১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ (২৫ এপ্রিল), জব্বারের বলী খেলা সুরু হয়েছিল। রুমু, চট্টগ্রাম ব্যুরো: লালদীঘি মাঠে ৯৭তম (২০০৫ সালে) আবদুল জব্বারের বলী খেলায় দিদারুল আলম ও মমসিং ত্রিপুরা আবারো যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। এ দুই খেলোয়ার প্রায় ৪৪ মিনিটব্যাপী লড়াই করে কেউ কাউকে হারাতে না পারায় উভয়কে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন।
১৯১০ সালে নওগার পেয়ারী মোহন পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১০ সালে রাজশাহী বরেন্দ্র মিউজিয়াম রিসার্চ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১০ সাল থেকে বিদ্যুৎ আইন বলবৎ থাকলেও গ্যাস খাত পরিচালনার জন্য কোনো আইন নেই।
১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিজ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
১৯১০ সালে নাটোর বরেন্দ্র যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ দেশের প্রথম যাদুঘর। শরৎকুমার রায়, সঙ্গে নেন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং রমাপ্রসাদ চন্দকে। ১৯১৬ সালে এই ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাদুঘরটি আত্তীকৃত হয়। ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এই জাদুঘরের দুস্প্রাপ্য পুরাকীর্তির সংগ্রহ।
১৯১০ সালে আমেরিকাতে সায়মন বন্ড নামের সিনেমাতে যে সুটকেস ব্যবহার হয়েছিল, সে ধরণের সুটকেস ঢাকার গুলশানে একটি দোকানে পাওয়া যায়।
১৯১০ সাল থেকে মানিকগঞ্জের বালিয়াটিতে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১০ সালে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন কুষ্টিয়া ছিল মহকুমা শহর, নদীয়া জেলার অধীন।
১৯১১ সালের ১৯ আগষ্ট, ইংরেজরা প্রতিষ্ঠা করে ঢাকা ক্লাভ।
১৯১১ সালে লালমনিরহাট পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১১ সালে কারখানা আইন নামক একটি শিল্প আইন পরিষদে পাস হয়।
১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, বঙ্গভঙ্গ আইন রদ হয় এবং ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তর করা হয়।
১৯১২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার রূপসদী খানেপাড়ায় তীর্থবাসির বিল্ডিং তৈরী হয়।
১৯১২ সালে চট্টগ্রাম সমিতি কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। সমিতি এখন ঢাকাতে কার্যক্রম চালায়।
১৯১২ সালে ফজলুল হক সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মহামেডান এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯১২ সালের ৬ ডিসেম্বর, রাজশাহী জেলার সারদায় অবিভক্ত বাংলার জন্য 'পুলিশ প্রশিক্ষণ কলেজ' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ একাডেমী ''বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী'' প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৩ সালের ৭ আগষ্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি ছোট কক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা যাদুঘর।
১৯১৩ সালে ঢাকা মিউজিয়াম গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৪ সালে ফজলুল হক বাংলার মুসলমানদের নেতার ভূমিকা গ্রহণ করেন।
১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই, শুরু হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১২ লাখ সেনা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হলো, এ যুদ্ধের মাধ্যমেই বাঙালিরা নতুনভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ১৯১৬ সালের ৭ আগস্ট গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ঢাকা শহরে বাঙালিদের জন্য একটি পদাতিক রেজিমেন্টই পরে পরিচিতি পেল '৪৯তম বেঙ্গলি রেজিমেন্ট' বা 'বাঙালি পল্টন' হিসেবে। নওশেরা ও করাচিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মেসোপটেমিয়া ও কুর্দিস্তানের রণাঙ্গনে যোগ দেয় দলটি। ১৯১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, ঢাকায় প্রথম জনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয় বিকেলে। এ সভা থেকে আহবান জানান ঢাকার নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ তরুণদের রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার আহবান জানালেন তিনি। ঢাকা শহরে ভর্তির জন্য দুটি বেসরকারি কেন্দ্রের ঘোষণা হলো-একটি শ্রীশচন্দ্র চ্যাটার্জি ও অন্যটি হাকিম হাবীবুর রহমানের বাসায়। ১৯১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, থেকে ঢাকা সেনানিবাসে সরকারিভাবে শুরু হল সেনা ভর্তিও কাজ। ১৯ অক্টোবর বাঙালি পল্টনে যোগ দিতে ঢাকা থেকে কলকাতায় রওনা হলো প্রথম দলটি। ১৯১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা সদরঘাটে মুসলমানদের এক সভায় নবাব হাবিবুল্লহ ছিলেন বাঙালি পল্টনে যোগদানের ঘোষণা। ২৬ এপ্রিল পল্টনে যোগদানের জন্য করাচির উদ্দেশ্য রওনা হলেন তিনি। সেনাদের সাহায্যার্থে ঢাকাতে মহিলা সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেন ১৯১৭ সালের ৩ জুন। ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিবদমান দু-পক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল। ২৭ নভেম্বর, সারা ঢাকায় ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হলো বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি। ২৯ নভেম্বর, ঢাকা পল্টন ময়দানে হলো আনন্দ উৎসব। এ আনন্দের আকর্ষণ ছিল সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ। শুধু কি তাই, যুদ্ধ শেষের আনন্দে ৩০ নভেম্বর, বড়িগঙ্গার পাড়ে আয়োজন করা হয় কাঙালি ভোজ। ২৭ ডিসেম্বর, বিকেলে নবাব হাবিবুল্লহ রেজিমেন্ট থেকে ফিরে এলেন ঢাকায়। ১৯২০ সালের ৩০ আগস্ট বন্ধ ঘোষণা করা হলো বেঙলি রেজিমেন্ট। বেঙলি রেজিমেন্টে অবিভক্ত বাংলা থেকে ৫,৯৫২ জন যোদ্ধা এবং ২৩১ জন ফলোয়ার্স যোগ দিয়েছিলেন।
১৯১৫ সালের ৪ মার্চ, হার্ডিজ্ঞ ব্রিজ অবিভক্ত ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিজ্ঞ ব্রিজটি উদ্্বােধন করেন। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে পদ্মায় ১০০(একশত) বছর আগে উযদ্বোধন করা হার্ডিজ্ঞ ব্রিজ দিয়ে রেল চলছে। ভারতীয় টাকায় তখন খরচ হয়েছিল-৩ কোটি ৫১ লাখ ৩২ হাজার ১৬৪ রুপি। এ ব্রিজ কুস্টিয়া-পাবনার সংযোগ স্থাপনকারী হার্ডিজ্ঞ ব্রিজ। স্থানীয় কৌতুক আছে এ ব্রিজ বানাইতে কত টাকার লোহা লাগছে। একজন আরেকজনকে বলছে যে-পুরোটা লোহা দিয়ে বানাইছে-কত বড় পুল-কত টাকার লোহা ৫০০/- টাকার লোহা লাগছে। ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট, প্রথম আলো : পরিদর্শেন হার্ডিজ ব্রিজ আরও ২৫ বছর টিকবে। এ ব্রিজ ২০৪০ সালের পর রাখা ঠিক হবে না।
১৯১৫ সালে রাজশাহী গুরুদাসপুর পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৭ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়া মাঠে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন। কথিত আছে, কোন এক ঈদের জামাতে এখানে এক লাখ ২৫ হাজার বা 'সোয়ালাখ' মুসল্লীর সমাগম ঘটেছিল; সে থেকে এ মাঠের নামকরণ 'সোয়ালাখিয়া' থেকে হয় 'শোলাকিয়া'। গত ঈদুল ফিতরের জামাতে প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লী শোলাকিয়ায় একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদুল আযহার ১১-০১-২০০৬ সালে ১৭৮তম জামাত হয়।
১৯১৭ সালের ১৪ এপ্রিল ছিল বাংলা ১৩২৪ সনের পয়লা বৈশাখ। কলকাতার গণ্যমান্য বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ রাজার বিজয়ের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপনের পরিকল্পনা নেয়। উৎসব হিসেবে বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। ১৯৬৪ সালে সর্বজনীনভাবে বাংলা নববর্ষের উৎসব ছায়ানটের উদ্যোগে ঢাকার রমনা বটমুলে শুরু হয়। দেশ স্বাধীন হবার পর নববর্ষ উৎসব জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলা ও ছোট শহরেও বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়।
১৯১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম চেম্বারের জন্ম। বিশ্ব বাণিজ্য বা ওয়াল্র্ড ট্রেড সেন্টার চালু করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার। ২০১৬ সালে একশত বছর পালন করেছে।
১৯১৭ সাল থেকে প্রথম ঢাকা নগরীকে পরিকল্পিতভাবে সাজানোর বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনোটিরই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। সব পরিকল্পনা ও মহাপরিকল্পনা খাতাপত্রেই রয়ে গেছে; বরং সেটা করতে গিয়ে শত শত কোটি টাকা জলে গেছে। খ্যাতনামা নগরবিদ ড. নজরুল ইসলাম বলেন ১৯১৭ সালে প্রণীত স্যার প্যাট্রিক গেড্ডেসের নগর পরিকল্পনার কোনো কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান। তাঁর সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা হয়ে উঠত সুন্দর সমৃদ্ধ এক শহর। এরপর ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনাও জোড়াতালি দিয়ে শেষ করা হয়। তবে প্রখ্যাত স্থপতি লুই কান ১৯৭৩ সালে দুই হাজার একর জমিজুড়ে দ্বিতীয় রাজধানীর পরিকল্পনা নেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু হলে সে পরিকল্পনারও মৃত্যু ঘটে। ১৯৮০ সালে ঢাকার আরেকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এর কোনো সুফল পায়নি ঢাকাবাসী। সর্বেশষ ১৯৯৫ সালে ২০ বছর মেয়াদি ঢাকা আরবান স্ট্রাকচার পস্নান এবং ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা আরবান এরিয়া পস্ন্যান হাতে নেয়া হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি এ মহাপকিল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫৯০ বর্গমাইল এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমার মনে হয় এ প্রকল্পের কাজও শেষ হবে না।
১৯২৩ সালে মহানগরের পয়োনিস্কাশন ব্যবস্থা চালুর পর গত প্রায় ৮৮ বছরে ঢাকায় স্থাপিত হয়েছে মাত্র ৬৩১ কিলোমিটার পয়োলাইন। অথচ নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মেট্রোপলিটন এলাকা সম্প্রসারিত হওয়ার পর প্রায় তিন হাজার ১৫৫ কিলোমিটার পয়োলাইন স্থাপনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালে যতটুকু পয়োলাইন ছিল, এক যুগ পরও তাই রয়ে গেছে। সূত্র জানায়, এক যুক আগেও রাজধানীর মাত্র ৩০ শতাংশ অঞ্চলের পয়োবর্জয পাগলা শোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার লাইন ছিল। ঢাকা ওয়াসার হিসাবে এখনো তাই রয়েছে। ৭০ শতাংশ এলাকায় এখনো পয়োনিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই।
১৯৫৩ সালের দি টাউন ইমপ্রুভমেন্ট এ্যাক্টের ভিত্তিতে ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি)। তখন এর আয়তন ছিল ২২০ বর্গমাইল। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজধানী হিসেবে ঢাকার আয়তন বাড়ানো হয়।
১৯৬৩ সালের ৫ নভেম্বর, ঢাকা ওয়াসা যাত্রা শুরু করে ৩৩টি গভীর নলকুপ নিয়ে। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার নলকুপের সংখ্যা ৭০০-এর বেশি। বেসরকারি ও অন্যান্য মিলিয়ে আরও এক হাজার বা তারও বেশি নলকুপ রয়েছে। কয়েক বছর আগেও ২০০ ফুট গভীরতায় নলকুপে পানি পাওয়া যেত। এখন ৩৫০-৪৫০ ফুট গভীরতায় নলকুপও বাতিল করতে হচ্ছে। নতুল নলকুপ স্থাপিত হচ্ছে ৯০০-১০০০ ফুট গভীরতায়। এত গভীরে নলকুপ স্থাপনের অর্থ এ নয় যে বিরতিহীনভাবে অনন্তকাল ধরে গভীরতর স্তরে পানি পাওয়া যাবে। ইতিপূর্বে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ১৯৪৯ থেকে ঢাকা ওয়াসা দায়িত্ব নেওয়ার সময় পর্যন্ত ঢাকার পানি সরবরাহ করত। সেই ১৮৭৮ সাল থেকে ঢাকায় পরিস্ত্রু পানীয় জলের সরবরাহ যাত্রা শুরু করলেও তা চাহিদার সঙ্গে আজও পেরে ওঠেনি। ১৮৮১ সালে ঢাকায় যে ভয়াবহ কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে ঢাকার এক-চতুর্থাংশ লোকের মৃত্যু হয়েছিল। বাংলা লোক সংস্কৃতির অন্যতম পথিকৎ দীনেশ চন্দ্র সেনের লেখায় উল্লেখ আছে-বিশুদ্ধ জলের অভাবে ঢাকায় বারোমাস কলেরা লেগে থাকার কথা। খাওয়ার পানি ক্রমেই ব্যয়বহুল হবে।
২০০৩ সালের ৭ আগষ্টের রিপোর্ট: গত ২৫(পঁচিশ) বছরে রাজধানী ঢাকায় পানির স্তর নেমেছে ৫৫(পঞ্চান্ন) ফুট নীচে। ১৯৬৬ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ২৫(পঁচিশ) মিটার গভীর থেকে নলকুপে পানি উঠানো যেত। এখন সে স্তর নেমে প্রায় ১০০(একশত) মিটারে এসে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে ৪০০(চারিশত)-এর অধিক গভীর নলকুপ এবং ৪টি পানি শোধনাগারের মাধ্যমে প্রতিদিন ১.৫ দেড় কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে আসছে।
২০০৪ সালের ১২ এপ্রিল, নগরীতে পানি সংকট: কার্যকর উদ্যোগ নেই। এছাড়া দৈনিক ২০০ কোটি লিটার পানি চাহিদার মুখে ওয়াসা বর্তমানে ১৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করছে। ৫০ কোটি লিটার পানির ঘাটতির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
২০০৪ সালের ১২ এপ্রিল, ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশী জনসংখ্যা নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে ঢাকা সিটি কর্পোেরশন: রাজধানীর বর্তমান লোকসংখ্যা ১.৪(এক কোটি চল্লিশ লাখ)। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা মহানগরী। অথচ সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ লাখ লোকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এ রাজধানী শহরের। প্রতিদিন বাইরে থেকে ঢাকায় আসা যাওয়া করে প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ মানুষ। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা এ শহরের জনসংখ্যা ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পরেও ছিল মাত্র ১২/১৩ লাখ। বর্তমানে যে হারে লোকসংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামী ২০২০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশী বৃদ্ধি পেয়ে ২.৫ আড়াই কোটি থেকে ৩ কোটিতে পৌঁছুবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি শহরের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ রাস্তাঘাট থাকা প্রয়োজন সেখানে আছে মাত্র ৮-ভাগ রাস্তা। ফলে যানজট এ শহরের নিত্যসঙ্গী। ঢাকার জনসংখ্যা অনুযায়ী ২০(বিশ) হাজারের স্থানে আছে মাত্র ৬/৭ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং প্রয়োজনীয় সাড়ে ৬০০শত গাড়ীর স্থলে মাত্র ১৫০টি গাড়ী আছে। বাংলাদেশের যানবাহনের শতকরা প্রায় ৫৬ শতাংশ চলাচল করে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকায়। রাজধানীর নাগরিক সমস্যার এ জটিল চিত্র নিয়ে নাগরিক সুবিধা প্রদানের এক অসমযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা সিটি কপোের্রশন।
২০০৬ সালের ১ এপ্রিল, মিথুন কামাল: রাজধানীতে পানির সমস্যা প্রকট: ঘাটতির পরিমাণ ১শ' কোটি লিটার।
২০০৬ সালের ৩ আগষ্ট, বিপর্যস্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা: ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে যেখানে স্যুয়ারেজ লাইন ছিল ৬৪০ কিলোমিটার সেখানে ২০০৪ সালে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮৯ কিলোমিটার। স্যুয়ারেজ সংযোগ ৬-বছরে বেড়েছে মাত্র ৪-হাজার ৯৯৭টি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে ৪৪ হাজার, ২০০৩ সালে ৪৮ হাজার ৭৭৭ এবং ২০০৫ সালে পূর্বের ন্যায় সচল থাকে। প্রতিদিন নগরীতে ১০ লাখ ঘন মিটার পয়ঃ বর্জয উৎপাদিত হলেও পরিশোধন করা সম্ভব মাত্র ৫০ হাজার ঘন মিটার। বর্তমানে বস্তি এলাকায় পয়ঃ নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নগরীতে দ্রুত গতিতে লোকসংখ্যা বাড়লেও পয়ঃবর্জয পরিশোধনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই।
২০০৭ সালের ১২ মার্চ, রাজধানীতে খাবার পানির জন্য ২০ বছরে ব্যয় হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, অরূপ দত্তঃ শীতলক্ষ্যার পানি শোধনের অযোগ্য। রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় পানিতে দুর্গন্ধ, ব্যবহারের অনুপযোগী, ছড়াচ্ছে পেটের পীড়া ও চর্মেরাগ।
২০১০ সালের ২২ মার্চ, প্রথম আলো: নলকুপ ও দূষিত নদীর পানি একাকার। ঢাকা ওয়াসার মাত্র ১৩% নদীর পানি। ৮৭% নলকূপের। সমস্যা অভিন্ন সরবরাহ লাইন। তরল মৃত্যুফাঁদ। দূষণে দূষণে বুড়িগঙ্গার পানির রং পর্যন্ত বদলে গেছে। শোধনের অনুপযোগী সেই পানিই ওয়াসার পাইপ গলেপৌঁছে যাচ্ছে পাকস্থলীতে। বিপন্ন করে তুলছে মানুষের জীবন। কিছু মানুষের কারণে পুরো প্রাণিকুলের জন্য পানি হয়ে উঠছে তরল মৃত্যুফাঁদ।
২০১০ সালের ২০ মে, প্রথম আলো: ঢাকায় ওয়াসার পানিতে ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব। ২২ নমুনার মধ্যে ১৫ স্থানের পানিই বিএসটিআইয়ের মানদন্ডে উত্তীর্ণ হয়নি।
২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: রাজধানীর তিন-চতুথাংশ পয়োনিস্কাশনের বাইরে। পয়োনিস্কাশন-ব্যবস্থা এক যুগ আগের অবস্থায়।
২০১৪ সালের ৩ মার্চ, প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: উন্নত পয়োনিস্কাশন ব্যবস্থাপনার সুবিধা পায় ৫৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী। আর ৮৩ শতাংশ জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: পানির দাম বাড়াল ঢাকা ওয়াসা। ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, আগে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ছিল ৭ টাকা ৭১ পয়সা। এখন তা করা হয়েছে ০১-০৯-২০১৫ তারিখ থেকে ৮ টাকা ৯০ পয়সা। বাসাবাড়িতে বাড়ানো হয়েছে ১.১৯ পূড়ণ ২=২.৩৮ পয়সা। আর কলকারখানা ও হোটেলসহ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ২৫ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৬ টাকা ৯৪ পয়সা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে-১.২৮ পয়সা। রাজধানীর প্রায় দেড় কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন ২৩০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ঢাকা ওয়াসার উৎপাদন ক্ষমতা ২১০ কোটি লিটারের মতো। এর ৭৮ শতাংশ তোলা হয় গভীর নলকুপ দিয়ে, বাকিটা নদীর পানি।