২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর, ইনকিলাব-জাকারিয়া কাজল: মঙ্গাপ্রবণ ১২টি জেলার পরিস্থিতি ভয়াবহ। বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ। জামালপুর, শেরপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ। এসব এলাকার শতকরা ৫৮ ভাগ মানুষের অবস্থান দারিদ্র সীমার নীচে। শতকরা ৩০ ভাগ পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভূমিহীন, ঋণগ্রস্ত ও চরম দরিদ্র। শতকরা ৪৬ ভাগ কর্মক্ষম মানুষ পূর্ণ বেকার, অবশিষ্ট ৫৪ ভাগ কর্মজীবী হলেও তাদের ৬০ ভাগ বছরের অধিকাংশ সময় ছদ্ম বেকারত্ব বরণ করে। শতকরা ৬২ ভাগ পরিবারের কোন বাড়তি সম্পদ নেই। ৭৮ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল হলেও শতকরা ৫০ ভাগ মানুষ কৃষি শ্রমিক হিসেবে অন্যের জমিতে কাজ করে। ৭২ ভাগ পরিবারের কোন স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই। এ ১২টি জেলা হলো মঙ্গাপ্রবণ এলাকা।
২০০৫ সালের ২৮ অক্টোবর, মনজুরুল আলম: জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই এখনো দারিদ্র সীমার নীচে। আয় বৈষম্য হ্রাস না পেলে দারির্দয বিমোচনের লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত। আমি বলব ৯০ ভাগ দারিদ্রসীমার নিচে। আমার মনে হয় শতকরা ৯০ ভাগ দারিদ্রসীমার নিচে।
২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ না হলে দারির্দয নিরসন সম্ভব নয়। পিআরএসপি নিয়ে দাতাদের সাথে সরকারের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক।
২০০৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বাংলাদেশের দারিদ্রবিমোচন কৌশল (পিআরএস) বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগামী ৩-বছরে ১শ' ৮০ কোটি ডলার দেবে।
২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর, স্টাফ রিপোর্টার: গত চার বছরে চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ অতিরিক্ত ৭৫,৭৭৬ কোটি টাকা মূল্য সন্ত্রাসীদের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। এ টাকার ৬৯,৯৩৬ কোটি টাকা এসেছে দরিদ্র মানুষের পকেট থেকে। গোল টেবিলে অভিমত। ড. আবুল বারকাত তাঁর ধারণাপত্রে বলেন, দারিদ্র শুধুমাত্র অর্থৈনতিক প্রপঞ্চ নয়। খাদ্য পরিভোগ দিয়ে মাপা ঠিক নয়। যা কিছু মানুষের পরিপূর্ণ জীবন প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করে তার সবই দারিদ্র। এটা শুধুমাত্র অর্থৈনতিক নয়। দারিদ্র হতে পারে আয়ের দারিদ্র, কর্মহীনতার দারিদ্র, স্বপস্ন মজুরির দারিদ্র, অস্বচ্ছতা-উদ্ভুত দারিদ্র, মানস কাঠামোর দারিদ্র। বিশ্বদারিদ্র হ্রাস কৌশলপত্রের (পিআরএসপি) সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের দারিদ্র প্রধানত মনুষ্যসৃষ্ট ভূমিকম্প কিংবা অলৌকিক কিছু নয়। শখ করে কেউ ভিক্ষুক হয় না।
২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি, সালাউদ্দিন বাবলু: দেশে দারির্দেযর হার নিয়ে বিভ্রান্তি। সরকার বলছে ৫০%, অর্থনীতিবিদদের মতে ৮০% ও পিএফএম-(পিপলস ফোরাম অন এমডিজিস) নামে এনজিওদের একটি নেটওয়ার্ক গ্রাম পর্যােয় জরিপ করে বলেছে, বর্তমানে গ্রামীণ দারির্দেযর পরিমাণ শতকরা ৬৩%। আমি বলব শতকরা ৯০ ভাগ লোক দরিদ্র।
২০০৬ সালের ২০ জুলাই, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালক-বিশ্বের ৫০টি লেস ডেভোলাপমেন্ট দেশ থেকে আগামী ৫০ বছরেও বের হয়ে আসতে পারবে না বাংলাদেশ। কারণ হলো প্রবৃদ্ধির হার ৬.৭০ থেকে ৮-এর উপরে উঠতে না পারলে বাংলাদেশের অবস্থা ভাল হবে না। দারিদ্র থেকে বের হয়ে আসতে হলে ৮-এর উপরে প্রবৃদ্ধির হার নিতে হবে।
২০০৬ সালের ২০ জুলাই, বাসস: দেশে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ। ১৯৯০ সালে পিকেএসএফ প্রথম ঋণদান কর্মসূচী চালু করে। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে দারিদ্র বিমোচনের প্রয়াসকে সফল করতে নিরলসভাবে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে যাচ্ছে। পিকেএসএফ-এর সহায়ক এনজিও'র সংখ্যা রয়েছে ২৩১টি। মোট ঋণ গ্রহীতার এক-তৃতীয়াংশই পিকেএসএফ থেকে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে।
২০০৭ সালের ১ মার্চ, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শীর্ষ অর্থনীতিবিদগণ-ক্ষুদ্র ঋণের প্রভাবে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ আরও দরিদ্র হবে। দারিদ্র দূর নয়, ক্ষুদ্রঋণের প্রভাবে আগামী ৩০ বছরে বাংলাদেশের তাবৎ মানুষই যাদুঘরে চলে যাবে। উচ্চ সুদের ক্ষুদ্রঋণ এদেশে যেভাবে চলছে এবং মানুষ একের পর এক যেভাবে এ ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ছে তাতে দারিদ্র নিরসন তো দূরের কথা, আগামী ২০/২৫ বছরে বাংলাদেশের শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষই ভয়াবহ দারির্দেযর কবলে পড়ে একপর্যােয় অস্তিত্ব হারাবে। ০৮-০২-২০০৭ তারিখ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ''বাংলাদেশ ক্ষুদ্রঋণের আর্থ-সামাজিক ও ঋণগ্রস্ততা সংক্রান্ত প্রভাব'' শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদরা একথা বলেছেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জামানের সম্পাদিত এবং ইউনিভার্সিিট প্রেস লিমিটেড প্রকাশিত এ গবেষণা গ্রন্থটি দেশের আড়াই হাজার ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
২০০৭ সালের ৭ মার্চ, ড. ইউনূস এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৫ পঁচিশ লক্ষ মানুষকে ঋণ দিয়ে শতকরা ৪২ থেকে ৪৪ ভাগ সুদ-আসলসহ আদায় করেন। যার শতকরা ৯০ ভাগই নারী। গ্রামীণ ফোন বাবদ কলচার্জ এতো বেশী রাখেন যে, মুনাফার হার দাঁড়ায় ৫০০%-এরও ওপরে। শোনা যায়, এযাবৎ গ্রামীণ ফোন বাবদ ড. ইউনূসরা যে মুনাফা করেন, তার মোট পরিমাণও নাকি দুই থেকে তিন লাখ কোটি টাকার মধ্যে। প্রতিষ্ঠানটি নরওয়ের-তাই মুনাফা নরওয়েতে চলে যায়।
২০০৭ সালের ২৭ মে, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বিইআর-এর রিপোর্ট। দেশের সাড়ে ৮ কোটি মানুষ 'খাদ্য-দরিদ্র' বা ৬০ শতাংশ মানুষ খাদ্য-দরিদ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থৈনতিক গবেষণা ব্যুরোর (বিইআর)-এর গবেষণা রিপোর্ট। আমি বলব শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ খাদ্য-দরিদ্র।
২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা। নতুন করে দারিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছে তিন কোটি মানুষ। সরকারি হিসাবে সাধারণত দৈনিক ২১২২ কিলো ক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণকারী জনগোষ্ঠীকে দারিদ্রসীমার নিচে ধরা হয়।
২০০৮ সালের ৫ জুন, গত ১৫ মাসে দরিদ্র মানুষের আয় কমেছে ৩৮ শতাংশ। বাজেটের লক্ষ্য পূরণ হয়নি, অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেঃ সিপিডি।
২০০৮ সালের ২ জুলাই, মূল্যস্ফীতির অভিঘাত নিয়ে সমুন্নয়ের গবেষণা-প্রায় ৬২ লাখ মানুষ বা সাড়ে ১২ লাখ পরিবার নতুন করে দরিদ্র হয়ে গেছে।
২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, আঞ্চলিক বৈষম্যে বাংলাদেশ বিভক্ত পূর্বাঞ্চল এগিয়ে, পশ্চিমাঞ্চল পিছিয়ে। যেমন-চট্টগ্রাম-৩৪, ঢাকা-৩২ ও সিলেট-৩৩.৮ শতাংশ দারিদ্রসীমার নিচে পূর্বাঞ্চল এগিয়ে আর বরিশাল-৫২, খুলনা-৪৫.৭ ও রাজশাহী-৫১.২ শতাংশ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে পশ্চিমাঞ্চল পিছিয়ে। আমি বলব বাংলাদেশে দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে শতকরা ৯০ জন।
২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, মার্কিন নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস এখন পর্যেবক্ষণে আছে। সারা বিশ্বে খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়া নিয়ে অনেক দেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। প্রতিদিন না খেয়ে থাকছে বিশ্বের ৮০ কোটির বেশি লোক। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি পর্যেবক্ষণে রাখা হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, একজন মার্কিিন প্রতিদিন গড়ে ৩,৭৭০ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে। আর বাংলাদেশীরা গড়ে ১,২৫০ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে।
২০০৯ সালের ২৪ আগষ্ট, প্রথম আলো: অপুষ্টিজনিত কারণে ঘন্টায় ১০ শিশু মারা যাচ্ছে। ঘন্টায় ১০, দৈনিক ২৪০, মাসে ৭,৩০০ ও বছরে মারা যাচ্ছে ৮৭,৬০০ শিশু।
২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর, আমাদের সময়: সাড়ে ৪৫ লাখ টাকার দারির্দযবিরোধী অনুষ্ঠান, গরিবরা পায়নি এক পয়সাও-শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে দারির্দয নির্মূেলর কথা চিন্তার অসারতারই প্রমাণ: স্পিকার এডভোকেট মোঃ আবদুল হামিদ। এনজিও'র নামে দোকান খুলে হাই গাইদের লাভ হচ্ছে: মতিয়া চৌধুরী।
২০০৯ সালের ২৬ নভেম্বর, প্রথম আলো: ইউনিসেফের গবেষণা তথ্য-দেশের ৩০ শতাংশ শিশু চরম দারির্দেযর শিকার।
২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর, দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার খবর: ২০০৯ সাল-ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১০ কোটি।
২০১০ সালের ২ মার্চ, প্রথম আলো: ২৪ লাখ ৭০ হাজার দরিদ্র পরিবার ফেয়ার প্রাইস কার্ড পাবে। এখন পর্যন্ত পায়নি (১১-০১-২০১২)
২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল, প্রথম আলো: প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে প্রথম আলোর গোলটেবিল। ৪০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী তীব্র অপুষ্টির শিকার।
২০১০ সালের ৫ অক্টোবর, প্রথম আলো: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদের সরকারের সময় প্রতি কেজি চালের দাম ছিল ১২ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে। এর পর থেকেই দাম ক্রমশ বেড়েছে।
গত ছয় বছরে মাথাপিছু আয় বাড়লেও আয়বৈষম্যের কারণে সীমিত আয়ের মানুষের বিপত্তি বেড়েছে।
২০০৬ সালে মোটা চালের দাম ২০ টাকা থাকলেও সেই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭.২০%। আর সেই চালের দাম গত জুলাই, ২০১০ মাসে ছিল ৩২ টাকা এবং মূল্যস্ফীতির হার ৭.২৬%।
ন্যূনতম ১৬৬২.৫০ টাকা মজুরি পেয়ে ২০০৬ সালে একজন পোশাকশ্রমিক পারিজা বা স্বর্ণা ধরনের মোটা চাল কিনতে পারতেন ৮৩ কেজি। আগামী নভেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি তিন হাজার টাকা হলে একজন শ্রমিক কিনতে পারবেন ৮৭ কেজি চাল।
২০০৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী দশম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর ন্যূনতম বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকায় মোটা চাল পাওয়া যেত ২৫৫ কেজি চাল। ২০০৯ সালে ঘোষিত বেতনকাঠামো অনুযায়ী আট হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ২৩২ কেজি চাল।
খাদ্যঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ২০০৯ সালে পরিচালিত বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি নামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে দুই হাজার ২২২ ক্যালরি গ্রহণ করতে হয়। এর চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করে, এমন জনগোষ্ঠির সংখ্যা দেশে ছয় কোটি এক লাখ।
এক হাজার ৮০০ ক্যালরির কম গ্রহণ করে, এমন জনগোষ্ঠিকে হতদরিদ্র বা 'আলট্রাপুওর' হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এদের সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ। এক হাজার ৬০০ ক্যালরির কম গ্রহণ করে, এমন মানুষকে চরম দরিদ্র বা 'হার্ডেকার পুওর' হিসেবে উল্লেখ করে ডবিস্নউএফপির প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এদের সংখ্যা তিন কোটি ১০ লাখ।
২০১০ সালের ১ জানুয়ারি, প্রথম আলো: চলতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাবদ ২৬ লাখ টন চাল ও গম বরাদ্ধের জন্য বাজেট রাখা হয়েছে। সরকার টেষ্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচীতে এক লাখ ১২ হাজার ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর (কাবিখা) আওতায় দুই লাখ নয় হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন লাখ ২০ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিল। আমার মনে হয় শ্রমজীবী মানুষ এর কিছুই পাবে না।
২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: দারিদ্র হ্রাসের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে বৈষম্য। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ।
২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: স্পিকার আবদুল হামিদের নেতৃত্বে এক মঞ্চে দারির্দযমুক্ত দেশ গড়ার শপথ সরকারি ও বিরোধী দলের। 'জাতীয় ঐক্য রুখবে দারির্দয'। আমার মনে এটা একটি সরকারি ও বিরোধী দলের তামাশা মাত্র।
২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত-এ ১৮ বছরে বাংলাদেশের ২০ লাখ গরিব পরিবারের প্রায় এক কোটি মানুষের দৈনিক আয় ১ দশমিক ২৫ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।
২০১১ সালের ৩ জুন, প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেড় শতাংশের বেশি মানুষ নতুন করে দারির্দযসীমার নিচে গেছে পূরণ হয়নি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে মোকাবিলার পরামর্শ। বাজেটের আগেই গরিব মানুষের ওপর কর। মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
২০১১ সালের ৯ অক্টোবর, প্রথম আলো: এশিয়াটিক সোসাইটিতে আবুল বারকাত-দেশের শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ দারিদ্র। আবুল বারকাত আরো বলেন, 'ক্ষমতাবানেরা এখন কালো অর্থনীতির একটি বলয় সৃষ্টি করেছেন, যেখানে বছরে ৭৫-৮০ হাজার কোটি টাকার সৃষ্টি হয়। আর এটি জাতীয় আয়ের এক-পঞ্চমাংশ।
আবুল বারকাত বলেন, ক্ষমতাবানেরা অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রে এমন এক স্থবিরতা সৃষ্টি করেছেন, যেখানে দারিদ্র বিমোচন অসম্ভব। বিশেষত তাঁরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে অথবা তাকে ব্যবহার করে দারিদ্র বিমোচন কর্মকান্ড দুরহ করছেন।
বিগত সরকারের সময়ে নিত্যপণ্যের দাম কৃতিমভাবে বাড়িয়ে মূল্য-সন্ত্রাসীরা দুই লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা লুট করেছে বলে মনে করেন বারকাত। তিনি বলেন, এর মানে এই নয় যে, গত আড়াই বছরে কোনো লুট হয়নি।
আবুল বারকাত বলেন, দারিদ্র মানুষের প্রকৃত হারটি সরকারি হিসাবের মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ নয়, হবে ৮৩ শতাংশ।
২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: বাটেক্সপোর-২০১১ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন-সরকার দারির্দেযর হার ২১ শতাংশে নামিয়ে আনতে কাজ করছে-দেশের ৩৬ লাখ পোশাকশ্রমিকের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের স্বাস্থ্য-সচেতনতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি, আশুলিয়ার শ্রমিকদের আবাসনের উদ্যোগ এবং রেশনিং-ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আমি বলব তাঁর সরকার মালিকদের পক্ষে কাজ করছে এবং দারিদ্রের হার কমাবে না বরং বাড়াবে।
১৯৯১ সালে রিহ্যাব গঠিত হয় ১১ জন সদস্য নিয়ে। ১৩-০৬-২০১৬ তারিখ এ সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা-এক হাজার ১৫১ জন। রিহাবের ১ হাজার ১৫১ সদস্যের বাইরে আরও দেড় হাজার আবাসন প্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে কে দায়দায়িত্ব নেবে-এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে রিহাব সভাপতি বলেন, 'বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অঅমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, সব আবাসন আবাসন প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে রিহ্যাবের সদস্য হতে হবে। কারণ তাদের জন্য অনেক সময় রিহ্যাব সদস্যদের সুনাম নষ্ট হয়।
১৯৯৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর-বাংলাদেশে-১.৯৪(এক কোটি চুরানব্বই লক্ষ) গৃহ প্রয়োজন।
১৯৯৭ সালের ২৭ জানুয়ারির হিসেবানুযায়ী: ২০০০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে বার্ষিক গৃহ ঘাটতির সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০(পঞ্চাশ) লক্ষ ইউনিট।
১৯৯৭ সালের ২৪ আগস্ট, কৃষি সুমারির প্রাথমিক রিপোর্ট: বাংলাদেশে গৃহের সংখ্যা ১,৭৫,৯০,০০০(এক কোটি পচাত্তর লক্ষ নব্বই হাজার), কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১,১০,১১,০০০(এক কোটি দশ লক্ষ এগার হাজার), বর্গা চাষী পরিবার ৫০,৬০,০০০(পঞ্চাশ লক্ষ ষাট হাজার), ভুমিহীন পারিবার ২০,১৮,০০০(বিশ লক্ষ আঠার হাজার) এবং খেত মজুর পরিবার ৬০,৭৩,০০০(ষাট লক্ষ তিহাত্তর হাজার)।
২০০৪ সালের ১৩ জুন, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বিপর্যেয়র মুখে পড়ছে দেশের গৃহায়ন শিল্প-রেজিষ্ট্রেশন খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশী। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে নির্মাণ খাতে ধস নামতে পারে। একই সাথে সাড়ে ১২ লক্ষ দক্ষ-অদক্ষ শ্রমশক্তির জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ারও আশংকা রয়েছে।
২০০৪ সালের ১৩ জুন, আবদুল গাফফার মাহমুদ: রাজধানীতে লক্ষাধিক বাড়ী নির্মােণ বিল্ডিং কোড লংঘণ। একেবারে নকশা ছাড়া নির্মিত হয়েছে ৩৫ হাজার বাড়ী।
২০০৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, স্টাফ রিপোর্টার: গোলটেবিল বৈঠকে বক্তাগণ-গৃহ ঋণের সুদের হার কমানো এখন সময়ের দাবী। আলোচকবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ নগর এলাকায় বাসস্থান ইউনিটের মোট সংখ্যা প্রায় ৪০(চল্লিশ) লাখ।
২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, সংসদ রিপোর্টার: সংসদে বিল পাস: বিল্ডিং কোড না মানলে ৭-বছরের জেল।
২০০৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, রিহ্যাব ফেয়ার ২০০৬ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র-স্থান: ঢাকা শেরাটন হোটেল, তারিখ-২০-২৪ ফেব্রুয়ারি-২০০৭। প্রায় গত দুই দশকেরও বেশী সময়ে রিহ্যাবের সদস্য ডেভলপাররা বড় বড় শহরে প্রায় ৬০ হাজার এপার্টেমন্টের যোগান দিয়েছে। ১৫.৫০ (পনের কোটি পঁঞ্চাশ লাখ) মানুষের দেশে এ ফ্ল্যাট নগন্যসংখ্যক। আগামী ৩ বছরে আরো ২৫ হাজার ইউনিট এপার্টেমন্ট যোগান দিতে পারবে বলে আশাবাদী। গত কয়েক বছরে সরবরাহ মাত্রা ছিল বছর প্রতি ৫-৬ হাজার ইউনিট। সূত্র জানায়, এখনও পর্যন্ত ডেভেলপার ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা মাত্র মোট জনসংখ্যার ৭ ভাগ উচ্চবিত্তের জন্যই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এ ভাবে ফ্ল্যাট তৈরী করলে কোনদিনই বাংলাদেশে বাসস্থানের সমাধান হবে না। এ খাতে প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োজিত আছে।