২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর, প্রথম আলো: সরাসরি ভর্তুিক দিতে এক কোটি ৪২ লাখ কৃষকের তালিকা তৈরি। বোরেতে ভর্তুিক দেওয়া হবে পরিচয়পত্র দেখে।
২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর, প্রথম আলো: কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট পরিবারের সংখ্যা দুই কোটি ৮১ লাখ ৬৬ হাজার। এরমধ্যে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৫০ লাখ ৮৯ হাজার।
২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: সংসদীয় কমিটির সভায় তথ্য: এবার দেশে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে।
২০১০ সালের ১৪ জুন, প্রথম আলো: দেশে ১ কোটি ৮২ লাখ কৃষক পরিবারকে দেয়া কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এ কার্ডের মাধ্যমে ৯২ লাখ বোরো চাষী ডিজেল ক্রয়ে ৭৫০ কোটি টাকা ভর্তুিক পেয়েছেন।
২০১০ সালের ৯ আগষ্ট, জনকন্ঠ: দশ টাকা দিয়ে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলেছে ৮৯ লাখ চাষী।
২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: শিল্প স্থাপনে উর্বর কৃষিজমি ব্যবহার করা যাবে না। অনুমোদনের অপেক্ষায় পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন শিল্পনীতি। ০৬-০৯-২০১০ তারিখ জাতীয় শিল্পনীতি অনুমোদিত।
২০১০ সালের ২১ অক্টোবর, প্রথম আলো: কৃষিশুমারির প্রাথমিক তথ্য। দেশে কৃষিকাজে জড়িত দুই কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। আর পল্লি এলাকায় দুই কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার, যা মোট কৃষিজীবির ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ। আর শহর এলাকায় মাত্র দুই লাখ ১৮ হাজার মানুষ কৃষিকাজে জড়িত। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা দুই কোটি ১৫ লাখ ৯৫ হাজার আর নারী ৮০ লাখ ৬৬ হাজার। মোট কৃষিজীবীদের মধ্যে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশই পুরুষ। এছাড়া সারা দেশে এক কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার একর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এরমধ্যে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এক কোটি ৯০ লাখ ৭১ হাজার একর জমি, যা মোট আবাদি জমির ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ। আর অকৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ২৭ হাজার একর জমি, যা মোট আবাদি জমির দশমিক ১ শতাংশ। এখন ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার একর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। বর্তমানে ১৫ লাখ ৩৭ হাজার একর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়।
২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর, প্রথম আলোঃ পিপিআরসির গবেষণার তথ্য। হাওরে বছরে দুটি ফসলের চাষ সম্ভব। ষাটের দশকে দেশে কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ৯২ লাখ হেক্টর বা ২ কোটি ৩০ লাখ একর জমি। আর বর্তমানে তা ৮২ লাখ হেক্টর বা ২ কোটি ৫ লাখ একর জমিতে নেমে এসেছে। তার পরও ধানের বর্তমান জাতগুলো দিয়ে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: এক লাখ টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার। ৫০ হাজার টন আতপ চাল ও ৫০ হাজার টন গম। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
২০১১ সালের ২০ নভেম্বর, প্রথম আলো: আমনেও পড়তি দাম।
।আমন ধানের বাজার।
| (মনপ্রতি টাকায়) | ২০১১ সাল | ২০১০ সাল |
| উৎপাদন খরচ | ৫৬০ | ৫০০ |
| দাম | ৫০০-৬০০ | ৭০০-৮০০ |
রংপুরে উৎপাদন খরচই উঠছে না। ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষক।
২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: চলতি অর্থ বছরে (২০১০-২০১১) সারাদেশে ৩ কোটি ৮৩ লাখ টন দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
২০১০ সালের তথ্য: বাংলাদেশে মোট জমির পরিমাণ ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার একর এবং আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর। চাষের জমির পরিমাণ-২৫ লক্ষ ৮০ হাজার একর। আর বন্যা কবলিত জমির পরিমাণ-১ কোটি একর। সেচ এলাকার জমির পরিমাণ-৯২ লক্ষ একর।
২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি, প্রথম আলো: মজুদ বাড়াতে পাঁচ নিত্যপণ্য আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছর সরকারিভাবে চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ টন। তা বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টন। আর গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা সাত লাখ ৫০ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টন করা হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে চাল আনা হতে পারে।
২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: এক ধানগাছে বাববার ধান। নিজের উৎপাদিত ধানখেতের সামনে জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর চার বছরের গবেষণায় একফসলি ধান এখন পরিণত হলো দোফসলিতে।
২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: বাংলাদেশে উৎপন্ন হবে ৫ কোটি ৪২ লাখ মেট্রিক টন। খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন-এবার ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ থাকবে সরকারের কাছে। সারের দাম বাড়বে না, প্রয়োজন হবে না চাল আমদানির।
২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর, আমাদের সময়: বাংলাদেশ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করবে ওমান থেকে।
২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর, প্রথম আলো: কৃষিজমি কমায় বছরে ক্ষতি ১৫ হাজার কোটি টাকা। বিআইডিএসের গবেষণার ফল প্রকাশ। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের মোট আয়তনের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জলাভূমি, ৫৩ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমি কৃষি কাজের উপযোগী। গবেষণায় দেখা গেছে, উর্বর কৃষিজমি মূলত ইটভাটা, শিল্পকারকানা স্থাপনের কাজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এক-মঞ্চমাংশ কৃষিজমি বর্গাচাষ ও অংশীদারির মাধ্যমে চাষ হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত এক হাজার ২০০ কিলোমিটার জমি নদীভাঙনের কবলে পড়ে হারিয়ে গেছে। লবণাক্ততার কারণে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১০ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা থাকায় ১২ লাখ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। আবার মাটির গুণাগুণ কমে যাওয়া ও খরার কারণে দেশের ৪৩ শতাংশ জমির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে বলা হতো, দেশের কৃষি জমি এক শতাংশ হারে কমছে। বর্তমানে এই হার কমার হার এক শতাংশেরও বেশি উল্লেখ করে বিআইডিএস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গবেষকেরা জানিয়েছেন।
২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর, দৈনিক জনকন্ঠঃ বগুড়ার মাঠে কম্বাইন্ড হারভেস্টর বা ধান কাটাই মাড়াই ঝাড়াই যন্ত্রের ব্যবহার।
২০১১ সালের ৩ ডিসেম্বর, দেনিক জনকন্ঠ: ২০১২ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ম্ভর হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আরেকবার বলা হয়েছিল ১৯৯৯ সালেও খাদ্যে স্বয়ম্ভর বাংলাদেশ। তা'হলে খাদ্য ঘাটতি হল কেন?? এ কথার পর আবার পর্যাপ্ত গম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার কেন।
২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: বাংলাদেশে এখন খাদ্য ঘাটতি নেই। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। আমি এ কথার সাথে একমত নেই। উৎপাদনে সরকার সফল-বাজারে ব্যর্থ-শাইখ সিরাজ।
২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন দেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন।
২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর, প্রথম আলো: বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনে উদাহরণ বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঠিক পরে ১৯৭২ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য ওই খাদ্য পর্যাপ্ত ছিল না। ৪২ বছরে এখানে মানুষ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি, আর আবাদি জমি কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। অথচ দেশে এখন খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে তিন গুণ বেশি; ভুট্টাসহ এর পরিমাণ প্রায় চার কোটি মেট্রিক টন।
২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি, প্রথম আলো : সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী-শেখ হাসিনা বলেছেন-২০০৮ সালে খাদ্যের উৎপাদন ছিল ২ কোটি ৮৩ লাখ মেট্রিক টন। সেবার ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়েছিল। এ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টনখাদ্যশস্য উৎপাদন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দেশের চাহিদা ২ কোটি ৯৫ লাখ মেট্রিক টন।
২০১৫ সালের ৯ অক্টোবর, প্রথম আলো : ধানের জন্মগত ক্রমবিন্যাস সংরক্ষণের উদ্যোগ। এই উদ্যেগের ফলে তিন হাজারের মতো ধানের প্রজাতির জন্মগত ক্রমবিন্যাস এখন থেকে এফএওর কাছে রক্ষিত থাকবে। ধান বিশ্বের অর্ধেক মানুষের প্রধান খাদ্য।
২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর, প্রথম আলো: ১৯৭১-২০১৫ এই ৪৪ বছরে দেশের ধান চাষের জমি ১৮ শতাংশ কমেছে। জমি কমলেও চাল উৎপাদন বেড়েছে ৩.১৬ গুণ।
।দানাদার ফসল উৎপাদনে অগ্রগতি: উৎপাদন হিসাব লক্ষ মেট্রিক টনে।
চাল উৎপাদন বেড়েছে ৩.১৬ গুণ:
| ১৯৭০-৭১ | ১০৯.৬৭ | ১৯৮০-৮১ | ১৫১.৬২ | ১৯৯০-৯১ | ১৭৮.৫২ |
| ২০০০-০১ | ২৫০.৮৭ | ২০০৫-০৬ | ২৬৫.৩০ | ২০১০-১১ | ৩৩৫.৪০ |
| ২০১৪-১৫ | ৩৪৭.১০ |
গম উৎপাদন বেড়েছে ১২.২৫ গুণ:
| ১৯৭০-৭১ | ১.১০ | ১৯৮০-৮১ | ১০.৭৫ | ১৯৯০-৯১ | ১০.০৪ |
| ২০০০-০১ | ১৬.৭৩ | ২০০৫-০৬ | ৭.৩৫ | ২০১০-১১ | ৯.৭২ |
| ২০১৪-১৫ | ১৩.৪৮ |
আলু উৎপাদন বেড়েছে ১০.৯০ গুণ:
| ১৯৭০-৭১ | ৮.৪৯ | ১৯৮০-৮১ | ৯.৮৩ | ১৯৯০-৯১ | ১২.৩৭ |
| ২০০০-০১ | ৩২.১৬ | ২০০৫-০৬ | ৪১.৬১ | ২০১০-১১ | ৮৩.২৬ |
| ২০১৪-১৫ | ৯২.৫৪ |
ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে ৭৫৭ গুণ:
| ১৯৭০-৭১ | ০.০৩ | ১৯৮০-৮১ | ০.০১ | ১৯৯০-৯১ | ০.০৩ |
| ২০০০-০১ | ০.১০ | ২০০৫-০৬ | ৫.২২ | ২০১০-১১ | ১০.১৮ |
| ২০১৪-১৫ | ২২.৭১ |
২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল, প্রথম আলো: চাল উদ্বৃত্ত, তবু আমদানি চলছে। রপ্তানির চেয়ে আমদানি ৩০ গুণ বেশি। নতুন শস্য কেনা হবে ১৮ লাখ টন, গুদামে জায়গা মাত্র ৬ লাখ টন।
১৯৯০ সালে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিকেএসএফ এ যাবৎ ২০০টিরও বেশী সহযোগী সংস্থার (পার্টনার অর্গানাইজেশনস)-এর মাধ্যমে ৬০ লাখ গ্রহীতাকে ২২শ' কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে।
১৯৯৪ সালের ১৩ অক্টোবরের তথ্য-বাংলাদেশে বছরে ৪০(চল্লিশ হাজার) শিশু অপুষ্টির কারণে দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছে।
১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল, বাংলাদেশ মানব উন্নয়ন রিপোর্টে অশনি সঙ্কেত-দারিদ্র জনগোষ্ঠী ক্রমাগত হারে নগর জীবন গ্রাস করছে।
১৯৯৮ সালের ১ মে'র হিসেব-বৈষম্যচিত্র: ৫-বছরে শীর্ষ ৫ শতাংশের মাসিক আয় বেড়েছে ৮,০৭০(আট হাজার সত্তর) টাকা। নিম্নে ৯৫ শতাংশের আয় বেড়েছে ৮৭/-টাকা। ধনী আরও ধনী এবং গরিব আরো গরিব হয়েছে।
১৯৯৮ সালে বিশ্বশিশু পরিস্থিতি রিপোর্ট: বাংলাদেশে ২ কোটি শিশু অপুষ্টির শিকার।
১৯৯৮ সালের ৩১ অক্টোবরের তথ্যমতে: গ্রামে মৌসুমি কাজও মিলিতেছেনা, শ্রমজীবি মানুষ শহরের দিকে ছূটিতেছে।
২০০০ সালের ২ এপ্রিল-লাভজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশ পিছিয়ে আছে। ৪৪.৬৮ ভাগ মানুষ আজ দারিদ্র সীমার নীচে; এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র ময়মনসিংহে। আমার হিসাবমতে দেশে দরিদ্র মানুষের হার শতকরা ৯৫ ভাগ।
২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ১৫ বছর মেয়াদী বা ২০১৫ সালের মধ্যে যে কর্মসূচী গৃহীত হয়, তা যে বাস্তবায়িত হচ্ছে না অথবা হলেও হবে যৎকিঞ্চিৎ, সে সত্যটুকু ২০০৫ সালে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সাথে প্রমাণ করেছে উপরে আলোচিত ইতিহাসভিত্তিক সমাজবিজ্ঞানের কথা। সমাজবিজ্ঞান নির্দেিশত পথেই হবে দারিদ্রবিমোচন, দারিদ্র সৃষ্টিকারী দেশী-বিদেশী লুটেরাদের নির্দেিশত পথে নয়। বাংলাদেশের 'দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র' দৃশ্যত মাঠে মারা যাচ্ছে। যতটুকু হবে বা হতে পারে তা হচ্ছে, দারিদ্রকে কমিয়ে একটা সহনসীমায় নিয়ে চিরস্থায়ী করা। যার ফলে দরিদ্রজন চিরদরিদ্র থেকে যাবে।
২০০১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট: এশিয়ার এক কোটি শিশু শ্রমিক মানবেতর জীবন-যাপন করে। আমার মনে হয় ৫(পাঁচ) কোটি শিশু শ্রমিক হবে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ৮০০(আটশত) লোকের জন্য একটি বেসিন এবং ২৫০(দুইশত পঞ্চাশ) লোকের জন্য একটি শৌচাগার। বাংলাদেশের নারীরা স্বামী, ঘরসংসার, ছেলেমেয়েদের দেখাশুনা করে-দৈনিক ১৪ ঘন্টা কাজ করে এবং নারীরা ৭% বাইরের কাজে এবং ৯৩% ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকে।
২০০১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট: আমি জানতাম একটি সুস্থ মানুষের দৈনিক ২৬০০ ক্যালোরীর প্রয়োজন। অন্যদের কথা দৈনিক মাথাপিছু কমপক্ষে ২২৭৩ ক্যালোরী প্রয়োজন। বাংলাদেশে মাথাপিছু ক্যালোরীর পরিমাণ ১৬০০শত। কিন্তু ১৯৬২-৬৩ সালে মাথাপিছু কেলোরীর পরিমাণ ছিল ২৩০১শত। ২০১৩ সালের কথা, বাংলাদেশে মাথাপিছু ক্যালোরীর পরিমাণ ১৪৫০শত। ত'হলে আমাদের শিক্ষিত এবং যারা সুবিধাভোগী লোকেরা বলে যে, দেশ অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমি বলি যে, দেশের অগ্রগতি হয়নি-হয়েছে ৫ ভাগ লোকের। দেশের অগ্রগতি হলে-দেশের মানুষের অগ্রগতি হতো বা ৯৫ ভাগ মানুষের অগ্রগতি হতো।
২০০১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট: বাংলাদেশে বছরে ৫০(পঞ্চাশ) হাজার শিশু অন্ধ হয় ভিটামিন'এ-এর অভাবে এবং প্রতিবছর এ সংখ্যা বাড়বে যদি দেশের অবস্থা এরুপ থাকে।
২০০১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট: বাংলাদেশের ৩৫% পরিবার নদী, খাল, পুকুর ও ডোবার পানি ব্যবহার করে। বাংলাদেশে ৩০(ত্রিশ) লক্ষ আশ্রয়হীন লোক বাস করে। বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা-৪২টি এবং মোট ব্যাংকের শাখা-১০,৭০০টি। বাংলাদেশে ১ কোটি লোক ধুমপানজনিত জটিল রোগে ভূগছে। বাংলাদেশে বছরে ৩(তিন) লক্ষ শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায়। বিশ্বে প্রতিদিন অনাহারে ৫০(পঞ্চাশ) হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটে। বাংলাদেশে পত্রিকা পড়ে গড়ে ১০% লোক। সারা বিশ্বে দৈনিক পত্রিকা ১২(বার) হাজার প্রকার আছে এবং ৫৫(পঞ্চান্ন) হাজার রেডিও-টেলিভিশন সেন্টার আছে। বাংলাদেশে সমুদ্রসীমা রয়েছে প্রায় ৪০(চল্লিশ) হাজার বর্গমাইল। বাংলাদেশে প্রায় ২০(বিশ) লক্ষ অন্ধ লোক আছে। প্রতিবছর বিশ্বে ২০(বিশ) লক্ষ শিশু অপহরণ বা ভারবনিতালয়ে বিক্রয় করা হয়।
২০০১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট: বিশ্বের ধনী ও গরীব দেশগুলোর ব্যবধান বাড়ছে এবং বাংলাদেশে ধনী ও গরীবদের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে।
২০০১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট: বিশ্বে ভিটামিন 'এ' এর অভাবে ২০(বিশ) কোটি শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
২৫-০২-২০০৩ তারিখে জনকন্ঠ পত্রিকার রিপোর্ট: যাদের গড় আয় দৈনিক ২ ডলারের কম তারা দরিদ্র এবং যাদের গড় আয় ১ ডলারের কম তারা চরম দরিদ্র। বিশ্বব্যাংক: বাংলাদেশে ২৯.১০ ভাগ লোক ১ ডলারের নিচে এবং ২ ডলারের নিচে আয় ৭৭.৮০ ভাগ লোকের কথা বলেছে বিশ্বব্যাংক।
২০০৩ সালের ২১ জুনের ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে: জনসংখ্যার অর্ধেেকর বেশী দরিদ্র, ৩১ শতাংশেরই কোন কাজ নেই। আমার কথা-জনসংখ্যার ৯৫ ভাগ দরিদ্র।
২০০৩-এর সমীক্ষার মতে, রাজশাহী বিভাগে দারির্দেযর হার সবচেয়ে বেশী-৬১ শতাংশ লোক দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করে, এরপরই রয়েছে খুলনা বিভাগের অবস্থান-৫১ শতাংশ, চট্টগ্রামে বিভাগে রয়েছে-৪৮ শতাংশ, এছাড়া ঢাকা বিভাগে রয়েছে-৪৫ শতাংশ এবং বরিশালে ৪০ শতাংশ দারিদ্রসীমার নীচে। গ্রামীন এলাকায় দারির্দেযর হার-৫৩ শতাংশের উপরে এবং শহর এলাকায় এ হার ৩৭ শতাংশ। আমার কথা-জনসংখ্যার ৯০ ভাগ দরিদ্র।
২০০৩ সালের ২২ জুনের রিপোর্ট: শ্রমশক্তির ৬২.৩০ শতাংশ কৃষি শ্রমিক, অথচ বাজেটে কৃষিখাতে ভর্তুিকর প্রস্তাব করা হয়েছে মাত্র ৩০০শ কোটি টাকা। অপরদিকে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মাত্র ৭.৪ শতাংশ শ্রমিক নিয়োজিত আছে। এ খাতের শ্রমিকরা প্রায় ১,৫০০(এক হাজার পাঁচশত) কোটি টাকা লোকশান দিচ্ছে। ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরের বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে প্রায় ৬ কোটি ৩ লাখ শ্রমশক্তি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত।
২০০৪ সালের ১১ জুন, বাসস: দেশে সাড়ে ৭০ লাখ শিশু অর্থৈনতিক কাজে লিপ্ত। বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়েসী ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুর মধ্যে ৭০.৫(সত্তর লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) শিশু কোন না কোন অর্থৈনতিক কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে।
২০০৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, সালাহউদ্দীন বাবলু: পিআরএসপি দারিদ্র বাড়াবে-বাংলাদেশে ভারতের বাজার সম্প্রসারিত হবে। আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিমাণ অর্ধেেক নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার প্রণীত ''দারিদ্র বিমোচন কৌশল পত্র' বা 'পোভার্টি রিডাকশন স্ট্রাটেজী বিমোচন' (পিআরএসপি) বাস্তবায়িত হলে দেশে দারিদ্র বৃদ্ধি পাবে।
২০০৪ সালের ১১ ডিসেম্বর, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: অর্থনীতি সমিতির সম্মেলন সমাপ্ত: খলীকুজ্জামান-বারকাত পুনঃনির্বািচত। দেশের ৫০ ভাগ মানুষ ভূমিহীন অথচ ৯০ ভাগ খাস জমি দুর্বৃত্তদের দখলে। অপরদিকে মাত্র ৬.২ ভাগ পরিবার ৪০ ভাগ জমির মালিক। আর এ জমি নিয়ে দেশের ১২ কোটি মানুষ মামলার সাথে জড়িত। দেশের মোট মামলার ৭৫ ভাগই ভূমি সংক্রান্ত। যার সংখ্যা ২৫ লাখ। দ্বিতীয় একটি সেমিনারে বলা হয়েছে জ্ঞানার্জেনর নামে শিক্ষিত শ্রেণী বিপুল পরিমাণ সম্পদ আত্মসাৎ করছে। যা সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়েছে, সাধারণ জনগণের উপর শিক্ষিত শ্রেণীর প্রভুত্ব বাড়িয়েছে। অপর এক সেমিনারে বলা হয়েছে যে, স্বাধীনতার ৩-দশক পরও আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় আন্তর্জািতক সংস্থা ও এনজিওদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এতে করে একদিকে অতি ধনী লোকের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ছিন্নমূল গরীব মানুষের সংখ্যা।