‹ আমার দেখা ঢাকা অংশ ৪৭ / ৫২
কতমানুষের বসবাস উপযোগী যায়গা
সাগর, জল ও স্থলসহ পৃথিবীর আয়তন১৯,৫২,৫০,৮০০(উনিশ কোটি বায়ান্ন লক্ষ পঁঞ্চাশ হাজার আটশত)
কতবর্গমাইলএরমধ্যে ২১টি ছোট-বড় সাগরের আয়তন
হলো-১৩,৮২,৩৩,৮০০(তের কোটি বিরাশি লক্ষ তেত্রিশ হাজার আটশত)
বর্গমাইল
পৃথিবী থেকে বাংলাদেশ, বাংলাদেশপৃথিবীর কাছ থেকে বাংলাদেশ যায়গা পেয়েছে-৯৯৫ ভাগের ১ ভাগ
থেকে বি-বাড়িয়া জেলা ও বি-বাড়িয়াযায়গা, মানুষের তুলনায় পৃথিবীর কাছ থেকে বাংলাদেশ যায়গা
জেলা থেকে বাঞ্ছারামপুরপাওয়া উচিত ছিল-১৩,২৫,৯৭৭(তের লক্ষ পঁচিশ হাজার নয়শত সাতাত্তর)
উপজেলা-কতটুকু যায়গা পেয়েছে তারবর্গমাইলকিন্তু যায়গা পেয়েছে-৫৭,২৯৫(সাতান্ন হাজার দুইশত
হিসেব দেয়া হলো:পঁচানব্বই) বর্গমাইলবাংলাদেশ থেকে বি-বাড়িয়া জেলা যায়গা
পেয়েছে-৪৭.৫৫ ভাগের ১ ভাগ যায়গা, মানুষের তুলনায় বাংলাদেশ
থেকে বি-বাড়িয়া জেলা যায়গা পেয়েছে কিছু বেশীবি-বাড়িয়া
জেলা থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যায়গা পেয়েছে-১৫.০৫ ভাগের ১
ভাগ যায়গা (৮০ বর্গমাইল) যায়গা মানুষের তুলনায় যায়গা পাওয়া
উচিত ছিল-১৪২ বর্গমাইল
বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বি-বাড়িয়াবাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাস করে বি-বাড়িয়া জেলার ৮ ভাগের ১ ভাগ
জেলার, বাংলাদেশের এবং পৃথিবীরমানুষ, বাংলাদেশের ৫৩৩ ভাগের ১ ভাগ মানুষ এবং পৃথিবীর
কতভাগ লোক বাস করে২৩,২৩৩ ভাগের ১ ভাগ মানুষবি-বাড়িয়া জেলায় বাস করে
বাংলাদেশের-৭০ ভাগের ১ ভাগ মানুষ এবং পৃথিবীর-২,১৭৮ ভাগের ১
ভাগ মানুষবাংলাদেশে বাস করে পৃথিবীর-৪৩.৫৬ ভাগের ১ ভাগ
মানুষ
বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন২০১১ সালে ৩.৩৩(তিন কোটি তেত্রিশ লক্ষ) টন
২০১১ সালে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন হয়প্রায়-২২০(দুইশত বিশ কোটি) টন
২০০৮ সালে বিশ্বে খাদ্য মজুদ ছিলপ্রায় ৪০ কোটি টন
পৃথিবীর খাদ্যের কতগুণ হয়৬৬ ভাগের ১ ভাগ খাদ্য উৎপাদন হয় বাংলাদেশেপৃথিবীর ৪৫ ভাগের
বাংলাদেশে১ ভাগ মানুষ বাস করে বাংলাদেশে
পৃথিবীর লোকসংখ্যার আনুপাতিকবাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন হতো-৫(পাঁচ) কোটি টনআধুনিক
হারে খাদ্য উৎপাদন করতে পারলেপদ্ধতিতে চাষ করলে (ফাওয়ের হিসেব অনূযায়ী) বাংলাদেশে খাদ্য
উৎপাদন হবে-২৪(চব্বিশ) কোটি টন
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সমগ্র ভূমি কিবাঞ্ছারামপুর উপজেলার সমগ্র ভূমি মেঘনা প্লাবন ভূমি নামে
নামে পরিচিতিপরিচিতি
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সমগ্র ভূমিবাঞ্ছারামপুর উপজেলার সমগ্র ভূমি বর্ষাকালে পানির নিচে চলে যায়
বর্ষাকালে কি রূপ ধারণ করে-এবং পানির উপরে থাকে শুধু যেখানে মাটি ভরাট করে কৃত্রিম উপায়ে
উঁচু ভূমি সৃষ্টি করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে
১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে বাঞ্ছারামপুর১৬(ষোল) হাজার
উপজেলায় তাঁতের সংখ্যা ছিল
২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর-এ এসে১,৬০০(এক হাজার ছয়শত)
বাঞ্ছারামপুর উপজেলাতে তাঁতের
সংখ্যা হলো কত
বাঞ্ছারামপুর থানার প্রতিষ্ঠাকালবাঞ্ছারামপুর থানা প্রতিষ্ঠা হয় ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে
বাঞ্ছারামপুর পুলিশ ফাঁড়ি নাম ছিল তার পূর্বে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে
মরিচাকান্দি পুলিশ ফাঁড়ি নাম ছিলএ পুলিশ ফাঁড়িগুলি যখন ছিল
তখন গৌরিপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে এবং নবীনগর-এর
নামে থানার নামকরণ করা হয় ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
বাঞ্ছারামপুর থানার নাম পরিবর্তন১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে বাঞ্ছারামপুর থানার নাম পরিবর্তন করে
করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নাম করণ''বাঞ্ছারামপুর উপজেলা'' নামকরণ করা হয়
হয় কবে
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কারো নিকটমোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর), গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি),
কোন নতুন তথ্য জানা থাকলে-পোঃ-রূপসদী, উপজেলা-বাঞ্ছারামপুর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া,
বিভাগ-চট্টগ্রাম, দেশ-বাংলাদেশটেলিফোন-বাসা-৯৬৬৯৮৩৫,
মোবাঃ-০১৭১৬৬৫৪৮৪৪, অফিসঃ-৯৬৬১৯২০-৭৩/৪০৪৮এ টেলিফোন
নাম্বারে আমাকে জানানোর জন্য আপনাদেরকে বিনীত অনুরোধ
করছি

২০০৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এম. এ. খালেক, পি. এস. সি. তাঁর ভাষণে বলেন যে, আজ থেকে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে আপনারা গাড়ী নিয়ে যেতে পারবেন। এ কথার সাথে আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) একমত নই এ কারণে যে, উনি জনাব এম. এ. খালেক, পি.এস.সি. বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে গাড়ী নিয়ে যাওয়ার মত রাস্তা তৈরী করতে পারবেন না। তিনি আরো বলেছেন যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে এবং এও বলেছে যে, বাংলাদেশে ৩০% গ্রামে বিদ্যুৎ আছে। আর বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৮০% গ্রামে বিদ্যুত আছে। আমার কথা হলো যে, এ অঙ্গীকারও তিনি পালন করতে পারবে না-মানে সবাইকে বিদ্যুৎ দিতে পারবে না। যদিও তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সব গ্রামে বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করেও থাকে তা'হলেও সকল গ্রামের সবাইকে বিদ্যুত দিতে পারবে না। এখনও বাংলাদেশের ৩০% গ্রামের সবাই বিদ্যুৎ পায় না। বাংলাদশের ৩০% লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে থাকে তাও আবার নিয়মিত না। বাংলাদেশের মধ্যে নিয়মিত শতকরা বড়জোর ১৫% লোক নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা পায়।

২০০৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় মিরপুর গ্রামের ড. রওশন আলম বলেন যে, মিরপুর গ্রামে ৫০০ বেডের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে। এ কথা বলায় অনেকে হাততালি দিয়েছে। এ কথার সাথে আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) একমত নই এ কারণে যে, উনি ড. রওশন আলম গ্রামে ৫০০ বেডের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে না, কারণ পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় মিরপুরের মত গ্রামে এ হাসপাতাল চলবে না। এ সমাজ ব্যবস্থায় কেউ কোন প্রতিষ্ঠান মুনাফার বাহিরে প্রতিষ্ঠা করে না। ড. রওশন আলম ফাঁকা বক্তব্য দিয়েছে সমিতির সভায়। এখনো পর্যন্ত মিরপুরে ৫০০ বেডের হাসপাতাল করতে পারে নাই(০৪-০৮-২০১২ তারিখ)

২০১০ সালের ২৩ জানুয়ারি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় মাননীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপটেন (অব.) এ. বি. তাজুল ইসলাম প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন যে, কড়ইতলা ঘাটে ফেরিত ব্যাপার নয়-অল্প কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে এবং আগামীতে মেঘনা নদীর ওপর একটি ব্রিজ হবে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার লোকেরা মেঘনা নদীর ওপর ব্রিজ দিয়ে ঢাকাতে যাতায়াত করবে। এ কথার সাথে আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) একমত নই এ কারণে যে, উনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপটেন (অব.) এ. বি. তাজুল ইসলাম আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে কড়ইকান্দি থেকে টেইট্টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর ব্রিজ করতে পারবে না বা করবে না। এখন পর্যন্ত বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম বাস-সার্ভিস হয়নি। তবে আমার জানা মতে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সাল থেকে ঢাকা হতে হোমনা ও নবীনগরে বাস-সার্ভিস চালু হয়। তিনি আরো বলেছেন যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করবে। আমার কথা হলো যে, এ অঙ্গীকারও তিনি পালন করতে পারবে না-মানে সবাইকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে পারবে না। যদিও তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সব গ্রামে গ্যাস ও বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করেও থাকে তা'হলেও সকল গ্রামের সবাইকে বিদ্যুত দিতে পারবে না। এখনও বাংলাদেশের ৫০% গ্রামের সবাই বিদ্যুৎ পায় না। বাংলাদশের ৪৫% লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে থাকে তাও আবার নিয়মিত না। বাংলাদেশের মধ্যে নিয়মিত শতকরা বড়জোর ২৫% লোক নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা পায়।

২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় মাননীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপটেন (অব.) এ. বি. তাজুল ইসলাম প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন যে, বাঞ্ছারামপুরের জনগণের জন্য কড়ইকান্দি থেকে টেইট্টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর ব্রিজ করা সমীচীন হবে না। দু'বছর পর মন্ত্রী সাহেবের অনুভব হয় যে, বর্তমান সময়ে ব্রীজ করা সম্ভব হবে না। তাই দেরীতে হলেও সত্য কথা বলেছে।

।বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১২৪টি গ্রামের নামের তালিকাসমূহ:।

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নে মোটভেলানগর, বালুয়াকান্দি, ছয়ফুল্লাকান্দি, দরিভেলানগর, ফতেপুর,
১২টি গ্রাম আছেশরীফপুর, পাড়াতুলি, মধ্যনগর, ডোমরাকান্দি, মঙ্গলহাটী, কাঞ্চনপুর ও
মাসিমনগর
দরিকান্দি ইউনিয়নে মোট ৯টিখাল্লা, কৃষ্ণনগর, বাহাদুরপুর, দরিকান্দি, দরিগাঁও, গোকুলনগর,
গ্রাম আছেগোপালনগর, ইমামনগর ও জীবনগঞ্জ
রূপসদী ইউনিয়নে মোট ৪টিরূপসদী, আশ্রফপুর, হোগলাকান্দি ও খাউরপুর
গ্রাম আছে
ফরদাবাদ ইউনিয়নে মোট ৭টিনিজকান্দি, গাওরাটুলি, তিলককান্দি, পূর্বহাটি,
গ্রাম আছেকলাকান্দি, চরলহনিয়া ও ফরদাবাদ
তেজখালি ইউনিয়নে মোট ৯টিজয়নগর, ইমামনগর, আকানগর, গোটকান্দি,
গ্রাম আছেহরিনগর, বিষ্ণরামপুর, বাহেরচর(বারাইলচর),
তেজখালি ও হাসন্লনগর
পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নে মোটজয়কালিপুর, নবীপুর, ডোমরাকান্দি, উলুকান্দি,
৯টি গ্রাম আছেবড়কান্দি, কলাকান্দি, হিজলাকান্দি, পাহাড়িয়াকান্দি
ও মুন্সিনগর
দরিয়াদৌলত ইউনিয়নে মোট ৯টিমরিচাকান্দি, বাখরনগর, নতুন কদমতলি,
গ্রাম আছেশুঁটকীকান্দি, তাতুয়াকান্দি, কদমতলি, দরিয়াদৌলত,
কালাইনগর ও আসাদনগর
সোনারামপুর ইউনিয়নে মোটচরমরিচকান্দি, কানাইনগর, শান্তিপুর, ইছাপুর,
৮টি গ্রাম আছেদুলারামপুর, ফেরাইজ্জাকান্দি, সোনারামপুর ও চর
শিবপুর
বাঞ্ছারামপুর উত্তর ইউনিয়নে মোটদশদোনা, জগন্লাথপুর, বাঞ্ছারামপুর, দরি-
১৫টি গ্রাম আছেবাঞ্চারামপুর, ভিটিঝগড়ারচর, দুর্গারামপুর,
সফিরকান্দি, দুর্গাপুর, আলীপুর, মনাইখালী, পঞ্চমপুর,
ধারিয়ারচর, খোশকান্দি, তেলিকান্দি ও ভবনাথপুর
বাঞ্ছারামপুর দক্ষিণ ইউনিয়নেবাঁশগাড়ি, দশআনী, আইয়ুবপুর, চর ছয়আনী,
মোট ১০টি গ্রাম আছেইসলামপুর, নগরিরচর, কানাইনগর, খাশনগর,
কড়ইকান্দি ও পদ্দপুর
সলিমাবাদ ইউনিয়নে মোট ১৬টিসলিমাবাদ, সাহেবনগর, নিলখি, পাইকারচর,
গ্রাম আছেসাতবিলা, কমলপুর, মিরপুর, আশ্রাফবাদ,
হোসেনপুর, হায়দরনগর, তাতুয়াকান্দি, ভুরভুরিয়া,
গঙ্গানগর, ঝুনারচর, খাগকান্দা ও পাঠামারা
উজানচর পূর্ব ইউনিয়নে মোটনতুনহাটি, সরিষারচর, সেখেরকান্দি, উজানচর,
৮টিকৃষ্ণনগর, বুধাইকান্দি, রাধানগর ও কালিকাপুর
উজানচর পশ্চিম ইউনিয়নে মোটকল্যাণপুর, মানিকপুর, চারআনী, উলুকান্দি,
৮টিকাপাসকান্দি, দো-আনী, মায়ারামপুর ও বাহেরচর

সমাপনী:

আমি যা ভাবি তা' করতে পারি না, যা করি তা' ভাবি না। প্রতিদিন বিবেকের সাথে লড়াই করতে করতে হেরে যাই। প্রতিদিন এভাবে বিবেকের সাথে হারতে থাকলে আমার কি কোন সত্ত্বা থাকে? আমার কাছে একটা জিনিষ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, একটা সমাজব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে মানুষের চিন্তা-চেতনা বা চরিত্র গড়ে উঠে। আর যারা চাকুরী করে তাঁদের অধিকাংশেরই বিবেক বলতে কিছুই থাকে না। তার উপরওয়ালা যা বলে তা করতে হয় প্রতি মুহূর্তে-এর বাইরে কিছু করতে চাইলে তার চাকুরী থাকে না বা প্রমোশন হবে না। তার ওপরের বস যদি তাকে ভাল বলে তাহলে সে ভাল নতুবা ভাল না। এ সমাজে কাজের বিচার হয় না, বিচার হয় তার বসের কতটুকো মন রক্ষা করতে পারলো। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ কেউ কাকে বিশ্বাস করে না। পুঁজিবাদী সমাজে বিশ্বাস বলতে কিছু নেই। কাজ দিয়ে বিচার করতে হয়। একবার একটা লোক যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করে ফেলে, তাকে আর বিশ্বাস করা যায় না। অনেকে বাধ্য হয় বিশ্বাস ভঙ্গ করতে। তা'প্রমাণ করতে পারলে তাকে ক্ষমা করা যায়, একবার কি দু'বার, তিনবারের মাথায় নয়। আমি যা করতে চাই তা'করতে পারলে আমার স্বাধীনতা আছে বা আমি স্বাধীন মানুষ। কিন্তু আমার কাজ এমন হবে না যা অপরের জন্য ক্ষতিকর হয়। আমি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আর আসবো না।

চাকুরী করা চাকর খাটার সমান। কেউ বড় চাকর, কেউ ছোট চাকর। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ যা বলে তা করে না, আর যা করে তা'বলে না। আমিও আমার জীবনের সাথে আপস করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার দ্বারা এ পৃথিবীতে কিছু হবে বলে মনে হয় না। আর কিছু করতে হলে প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যার শত্রু নেই তার কোন মিত্রও নেই। যার শত্রু আছে তার মিত্রও আছে। সমাজে সৎ এবং অসতের লড়াই চলে। আর জোর যার মুল্লুক তার। সরকার নির্ধািরত বেতন কাঠামোর সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সৎভাবে চাকুরী করলে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। আমাদের দেশে সৎভাবে সম্পদের মালিক হওয়া কঠিন কাজ। সমাজের কিছু মানুষের লক্ষ্য একই, কিভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। কিভাবে ভবিষ্যৎ সুন্দর করা যায়। সমাজে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য জোর প্রতিযোগিতা চলছে। সম্পদের মালিক হতে হলে ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হলে সহজে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ গরীব ও শোষিত। তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমাদের দেশের কিছু লোকের নিকট সম্পদ জমা হচ্ছে। আর সমগ্র দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি নেই। যে সম্পদ মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়না-সে সম্পদ দেশে অপচয় বাড়ায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন-মানের অবনতি ঘটায়। এদেশে কিছু মানুষের ভোগবিলাসের সীমাপরিসীমা নেই। আর অন্যদিকে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ চরম দুঃখ দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের ভবিষ্যত বলতে কিছু নেই। এক মানুষ আরেক মানুষের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে বৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। শ্রমজীবী মানুষ নিজেকে চালাক মনে করে। আসলে আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষই বোকা। কিন্তু দেশের বেশীরভাগ মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা রাখা যাবে না। আমার বিশ্বাস এক সময় দেশের ৯০ ভাগ মানুষ জেগে উঠবে।

আমার ছোট সময়ের স্মৃতিগুলি মনে হয় বারবার। মরতে চাইনা তবু মরতে হবে। চিরন্তন বলে কোন কিছু নেই, সবকিছুই রূপান্তর। সমাজের নিয়ম হলো উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন। নিরপেক্ষ বলতে কোন বস্তু নেই এ পৃথিবীতে এবং ৫০(পঞ্চাশ), ৫০(পঞ্চাশ) বলতে কোন বস্তু নেই, ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং তা প্রমাণ করেছে। আমি কিছু একটা করতে চাই। কিন্তু কি করব তা স্পষ্ট করে বলতে পারি না। রাজনীতি করা মহান কাজ। যদি সাম্যের রাজনীতি হয়। সকল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করা মহান কাজ। মানুষের মাঝে সাম্য আনা শ্রেষ্ঠ কাজ। আমার মাঝে এ দেশের আসল চিত্রগুলি বারবার ভেসে উঠে। গ্রাম এবং শহরের গরীব মানুষের মুখের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারি তাদের চাহিদা কি। তাদের চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এর বেশী কিছু নয়। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে তাদিয়ে বাংলাদেশের ১৬.২০ (ষোল কোটি বিশ লক্ষ) জন মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এ সব মৌলিক চাহিদার গ্যারান্টি দেয়া যায়। তখনই আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হবে। নতুবা মুক্তিযুদ্ধের অর্থ বা এ স্বাধীনতার অর্থ ফাঁকাবুলি ছাড়া আর কিছু নয়। প্রত্যেকটা মানুষের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। কোন জিনিসই বিচ্ছিন্ন নয়। আমাদের গ্রামের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতে হবে নতুবা কিছুই সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তবু বাংলাদেশের একটি আলাদা বর্ডার বা সীমানা আছে। এ সীমানা বাংলাদেশকে পৃথিবী থেকে আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা। আর যতদিন পৃথিবীতে শোষণ টিকে থাকবে, ততদিন রাষ্ট্রের অবসান হবে না। আমরা মায়ের পেট থেকে কেউ সম্পদ নিয়ে আসিনি। শ্রমজীবী মানুষের উৎপাদিত সম্পদ শোষণ আর অসম বিনিময়ের মাধ্যমে বুর্জোয়ারা তার মালিক হয়েছে। যে যায়গায় মানুষ আছে-সে যায়গায় খাদ্য আছে। যে যায়গায় খাদ্য আছে-সে যায়গায় মানুষ আছে। বেশীরভাগ মানুষ বলে খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, আসলেই কি কথাটা তাই? যদি খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যেত-তা'হলে সবগুলো মানুষই মারা যেত। আসলে কথাটা হবে ক্রয়-ক্ষমতার অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে। ক্রয়-ক্ষমতা নাই কেন? কিছু মানুষ দ্বারা ব্যাপক মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় বলে। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করে দুর্ভিক্ষ। সম্পদের সুষম বন্টন করা হলে-কেউ না খেয়ে মারা যেতো না। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যা কিছু হয়-সবকিছুর জন্য দায়ী ধনীরা। ধনীদের অপচয় বন্ধ করতে পারলে এ দেশে কেউ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষার অভাবে মৃত্যুবরণ করতো না বা কাজের আশায় কাউকে আজ বিদেশে যেতে হতো না বা কেউ এদেশে বেকার থাকত না। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ভোগবিলাসের জন্য গরীবদের শাসন-শোষণ করছে। এ অন্যায় বৈষম্য যারা সৃষ্টি করেছে তারা অপরাধী। স্বার্থপর শাসক ও বিলাসী ধনীদের সৃষ্টি এ বৈষম্য মেনে নেওয়াও এক ধরনের অপরাধ। এ অন্যায় বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। বেশীরভাগ মানুষ বলে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলে দেশ শান্তির পথে চলবে কিন্তু আমি বলি যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পূর্বশর্ত হল মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি। মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি না আসলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আসবে না।