২০০৫ সালের ১৩ নভেম্বর, ইনকিলাব-মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম: সাফটা: সুফল পেতে যাচ্ছে দেড়শ' কোটি মানুষ। আগামী ১ জানুয়ারি, ২০০৬ সালে দক্ষিণ এশীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) কার্যকর হলে সামান্য কিছু পণ্য ব্যতীত পর্যায়ক্রমে সদস্যভুক্ত ৭টি দেশের বাজার হয়ে পড়বে উন্মুক্ত। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার বিস্তৃত হলে উৎপাদন ব্যয় কমে, ভোক্তারা কম দামে পণ্য পায় এবং জীবনযাত্রার মান বাড়ে। এ চুক্তির ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১২ শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার চেহারা পাল্টে যেত। আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) বলি যে, মুক্তবাজার হলে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলির অবস্থা ভাল হবে না।
২০০৫ সালের ১৩ নভেম্বর, ইনকিলাব-মনজুরুল আলম: সাত জাতির সমন্বিত অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার। ১ জানুয়ারি, ২০০৬ থেকে সাফটা চালু-পারস্পারিক ট্রানজিট সুবিধা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহবান, দারির্দয বিমোচনে সার্ক দশক ২০০৬-২০১৫ ও ২০২০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশীয় অর্থৈনতিক ইউনিয়ন।
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর, সালাহউদ্দীন বাবলু: সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া) বাস্তবায়নে বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে বাংলাদেশ।
২০০৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: ডবিস্নউটিও'র হংকং সম্মেলন সফল হলে বাংলাদেশে খাদ্যের দাম বাড়বে।
২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর, হংকং থেকে সালাহউদ্দীন বাবলু: বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডবিস্নউটিও) ৬ দিনব্যাপী ৬ষ্ঠ হংকং শীর্ষ সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাতটি ছিল ১৭-১২-২০০৫ তারিখ। ডবিস্নউটিও'র সদস্য ১৪৯টি দেশের ৬-হাজার প্রতিনিধি ১৭-১২-২০০৫ তারিখ সারারাত জেগে ছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর, সন্ধ্যায় সম্মেলন শেষ হয়ে যাবার আগে রাতে তারা শেষবারের মতো বিশ্ববাণিজ্য আলোচনায় সমঝোতার চেষ্টা চালান। হংকং যেন ২০০৩ সালের কানকুন সম্মেলনের মতো আরেকটি ব্যর্থতার জন্ম না দেয় সেজন্য কিছু না কিছু হাতে নিয়ে বাড়ী ফেরার চেষ্টা চালান সবাই।
২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর, হংকং থেকে সালাহউদ্দীন বাবলু: বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডবিস্নউটিও)'র শীর্ষ সম্মেলন শেষ। বাংলাদেশ কিছুই পায়নি। এলডিসির ৯৭% পণ্যকে শুল্কমুক্ত করার ঘোষণার মানে হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য তা শূন্য ভাগ(০%) কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক তালিকায় যে ১১ হাজার ৩১২টি এবং অন্যান্য উন্নত দেশেরও প্রায় সমসংখ্যক পণ্য রয়েছে তার ৩% হলো ৩৩৯টি বিভিন্ন ধরণের পণ্য। মূলত বাংলাদেশের রফতানীযোগ্য পণ্য-গার্মেন্টস, জাপানে চামড়া, ইউরোপে শাকসবজি প্রভৃতি। শুল্কমুক্ত ৯৭% পণ্য তালিকায় বাংলাদেশের রফতানীযোগ্য কিছুই নেই। যেমন-বিমান, ট্যাংক, তুলা প্রভৃতি। তাই ১০০ ভাগ পণ্যকে শুল্কমুক্ত ঘোষণা ছাড়া বাংলাদেশের কোন প্রাপ্তি নেই। ড. দেবপ্রিয় ভট্টচার্য বলেছেন, এ সম্মেলনে সবাই সবকিছু পেয়েছে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া।
২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: শুধু গার্মেন্টস নয়, রফতানী পণ্যসংখ্যা বাড়াতে হবে। হংকং থেকে ফিরে বাণিজ্যমন্ত্রী-সদ্য সমাপ্ত বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার(ডাবিস্নউটিও) হংকং সম্মেলনে উন্নত দেশের বাজারে স্বল্পোউন্নত দেশসমূহের ১১,৩১২টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়া হলেও ৩৩৯টি পণ্য এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলডিসির ৯৭-শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। বাকি ৩-শতাংশও বাড়াতে হবে পর্যায়ক্রমে।
২০০৯ সালের ২৫ মে, প্রথম আলো: হান্নান হত্যা মামলায় খালাস, মোট মামলা ১৩৭টি। ৮৫টি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন হাজি সেলিমের।
২০০৯ সালের ২৯ মে, প্রথম আলো: ঢাকায় দুই হাজার ২১৮টি 'রাজনৈতিক হয়রানিমূলক' মামলা প্রত্যাহারের আবেদন।
২০০৯ সালের ১ জুন, প্রথম আলো: ঢাকায় ২,৫৫০টি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন।
২০০৯ সালের ২ জুন, প্রথম আলো: সারা দেশে ৪,৩৯১টি আবেদন জমা। সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও সাজাপ্রাপ্তদের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন।
২০০৯ সালের ২২ জুন, প্রথম আলো: দন্ডপ্রাপ্তদের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা চাওয়ার সিদ্ধান্ত। এদিকে ৩০ মে পর্যন্ত কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর শেষ সময় থাকলেও সে সময় আর বাড়ানো হয়নি। গতকাল পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এগুলোর মধ্যে বিরোধী দলের কোনো মামলা নেই। 'রাজনৈতিক হয়রানিমূলক' আরও ৪৬ মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ। এ পর্যােয় যেসব রাজনীতিকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মহীউদ্দিন খান আলমগীর, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, সাঈদ খোকন, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী, আবু সাইয়িদ, মির্জা আজম, শেখ হেলাল প্রমুখ। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. নাসিমের বিরুদ্ধে পাবনার শেখ শহিদুল্লাহ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।
২০০৯ সালের ২ জুলাই, প্রথম আলোঃ আরও ৬৬ 'রাজনৈতিক মামলা' প্রত্যাহারের সুপারিশ।
২০১০ সালের ১ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ১১ মাসে ১৮১৭টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সরকার।
২০১০ সালের ৫ মে, প্রথম আলো: রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায় আরও ৫১৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কমিটির ১৭তম সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এ নিয়ে মোট চার হাজার ৬৮৭টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হলো।
২০১০ সালের ৭ জুলাই, প্রথম আলো: রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায় আরও ৪৫৭টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সরকার।
২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: জামিনে ব্যাপক অনিয়ম-প্রথম আলোর সংবাদ: বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের ক্ষোভ।
২০১০ সালের ৩০ আগষ্ট, প্রথম আলো: আরেকটি বিমানবন্দর নির্মােণর সিদ্ধান্ত। ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রথম প্রস্তাব হচ্ছে, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ত্রিশাল, আমিরবাড়ি, মোক্ষপুর এবং মঠবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজার দুই হাজার ৬০০ হেক্টর জমি।
২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর, দৈনিক ইত্তেফাক: বঙ্গবন্ধু আন্তর্জািতক বিমানবন্দর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু। মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার এবং ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা ও নবাবগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল বিলে ২৫ হাজার একর জমি প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মােণর জন্য। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। তবে তা পরে বেড়ে ৭০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পাড়ে। ২০১৩ সাল নাগাদ বিমানবন্দরটির নির্মাণ কাজ সমপন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি, প্রথম আলো: আড়িয়ল বিলে ভিন্ন বাস্তবতা। বিল গেলে আমি খাব কী? আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে লেখেন, আমাদের পেটে যেন লাথি না মারে।
২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি, প্রথম আলো: আড়িয়ল বিলে আন্তর্জািতক বিমানবন্দর নির্মােণর ঘোষণায় আড়িয়ল বিলের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। ঢাকায় সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ।
২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: আড়িয়ল বিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জািতক বিমানবন্দর নির্মােণর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল জনতার বিক্ষোভ। সহিংস বিক্ষোভ, পুলিশ নিহত। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে আট কি. মি. রণক্ষেত্র।
২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক-পদ্মার ওপারে অথবা চর এলাকায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা।
২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি, প্রথম আলো: নতুন বিমানবন্দর কেন। শাহজালাল আন্তর্জািতক বিমানবন্দর-বছরে যাত্রী পরিচালনাক্ষমতা ৮০ লাখ। যাত্রী আসা-যাওয়া করে ৪০ লাখ। রানওয়ের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার ৪০%। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জািতক বিমানবন্দর-বছরে যাত্রী পরিচালনাক্ষমতা ৮০ লাখ। ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার ৩০%। সিলেট ওসমানী আন্তর্জািতক বিমানবন্দর-শুধু দেশীয় বিমান চলাচল। তিনটি আন্তর্জািতক বিমানবন্দর ও ৫টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর আছে। এসব বিমানবন্দরের কোনোটারই ধারণক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা হয় না।
২০০৯ সালের ১৪ জুলাই, প্রথম আলো: কয়েকটি সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন। অর্পিত সম্পত্তির খসড়া আইনের সমালোচনা, বাতিলের দাবি। অর্পিত সম্পত্তির পরিমাণ মোট ৮০ লাখ বিঘা। দেশে ২৭ লাখ হিন্দুখানা বা বাড়ি রয়েছে। এরমধ্যে ১২ লাখ খানা বা বাড়ি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত রয়েছে। মোট দখলদারের সংখ্যা হবে ৫ লাখ। এরমধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ বিএনপির, শতকরা ১৩ ভাগ আওয়ামী লীগের এবং শতকরা ৯ ভাগ জামায়াতে ইসলামীর। তবে দখলদারের অধিকাংশ সময় ক্ষমতাসীন দলের হয়ে থাকেন। ১৯৬৫ সালে অর্পিত সম্পত্তি আইনটি হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত এ আইনটি আছে। আমি আশা করেছিলাম যে-এ আইনটি বাংলাদেশ হওয়ার পর আর থাকবে না মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর)।
২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০৯ প্রত্যাখ্যান। মোট দখলদারের সংখ্যা পাঁচ লাখ। রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক দিয়ে দখলদারদের ৬৫% শতাংশ বিএনপি, ১৩% শতাংশ আওয়ামী লীগ এবং ৯% শতাংশ জামায়াতে ইসলামী।
২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি, প্রথম আলো: হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন প্রত্যাহার দাবি।
২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি, প্রথম আলো: সাংবাদিকদের অহেতুক হয়রানি বন্ধে সংসদে বিল উত্থাপন। অর্পিত সম্পত্তি বিল উত্থপিত হয়নি।
২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো : রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ভারত : উন্নয়ন ও বঞ্চনা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, বইয়ের লেখক ড. অমর্তয সেন ও সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। একক বক্ততা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান, ড. অমর্তয সেনের সহপাঠী অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান স্বাগত বক্তবো অমর্তয সেনের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও অবদান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরেন। ''অর্থৈনতিক উন্নয়ন ও মানবিক প্রগতি'' শীর্ষক উন্মুক্ত বক্ততা করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমত্র্য সেন(২৩-০২-২০১৫ তারিখ)। ''অর্থনীতির সঙ্গে দরকার মানবিক প্রগতিও''। একক বক্ততায় ড. অমত্র্য সেন। বিশ্ববরেণ্য এই চিন্তবিদ বলেন, ''মানবিক প্রগতির জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ থাকা দরকার। সর্বিশক্ষা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা সরকারি বিনিয়োগ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগে হয়েছে-পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই। এর কারণ ব্যাখা করে তিনি বলেন, ''বেসরকারি খাতের মাধ্যমে দরিদ্র লোকের স্বাস্থ্য, শিক্ষা দেওয়া যাবে, তা ভীষণ দিকভ্রম। বেসরকারি খাত দিয়ে এটা করানো অর্থৈনতিক চিন্তার ভ্রম।''
ড. সেন বলেন, মানবিক প্রগতির সঙ্গে অর্থৈনতিক প্রগতির দ্বন্দ্ব রয়েছে। মানবিক প্রগতির অভাবে অর্থৈনতিক প্রগতি থেমে থাকতে পারে। আমার মনে হয়, ভারতের এখনকার সমস্যা এটাই। তবে জাতির বিশাল অংশকে স্বাস্থ্যহীন, শিক্ষাহীন রেখে অর্থৈনতিক প্রগতি নিয়ে বহুদিন ধরে টিকে আছে ভারত। বেশ কিছু উদাহরণ দিয়ে এই ড. সেন বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের মাথাপিছু আয় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। এখন ২৩-০২-২০১৫ তারিখ) তা বেড়ে ১০০ শতাংশ হয়েছে। এটা ভারতের অর্থৈনতিক প্রগতি। তবে ১৯৯০ সালে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ূ তিন বছর কম ছিল। এখন ভারতের চেয়ে বাংলাদেশিদের তিন বছর গড় আয়ূ বেশি। এখন ভারতের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা রাজ্য কেরালা। তবে বহু আগে থেকেই কেরালা শিক্ষায় এগিয়ে আছে।
১৮১৬ কেরালার ১৮ বছর বয়সী এক রানি শিক্ষার প্রসারে একটি প্রগতিশীল বিবৃতি দিয়েছিলেন। তখন কেরালায় বর্ণৈবষম্য ছিল। শিক্ষা দিয়ে এই পার্থক্য দূর করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করেছে কেরালা। ১৯৬৩ সালে ভারতের ২৪টি রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় দরিদ্রতম রাজ্য ছিল কেরালা। আর এখন ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য কেরালা। কেরালার গড় আয়ু ৭৪ বছর বয়স এবং যা প্রায় চীনের গড় আয়ুর সমান। ড. সেন মনে করেন, অর্থৈনতিক উন্নয়নের সঙ্গে মানবিক প্রগতির পার্থক্য রয়েছে, প্রথমেই এটা মানা উচিত। অর্থৈনতিক উন্নয়ন হচ্ছে, আবার বঞ্চনাও রয়েছে ৮০ ভাগ লোকের। আমার মনে হয়, ৯০ ভাগ লোকের(মো: জাকির হুসেন)।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা ও দেশভাগের আগের সময়কালকে উদাহরণ হিসেবে এনেছেন এই নোবেলজয়ী ড. সেন। তাঁর মতে ১৯৪৭-এ যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শেষ হলো, তখন এই উপমহাদেশের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। অথচ ১৭৭৬ সালেই অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিত বলে গিয়েছেন বিশ্বের ধনী দেশ কোনগুলো। এর মধ্যে ভারতকে তিনি ধরেছেন, বাংলাকেও ধরেছেন। কী কারণে বাংলা ধনী, এর বিবরণও দিয়েছেন অ্যাডাম স্মিত। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো নদী দিয়ে তখন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হতো।
১৯০০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ড. সেন বলেন, ভারতবর্ষে অর্থৈনতিক প্রবৃদ্ধি হয়নি বললেই চলে। এই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, অর্থাৎ অত্যন্ত তুচ্ছ হার। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতার পর প্রথম বছর ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ১৯৪৭ সালের তুলনায় বর্তমান মাথাপিছু আয় সাত গুণ বেড়েছে। সেই তুলনায় মানুষের গড় আয়ু বাড়েনি। ভারতবর্ষে অর্থৈনতিক প্রগতি হলেও মানবিক প্রগতি হয়নি ড. সেন বলেন এবং চিকিৎসা খরচ মেটাতে যেয়ে অনেক লোক আরও গরীব হয়েছে।
ড. সেন বলেন, তবে তিনি ভারতের রপ্তানি খাতের প্রশংসা করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও গাড়ির যন্ত্রাংশ (অটোপার্টস) শিল্পে যতেষ্ট ভালো করেছে ভারত। এ তিনটি জিনিসই ভারতের রপ্তানি খাতের প্রসার ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্র প্রসঙ্গে অমর্তয সেন বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনা কিছু সম্ভব নয়। কিন্তু দিনে দিনে সেই আলোচনার জায়গাটি সংকুচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের গণতন্ত্র কিছুদিনের মধ্যে একেবারে পারফেক্ট হবে, এমনটি মনে করার কারণ নেই। তবে গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, ভাবতে হবে।
বামপন্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কারণে আক্রোশ বা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেমন নয়। তবে প্রেসিডেন্সি কলেজে রাজনীতি করার কারণে জাপানে ভিসা পেতে সমস্যা হয়েছে। যদিও এখন জাপানে পড়াই।
২০০৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর যাদের খাওয়া ও ভোগ্যপণ্য বাবদ মাসিক ব্যয় মাত্র ৯০০/-টাকা(শহরে) বা ৬০০/-টাকা (গ্রামে) সরকারী হিসেবে তারা দরিদ্র।
| মোট জনসংখ্যা | ১৯৮৪ | ২০০৪ | ২০০৫ | বৃদ্ধি ঘটেছে |
| ১০,৫০,০০,০০০ | ১৪,৭৫,০০,০০০ | ১৫,০২,৬০,০০০ | ৪,৫২,৬০,০০০ |
| মোট দরিদ্র | ৬,৫০,০০,০০০ | ৯,৭৫,০০,০০০ | ১০,০০,৬০,০০০ | ৩,৫০,৬০,০০০ |
| মোট মধ্যবিত্ত | ৪,০০,০০,০০০ | ৫,০০,০০,০০০ | ৫,০২,৬০,০০০ | ১,০২,৬০,০০০ |
| নিম্ন মধ্যবিত্ত | ২,৩০,০০,০০০ | ৩,০০,০০,০০০ | ৩,০২,০০,০০০ | ৭২,০০,০০০ |
| মধ্য মধ্যবিত্ত | ১,৬০,০০,০০০ | ১,৮০,০০,০০০ | ১,৮০,০৫,০০০ | ২০,০৫,০০০ |