২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল, প্রথম আলো: ৬৫টি সেতু কাদের কারণে অসমাপ্ত রয়েছে জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। পদ্মা সেতুর কাজ আগামী বছরে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় তিন হাজার অসমাপ্ত সেতুর কাজ শেষ করতে অনুরোধ জানিয়ে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০০৯ সালের ১ মে, প্রথম আলো: পদ্মা সেতুর পাঁচটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন। নকশা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মােণর পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় তা ২০১৩ সালের মধ্যে নির্মােণর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সেতু তৈরিতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। সরকারের বাইরে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন(জেবিআইসি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, কুয়েত ফান্ড, আবুধাবি ফান্ড অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেতুর দৈর্ঘয হবে ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার, প্রস্থ হবে ২৫ মিটার।

২০০৯ সালের ২৩ জুন, প্রথম আলো: মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থমন্ত্রী-পদ্মা সেতু নির্মােণ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ১৩০ কোটি ডলার দেবে।

২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর, প্রথম আলো: প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর ওপরে মোটরযান, নিচে চলবে ট্রেন। সেতুর প্রাথমিক নকশা অনুমোদন চূড়ান্ত হবে ফেব্রুয়ারিতে।

২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর, আমাদের সময়: ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু। মোট ব্যয় হবে ১৬,৬৪৪(ষোল হাজার ছয়শত চুয়াল্লিশ) কোটি টাকা। হয়নি।

২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতুর উদ্ধোধন। আগামী বছরের শুরুতে বুড়িগঙ্গা দখলমুক্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০১৩ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

২০১০ সালের ২০ জানুয়ারি, প্রথম আলো: পদ্মা সেতুর নির্মাণব্যয়ই বড় প্রশ্নচিহ্ন। এখনো ভূতাত্ত্বিক জরিপ হয়নি। নদী শাসনের জন্য মাটি পরীক্ষার ফলাফলও হাতে আসেনি। অনেকগুলো মৌলিক সমীক্ষা এখনো বাকি রয়ে গেছে। অথচ পদ্মা সেতু নির্মােণর সম্ভাভ্য খরচ বেড়েই চলেছে। ২০০৯ সালেই এর প্রাক্কলিত ব্যয় চারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বেশষ ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সেতু উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেছেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে এ বছর। আর শেষ হবে ২০১৩ সালে। সেতু তৈরি করতে সব মিলিয়ে খরচ হবে ২৬০ কোটি ডলার বা ১৭ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু চীনারা তৈরি করেছে ১৭০ কোটি ডলারে, আর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। এ অর্থে পদ্মা সেতু তৈরি হলে এটিই হবে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সেতু। ২০০৭ সালে জাতীয় অর্থৈনতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি(একনেক) ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ১৪৭ কোটি ২৭ লাখ ডলারে প্রথম প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল। বলা হয়েছিল, ২০১৫ সালের মধ্যে সেতু তৈরি হবে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম বলা হয়, পদ্মা সেতুর নির্মােণ ব্যয় হবে ১৮০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এরপর আরও তিন দফা ব্যয়ের হিসাব ঘোষণা করা হয় এবং প্রতিবারই তা বেড়েছে। যেমন ২০০৯ সালের আগষ্ট মাসে বলা হলো, সেতু নির্মােণ ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আরেক দফা বাড়িয়ে বলা হয় ২৪০ কোটি ডলার। সর্বেশষ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২৬০ কোটি ডলারের কথা। আন্তর্জািতক সেতু নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত প্রতি কিলোমিটার সেতু নির্মােণ বর্তমানে ব্যয় হয় ১০ কোটি ডলার বা ৬৯০ কোটি টাকার মতো। বাংলাদেশের নদীগুলো একটু জটিল প্রকৃতির। এখারকার নদীতে পলি পড়ে বেশি, নদীর তলদেশের মাটিও (স্কাওয়ারিং) দ্রুত সরে যায়। নদীর পাড় ভাঙ্গে বেশি। তাই পদ্মা, যমুনা বা মেঘনার মতো বড় নদীতে ১০ কোটি ডলারে সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে না। এটিকে দ্বিগুণ করতে হবে এবং সঙ্গে আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ যোগ হলে এখানে কিলোমিটারপ্রতি সেতু নির্মােণ সর্বোচ্চ দেড় হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ২২ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। গত এক দশকে যত সেতু নির্মাণ হয়েছে তাতে গড়ে খরচ হয়েছে এক কিলোমিটারে ৬০৩ কোটি টাকা। তবে এর সঙ্গে রেলসংযোগ, মূল্যস্ফীতি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ যোগ করলে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় সর্বোচ্চ দেড় হাজার কোটি টাকা বা ২২ কোটি ডলার। প্রসঙ্গত, ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মােণ প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা, কয়েক দফা বাড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত খরচ হয় তিন হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা। আন্তর্জািতক অভিজ্ঞতা: চীনের হাংজু উপসাগরের ওপর ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু সাড়ে তিন বছরে ১৭০ কোটি ডলার বা ১১ হাজার ৭৩০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছর সেতুটি উন্মক্ত করে দেওয়া হয়। এখানে মোট রেল পথ আছে ১১৪ কিলোমিটার এবং এর জন্য ইয়াংকান ও লিয়াংসু নামের দুটি সেতু তৈরি করতে হয়েছে। ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই সেতুসহ রেলপথ তৈরিতে খরচ হয়েছে ২০০ কোটি ডলার বা ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কোরিয়ার ইনচিয়ন বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত ইনচিন সেতুর দৈর্ঘয ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার। সমুদ্রের ওপর এ সেতুটি চার বছরে নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ১৪০ কোটি ডলার বা নয় হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। গত বছর ভারতের মুম্বাইতে চলাচলের জন্য উন্মক্ত করে দেওয়া হয় ৫ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ রাজীব গান্ধী সেতু। এটি নির্মােণ ব্যয় হয়েছে ৪০ কোটি ডলার বা দুই হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেতুর নকশা অনুযায়ী নির্মিত হবে পদ্মা সেতু। দ্বিতল এই সেতুর ওপরে চলবে যানবাহন ও নিচে চলবে ট্রেন।

২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। উন্নয়ন-সহযোগীরা পদ্মা সেতু বাদে অন্যগুলোয় কম আগ্রহী।

২০১০ সালের ২১ অক্টোবর, প্রথম আলো: বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর সময় ও ব্যয় দুই-ই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১১ সালের মার্চে শুরু হবে এবং এ জন্য ব্যয় হবে ২৯০ কোটি ডলার বা ২০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর আগে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪০ কোটি ডলার। এ দফায় ব্যয় বাড়ল আরও ৫০ কোটি ডলার। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে এ সেতু নির্মােণ ব্যয় হবে বলে জানিয়েছিল (জাইকা) আট হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা সেতু বিভাগের সচিব বলেন পদ্মা সেতুর ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হলো এর দৈর্ঘয ১০ কিলোমিটার করা হয়েছে। ২০০৭ সালে জাতীয় অর্থৈনতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ১৪৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বলা হয়, পদ্মা সেতুর নির্মােণ ব্যয় হবে ১৮০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। এরপর আরও তিন দফা ব্যয়ের হিসাব ঘোষণা করা হয় এবং প্রতিবারই তা বেড়েছে। যেমন ২০০৯ সালের আগস্টে বলা হলো, সেতু নির্মােণ ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে আরেক দফা বাড়িয়ে বলা হয়, ২৪০ কোটি ডলার। সর্বেশষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ২৬০ কোটি ডলারের কথা। ঋণদাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে এডিবি, বিশ্বব্যাংক, জাপান ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। পদ্মা সেতুর নির্মােণ বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে ১৫০ কোটি ডলার।

২০০৮ সালের ২ মার্চ, নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা সেতু জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.২০% বাড়াবে। আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: এডিবি। এতে আরও বলা হয়, যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে দর্শনার দূরত্ব ৪০৩ কিলোমিটার, আর বেনাপোল থেকে ঢাকার দূরত্ব ৫১৮ কিলোমিটার। কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মিত হলে ঢাকা থেকে বেনাপোলের দূরত্ব হবে ২০০ কিলোমিটার। ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা নদীর ওপর পাঁচ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। সেতুর নির্মাণকাজ ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে শুরু হতে পারে। ২০১৪ সালের মধ্যে শেষ হতে পারে। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর দূরত্ব অন্তত ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে।

২০১০ সালের ৪ ডিসেম্ব্বর, দৈনিক জনকন্ঠ: পদ্মা সেতু নির্মােণর অর্থ সংস্থান হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী-আবুল হোসেন। সেতু নির্মােণ ২১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকা দাতাদের নিকট থেকে পাওয়া গেছে। বাকী টাকা সরকারকে অভ্যন্তরীনভাবে যোগান দিতে হবে।

২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: কাজ না করেই টাকা উত্তোলন। পদ্মা সেতু-চুক্তির পুরো টাকাই উঠিয়ে নিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মনসেল-এইকম, এখন আরও প্রায় ৭০ কোটি টাকা দাবি করছে। পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি, প্রথম আলোঃ পদ্মা সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ। 'ঘুষ বাণিজ্যে'র প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্তদের অবরোধ।

২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর, প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের চিঠির জবাব দিয়েছে-দুর্নীিতর বিষয়ে ছাড় নেই।

২০১২ সালের ৪ এপ্রিল, প্রথম আলো: দুর্নীিত খুঁজে পেয়েছে কানাডা-পদ্মা সেতু বিষয়ে এসএনসি-লাভালিনের ওপর বিশ্বব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা। বিশ্বব্যাংক গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এসএনসি-লাভালিনকে আগাম সাময়িক বরখাস্তা (ইটিএস) করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট কোনো প্রকল্পের ঠিকাদারি দরপত্রে অংশ নিতে পারবে না বা ঠিকাদারি দরপত্রে অংশ নিতে পারবে নাপ বা কোনো কাজ পাবে না এসএনসি-লাভালিন।

২০১২ সালের ১০ মে, প্রথম আলো: দুর্নীিতর প্রমাণ দিল বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক আবারও সরকারকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দুর্নীিতর প্রমাণ দিয়েছে। গত এপ্রিলে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দুর্নীিতর নতুন তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আমরা প্রত্যাশা করি, কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনবে। অ্যালেন গোল্ডস্টেইন, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের পরিচালক।

২০১২ সালের ২০ জুন, প্রথম আলো: পদ্মা সেতু নিয়ে দুদকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন। পদ্মা সেতু দুর্নীিতর সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে দুদক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ। ৪৭ মিলিয়ন ডলারের কাজ পাইয়ে দিতে কানাডার এসএনসি-লাভালিনের কাছে ১০% কমিশন চান সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী, সাবেক সচিব ও প্রকল্প সচিব ও প্রকল্প পরিচালক। যেভাবে তথ্য পেল-অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এসএনসি-লাভালিনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মমর্তা পিয়েরে দুহাইমের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে কানাডার পুলিশ। কয়েক দফা বৈঠক-এসএনসি-লাভালিনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী, সচিব ও প্রকল্প পরিচালকদের বৈঠক হয় অনেকগুলো। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা-কাজ পাইয়ে দিতে যুক্ত হন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা, নাম এসেছে হুইপের ভাইয়েরও। অর্থায়ন স্থগিত-দুর্নীিতর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার ঋণ স্থগিত রেখেছে বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতু নির্মােণ পরামর্শক নিয়াগের বিষয়ে বেশ কিছু অসংগতির তথ্য রয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অনুসন্ধানের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ১০% ঘুষ চান মন্ত্রী-সচিব। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক সরকারের কাছে একটি চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুর দুর্নীিত নিয়ে একটি উচ্চপর্যােয়র কমিটি গঠন করার আহবান জানায়।

২০১২ সালের ৩ জুলাই, প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংক দুর্নীিতর কারণে পদ্মা সেতুর চুক্তি বাতিল করেছে। বিশ্বব্যাংকের বক্তব্য অপমানজনক। সংসদে অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি। ঋণচুক্তি বাতিলে বিশ্বব্যাংককে সমর্থন দিল এডিবি। জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে জাইকা। ২৯০ কোটি ডলার খরচ হবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ ও চার উন্নয়ন-সহযোগী বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও আইডিবি ছিল এই অর্থের জোগানদাতা। বিশ্বব্যাংকের চুক্তি বাতিল যথাযথ হয়নি-সংসদে অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি।

২০১২ সালের ৪ জুলাই, প্রথম আলো: দুর্নীিতর অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত 'সঠিক' বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।

২০১২ সালের ৫ জুলাই, দৈনিক জনকন্ঠ: বিশ্বব্যাংকের চুক্তি বাতিল বিষয়ে সংসদে আলোচনার দাবি নাচক-স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মােণ বিশ্বব্যাংক দুর্নীিতর কারণে ঋণচুক্তি বাতিল।

২০১২ সালের ৫ জুলাই, প্রথম আলো: কলকাতায় অর্থমন্ত্রী-আমার পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক অর্থ না দিলেও বিকল্পভাবে অর্থ যোগাড় করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। পদ্মা সেতু নির্মােণর জন্য তিন বছর আগে ২৪ হাজার কোটি খরচ ধরা হয়েছিল। এখন এই খরচ বেড়ে ২৭-২৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

২০১২ সালের ২৪ জুলাই, প্রথম আলো: মন্ত্রিত্ব ছাড়তেই হলো আবুল হোসেনকে। ছুটিতে গেলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব।

২০১২ সালের ২৫ জুলাই, প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংকের শর্ত পূরণে 'আবুল ইজ ডাউন': অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

২০১২ সালের ২৬ জুলাই, প্রথম আলো: পদ্মা সেতু প্রকল্প-বিশ্বব্যাংকসহ চার উন্নয়ন সহযোগীকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। সেতু প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীিত হবে না: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিেবচনার আহবান।

২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: ৩৮ কোটি টাকা ঘুষ-জড়িত ১০ জন। পদ্মা সেতু প্রকল্প-দুদকের খসড়া অনুসন্ধান প্রতিবেদন।

২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: ১২ ডিসেম্বর, পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের মূল সেতু ও নদী শাসনকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ২০০৭ সালে পদ্মা সেতুর ব্যয় ছিল-১০,১৬১ কোটি টাকা। ২০১১ সালে পদ্মা সেতুর ব্যয় বেড়ে হয়-২০,৫০৭ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে পদ্মা সেতুর ব্যয় বেড়ে হয়-২৮,৭৯৩ কোটি টাকা। মূল নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই দুই দফায় খরচ বাড়ল-২৮৩% বা শতাংশ।

২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ঢাকাবাসীকে ২০২০ সালে মেট্রোরেলে চড়াতে চায় সরকার।

২০০৪ সালের আগষ্টে সারাদেশে ৭৭৯টি হত্যাকান্ড হয়েছে
প্রতিদিন গড়ে খুন হয়েছে ২৫ দশমিক ১২ জন

।স্টাফ রিপোর্টার: বিচারপতি সুলতান হোসেন খান ও এডভোকেট সিগমা হুদা পরিচালিত বাংলাদেশ মানবাধিকার।

বাস্তবায়ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গতকাল (মঙ্গলবার,৩১-০৯-২০০৪) সমাপ্ত আগষ্ট মাসে ৭৭৯টি হত্যাকান্ড ঘটেছে

২০০৪ সালের ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুাং করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ''র্যাব''।

২০০৪ সালের ৭ জুলাই, সংসদ রিপোর্টার: পহেলা অক্টোবর, ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৯ হাজার ৭৩৭টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।

২০০৪ সালের ২ অক্টোবর, মোস্তাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম সেলিম: গত বৃহস্পতিবার (৩০-০৯-২০০৪ তারিখ) র্যাবের সাথে ৬-ঘন্টার বন্দুকযুদ্ধে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী জানে আলমসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। র্যাবের সাথে জানে আলম বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ। রাউজানে ১০ সন্ত্রাসী নিহত।

২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর, স্টাফ রিপোর্টার: ডেমোক্রেসিওয়াচের প্রতিবেদন: অক্টোবরে খুন হয়েছে ৩১৭ জন, ধর্ষেণর ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি।