| লামিয়া ফারুক, ৮ম শ্রেণীতে পড়ে | ২০-১১-১৯৯১ | - |
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন।
গত ২৫-০৪-২০০৬ তারিখ আমার মামাত বোন মিসেস চৌধুরী আরজুমান বাণু(পারুল আপা), চৌধুরী(মিসেস) হালিমা খাতুন, মিসেস নাসিমা চৌধুরী ও ইমন চৌধুরীর সাক্ষাতকার নেই পারুল আপার বাসায় যেয়ে ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন'' এ বইয়ের কাজে। তখন থেকে আমার সহযোগী হিসেবে ইমন চৌধুরীকে সাথে নিয়ে কাজ করি। ২৫-০৪-২০০৬ তারিখ পারুল আপার মা(মামীর) প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। ঐ দিনটির কথা আমার স্মরণ ছিলনা। ঐদিন পারুল আপার বাসায় আমি আমার অফিস থেকে সরাসরি এসে তাদের ৩(তিন) বোনকে একসাথে পাই। তাদের তিন বোনের সাক্ষাতকার নেই এবং আলাপ-আলোচনা করি তাদের সাথে। গত ২৫-০৪-২০০৬ তারিখের পূর্বে এ বই নিয়ে তাদের সাথে আমিও কোনদিন আলাপ-আলোচনা করি নাই। আমি কোন কাজ করার পূর্বে আমি আমার নিজের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই। আমি আমার সাথে যখন একমত হই-তখনই অন্যদেরকে জানাই কাজের কথা। জাকির হুসেন আলমগীর আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের সাথে যারা জড়িত আছে-তাদের সাথে আমি এ কাজ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করি এবং তারা বলে যে, আপনার সময়, এনার্জী, টাকা-পয়সা খরচ হবে। এ সামান্য ক্ষতি মেনে নিয়ে যদি কাজ করেন-তা'হলে আমাদের আপত্তি নেই। আমার গবেষণা কেন্দ্রের ঐসব সদস্যরা আরো বলেছে যে, আগামী অন্ততঃ ৮ থেকে ৯ মাস সময় আপনাকে ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন'' এ বইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে। আমাদের গবেষণা কাজের কিছু ক্ষতি হবে।
পইরাংকুল চৌধুরীবাড়ি, দেবীদ্বার উপজেলা, কুমিল্লা থেকে খান মাহমুদ চৌধুরীর ছোট ভাই সালেহ্ আহমদ চৌধুরী তার বড় ছেলে বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীসহ বি-বাড়িয়া জেলার, নবীনগর উপজেলার, রণাইয়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন প্রায় ১৮০৬ সালের মধ্যে। রণাইয়া গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সালেহ আহমদ চৌধুরীর নামে গ্রামের নামকরণ করা হয় ''আহমদপুর ''।
| পিতার নাম গাযী আহমদ | কিন্তু খান মাহমুদ চৌধুরী ও সালেহ্ আহমদ চৌধুরী তাঁরা দু'ভাই পিতার সাথে |
| ঢাকাতে আসেন | ঢাকা থেকে তাঁরা পইরাংকুল, দেবীদ্বার যান-তারপর পইরাংকুল থেকে ছোট ভাই সালেহ আহমদ |
| চৌধুরী তাঁর ছেলে হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে রণাইয়া চলে আসেন | এখানে এসে চৌথদারী বা |
| তালুকদারি পান | এরা সবাই শিক্ষিত ভদ্রলোক ছিলেন | এরা পশ্চিম দেশ থেকে এ দেশে আসেন |
| খান মাহমুদ চৌধুরী(পইরাণকুল-দেবীদ্বার) | সালেহ্ আহমদ চৌধুরী(আহমদপুর) |
| হাফেজ | জমির উদ্দিন | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ বাহের | মোহাম্মদ হাবীব আলী চৌধুরী |
| বখতিয়ার | চৌধুরী | ফয়েজ উদ্দিন | নওয়াব আলী | আলী চৌধুরী-সে | তার ছেলে সন্তান নেই | তাঁর |
| আহমদ | (পাসু) | চৌধুরী | চৌধুরী | বিয়ে করে | একমাত্র মেয়ের দিক থেকে ঘর-জামাই |
| চৌধুরী | | (মাসু) | | ইব্রাহিমপুর চলে | হিসেবে ভূইয়ারা আসছে আহমদপুর |
| মোহাম্মদ রহিমোল্লা চৌধুরী(রমল্লা চৌধুরী) | মোহাম্মদ আলাউদ্দিন চৌধুরী |
| রেহান-উদ-দীন চৌধুরী(রেনোল্লা চৌধুী | চৌধুরী সাবের মা | চৌধুরী যজের মা |
| মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | বড় বোনকে বিয়ে দিয়েছিল | দ্বিতীয় বোনকে | আজমুদা |
| রিয়াসত-উল্লাহ | হাফিজ- | নাসির- | ১ম উলুকান্দি | স্বামী মারা | বিয়ে দিয়েছিল | বেগমকে বিয়ে |
| চৌধুরী (রেসত | উদ-দীন | উদ-দীন | যাওয়ার পর হাঁজীপুর | মাইজখার, কসবা | দিয়েছে |
| আলী চৌধুরী) | চৌধুরী | চৌধুরী | বাবুলের দাদার নিকট | | উপজেলা | | উলুকান্দি |
| নওয়াব চৌধুরী | রুক্কু চৌধুরী | শুনো চৌধুরী | শুক্কু চৌধুরী | চৌধুরী বেগম | মিরন চৌধুরী |
| শাহ-আলম | মিসেস চৌধুরী | মিসেস ফকরু চৌধুরী | মিসেস চৌধুরী | মিসেস নাসিমা চৌধুরী |
| চৌধুরী | আরজুমান-বাণু(পারুল) | | হালিমা খাতুন |
| মশিউর আলম চৌধুরী(রনভী) | যুবায়ের আলম চৌধুরী |
।জনাব মোহাম্মদ রুক্কু চৌধুরী ও মিসেস হনুফা বেগম-এর ২(দুই) ছেলে ২(দুই) মেয়ে:।
| মোহাম্মদ বিল্লাল চৌধুরী, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ও মিসেস ফারজানা চৌধুরী(মুক্তা | ১৯৬২ | - |
| বেগম), এস.এস.সি. (জন্ম-১৯৭৪ সালে)-এর বাড়ী নগরকান্দা, ফরিদপুর |
| মোহাম্মদ ফোরকান চৌধুরী, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত | | ১৯৭২ | - |
| মিসেস চৌধুরী মাহমুদা বেগম, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বিয়ে দিয়েছে গাঙ্গেরকুট, | ১৯৬০ | - |
| মুরাদনগর-স্বামী-মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান-এর জন্ম-১৯৫০ সালে |
| মিসেস চৌধুরী জেসমিন বেগম, ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত বিয়ে দিয়েছে জাড়েরা, | ১৯৭৬ | - |
| মুরাদনগর-স্বামী-মোহাম্মদ মোসলেম-ইতালি প্রবাসী |
উপরোক্ত ৪(চার)ভাই-বোন এ বংশের ৭ম পুরুষ।
।মোহাম্মদ বিল্লাল চৌধুরী ও মিসেস ফারজানা চৌধুরী(মুক্তা বেগম)এর ২(দুই) ছেলে ১(এক) মেয়ে:।
| মোহাম্মদ অহিদুজ্জামান চৌধুরী(তানভীর), ৮ম শ্রেণীতে পড়ে | ০২-০৬-১৯৯৩ | - |
| মোহাম্মদ আশরাফুল চৌধুরী | ০৩-১১-২০০২ | - |
| ফাতেমাতুজ্জ জোহরা চৌধুরী(তানজুম), ২য় শ্রেণীতে পড়ে | ০২-০২-১৯৯৯ | - |
উপরোক্ত ৩(তিন)ভাই-বোন এ বংশের ৮ম পুরুষ।
।মিসেস চৌধুরী মাহমুদা বেগম ও স্বামী-মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান-এর ২(দুই) ছেলে ১(এক) মেয়ে:।
| মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ(তপন), এম.কম.(হিসাব বিজ্ঞান)-মোবাইল-০১৮৯৯১৫৪৪৮ | | ০৪-০৪-১৯৭৯ | - |
| মোহাম্মদ মাসুম আহম্মদ(স্বপন), এম.বি.বি.এস.,২য় বর্ষ-বাংলাদেশ মেডিকেল | ১৪-০৯-১৯৮২ | - |
| মিসেস শাহিনা আক্তার(সম্পা), এইচ.এস.সি. পাশ তার বিয়ে আগামী ০১-০৯-২০০৬ | ১০-০৫-১৯৮৫ | - |
| সালে ১২৬/২, নির্জনকুঞ্জ, ব্লক-কে, মদিনা নগর, জয়দেবপুর, গাজীপুর শহরে | এ |
| বিয়েতে আমাকে দাওয়াত করেছে এবং আমি এ বিয়েতে উপস্থিত হয়েছি | বিয়েতে |
| রুক্কু মামার সাথে দেখা হলো এবং আমার আলাপ-আলোচনা হয়েছে আহমদপুর |
| চৌধুরীবাড়ী সম্বন্ধে-এ আলোচনায় আমার কিছু নতুন তথ্য জানা গেল এবং এ বংশ |
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন।
।মিসেস চৌধুরী জেসমিন বেগম ও স্বামী-মোহাম্মদ মোসলেম-এর ৩(দুই) ছেলে ১(এক) মেয়ে:।
| মোহাম্মদ সাইমন আহম্মেদ(রাব্বি),৭ম শ্রেণীতে পড়ে- | ১৯৯৪ | - |
| মোহাম্মদ বাবু, মাদ্রাসায় পড়ে- | ১৯৯৭ | - |
| মোহাম্মদ মাহিন, ১ম শ্রেণীতে পড়ে- | ২০০১ | - |
| মিসেস তানিয়া আহামেদ, ১০ম শ্রেণীতে পড়ে- | ১৮-০৬-১৯৯২ | - |
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন।
।জনাব মোহাম্মদ শুক্কু চৌধুরী ও মিসেস হোসনা বেগম এর ৬(ছয়) ছেলে:।
| মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী, এস.এস.সি., পেশা-বিদেশে কর্মরত ও মিসেস সেলিনা | ১৯৭০ | - |
| বেগম, এস.এস.সি.- এর বাড়ী-ষাটসলা, ব্রাহ্মণপাড়া | জন্ম-১৯৮০ সালে |
| মোহাম্মদ কামরুল আলম চৌধুরী, বি.কম., পেশা-চাকুরী ও মিসেস রওশন আরা বেগম, | ১৯৭৩ | - |
| এস.এস.সি.-এর বাড়ী-ইব্রাহীমপুর, জন্ম-১৯৮৪ সালে | ০১৭২০৫৩৪০১০ |
| মোহাম্মদ নূর আলম চৌধুরী, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত, পেশা-চাকুরী ও মিসেস নাসিমা | ১৯৭৮ | - |
| বেগম, এস.এস.সি.-এর বাড়ী-অলুয়া, দেবীদ্বার, জন্ম-১৯৮৬ সালে | ০১৭১০৩৪৬৬৬০ |
| মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী(সুমন), এস.এস.সি. | ০১৭২০১১১৪৫০ | | ১৯৮১ | - |
| মোহাম্মদ এমরান চৌধুরী(ইমন), ৪র্থ বর্ষ, বি.কম. (সম্মান), হিসাব বিজ্ঞান | | ০৫-০১-১৯৮৪ | - |
| মোহাম্মদ রিমন চৌধুরী, ১০ম শ্রেণীতে পড়ে | ২৫-১২-১৯৯০ | - |
উপরোক্ত ৬(ছয়)ভাই এ বংশের ৭ম পুরুষ।
।মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী ও মিসেস সেলিনা বেগম-এর ২(দুই) ছেলেঃ।
| সাকলাইন শাহরিয়ার চৌধুরী(সামী), কেজিতে পড়ে | ০৪-০৪-২০০০ | - |
| সাফিয়াল চৌধুরী(সাদিত) | ১৪-০২-২০০৩ | - |
উপরোক্ত ২(দুই)ভাই এ বংশের ৮ম পুরুষ।
।মোহাম্মদ কামরুল আলম চৌধুরী ও মিসেস রওশন আরা বেগম-এর ১(এক) ছেলে ১(এক) মেয়ে:।
| মোহাম্মদ আবীর চৌধুরী | ২৯-০১-২০০৪ | - |
| হুমায়রা আদীবা চৌধুরী | ১২-০৪-২০০৬ | - |
উপরোক্ত ২(দুই)ভাই-বোন এ বংশের ৮ম পুরুষ।
| মোহাম্মদ নূর আলম চৌধুরী ও মিসেস নাসিমা বেগম-এর এক ছেলে-মোঃ নাফিজ চৌধুরী-জন্ম-১২-০১-২০০৭ |
।মিসেস বেগম চৌধুরী ও মৌলভী মোঃ মাজেদ সরকারের ৪(চার) ছেলে ৩(তিন) মেয়ে:।
| জনাব মোহাম্মদ বায়েস সরকার(বায়েস ভাই), ম্যাট্রিকুলেশন ও মিসেস রাণু আরা | ১৯৪২ | - |
| বেগম-এর বাড়ী-মিরপুসকিনিরপার, কসবা | বায়েছ ভাই চাকুরী থেকে অবঃ জীবন-যাপন |
| করা অবস্থায় ভাবীসহ আমেরিকাতে চলে যান |
| মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সরকার, ৫ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে-ও আমার | ১৯৪৮ | ১৯৬০ |
| বন্ধু ছিল-তাকে আমি ভুলতে পারিনি | এখনও আমার মনে পড়ে-কারণ নানারবাড়িতে ছোট |
| সময় বেড়াইতে গেলে বর্ষার সময় তখনই প্রায় সময় জহিরুল ইসলামের সাথে আমার দেখা |
| হতো | আমি-জহির ও ফকরু এ তিনজন প্রায় সময়ই বর্ষার পানিতে সাঁতার কাটতাম |
| আমাদের সাথে মাঝে মধ্যে সুলতান চৌধুরীও যোগদান করত সাঁতার কাটতে | আমরা |
| তিনজন প্রায়ই মারামারি করতাম | সাঁতারে প্রায় সময়ই আমার বন্ধু মোহাম্মদ জহিরুল |
| ইসলাম সরকার ১ম স্থান অধিকার করত | মামাত বোন ফকরু এটা মেনে নিত না |
| মোঃ আল-মামুন সরকার, বি.এ., বিদেশে কর্মরত আছে ও মিসেস রোকেয়া মামুন | ১৯৫৬ | - |
| সরকার, এস.এস.সি.,(বিয়ের তারিখ-০৯-০১-১৯৮৭)-এর (জন্ম-২৭-০৯-১৯৬৪) বাড়ী কসবা |
| বাসার ঠিকানাঃ-১০/বি(ছায়ানীড়), পূর্ব বাসাবো, টেলিফোনঃ৭২০৩১১৭ |
| মিসেস শাহেনা বেগম, বিয়ে দিয়েছে-টনকী-আখাউরা-স্বামীর নাম-মরহুম মোঃ হাবিবুর | ১৯৪০ | - |
| মিসেস শায়েরা বেগম, বিয়ে দিয়েছে-নাড়ুই-নবীনগর-স্বামীর নাম-মরহুম মোঃ মহিউদ্দিন | ১৯৪৪ | ১৯৭০ |
| মিসেস সুরাইয়া বেগম, বিয়ে দিয়েছে-ষাটশলা-ব্রাম্মণপাড়া, কুমিল্লা-স্বামীর | ১৯৫৪ | - |
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন।
বায়েস ভাই আমার চেয়ে প্রায় ৬ বছর বয়সে বড়। বায়েস ভাই আমাকে প্রথম টেলিভিশন দেখিয়েছেন ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সিটিটিউটের শাহনাজ হোস্টেল-এ। সবেমাত্র পশ্চিম-পাকিস্তানে ১৯৬৪ সালের ২৫শে নভেম্বর টেলিভিশন সেন্টার চালু করে-আর পূর্ব-পাকিস্তানে টেলিভিশন সেন্টার চালু করে ১৯৬৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর, ঢাকার ডি.আই.টি ভবন থেকে। ঢাকাতে আমি যখন স্থায়ীভাবে চলে আসি তখন বায়েস ভাই কাঠালবাগানে একটি ম্যাসবাড়ীতে কয়েকজন মিলে বাস করত। কাঠালবাগান আমার অনেক আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী ছিল। আমি প্রায়ই কাঠালবাগান যাইতাম এবং বায়েস ভাইয়ের সাথে দেখা করতাম। আমাকে উনি স্নেহ-মায়া-মমতা ও আদর করত। বায়েস ভাইয়ের কথামত আমি আমার জীবনের একটি কাজ শেষ করতে পারিনি। এ জন্য বায়েস ভাইয়ের কাছে আমি লজ্জিত থাকব সারাজীবন ধরে। বায়েস ভাইয়ের মেয়ের এবং ছেলের বিয়েতে আমাকে দাওয়াত করেছিল-এ দুটো বিয়েতে আমি যেতে পারিনি। বায়েস ভাই ঢাকা আসলে আমার খোঁজ-খবর নিয়ে যেত। বায়েস ভাই বর্তমানে প্রায় ১৮(আঠার) হাজার মাইল দূরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ভাবীসহ বসবাস করছেন। আমার এ জীবনে উনার সাথে আর দেখা হয় কিনা জানিনা?
।জনাব মোহাম্মদ বায়েস সরকার(বায়েস ভাই) ও মিসেস রাণু আরা বেগম-এর ৩(তিন) ছেলে ২(দুই) মেয়ে:।
| মোঃ আল-বাতেন সরকার, বি.এ. ও মিসেস ইয়াছমিনের বাড়ি-ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের | ১৯৭১ | - |
| খালেক মঞ্জিল | বায়েছ ভাই বর্তমানে ভাবীসহ আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করছে |
| মোঃ আল-বাসেত সরকার, বি. এ. ও মিসেস শান্তা-এর বাড়ী-মিরপুর, ঢাকাতে | সে | ১৯৭৩ | - |
| বর্তমানে সুইজারল্যান্ড থেকে এসে গ্রামের বাড়ীতে বসবাস |
| মোঃ আল-রাশেদ সরকার, আই.এ. ও মিসেস সুরভী-এর বাড়ী- ব্রাহ্মণবাড়িয়া | সে | ১৯৭৭ | - |
| বর্তমানে ইতালি শহরে বসবাস করে |
| মিসেস মনিরা সারমিন(শাম্মী আক্তার), এম.এ., বিয়ে দিয়েছে-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-স্বামীর | ১৯৮১ | - |
| মিসেস সাকিনা জাহান(নিম্মী আক্তার), এস.এস.সি. বিয়ে দিয়েছে-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-স্বামীর | ১৯৮৮ | - |
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন।
।মোঃ আল-মামুন সরকার ও মিসেস রোকেয়া মামুন-এর ১(এক) ছেলে ১(এক) মেয়ে:।
| আল-রাসেল সরকার, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ালেখা করে- | ১৪-০৯-১৯৯৩ | - |
| মারিয়াম সরকার, এইস.এস.সি. পড়ালেখা করে- | ০৯-১১-১৯৮৮ | - |
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন।
।মিসেস চৌধুরী মিরন বেগম(ইরন) ও মোঃ মজনু মিয়ার ২(দুই) ছেলে ২(দুই) মেয়ে।
| মোহাম্মদ খোকন, এস.এস.সি., | ১৯৫৯ | - |
| মোহাম্মদ মনির, বি.এ., | ১৯৬৮ | - |
| মিসেস বিণা বেগম, বিয়ে দিয়েছে | ১৯৫৭ | - |
| মিসেস রুবি বেগম, বিয়ে দিয়েছে | ১৯৬৫ | - |
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন।
| পিতার নাম গাযী আহমদ | কিন্তু খান মাহমুদ চৌধুরী ও সালেহ্ আহমদ চৌধুরী তাঁরা দু'ভাই পিতার সাথে |
| ঢাকাতে আসেন | ঢাকা থেকে তাঁরা পইরাংকুল, দেবীদ্বার যান-তারপর পইরাংকুল থেকে ছোট ভাই সালেহ আহমদ |
| চৌধুরী তাঁর ছেলে হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে রণাইয়া চলে আসেন | এখানে এসে চৌথদারী |
| বা তালুকদারি পান | এরা সবাই শিক্ষিত ভদ্রলোক ছিলেন | এরা পশ্চিম দেশ থেকে এ দেশে আসেন |
| খান মাহমুদ চৌধুরী(পইরাংকুল-দেবীদ্বার) | সালেহ্ আহমদ চৌধুরী(আহমদপুর) |
| হাফেজ | জমির উদ্দিন | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ বাহের | মোহাম্মদ হাবীব আলী |
| বখতিয়ার | চৌধুরী | ফয়েজ উদ্দিন | নওয়াব আলী | আলী চৌধুরী-সে | চৌধুরী | তার ছেলে সন্তান |
| আহমদ | (পাসু) | চৌধুরী | চৌধুরী | বিয়ে করে | নেই | তাঁর একমাত্র মেয়ের দিক |
| চৌধুরী | | (মাসু) | | ইব্রাহিমপুর চলে | থেকে ঘর-জামাই হিসেবে |
| মোহাম্মদ রহিমোল্লা চৌধুরী(রমল্লা চৌধুরী) | মোহাম্মদ আলাউদ্দিন চৌধুরী |
| মোহাম্মদ রেহান-উদ-দীন চৌধুরী(রেনোল্লা চৌধুরী) | সাবের মা | যজের মা |
| মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | বড় বোনকে বিয়ে দিয়েছিল | দ্বিতীয় বোনকে | আজমুদা |
| রিয়াসত-উল্লাহ | হাফিজ- | নাসির- | ১ম উলুকান্দি | স্বামী মারা | বিয়ে দিয়েছিল | বেগমকে বিয়ে |
| চৌধুরী (রেসত | উদ-দীন | উদ-দীন | যাওয়ার পর হাঁজীপুর | মাইজখার, কসবা | দিয়েছে |
| আলী চৌধুরী) | চৌধুরী | চৌধুরী | বাবুলের দাদার নিকট | | উপজেলা | | উলুকান্দি |
| মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ | মোহাম্মদ শুক্কু | মিসেস চৌধুরী বেগম | মিসেস মিরন |
| নওয়াব চৌধুরী | রুক্কু চৌধুরী | শুনো চৌধুরী | চৌধুরী | | চৌধুরী(ইরন) |
| মোঃ বায়েস | মোঃ জহিরুল | মোঃ মুসা | মোঃ আল-মামুন | মিসেস শাহেনা | মিসেস শায়েরা | মিসেস |
| সরকার | ইসলাম সরকার | সরকার | সরকার | আক্তার | আক্তার | সুরাইয়া বেগম |
| মোঃ আল-বাতেন সরকার | মোঃ আল-বাসেত সরকার | মোঃ আল-রাশেদ | মিসেস মনিরা সারমিন | মিসেস সাকিনা জাহান |
১৪-০৭-২০০৬ তারিখ বিকেল বেলা ৫.৩০ মিনিটের সময় আমি পারুল আপার বাসায় যেয়ে এমরান চৌধুরীকে পাইনি। তারপর মোবাইল করার পর সে আমাকে উত্তরে বলে যে, আলমগীর দাদা আপনি বসেন-আমি রিকসায় আছি ৪০-মিনিটের মধ্যে এসে পড়বো। পারুল আপার বাসায় তখন বসে ছিল আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির মোহাম্মদ আবদুল আলীম চৌধুরী(আবন) নানার ছেলে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী(রফিক) তার সাথে আমি চৌধুরীবাড়ি সম্বন্ধে আলাপ-আলোচনা করি এবং 'আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন' এ বই এর খসড়া দেখাই। তাদের বাড়ির কিছু কিছু তথ্য তাকে দিয়ে যাচাই-বাচাই করে সঠিকভাবে তৈরী করি। তারপর বায়েস ভাইয়ের ছোট ভাই মামুনের স্ত্রী মিসেস রোকেয়া সরকারের নিকট অনেকবার টেলিফোন করে তাদের তথ্যগুলি নেয়ার চেষ্টা করেছি। এবং মামুনের স্ত্রী মিসেস রোকেয়া সরকারের নিকট থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তার বাসায় ১৪-০৭-২০০৬ তারিখ রাত্রি ৮.৩০ মিনিটের সময় নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর) এবং আমার সহযোগী মোঃ এমরান চৌধুরী(ইমন)কে সাথে নিয়ে বায়েস ভাই এর ছোট ভাই মোঃ আল-মামুন সরকারের পূর্ব বাসাবোর, ১০/বি-ছায়ানীড় এর বাসায় যেয়ে তাদের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করি মামুনের স্ত্রী মিসেস রোকেয়া সরকারের নিকট থেকে। রাত্রি আনুমাণিক ৯.৪০মিনিটের সময় তার বাসা থেকে আমরা দু'জনে কাজ শেষ করে চলে আসি। ঢাকা শহরের মধ্যে আর একটি মাত্র বাসায় যেতে হবে। ঐ বাসাটির ঠিকানা এখন পর্যন্ত যোগাড় করতে পারিনি। ঐ বাসাটি হলো মোহাম্মদ সহিদুল হক চৌধুরীর। সহিদ মামার সাথে দেখা করতে পারলে ঢাকাতে আমার মিশনের কাজ প্রায় শেষ হবে। এরপর আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে আমার আর একবার যেতে হবে। আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে গত ২৭-১০-২০০৬ তারিখ বিকেল ০২ঘটিকার সময় যাই এবং আসি ২৮-১০-২০০৬ তারিখ বেলা ১-৩০ মিনিটের সময়। এখনও কিছু কিছু ভুল-ত্রুটি রয়ে গেছে ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন'' এ বইয়ের মধ্যে। আমার অজ্ঞতা বা ক্ষমতার বাহিরে যেসব ভুল-ত্রুটি রয়ে গেছে। এ বইয়ের অধিকাংশই জাকির হুসেন আলমগীর আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা করে সংশোধন করা হয়েছে। সময়ের সল্পতার কারণে কিছু কিছু ভুল-ত্রুটি রয়ে যাবে। সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে মূল কথাগুলি লিখার চেষ্টা করছি। অনেক খোঁজাখোঁজির পর অবশেষে গত ০৮-১২-২০০৬ তারিখ সহিদ মামার ২য় মেয়ে তুহিন চৌধুরীর, ১৯১/১নং তাজ লেন, মধ্য পাইকপাড়া, মিরপুর এর বাসায় যাই। তার স্বামী-আবুল বাশার এর সাথে আমাদের পরিচয় এবং আলাপ-আলোচনা হয়। আবুল বাশার সাহেব আমাদেরকে যথেষ্ট আতিথেয়তা দেখিয়েছেন। ঐ বাসা থেকে সহিদ মামার ছেলে শাহেদ চৌধুরীর সাথে আমি এবং আমার সহযোগী ইমন চৌধুরী, ২১৩/১নং তাজ লেন, মধ্য পাইকপাড়া, মিরপুর এর বাসায় যেয়ে সহিদ মামার সাথে দেখা করি এবং বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করি 'আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন' বই সম্বন্ধে। উনার সাথে আমার শেষ দেখা হয় ১৯৬৭ সালে। সহিদ মামার সাথে আমার আবার দেখা হলো ৩৯বছর পর ০৮-১২-২০০৬ তারিখ। এর মাঝে দীর্ঘ ৩৯টি বছর কেটে গেছে। সহিদ মামা আমাকে বলল যে, ভাগিনা আমার শেষ ইচ্ছাটা তোমার দ্বারা পূর্ণ হল। আমার দীর্ঘিদনের স্বপ্ন আজ পূরণ হতে চলেছে। আমি দীর্ঘিদন চেষ্টা করে যে কাজটি করতে পারিনি-তুমি আজ আমার বংশের সে কাজটি করেছ। আমাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছে তোমার সাথে কথা বলার জন্য। আমি তোমাকে দোয়া করি-তুমি যেন ভাগিনা আরো এদেশের বড় কাজ করতে পার। উনার শরীরটা ভাল নয়-কিছুদিন পূর্বে স্ট্রোক-এ আক্রান্ত হয়েছিল। এখন কোন রকমে কথা বলতে পারে। একা হাটাহাটি করতে ও বাহিরে যেতে পারেনা। চোখেও কম দেখে। উনার বয়স এখন ৬৮বছর চলে। আমার সাথে দীর্ঘিদন পর দেখা হয়েছে বটে-কিন্তু আমাকে চিনতে পেরেছে ঠিকই। চৌধুরীবাড়ি সম্বন্ধে আমার সাথে অনেক আলাপ করেছে। উনার মনে অনেক চিন্তা-ভাবনা ছিল-কিন্তু তা বাস্তবে রুপ দিতে পারেনি। আমার সাথে আলাপ করতে করতে উনার চোখ থেকে টল টল করে পানি পড়ছে। আমাকে উনি বলে যে, ভাগিনা তোমার এত ধৈর্য কিভাবে হল। তোমার অনেকদিনের গবেষণার ফসল চৌধুরীবাড়ির লোকেরা ভোগ করবে। এ বাড়ির লোকরা আবার জেগে উঠবে। আমার দিন ফুরিয়ে আসছে-আমি সাথে সাথে বলে উঠি যে, না মামা আপনি আরো অনেকদিন বাঁচবেন। আমাকে উনি বলে যে, তোমার বাবা অনেকদিন পূর্বে মারা যান-আমি বলি হাঁ(১৫-০৫-১৯৬৩ তারিখ)। আপা কেমন আছেন-আমি বলি যে, আম্মা মারা যান ০৫-১১-২০০২ তারিখ। তোমার বড় বোন দুলারী কেমন আছে-আমি বলি যে আপা মারা যান ০২-০৮-২০০১ তারিখ। ভাগিনা তোমার অন্যান্য ভাই-বোনেরা কেমন আছে-আমি বলি যে মামা আমরা তিন ভাই-দুই বোন বেঁচে আছি এবং আমরা সবাই মোটামোটি ভাল আছি। বিদায় নিয়ে আসতে চাই-আরো কথা বলতে চায়। 'আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন' এ বই এর কাজ শেষ প্রায়। ষাট পৃষ্ঠায় বলেছিলাম যে, ঢাকা শহরে আর একটি মাত্র বাসায় যেতে হবে এবং উনার সাথে দেখা হলে আমার মিশনের কাজ পূর্ণাঙ্গ হবে। ঐ লোকটিই হল সহিদ মামা। সহিদ মামার সাথে আমার দেখা ও আলাপ-আলোচনা হল এবং বইয়ের কাজও শেষ হল।