একটি সত্য তিনি বলেছেন, 'ভারতবিভক্তির জন্য শুধু কায়েদে আযম দায়ী নন; বরং দায়ী জওহরলাল নেহরু ও বল্লভভাই প্যাটেল। আর মহাত্মা গান্ধী তাদের সমর্থন করেছেন।' কেন জিন্নাহ শেষের দিকে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য অনড় হলেন তার দ্বিজাতিতত্ত্বের মাঝ দিয়ে? 'অথচ তিনি সারা জীবন অখন্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন। তিনিই একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি মুসলিম লীগ ও ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি একসাথে ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূতহিসেবে পরিগণিত হতেন।' সরোজিনি নাইডু এ উপাধি তাকে দিয়েছিলেন।
কুলকার্নি কেন মনে করলেন, জিন্নাহ অখন্ড ভারত এবং কনফেডারেশনের পক্ষে ছিলেন? নিজের বক্তব্যে এর জবাব তিনি উল্লেখ করেছেন-১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনের সিদ্ধান্তে(রেজুলেশন) ভারতবিভক্তির কথা ছিল না। এই রেজুলেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিমপ্রধান এলাকা নিয়ে মুসলমানদের স্বাধীন বাসভূমি অখন্ড ভারতের মাঝে হওয়ার কথা বলা হয়েছে।' কুলকার্নি দাবি করেছেন, জিন্নাহ এই রেজুলেশন পাসের দুই মাস আগেও হিন্দু-মুসলমানের সাধারণ(কমন) মাতৃভূমি বলে লন্ডনের 'টাইম অ্যান্ড টাইড' পত্রিকায় ১৯ জানুয়ারি, ১৯৪০ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছিলেন।
জিন্নাহ ভারতবিভক্তি চাননি, জিন্নাহ মনে করেন, স্বাধীন পাকিস্তান ভারতের কনফেডারেশনের অংশ হবে।' এবং এ বক্তব্যকে 'ক্যারিকেচার করে হিন্দু সংবাদমাধ্যম লীগের দাবিকে ভারত বিভাগ বলে প্রচার করত।
কুলকার্নি বলেন, 'জিন্নাহকে তার দাবি(দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের স্বতন্ত্র স্বাধীন এলাকা) থেকে সরে আসার জন্য গান্ধী ১৯৪৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, ও ২৭ সেপ্টেম্বরের মাঝে ১৪ বার দেখা করেন এবং ২৪টি পত্র দেন। সেখানে ভারত বিভক্ত আন্দোলন না করে প্রথমে বিদেশী শক্তিকে তাড়ানোর ওপর জোর দেন।' কুলকার্নি গান্ধীর অনেক চিঠির কিছু অংশের উদ্ধৃতি দিলেও জিন্নাহর জবাবের মাত্র একটি উদ্ধাতাংশ দেন। সেখানে জিন্নাহ বলেছেন, 'বিদেশী তাড়ানোর আন্দোলনের আগে হিন্দু-মুসলমান সামস্যার সমাধান করতে হবে, যদি স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে হয়। কুলকার্নি গান্ধীর সাথে সুর মিলিয়ে লেখেন, 'এটা একটা অ্যাবসার্ড দাবি। দ্বিজাতিতত্ত্বের নিন্দা করে গান্ধীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'জিন্নাহ যদি মনে করেন হিন্দু ও মুসলমানেরা দু'টি জাতি, তাহলে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রে হিন্দু জাতির কী হবে?'' তিনি ভারতে মুসলমানদের কী অবস্থা হবে তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
জিন্নাহ কেন পাকিস্তান চাইলেন? টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রশ্নের জবাবে এর বিশেস্নষণ তিনি দেন। টাইম ১৯৪৬ সালে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপে। টাইম ম্যাগাজিন জিজ্ঞেস করে-আপনি(জিন্নাহ) খাঁটি মুসলমান নন(কেননা তিনি মদ খেতেন, দাড়ি রাখেননি), তবে কেন মুসলমানের জন্য পৃথক বাসভূমি চাইছেন? জিন্নাহ জবাবে গান্ধী-নেহরু-প্যাটেলের সাথেএক ভোজন অনুষ্ঠানের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, 'আমি তাদের (গান্ধী-নেহরু-প্যাটেল) জিজ্ঞেস করলাম, মুসলমানদের শাসনব্যবস্থায় কেমন অংশীদারিত্ব থাকবে। ইংরেজরা মুসলমানদের কাছ থেকেই এ দেশের শাসনব্যবস্থা কেড়ে নেয়। এ ছাড়া মুসলমানেরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-তারা এর জবাবে নিশ্চুপ থাকলেন। একই প্রশ্ন তিনবার পূনরাবৃত্তি করলেও তারা নিশ্চুপ রইলেন। তখনই বুঝতে পারলাম, তারা মুসলমানদের ক্ষমতার কোনো অংশ দিতে রাজি নয়। মুসলমানেরা সংখ্যালঘিষ্ঠ হওয়ার কারণে কোনো দিনইএই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার অংশ পাবে না। আমি তখনই পাকিস্তান দাবির সাথে একাত্মতা অনুভব করলাম।' পাকিস্তান দাবির আসল জনক কবি ইকবাল। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবিতে অনড় হওয়ার জন্য এটি একটি চমৎকার বিশেস্নষণ। বিশেষ করে বিভিন্ন আলোচনায় জিন্নাহ ছাড় দিলেও নেহরু তাঁর নীতিতে ছিলেন অটল।
নেহরু ছিলেন কেন্দ্রে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পক্ষে। কিন্তু জিন্নাহ ফেডারেল ব্যবস্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার বলয়ে মুসলমানেরা তথাকথিত গণতান্ত্রিক পন্থায় কোনো দিনই ঢুকতে পারত না। কারণ, তারা সংখ্যালঘিষ্ঠ। 'ভারত বিভক্তির জন্য ভারতীয় নেতা ও পত্রপত্রিকা জিন্নাহকে পুরোপুরি দোষারোপ করলেও-এটা সত্য নয়।' দি সার্চ ফর দি ভিলেন অব পার্টিশন ডিভাইডস ইন্ডিয়া' প্রবন্ধে(লন্ডনের গার্ডিয়ানে ১৮ আগষ্ট, ২০০৯ প্রকাশিত) অ্যান্ডু বানকমবে এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এর দায়িত্ব প্রধানত নেহরু ও প্যাটেলের। তারা যদি ক্যাবিনেট মিশনের প্রথম ফর্মুলা মেনে নিতেন, তাহলে ভারত বিভক্তির প্রয়োজন হতো না। ১৯৪৬ সালের ১৬ মে, ক্যাবিনেট মিশন অষন্ড ভারতে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ ঠিক করার একটি ফর্মুলা দেয়। এতে লুজ কনফেডারেশনের ইঈিত থাকে। জিন্নাহ এই প্রস্তাব মানলেও, নেহরু তা প্রত্যাখান করেন। এরপর ১৬ জুন ক্যাবিনেট মিশন ভারত বিভক্তির প্রস্তাব দেয়। জিন্নাহ দু'টি প্রস্তাব মেনে নেন এ জন্য যে, এতে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার বিষয় ছিল। কংগ্রেস প্রথম প্রস্তাবের প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন অধিকার বাদ দিয়ে কেন্দ্রশাসিত ভারতের দাবি তোলে এবং ''কুইট ইন্ডিয়া'' নামে হিংসাত্মক আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ যশোবন্ত সিং তার ''জিন্নাহ :ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইন্ডিপেন্ডেন্স'' বইতে বলেছেন 'নেহরু-প্যাটেল যদি ক্যাবিনেট মিশনের প্রথমপ্রস্তাব মেনে নিতেন তাহলে ভারত বিভক্ত হতো না। কিন্তু তাঁরা ছিলেন অনমনীয়।'
'ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম' বইতে মওলানা আবুল কালাম আজাদও (ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী) একই মন্তব্য করেছেন। তিনি নেহরু প্যাটেলকে দেশ বিভাজনের জন্য দায়ী করেন।
ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতার প্রাক্কালে (১৯৪৭) যে দাঙ্গা ও রক্তবন্যা বইয়ে দেয়া হয়, তা-ও ছিল নেহরু-প্যাটেলের অনমনীয় দাবির ফসল। এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মূলত কেন্দ্রীভ্থত ছিল পাঞ্জাব ও বাংলায়। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবীতে এ দুটি প্রদেশ বিভক্ত করারা বিরোধিতা করা হয়। যদি এ বিভক্তি না হতো, তাহলে যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়, সামান্য ঘটনাগুলো থেকে তা হতো না এবং অন্তত ১০ লাল মানুষের জীবন বেঁচে যেত। দেড় কোটি লোক গৃহহীন হতো না। নেহরু-মাউন্টব্যাটেন এ দুটি প্রদেশকে ভাঙার কাজটি করেন। এর ফলে ইতিহাসের সর্ববৃহত দেশান্তর ঘটে এবং সাথে সাথে ঘটে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা।
আসলে সত্য কথা কেউ বলতে পারছে না। যেমন সামান্য সত্য বলার জন্য যশোবন্ত সিংকে বিজেপি থেকে বের করে দেয়া হয়। আবার ভিজিটর বইতে এল কে আদভানি 'জিন্নাহ হিন্দু-মুসলিম' মিলনের দূত' বলার জন্য পার্টিও পদ হারান। ভারত বিভাগ ও নেহরুর অনেক ইচ্ছার রূপায়ণে যে নারীর সবচেয়ে বেশি অবদান, তিনি হলেনতৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী এডউইনা। নিশিদ হাজারি তার বইতেও এর রেফারেন্স দিয়েছেন। অবশ্য মাউন্টব্যাটেনের কন্যা পামেলা পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার মায়ের সাথে নেহরুর গভীর সখ্য ছিল, তবে তা ছিল নিস্কাম ভালোবাসা। অবশ্য অনেক গবেষক এ বক্তব্য মানতে চাননি। মাউন্টব্যাটেন-এডউইনার স্কুলবন্ধু ছিলেন নেহরু। ফলে তাদের রাজনৈতিক মূল্যায়নেও এর প্রভাব পড়ে। যখন কাশ্মির পাকিস্তান প্রায় দখল করে নিচ্ছিল, তখন নেহরুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাউন্টব্যাটেন তাকে জাতিসংঘে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আর পাকিস্তানকে সৈন্য পাঠানো থেকে বিরত রাখেন, যদিও নেহরু সেখানে সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এ ধারণাটি দিয়েছিলেন এডউইনা। অথচ তখন দেয়া গণভোটের প্রস্তাব জাতিসংঘের দপ্তরে ৬৭ বছর পর এখনো ঝুলে আছে।
হাজারি এবং বহু লেখক প্রায়ই একই কথা বলেছেন, কনফেডরেশন হলে লাভবান হবে ভারত। তাহলে কেন বিভক্তির জন্য তারা সাড়া দিয়েছিল? একটি একটি জবাব হলো, তৎকালীন প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে ( যা ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ) মুসলমানদের স্বতন্ত বাসভূমির প্রতি যে ইচ্ছা তার সম্যক প্রকাশ ঘটে। আর অন্য পক্ষের উসকানিতে রক্তক্ষয় হওয়ার কারণে তাদের স্বার্থের জন্য কী করণীয় তা স্পষ্টত প্রকাশ পায়। যেমন হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি (যার সাথে ফজলুল হক মন্ত্রিসভাও গঠন করেছিলেন) পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করে হুমকি দিয়েছিলেন-হিন্দুরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এর বিরোদিতা করবে। এরপরই দাঙ্গা শুরু হয়।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও ভারতের কয়েকটি টিভি টকশোতে এই কনফেডারেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বভাবতই দুই দেশের বক্তব্য দুই রকম হয়েছে। ভারতীয় টকশোর মূল বক্তব্য হলো, 'এটা (কনফেডারেশন) হলে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে।' পাকিস্তানের টকশোতে ভারতের বিরামহীন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার হিসাব তুলে ধরা হয় (প্রতিদিন অন্তত একটি) এবং মুসলমানেরা (২৫% হওয়া সত্ত্বেও) কোনো অংশদারিত্বে নেই, বরং কৌশলে সব সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এর মাঝে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারত অন্তত চারটি পথ দিয়ে পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার অনুমতি পেলেও বাংলাদেশ তেমন কোনো সুবিধা পায়নি। টকশোতে বলা হয়, জিন্নাহ একটি করিডোর দাবি করেছিলেন, কিন্তু নেহরু তা নাচক করে দেন।
১৯৪১ সালে ভারতবর্ষের আদমশুমারি অনুযায়ী পাঞ্জাব আর বাংলার মুসলিম গরিষ্ঠ জেলাসমূহ: মৌলানা আবুল কালাম আজাদ-ভারত স্বাধীন হল: এ বইয়ে ১৮৬ পৃষ্ঠায় দেখা যেতে পারে: ১. পাঞ্জাব: লাহোর বিভাগ-গুজরানওয়ালা, গুরুদাসপুর, লাহোর, শেখপুরা ও শিয়ালকোট।
রাওয়ালপিন্ডি বিভাগ: আটক, গুজরাট, ঝিলাম, মিয়াঁওয়ালী, রাওয়ালপিন্ডি, শালপুর।
মুলতান বিভাগ: ডেরা গাজী খাঁ, ঝং, লায়ালপুর, মন্টগোমারি, মুলতান, মুজফফর গড়।
(২) বাংলা: চট্টগ্রাম বিভাগ-চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, ত্রিপুরা। ঢাকা বিভাগ-বাখরগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ। প্রেসিডেন্সি বিভাগ-যশোর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া। রাজশাহী বিভাগ-বগুড়া, দিনাজপুর, মালদহ, পাবনা, রাজশাহী, রংপুর।
১৯৩৯ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্ব ঘোষণা করেন মুহম্মদ আলী জিন্নাহ।
১৯৪০ সালের ২৩ মাচ,র্ 'লাহোর প্রস্তাব' ঘোষণা করেন শেরে-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং ভারতের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন।
১৯৪০ সালের ২২ জুন, সুভাষচন্দ্র বসু জাতীয় কংগ্রেস ত্যাগ করে ফরোয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৪০ সালের ৭ আগষ্ট, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মানসূচক 'ডক্টরেট' ডিগ্রী প্রদান করে।
১৯৪০ সালের ১ সেপ্টেম্বর, ঋণ সালিশী আইন জারি (মানি লেন্ডার এ্যাক্ট)।
১৯৪১ সালের ২৬ জানুয়ারি, নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু নিরুদ্দেশ হন।
১৯৪১ সালের ১৫ ডিসেম্বর, আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়।
১৯৪২ সালের ২৮ মার্চ, রাসবিহারী বসু জাপানের টোকিওয়ে ভারত স্বাধীন করার আহবান জানিয়ে ভাষন দেন।
১৯৪২ সালের ৩০ মার্চ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ভারত উপমহাদেশে আসেন স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের ভারত সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয়।
১৯৪২ সালের ১ এপ্রিল, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র 'জনযুদ্ধ' প্রকাশিত হয়।
১৯৪২ সালের ৬ এপ্রিল, জাপানী বিমান সর্বপ্রথম ভারতে বোমাবর্ষণ করে।
১৯৪২ সালের এপ্রিল মাসে শরৎ চন্দ্র বসু-সোহরাওয়ার্দীর "সার্বেভৗম স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা''-এর প্রস্তাব আনয়ণ করেন।
১৯৪২ সালের ২৩ জুলাই, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া।
১৯৪২ সালের ৮ আগষ্ট, কংগ্রেসের ভারত ছাড় প্রস্তাব গ্রহণ।
১৯৪২ সালের ৯ আগষ্ট, গান্ধীর নেতৃত্ত্বে কংগ্রেস "ভারত ছাড়'' দাবী ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়।
১৯৪২ সালের ২০ ডিসেম্বর, মধ্যরাতে জাপানী বিমান কলকাতায় বোমাবর্ষণ করে।
১৯৪৩ সালে ব্রিটিশরা ভারত ছাড়ার মাত্র চার বছর আগে, দুর্ভিেক্ষ বাংলায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। মহাত্মা গান্ধীর 'ভারত ছাড়' আন্দোলন প্রতিহত করতে ব্রিটিশ সরকারের গৃহীত নীতির কারণেই এ দুর্ভিক্ষ হয় বলে মনে করা হয়।
১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর, সুভাষ চন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন।
১৯৪৩ সালের ২৩ অক্টোবর, আজাদ হিন্দ সরকার ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৪৩ সালের ৫ ডিসেম্বর, জাপানের বোমারুবিমান কলকাতায় বোমাবর্ষণ করে।
১৯৪৩ সালে বাংলায় ভয়ঙ্কর দুর্ভিেক্ষ প্রায় ৫০ লক্ষ লোক মারা যায়।
১৯৪৩ সালে মুসলিম লীগ পুনর্গিঠত হয়।
১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ ভারতে কার্যকরী 'ভবঘুরে আইন' পাস হয়।
১৯৪৪ সালের ১৮ মার্চ, নেতাজী সুভাষ বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ বর্মা সীমান্ত দিয়ে ভারতের মনিপুরে প্রবেশ করে।
১৯৪৪ সালের ১৯ মার্চ, উত্তর-পূর্ব ভারতে আজাদ হিন্দ ফৌজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন।
১৯৪৪ সালের ২৪ অক্টোবর, ''নবান্ন'' নাটকের অভিনয় শুরু হয়।
১৯৪৪ সালে জিন্নাহ-গান্ধী আলোচনা হয়।
১৯৪৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর, উপমহাদেশের ইসলামী রাজনীতির ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ''নেজামে ইসলাম পার্টির'' জন্ম।
১৯৪৫ সালের ১৯ মে, ভারত-মার্কিন সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর।
১৯৪৫ সালের ৩০ অক্টোবর, ভারত জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে।
১৯৪৫ সালের ৫ নভেম্বর, দিল্লীর লালকেল্লায় নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দী অফিসারদের বিচার শুরু হলে দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
১৯৪৬ সালের জানুয়ারি মাসে, ব্রিটিশ-ভারতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৪৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, বোম্বাইতে রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভি বিদ্রোহ করে।
১৯৪৬ সালের ২৪ মার্চ, লর্ড লরেঞ্জের নেতৃত্বে ব্রিটিশ কেবিনেট মিশন ভারতে আসে।
১৯৪৬ সালের জুলাই, বোম্বাইয়ের মুসলিম লীগ সম্মেলনে পাকিস্তান অর্জেনর প্রত্যক্ষ সংগ্রামের প্রস্তাব গৃহীত হ'লে একটি সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
১৯৪৬ সালের ২২ জুলাই, ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল র্কতৃক মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস সভাপতি কায়েদে আজম ও পন্ডিত নেহরুকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের জন্য পত্র প্রেরণ।
১৯৪৬ সালের ২৪ আগষ্ট, ইংরেজদের অধিকার মুক্ত হওয়ার পর ভারতের অন্তবর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণ।
১৯৪৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, বুলগেরিয়া গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়।
১৯৪৬ সালের ২৫ অক্টোবর, স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতে কংগ্রেস-মুসলিম লীগ অন্তবর্তীকালীন মন্ত্রী সভা গঠিত হয়।
১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর, বিভাগোত্তর ভারতে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু।
১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি কমন্স সভায় ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন।
১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ, লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ভাইসরয় পদে নিযুক্ত হয়ে ভারতে আসেন।
১৯৪৭ সালের ১১ মে, অখন্ড বঙ্গের বিরোধিতা করে মহাত্মগান্ধীর মত প্রকাশ।
১৯৪৭ সালের ৩ জুন, ভারত বিভাগনীতি ঘোষিত হয়।
১৯৪৭ সালের ৪ জুন, ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৫ আগস্ট ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন।
১৯৪৭সালের২০জুন,বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলিতে বাংলা ভাগের পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয়।
১৯৪৭ সালের ১ জুলাই, ব্রিটিশ পার্লােমন্টে ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়।
১৯৪৭ সালের ৩ জুলাই, ভারতবর্ষেক দুটি ডোমিনিয়ন বিভক্ত করার লক্ষ্যে 'মাউন্ট ব্যাটেন পরিকল্পনা' প্রকাশিত হয়।
১৯৪৭ সালের ৫ জুলাই, ব্রিটিশ পার্লােমন্টে ভারতের স্বাধীনতা বিল অনুমোদন।
১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই, বৃটিশ পার্লােমন্টে ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয় এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯-০৭-১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
১৯৪৭ সালের ১৯ জুলাই, ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।