়ারি, দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মৌজা সালিমপুরের অধীন তারাগুনিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও এডভোকেট ড. রাধা বিনোদ পালের জন্ম, কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১০-০১-১৯৬৭ তারিখ। বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লি কাকিলাদহ। বিপিন বিহারি পালের ছেলে রাধা বিনোদ পাল আন্তর্জািতক আদালতের বিচারক ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৬-৪৮ সাল পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিও মহানগরে জাপানকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে যে বিশেষ আন্তর্জািতক আদালতে বিচার হয়, তিনি ছিলেন সেই আদালতের অন্যতম বিচারপতি।

১৮৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতে (বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর দিওয়ান বাড়ির কান্দু মিঞার ছেলে) আবদুল্লা ডিপটির জন্ম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মৃত্যু-১৯৮৭ সালে। তিনি ৪১ বছর পেনশন ভোগ করে মারা গেছেন। ১৯০৭ সালে এন্ট্রান্স পাশ করেন। উনি মূলতঃ সাব-ডিপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট (নমিনেটেড) ছিলেন। উনি ভেলানগরের প্রথম এন্ট্রান্স পাশ ও র্গযাজুয়েট।

১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে তিন মাইল উত্তরে রামরাইল গ্রামে আইনজীবি, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ শহীদ দ্বীরেন্দ্র নাথ দত্তের জন্ম, মৃত্যু-১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাক আর্মী তাঁকে ও তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র দিলীপ দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। হাঁটু ভেঙ্গে দেয়; চোখ উপড়ে ফেলে। অবশেষে ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। ১৯০৪ সালে নবীনগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। ১৯০৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এফ. এ. পাস করেন। ১৯০৮ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বি. এ. পাস করেন। উনি একমাত্র ব্যক্তি প্রথম পাকিস্তানের জাতীয় গণ-পরিষদে বলেছিলেন, বাংলা ভাষা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে হবে।

১৮৮৭ সালের ২৬ জানুয়ারি, মালদায় সমাজতাত্ত্বিক অধ্যাপক বিনয়কুমার সরকারের জন্ম, মৃত্যু-স্বাধীন ভারতের বাণী প্রচারের জন্য আমেরিকা সফরকালে, ২৬-১১-১৯৪৯ তারিখ। বাবার বাড়ি বিক্রমপুর। ১৯২৬-১৯৪৯ পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক।

১৮৮৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, পাবনার 'মুকুটহীন সম্রাট' নামে পরিচিত ছিলেন রাজনীতিবিদ আবুল মাসুদ-আবদুল হামিদের (এ. এম. আবদুল হামিদ) জন্ম, মৃত্যু-করাচিতে ৮ এপ্রিল, ১৯৫২ সালে ভোররাত দুইটায় ৬৪ বছর বয়সে। পাবনা জেলা মুসলিম লীগ সভাপতি নির্বািচত হন এবং ১৯৪৫ সালে খানবাহাদুর উপাধি পান। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমএলও নির্বািচত হন।

১৮৮৭ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া পুলিশ ষ্টেশনের অধীন তেলিখালিতে শিক্ষাবিদ ও ইসলামি চিন্তাবিদ খায়ের মুহাম্মদ আইয়ূব আলীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৯৫ সালে। তিনি ১৯৭৬ সালে একুশে পদক পান।

১৮৮৭ সালের ১ ডিসেম্বর, ঢাকার ভাগ্যকুলে সংস্কৃত পন্ডিত, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অমরেশ্বর ঠাকুরের জন্ম, মৃত্যু-২৪-০১-১৯৭৯ তারিখ।

১৮৮৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্যামগ্রাম গ্রামে রাখাল চন্দ্র রায়ের জন্ম, মৃত্যু-০২-১১-১৯৮৯ তারিখ ১০২(একশত দুই) বছর বয়সে। উনি রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

১৮৮৮ সালের ১ জানুয়ারি, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামে রায় সাহেব কামিনীকুমার ঘোষের জন্ম, মৃত্যু-১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে। কলকাতা থেকে ফিরে এসে চাচা বঙ্গচন্দ্র ঘোষের সঙ্গে ১৯১৩ সাল থেকে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। বিয়ের পর ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ভারত শাসন আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে আইন পেশা ছাড়েন এবং আন্দোলনে সর্বাত্মকভাবে জড়িয়ে পড়েন।