আমি মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর ছোট সময়ে ১(এক) পয়সা দিয়ে খাওয়ার জিনিষ কিনেছি, এক সের দুধ=১২(বার) পয়সা বিক্রি হতে দেখেছি, ১(এক) মণ চাল ১৭/১৮ টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি, এক আনা দিয়ে এক ভাগ মাছ বিক্রি হতে দেখেছি, ১২ পয়সায় এক হালী ডিম বিক্রি হতে দেখেছি, এক সের গুরুর মাংস বারো আনা বা চৌদ্ধ আনায় বিক্রি হতে দেখেছি, এক সের বাদাম এক টাকা চার আনায় বিক্রি হতে দেখেছি, এক সের মিস্টি এক টাকা চার আনায় বিক্রি হতে দেখেছি, এক সের গুড় নয় আনায় বিক্রি হতে দেখেছি, এক সের মুসুরির ডাল ১/-টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি, একটা বড় খাসী=৫/-টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি, এক সের শরিষার তেল=২/-টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি, ১(এক) মণ লম্বা আলু ৪/-টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি, একটা বড় ভাংগি ১৪ পয়সা বা চার আনায় বিক্রি হতে দেখেছি, একটি বড় মোড়ক বারো আনায় বিক্রি হতে দেখেছি, এক সের বেগুণ এক আনায় বিক্রি হতে দেখেছি এবং এক সের টমাটু এক আনায় বিক্রি হতে দেখেছি, একটি ছোট গুরু=২০/-টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি, ১০(দশ) পয়সা দিয়ে এক প্যাকেট বক/রমনা সিগারেট বিক্রি হতে দেখেছি, ঈদ-উল-আযহার সময় গ্রামে একটা গুরু=৩৫/-টাকায় কোরবানী করেছে শ্রমজীবী মানুষ, তা আমি দেখেছি নিজে, এক বিঘা চাষের জমি ৪৫০/-টাকা থেকে ৫০০শত টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি।

আমি যখন অস্টম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীতে পড়ালেখা করি যখন, তখন সাড়ে চার থেকে পাঁচ টাকার বই ক্রয় করেছি। আমি যখন এস.এস.সি. পাস করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে আই.এস-সি.তে ভর্তি হই তখন মাসিক খরচ করতে হয়েছে ৬০/-টাকা থেকে ৭০/-টাকা। আমার বাবা যখন ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে আই.এ. এবং বি.এ. পড়ে তখন মাসিক খরচ ৫/-টাকার বেশি করতে হতো না। বাবা-মায়ের মুখে যখন জিনিষপত্রের দাম কম ছিল শুনতাম বা গ্রামের আরো বয়স্ক লোকের মুখে জিনিষপত্রের দামের কথা শুনতাম আরো কম ছিল, তখন আমাদের কাছে রূপকথার মত মনে হতো। আমাদের কথা আমাদের ছেলে-মেয়েরা বিশ্বাস করে না মনে হয়। তখনও আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষের আয় কম ছিল।

আমি আপনাদের নিকট একটা উদাহরণ দেই- "ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খার আসল নাম মির্জা আবু তালিম। তিনি ছিলেন সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের ভাই। বাংলার নওয়াব মির জুমলার মৃত্যুর পর ১৬৬৪ সালে ৬৩ বছর বয়সে মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর র্কতৃক মনোনীত হয়ে বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন। ১৬৬৪ সালের ১৯ মার্চ, শায়েস্তা খাঁ বঙ্গের সুবাদার হিসেবে ঢাকায় আসেন। বাংলায় চলছিল কৃত্রিম খাদ্য সংকট। শায়েস্তা খাঁ বিভিন্ন রাজ্য পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি নিজের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি ইতিহাসে স্থান করে নেন কিংবদন্তি পুরুষ হিসেবে। তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তখন মির্জা তালিবকে 'শয়েস্তা খাঁন' উপাধিতে ভূষিত করেন। শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় ৮(আট) মণ চাল পাওয়া যেত। জনগণের মনে এখনো 'শায়েস্তা খাঁর আমল' কথাটির ব্যবহার হয় জিনিসপত্র সুলভে প্রাপ্তির প্রবাদবাক্য হিসেবে। কতিপয় অসৎ ব্যবসায়ীর কারণে বাজারে যখন 'তোঘলিক কারবার' (তোঘলকের শাসন কাল ছিল ১৩২৫ থেকে ১৩৫১ সাল পর্যন্ত)।"

ভেলানগর গ্রামের সর্ব প্রথম ও সর্বোচ্চ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন ভেলানগর গ্রামে বসবাসরত তুর্কি মুসলমান মরহুম খোশাল দিওয়ান। পশ্চিম দেশ থেকে আগত এই সম্ভান্ত বংশীয় ব্যক্তিটি ছিলেন সুবিশাল বলদাখাল/বরদাখাত (পরবর্তীকালে বরদাখাত) পরগনার দিওয়ান বা সর্বোচ্চ রাজস্ব কর্মকর্তা। তিনি জমিদার আগা সাদেকের পুত্র মির্জা ভেলার নামানুসারে এই গ্রামের নাম "ভেলানগর" নামাঙ্কিত করেছিলেন এবং নৌবাহিনীর নিকটস্থ একটি ঘাঁটির নামকরণ করেন তিনি "দরিয়া ভেলানগর" (বর্তমানকালে দরিভেলানগর)। খোশাল দিওয়ান মির্জা ভেলার জামাতা মীর আশরাফ আলীর (জন্ম-১৭৫৫ সালে, মৃত্যু-১৮২৯ সালে) অধীনে চাকরি করতেন। খোশাল দিওয়ানরা চার ভাই বাবার সাথে তুরস্ক থেকে আসে (১) খোশাল দিওয়ান (২) আকিল মাহমুদ (৩) আকরাম-উদ-দীন মুন্সি ও (৪) হোসায়েন উদ-দীন মুন্সি। শুনা কথা খোশাল দিওয়ানের ১৮ কন্যার কথা জানা যায়। তবে আমরা সাত কন্যার সন্ধান করতে পারছি-যেমন (১) আমার নানার দাদার বাবা আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির হাফেজ বখতিয়ার আহমেদ চৌধুরী খোশাল দিওয়ানের বড় মেয়ে বিয়ে করেন(তারাও তুর্কি মুসলমান ছিলেন)। (২) দরিকান্দি গ্রামের আমারই ফুফাত ভাই প্রত্নতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ, পুঁথিবিশারদ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার দাদার বাবা ফসিহ উদ-দীন মিঞার নিকট দ্বিতীয় মেয়ে বিয়ে দেন(তারাও তুর্কি মুসলমান ছিলেন)। (৩) মুরাদনগর উপজেলার থোল্লা গ্রামে তৃতীয় মেয়ে বিয়ে দেন(তারাও তুর্কি মুসলমান ছিলেন)। ৩নং মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ার পর খ্‌োশাল দেওয়ান তৃতীয় মেয়েকে ভেলানগর গ্রামে নিয়ে আসেন। (৪) রূপসদী গ্রামের লাল মাহমুদের ছেলে দারোগা আমীর উদ্দীন ৪র্থ মেয়ে বিয়ে করেন(তারাও তুর্কি মুসলমান ছিলেন)। (৫) হোমনা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের শিকদারবাড়ির দৌলত শিকদারের পুত্র হামজা শিকদারের নিকট ৫ম মেয়ে বিয়ে দেন(তারাও তুর্কি মুসলমান ছিলেন)তাঁর নামে ভেলানগর শিকদারবাড়ি। (৬) খোশাল দিওয়ানের ২য় ভাই আকিল মাহমুদ-এর ছেলের নিকট ৬ষ্ঠ মেয়ে বিয়ে দেন এবং (৭) ৭ম মেয়ে বিয়ে দেন মুরাদনগর উপজেলার কামেল্লার চৌধুরীবাড়িতে(তারাও তুর্কি মুসলমান ছিলেন)।

ভেলানগর গ্রামের বাসিন্দা প্রথম ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট (প্রকৃত পক্ষে সাব-ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট) ছিলেন মরহুম আবদুল্লাহ ডিপটি। তিনি ছিলেন দিওয়ান পরিবারের লোক এবং খোশাল দিওয়ানের দ্বিতীয় ভাই আকিল মাহমুদ এবং খোশাল দিওয়ানের এক কন্যার বংশধর। তিনি ছিলেন মনোনীত সাব-ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর জন্ম ছিল-১৮৮৮ সালে এবং মৃত্যু ছিল-১৯৮৭ সালে। তিনি ৪১ বছর পেনশন ভোগ করে মারা গেছেন। পাকিস্তান ট্যাক্সেশন সার্ভিেসর সদস্য ভেলানগর গ্রামের মরহুম মুসলেহ-উদ-দীন আহমদ (মানিক মিয়া) সচিব পদে উন্নীত হয়ে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং তিনি নর্থ সাউথ নামক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভেলানগর গ্রামের হাঁজীবাড়ির মরহুম আবদুল আলীমের বড় ছেলে মোঃ সেলিম রেজা, এম.এ.জি., উপ-সচিব পদে আছেন, তার ছোট ভাই মোঃ এ. এফ. এম. আমীর হোসেন(লিটন), এম.এ.(ইংরেজী), বি.সি.এস. পি.আই.টি.সি'র ডেপুটি ডাইরেকটর, মোঃ আনিসুর রহমান(মিঠু), এম.এ.(আন্তর্জািতক সম্পর্ক), ডাইরেকটর, মোঃ জিয়াউদ্দিন, এম. এ., (বি.সি.এস.), মৎস অফিসার, মোঃ আলাউদ্দিন, এম. এ. (বি.সি.এস.), সরকারী কলেজের প্রভাষক, মোঃ মাইনউদ্দিন, এম.এস.এস.(অর্থনীতি), (বি.সি.এস.), সরকারী কলেজের প্রভাষক। এ গ্রামের আরো অনেকে বি. সি. এস. ক্যাডারভূক্ত অফিসার আছেন তাদের নাম জানা নেই আমার,..ইত্যাদি।

ভেলানগর গ্রামের প্রথম বিচার বিভাগে সর্ব প্রথম নিযুক্তি লাভ করেন খোশাল দিওয়ানে ছোট ভাই মরহুম মুন্সেফ হোসায়েন-উদ-দীন মুনশি।

ভেলানগর গ্রামের প্রথম মরহুম মুনশি মুহম্মদ হায়দর আলী, নায়েব ছিলেন এবং তাঁর ছেলে মরহুম মুনশি মোঃ জিন্নত আলী(কান্দু মিয়া)ও নায়েব ছিলেন, নুর মিয়ার ভাই-মোঃ জহর মিয়াও নায়েম ছিলেন ইত্যাদি।

ভেলানগর গ্রামের আবদুল্লাহ ডিপটির দ্বিতীয় ছেলে ব্রিটিশ আমলে পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ পদে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিেস এ উপজেলার সর্ব প্রথম ব্যক্তি যিনি চাকুরি লাভ করেন। তিনি ছিলেন ভেলানগর গ্রামের খোশাল দিওয়ানের বংশধর ও মরহুম আবদুল্লাহ ডিপুটির দ্বিতীয় পুত্র অফিসার হিসেবে যোগদান করেন মরহুম মাসুদ(গেদু মিয়া), এম.এ. কলকাতায় আই.জি. হয়ে(অব.)। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতেই রয়ে গেছেন এবং পশ্চিম বাংলার আই. জি. পি. সহ বিভিন্ন উঁচু পদে চাকুরি করে এবং তাঁরা দুইভাই সেখানেই মারা গেছেন। ব্রিটিশ পুলিশ বিভাগে প্রথম যোগদান করেন নন-অফিসার হিসেবে মরহুম মুনশি রেজ্জাক দারোগা, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম আজগর আলী ফকির, মরহুম মুনশি মোঃ আফজালুর রহমান ওরফে জজ মিয়া, মরহুম মোঃ ফিরোজ দারোগা, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ আবুল হাশেম দারোগা, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম শ্যাম মিয়া শিকদার, মরহুম মোঃ নুর মিয়া, মরহুম মোঃ সুরুজ মিয়া, মরহুম মোঃ ফিরোজ মিয়া, মরহুম মোঃ রহিস মিয়া ওরফে সুন্দর আলী, মরহুম আলী আজম খান(কাঞ্চন খাঁন), ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মির্জা রাজা মিয়া, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ শামসুর রহমান, মরহুম মোঃ এরশাদুর রহমান খান-ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম আবদুস সাত্তার, মরহুম মোঃ আবদুল বাতেন, মরহুম আবুল হাশেম ভূঁইয়া, মোঃ আবদুল বাক্কী(অব.), এস.এস.সি., মোঃ কবির হোসেন(অব.), এস.এস.সি., মোঃ কামালউদ্দিন (মিন্টু)(অব.), এস.এস.সি., আবদুল করিম(জীবন)(অব.), মোঃ হাবিবুর রহমান(অব.), মোঃ অরুণ মিয়া(অব.), মোঃ আবুল ইউসুফ(অব.),,মোঃ সুরুজমিয়া, মোঃ ফরহাদ মিয়া, এস.এস.সি., মরহুম মোঃ শাহজাহান, ৮ম শ্রেণী, আবদুল হাই, এস.এস.সি., মোঃ নাছিরউদ্দিন আহমেদ, এম.এ.(ইংরেজী), অতিরিক্ত এস.পি., মোঃ শাহানুর (শাহীন), এস.এস.সি.,,মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ শাহজাহান, মোঃ দানু মিয়া, নিলা আক্তার, বি.এ., মোঃ রুবেল মিয়া, এস.এস.সি., মোঃ মোশাররফ হোসেন, বি.এ., মোঃ আনার মিয়া, এস.এস.সি., ইত্যাদি।

ভেলানগর গ্রামের ব্রিটিশ আমলে প্রতিরক্ষা বিভাগে এ থানার প্রবীনতম কর্মকর্তা ছিলেন ভেলানগর গ্রামের মরহুম আবদুল্লাহ ডেপুটির তৃতীয় ছেলে ব্রিগেডিয়ার রেজা(অবঃ) এবং বাংলাদেশ আমলে কর্মরত আছেন: মেজর রাজ(অব.), বি. এ., মেজর মোঃ ফয়জুর রহমান(শিপু), বি.এ., মরহুম আবদুল মান্নান, মোঃ সুজ্জু মিয়া(অব.), মোঃ আবদুল মোমেন ওরফে মামুন(অব.), এস.এস.সি., আবদুল হক, এস.এস.সি., মোঃ স্বপন মিয়া, আই.এ., মোঃ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, এস.এস.সি., মোঃ সাদেক শিকদার(অব.), আবুল কাশেম(অব.), মরহুম মোঃ খোকন শিকদার, মোঃ বাসেদ মিয়া, এস.এস.সি., মোঃ জয়নাল আবেদীন(অব.), আবুল কাশেম(অব.), মোঃ স্বপন মিয়া, ইত্যাদি।

বিমানবাহিনীতে ছিলেন এবং আছেন: ভেলানগর গ্রামের খোশাল দিওয়ানের ছোট ভাই মুন্সেফ হোসায়েন-উদ-দীন মুনশির নাতির নাতি ডা. নিজাম উদ-দীন (অব.), তাঁর বড় ভাই-(অব.) সার্জেন্ট আবদুল হক, আই.এ., মরহুম মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, ম্যাট্রিকুলেশন(বিমানবাহিনীতে), আলী আহমেদ(লুক্কু), ম্যাট্রিকুলেশন, সার্জেন্ট আবু জাহের, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম খন্দকার আবুল হাশেম ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ সুলতান মিয়া-ম্যাট্রিকুলেশন, আবুল হাশেম মোল্লা, এস.এস.সি. ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ খলিলুর রহমান(অব.), এম. এ., মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, আই. এ., ইত্যাদি।

নৌবাহিনীতে: মরহুম মোঃ আবদুল লতিফ-ম্যাট্রিকুলেশন, মোঃ আবদুল কাইয়ূম, আই. এ., মোঃ কামালউদ্দিন ওরফে মোমেন, এস.এস.সি., ইত্যাদি।

ভেলানগর গ্রামের ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস, বিডিআর ও বিজিবিতে ছিলেন বা আছেন: বি.ডি.আর.-এ অয়ারলেস অপারেটর খন্দকার দীন মোহাম্মদ, ম্যাট্রিকুলেশন(অব.), সৈনিক মোঃ আবু জাহের, ইত্যাদি।

ভেলানগর গ্রামের পররাষ্ট্র বিভাগে রাষ্ট্রদূত ছিলেন ভেলানগর গ্রামের মরহুম মুসলেহ-উদ-দীন আহমদ(মানিক মিয়া) অবসরপ্রাপ্ত সচিব, একই গ্রামের বড়বাড়ির যুগ্ম-সচিবের মর্যাদায় ছিলেন স্পেনে বাংলাদেশের অর্থৈনতিক মিনিষ্টার মালিক মোঃ শাহনুর(শ্যামল)। তিনি বর্তমানে কানাডাতে বসবাসরত।

শিক্ষা বিভাগে ভেলানগর গ্রামের মরহুম অধ্যাপক সানাউল্লাহ ছিলেন। তিনি আরবি ও ফারসি ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যাপনা করতেন। আরো একজন ছিলেন মরহুম আবদুল্লাহ ডেপুটির বড় ছেলে মরহুম ড. মাহমুদ ছিলেন ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় শিক্ষা বিভাগে চাকুরী করতেন এবং তিনি ডি.পি.আই. হয়ে অবসর গ্রহণ করেন। এবং ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেনি সেখানেই মারা গেছেন। সানাউল্লাহ প্রফেসরের ৪র্থ ছেলে ড. মোয়াজ্জেম উল-হক(মামুন সাহেব) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও এম. এ. এবং ডক্টরেট করেছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়েই সুদীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন এবং এখন ঢাকাতে অবসর জীবন-যাপন করছেন। ডক্টরেট উপাধিধারী না হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে যাঁদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাঁরা হলেন ভেলানগর গ্রামের অধ্যাপক ও প্রখ্যাত ভাষা বিশেযজ্ঞ মরহুম মুহি-উদ-দীন আহমেদ(জহর মিয়া) এবং বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ মরহুম অধ্যাপক আবদুল আজিজ খান (খাঁ'বাড়ি),এম.এ. ও মিসেস আবদুল আজীজ খান, অধ্যাপক সায়েস্তা আহমেদ, মরহুম অধ্যাপক মিসেস নাসিমা বানু, মরহুম অধ্যাপক ড. মোঃ সাইদুর রহমান(ফরিদউদ্দিন), এম.এস-সি(ভূগোল), চট্টগ্রাম বিশ্বব্যিালয়, অধ্যাপক মিসেস হেলেনা খান, এম. এ., অধ্যাপক ড. ফরহাদ ইফতেখারউদ্দিন, এম. এ. ইংরেজী, অধ্যাপক মিসেস খুকু খান, এম. এ., অধ্যাপক মিসেস মাহমুদা আলম, এম.এ., ইংরেজী, অধ্যাপক মোঃ সেলিম খান, এম. এ., অধ্যাপক আবদুস সালাম, এম.এস-সি(ভূগোল), সরকারী কলেজ, প্রভাষক মোঃ খলিলুর রহমান(ইব্রাহিম), এম.এ., আবু কালাম আজাদ, এম.এস-সি., উপজেলা উপ-বৃত্তি অফিসার, মোঃ মাহবুবুল আলম, এম. এ., উপজেলা শিক্ষা অফিসার, প্রভাষক ইকবাল হোসেন, এম. এ., প্রভাষক মোঃ কাওসার উদ্দিন (কাওসার), এম. কম., প্রভাষক হুমায়ারা ছিদ্দিকা(নিপা), বি.কম(সম্মান), এম.বি.এ., প্রভাষক দিলীপ কুমার সূত্রধর, এম.এস.এস.(রাষ্ট্রবিজ্ঞান), প্রভাষক মিসেস সালমা খাতুন, এম.এ.(ইতিহাস), প্রভাষক মিসেস লিপি বেগম, এম.এ., প্রভাষক মোঃ কামরুজ্জামান ওরফে টিটু, এম. এ. ও সৈয়দা ফারাহ মারজান ওরফে কুমকুম, এম. এ., মোঃ আলাউদ্দিন, এম. এস. এস. (বি.সি.এস.), সরকারী কলেজ, প্রভাষক মোঃ মাইনউদ্দিন, এম.এস.এস.(অর্থনীতি), (বি.সি.এস.), ইত্যাদি।

সরকারী ও বেসরকারি চাকরিরত এবং অবসরে আছেন বা মারা গেছেন: মরহুম মৌলভী আবদুস সোবহান, বি. এ. ফেল, মরহুম দেওয়ান সুন্দর আলী, বি. এ., মরহুম মোঃ রতন মিয়া, বি. এ., মরহুম দেওয়ান চাঁন মিয়া, বি. এ., মরহুম এ. এফ. এম. এ. মালিক ওরফে আবদুল মালেক, বি. এ. ফেল., মরহুম আবদুল মজিদ(চকিদার)অব., মরহুম মুনশি আবদুল মান্নান ওরফে আবদুল মনেক, মরহুম বেদন খান-ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম চরু মিয়া শিকদার, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ মালু মিয়া(অব.), মরহুম মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে দাদন মিয়া-ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম ম্‌োঃ রায়হান, এম.এ., মরহুম আবদুল মোমেন, এম.এ., মরহুম মুনশি মোঃ আজহারুল হক ওরফে নসু মিয়া, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ আবদু মিয়া ভূঁইয়া(অব.), ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ মোস-লেহ-উদ্দিন আহমেদ ওরফে মানিক মিয়া, এম.এস-সি., মরহুম আবদু রৌফ, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক আমীন, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম আসালত খান, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ শামসুল হক ওরফে সামসু, ম্যাট্রিকুলেশন, মোঃ দারোগ আলী সরকার, বি.এ., মরহুম আবদুল লতিফ ওরফে নসু মিয়া, ম্যাট্রিকুলেশন, মোঃ মঙ্গল মিয়া, চাকুরী(অব.), মরহুম মুনশি মোঃ আবদুল বাতেন ওরফে জারু মিয়া, এস.এস.সি., মরহুম মুনশি আবদুল আলীম ওরফে আলী মিয়া, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ আলীম মোল্লা, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম দেওয়ান মোঃ মুখলেসুর রহমান(পেসকার), ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ মঙ্গল মিয়া, মরহুম দেওয়ান আবুল আরফান, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম আলী আহমেদ ওরফে সুন্দর আলী, বি.এ., মরহুম মোঃ মধু মিয়া সরকার, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ করিম মোল্লা, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ মিজানুর রহমান, ম্যাট্রিকুলেশন, মোঃ মতিউর রহমান ওরফে ইদন ভূঁইয়া(অব.), মরহুম মির্জা আবুল হাশেম, ম্যাট্রিকুলেশন, আবদুল হাকিম, মোঃ জহিরুল ইসলাম ওরফে জহর মিয়া(অব.), ম্যাট্রিকুলেশন, আবদুল করিম ওরফে বাচ্ছু মিয়া(অব.), ম্যাট্রিকুলেশন, মোঃ জহিরুল হক, ম্যাট্রিকুলেশন, মোঃ ফিরোজ মিয়া, মোঃ এরশাদুর রহমান(অব.), ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, মরহুম মোঃ সহিদুল হক, ম্যাট্রিকুলেশন, মরহুম আবদুল বাকী শিকদার ওরফে নয়ন, মরহুম শাহ আলম শিকদার, মোঃ আবদুস সাত্তার(মানিক), এস.এস.সি., মোঃ নুরুল ইসলাম(শিশু), বি. কম., ইত্যাদি।