ভেলানগর গ্রামের ইতিহাস
১৭৪০-২০১৩
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা:
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
সহযোগিতায়:
আবির হোসেন জিয়ান।
জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনী, ঢাকা।
ভেলানগর গ্রামের ইতিহাস
১৭৪০-২০১৩
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫৪৮৪৪
সহযোগিতায়: আবির হোসেন জিয়ান।
১ম প্রকাশকাল: বৈশাখ ১৪২০ বাংলা সন,
১৭ এপ্রিল-২০১৩ ইংরেজী সাল।
পুনঃমুদ্রণ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ সাল।
প্রকাশক: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
স্বত্ত্ব: লেখক র্কতৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
কমপিউটার কম্পোজ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
প্রচ্ছদ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
মুদ্রণে: জিয়ান বড়বাড়ি কমপিউটার।
মূল্য: মাত্র=২,০০০.০০(দুই হাজার) টাকা।
সুলভ মূল্য: মাত্র=১,৫০০.০০(এক হাজার পাঁচশত) টাকা।
ঊৎসর্গ করছি
ভেলানগর গ্রামের ১৩,১২৬(তের হাজার একশত ছাব্বিশ) জন মানুষ জীবিত ও মৃতসহ সকলের স্মরণে-
মোজাহু,
১৭-০৪-২০১৩ তারিখ
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।
| ভেলানগর গ্রামের ইতিহাস: | ০৫-৩৫ |
| বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর কথা: | ৩৬-১১১ |
| বড়বাড়ির বংশে ১৭৮০ সালের অক্টোবর থেকে৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত,জন্ম | ১২০-২২৮ |
| হয়েছে ২,০৫০ জন, মৃত্যু হয়েছে-০৬-০২-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ৬৫০ জন |
| জীবিত আছে-১,৪০০ জন এর মধ্যে স্বামীর বাড়িগতে আছে-২৯৯ জন বাদ দিলে |
| লোকসংখ্যা-১,১০১ জন | এর মধ্যে ৭৯ জন স্ত্রী তালাক এবং চলে গেছে তা |
| বাদ দিলে বড়বাড়ির প্রকৃত লোকসংখ্যা হলো-১০২২ জন জীবিত |
| সরকারবাড়ির বংশ পরিচিতি: মোট ১,৫২৬+৯৭=১,৬২৩ জন জন্ম হয়েছে,মারা | ২২৯-২৮২ |
| গেছেন-৪০৭+৩৪=৪৪১ জন এবং বেঁচে আছেন-১,১৮২ জন(০৯-০২-২০১৩ |
| তারিখ পর্যন্ত) | ২৯৪ জন মেয়ে স্বামীরবাড়িতে থাকে | ১,১৮২-২৯৩=৮৮৯ জন |
| বৈইশবাড়ি বা বক্সবাড়ির বংশ পরিচিতি: ৮৬৫-৩৬=৮২৯ জন লোকসংখ্যা,মারা | ২৮৩-৩০৮ |
| গেছেন ১৮৯ জন, জীবিত আছে-৬৪০ জন(১৭-০১-২০১২ পর্যন্ত) | ৬৪০ জনের |
| মধ্যে-১৪৫ জন মেয়ে স্বামীরবাড়িতে থাকে | ৬৪০-১৪৫=৪৯৫ জন জীবিত |
| বজলু ডিলার, কারণ ব্যাপারী ও সানাউল্লাহ প্রফেসারের বংশ পরিচিতি: | ৩০৯-৩১৯ |
| মেজবাউদ্দিনদের বংশ পরিচিতি ও একুব আলীর বংশ পরিচিতি: | ৩২০-৩৩১ |
| নিয়াজ আলী মাস্টার, মতিন, সুলতাল ও খানেপাড়া ঘোষদের বংশ পরিচিতি: | ৩৩২-৩৪০ |
| ফরিদ, নাবালক, হুমায়ূন ও আফাজউদ্দিন খলিফাদের বংশ পরিচিতি: | ৩৪১-৩৪৭ |
| গাজী-কালু, ভোলার পুত্র ইদ্রিস, মুখলেছ খলিফা ও তাহের খলিফার বংশ: | ৩৪৮-৩৫৪ |
| ময়নাল, বিলেরপাড়ের রোকুনুদ্দিন মোল্লাবাড়ি, মালেক ব্যাপারী, শহর আলী,তুজু, | ৩৫৫-৩৮১ |
| আবদু রৌফ মামা, ইমানদিরবাড়ি, ডেংগুরবাড়ির বংশ পরিচিতি: |
| সূত্রধরবাড়ির বংশ পরিচিতিঃ দক্ষিণপাড়ার জীবীত ও মৃতসহ লোকসংখ্যা-৭,০২৬ জন এবং উত্তরপাড়া-৬,১০০ জন=১৩,১২৬ জন মোট লোকসংখ্যা | | ৩৮২-৩৯০ |
| উত্তরপাড়া শুরু: ফনিভূশন সূত্রধর, নজীব আলী খলিফাবাড়ি ও ভূঁঞাবাড়ির বংশ পরিচিতি: জীবীত ও মৃতসহ উত্তরপাড়ার লোকসংখ্যা-৬,১০০ | ৩৯১-৪১০ |
| দেওয়ানবাড়ি, শিকদারবাড়ি, খা'বাড়ির ও হাঁজীবাড়ির বংশ পরিচিতি: | ৪১১-৪৪০ |
| ইব্রাহিম মাস্টারের বংশ পরিচিতি: (১৭৪০-২০১৩)-৭০৪ জন জীবিত মানুষ: | ৪৪৪-৪৮৪ |
| মুনশিবাড়ি, কোরেরপাড়ের মসজিদ ওয়ালাবাড়ি, মাজু মুন্সীর বংশ পরিচিতিঃ | ৪৮৫-৫০৬ |
| রহমতউল্লাহ কাজীবাড়ি, সব মোল্লাবাড়িগুলোর বংশ পরিচিতি: | ৫০৭-৫৪৭ |
| বজলু মাস্টারের বাড়ি, বজু মাস্টারের বাড়ি, খন্দকারবাড়ির বংশ পরিচিতিঃ | ৫৪৮-৫৫৯ |
| শাহরাহাত আলীরবাড়ি, মির্জাবাড়ি. মানিকদেরবাড়ি, খালেক হাঁজীর বাড়ি ও আরো ছোট ছোট বংশ: | ৫৬০-৫৮২ |
| সুরুজ মিয়ার বাড়ি বা গোড়া সুর্যার বাড়ি, আমিনউদ্দিন হাঁজীবাড়ি (হাসেম | ৫৮৩-৫৯৬ |
| দারোগারবাড়ি), আরেক মুন্সীবাড়ি ও ছোট ছোট বংশগুলোর পরিচিতি: উত্তরপাড়ার লোকসংখ্যা-৬,১০০ এবং দক্ষিণপাড়ার লোকসংখ্যা-৭,০২৬ |
| ভেলানগর গ্রামের ঋআমার জানা কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হলো: | ৫৯৭-৬০৭ |
| এক নজরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো: | ৬০৮-৬৫১ |
| ১৯১৫ থেকে ২৬-১২-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত গত ১০০(একশত) বছরে | ৬৫২-৬৮১ |
| রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ে যা ঘটেছে তা উপস্থাপন করা হয়েছে: |
| আমার সাথে প্রাইমারী থেকে উচ্চ বিদ্যালয়ে কতজন ছাত্র-ছাত্র পড়েছে | ৬৮২-৬৮৩ |
ভেলানগর গ্রামের ইতিহাস:
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সমগ্র অঞ্চল ব্রম্মপুত্র নদী দ্বারা বেষ্টিত ছিল। এ নদী আস্তে আস্তে সরে গিয়ে চর পড়ে বাসউপযোগী হয়েছে। জনবসতি কিভাবে হলো: তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ গ্রামে ১১তম পুরুষ আগে থেকে বাস করা শুরু হয়। এখন প্রত্যেক পুরুষের জন্য জেনারেশন যদি পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছরও ধরা হয় বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩৫ বছর পর্যন্ত জেনারেশন গ্যাপ ধরা হয়। তবে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, গ্রামের বয়স প্রায় ২৭৫ বছর বা মানুষের বাস ১৭৪০ সালের পূর্বে হবে না। এ ব্যাপারে আমার সুচিন্তিত মতামত যে, সপ্তদশ শতাব্দীর একেবারে শেষ দিকে অথবা অষ্টাদশ শতাব্দীর একেবারে শুরুতে এই বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। বিলেরপাড়ের মানুষজনই এ গ্রামের প্রথম দিকের বসতি বলে মনে হয় কারণ পানির উৎস ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারেনা। যেমন-প্রাচীনকালে মানুষ গুহায় বাস করত, জঙ্গলের মানুষ, নদীরপাড়ের মানুষ, তারপর খালবিলের সাথে বসবাসরত মানুষজন। এরপর পুকুর, দিঘীরপাড়ের মানুষজন। তারপর কুয়া ও টিউবওয়েলকে গিরে মানুষজনের বসবাস এবং পরবর্তীেত আধুনিক সাপস্নাইয়ের সুপেয় পানিসহ মানুষের বসবাস। মানবজাতির একেবারে শুরুর দিকে প্রধান খাবার ছিল ঘাস বা ঘাসজাতীয় গাছপালা।
এই অনুমানের পিছনে একটি পরোক্ষ অথচ নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। সম্রাট আকবরের আমলে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে সৃষ্ট ৩৮৬ বর্গমাইল আয়তনের বলদাখাল (পরবর্তীকালের বরদাখাত) পরগনা ছিল সোনারগাঁও সরকারের অধীনে। সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে তাঁর প্রৌত্র আজিম-উল-শানের সুবাদারি কালের একটি ফরমান থেকে জানা যায় যে, ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ পরগনা ছিল ঈশা খা, মসনদ-ই-আলীর প্রপ্রৌত্র হয়বত খানের জমিদারির অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু নবাব মুর্শিদ কুলি খান র্কতৃক প্রবর্তিত রাজস্ব তালিকা (১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে) থেকে জানা যায় যে, সে সময়ে পরগনার জমিদার ছিলেন মীর্জা আগা সাদেক নামক একজন সম্ভান্ত বংশীয় তুর্কি মুসলিম। যদিও এ সম্বন্ধে সঠিকভাবে কিছু বলার নেই, তবুও বলা যেতে পারে যে, খুব সম্ভব ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দের কিছু পরেই জমিদারি ঈশাখানের বংশধরদের হস্তচ্যুত হয়েছিল এবং মির্জা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার পিতা আগা সাদেক এ সময়ের নতুন জমিদার হয়েছিলেন।
বর্তমান কালের নবীনগর, মুরাদনগর, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সমগ্র অঞ্চল ও দেবীদ্বার উপজেলার সামান্য কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল বলদাখাত বা বরদাখাত পরগনা। আগা সাদেকের বড় ছেলে মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার নামে খুব সম্ভব নামাঙ্কিত হয়েছিল বর্তমান ভেলানগর গ্রাম এবং আকানগর গ্রামের নামকরণ হয়েছিল মির্জা ভেলার পিতা আকা সাদেকের নামে 'আগানগর'। আকানগর ও ভেলানগরের মধ্যবর্তী স্থানে তিতাস নদীর তীরে স্থাপিত হয়েছিল মধ্যনগর গ্রাম (ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে নির্মিত একটি নীল কুঠির ধ্বংসাবশেষ এ গ্রামেও ছিল)। ভেলানগরের পশ্চিম দিক দিয়ে মেঘনার একটি প্রশস্ত ধারা প্রবাহিত ছিল। সেখানে নৌবাহিনীর বেশ কিছু সংখ্যক নৌকা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সে স্থানের নাম রাখা হয়েছিল দরিয়া ভেলানগর গ্রাম এরপর এ গ্রামের নাম হয়েছিল দরিভেলানগর। ভেলানগর গ্রাম যে আকা সাদেকের পুত্র ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্জা ভেলার নামে খোশাল দিওয়ান নামাঙ্কিত করেছিল। মির্জা ভেলার কোন পুত্র সন্তান না থাকার কারণে তাঁর সমগ্র জমিদারি তাঁর তিন কন্যার মধ্যে ভাগ করা হয়। তাঁর বড় কন্যা আজিজুননেছা বেগমের সঙ্গে বিবাহ হয় ইরানের বিশিষ্ট সৈয়দ বংশীয় ও ঢাকা নগরের বিখ্যাত রইস মীর আশরাফ আলী খানের সঙ্গে। তাঁর দ্বিতীয় কন্যা রওশন আরা বেগমের বিবাহ হয় পাটনার নবাব বংশের এক রইসের সঙ্গে এবং তৃতীয় কন্যার বিবাহ হয় সে কালের বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ জমিদার ও তত্ত্বসাধক মির্জা হোসেন আলীর সঙ্গে। বর্তমান কালে কেউ কেউ মির্জা ভেলার বংশধর বলে নিজেদের দাবী করেন এবং তাঁদের কুরসিনামা দিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রামাণ্য ইতিহাসে দেখা যায় যে, মির্জা ভেলার কোন পুত্র সন্তান ছিলনা বলেই তাঁর তিন কন্যার মধ্যে জমিদারি ভাগ করে দেয়। যার উল্লেখ কুমিল্লা গেজেটিয়ারে আছে।
আমাদের গ্রামের বিলের পাড়ে যখন বসতি গড়ে উঠতে লাগল তখন বাজার ছিল না। তারা কিভাবে একে অপরের সাথে আদান-প্রদান করতো। তাঁদের প্রতিদিনকার দ্রব্যের প্রয়োজন কিভাবে মিঠাতো। মানুষ সংগঠিত ছিল এবং একে অপরের সাথে কি কি দ্রব্য বিনিময় করতো। আগুন জ্বালাইতে পারালেও তখনকার মানুষ বাতি জ্বালাইতে পারত না কারণ কুপি ও কেরোসিন তৈল ছিল না। দিনের আলোতে সব কাজ শেষ করতো। দিনের আলোতে সব কাজ করতে হতো এবং রাত্রি বেলায় মানুষের ঘুমান ছাড়া অন্য কোন কাজ ছিল না বা করতে পারতো না। জেলে মাছ ধরে কৃষকের কাছে মাছ বিনিময় করে চাল নিতে হতো এবং কৃষক চালের বিনিময়ে জেলের কাছ থেকে মাছ নিতে হতো। কৃষক, জেলে, কুমার, কামার, সুতার, তাঁতী, নাপিতের মধ্যে বিনিময় হতো। এসবই গ্রামের প্রথমদিকের ইতিহাস। মানুষ যখন গ্রামে বাড়তে লাগল তখন খোশাল দিওয়ান 'দিওয়ানেরবাড়িতে পারিবারিক স্কুল' প্রতিষ্ঠা করল।
ভেলানগর গ্রামের জীবিত ও মৃত মোট জনসংখ্যা(১৭৪০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত)=১৩,১২৬ জন।
উত্তরপাড় মোট=৬,১০০, মারা গেছেন-১,৬৭৬=৪,৪২৪ জন জীবিত মানুষ, জীবিত মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে থাকে-৭৮৮ জন=৩,৬৩৬(তিন হাজার ছয়শত ছয়ত্রিশ) জন জীবিত মানুষ উত্তরপাড়াতে।
দক্ষিণপাড়াতে লোকসংখ্যা হলো=৭,০২৬(সাত হাজার ছাব্বিশ) জন, মারা গেছেন-১,৯২০ জন, জীবিত-৫,১০৬ জন, বিবাহিত মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে থাকে-১,১১৮ জন=৩,৯৮৮ জন দক্ষিণপাড়াতে বাস করে।
উত্তরপাড়াতে লোকসংখ্যা হলো-৬,১০০(ছয় হাজার একশত)জন। ভেলানগর দক্ষিণপাড়া-৭,০২৬(সাত হাজার ছাব্বিশ) জন + উত্তরপাড়া-৬,১০০=১৩,১২৬(তের হাজার একশত ছাব্বিশ) জন। আমাদের গ্রামে মোট মারা গেছেন-৩,৫৯৬ জন(৩১-৩-২০১৩ তারখি পর্যন্ত), গ্রামের জীবিত জনসংখ্যা-৯,৫৩০ জন, বিবাহিত মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে থাকেন-উত্তরপাড়ায়-৮৮৮ জন এবং দক্ষিণপাড়ায়-১,০১৮ জন=মোট-১,৯০৬ জন বিবাহিতা মেয়ে স্বামীরবাড়িতে আছেন। আমাদের গ্রামের লোকসংখ্যা-৭,৬২৪(সাত হাজার ছয়শত চব্বিশ) জন। শহর ও বিদেশে থাকে-৩,০৫০ জন মানুষ। গ্রামে থাকে-৪,৫৭৪ জন মানুষ। গ্রামের প্রকৃত লোকসংখ্যা-৪,৫৭৪ জন মানুষ গ্রামে বাস করে।
ভেলানগর গ্রামের জীবিত ও মৃতসহ ১৭৪০ সাল থেকে ১৭-০৪-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ১৩,১২৬(তের হাজার একশত ছাব্বিশ) জন মানুষ ছিল। ১৭-০৪-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত মারা গেছেন-৩,৫৯৬ জন, জীবিত মানুষ-৯,৫৩০ জন, স্বামীরবাড়িতে বিবাহিত মেয়েরা বাস করে-১,৯০৬ জন, প্রকৃত লোকসংখ্যা হলো-৭,৬২৪ জন, এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে-৩,০৫০ জন, আর ভেলানগর গ্রামে বাস করে-৪,৫৭৪ জন, শতকরা গ্রামে বাস করে-৬০ ভাগ মানুষ। আমার জানামতে ভেলানগর গ্রামের শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ শহর এবং বিদেশে বাস করে, বিদেশে শতকরা ০৯ ভাগ লোক বাস করে এবং একমাত্র শহরে শতকরা ৩২ ভাগ মানুষ বাস করে। ৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ভেলানগর গ্রামে ১,৫২০টি পরিবার বেঁচে আছে এরমধ্যে ২৫ ভাগ বা ৩৮০টি পরিবার শহর ও বিদেশে বাস করে। ভেলানগর গ্রামে বাস করে-১,১৪০টি বা ৭৫ ভাগ পরিবার। মৃত ও জীবিতসহ দক্ষিণপাড়াতে ১,৪৯৩ জন পুরুষ বিয়ে করেছে এবং উত্তরপাড়াতে বিয়ে করেছে-১,৩৮৪ জন পুরুষ। এ পর্যন্ত আমার জানামতে মৃত ও জীবিত পুরুষ বিয়ে করেছে-২,৮৭৭ জন। তাঁদের একাধিক বিয়েসহ স্ত্রীর সংখ্যা-৩,২০৪ জন। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে-৩,০৩৯ জন। দক্ষিণপাড়াতে বিয়ে হয়েছে-১,৬১৬ জন মেয়ের এবং উত্তরপাড়াতে বিয়ে হয়েছে-১,৪২৮ জন মেয়ের। কারো স্ত্রী মারা গেছেন বা তালাক দিয়েছেন বা কারো কারো স্ত্রী স্বামী ফেলে চলে গেছেন। এ কারণে পুরুষের চেয়ে ২৬২ জন স্ত্রী বেশি। এন্ট্রান্স পরীক্ষা ছিল ১৯০৯ সাল পর্যন্ত, ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ভারতবর্ষে ১৯১০ সাল থেকে আর পাকিস্তান আমলে-১৯৬২ সালে শেষ হয়েছিল, আর এস.এস.সি. পরীক্ষা শুরু হয়েছে-১৯৬৩ সাল থেকে। এন্ট্রান্স, জমাতুল্লা, ম্যাট্রিকুলেশন ও এস.এস.সি. যারা পাস করেছে তারাই হল সাটিফিকেটধারী লোক। আমাদের গ্রামের ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীসহ-১,৭৫৬ জন র্সাটিফিকেটধারী। এরমধ্যে দক্ষিণপাড়াতে-৮৮৮ জন এবং উত্তরপাড়াতে-৮৬৮ জন। (১) গ্রামে এন্ট্রান্স, জমাতুল্লা, ম্যাট্রিকুলেশন, এস.এস.সি. এবং সমমান পাস=৭৯৭ জন, (২) এইচ.এস-সি. ও সমমান পাস=৩৮৬ জন, (৩) বি. এ., বি. কম., বি.এস-সি. ও সমমান পাস=২৮৯ জন ও (৪) এম. এ., এম.কম., এম.এস-সি. ও সমমান পাস=২৬৭ জন। আর দক্ষিণপাড়াতে এন্ট্রান্স, জমাতুল্লা, ম্যাট্রিকুলেশন, এস.এস.সি. এবং সমমান পাস=৩৫০ জন, এইচ.এস-সি. ও সমমান পাস=২২৪ জন, বি. এ., বি. কম., বি.এস-সি. ও সমমান পাস=১৬৫ জন ও এম. এ., এম.কম., এম.এস-সি. ও সমমান পাস=১৩৯ জন এবং উত্তরপাড়াতে এন্ট্রান্স, জমাতুল্লা, ম্যাট্রিকুলেশন, এস.এস.সি. এবং সমমান পাস=৪৫৫ জন, এইচ.এস-সি. ও সমমান পাস=১৬৭ জন, বি. এ., বি. কম., বি.এস-সি. ও সমমান পাস=১২৪ জন ও এম. এ., এম.কম., এম.এস-সি. ও সমমান পাস=১২৮ জন। মৃত ও জীবিতসহ ভেলানগর গ্রামের পুরুষ-মহিলা ও ছেলে-মেয়েসহ র্সাটিফিকেট নেই বা গ্রামে এন্ট্রান্স, জমাতুল্লা, ম্যাট্রিকুলেশন, এস.এস.সি. এবং সমমান পাস করেনি এমন শিক্ষিত লোকের সংখ্যা হবে প্রায়-১,০০০(এক হাজার) জন।
ভেলানগর গ্রামের জীবীত ৭,৬২৪ জন নর-নারীর মধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে ৩,০৫০ জন। ৭,৬২৪ জনের মধ্যে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা হবে ৬০ ভাগ আর ৪০ ভাগ হবে ১৮ বছররের নীচে। ৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা হবে-৭,২৪২ জন মানে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ এবং ৩৮২ জন হবে অশ্রমজীবী মানুষ মানে শতকরা ৫ ভাগ। শহর, বিদেশ ও গ্রামসহ শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ বা ৭,২৪২ জন মানুষের সম্পদের পরিমাণ হবে প্রায় ৫ ভাগ এবং শতকরা ৫ ভাগ মানুষ বা ৩৮২ জন মানুষের সম্পদের পরিমাণ হবে প্রায় ৯৫ ভাগ। উন্নয়ন হচ্ছে পাঁচ ভাগ মানুষের। দিনের পর দিন আমাদের বাংলাদেশে মানুষে মানুষে বৈষম্য বাড়ছে। এই বৈষম্যের কারণে সমাজে মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়ছে। শোষণ ও বৈষম্যের কারণে এক দিকে সম্পদের পাহাড় এবং অন্যদিকে ৯৫ জন মানুষের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টী নেই। আমাদের গ্রামে জীবীত ও মৃতসহ প্রায় ১,০০০ কৃষক পরিবার ছিল, কৃষিশ্রমিক, শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, রিকসা শ্রমিক, অটোশ্রমিক, সিএনজি চালক, ড্রাইভার, ছোট কর্মচারী, পিয়ন, দাড়োয়ান, সিকিউরিটি গার্ড, জেলে, ছোট দোকানদার, দোকান কর্মচারী, ক্োন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, ছোট ব্যবসায়ী, চায়ের দোকানী, তাঁতী, গার্মেন্টস শ্রমিক, ছাত্রছাত্রীদের পড়ায় বা স্কুল শিক্ষক বা যারা বেকার ও বিদেশে যারা গেছেন বা যারা আছেন তাঁদেরসহ প্রায় ৯৫ ভাগ শ্রমজীবী মানুষ। পাকিস্তান আমলে ডলারের অংক করতাম ১ ডলার সমান পাকিস্তানের কত টাকা=৪.৭৫/-টাকা এবং তখন পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল ১২৯ ডলার। বাংলাদেশ হওয়ার ৪২ বছর পর ১ ডলার সমান বাংলাদেশের কত টাকা=৭৮/-টাকা এবং মার্কিন ডলারের সাথে বাংলাদেশের টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১৭ গুণ এবং পাকিস্তান আমলের চেয়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০ গুণ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ছিল-১২৯ ডলার। ১৯৭১ সালে কিছু কিছু জিনিষপত্রের দাম ছিল যেমন (১) এক মণ চালের দাম ৩০/-টাকা, (২) এক সের গরুর মাংসের দাম ২/-টাকা, (৩) এক সের খাসির মাংসের দাম ৩/-টাকা থেকে সাড়ে তিন টাকা, (৪) এক সের মুসুরির ডালের দাম এক টাকা আট আনা, (৫) একটা বড় মোড়কের দাম ৩/-টাকা, (৬) একটা বড় ইলিশের দাম ২/-টাকা, (৭) এক সের দুধের দাম বার আনা এবং ১৯৬০-এর দশকে মাথাপিছু ক্যালরীর পরিমাণ ছিল গড়ে ২৩০০শত এবং ২০১৩ সালে এসে গড়ে এক জনের মাথাপিছু ক্যালরীর পরিমাণ ১৪৫০(চৌদ্দশত পঁঞ্চাশ)। পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের ্ৈবষম্য ছিল। এ বৈষম্যের কারণে পাকিস্তান ভেঙ্গে গেল। এবং বাংলাদেশের জন্ম নিল। তখনও শ্রবজীবী মানুষের আয় কম ছিল। বাংলাদেশে সেই বৈষম্য আরো বেড়ে গেল। বাংলাদেশে ৫ ভাগ মানুষের আয় বেড়েছে অনেক গুণ এবং ৯৫ ভাগ মানুষের আয় বেড়েছে সামান্য। ৩০-০৬-২০১৩ তারিখের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ১,০৪৪ ডলার এবং ১ ডলারের সমান বাংলাদেশি ৮০/-টাকা। গড়ে একজনের বৎসরে আয় হওয়ার কথা ১,০৪৪ ডলার পূড়ণ ৮০ টাকা=৮৩,৫২০/-টাকা। প্রত্যেকটি মানুষ বৎসরে ৮৩,৫২০/-টাকা গড়ে পাওয়ার কথা, ত'হলে বাংলাদেশের একটি মানুষও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার অভাবে থাকার কথা নয় বা ভেলানগর গ্রামের একটি লোকও বিদেশে কাজ করার জন্য যেতে হতোনা। বাংলাদেশের ৯০(নব্বই) লক্ষ লোক বিদেশে কাজ করে এবং ভেলানগরের ৬৫০ জন লোক বিদেশে আছে। গড়ে ১,০৪৪(এক হাজার চৌচল্লিশ) ডলার আয় হলে ভেলানগরের একটি লোকও বিদেশে যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাইত না। ভেলানগর বড়বাড়ির একটি পরিবারকে আমি চিনি ভালোভাবে তার দুই ছেলে পাঁচ মেয়ের সংসার তার নাম রহম আলী। তার তিনটি মেয়ের বিয়ে হয়েছিল কিন্তুু একটি মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে গিয়েছে এবং তার একটি বাচ্চাসহ বাবার সংসারে আছে অসহায়ভাবে। বাবা ও মা, তাদের সংসারে দুই ছেলে, তিন মেয়ে ও এক নাতীসহ প্রায় ৮(আট) জনের সংসার। সরকার নির্ধািরত মাথাপিছু আয়-১,০৪৪ ডলার হিসাবে ৮ জনের সংসারে ৮,৩৫২ ডলার বৎসরে পাওয়ার কথা বা ৬,৬৮,১৬০/-(ছয় লক্ষ আসট্টি হাজার একশত ষাট) টাকা বৎসরে পাওয়ার কথা, তারা কী পায় উপরোক্ত ডলার বা টাকা। তাদের নিয়মিত কাজ নেই এবং বেকার থাকতে হয় প্রায় ছয় মাস। তাদের আয় সামান্য। তাদের সবাইর গড়ে আয় বৎসরে ৭৫০ ডলারের বেশি হবে না। ৭৫০ ডলার পূরণ ৮০/-টাকা=৬০,০০০(ষাট হাজার) টাকা। তাদের প্রত্যেকের দৈনিক আয়=২১/-টাকার বেশি হবে না। দৈনিক আয়=২১/-টাকা পূরণ ৮ জন মানুষ=দৈনিক ৮ জন মানুষের আয়=১৬৪/-টাকার বেশি হবে না। ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, কিছু কিছু জিনিষপত্রের দামঃ-যেমন (১) ৪০(চল্লিশ) কেজি চালের মূল্য=১,৫৫০/-টাকা, (২) এক কেজি গরুর মাংসের মূল্য=২৭০/-টাকা, (৩) এক কেজি খাসির মাংসের মূল্য=৫০০/-টাকা, (৪) এক কেজি মুসুরির ডালের মূল্য=১১০/-টাকা, (৫) একটা বড় মোড়কের মূল্য=৪৫০/-টাকা, (৬) একটা মাঝারি ইলিশের মূল্য=৫০০/-টাকা, (৭) এক কেজি দুধের মূল্য=৬০/-টাকা, (৮) এক হালি ডিমের দাম=৩০/-টাকা এবং আজকের মাথাপিছু আয় শ্রমজীবী মানুষের জন্য শুভঙ্করের ফাঁকি। আমি গ্রামে ছোট সময়ে জিনিষপত্রের দাম যা দেখেছি তা কিন্তুু বলিনি। আমি ১৯৭১ সালে ঢাকাতে কিছু কিছু জিনিষপত্রের মূল্য কি ছিল তার কথা উল্লেখ করেছি এবং ২০১৩ সালে ভেলানগর গ্রামে কিছু কিছু জিনিষপত্রের দাম কি আছে তার কথা উল্লেখ করেছি। ০১-০৭-২০১৩ তারিখ বাংলাদেশে মাথাপিছু আয়=১,০৪৪ ডলার এবং বাংলাদেশী টাকায় একজনের আয় বৎসরে গড়ে=৮৩,৫২০/-টাকা। যার পরিবারে ৫(পাঁচ) জন লোকের বাস, তার পরিবার বৎসরে গড়ে পাওয়ার কথা=৪,১৭,৬০০/-(চার লক্ষ সতের হাজার ছয়শত) টাকা। কিন্তুু তা সবাই পায়নি। তা'হলে গড় মাথাপিছু আয় বলা হয় কেন? দেশের জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্য এই কৌশল ব্যবহার করে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে গড়ে মাথাপিছু আয়=১,০৪৪ ডলার হলেও আমাদের ভেলানগর গ্রামে ৪০০শত ডলারের বেশি গড়ে মাথাপিছু আয় হবে না এবং ভেলানগর গ্রামের মানুষ গড়ে যদি ৪০০শত ডলার পাইত, তা'হলে ভেলানগরের একটি লোকও অপুস্টিজনিত রোগে ভুগিত না বা একটি লোকও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার অভাবে থাকিত না।