১৯১১ সালের ১১ জানুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী, মুক্তচিন্তার অধিকারী ও দক্ষ বিচারক, সংবিধান বিশেস্নষক ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেেদর জন্ম, মৃত্যু-০৩-০৪-১৯৭৯ তারিখ।
১৯১১ সালের ১ মার্চ, পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বিজ্ঞান লেখক মালিক আকবর আলীর জন্ম, মৃত্যু-১৮-০১-২০০১ তারিখ।
১৯১১ সালের ১২ মার্চ, ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণভাগ গ্রামে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীনের জন্ম, মৃত্যু-২৪-০৮-১৯৮৮ তারিখ।
১৯১১ সালের ৫ মে, চট্টগ্রামের ধলঘাটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বাংলার বিপস্নবী, সংগ্রামী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জন্ম, মৃত্যু-২৪-০৯-১৯৩২ তারিখ। প্রীতিলতা চট্টগ্রাম বিপস্নবী দলের মেয়ে সদস্য ও ছাত্রীদের নিয়ে চক্র গড়েন। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের দায়িত্বে ছিলেন প্রীতিলতা। তাঁর দলবল নিয়ে ক্লাবটি আক্রমণ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে সফলভাবে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় পুলিশের আটক এড়াতে বীরকন্যা প্রীতিলতা পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।
১৯১১ সালের ৮ মে, ফরিদপুর শহরে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও রবীন্দ্রানুসারী কবি আবু নয়ীম মুহম্মদ বজলুর রশীদের জন্ম, মৃত্যু-০৮-১২-১৯৮৬ তারিখ।
১৯১১ সালের ৩০ মে, বরিশাল জেলায় দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, কিংবদন্তির এক নায়ক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জন্ম, মৃত্যু-০১-০৬-১৯৬৯ তারিখ।
১৯১১ সালের ৬ জুন, লোহাগড়া (নড়াইল) ইতনা গ্রামের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক ও চিকিৎসক ডা. নীহারঞ্জন গুপ্তের জন্ম, মৃত্যু-মৃত্যু-২০-০২-১৯৮৬ তারিখ। ১৬-বছর বয়সে তাঁর প্রথম উপন্যাস 'রাজকুমারীম্ব' প্রকাশিত হয়।
১৯১১ সালের ২০ জুন, বাখেরগঞ্জের শায়েস্তাবাদ গ্রামে নানাবাড়িতে বেগম সুফিয়া কামালের জন্ম, মৃত্যু-২০-১১-১৯৯৯ তারিখ। তাঁর বাবারবাড়ি ব্রহ্মণবাড়িয়া জেলার সেন্দুর-সিলাউর গ্রামে।
১৯১১ সালের ২২ আগস্ট, বরিশাল জেলায় রবীন্দ্রসংগীতের প্রবাদতুল্য শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৮-০৮-১৯৮০ তারিখ। তিনি মারা যান ৩২ বছর আগে, কিন্তু শ্রোতাদের কাছে এখনো জ্যান্ত। এখনো রবীন্দ্রসংগীতের সবচেয়ে বেশি রেকর্ড বিক্রি হয় দেবব্রত বিশ্বাসেরই। বরিশালে জন্ম থেকে আরম্ভ করে কিশোরগঞ্জে বাল্য ও কিশোরজীবন এবং কলকাতা যৌবন ও প্রৌঢ়ত্ব কাটানোর কথা জানা যায়।
১৯১১ সালের ৩০ নভেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক ইমিরিটাস অধ্যাপক ড. (এ. বি. এম.) আবু বাসার মহামেদ হবিবুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-১৯৮৪ সালে।
১৯১১ সালের ৩১ জুলাই, বরিশালে উপমহাদেশের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ, বংশীবাদক ও পন্ডিত পান্নালাল ঘোষ জন্মগ্রহণ করেন, মৃত্যু-২০-০৪-১৯৬০ তারিখ দিল্লিতে।
১৯১১ সালের ৩১ অক্টোবর, ফেনীর মিজান ময়দান সড়কের হক ভিলায় প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রথিতযশা লেখক ওবায়েদ উল হকের জন্ম, মৃত্যু-১৩-১০-২০০৭ তারিখ।
১৯১১ সালে অবিভক্ত বাংলার মুসলমান চিত্রশিল্পীদের পথিকৃৎ প্রথম মুসলমান কার্টুিনস্ট এবং শিশু সাহিত্যিক কাজী আবুল কাসেমের জন্ম ও মৃত্যু-১৯-০৭-২০০৪ তারিখ।
১৯১১ সালে কুমিল্লার জেলার লাখসাম উপজেলায় প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক শামসুল হকের জন্ম, মৃত্যু-২৩-০২-২০০৬ তারিখ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪-বছর এবং ১৯৩০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।
১৯১১ সালের ৬ ডিসেম্বর, মুন্সিগঞ্জ জেলার যশোলং গ্রামে বিপস্নবী দীনেশচন্দ্র গুপ্তের জন্ম, ফাঁসিতে মৃত্যু-আলিপুর জেলাতে ০৭-০৭-১৯৩১ তারিখ। কলকাতার লালদীঘি বিনয়-বাদল-দীনেশের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বিক্রমপুরের বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দিনেশ গুপ্ত কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করেছিলেন।
১৯১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর, পশ্চিমবাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা, বারডেম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও মানবহিতৈষী জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের জন্ম, মৃত্যু-০৬-০৯-১৯৮৯ তারিখ।
১৯১২ সালের ১ জানুয়ারি, ১৯৩৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট লেকচারার (ইতিহাস বিভাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষিকা) মিস করুণাকণা গুপ্তার জন্ম, মৃত্যু-১৯৭৯ সালে। তিনি ১৯৩২ সালে অনার্স এবং ১৯৩৩ সালে এম.এ.-তে প্রথম শ্রেণী লাভ করেছিলেন। করুণাকণা গুপ্তা অল্পকালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যান। পরে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ ও লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গের ডি.ডি.পি.আই. হয়েছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা-সংগ্রামেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
১৯১২ সালের ১৫ জানুয়ারি, আসামের ডিব্রুগড়ে (সোনার বাংলা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হন ঢাকায় ১৯৩৯ ও ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর তিনি পূর্ব-বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন এবং ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তেনর পর চলে যান কলকাতায়।) বিপস্নবী রণেশ দাশগুপ্তের জন্ম, কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ০৪-১১-১৯৯৭ তারিখ। তবে তাঁর ইচ্ছানুসারে তাঁর মরদেহ দাহ করা হয় তাঁর প্রিয় বাংলাদেশে।
১৯১২ সালের ১ মার্চ, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানাধীন গুজাদিয়া ইউনিয়নের বৈরাদিয়াপাড়া গ্রামে শিক্ষাবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওসমান গণির জন্ম, মৃত্যু-২১-০৭-১৯৮৯ তারিখ। ১৯৫০ সালে ঢাকাস্থ কিশোরগঞ্জ সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯১২ সালের ৯ এপ্রিল, যশোর জেলার নড়াইলের কালিয়া গ্রামে, উপমহাদেশের কালজয়ী সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী কমল দাশ গুপ্তের জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-২০-০৭-১৯৭৪ তারিখ। কমল দাশ গুপ্ত ৪৭ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ। যশোর থেকে তাঁর পরিবার চলে যায় কলকাতায়। কলকাতার মানিকতলায় একটি বাড়িতে তাঁরা বসবাস শুরু করেন। ৯ ভাইবোনের সবাই ছিলেন সংগীত পারদর্শী। সবার রেকর্ড বেরিয়েছিল এইচএমভি কোম্পানি থেকে। বাড়িতে সংগীতের ভিত্তিটা হয়েছিল তাঁর। সেই সময়ে বাড়িতে বিখ্যাত সব ওস্তাদদের যাতায়াত ছিল। কাজী নজরুল ইসলামও তাঁদের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ও কাজী নজরুল ইসলাম একই সঙ্গে গ্রামোফোন কোম্পানির প্রশিক্ষক ওস্তাদ জমিরউদ্দিন খাঁর কাছ থেকে সংগীতে তালিম নেন।
১৯১২ সালের ১৬ জুলাই, ভারতের শিলং শহরে শিল্পী শফিকুল আমীন জন্মগ্রহণ করেন এবং মারা গেছেন ২৮-০২-২০১১ তারিখ। ১৯৩৮ সালে কলকাতা সরকারি চারুকলা কলেজ থেকে ছয় বছরের কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা চারুকলা কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান এবং ১৯৬৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
১৯১২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার (বিক্রমপুর) ষোলঘর গ্রামে লেখক, রাজনীতিক ও কুটনীতিবিদ কামরুদ্দীন আহমদের জন্ম, মৃত্যু-০৬-০২-১৯৮২ তারিখ।
১৯১২ সালের ১০ অক্টোবর, মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুরে রাজনীতিবিদ ও লেখক অনিল মুখার্জির জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-০৭-০২-১৯৮২ তারিখ। ১৯৩০-এ কলেজে ছাত্রাবস্থায় আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ প্রথম কারাবরণ। মেদিনীপুর হিজলী বন্দী শিবিরে আটক। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির সম্পাদক ছিলেন।
১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর, ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজনানগাঁওয়ে অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম নারী ও মানবতাবাদী চিকিৎসক প্রফেসর ডা. জোহরা বেগম কাজীর জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-০৭-১১-২০০৭ তারিখ। তাঁর বাবা ডা. কাজী আব্দুস সাত্তারের জন্ম মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার গোপালপুল গ্রামের কাজী পরিবারে। 'ব্রিটিশ খেদাও' আন্দোলনের পুরো সময়টাতে মহাত্মা গান্ধী প্রতিষ্ঠিত সেবাশ্রম 'সেবাগ্রাম'-এ মানবতাবাদী পিতা ডা. কাজী আব্দুস সাত্তারের কর্মস্থলে তাঁর শৈশব-কৈশোর কাটে। জোহরা বেগম কাজী ১৯২৯ সালে তিনি আলীগড় মুসলিম মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে কলেজের পড়া শেষ করেন এবং দিল্লির লেডি হার্ডিং মেডিকেল কলেজ ফর ওম্যান থেকে প্রথম বাঙালি মুসলিম ছাত্রী হিসেবে ১৯৩৫ সালে এমবিবিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান পান। এ জন্য তাঁকে সম্মানজনক 'ভাইসরয়' খেতাব দেওয়া হয়। ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসকের নাম কাদম্বিনী বসু (গাঙ্গলী)।
১৯১২ সালের ১০ নভেম্বর, বাংলাদেশের বরিশালে প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পী ও চরিত্রাভিনেতা অশোক কুমারের জন্ম এবং বোম্বে মৃত্যু-২০০২ সালে।
১৯১২ সালের ১২ নভেম্বর, কিশোরগঞ্জ জেলায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপস্নবী ডা. জগবন্ধু রায় (জে.বি.রায়)-এর জন্ম, কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকার বাসভবনে ১০১ বছর বয়সে ১৩-১১-২০১৩ তারিখ সকালে তিনি মারা গেছেন।
১৯১২ সালের ১৭ নভেম্বর, ফরিদপুরের গোপালগঞ্জে সৈয়দ ওয়াহিদ-উদ-জ্জামান ঠান্ডা মিয়ার জন্ম, মৃত্যু-২১-১০-১৯৭৬ তারিখ।
১৯১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর, হবিগঞ্জ জেলার মিরাশী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে উপমহাদেশের গণসংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্ম, মৃত্যু-২২-১১-১৯৮৭ তারিখ কলকাতায়। ১৯৮১ সালে যখন ঢাকায় আসেন, তখন দেখেছি হবিগঞ্জের স্মৃতিঘেরা জন্মভূমিকে দেখার জন্য তাঁর ছটফটানি। ১৯৩৯ সালে রচিত হয় তাঁর বিখ্যাত গান 'কাস্তেটারে দিয়ো জোরে শাণ'। ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে পালিত হচ্ছে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মশতবর্ষ। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।
১৯১২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে বাঞ্ছারামপুর থানার প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলামের (নুরু পন্ডিত) জন্ম, মৃত্যু-২১-০৫-২০০২ তারিখ।
১৯১২ সালে পুলিশের সাবেক আই. জি. আবু সাইদ মহিউদ্দিন আহমদের জন্ম, মৃত্যু-২১-১২-২০০৫ তারিখ।
১৯১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, টাঙ্গাইলের আশেকপুর গ্রামে বিশ্বখ্যাত, জাদুসম্রাট ও জাদুশিল্পী পিসি সরকারের (পুরো নাম প্রতুল চন্দ্র সরকার) জন্ম, কলকাতায় ৫৮ বছর বয়সে মৃত্যু-০৬-০১-১৯৭১ তারিখ। তাঁর পিতার নাম-ভগবান চন্দ্র সরকার আর মায়ের নাম-কুসুম কামিনী সরকার। পিসি সরকারের ৫ ছেলে-মেয়ে। মেয়ে-ইলা সরকার ও গীতা সরকার। ছেলেরা-প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার, প্রদীপ চন্দ্র সরকার ও প্রভাষ চন্দ্র সরকার। ১৯৩৮ সালে পিসি সরকার টাঙ্গাইলের প্রখ্যাত চিকিৎসক শ্রীযুক্ত প্রমথ নাথ গুহ মজুমদারের (এমবি) মেয়ে শ্রমতি বাসন্তী দেবীকে বিয়ে করেন। আশেকপুর গ্রামের নামকরণ করা হয় 'যাদুভবন'।
১৯১৩ সালের ১ মার্চ, বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার কালীনগর গ্রামে আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী মৌলভী আদেলউদ্দিন আহমেদের জন্ম, মৃত্যু-২৬-০৬-১৯৮১ তারিখ।
১৯১৩ সালের এপ্রিল মাসে, মৌলভীবাজার জেলার কালাপুর গ্রামে কর্মেযাগী ও দেশব্রতী নিকুঞ্জবিহারী গোস্বামীর জন্ম, মৃত্যু-২৯-০৮-১৯৯৩ তারিখ। ১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দুর্গত ব্যক্তিদের সেবাকার্য পরিচালনা করেন এবং মহাত্মা গান্ধীর শান্তি মিশনে যোগদান করেন।
১৯১৩ সালের ৭ মে, যশোর জেলার উমেদপুর গ্রামে চিত্রশিল্পী কাজী আবুল কাসেমের জন্ম, ২০০৪ সালের ১৯ জুলাই, বিরানব্বই বছর বয়সে মারা গেছেন।
১৯১৩ সালের ১৫ জুন, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার কাজীরবাগ গ্রামে হযরত শাহ সূফী সৈয়দ আহমাদ চৌধুরী (রহ.) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৯ সালে অর্থনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. এ. পাশ করেন। মৃত্যু-জানা নেই।
১৯১৩ সালের ১৯ জুলাই, নড়াইল সদর উপজেলার আউরিয়া গ্রামে প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামাবাড়িতে তেভাগার সংগ্রামী কমরেড অমল সেনের জন্ম, মৃত্যু-১৭-০১-২০০৩ তারিখ। তিনি ১৯৩৪ সালে কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।
১৯১৩ সালের ২৭ জুলাই, চট্টগ্রাম জেলার শ্রীপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বিপস্নবী কল্পনা দত্তের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-০৮-০২-১৯৯৫ তারিখ।
১৯১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, সিলেটনিবাসী ব্রিটিশ আর্মি কোরের ক্যাপ্টেন সুশীল কুমার পাল চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯-০৯-২০০৯ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের ফ্লোরেন্স শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯১৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামে মৌলভী মোঃ আলী আযম(মালু মাষ্টারের) জন্ম, মৃত্যু-২৮-০২-২০০৯ তারিখ। উনি রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
১৯১৩ সালের ১ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দুর্গারামপুর গ্রামে কৃষিবিদ ড. আবদুল আলিমের জন্ম, মৃত্যু-০৯-০৭-২০১১ তারিখ বেলা ১২.২৩ মিনেটের সময় হাসপাতালে।
১৯১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকমা রাজগুরু শ্রীমৎ অগ্রবংশ মহাথেরোর জন্ম, মৃত্যু-০৫-০১-২০০৮ তারিখ। ১৯৫৮ সালের জানুয়ারিতে এক ধর্মীয় মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় তাঁকে রাজগুরু পদে বরণ করেন।
১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট গ্রামে 'তিতাস একটি নদীর নাম' কালজয়ী ঔপন্যাসের লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক (এক দরিদ্র জেলে পরিবারে) অদ্বৈত মল্ল বর্মেণর জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৬-০৪-১৯৫১ তারিখ।
১৯১৪ সালের ১০ জানুয়ারি, সিলেটের বিয়ানীবাজারের লাউতা গ্রামে বাংলাদেশের বিপস্নবী কমিউনিষ্ট পার্টির (এমএল) পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের জন্ম, মৃত্যু-১৩-১০-১৯৯৯ তারিখ। নানকার বিদ্রোহের বীর, 'নান' শব্দের অর্থ রুটি তথা খাদ্য এবং 'কার' হচ্ছে কাজ। খাদ্যের বিনিময়ে যাঁদের দিয়ে কাজ করানো হতো, তাঁরাই সামন্ত সমাজে নানকার নামে পরিচিত ছিলেন। নানকার একটি বর্বর শ্রম শোষণের প্রথা, অনেকটা মধ্যযুগীয় দাস প্রথার সঙ্গে তুলনীয়। প্রধানত সিলেটের অঞ্চলে বিয়ানীবাজার, গোপালগঞ্জ অঞ্চলে এই সামন্ত প্রথাটি প্রচলিত ছিল। সামন্ত ভূ-মালিকদের সিলেট অঞ্চলে মিরাশদার এবং বড় মিরাশদারকে জমিদার বলা হতো। জমিদার বা মিরাশদারবাড়ির নিকটবর্তী স্থানে কিছু প্রজার বসবাসের ব্যবস্থা করা হতো, তাঁরাই ছিলেন নানকার প্রজা। জমিদারবাড়ির সার্বক্ষণিক গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত থাকতে হতো তাঁদের। এমনকি গভীর রাতেও নারী-পুরুষনির্বিেশষে জমিদারবাড়ির ডাকে ত্বরিত সাড়া না দিলে নেমে আসত অসহনীয় নির্যাতন। এমনই এক মানবতাবিরোধী নানকার প্রথার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে যাঁর নাম, সেই কমরেড অজয় ভট্টাচার্য। তাঁকে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ পর্যন্ত প্রায় বিশ বছর কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়। রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য সৃষ্টিতেও অবদান রাখেন কমরেড অজয় ভট্টাচার্য।
১৯১৪ সালের ১৫ এপ্রিল, কুমিল্লা শহরের পৈত্রিক বাড়িতে ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবি (চিরকুমার) অধ্যাপক অজিতকুমার গুহের জন্ম, কুমিল্লায় মৃত্যু-২২-১১-১৯৬৯ তারিখ।
১৯১৪ সালে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার মাধবপুর গ্রামে শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক আসহাবউদ্দীন আহমদের জন্ম, মৃত্যু-২৮-০৫-১৯৯৪ তারিখ।
১৯১৪ সালে কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া মিয়াবাড়িতে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের জন্ম, মৃত্যু-২৮-১১-১৯৯৯ তারিখ।
১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই, ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরিলীর সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে আন্তর্জািতক খ্যাতিসম্পন্ন সম্াজকর্মী, পল্লী উন্নয়নে কুমিল্লা মডেলের উদ্ভাবক এবং বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. আখতার হামিদ খানের জন্ম, আমেরিকাতে মৃত্যু-০৯-১০-১৯৯৯ তারিখ। এবং ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশভারতের সর্বোচ্চ চাকরি আইসিএস-এ নির্বািচত হন। তিনি ১৯৩৭-৪৪ সাল পর্যন্ত আই.সি.এস. অফিসার হিসেবে কুমিল্লা, পশ্চিমবঙ্গের তমলুক, পটুয়াখালী, নওগাঁ ও নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে এসডিও এবং অন্যান্য উচ্চপদে কাজ করেন। ১৯৪৭-৫০ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লীতে ড. জাকির হোসেন প্রতিষ্ঠিত জামিয়া মিলিয়াতে মাত্র ১০০ রুপী বেতনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫০ সালের এক ক্রান্তিলগ্নে ড. আখতার হামিদ খান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৯ সালের ২৭ মে কুমিল্লা একাডেমী (বর্তমানের বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বা বার্ড) নামে কোটবাড়িতে জন্মলাভ করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের নির্দেেশ তাঁকে ইসলামাবাদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তাঁকে আর বাংলাদেশে আসতে দেয়া হয়নি। ১৯৭৮-৭৯ সালে মাত্র সাত মাসের জন্য তিনি পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়ার উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।