১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ূব খান তাঁর বিল্পব ঘোষণা করেন।

১৯৬০ সালে খুলনা-বাগেরহাটের মংলা সমুদ্রবন্দরের প্রতিষ্ঠা হয়।

১৯৬০ সালে বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙাশিল্পের যাত্রা শুরু হয়।

১৯৬০ সালের ২০ জুন, মহাখালীতে পাক-সিয়াটো কলেরা গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯৬০ সালের ১৩ জুলাই, আন্তর্জািতক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ইরির ৫০ বছর উপলক্ষে ১৩-০৭-২০১০ তারিখ ধানমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৬১ সালে আইয়ূব খান পূর্ব-পাকিস্তান সফর করেন; তখন যদিও রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ছিল তবুও ঐ বছরের শেষ দিকে পূর্ব-পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক আইন বিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

১৯৬১ সালের ১৮ আগষ্ট, ময়মনসিংহ জেলা শহর থেকে ৩-কিলোমিটার দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে প্রায় ১২৩০ একর জমি জুড়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সার কারখানা স্থাপিত হয়।

১৯৬২ সালের ৩১ জানুয়ারি, করাচিতে আকস্মিকভাবে সোহরাওয়ার্দীেক গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা গিয়েছিলেন এবং আগরতলা একদিন ছিলেন তার পরের দিন ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন ১৯৬৩ সালে আগরতলা গিয়েছিলেন তিনি এবং ১৫ দিন ছিলেন আগরতলা এবং কেউ কেউ বলেন একদিন ছিলেন আগরতলাতে। কোনটি সঠিক তা আমার জানা নেই।

১৯৬২ সালের ১ মার্চ, আইয়ূব খান তাঁর 'মৌলিক গণতন্ত্র' পরিকল্পিত শাসনতন্ত্র ঘোষণা করেন। এ শাসনতন্ত্রের লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল শাসন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের চিরস্থায়িত্ব।

১৯৬২ সালের ১ এপ্রিল, থেকে তিতাস গ্যাস উত্তোলন শুরু।

১৯৬২ সালের ২৮ এপ্রিল, আইয়ূব খান পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় পরিষদের নির্বাচন ঘোষণা করেন।

১৯৬২ সালে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প সির্মাণ করা হয়।

১৯৬২ সালের ৮ জুন, আইয়ূব খান নির্বাচনের কিছুদিন পর সামরিক শাসন রহিত ঘোষণা করেন।

১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর, ছাত্ররা গণমুখী ও বিজ্ঞান ভিত্তিক গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবীতে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, গণবিরোধী হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র আন্দোলন ও হরতাল পালিত হয়।

১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, পুলিশ গুলি চালালে বাবুল, মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহসহ অনেকে শহীদ হন। শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের নামানুসারে 'শরিফ কমিশনের' বিরুদ্ধে আন্দোলনে এরা শহীন হন।

১৯৬২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ২১৫ একর জমির উপর করা হয়, ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়, ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি এবং প্রথম অধিবেশন বসে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সালে।

১৯৬২ সালে ফুটবলার জহিরুল হকের হাতে বর্ষেসরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার তুলে দেয়ার মধ্যে দিয়ে যে শুরু সেরাদের স্কীকৃতি দেয়া, তা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি।

১৯৬২ সালের ১৫ ডিসেম্বর, সনদপ্রাপ্ত হিসাব নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান (সিএ ফার্ম) রহমান রহমান হকের জন্ম। ১৯৬২ সালে হিসাববিদ রেজাউর রহমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও তৎকালীন পাকিস্তানের হিসাববিদ তাফসিন আই. হক এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬৩ সালে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে ১৫ ভাগের মতো স্বাক্ষরতার হার ছিল।

১৯৯৭ সালের ২৭ জানুযারির তথ্যানুযায়ী: বাংলাদেশে নিরক্ষর লোকের সংখ্যা ৭(সাত) কোটি ২২(বাইশ) লক্ষ।

২০০৩ সালের ১০ মে, সিরাজগঞ্জকে নিরক্ষরমুক্ত জেলা ঘোষণা। এ কথার অর্থ মিথ্যা বলা।

২০০৫ সালের ১৩ অক্টোবর, ইনকিলাব-স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন-২০০৫। বাংলাদেশ শিক্ষায় সবচেয়ে পিছিয়ে।

২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল, প্রথম আলো: দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ শিক্ষিত। শিক্ষিত হিসাবে গণ্য করার আন্তর্জািতক সংজ্ঞা অনুযায়ী শিক্ষার এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ১১ বছর বয়স্কদের শিক্ষার গড় হার এখন ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৫ বছরের অধিক বয়স্কদের বেলায় ওই হার ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ। 'লিটারেসি অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে-২০০৮' শিরোনামে প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জািতক সংজ্ঞা অনুযায়ী শিক্ষার হার গ্রাম ও শহরের মোট ১২,০৯৬ জন উত্তরদাতা জরিপে অংশ নিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে পুরুষের তুলনায় নারীর শিক্ষার হার বেশি। পুরুষের শিক্ষার হার ৪৮ দশমিক ৬ এবং নারীদের শিক্ষার হার ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ। বয়স্ক (১৫+) শিক্ষার হার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সিলেটে সর্বিনম্ন ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তারা লিখতে, পড়তে ও গুনতে পারে। তবে সরকারি হিসাবে সাক্ষরতার হার এখন ৬৫ শতাংশ বলে দাবি করা হয়। যারা নাম সই করতে পারে তাদেরই সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন বলে ধরে নেওয়া হয়। বিবিএস শিক্ষার হারের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, সাক্ষরতার নয়।

২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর, দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার খবর: ২৪ ঘন্টা শিক্ষা বিষয়ক নতুন টিভি চ্যানেল হচ্ছে-আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে স্বক্ষরতার হার শতকরা ১০০ ভাগে উন্নীত করতে চায় সরকার।

২০১০ সালের ২১ জুলাই, আমাদের সময়: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরো প্রকাশিত স্টাটিস্টিক্যাল ইয়ারবুক অব বাংলাদেশ-২০০৮-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে শিক্ষার গড় হার ৬১.৩ ভাগ।

২০১২ সালের ১৭ জুলাই, প্রথম আলো: পুরুষের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ আর নারীর মধ্যে স্বাক্ষরতার হার ৪৯ দশমিক ৪ জন। বর্তমানে শিক্ষার হার ২৫ ভাগ মানুষ। লিখতে পড়তে পারে তাকে শিক্ষিত বলা হয়। বাংলাদেশে শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ শিক্ষিত এবং লিখতে-পড়তে পারে। আর স্বাক্ষরতার হার কত ভাগ। আমার মনে হয় ৫২ ভাগ মানুষ স্বাক্ষর করতে পারে।

২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো : সাক্ষরতার হার ৬১% আর নিরক্ষরতার ৩৯%। নিরক্ষরতার আর্থিক মূল্য আট হাজার কোটি টাকা।

১৯৬৪ সালের ২৯ মার্চ, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের দাবিতে হরতাল পালিত। পল্টন ময়দানে বিশাল গণসমাবেশে মওলানা ভাসানী ও মাওলানা তর্কবাগীশ বক্ততা করেন।

১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল, সর্বজনীনভাবে বাংলা নববর্ষের উৎসব ছায়ানটের উদ্যোগে ঢাকার রমনা বটমুলে শুরু হয়। উৎসব হিসেবে বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। দেশ স্বাধীন হবার পর নববর্ষ উৎসব জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলা ও ছোট শহরেও বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়।

১৯৬৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬(ছয়) দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

১৯৬৫ সালে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৬৫ সালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটিকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়।

১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম রবার চাষ করা হয় চট্টগ্রাম অঞ্চলে।

১৯৬৫ সালের প্রণীত কারখানা আইন এখনো বাংলাদেশে বলবৎ আছে।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার শত্রু সম্পত্তি আইন জারি করে। পাকিস্তান সরকার দেশ আইন হিসেবে ৯ সেপ্টেম্বর, 'ডিফেন্স অব পাকিস্তান অর্ডিন্যান্স' জারি করে। তাতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর দিন থেকে ১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাকিস্তানের যেসব নাগরিক শত্রু রাষ্ট্র ভারতে অবস্থান করেছে, তাদের সম্পত্তি(বাড়ি-ঘর, জমি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান) শত্রু সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং সরকারের হেফাজতে চলে যাবে।

১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর, বাংলাদেশে ঘুর্ণিঝড়ে ১০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক '৬-ছয় দফা' কর্মসূচী উপস্থাপন।

১৯৬৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, বিরোধীদলের সম্মেলনে ৬-দফা উত্থাপন করেন।

১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ (ছয়) দফা কর্মসূচী অনুমোদিত হয়।

১৯৬৬ সালের ১ মার্চ, শেখ মুজবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বািচত হন।

১৯৬৬ সালের ১৬ মার্চ, ছয় দফাকে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের নীল নকশা বলে অভিহিত করেন আইয়ূব খান। তিনি অস্‌্ররে ভাষা প্রয়োগের হুমকি দেন।

১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ, প্রথম ৬ দফার জনসভাটি হয়েছিল-আমীর হোসেন আমু বলেছেন-দৈনিক জনকন্ঠের ইডিটরিয়েল কলামে লিখেছেন ২৩ জুন, ২০১৩ সালে।

১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ, শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠাণিকভাবে ৬-দফা পেশ করেন।

১৯৬৬ সালের ৭ জুন, লাহোরে ছয় দফার ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় দফা প্রস্তাবে ছিলঃ-(১) শাসনতান্ত্রিক গ্যারান্টির আওতায় পাকিস্তানের ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামোর প্রতিষ্ঠা, যার ভিত্তি হবে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব, সরকার হবে পার্লােমন্টারি পদ্ধতির, থাকবে সর্বজনীন ভোটাধিকার ও সার্বেভৗম আইন পরিষদ; (২) ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়, অবশিষ্ট বিষয়গুলো ফেডারেশনের ইউনিটগুলোর হাতে থাকবে; (৩) দুটি পরস্পর বিনিয়োগযোগ্য মুদ্রা বা পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ একটি মুদ্রাব্যবস্থা। আর থাকবে পূর্ব থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন প্রবাহ রোধের শাসনতান্ত্রিক বিধান প্রভৃতি। (৪) পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন; দেশরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও মুদ্রাঃ-মাত্র এই তিনটি ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাখিয়া বাকি সকল ক্ষমতা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান আঞ্চলিক সরকারদ্বয়ের হাতে ন্যস্ত থাকিবে। (৫) ফেডারেল ও পার্লােমন্টারি শাসন ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা। (৬) সকল রাজবন্দীর মুক্তি, হুলিয়া প্রত্যাহার, জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করা, দমনমূলক সকল বিধি-নিষেধ বাতিল করা।

১৯৬৬ সালের ৭ জুন, ছয় দফার সমর্থন ও পূর্ন আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে পূর্ব বাংলায় হরতাল পালিত হয় (টঙ্গী, ঢাকা ও ও নারায়ণগঞ্জে) পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া, সফিক, শামসুল হক, মুজিবুল হকমহ বেশ কয়েকজন মানুষ শহীদ হন। পুলিশের গুলিতে ১১ জন নিহত ও শত শত আহত হয়।

১৯৬৭ সালের ৩০ এপ্রিল, পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক মুভমেন্টের ৮ দফা কর্মসূচী পেশ করা হয়।

১৯৬৭ সালের ২৪ জুন, পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসঙ্গীত বন্দের নির্দেশ দেন।

১৯৬৭ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে প্রথম লৌহ ও ইস্পাত কারখানা স্থাপিত হয়।

১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আইয়ূব-মোনেম চক্র পূর্ব-পাকিস্তানে কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্বার্থিবরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে মামলা করেন।

১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোটি ৩৫ বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসাবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।

১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি, সদ্য কারামুক্ত শেখ মুজিবকে পুণরায় গ্রেফতার করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

১৯৬৮ সালের ১১ এপ্রিল, আইয়ূব-মোনেম চক্র এক সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে পাকিস্তান সরকার একটি মামলা দায়ের করেন "আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা''। মামলায় ৩৫ জন বাঙ্গালী সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিককে আসামী করে গ্রেফতার। তাঁদের মধ্যে মর্তমানে মাত্র ১০ জন জীবীত আছেন (২৫-১০-২০১০ তারিখ)। প্রকৃতপক্ষে ৬-দফা আন্দোলন নস্যাৎ করাই ছিল এ মামলার উদ্দেশ্য। ১৯৬৮ সালের স্টেট ভার্সেস শেখ মুজিব এন্ড আদার্স শিরোনামে মামলা যা সংবাদপত্রের কল্যাণে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে পরিচিত তা একশতভাগ সত্য ছিল। ২০০৯ সালের ৭ ডিসেম্বর, আমাদের সময়: ডেপুটি স্পিকার কর্ণেল শওকত আলী বললেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা একশতভাগ সত্য ছিল।

১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্তরুপে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যু।

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের রিডার ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন।

১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, শেখ মুজিবসহ আগরতলা মামলার সকল আসামী এবং কমিউনিষ্টরাসহ অপরাপর রাজবন্দীদের মুক্তিলাভ করে।

১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, গণঅভ্যুত্থানের মুখে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তুলে নেয়া হয়।

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু উপাধি' দেয়।

১৯৬৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, গোলটেবিল বৈঠকে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঢাকা ত্যাগ।

১৯৬৯ সালের ৮ মার্চ, পশ্চিম-পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে মওলানা ভাসানী র্কতৃক পুনরায় গোলটেবিল বৈঠকের বিরোধিতা এবং চলমান আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার আহবান।

১৯৬৯ সালের ১০ মার্চ, রাওয়ালপিন্ডিতে সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। আওয়ামীলীগের ৬-দফা ও ছাত্রদের ১১-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের দাবি।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর, পূর্ব-পাকিস্তান টেলিভিশন ঢাকার ডি.আই,টি. ভবনে স্থাপিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার পর থেকে 'বাংলাদেশ টেলিভিশন' নামকরণ করা হয়।

১৯৬৮ সালে টাঙ্গাইল জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-২৫১৬টি, ইউনিয়ন-১০৮টি।

১৯৬৮ সালের ১৭ অক্টোবর, 'বিটপীর ৪০ বছর মানে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনশিল্পেরই ৪০ বছর' (১৭-১০-২০০৮ সালে) পালিত হয়। বিটপী অর্থ চারা গাছ।

১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৯ অক্টোবর, ২০০৮ সালে উদীচীর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। উদীচীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সংগ্রামী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্তসহ কয়েকজন প্রগতিশীল মানুষ।

১৯৬৮ সালের ৬ ডিসেম্বর, মওলানা ভাসানীর ঘোষিত "জুলুম প্রতিরোধ দিবস'' পালিত। বিকেলে পল্টন ময়দানে জনসভায় মওলানা ভাসানীর ঘোষণাপূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটারাধিকার, রাজবন্দীদের মুক্তি এবং আঞ্চলিক বৈষম্যের অবসানের দাবিতে প্রয়োজনে খাজনা, ট্যাক্স প্রদান বন্ধ করা হবে। সভা শেষে তাঁর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল; গভর্ণর হাউস (বঙ্গভবন) ঘেরাও। ভাসানীর সংঙ্গে পাঞ্জাবী পরিহিত কমিউনিস্ট নেতা আব্দুল হক। পুলিশের বাঁধা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী র্কতৃক পর দিন ঢাকায় হরতাল আহবান।

১৯৬৮ সালের ৭ ডিসেম্বর, আইয়ূব খাঁনের কুশ-পুত্তলিকা দাহ।

১৯৬৮ সালের ৮ ডিসেম্বর, মওলানা ভাসানীর ডাকে প্রদেশব্যাপী হরতাল। ব্যপক পুলিশী নির্যাতন, গ্রেফতার ও অসংখ্য আহত, প্রদেশব্যপী প্রচন্ড বিক্ষোভ।

১৯৬৮ সালের ১২ ডিসেম্বর, মওলানা ভাসানীর আহবানে পূর্ব-পাকিস্তানে হরতাল। জুময়'ার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযা ঠেকানোর জন্য পুলিশ ও ই. পি. আর. এর অবরোধ।

১৯৬৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর, ভাসানী ন্যাপের পক্ষ থেকে ২৯ ডিসেম্বর থেকে সারা প্রদেশে ঘেরাও আন্দোলন'' কর্মসূচী শুরু করার ঘোষণা।

১৯৬৮ সালে আইয়ূব খাঁন তার স্বৈরাচারী শাসনের দশ বছর পুর্তি অনুষ্ঠান পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আইয়ূব খাঁন তাঁর ১টি বইয়ের নাম দেন "প্রভু নয় বন্ধু"।