২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর, প্রথম আলো: নতুন পানি শোধনাগার প্রকল্পের উদ্বোধন। ঢিল ছুড়ে উন্নয়নের গতি রোধ করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন-চীনের আর্থিক সহায়তায় ৩ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার যশলদিয়ায় পদ্মা পানি শোধন প্রকল্প(প্রথম পর্যায়) নির্মিত হবে। এখানে দৈনিক-৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রকল্প শেষ হবে। উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন-আরও তিনটি ওয়াটার র্টিরটমেন্ট পস্ন্যান্ট নির্মােণর অপেক্ষায় রয়েছে।

১৯১৮ সালে ভাষার বিষযে রবীন্দ্রনাথ শান্তি নিকেতনে এক আলোচনা সভা ডাকেন। সভায় রবীন্দ্রনাথের ভাষা-চিন্তার বিপরীতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ঘোষণা করেন, বাঙলা, উর্দু ও হিন্দী তিনটি ভাষারই ভারতের জাতীয় ভাষা হবার যোগ্যতা রয়েছে।

১৯১৯ সালে মওলানা ভাসানী ৩৪ বছর বয়সে প্রকৃত রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

১৯২০ সালে ফজলুল হক হলেন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী। ১৯৩৭ সালে বাংলার তিনি প্রধানমন্ত্রী।

১৯২১ সালে কলকাতা শহরে নোয়াখালী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। সমিতি এখন কার্যক্রম চালায় ঢাকাতে।

১৯২১ সালের ১০ মার্চ, নারায়নগঞ্জ শহরে প্রতিষ্ঠিত এই বোস কেবিনটি এখনো ৯ সনাতন পাল লেনে টিকে আছে। বোস কেবিনের সূচনা করেন-প্রতিষ্ঠাতা নৃপেন চন্দ্র বসু ওরফে ভুলু বাবু। ভুলু বাবুর বয়স তখন ২০ বছর যখন বোস কেবিন প্রতিষ্ঠা করেন। মারা যান ১৯৯৩ সালে। ১৯৩১ সালের ৭ নভেম্বর, গোয়ালনন্দ থেকে স্টিমারে করে নারায়নগঞ্জ নদীবন্দরে এসে নামলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। বোস কেবিন চা-পান করার জন্য তখন সেখানেই নেতাজিকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেতাজি বললেন বোস কেবিনের চা পান করে যে, এমন চা জীবনে খুব কমই খেয়েছেন। এ বোস কেবিনে অনেক নামী-দামী ব্যক্তিরা চ-নাস্তা পান করেছেন এবং বোস কেবিনের সেই আড্ডাটা আজও আছে (১৩-০২-২০১২)।

১৯২১ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ-বাংলার জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক মি. সি. এ. বেন্টলী তাঁর 'ফেয়ারস এন্ড ফেস্টিভাল ইন বেঙ্গল' গ্রন্থে (১৯২১) লিখেছিলেন, তখনই বাংলাদেশে ৭ হাজারের বেশি মেলা হতো যাতে ৫০০ থেকে ৫ লাখ লোকেরও সমাবেশ হতো এবং গ্রামবাংলায় নববর্ষের এ অন্যতম আকর্ষণ ছিল পল্লীমেলা। এসব মেলায় কত যে হস্তশিল্প, কারুশিল্প এবং কুটির শিল্প আসতো সে সম্বন্ধে ১৯২১ সালের মন্ত্যেবে।

১৯২১ সালের ১ জুলাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালের ১ জুলাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-৯১ প্রতিষ্ঠার বছর। নারীর ক্ষমতায়নে উচ্চশিক্ষা এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উনার লেখার একটু অংশ এখানে তুলে ধরা হল-ইতিহাসে দেখা যায়, বাঙালি নারীরাও কখনো কখনো উচ্চশিক্ষা লাভ করে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেছিলেন। খ্রিষ্টীয় আঠারো-উনিশ শতকের এমন তিনজন বিদুষী মহিলার কথা জানা যাচ্ছে। এঁদের মধ্যে হটু বিদ্যালঙ্কার (মৃত্যু-১৮১০) ও হটু বিদ্যালঙ্কার (১৭৭৫-১৮৭৫) সমধিক প্রসিদ্ধ। হটু ছিলেন বর্ধমানের এক পন্ডিতের কণ্যা। বিয়ের পরেও তিনি পিতৃগৃহে বাস করতেন, অল্পবয়সেই বিধবা হন। প্রথমে পিতার কাছে, পরে কাশীর পন্ডিতদের কাছে, ব্যাকরণ, স্মৃতি ও ন্যন্যায়ের শিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি নিজেই চতুস্পাঠী স্থাপন করে অধ্যাপনায় প্রবৃত্ত হন। কাশীতেও তিনি চতুস্পাঠী স্থাপন করে বহু ছাত্রকে পড়িয়েছিলেন। পুরুষ পন্ডিতদের মতো তিনিও দক্ষিণা নিতেন এবং পন্ডিতসভায় প্রকাশ্যে যোগ দিয়ে তর্কিবতর্কে অংশ নিতেন। হটুও বর্ধমানের মেয়ে, তবে চিরকুমারী। তাঁর প্রকৃত নাম রূপমঞ্জরী। ষোলো-সতেরো বছর বয়সে তিনি গুরুগৃহে বাস করে টোলের ছাত্রদের সঙ্গে পড়াশোনা করতেন। ব্যাকরণ, সাহিত্য ও চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর ব্যুৎপত্তি ছিল। কাশীতে গিয়ে তিনি দন্ডীদের কাছে নানা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন। দেশে ফিরে তিনি মূলত চিকিৎসাশাস্ত্র শিক্ষা দিতেন। তিনি পুরুষের মতো বেশভুষা করতেন, উত্তরীয় পরতেন এবং ব্রাহ্মণ পুরুষের মতো মুন্ডিতমস্তকে শিখা ধারণ করতেন। তৃতীয়জন দ্রবময়ী। তিনি কৃঞ্চনগরের সন্নিহিত এলাকার সন্তান এবং বাল্যবিধবা। পিতার টোলে তিনি ব্যাকরণ ও অভিধান অধ্যয়ন শেষ করে কাব্যালঙ্কার ও ন্যায়শাস্ত্র পড়েন। চোদ্দ বছর বয়সেই তিনি গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেন এবং পিতার টোলে পুরুষ ছাত্রদের শিক্ষা দিতে শুরু করেন। তিনিও তর্কসভায় বিচার করতেন এবং অনর্গল সংস্কৃত বলতে পারতেন। উনিশ শতকের মধ্যভাগেও তিনি জীবিত ছিলেন।

১৯২২ সালের ৫ জানুয়ারি, কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশিত।

১৯২২ সালের ১৬ জানুয়ারি, বৃটিশ রাজরোষের ফলশ্রুতিতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লায় গ্রেফতার হন।

১৯২২ সালের ২৫ জানুয়ারি, ফ্যাক্টরী আইন সংশোধন করে সপ্তাহে একদিন ছূটিসহ কাজের সময় ৬০-ঘন্টা নির্ধারণ।

১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারির, এ দিনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা হাটে এক রক্তাক্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপমহাদেশে এত লোক আর মারা য়ায়নি। এ সংগ্রামে কয়েক শ মানুষ ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে মারা যায়। মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশের নেতৃত্বে ঘটে। তাকে বলা হয় ঐতিহাসিক সলঙ্গা দিবস। আবার পত্রিকার খবর-দৈনিক জনকন্ঠ (২৭-১১-২০১২ তারিখ বলেছে-সরকারী হিসেবে সাড়ে চার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে।

১৯২২ সালের ১ মার্চ, পিরোজপুর, স্বরূপকাঠি, ইকুশগ্রাম সাম্মিলনী পাবলিক ইন্সটিটিউশন।

১৯২২ সালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বই "যুগবানী'' বৃটিশ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯২২ সালে কাজী নজরুল ইসলাম ''কারার ওই লৌহ কপাট'' গানটি রচনা করেছিলেন।

১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর,রাজদ্রোহের অভিযোগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম গ্রেফতার হন।

১৯২২ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চলে প্রথম কর আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। ফলে সেখানে করদাতাদের হয়রানির নানা বিষয় ছিল। পরবর্তী সময়ে তা ব্যাপক সংশোধন করে ১৯৮৪ সালে আয়কর আইন প্রণয়ন করা হয়। এরপর প্রতিবছরই আয়কর আইন সংশোধন হচ্ছে।

১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বা দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনটি অন্যতম। এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল ঔপনিবেশিক শাসকদের শাসন-শোষণকাজের সুবিধার জন্য; করা হয়েছিল এমন এক যুগে, যখন জনগণকে মনে করা হতো প্রজা, রাষ্ট্রের মালিক নয়; যখন জনসাধারণের কাছে শাসকদের জবাবদিহির কোনো বালাই ছিল না। তারপর ভারত ভেঙ্গে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলো ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট, তারপর পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্ব অংশ (পূর্ব-পাকিস্তান)কে ৯ মাসের মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কথায় ৩০(ত্রিশ) লক্ষ মা-বোনের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বেভৗম বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন-সার্বেভৗম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সেই ঔপনিবেশিক যুগের গণবিরোধী আইনটি অবিকল একইভাবে বহাল রয়েছে। ৩০-০৬-২০০৯ তারিখ পর্যন্ত।

১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্বরাজ দল গঠন করলে মওলানা ভাসানী কংগ্রেসের ভেতর থেকে এ দলের পক্ষে জনমত তৈরীর কাজ করেন।

১৯২৩ সালে বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯২৩ সালে শ্রমিক ক্ষতিপূরণ আইন প্রণীত হয়।

১৯২৪ সালে মওলানা ভাসানী আসামের ভাসানচরে এক বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন।

১৯২৪ সালে নির্মিত বিশ্বখ্যাত রোলস রয়েস কোম্পানির একটি গাড়ী আগ্রহভরে দেখছেন ২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, গুলশান মাঠে অনুষ্ঠিত এফওয়ান অটো ফেয়ারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কে. টমাস জুনিয়র। উল্লেখ্য, এ গাড়ীটির মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি আজিজ মুহাম্মদ ভাই। ২০০৪ সালে ফেয়ারে গাড়ীটির মূল্য ৩০ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল।

১৯২৪-২৫ সাল থেকে নির্বাচন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ১৯৯০ সালের ৬ জুনের পর আর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি ০৯-১২-২০১১ তারিখ পর্যন্ত।

১৯২৪-২৫ সাল থেকেই মওলানা ভাসানী অধিকার আদায়ের জন্যে কৃষকদের সচেতন ও সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন।

১৯২৫ সালে চট্টগ্রামে রেলওয়ের পানি সংকট নিরসনে ফয়'স লেকটি তৈরী করা হয়।

১৯২৫ সালে সি. আর. দাশের মৃত্যু হলে মওলানা ভাসানী কৃষক-প্রজা সাধারণের জমিদার-মহাজন বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে থাকেন।

১৯২৭ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা বিশ্বঃ জগন্নাথ হলে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

১৯২৮ সালে ব্রিটিশ সরকার র্কতৃক বিতাড়িত মওলানা ভাসানী আসামের বাঘমারার জঙ্গলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

১৯২৮ সাল থেকে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করে চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ ও বোয়ালমারী সংবাদদাতা: আরব দেশসমূহের সাথে সঙ্গতি রেখে চাঁদপুর ও ফরিদপুর জেলার ৪১টি গ্রামের মানুষ ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের প্রায় লক্ষাধিক অনুসারী। দীর্ঘ ৮৩ বছর যাবত তারা দেশের নিয়মের একদিন আগে ঈদ উদযাপন প্রথা চালু রেখেছে।

১৯২৯ সালে ভাসানচরের এক কৃষক-প্রজা সম্মেলন থেকে মওলানা জন্মভূমির বদলে কর্মভূমির পরিচয়ে 'ভাসানী' নামে খ্যাত হন।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে সূর্য সেনের নেতৃত্বে (সংখ্যায় ৬৪ জন) বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল করে। তাঁদের আন্দোলনে পুরো ভারতবর্ষ সাড়া ফেলে দেয়। বাংলায় সশস্ত্র সংগ্রাম তাঁদের মাধ্যমে শুরু হয়।

১৯৩০ সালে ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ী ছিল; রিক্সা ছিল না। ১৯৩৬-৩৭ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় প্রথম রিক্সা আনা হয়। গলির শেষ মাথায় লাগানো ছিল কেরোসিন বাতির ল্যাম্প পোষ্ট।

১৯৩০ সালে ঢাকা গেটের সামনে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

১৯৩১ সালের ১৪ আগস্ট, ইলা সেন ও মীরা দেবী নামে কুমিল্লার অস্টম শ্রেণীর দুই ছাত্রী ব্রিটিশবিরোধী বিপস্নবী তৎপরতার অংশ হিসেবে কুমিল্লার ম্যাজিস্ট্রেট সিজি স্টিভেন্সকে গুলি করে হত্যা করে।

১৯৩১ সালে বড় ফকির আবিস্কৃত বিখ্যাত মহাস্থান ফলকটিকে কেউ কেউ আদি বাংলার 'প্রাচীনতম' নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

১৯৩১ সালে 'মাতুয়াইল পল্লী মঙ্গল সমিতি' গঠিত হয়। মুষ্টিচালে মাতুয়াইলের মঙ্গল করা হত।

১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের মহানায়ক মাস্টার দ্য সূর্যেসনের ফাঁসি হয়।

২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের নায়ক ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাস্টারদা সূর্যেসনকে নিয়ে আশুতোষ গোয়াড়িকরের ছবি 'খেলে হাম জি জান সে'। ছবির পস্নট সম্পর্কে তিনি বলেন, 'চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার থেকে জালালাবাদের যুদ্ধে মাস্টারদা সূর্যেসন ও তাঁর নির্ভীক যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কাহিনী নিয়েই আমার এ ছবি।' আশুতোষ শুরুতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশেই ছবির শুটিং করতে। তবে ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম এবং ২০১০ সালের চট্টগ্রামের মধ্যে তো আকাশ-পাতাল ফারাক। তাই গোয়াতেই চট্টগ্রামের আবহ তৈরি করে কাজ করেন। যদিও ১৯৩০ সালের গ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য আশুতোষ তাঁর দল নিয়ে কলকাতার গ্রাম, এমনকি বাংলাদেশেও ভ্রমণ করে গিয়েছিলেন। আবহসংগীতের জন্য স্টিফেন গোমেজকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের গ্রামের নানা রকম শব্দ (পাখি, বাঁশি, ফোক গান ইত্যাদি) ধারণ করে নিয়ে গেছেন। তবে সে আমলের গাড়ি, বন্দুক ও পোশাক খুঁজে পেতে ঘাম ঝরে গিয়েছিল পুরো ইউনিটের। এমনকি সূর্যেসনেরও তেমন কোনো ছবি পাননি আশুতোষের দল। যা দু-একটি পেয়েছিলেন, তাও সূর্যেসন গ্রেপ্তারের পর। সূর্যেসনকে নিয়ে বলিউডে সিনেমা।

১৯৩৪ সালে হবিগঞ্জ জেলার নাগুড়াতে উপমহাদেশের প্রথম গভীর পানির ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯৩৬ সনে অনুষ্ঠিত এক সভায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট জেলায়।

১৯৩৬ সালে ভাওয়াল সন্নাসী মামলার রায় ঘোষণা।

১৯৩৬ সালে মুসলমানের জন্য বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা "আজাদ'' প্রকাশিত হয়।

১৯৩৬ সালের মজুরি আইন বাংলাদেশে বর্তমানে বলবৎ আছে।

১৯৩৭ সালের ১৪ আগষ্ট, মিনিষ্ট্র অব ক্যালকাটার অধীনে 'রাজশাহী ওয়াটার ওয়ার্কস' নামে পানি সরবরাহ ও বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল দুই লাখ ৫৭ হাজার ২৮৫ টাকা। মহারানি হেমন্তকুমারী একাই ৬৫ হাজার টাকা দেন।

১৯৩৭ সালের ৬ ডিসেম্বর, মেঘনা নদীর উপর কিং ষষ্ঠ জর্জ ব্রীজ আশুগঞ্জ ও ভৈরব বাজারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

১৯৩৭ সালে ভারতবর্ষে প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট ভারবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হয়। পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে, তারপর ১৯৬২ সালের ২৮ এপ্রিল, তারপর ১৯৬৪ সালে এবং পূর্ব ও পশ্চিম মিলে যে পাকিস্তান নাম ছিল তার সর্বেশষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৬৭টি আসন আর পাকিস্তান পিপল'স পার্টি পায় ৮১টি আসন। পাকিস্তান সামরিক সরকার আওয়ামী লীগের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে তালবাহানা করতে লাগে। পাকিস্তান সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, রাত ১১টার সময় (অপারেশন সারচ্ছ লাইট) পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ জনতার ওপর আক্রমণ শুরু করে এবং অনেক নিরীহমানুষকে হত্যা করে। বাংলাদেশের আমলে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয়বার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে, ৪র্থবার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ, ৫ম বার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠবার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ৭মবার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ৮মবার অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, ৯মবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। আর ১০মবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়-২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি।

১৯৩৮ সালের বীমা আইন অনুযায়ী বীমা শিল্পে দীর্ঘিদন ধরে ১৫ ও ১০ শতাংশ হারে এজেন্সি কমিশন প্রচলিত ছিল।

১৯৩৯ সালে জিন্নাহ তাঁর বিতর্কিত দ্বি-জাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন।

১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ বেতার স্থাপন করা হয়।

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ কায়েদে-এ-আযমের সভাপতিত্বে আয়োজিত মুসলিম লিগের অধিবেশনে ঐতিহাসিক পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, মুসলিম লীগের পাকিস্তান প্রস্তাব ভারতের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে একাধিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শেরে-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক র্কতৃক উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাব গৃহীত।

১৯৪০ সালের ২৫ মার্চ, শেরে-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাব মুসলিম লীগের সভায় গৃহীত হয়।

১৯৪০ সালের ১৯ জুলাই, প্রথম মোটরগাড়ি প্রদর্শনী হয় রমনার রেসকোর্সে নানা রঙে-ঢঙে সজ্জিত গাড়ি জড়ো হতে লাগল। লেডি হার্বাট এসে শো উদ্ভোধন করলেন। ঢাকার গণ্যমান্য যাঁদের গাড়ি আছে, তাঁদের অনেকেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় কুড়িটি গাড়ি তাতে অংশ নেয়। লেডি হার্বাট ঘুরে দেখলেন সজ্জিত গাড়িগুলো। কিন্তু পুরান ঢাকার মির্জা আবদুল কাদের সর্দােরর (একটি নতুন অস্টিন গাড়ি ছিল) গাড়িটিকেই তিনি বেছে নিলেন প্রথম পুরস্কারের জন্য।

১৯৪০ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ত্রিপুরার রাজা ধর্মমাণিক্য বাহাদুরের স্ত্রীর অবকাশকালীন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে কুমিল্লা শহরের ছোটরা মৌজায় তৎকাকালীন আধুনিক নির্মাণশৈলী নির্ভর এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজা ধর্মমাণিক্য রানীর কুঠিরের পাশে তার নামে ধর্মসাগর খনন করেন।