আমার বড় চাঁচার পরিবারটি ৭ম পুরুষ শিক্ষিত যেমন-(নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)-এর দাদার দাদা)-(১) মুনশি মুহাম্মদ জহিরউদ্দিন ব্যাপারী, আরবী ও ফার্সী ভাষায় লেখাপড়া করেছেন খোশাল দেওয়ানের পারিবারিক স্কুলে (২) মুনশি মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর জন্ম-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে, ইউসুফ আলী আরবী-ফারসী ও বাংলা ভাষায় লেখাপড়া জানতেন। ইউসুফ আলীর ছেলে-(৩) মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলীর জন্ম-১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর, মৃত্যু-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন। (হায়দর আলী আমার দাদা), হায়দর আলী ঢাকার নবাববাড়িতে থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলী বাঞ্ছারামপুর থানারবাসীর মধ্যে প্রথম নায়েব। তাঁর ছেলে-(৪) মুনশি মোহাম্মদ জিন্নত আলী (কান্দু মিঞার) জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর, মৃত্যু-২৮-১২-১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে (কান্দু মিঞা)-উনি নবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ফেল করেন। কান্দু মিঞাও নায়েব ছিলেন। তাঁর ছেলে-(৫) মোঃ আজহারুল হক(নসু মিঞার)-জন্ম-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে, মৃত্যু-১৩-০৭-১৯৭১ তারিখ। প্রথম জীবনে চাকুরী করতেন এবং পরবর্তী জীবনে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউিনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর ছেলে-(৬) মোঃ জিয়াউদ্দিন আহমদ (বায়েস)-এর জন্ম-২৫-১২-১৯৫১ তারিখ, মৃত্যু-১০-০৭-২০১২ তারিখ, তার মৃত্যু বড়বাড়ির ৬৩৪তম। তার ছেলে-(৭) রাকীব আহম্মদ (রাকু)'র জন্ম-২৩-১০-১৯৭৭ তারিখ।

এ বড়বাড়ির বংশের জীবিত পরিবারের সংখ্যা (০৪-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত) হলো-৩০৫টি। এ বংশের প্রথম পুরুষ মোহাম্মদ বদু মিঞা প্রায় ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্রসহ নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে ১২ মাইল পশ্চিমে ভেলানগর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তাঁদের দুই পুত্রের নাম হলো (১) মোহাম্মদ হদু মিঞা ও (২) মোহাম্মদ গদু মিঞা। ১৭৮০ সালের দিকেও ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়নি। ভারতবর্ষে তখনও ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন ছিল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তো আইন পাশ হয়নি। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ, চিরস্থায়ী বন্দোবন্ত আইন হয়েছিল লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কারা জমির মালিকানা লাভ করেন-জমি-জমা ক্রয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় যে, ভেলানগর গ্রামে ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ ৩য় বাসিন্দা। ভেলানগর গ্রামের ১ম বাসিন্দা হলো ইব্রাহিম মাস্টারের বংশধররা তারা ১১তম বংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভেলানগর গ্রামে ''ভূঁইয়াবাড়ি'' বংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ১১তম পুরুষ পর্যন্ত ও ''বড়বাড়ি'' বংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ম পুরুষ পর্যন্ত এবং বড়বাড়ির বংশ মেয়েদের দিক থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ১১তম। বড়বাড়ির বংশে ১,৫৮২তম জন্ম হয়েছে ২৪-১২-২০১৭ম তারিখ পর্যন্ত। আমাদের বংশে জন্ম-১,৫৮২ জন + ৫৫১ জন স্ত্রী=২,১৩৩ জন। এ ২,১৩৩ জনের মধ্যে ২১ জন পুরুষ বংশে বিয়ে করেছে। ২১ জন মেয়ে বিয়োগ করলে=২,১১১ জন। আমাদের বংশের ছেলের দিক দিয়ে মোঃ শিশু কাকার দ্বিতীয় ছেলে মোঃ কামরুল মিয়া ও মিসেস পাখী আখতার, ৮ম শ্রেণী পাস, মুন্সিগঞ্জ জেলায় বিয়ে করেছে-২৩-১২-২০১৬ তারিখ। এ বিয়ে ভেলানগর বড়বাড়ির ৪০৪তম পুরুষের বিয়ে এবং স্ত্রীর দিক দিয়ে ৫৫১তম স্ত্রী। মেয়ের দিক দিয়ে মো: সাহ মিয়ার ছেলে কাওছারের মেয়ে মিসেস রিপার বিয়ে ৪৭৭তম মেয়ের বিয়ে বড়বাড়ির (০৭-১০-২০১৬ তারিখ) এবং ৪৭৮ জন বিবাহিত মেয়ের মধ্যে ১৪৬ জন বিবাহিত মেয়ে মারা গেছে আর বেঁচে আছে ৩৩১ জন বিবাহিত মেয়ে। জীবিত ৩৩২ জন বিবাহিত মেয়ের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে বাবারবাড়িতে বাস করে আর স্বামীরবাড়িতে বাস করে ৩১৯ জন মেয়ে(১৪-১০-২০১৭)। ভেলানগর গ্রামে বড়বাড়ির ২৩৬ বছরের মধ্যে (ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীসহ মারা গেছেন যারা তাদের মধ্যে) ০৩-১২-২০১৪ তারিখ বড়বাড়ির তমাল ফেরদৌস ওরফে সাচ্ছুর-মৃত্যু হয়েছে ভেলানগর বড়বাড়ির ৬৬২তম মৃত্যু এবং মোঃ শাহজাহান ভাইয়ের মৃত্যু বড়বাড়ির ৬৭৯তম মৃত্যু ১০-০৮-২০১৬ তারিখ ৬৮০

৬ষ্ঠ পুরুষ মোহাম্মদ মাজহারুল হক (শওকত) এবং নবম পুরুষ মোঃ রাকিব আহম্মদ উভয়ের বয়স প্রায় কাছাকাছি। নবম পুরুষ মোঃ রাকিব আহম্মদ, হায়দর আহম্মদ রাজীব ও মিসেস হুমায়রা আক্তার(সুমী)-এরা তিন ভাই-বোন, অন্যান্য নবম পুরুষ ছেলে-মেয়েদের থেকে বড়।

দশম পুরুষ ইটালীতে জন্ম হয়েছে ২০১৬ সালে।

নবম পুরুষ রাকিব আহম্মদ(রাকু)-এ বংশের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বড়।

জনাব বায়েস এ বংশের ৮ম পুরুষ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বড়।

জনাব মোঃ আজহারুল হক(নসু মিঞা) এ বংশের ৭ম পুরুষ ছেলেদের মধ্যে বড়।

মিসেস রাজা ও মিসেস ইরা এ বংশের সপ্তম পুরুষ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন।

মুনশি মোঃ জিন্নত আলী(কান্দু মিঞা) এ বংশের ৬ষ্ঠ পুরুষ ছেলেদের মধ্যে বড় ছিল।

পাশির মা আমার বড় ফুফু এ বংশের ৬ষ্ঠ পুরুষ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সবার বড় ছিল।

মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলী এ বংশের ৫ম পুরুষ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সবার বড়। ৫ম পুরুষ মুহাম্মদ হায়দর আলী থেকে এ বংশের ১ নম্বর বা বংশের বড়।

মুনশি মুহাম্মদ ইউসুফ আলী এ বংশে দ্বিতীয় ছিল। তাঁর ছেলে মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলী সবার বড়। হায়দর আলী এ বংশের ৪২ জন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। হায়দর আলীর আপন ভাই-বোন-৬+১=৭ জন, চাচাত ভাই-বোন-১৪+৭=২১ জন, চাচতো চাঁচাত ভাই-বোন-১৮+১১=২৯ জন এবং চাচতো চাঁচাত চাঁচাত ভাই-বোন-৪+১২=১৬ জন। ভাই ৪২ জন এবং বোন-৩১ জন মোট=৭৩ জন।

মুনশি মোঃ আশ্রাব আলী চতুর্থ পুরুষ এ বংশের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সবার বড় ছিল। আশ্রাফ আলীরা চার ভাই এক বোন (১) আশ্রাফ আলী (২) ইউসুফ আলী (৩) এক বোন (৪) রজব আলী ও (৫) আছন আলী।

জনাব মোঃ জহির-উদ-দীন ব্যাপারী তৃতীয় পুরুষ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বয়সে বড় ছিলেন।

জনাব মোঃ হদু মিয়া ও মোঃ গদু মিঞা এ বংশের ২য় পুরুষ এবং হদু মিঞা বড় ভাই।

এ বংশের জীবিত ৬ষ্ঠ পুরুষ ছেলেদের মধ্যে সবার বড় জনাব মোঃ কুদ্দুস মোল্লা। জীবিত ষষ্ঠ পুরুষ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট মোঃ মাজহারুল হক(শওকত) এবং তার বয়স প্রায় ৪৩ বছর। এ বংশের পঞ্চম পুরুষ মৌলভী আব্দুল লতিফ ওরফে শব্দর মৌলভী। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী বেঁচে আছেন। তাঁর নাম দেয়া হলো: মিসেস জাহেরা খাতুন।

এ বংশ তালিকা তৈরীতে ১ম সংস্করণে যাঁরা আমাকে সবচেয়ে বেশী সহযোগিতা করেছেন যেমন-কিছু সংখ্যক দাদার বাপের নাম, চাঁচাত দাদাদের বাপের নাম মরহুম এ. এফ. এম. এ. মালিক(মালেক চাঁচা)। এজন্য আমি তাঁর নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আরও সহযোগিতা করেছেন যারা তাঁরা হলেন, ভেলানগর গ্রামের হাঁজীবাড়ির মরহুম মোঃ আক্কেল আলীর ছেলে জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, আমার বড় বোনের ছেলে তৌফিক, মরহুম আবদুল জব্বার ওরফে মোঙ্গল চাঁচার ছেলে মুহাম্মদ হাসান ও তার স্ত্রী মিসেস সুফিয়া বেগম এবং শেষমেষ আমার ভাঁতিজা মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম(স্বপন) আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এখন সহযোগিতা করছেন আমাকে ভাতিজা মতিউর রহমান(মতি)। এদেরকে ছাড়া আরও কয়েকজন আমার পরিবারের লোকজন আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তাঁদের মধ্যে প্রথমে আমার স্ত্রী সৈয়দা শামসুন নাহার বেগম, আমার মেয়ে তানিয়া ও ২য় সংস্করণে আমার ছেলে আবির হোসেন জিয়ান-এর সহযোগিতা না পেলে এ বই প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ বংশ তালিকা লিখতে আমাদের বংশের অনেকেই বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে সহযেগিতা করেছেন তার জন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

পরিশেষে এ তালিকা তৈরীতে কারো কারোর আসল ও ডাক নামের সংমিশ্রণ হ'তে পারে, ক্ষেত্র বিশেষে জন্ম ও মৃত্যু তারিখের গড়মিল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশার সমস্যা সম্বলিত কিছু ভুল-ক্রটি হতে পারে। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে প্রকৃত ও সঠিক তথ্যমূলক প্রতিবেদন প্রদান করে ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়া আরও সুন্দর ও সঠিক হবে বলে আমি আশা রাখছি।

প্রথমে ৩১-১২-২০০০ তারিখ পর্যন্ত লোকদেরকে এ বংশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে পুণরায় সময় বাড়িয়ে ৩১-১২-২০০১ তারিখ পর্যন্ত এবং পরে আরও সময় বাড়িয়ে ৩১-১২-২০০৩ তারিখ পর্যন্ত বাড়িয়ে বই প্রকাশ করা হয়েছে। ২য় সংস্করণে সময় দেয়া হয়েছিল ৩১-১২-২০১০ পর্যন্ত। ৩য় সংস্করণের কাজ শেষ হবে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এ বই সাধু-চলতি ভাষার সংমিশ্রনে লেখা। ভাষা জ্ঞান আমার একেবারে নেই বললেই চলে।

মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর, ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।

বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর কথা:

৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগের মানুষ। বিবিসি: জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ আসছে পৃথিবীতে এবং আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগে। কেমব্রিজের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিও জেনেটিকসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. পিটার ফরস্টার বলেন, পূর্ব আফ্রিকায় এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে হোমোস্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানবের উদ্ভব ঘটে। আর জায়গাটি ছিল সম্ভবত বর্তমান ইথিওপিয়ার ওমো নদীর তীরবর্তী কোনো অঞ্চল। ৩১,৭০০ বছর আগে পৃথিবীতে কুকুর ছিল ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর, আন্তর্জািতক বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে। এরা তখন ঘোড়া, হরিণ খেয়ে বেঁচে থাকত। ১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয়। পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে। ১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন-ইরাক সভ্যতা আরম্ভ।

বিশ্বের প্রথম ধান কবে কখন কোথায় মানুষ সর্বপ্রথম ধান বা চালের ব্যবহার শুরু করে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া দায়। ধারণা করা হয়, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই চালের ব্যবহার শুরু হয়। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে উত্তর থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ চীন উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথম ধান চাষ হয়-বিভিন্ন গবেষণায় এ রকম তথ্যই পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম ফুটবল কোথায় সর্বপ্রথম ফুটবল খেলা হয় তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তবে বলা হয়ে থাকে, ফুটবলের সূতিকাগার হলো প্রাচীন চীন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ফুটবল খেলার প্রবর্তন হয়। প্রাচীনকালে মূলত দুই দল লোক একে অন্যকে আক্রমণের মহড়া হিসেবে ফুটবল খেলত। প্রাচীন ফুটবলে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতাব্দীর কিছু আগে বিনোদন হিসেবে বর্তমান ধারার ফুটবল খেলার সূত্রপাত হয়। ৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর।

খৃষ্টপূর্ব ৫০০০ সালে ইউরোপ মহাদেশের গ্রীসে প্রথম রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাফেরা শুরু করে। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। ৪৬০০-৪৮০০ খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ। (সাড়ে ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ।) জানাগেছে জার্মানী, অস্ট্রিয়া ও শেস্নাভাকিয়ার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিদর্শনগুলো আবিস্কৃত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শেনর মধ্যে রয়েছে ১৫০টির বেশি বিশালায়তনের উপাসনালয়। ধর্মীয় প্রয়োজন থেকে কোন জনগোষ্ঠী উপাসনালয়গুলো নির্মাণ করে থাকবেন, যাদের পেশা ছিল পশুপালন। উপাসনালয়সমূহের দৈর্ঘয ১৫০ মিটার। পূর্ব জার্মানীর লেইপনিং এলাকার আইথরা গ্রামে আবিস্কৃত উপাসনালয়ের চাঁরপাশে অন্ততঃ ২০টি ভবন পাওয়া গেছে। এসব ভবনে ৩শ' লোক বাস করতো বলে ধারণা করা হয়। সদ্য আবিস্কৃত এ জনপদের এখনও কোন নামকরণ করা হয়নি। টানা ৩-বছর খননকার্য চালিয়ে সম্প্রতি প্রাচীন-এ সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম দাবা বর্তমান পাকিস্তানের ইন্দাস উপত্যকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূত্রপাত হয়। সেকালে দাবাডূরা আজকের মতোই ৬৪ বর্গের ছক কাটা সিরামিক বোর্ডে দাবা খেলতেন। তাতে থাকত হাতি, রাজা, নৌকা ও ঘোড়া। হরপ্পার কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে এসবের নমুনা পাওয়া গেছে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে প্রায় যতদূর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম নগর পারস্য উপকুলে ইরিডু নামক একটি নগর গড়ে ওঠে। সুমেরিয়ান ভাষায় রচিত ইতিহাসে-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এর আগে কিছু ছোট শহরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; কিন্তু ইরিডুই সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের মর্যাদা পায়, যেখান থেকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসননীতি পরিচালিত হতো। খৃষ্টপূর্ব ৪০০০ হাজার সালে বিশ্বের প্রথম উন্মুক্ত খনন ভূগর্ভস্থ মূল্যবান পাথর অনুসন্ধানের জন্য প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা হতো। বেঁচে থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রকৃতির বিশাল ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়েছে তার প্রয়োজনের জিনিসটি। ৪০০০-৩০০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরের সভ্যতার উম্মেষ। মানুষ কিসের জোরে টিকল হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ জোর আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়। বিশ্বের প্রথম চাকা গুহাবাসী মানুষ চাকা তৈরীর পদ্ধতি জানত না। স্বাভাবিক ধারণার চেয়ে অনেক পরে আবিস্কৃত হয়েছে চাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায় (আজকের ইরাক)। তার মানে যানবাহনে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। আজও আমরা এর কোনো বিকল্প খুঁজে পাইনি।

৩৫০০ খৃষ্টপূর্বে ইতিহাস ঘাটিলে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়ায় লাইব্রেরীর প্রচলন ছিল। ৩৫০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময়ে এসে পালতোলা নৌকার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই গাধাকে পোষ মানানো হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ের যে সুমেরীয় যুদ্ধরথের ছবি পাওয়া যায় তা দেখে মনে হতে পারে যুদ্ধরথটি টানছে ঘোড়া-কিন্তু এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ তাঁদের ধারণা-ঘোড়া নয় গাধা। বিশ্বের প্রথম নীতিগল্প খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার সালে সুমেরীয় সাহিত্যে ছোটগল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল। নৈতিকথার শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই প্রধানত ওই সব গল্প লেখা হতো। ঈশপের গল্পে এ ধরনের নীতিকথার সন্ধান মেলে। কুকুর, শেয়াল, বাঁদর, গরু, হাতি, শূকর প্রভৃতি প্রাণী সেসব গল্পের চরিত্র হিসেবে উঠে আসত। বিশ্বের প্রথম কালি মানবসভ্যতার প্রথমদিককার দিনগুলোয় শক্ত তলে দাগ কেটে কিংবা কাদামাটিকে নানা আকার দিয়ে লেখা হতো। মিসরীয়রা প্যাপিরাস কাগজ আবিস্কারের আগেই ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বােব্দ কালি তৈরী করে। পরবর্তী কালে প্যাপিরাস উদ্ভাবনের পর কালিই হয়ে ওঠে লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম। তখনকার দিনে মূলত মৃত মানুষ ও পশুপাখির হাড় শুকিয়ে-পুড়িয়ে তরল কালি তৈরী করা হতো। বিশ্বের প্রথম পস্নাইউড প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম পস্নাইউড আবিস্কৃত হয়। সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সময়ে পালাইউডের প্রচলন ছিল। তখনকার পস্নাইউড অবশ্য বর্তমান সময়ের পস্নাইউডের মতো মসৃণ ও সুন্দর ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন ছয় ধরনের কাঠের সংমিশ্রণে ওই পস্নাইউড তৈরী করা হতো।