| রূপসদী-ভেলানগর গ্রামের কাছ থেকে বাস সার্ভিস | ঢাকার সায়দাবাদ পর্যন্ত ০৫-১০-২০০৮ তারিখ থেকে-আবার বাস সার্ভিস বন্ধ হয় | আবার চালু |
| চালু হয়েছিল | হয়েছিল-আবার বন্ধ |
| আমাদের গ্রামে এমন কোন শিল্প এখনও গড়ে উঠেনি যে বেকারত্ত্ব দূর হবে | আমাদের গ্রামের বেকারত্ত্ব ও দারিদ্র দূর করতে হলে বিরাট আকারে |
| পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে, এ পুঁজি আমাদের গ্রামের লোকদের কাছে নেই | এ সমস্যার সমাধান করতে হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বেকারত্ত্ব ও |
| দারিদ্র দূর করতে হবে-নতুবা ভেলানগর গ্রামের বেকার সমস্যার সমাধান হবে না | বাঞ্ছারামপুর উপজেলার লোকদের নিকট এ পুঁজি নেই, বেকারত্ত্ব |
| ও দারিদ্র দূর করার মত | তা'হলে কথার অর্থটা কি দাঁড়ালো-বাংলাদেশের বেকারত্ত্ব ও দারিদ্র দূর করতে হবে আগে; নতুবা ভেলানগর বা |
| বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বেকারত্ত্ব ও দারিদ্র দূর হবে না | বাংলাদেশের বেকারত্ত্ব ও দারিদ্র দূর করতে হলে বিরাট আকারে পুঁজি বিনিয়োগ করতে |
| হবে, এ পুঁজি পৃথিবীর কোন দেশ আজকে আমাদের দেবে না | যেমন পাকিস্তানের ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিনে আমাদের বেকারত্ত্ব ও দারিদ্র দূর |
| হয়নি | তেমনি বাংলাদেশের ৪৫ বছর বয়সেও আমাদের বেকারত্ত্ব ও দারিদ্র একটুও দূর হয়নি বরং আরো সমস্যা বেড়েছে | বিদেশী ঋণে গত |
| ৪৫(পঁয়তাল্লিশ) বছরে আমাদের পর্বত প্রমাণ সমস্যা বেড়েছে | এ সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হলো নিজের পায়ে দাড়িয়ে নিজের সমস্যা সমাধান |
| করা-যেমন আমদের পুঁজি আকাশ থেকে আসবে না বা বিদেশীরা কেউ দিবে না | আমাদের যে পুঁজি আছে-সেটা কাজে লাগানো | যেমন প্রথম শর্ত |
| হলো-সম্পদের অপচয় বন্ধ করতে হবে-অপচয় বলতে বোঝায় প্রাইভেট কার, প্রাসাদের মত বাসা-বাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশী সিগারেট, মদ, বিয়ে-জন্ম |
| দিনে কোটি কোটি টাকা খরচ না করা, এয়ার-কুলার, এয়ার-কন্ডিশনার, বিলাসী জীবন-যাপন না করা (যতদিন না আমাদের দেশের প্রতিটি |
| মানুষের মাথাপিছু আয় ১০,০০০ হাজার ডলার না হয়-ততদিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে) | এ ভাবে আমাদের পুঁজির বিকাশ করতে |
| হবে-নতুবা আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার | বাংলাদেশের ১৭(সতের) কোটি মানুষ থেকে বেড়ে আগামী ২০৫০ সালে বাংলাদশের লোকসংখ্যা |
| হবে-২২(বাইশ) কোটি এবং ২১০০ সালে বাংলাদেশের লোকসংখ্যা বেড়ে হবে-২৪(চব্বিশ) কোটি | ২০৪৫ সালে পৃথিবীর লোকসংখ্যা বেড়ে হবে-৯০০ |
| কোটি আর ২০৮৩ সালে পৃথিবীর লোকসংখ্যা হবে ১,০০০ কোটি |
| মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)-এর ফোনঃ ০১৭১৬৬৫৪৮৪৪(মোবাইল) | আমাদের গ্রামের কোন তথ্য কারো যদি জানা থাকে আমার এ মোবাইল |
| নম্বারে জানানোর জন্য অনুরোধ রইল |
| আমার স্মৃতিতে ১২২ জন সহপাঠীর মধ্যে মারা গেছে ৪২ জন আর জীবিত আছে ৮০ জন(১৬-০৬-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত) | আমার সাথে যারা প্রাইমারীতে পড়া-লেখা |
।করেছে তাঁদের নাম আগে, তারপর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে যারা পড়েছে তাঁদের নাম, তারপর আসবে যারা ৭ম শ্রেণী থেকে পড়েছে তাঁদের নাম,।
।তারপর যারা ৯ম শ্রেণী থেকে পড়েছে তাঁদের নাম, তারপর আরো কিছুসংখ্যক ম্যাট্রিকুলেশন ও এস. এস. সি. ফেল করার পর আমার সাথে ৯ম ও ১০ম।
।শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে এস. এস. সি. পরীক্ষা দিয়েছে তাঁদের নামগুলো নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:।
১। মো: জাকির হুসেন(আলমগীর)-ভেলানগর, (২) মরহুম আলী আহম্মদ(ফোরন)-রূপসদী(উত্তরপাড়া), (৩) শ্রী রাখাল চন্দ্র দেবনাথ(বীরেন্দ্র)-রূপসদী(খানেপাড়া)-চলে গেছেন কলকাতা, (৪) শ্রী সুভাস চন্দ্র ঘোষ-রূপসদী খানেপাড়া, (৫) পরলোকগত শ্রী লাবন্য কুমার ভৌমিক-রূপসদী খানেপাড়া, (৬) শ্রী হরিমোহন দাস(পিষন)-বালুয়াকান্দি, (৭) শ্রী দিলীপ কুমার সাহা-রূপসদী খানেপাড়া-কলকাতা চলে গেছেন, (৮) পরলোকগত শ্রী ননী গোপাল সাহা-রূপসদী খানেপাড়া, (৯) প্রদীপ কুমার দেবনাথ(অব.)-রূপসদী খানেপাড়া, (১০) প্রতিভা রানী দাস-রূপসদী খানেপাড়া-কলকাতা চলে গেছেন, (১১) মরহুমা হেনা আক্তার-রূপসদী উত্তরপাড়া, (১২) জানানারা বেগম(জানু)-রূপসদী উত্তরপাড়া, (১৩) জোহরা বেগম-দরিকান্দি, (১৪) মরহুম মোঃ ইদ্রিস মিয়া-রূপসদী কান্দাপাড়া, (১৫) মরহুম মোঃ ইউনুস মিয়া-রূপসদী কান্দাপাড়া, (১৬) মোঃ আবদুল বাকি-কুড়াখাল, (১৭) বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল মতিন(অরুন)-রূপসদী উত্তরপাড়া, (১৮) মরহুম মোহাম্মদ হোসেন-রূপসদী উত্তরপাড়া, (১৯) অনারারী ক্যাপ্টেন(অব.) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইদ্রিস মিয়া-রূপসদী উত্তরপাড়া, (২০) মরহুম মোঃ খলিলউল্লাহ(নওরোজ)-শাহপুর, (২১) সার্জেন্ট মোঃ জাকারিয়া(মানিক)-খাল্লা, (২২) শ্রী নেপাল চন্দ্র দেব নাথ-ধনপতিখোলা, (২৩) বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. জি. মহিউদ্দিন আহমেদ-ভিটিবিশারা, (২৪) মরহুম মোঃ নিজামউদ্দিন-দরি-ভেলানগর, (২৫) মোঃ জুনায়েদ-ভিটিবিশারা, (২৬) মরহুম মোঃ মতিউর রহমান(নসু)-মধ্যনগর, (২৭) মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম(নুরু)-মধ্যনগর, ৪২তম মৃত্যু-১৬-০৬-২০১৫ তারিখ (২৮) মোঃ শফিকুল ইসলাম(রওশন)-মধ্যনগর, (২৯) মরহুম আবদুছ ছাত্তার-মধ্যনগর, (৩০) মোঃ আজিজুল ইসলাম-মধ্যনগর, (৩১) মোঃ হুমায়ূন কবির(ওমর)-মধ্যনগর, (৩২) মোঃ ফজলুল হক মোল্লা-ভেলানগর, (৩৩) মোঃ নূরুল ইসলাম(শিশু)-ভেলানগর, (৩৪) মোঃ ফজলুল হক(ফজলু)-ভেলানগর, (৩৫) মরহুম মির্জা মোঃ শাজাহান-ভেলানগর, (৩৬) মোঃ আজিজুল হক খান(শিশু)-ভেলানগর, (৩৭) মোঃ জাহাঙ্গীর-রূপসদী, (৩৮) পরলোকগত শ্রী অরুন চন্দ্র ভৌমিক-রূপসদী, (৩৯) শ্রী রায়ধন দেব-রূপসদী, (৪০) মরহুম আবদুল খালেক-রূপসদী, (৪১) আবদুল মোতালেব-রূপসদী-দক্ষিণপাড়া, (৪২) মরহুম মোঃ শফিকুল ইসলাম(সহিদ)-রুপসদী, (৪৩) মোঃ নূরুল ইসলাম(নূরু)-রূপসদী, (৪৪) আবদুর রাজ্জাক(পল্লব)-রূপসদী, (৪৫) শ্রী জহর লাল ভৌমিক-রূপসদী-পশ্চিমবাংলার নদিয়া চলে গেছেন, (৪৬) মোঃ সিরাজুল ইসলাম(শিরন)-রূপসদী, (৪৭) মোঃ আবদুল হাকিম(মাক্কু)-রূপসদী, (৪৮) মরহুম মোঃ আবদুল বাকি-রূপসদী, (৪৯) বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন(অব.) এ. বি. তাজুল ইসলাম(তরু)-পাড়াতলী, (৫০) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল করিম চৌধুরী-পাড়াতলী, (৫১) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাজাহান হোসেন চৌধুরী-পাড়াতলী, (৫২) মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান-পাড়াতলী, (৫৩) মরহুম মোঃ ফটিক মিয়া-পাড়াতলী, (৫৪) মোঃ হাবিবুর রহমা(দুলু)-পাড়াতলী, (৫৫) মরহুম বেনজীর আহমেদ-পাড়াতলী, (৫৬) মোঃ রফিকুল ইসলাম(রফিক)-পাড়াতলী, (৫৭) মোঃ ফজলুল করিম(শিশু)-পাড়াতলী, (৫৮) মোঃ বোরহানউদ্দিন আহমেদ-ডোমরাকান্দি, (৫৯) মোঃ মজিবুর রহমান(মানিক)-ফতেপুর, (৬০) মোঃ নূরুল ইসলাম(নূরু)-ফতেপুর, (৬১) আবদুল মতিন-বাহাদুরপুর, (৬২) মরহুম মোঃ জহিরুল হক(মোহন)-বাহাদুরপুর(২২-০১-২০১৫) (৬৩) বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ রফিকুল হায়দার(খোরশেদ)-মিরপুর, (৬৪) সালাউদ্দিন আহমেদ-মিরপুর, (৬৫) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলে আলী খান(দারু)-মিরপুর, (৬৬) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মুসলেউদ্দিন সরকার(মোসলেম)-মিরপুর, (৬৭) মরহুম মোঃ আবুল কালাম-মিরপুর, (৬৮) শ্রী চন্দ্র মোহন দাস-মিরপুর, (৬৯) মোঃ আবদুল বাতেন(মেহের)-কাঞ্চনপুর, (৭০) মোঃ হুমায়ূন কবির(বাচ্চু)-কাঞ্চনপুর, (৭১) মোঃ জহিরুল হক(জাহাঙ্গীর)-দরিকান্দি, (৭২) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সায়েদুল ইসলাম-দরিকান্দি, (৭৩) মোঃ কাজল-দরিকান্দি, (৭৪) বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ হোসেন-দরিকান্দি, (৭৫) মরহুম মোঃ ওয়াজেদ আলী-দরিকান্দি, (৭৬) মরহুম মোঃ কবির হোসেন-দরিকান্দি, (৭৭) মোঃ গোলাম মোস্তফা চৌধুরী-দরিকান্দি,(৭৮) মোঃ মোজ্জামেল হক(সহিদ)-দরিকান্দি,(৭৯) মরহুম মোঃ খবিরউদ্দিন(শাহজাহান)-তেঁজখালী, (৮০) মোঃ এনায়েত করিম(আলমগীর)-খাল্লা, (৮১) মরহুম মোঃ নজরুল ইসলাম(নান্নু)-খাল্লা, (৮২) মরহুম মোঃ মোসলেম আবদুল্লাহ-দরিকান্দি খেকে খাল্লা, (৮৩) মরহুম মোঃ হুমায়ূন কবির-ভিটিবিশারা, (৮৪) পরলোকগত শ্রী শান্তি ভূষণ দেব-ভিটিবিশারা, (৮৫) শ্রী কান্দি ভূষণ দেব-ভিটিবিশারা, (৮৬) মোঃ নূরূল ইসলাম(শিশু)-ভিটিবিশারা, (৮৭) মোঃ সানাউল্লাহ-ভিটিবিশারা, (৮৮) মোঃ সহিদউল্লাহ-ভিটিবিশারা, (৮৯) মরহুম মোঃ বজলুর রহমান(বজলু)-ফরদাবাদ, (৯০) মরহুম আবদুল আউয়াল-ফরদাবাদ, (৯১) মোঃ মাসুম-ফরদাবাদ, (৯২) মোঃ একরাম হোসেন-ফরদাবাদ, (৯৩) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাফুজুর রহমান(মাহফুজ)-গকুলনগর, (৯৪) মরহুম মোঃ সিদ্দিকুর রহমান-গকুলনগর, (৯৫) মরহুম মোঃ জাকিরুল আলম-নান্দাইল, ময়মনসিং, (৯৬) মরহুম আবুল কাশেম-কালাইনগর, (৯৭) মোহাম্মদ সহিদ-কালাইনগর, (৯৮) মোঃ রেজাই রাব্বানী(হিটলার)-আশ্রাফবাদ, (৯৯) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হুমায়ূন কবির-আশ্রাফবাদ, (১০০) শ্রী কার্তিক ভূষন দে-পাঁচকিত্তা, মুরাদনগর, (১০১) শ্রী গোপাল চন্দ্র সূত্রধর-মাঝিয়ারা, (১০২) মরহুম মোঃ খলিলুর রহমান(খোয়াজ আলী)-হোগলাকান্দা, (১০৩) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু জাহের(চাঁন মিঞা)-শাহপুর, (১০৪) মোঃ ফরিদউদ্দিন আহমেদ-কালাইপাইরা বা মোহাম্মদপুর, (১০৫) মোঃ আনোয়ার হোসেন-রূপসদী মধ্যপাড়া, (১০৬) মরহুম মোঃ অহিদুজ্জামান-বাহাদূরপুর, (১০৭) মোঃ রেজাউল করিম(তাহের)-ফরদাবাদ, (১০৮) মোঃ গোলাম সারোয়ার(বাকি)-ভিটিবিশারা, (১০৯) মোঃ তরু মিয়া-দরিকান্দি, (১১০) মরহুম মোঃ শওকত আলী-দরিকান্দি, (১১১) মোঃ তোতা মিঞা-দরিকান্দি, (১১২) আলহাজ আবদুল মালেক-পাড়াতলী, (১১৩) আবদুল অদুদ-রূপসদী, (১১৪) আবদুল অদুদ-গকুলনগর, (১১৫) মোঃ নজরুল ইসলাম-রূপসদী কান্দাপাড়া, (১১৬) মোঃ ইসমাইল(মধু)-পাড়াতলী, (১১৭) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সহিদুল হক-মিরপুর, (১১৮) মরহুম মোঃ সুলতান আহমেদ(ফটিক)-মিরপুর, (১১৯) মোঃ মতিউর রহমান-মিরপুর, (১২০) ক্যাপ্টেন(অব.) মরহুম মো: শাজাহান-নারায়নপুর, হোমনা, (১২১) মরহুম মোঃ শাহ আলম শিকদার-ভেলানগর, সে ফতেপুর স্কুলের ছাত্র ছিল-এস.এস.সি পরীক্ষার পূর্বে আমার সাথে কোচিং করে এবং ফতেপুর স্কুল থেকে এ.এস.সি. পরীক্ষা দেয়। ও (১২২) মোঃ শামসুজ্জামান(ঝান্টু)-ভিটিবিশারা, সে নবীনগর স্কুলের ছাত্র ছিল-এস.এস.সি. পরীক্ষার পূর্বে আমার সাথে কোচিং করে এবং নবীনগর স্কুল থেকে এস.এস.সি পরীক্ষা দেয়।
মো: জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর, ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অব.), ঢাকা বিশ্ববিদালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।
আমার চাওয়া পাওয়া-
আমি যা ভাবি তা' করতে পারি না, যা করি তা' ভাবি না। প্রতিদিন বিবেকের সাথে লড়াই করতে করতে হেরে যাই। প্রতিদিন এভাবে বিবেকের সাথে হারতে থাকলে আমার কি কোন সত্ত্বা থাকে? আমার কাছে একটা জিনিষ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, একটা সমাজব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে মানুষের চিন্তা-চেতনা বা চরিত্র গড়ে উঠে। আর যারা চাকুরী করে তাঁদের অধিকাংশেরই বিবেক বলতে কিছুই থাকে না। তার উপরওয়ালা যা বলে তা করতে হয় প্রতি মুহূর্তে-এর বাইরে কিছু করতে চাইলে তার চাকুরী থাকে না বা প্রমোশন হবে না। তার ওপরের বস যদি তাকে ভাল বলে তাহলে সে ভাল নতুবা ভাল না। এ সমাজে কাজের বিচার হয় না, বিচার হয় তার বসের কতটুকো মন রক্ষা করতে পারলো। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ কেউ কাকে বিশ্বাস করে না। পুঁজিবাদী সমাজে বিশ্বাস বলতে কিছু নেই। কাজ দিয়ে বিচার করতে হয়। একবার একটা লোক যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করে ফেলে, তাকে আর বিশ্বাস করা যায় না। অনেকে বাধ্য হয় বিশ্বাস ভঙ্গ করতে। তা'প্রমাণ করতে পারলে তাকে ক্ষমা করা যায়, একবার কি দু'বার, তিনবারের মাথায় নয়। আমি যা করতে চাই তা'করতে পারলে আমার স্বাধীনতা আছে বা আমি স্বাধীন মানুষ। কিন্তু আমার কাজ এমন হবে না যা অপরের জন্য ক্ষতিকর হয়। আমি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আর আসবো না।
চাকুরী করা চাকর খাটার সমান। কেউ বড় চাকর, কেউ ছোট চাকর। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ যা বলে তা করে না, আর যা করে তা'বলে না। আমিও আমার জীবনের সাথে আপস করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার দ্বারা এ পৃথিবীতে কিছু হবে বলে মনে হয় না। আর কিছু করতে হলে প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যার শত্রু নেই তার কোন মিত্রও নেই। যার শত্রু আছে তার মিত্রও আছে। সমাজে সৎ এবং অসতের লড়াই চলে। আর জোর যার মুল্লুক তার। সরকার নির্ধািরত বেতন কাঠামোর সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সৎভাবে চাকুরী করলে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। আমাদের দেশে সৎভাবে সম্পদের মালিক হওয়া কঠিন কাজ। সমাজের কিছু মানুষের লক্ষ্য একই, কিভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। কিভাবে ভবিষ্যৎ সুন্দর করা যায়। সমাজে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য জোর প্রতিযোগিতা চলছে। সম্পদের মালিক হতে হলে ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হলে সহজে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ গরীব ও শোষিত। তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমাদের দেশের কিছু লোকের নিকট সম্পদ জমা হচ্ছে। আর সমগ্র দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি নেই। যে সম্পদ মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়না-সে সম্পদ দেশে অপচয় বাড়ায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন-মানের অবনতি ঘটায়। এদেশে কিছু মানুষের ভোগবিলাসের সীমাপরিসীমা নেই। আর অন্যদিকে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ চরম দুঃখ দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের ভবিষ্যত বলতে কিছু নেই। এক মানুষ আরেক মানুষের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে বৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। শ্রমজীবী মানুষ নিজেকে চালাক মনে করে। আসলে আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষই বোকা। কিন্তু দেশের বেশীরভাগ মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা রাখা যাবে না। আমার বিশ্বাস এক সময় দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ জেগে উঠবে।
আমার ছোট সময়ের স্মৃতিগুলি মনে হয় বারবার। মরতে চাইনা তবু মরতে হবে। চিরন্তন বলে কোন কিছু নেই, সবকিছুই রূপান্তর। সমাজের নিয়ম হলো উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন। নিরপেক্ষ বলতে কোন বস্তু নেই এ পৃথিবীতে এবং ৫০(পঞ্চাশ), ৫০(পঞ্চাশ) বলতে কোন বস্তু নেই, ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং তা প্রমাণ করেছে। আমি কিছু একটা করতে চাই। কিন্তু কী করব তা স্পষ্ট করে বলতে পারি না। রাজনীতি করা মহান কাজ। যদি সাম্যের রাজনীতি হয়। সকল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করা মহান কাজ। মানুষের মাঝে সাম্য আনা শ্রেষ্ঠ কাজ। আমার মাঝে এ দেশের আসল চিত্রগুলি বারবার ভেসে উঠে। গ্রাম এবং শহরের গরীব মানুষের মুখের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারি তাদের চাহিদা কি। তাদের চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এর বেশী কিছু নয়। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে তাদিয়ে বাংলাদেশের ১৭(সতের) কোটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এ সব মৌলিক চাহিদার গ্যারান্টি দেয়া যায়। তখনই আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হবে। নতুবা মুক্তিযুদ্ধের অর্থ বা এ স্বাধীনতার অর্থ ফাঁকাবুলি ছাড়া আর কিছু নয়। প্রত্যেকটা মানুষের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। কোন বিষয়ই বিচ্ছিন্ন নয়। আমাদের গ্রামের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতে হবে নতুবা কিছুই সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তবু বাংলাদেশের একটি আলাদা বর্ডার বা সীমানা আছে। এ সীমানা বাংলাদেশকে পৃথিবী থেকে আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা। আর যতদিন পৃথিবীতে শোষণ টিকে থাকবে, ততদিন রাষ্ট্রের অবসান হবে না। আমরা মায়ের পেট থেকে কেউ সম্পদ নিয়ে আসিনি। শ্রমজীবী মানুষের উৎপাদিত সম্পদ শোষণ আর অসম বিনিময়ের মাধ্যমে বুর্জোয়ারা তার মালিক হয়েছে। যে যায়গায় মানুষ আছে-সে যায়গায় খাদ্য আছে। যে যায়গায় খাদ্য আছে-সে যায়গায় মানুষ আছে। বেশীরভাগ মানুষ বলে খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, আসলেই কি কথাটা তাই? যদি খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যেত-তা'হলে সবগুলো মানুষই মারা যেত। আসলে কথাটা হবে ক্রয়-ক্ষমতার অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে। ক্রয়-ক্ষমতা নাই কেন? কিছু মানুষ দ্বারা ব্যাপক মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় বলে। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করে দুর্ভিক্ষ। সম্পদের সুষম বন্টন করা হলে-কেউ না খেয়ে মারা যেতো না। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যা কিছু হয়-সবকিছুর জন্য দায়ী ধনীরা। ধনীদের অপচয় বন্ধ করতে পারলে এ দেশে কেউ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষার অভাবে মৃত্যুবরণ করতো না বা কাজের আশায় কাউকে আজ বিদেশে যেতে হতো না বা কেউ এদেশে বেকার থাকত না। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ভোগবিলাসের জন্য গরীবদের শাসন-শোষণ করছে। এ অন্যায় বৈষম্য যারা সৃষ্টি করেছে তারা অপরাধী। স্বার্থপর শাসক ও বিলাসী ধনীদের সৃষ্টি এ বৈষম্য মেনে নেওয়াও এক ধরনের অপরাধ। এ অন্যায় বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। বেশীরভাগ মানুষ বলে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলে দেশ শান্তির পথে চলবে কিন্তু আমি বলি যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পূর্বশর্ত হল মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি। মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি না আসলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আসবে না।