২০০৭ সালের ২৪ জুলাই, ১৬২ তলাবিশিষ্ট ২,৬৫১ ফুট উঁচু 'বার্জ দুবাই' টাওয়ারটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন। খরচ হবে ২,০০০ হাজার কোটি ডলার।

২০০৭ সালের ২৪ জুলাই, নিউইয়র্ক থেকে এনা: যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের সবচেয়ে দামী হোটেল 'স্কাইভিলা' জুয়াড়ীদের প্রিয় স্থান লাসভেগাসে তৈরী। প্রতিরাতে রুম ভাড়া ৪০ হাজার ডলার অর্থাৎ ২৮ লাখ টাকা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে দামী হোটেলটির রুম ভাড়া ছিল প্রতিরাত ২৫ হাজার ডলার এবং সেটি হচ্ছে সিটাই হোটেল, ফ্লোরিডার মায়ামীতে।

২০০৭ সালের ১৪ আগষ্ট, সিইআইএস: চীনের সাংহাই থেকে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া তালিকার সেরা দশের মধ্যে ৮টিই আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়। তাছাড়া তালিকায় সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৪টির অবস্থান আমেরিকায়, ৩১টি ইউরোপে এবং ৯টির অবস্থান এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।

২০০৭ সালের ১৯ আগষ্ট, আল জাজিরা অন লাইন: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এ ঐতিহাসিক ঘোষনায় বলা হয়েছে, বিশ্বে এক কোটি দশ লাখ মানুষ রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়হীন।

২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, পিটিআই: জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের খাদ্য শস্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে ব্যর্থ হলে শিগ্‌গিরই মারাত্মক সামাজিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হবে। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ভোক্তাদের আয়ের মাত্র দশ থেকে বিশ শতাংশ ব্যয় হয় খাদ্য শস্য ক্রয়ে। পক্ষান্তরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভোক্তাদের খাদ্য শস্য ক্রয়ের জন্যই ব্যয় হয়ে যায় তাদের আয়ের ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ।

২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, ফজলূল বারী: রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজে দেশে নিবন্ধিত কোম্পানী সংখ্যা ৬৯ হাজার: বিনিয়োগ আকার ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা: ৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ একাউন্টের সংখ্যা ৫৮টি। আমেরিকাসহ বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে সংখ্যা লঘু ইহুদি সম্প্রদায়ভুক্ত গুটিকয়েক কপোের্রট হাউজ। একুশ শতকের যে কোন এক সময়ের মধ্যেই চীন ও ভারত বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্তা হয়ে উঠবে। ডলারের মাপকাঠিতে ভারতীয় অর্থনীতি ২০৫০ সালের মধ্যে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। ক্রয়ক্ষমতার নিরীখে ভারত এখন জাপানকে টপকানোর প্রায় শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে। ১১৫ কোটিরও উপরে জনঅধ্যুশিত এ ভারতের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে সে দেশের ১০ থেকে ১৫টি পরিবার।

২০০৭ সালের ১ নভেম্বর, নয়াদিল্লীতে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা বিষয়ে বিশ্ব সম্মেলন শুরু। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২৬০ কোটি মানুষের এখনো স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু ভারতেই ৭০ কোটির বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই।

২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর, বিশ্বের প্রথম-জুতার শুকতলি: প্রাচীন মানুষ শীত থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য নানা কৌশল গ্রহণ করতেন। জুতায় শুকতলি ব্যবহার এরই একটি। প্রায় ২০০০ বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যে কর্কের পুরু শুকতলির উঁচু জুতা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। শীতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য উঁচু শুকতলির জুতা অভিজাত মহলে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল।

২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে-বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ কোটি লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে আত্মহত্যায় সফল হয় ১০ লাখ লোক।-সিনহুয়া।

২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতি ''রাজা গজ'' নেপালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকেন্দ্র 'বারদিয়া জাতীয় উদ্যান' থেকে এক বছর আগে হারিয়ে গেছে। এখন ধারণা করা হচ্ছে, সেটি মারা গেছে। ফানিন্দ্র খারাল বলেন, হাতিটির উচ্চতা ছিল ১১ ফুট তিন ইঞ্চি (প্রায় সাড়ে তিন মিটার)। এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় হাতির চেয়ে প্রায় দুই ফুট বেশি উঁচু। হাতিটির বয়স ছিল প্রায় ৭০ বছর।

২০০৭ সালের ৮ ডিসেম্বর, গত বছর চার লাখ বিদেশী রোগী সিঙ্গাপুর থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা র্যাংকিং-এ চিকিৎসা ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অবস্থান এশিয়ার শীর্ষে।

২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর, কাজী আলিম-উজ-জামান: চীনের জ্বালানিক্ষুধা বাড়ছে। চীনের উচ্চ প্রবৃদ্ধিই তাদের জ্বালানি-চাহিদা বাড়াচ্ছে। প্রতিদিন চীন আমদানি করে ৩০ লাখ ব্যারেল তেল। ২০২০ সালের মধ্যে চীনে প্রাইভেট কারের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪ কোটি, যা কি না যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি। চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লা উৎপাদনকারী ও ভোক্তা। চীনে প্রায় ৩০ হাজার কয়লাখনি আছে। গত বছর কয়লা উৎপাদন করেছে প্রায় ২(দুই) বিলিয়ন টন। আর তার জন্য জীবন দিতে হয়েছে ছয় হাজার খনি শ্রমিককে। চীনের পর আছে ভারত। তারা বছরে পৌনে দুই বিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন করছে। বর্তমানে বিশ্বে কয়লা উৎপাদন বছরে ৫.৩ বিলিয়ন টন, এর ৭৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে।

২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর, বিশ্বায়িত শ্রমশক্তি দুই যুগে চার গুণের বেশি বেড়েছে।

।বিশ্বায়িত শ্রমশক্তি বেড়েছে:।

১৯৮০২০০৫
বিশ্বের মোট শ্রমশক্তি*২০০ কোটি৩৪০ কোটি
বিশ্বায়িত শ্রমশক্তি২২.৫ কোটি৯০ কোটি

।*বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক-উভয় খাতের শ্রমশক্তিকে হিসাবে নেয় বলে আইএলওর চেয়ে এই সংখ্যাটি বেশি।

হয়(২৯ আগষ্ট, ২০০৭ সালের হিসেব)

২০০৬ সালে আইএলও'র হিসেব অনুসারে বিশ্বের মোট শ্রমশক্তির সংখ্যা ছিল ২৯০ কোটি।

২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর, বসবাসের জন্য সবচেয়ে কাঙিক্ষত আইসল্যান্ড বিশ্বের ১৭৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪০তম।

২০০৮ সালের ১১ জানুয়ারি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে দেড় লক্ষাধিক ইরাকির মৃত্যু (২০০৩ সালের মার্চ থেকে ৩১-১২-২০০৭ তারিখ পর্যন্ত)।

২০০৮ সালের ১৭ জানুয়ারির খবর-২৩০ রাষ্ট্রের মধ্যে ১৫০টি রাষ্ট্রে এইডস রোগের বিস্তার।

২০০৮ সালের ২৩ জানুয়ারি, সারা বিশ্বে ওয়েবসাইট ১৫(পনের) কোটি মাত্র।

২০০৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, আন্তর্জািতক শ্রম সংস্থার আশঙ্কা-এ বছর বিশ্বে ৫০ লাখ মানুষ নতুনভাবে কর্মহীন হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে আন্তর্জািতক অর্থনীতিতে ৫.২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হওয়ায় চার কোটি ৫০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিশ্বের কর্মক্ষম জনশক্তির ৬১.৭ শতাংশ বা প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ গত বছর কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। তার পরও বেকারত্বের হার ছয় শতাংশে স্থির ছিল। প্রায় ১৯ কোটি মানুষ বেকার ছিল।

২০০৮ সালের ২৫ জানুয়ারি, প্রথম আলোর খবর-বিশ্বের সেরা ২৫টি ট্রেনের মধ্যে ভারতের রয়েছে তিনটি ট্রেন। এ তিনটি ঐতিহাসিক ট্রেন হলো পশ্চিমবঙ্গের 'দার্জিিলং টয় ট্রেন', রাজস্থানের 'প্যালেস অব হুইলস' এবং কর্ণাটকের 'ডেকান ওডিসি' ট্রেন।

২০০৮ সালের ২৫ জানুয়ারি, প্রথম আলোর খবর-সবচেয়ে দামি বই: আন্তর্জািতকভাবে প্রায় অপরিচিতি লেখক টমাস আলেক্সান্ডার হার্টম্যানের লেখা 'দ্য টাস্ক' বিশ্বের সবচেয়ে দামি বই বলে জানিয়েছেন একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বইটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ইউরো বা মার্কিন ডলার হবে ২ লাখ ১৭ হাজার ৪০ ডলার (বাংলাদেশী টাকায় বইটির দাম হবে প্রায় ১.৫০(এক কোটি পঁঞ্চাশ লাখ) টাকা। খবর ইউএনবির। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জানায়, দ্য টাস্ক বইয়ের মোট পৃষ্ঠা হচ্ছে ১৩টি। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় বুক এক্সপো আমেরিকা-২০০৮ বইমেলায় বইটি প্রকাশ করা হবে। আগামী ২৯ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত বইমেলা চলবে। টমাস আলেক্সান্ডার হার্টম্যান নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দার্শিনক হিসেবে দাবি করেন। বইটির এত দাম নির্ধারণের ব্যাপারে হার্টম্যান বলেন, ১৩ পৃষ্ঠার ওই বই লিখতে তাঁর ৩০ বছর সময় লেগেছে।

২০০৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, বিশ্বে মোট বনভূমির পরিমাণ হলো-৩০,৩১,১০০ হেক্টর। এরমধ্যে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে বনভূমির পরিমাণ হলো-৯,২১,১০০ হেক্টর।

২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, বিশ্বে ২০০৭ সালে ৬৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

২০০৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, এ. টি. এম. ইসহাক: বিশ্বে অতি মূল্যস্ফীতির কিছু ঘটনা: অতি মূল্যস্ফীতি বিংশ শতাব্দীর বিষয়। এর আগে আর তা তেমন দেখা যায়নি। বিশ্বে প্রথম অতি মূল্যস্ফীতি দেখা গিয়েছিল জার্মািনতে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৯২২ থেকে ১৯২৩ সালের মধ্যে জার্মািনর মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল ৩২২ শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হাঙ্গেরির পরিস্থিতিও খুব খারাপ ছিল। ১৯৪৫ সালের আগষ্ট থেকে ১৯৪৬ সালের জুলাই সময়ের মধ্যে সে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল ১৯ হাজার শতাংশ। জিম্বাবুয়ের মূল্যস্ফীতি এখন বেড়ে এক লাখ শতাংশ। ১০ মিলিয়ন ডলারের ব্যাংকনোট চালু করা হয়েছে। ২০০৭ সালের এপ্রিলে দেশটির মূল্যস্ফীতি ছিল ৩৭ হাজার শতাংশ। আর ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬২ হাজার ২১২ শতাংশ। ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে বার্ষিক হিসাবে এক লাখ শতাংশে উঠেছে। বর্তমানে দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। জিম্বাবুয়েতে এখন ডলারের বান্ডিল নিয়ে তবেই বাজারে যেতে হয়।

২০০৮ সালের ১০ মার্চ, শওকত হোসেন মাসুম: প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারসের প্রতিবেদন: ২০৫০ সালে বাংলাদেশ হবে সেরা ৩০ অর্থনীতির একটি। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন-এ চারটি দেশকে বলা হয় 'ব্রিক কান্ট্রি'। প্রখ্যাত পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস ২০০৬ সালে এর সঙ্গে যুক্ত করে দেয় আরও তিনটি দেশকে-মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্ক। আর এখন সব মিলিয়ে তারা ৩০টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যারা হবে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। ৩০টি দেশকে প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস দুই ভাগে ভাগ করেছে। যেমন ১৭টি বড় অর্থনীতির দেশ আর শেষ ১৩টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। বিশ্বে 'ব্রিক কান্ট্রি'র ধারণাটি জনপ্রিয় করে আরেকটি বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস, ২০০৩ সালে। আর এখন প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস তৈরী করল সব মিলিয়ে ৩০টি দেশের তালিকা। তাদের মতে ২০৫০ সালে বিশ্ব উৎপাদনের ৮৫ শতাংশই আসবে এ ৩০টি দেশ থেকে। এরমধ্যে সম্মিলিতভাবে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের মোট অর্থনীতি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট, জাপান, জার্মািন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও কানাডার মোট অর্থনীতির তুলনায় ৫০ শতাংশ বড়। তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে ২০২৫ সালে এবং ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ধরে ফেলবে। এ ছাড়া জাপানকে অতিক্রম করবে ব্রাজিল ও জার্মািন। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে যাবে রাশিয়া, মেক্সিকো ও ইন্দোনেশিয়া। আর তুরস্কের অর্থনীতি হবে ইতালির মতোই। প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস-এর তালিকা অনুযায়ী ২০৫০ সালে শীর্ষ দেশ হবে চীন। এর পরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এর পরের দেশগুলো হলো যথাক্রমে ব্রাজিল, জাপান, রাশিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, জার্মািন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, তুরস্ক, কানাডা, স্পেন, কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া। এ ১৭টি দেশের বাইরে উদীয়মান ১৩টি দেশের মধ্যে ৫ম স্থানে থাকা বাংলাদেশের পরই রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইরান, আর্জেিন্টনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব এবং পোলান্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকার শেষ ১৩টি দেশ ২০৫০ সালের মধ্যে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে হলে তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনেক দেশের জন্য বড় ঝুঁকি হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আবার অনেক দেশে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা উদীয়মান অর্থনীতি হতে এগুলো অবশ্যই দূর করতে হবে।

২০০৮ সালের ১৪ মার্চ, এ.টি.এম. ইসহাক: নোবেল বিজয়ী যোশেফ স্টিগলিৎজের নতুন গবেষণাগ্রন্থ। ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ব্যয় দাঁড়াবে ১২০০ কোটি ডলার। গ্রন্থটিতে ২০০৮ সালের পরবর্তী পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসন বা দখলদারিত্বের কারণে ২০১৭ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। যদ্ধের ব্যয় মেটাতে নেওয়া ঋণের সুদ বাবদ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুণতে হবে ৮১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।

২০০৮ সালের ২৪ মার্চ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা তাঁর নিজ দেশে বছরে পাঠায় ডলারে কোন দেশের কত আয় তা নিম্নে দেয়া হলো:

ক্রমিকদেশের নামকোন সালের হিসাবকত ডলার
ভারত২০০৭ সালে২,৫৭০ কোটি ডলার
চীন২০০৭ সালে২,৫০০ কোটি ডলার
মেক্সিকো২০০৭ সালে২,৪৫০ কোটি ডলার
ফিলিপিনস২০০৭ সালে২,২৫০ কোটি ডলার
ফ্রান্স২০০৭ সালে২,০০০ কোটি ডলার
বাংলাদেশ২০০৭ সালে৬৫০ কোটি ডলার

২০০৮ সালের ২৭ মার্চ, ইনাম আল হক-প্রথম আলো: পৃথিবীর পাখির তালিকায় নতুন সংযোজন ''তোগিয়ান ধলাচোখ''। ইন্দোনেশিয়ার সোলাবেশি প্রদেশের তোগিয়ান দ্বীপপুঞ্জে দেখা গেছে এ পাখি, যার কথা নতুন করে লিখতে হবে পাখির বই-পুস্তকে।

২০০৮ সালের ২০ মার্চ,প্রথম আলোর সংবাদ-২০২৫ বিশ্বে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যাবে।

২০০৮ সালের ১০ এপ্রিল, অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক: এবার বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাবে: আইএমএফ। ২০০৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে তিন দশমিক ৭০ শতাংশে দাঁড়াবে। এ প্রবণতা আগামী বছর মানে ২০০৯ সালেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছে আইএমএফ। আইএমএফ মনে করছে ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হবে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ, যা ২০০৯ সালে সামান্য বেড়ে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক ৪০ শতাংশ, যা ২০০৯ সালে আরও কমে এক দশমিক ২০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে অগ্রসর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের প্রবৃদ্ধিতে খুব একটা বড় ধরনের নিম্নগতি দেখা যাবে না বলে আইএমএফ মনে করছে। তবে দেশগুলো উন্নত বিশ্বের বাজার মন্দায় খানিকটা আক্রান্ত হবে। কারণ এসব দেশে তাদের রপ্তানি ব্যাহত হবে।

২০০৮ সালের ১৩ এপ্রিল, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা(এফএওর) প্রতিবেদন আগামী ২০০৮ সালে বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা। সংস্থাটি আশা করছে, ২০০৭ সালের তুলনায় চলতি ২০০৮ সালে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদন ২ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে। ফলে উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ ২১৬.৪০ কোটি টন গিয়ে দাঁড়াবে। এরমধ্যে গম উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাদ্য মজুদ হবে ৪০ কোটি টন। পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ ভাত খায়।

২০০৮ সালের ১৬ এপ্রিল, পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ জমি গবাদি পশু দখল করে রেখেছে এবং কৃষি থেকে যে-গ্রীনহাউস গ্যাস বের হয়, তা এ ধরণের গ্যাসের শতকরা ২২ ভাগ। বিজ্ঞানীরা বলেছেন মাংস কম খাওয়ার জন্য এবং পরিবেশ দুষণ থেকে বাঁচা যাবে।

২০০৮ সালের ৫ মে, বিশ্বে প্রতি ১২ জনে ১ জন হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত।

২০০৮ সালের ৭ মে, মার্ক লিনাস: ব্রিটিশ লেখক। জৈব জ্বালানি-ধনীরা যেভাবে বিশ্ববাসীকে অনাহারের পথে ঠেলছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বিশ্বে ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে ৫১ মিলিয়ন টন। আর এ সময় কেবল যুক্তরাষ্ট্রই ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করেছে ৫০ মিলিয়ন টন ভুট্টা। বিশ্বের বাড়তি উৎপাদনের পুরোটাই তারাই চুষে নিয়েছে। ব্রিটেন জৈব জ্বালানি তৈরিতে বার্ষিক ভর্তুিক দিচ্ছে ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড, এ অঙ্ক খাদ্যাভাব মোকাবিলায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থার জরুরি ত্রাণ তহবিলের দ্বিগুণেরও বেশি। আগামী ২০০৮ সালে এ খাতে ভুট্টা ব্যবহার ১১৪ মিলিয়ন টনে-যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদনের তিন ভাগের এক ভাগ-ওঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে চলা গাড়িগুলো এভাবে জাতিসংঘের দেওয়া তালিকার মধ্যে সবচেয়ে খাদ্যঘাটতিতে পড়া নিম্ন আয়ের ৮২টি দেশের ঘাটতি মেটানোর পুরো শস্যই গাড়ির তেল হিসেবে পুড়িয়ে ফেলবে। দরিদ্রদের অনাহারে রাখার এ থেকে ভালো উপায় আর হয় না। জৈব জ্বালানি তৈরির এ হিড়িক আজ মানবজাতির খাদ্যসহায়কে ধবংস করতে যাচ্ছে। ২৫ বছরের মধ্যে দানাদার খাদ্যশস্যের মজুদ সর্বিনম্নে নেমেছে। পৃথিবীতে আর মাত্র ৫৪ দিনের খাবার মজুদ রয়েছে, ইতিহাসে এ রেকর্ড করেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে খাদ্যমূল্য বাড়ার জন্য ১০ কোটি মানুষের চরম দারিদ্যের মধ্যে নিপতিত। খাদ্যঘাটতির কারণ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটা ভূমিকা পালন করছে এবং বছরে ৭(সাত) কোটি ৮০(আশি) লাখ করে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে এ শতকের মাঝামাঝিতে গিয়ে বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৯০০ কোটি। এ সংকট কিছুটা হলেও ত্বরান্বিত করেছে চীন ও ভারতের অর্থৈনতিক প্রবৃদ্ধি। এসব দেশের নতুন উথিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী খাদ্যাভ্যাস বদল করে পশ্চিমাদের মতো দুধ ও মাংসের ওপর বেশি নির্ভর করা শুরু করেছে। এর ফলেও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষিজমি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের খাদ্যবাজার এখন উত্তরোত্তর জ্বালানিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একসময় খাদ্য ছিল জনগণের প্রাপ্য। এখন ধনী দেশগুলোতে তা হয়ে উঠছে পরিবহনের জ্বালানি। খাদ্যের দাম এখন জ্বালানির দামের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। খাদ্য চলে যাচ্ছে জ্বালানির বাজারে। যদি খাদ্য থেকে জ্বালানি তৈরির এ নীতি জরুরিভাবে না বদলানো হয়, তাহলে এ কাঠামোগত পরিবর্তেনর সরাসরি শিকার হবেন শত শত কোটি মানুষ। এ লেখাটি ব্রিটেনের নিউ স্টেটসম্যান থেকে নেওয়া, ইংরেজী থেকে অনুদিত। মার্ক লিনাসঃ ব্রিটিশ লেখক।