ভেলানগর বড়বাড়ির
বংশ পরিচিতি
১৭৮০-২০১৭)
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা:
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
সহযোগিতায়:
আবির হোসেন জিয়ান।
জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনী, ঢাকা।
ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি
(১৭৮০-২০১৭)
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫৪৮৪৪
সহযোগিতায়: আবির হোসেন জিয়ান।
১ম প্রকাশকাল: ভাদ্র: ১৪১০ বাংলা সন, সেপ্টেম্বর-২০০৩ সাল।
২য় প্রকাশকাল: বৈশাখ-১৪১৮ বাংলা সন,
২৬ সেপ্টেম্বর-২০১০ খ্রিষ্টাব্দে।
৩য় প্রকাশকাল: ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।
প্রকাশক: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
স্বত্ত্ব: লেখক র্কতৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
কমপিউটার কম্পোজ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
প্রচ্ছদ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
মুদ্রণে: জিয়ান বড়বাড়ি কমপিউটার।
মূল্য: মাত্র=৭৫০.০০(সাতশত পঁঞ্চাশ) টাকা।
সুলভ মূল্য মাত্র=৫০০.০০(পাঁচশত) টাকা মাত্র।
ঊৎসর্গ করছি
ভেলানগর বাড়বাড়ির সকলকে
ভেলানগর বড়বাড়ির প্রথম পুরুষ বদু (বদুর স্ত্রী ও তাঁদের দুই ছেলেসহ) থেকে শুরু করে ১০ম পুরুষ (১৭৮০ সালের আগষ্ট থেকে ২৪-১২-২০১৭ তারিখ পর্যন্ত) স্ত্রীসহ জন্ম হয়েছে ২,১১২ জন এরমধ্যে মারা গেছেন(১০-০৩-২০১৭ তারিখ পর্যন্ত) ৬৮০ জন, জীবিত আছে-১,৪৩২ জন, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও চলে গেছেন স্ত্রীসহ মোট-৮০ জন, জীবিত লোকসংখ্যা-১,৩৫২ জন এরমধ্যে জীবিত ৩৩২ জন বিবাহিত মেয়ে। ৩৩২ জন বিবাহিত জীবিত মেয়ের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে স্বামীর বাড়ির পরিবর্তে বাবার বাড়িতে বাস করে। আর ৩১৯ জন মেয়ে স্বামীর বাড়িতে বাস করে এবং প্রকৃত বড়বাড়ির জীবিত লোকসংখ্যা হলো-১,০৩৫ জন, এর মধ্যে ৫১৫ জন শহর ও বিদেশে থাকে। আর গ্রামে থাকে ৫২০ জন। ৫১৬ জনের মধ্যে ১৬৯ জন বিদেশে আছে এবং শহরে আছে-৩৪৭ জন। বিয়ে করেছেন-৪০৮ জন পুরুষ এবং স্ত্রীর সংখ্যা-৫৫১ জন, আর বিয়ে দেয়া হয়েছে-৪৭৮ জন মেয়েকে (২৫-১১-২০১৭ তারিখ পর্যন্ত)। জীবিত ও মৃতসহ সকলের স্মরণে-
মোজাহু,
৩১-১২-২০১ তারিখ
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।
| ক্রমিক | বিষয়সূচী | পৃষ্ঠা |
| ভূমিকা: | ০৫-১১ |
| ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা ও বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর | ১২-১২২ |
| কথা: |
| আমার কিছু কথা: | ১২৩-১৩৪ |
| ভেলানগর বড়বাড়ির(১ম পুরুষ মোঃ বদু মিঞার) বংশ: | ১৩৫-৩০৪ |
| বড়বাড়ির প্রথমদিকের কিছু শিক্ষিত ব্যক্তি ও চাকুরিজীবীর নাম: | ১৩৬-১৪৪ |
| বড়বাড়ির ১৭৮০ থেকে ২০১৬ সালে কতজন হয়েছে তা' পুরুষ হিসেবে চার্টে দেখানো হলো | ১৪৪-১৪৪ |
| ঃ |
| বড়বাড়ির ৪র্থ পুরুষ ১৩ জনের বাড়ির পরিচিতি: | ১৪৫-১৪৬ |
| বড়বাড়ির যারা শহর ও বিদেশে বসবাস করে তাদের নাম: | ১৪৬-১৫২ |
| বড়বাড়িতে ৮(আট)জনের অধিক সন্তানধারী ব্যক্তিদের নাম: | ১৫২-১৫৩ |
| বড়বাড়ির আমার জানা কিছু তথ্য: | ১৫৩-১৭৪ |
| বড়বাড়ির লোকসংখ্যা-২০১৬ সালে কত ছিল তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে কত হবে পুরুষ | ১৭৪-১৭৬ |
| হিসেবে দেখানো হলো: |
| বড়বাড়ির জীবিত লোকদের মধ্যে ছোট-বড়: | ১৭৬-১৭৯ |
| বড়বাড়ির যারা একের অধিক বিয়ে করেছে তাদের নাম: | ১৮০-১৮৪ |
| বড়বাড়ির যারা বিয়ে করেননি তাদের নামের তালিকা: | ১৮৪-১৮৪ |
| এস.এস.সি. থেকে পোষ্ট-গ্রাজুয়েট পর্যন্ত র্সাটিফিকেটধারীদের সংখ্যা | ১৮৪-১৮৫ |
| বড়বাড়ির বংশের ১৩ জন ৪র্থ পুরুষের লোকসংখ্যার হিসাব: | ১৮৫-১৮৭ |
| বড়বাড়ির ৪২(বিয়াল্লিশ) দাদার লোকসংখ্যার হিসেব: | ১৮৭-১৮৯ |
| ১ম পুরুষ মোহাম্মদ বদু মিঞা ও তাঁর ছেলে (২য় পুরুষ মোহাম্মদ হদু ও মোহাম্মদ | ১৮৯-২৫৮ |
| গদু) এখন ২য় পুরুষ হদু মিঞার বংশ পরিচিতি: |
| ৩য় পুরুষ মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারীর বংশ পরিচিতি: | ১৮৯-২৫৮ |
| ৩য় পুরুষ মোহাম্মদ রিয়াজ-উদ-দীনের বংশ পরিচিতি: | ২৫৮-২৮১ |
| ৩য় পুরুষ মোহাম্মদ নাসির-উদ-দীনের বংশ পরিচিতি: | ২৮২-২৯৫ |
| ১ম পুরুষ মোহাম্মদ বদু মিঞা ও তাঁর ছেলে ২য় পুরুষ মোহাম্মদ গদু মিঞার বংশ | ২৯৫-৩০৬ |
| পরিচিতি: |
| ৩য় পুরুষ মোহাম্মদ কালাগাযীর বংশ পরিচিতি: | ২৯৫-২৯৭ |
| ৩য় পুরুষ মোহাম্মদ মালাগাযীর বংশ পরিচিতি: | ২৯৭-৩০৬ |
| বড়বাড়ির বংশে ১৭৮০ সালের আগস্ট থেকে ২০-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত স্ত্রীসহ জন্ম | ৩০৬-৩৬৬ |
| হয়েছে-২,১০৭ জন ও মৃত্যু হয়েছে-(৩১-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত) ৬৭৮ জন, ১ম পুরুষ হতে |
| ১০ম পুরুষ পর্যন্ত ক্রমিক অনুযায়ী জন্ম-মৃত্যুর চার্ট দেয়া হলো: |
| আমার জানা বড়বাড়ির কিছু তথ্য, রূপসদী স্কুলের শতবর্ষের তথ্য ও বানঞ্ছারামপুর | ৩৬৭-৫১৯ |
| উপজেলার তথ্যাবলী: |
| আমার চাওয়-পাওয়া: | ৫২০-৫২২ |
মুখবন্ধ:
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজ উদ-দৌলাকে পরাস্ত করে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ক্ষমতা দখল করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন থেকে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতবর্ষ ১০১(একশত এক) বছর শাসন করে এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর, বৃটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে ভারতের শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ও বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে মোট ১৯০(একশত নব্বই) বছর।
মানুষই শ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট, ভারতবর্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য হলে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান নামে ২টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বলে (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের আয়ুকাল ছিল ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন) পরবর্তী পর্যােয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়।
খোশাল দিওয়ান মির্যা ভেলার নামে ১৮০০ থেকে ১৮১০ সালের মাঝে 'ভেলানগর' গ্রামের নামকরণ করেন। তারপর ১৮৩০ থেকে ১৮৪০ সালের মাঝে 'বড়বাড়ি' নামকরণ হয়েছে। যখন বড়বাড়ি নামকরণ করা হয় তখন গ্রামের লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ২৯৫(দুইশত পঁচানব্বই) থেকে ৩০০(তিনশত) জন। এ গ্রামের প্রথম ব্যাপারী ''মরহুম মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারী'' এ জহির-উদ-দীন ব্যাপারীর আমলে 'বড়বাড়ি' নামকরণ করা হয়েছে। ভেলানগর বড়বাড়ির বংশের তৃতীয় পুরুষ মরহুম মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারীর আপন তিন ভাই ও চাঁচাত দুইজন ভাইসহ তাঁদের পাঁচজনের নামগুলো দেয়া হলো: (১) মরহুম মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারী (২) মরহুম মোহাম্মদ রিয়াজ-উদ-দীন (৩) মরহুম মোহাম্মদ নাসির-উদ-দীন (৪) মরহুম মোহাম্মদ কালাগাযী ও (৫) মরহুম মোহাম্মদ মালাগাযী। বড়বাড়ির জমি-জমা ছিল বালুয়াকান্দি-রূপসদী গ্রামের সাথে। যেমন ভেলানগর গ্রামের পূর্বের মাঠের বা চকের বেশির ভাগ জমি-জমা, পশ্চিম মাঠের বা চকের প্রায় জমি-জমাগুলো ছিল বড়বাড়ির, গুনির মাঠের বা চকের বেশির ভাগ জমি-জমা ছিল বড়বাড়ির, মান্দালিয়ার বিলের, মাঠের বা চকের বেশির ভাগ জমি-জমা ছিল বড়বাড়ির, জাগুরিয়া মাঠের বা চকের বিশেরভাগ জমি-জমা ছিল বড়বাড়ির, বালুয়াকান্দি বাজারের বেশির ভাগ জমি-জমা ও রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের বেশির ভাগ জমি-জমাগুলো ছিল ভেলানগর বড়বাড়ির। সবচেয়ে বড় কথা হল যে-ভেলানগর বড়বাড়ির জমি-জমার ওপর ছাড়া গ্রামের অন্যান্য বংশের মানুষেরা তাঁদের জমি-জমা চাষ করতে যেতে পারত না। আর বড়বাড়ির লোকেরা তাঁদের জমা-জমিতে চাষ-বাস করতে অন্যের জমির ওপর পা রাখতে হতো না। আপনারা আরো জানার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণা ও অনুসন্ধান করতে পারেন-কেন ''বড়বাড়ি'' নামকরণ করা হয়েছে। যখন বড়বাড়ি নামকরণ হয় তখন গ্রামের লোকসংখ্যা হবে প্রায় ২৯৫(দুইশত পঁচানব্বই) থেকে ৩০০(তিনশত) জন। গ্রামের লোকসংখ্যার তুলনায় বড়বাড়ির লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ৮৯/৯৯ জন এবং গ্রামের বাড়িঘরের তুলনায় বড়বাড়ির ঘরবাড়ি ছিল অনেক বেশি যেমন জমি-জমা, ধন-সম্পদ ও বড় বড় ঘরবাড়ি ছিল। মানুষের তুলনায় জমি-জমা ও ধন-সম্পদ ছিল বেশি। তখন গ্রামের মধ্যে সব দিক দিয়ে মান-সম্মান ও প্রতিপত্ত্বি ছিল অনেক অনেক বেশি। বড়বাড়ির লোকদের আথিতেয়তা এ অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো ভুলতে পারে না।
২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের মানুষ শহরে বাস করে ৩৪ ভাগ আর গ্রামে বাস করে ৬৬ ভাগ মানুষ। বাংলাদেশে বিভাগ-৯টি, জিলা-৬৪টি, থানা-১৪৪টির মধ্যে (রাজধানী ঢাকায় থানার সংখ্যা-৫০টি এবং ৫০তম থানা হল হাতিরঝিল) এরমধ্যে ঢাকার উত্তরে-২৯টি এবং দক্ষিণে-২১টি থানা) এবং কর্ণফুলী উপজেলা-৪৯০তম। থানা-১৪৫টি + উপজেলা-৪৯০টি=মোট ৬৩৫টি। ৬৩৫টির মধ্যে বাঞ্ছারামপুরও একটি উপজেলা। এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১২৫টি গ্রামের মধ্যে ভেলানগরও একটি গ্রাম। এ গ্রামেরও একটি ইতিহাস রয়েছে। মির্যা ভেলার নামে ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়। মির্যা ভেলা তুর্কি মুসলমান ও বলদাখাল পরগনার জমিদার ছিলেন (বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার পরিচয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা, দেবিদ্বার উপজেলার আংশিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা)। আকা বাকের (জ্যোষ্ঠ)-এর আনুমানিক জন্ম-১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আকা বাকের ইরানী বা তুর্কি মুসলমান ছিলেন, ঢাকার বিখ্যাত বাখরখানি রুটির প্রবর্তক ছিলেন তিনি নিজেই। আকা বাকেরের পুত্রের নাম পাওয়া যায়নি-আকা বাকেরের নাতি আহসান উল্লাহ খানের আনুমানিক জন্ম-১৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আহসান উল্লাহ খান মুর্শিদকুলিখানের সময়ে হুগলীর ফৌজদার ছিলেন। আহসান উল্লাহ খানের পুত্র আকা সাদেকের আনুমানিক জন্ম-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। (৩৮৬ বর্গমাইল এলাকা) বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আকা সাদেকের পুত্র মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার আনুমানিক জন্ম-১৭২৯ খ্রি., মৃত্যু-জানা নাই। তিনিও ৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার জমিদার ছিলেন। মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের পরিচয় আযি-উন-নিসা খানমের জন্ম-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। পতি মীর আশরাফ আলী খানের বাড়ি-ইরানের সিরাজনগর, জন্ম-১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে। মীর আশরাফ আলী খানের ঢাকার বাদামতলিতে বিরাট অট্টালিকা ছিল। তিনিও বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আযি-উন-নিসা খানমের দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলের পরিচয় খান বাহাদুর সৈয়দ আলী মেহেদি খান (বড়ে খান)-জন্ম-১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। বড়ে খান সাহেবের এক ছেলে সৈয়দ আসাদ-উদ-দীন হায়দর ওরফে আসাদ উল্লাহ খান (জন্ম-১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে। আসাদ উল্লাহ খান সাহেবের তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের পরিচয় নবাব সৈয়দ মোহাম্মদ খান (নান্না সৈয়দ)-এর জন্ম-১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু-১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। নান্না সৈয়দের পাঁচ ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ের পরিচয় (১) ১ম কন্যা-পতি-শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জন্ম-২৬-১০-১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যুঃ ২৭-০৪-১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে, (২) দ্বিতীয় কন্যা-পতি-স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দি (জাতীয় নেতা স্যার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মামা) এবং (৩) বিখ্যাত সাংবাদিক ড. সৈয়দ হোসেনের জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৪৯ বা ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে (কায়রোতে)। সৈয়দ হোসেনের পত্নী-শ্রীমতি বিজয় লক্ষী পন্ডিত হলো ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জরহরলাল নেহেরুর ছোট বোন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর একমাত্র ফুফু। শ্রীমতি বিজয় লক্ষী পন্ডিত আবার দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন-স্বামী রনজিৎ পন্ডিত। ১৭৪০ সাল থেকে ৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ভেলানগর গ্রামের জীবিত ও মৃতসহ মোট জনসংখ্যা-১৩,১২৬(তের হাজার একশত ছাব্বিস)জন, মারা গেছেন-৩,৫৯৬(তিন হাজার পাঁচশত ছিয়ানব্বই) জন, জীবিত লোকসংখ্যা-৯,৫৩০(নয় হাজার পাঁচশত ত্রিশ) জন, বিবাহিত মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে আছেন-১,৯০৬ জন, জীবিত লোকসংখ্যা-৭,৬২৪(সাত হাজার ছয়শত চব্বিশ) জন। ৩,০৫০(তিন হাজার পঁঞ্চাশ) জন, শহর ও বিদেশে বাস করে। ৩,০৫০(তিন হাজার পঁঞ্চাশ) জনের মধ্যে-৯৫০(নয়শত পঁঞ্চাশ) জন বিদেশে বাস করে। গ্রামের প্রকৃত জীবিত লোকসংখ্যা-৪,৫৭৪(চার হাজার পাঁচশত চুয়াত্তর) জন। এ গ্রামেরও একটি ইতিহাস রয়েছে। মির্যা ভেলার নামে ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়। মির্যা ভেলা ইরানী বা তুর্কি মুসলমান ছিলেন। গ্রাম, শহর এবং বিদেশ মিলে ভেলানগর গ্রামের ১,৫২২টি পরিবার আছে। ভেলানগর গ্রামে বাস করে ১,১৪০টি আর শহর ও বিদেশে বাস করে ৩৮২টি পরিবার। আর বংশ, ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৯টি। ২৯টির মধ্যে বড়বাড়িও একটি বংশ। এ বড়বাড়ির বংশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
''ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি ও দেশ-বিদেশের তথ্য'' এ বইয়ের কাজ ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শুরু করেছিলাম এবং শেষ করেছি ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর। ভেলানগরে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে-১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে, নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে বর্তমানে মরহুম সিরাজ মৌলভী সাহেবের বাড়িটি যেখানে আছে সেইখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা এসে প্রথম বসতি স্থাপন করেন। তারপর তৃতীয় পুরুষের সময় বর্তমানে বড়বাড়ির বংশের লোকেরা যেখানে আছি, সেখানকার স্থানে বাড়িঘর করে চলে আসেন। নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর গ্রামে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি (ঈসা খা'র দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিতি ছিল করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি) থেকে। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়িতে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে ভারতের উত্তর-প্রদেশ থেকে। ভারতের উত্তর-প্রদেশে আসছে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্তান থেকে। আমাদের পূর্ব-পুরুষরা মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্থান থেকে ভারতের উত্তর-প্রদেশে এসে মিলিত হয়েছে। এর বেশি কিছু আর জানার চেষ্টা করিনি। ভেলানগর বড়বাড়িতে আমাদের বংশ নবম পুরুষের বাসস্থান। নবীনগর-ইব্রাহিমপুর থেকে ১২ মাইল পশ্চিমে ভেলানগরে আসে তখন গ্রামের নামকরণ করা হয়নি ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে। তখন এ জায়গাটা ছিল ত্রিপুরা জেলার অধীনে। আমাদের ১ম পুরুষ (১) মোহাম্মদ বদু মিঞা তাঁর দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে আসে। বদু মিঞার জন্ম-১৭৩৭ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮১৬ খ্রিষ্টাব্দে। বদু মিঞার বড় ছেলে (২য় পুরুষ) নাম-(২) মোহাম্মদ হদু মিঞা (হদুর জন্ম-১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৪৪ খ্রিষ্টাব্দে)। তাঁর ছেলে ৩য় পুরুষ (৩) মুনশি মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারীর জন্ম-১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৪র্থ পুরুষ (৪) মুনশি মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর জন্ম-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর, মৃত্যু-১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৫ম পুরুষ (৫) মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলীর জন্ম-১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর, মৃত্যু-৩১-০৬-১৯২৫ তারিখ। তাঁর ছেলে ৬ষ্ঠ পুরুষ (৬) মুনশি মোঃ জিন্নত আলী (কান্দু মিঞার) জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ ডিসেম্বর, মৃত্যু-২৪-১২-১৯৫৯ তারিখ। তাঁর ছেলে ৭ম পুরুষ (৭) মোঃ আজহারুল হক(নসু মিঞার) জন্ম-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মার্চ, মৃত্যু-১৩-০৭-১৯৭১ তারিখ। তাঁর ছেলে ৮ম পুরুষ (৮) মোঃ জিয়াউদ্দিন আহমদের(বায়েস)- জন্ম-২৫-১২-১৯৫১ তারিখ, মৃত্যু-১০-০৭-২০১২ তারিখ, তার মৃত্যু বড়বাড়ির ৬৪৪তম। তাঁর ছেলে ৯ম পুরুষ (৯) রাকিব আহম্মদ (রাকু)'র জন্ম-২৩-১০-১৯৭৭ তারিখ। ভেলানগর বড়বাড়ির বংশে-২৩৬ বছরে (ছেলে-মেয়ে ও বউসহ) জন্মগ্রহণ করেছে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৩১-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত-২,১০৭ জন। এরমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ৩০-১১-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত-৬৭৯ জন। জীবিত আছে (২০-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত)-১,৪২৮ জন (এরমধ্যে জীবিত তালাকপ্রাপ্ত ৭২ জন স্ত্রী ও ৮ জন স্ত্রী চলে গেছেন মোট স্ত্রীর সংখ্যা ৮০ জন বাদ দিলে জীবীত লোক সংখ্যা-১,৩৪৮ জন। (বিবাহিত ও জীবিত ৩৩১ জন মেয়ে, স্বামীর বাড়ির পরিবর্তে ১৩ জন মেয়ে বাবার বাড়িতে থাকে এবং ৩১৮ জন জীবিত মেয়ে স্বামীরবাড়িতে থাকে) ৩১৮ জন বিবাহিত মেয়ে বাদ দিলে প্রকৃত লোকসংখ্যা হলো-১,০৩০ জন। এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে-৫১৫ জন। ভেলানগরে বাস করে ২০-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত-৫১৫ জন। ৫১৫ জনের মধ্যে বিদেশে আছে-১৬৮ জন ও শহরে বাস করে-৩৪৭ জন। নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর-এর জানা মতে বাঞ্ছারামপুর থানার ১২৫টি গ্রামের মধ্যে ভেলানগর বড়বাড়ির মত এত বড় বংশ আর দ্বিতীয়টি নেই এবং নবীনগর থানার ২০০টি গ্রামের মধ্যেও এত বড় বংশ দ্বিতীয়টি আছে বলে আমার জানা নেই।