১৬১০ সালের ৭ জানুয়ারি, গ্যালিলিও বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ আবিস্কার করেন।

বিশ্বের প্রথম থামোির্মটার ষোড়শ শতকে ইতালিতে ১৬১২ সালে ডেনিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সেন্টোরিয়াস থামোির্মটার ব্যবহার করে মানবদেহের তাপমাত্রা পরিমাপের কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি নিজেকে এর আবিস্কারক হিসেবে দাবি করেননি। রোম থেকে পাওয়া ১৬১১ সালের কিছু নথিতে দুটো থামোির্মটারের নকশা পাওয়া গেছে। কিন্তু এর আবিস্কারকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

১৬৩৩ সালে জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলির ধর্মীয় বিশ্বাসের পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল এবং এরপর তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।

১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত কোনো কোনো গবেষকদের মতে বিশ্বের প্রাচীনতম সংবাদপত্রটি 'পোষ্ট অফ ইনরিফেস টিভলিনগার' পত্রিকাটি। কিন্তু মনে রাখা দরকার ওটি দৈনিক সংবাদপত্র নয়, 'সংবাদ সাময়িকী'।

১৬৬৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্বের প্রথম সংবাদ ম্যাগাজিন বের হয় ফ্রান্সের প্যারিস থেকে। ম্যাগাজিনটির নাম ছিল জার্নাল ডি স্কেভানস। ওই ম্যাগাজিনে অন্তর্ভুক্ত প্রধান প্রধান বিষয় ছিল নতুন বইয়ের খবর, মানবাধিকার ও বিজ্ঞানের সর্বেশষ অগ্রগতির খবরাখবর। এ ছাড়া থাকত আদালতের খবর ও মৃত্যুসংবাদ।

১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সংবাদপত্র বলতে যা বোঝায়, দৈনিক প্রকাশিত হয় এমন পত্রিকা সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় 'ফ্রাঙ্কফুটার জাইচুঙ'। এটি প্রকাশিত হয়েছিল জার্মািনর অন্তর্গত 'ফ্রাঙ্কফুট' নামক শহর থেকে। এটিই পৃথিবীর প্রাচীনতম দৈনিক প্রকাশিত সংবাদপত্রের প্রকৃত দাবিদার।

১৬৬৬ সালে স্যার আইজাক নিউটন আলোর বিচ্ছুরণ আবিস্কার করেন।

১৬৬৮ সালে সুইডিশ সেন্ট্রাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৮ সালে এসে সুইডিশ সেন্ট্রাল ব্যাংক-এর তিনশ' বছর বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এ পুরস্কার প্রবর্তন করে। ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে প্রথম নোভেল পুরস্কার দেয়া হয়। সুইডিশ ব্যাংকই এ পুরস্কারের অর্থের যোগান দিয়ে থাকে। সুইডিশ সেন্ট্রাল ব্যাংকই পৃথিবীর প্রথম ব্যাংক।

১৬৭৮ সালের ২৫ জুন, ইতালির গণিতবিদ মিসেস এলিনা পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বের প্রথম মহিলা হিসেবে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ করেন।

১৬৮০ সালের পর থেকে মাত্র বিজ্ঞানিরা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা ও পর্যেবক্ষণ শুরু করেছেন।

১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন মহাবিশ্বের অভিকর্ষ নিয়ে যে সূত্র দিয়েছিলেন, তা থেকে বিজ্ঞানের বড় ধরনের উত্তরণ হিসেবে বিবেচিত আইনষ্টাইনের তত্ত্বটি। আইনষ্টাইনের তত্ত্বটির নাম হল ''আপেক্ষিকতা'' ১৯১৫ সালের ২৫ নভেম্বর।

১৭৫৪ সালে চেনা গিয়েছিল কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে, ১৭৭২ সালে চেনা গিয়েছিল নাইট্রোজেনকে ও ১৭৭৩ সালে চেনা গিয়েছিল অক্সিজেনকে।

১৬৯০ সালে দুনিয়ার দ্বিতীয় ব্যাংক-ব্যাংক অব ইংল্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৬৯৭ সালে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে বিশ্বের সর্বপ্রথম ১১ জন করে খেলোয়ার নিয়ে গঠিত দু'টি দলের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭০৯ সালে ইংল্যান্ডের কেন্ট ও সারে সর্বপ্রথম। ১৭৮৭ সালে লন্ডনে ম্যারিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব এর জন্ম হয়েছিল। ১৭৮৮ সালে ক্লাব খেলার নিয়ম-কানুন চালু করে। মেয়েরা খেলে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে ১৮৮৭ সালে।

১৭৮০ সালে প্রথম ভার্সাই চুক্তি (ভার্সাই, ফ্রান্স) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাধীনতা রক্ষায় সমঝোতা সাধন, এ চুক্তির মাধ্যমে ৪ জুলাই, ১৭৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভ।

১৭৮১ সালের ১৩ মার্চ, স্যার উইলিয়াম হার্শেল ইউরেনাস গ্রহ আবিস্কার করেন।

১৭৮৩ সালের ৫ জুন, ফ্রান্সে জনসমক্ষে প্রথম বাস্পচালিত বেলুন উড়িয়ে দেখান মন্টগল ফায়ার ভাইয়েরা।

১৭৯২ সালের ১ অক্টোবর, ব্রিটেনে প্রথম মানিঅর্ডার প্রথা চালু হয়।

১৭৯২ সালের ১ অক্টোবর, বিশ্বের প্রথম মানি অর্ডার প্রচলন বৃটেনে শুরু হয়।

১৭৯৩ সালের ১৪ মে, এডওয়ার্ড জেনার পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দানের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেন।

১৭৯৭ সালে পৃথিবীর ওজন ছিল ৬(ছয়) কোটি কোটি কোটি টন।

১৭৯৭ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ছিল-২৫-বছর; ১৮৯৭ সালে গড় আয়ু ৪৮-বছর; ১৯৪৭ সালে ৬৫.১-বছর; ১৯৯৭ সালে ৭৬.৪-বছর। ২০ জুলাই, ১৯৯৯ সালের হিসেব ৭৭ বছর এবং ২০৪৭ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু হবে প্রায় ১০০/১২০ বছর।

১৮০২ সালের ১০ এপ্রিল, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জরিপ কাজের সূচনা হয়।

১৮০৮ সালের আগে কেউই কৃত্রিম আলোর উৎস তৈরীতে সাফল্য অর্জন করেননি। সে বছরই হামফ্রে ডেভি নামের এক ইংরেজ বিজ্ঞানী বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক আর্ক বাতি তৈরী করেন। দুই টুকরো কার্বনকে একটি ব্যাটারির দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয়। পরে এর মধ্যকার ফাঁকা জায়গা দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে কার্বেনর টুকরো দুটি উত্তপ্ত হয়ে আলো বিকিরণ করে। এটাই ছিল তাঁর আবিস্কৃত বাতির মূলনীতি।

১৮১২ সালের ১৮ জুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

১৮১২ সালের না ১৮১৪ সালের ২২ জুন, লন্ডনের লর্ডেস প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

১৮৩০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, রকেট দিয়ে লিভারপুল থেকে ম্যানচেস্টার পর্যস্ত রেলগাড়ি চলাচলের মাধ্যমে লিভারপুল অ্যান্ড ম্যানচেস্টার রেলওয়ের যাত্রা শুরু হয়। পৃথিবীর প্রথম এ আধুনিক রেলগাড়িটি উদ্বোধনী দিনেই দুর্ঘটনাকবলিত হয়। রকেট দুর্ঘটনায় সেদিন ব্রিটেনের এক সাংসদ নিহত হন। তবু সেই দিনটিকে আধুনিক পরিবহন যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন করে রেখেছে স্টিফেনসনের রকেট।

১৮৩১ সালের ২৯ আগস্ট, মাইকেল ফেরাডে বিদ্যুৎ প্রবাহ আবিস্কার করেন।

১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে চালর্স হ্যাবোস বিশ্বের প্রথম বার্তা সংস্থা এএফপির কার্যক্রম শুরু করেন ১৮৩৫ সালে প্যারিসে। মি. হ্যাবোস তাঁর বার্তা সংস্থার প্রতিবেদকের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ফরাসি সংবাদপত্রগুলোয় নিয়মিত সরবরাহ করতেন। আসলে হ্যাবোস এ কাজটি করতেন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য এবং গোয়েন্দা সংস্থার মতামতের পরই কেবল সেসব খবর বার্তা সংস্থার মাধ্যমে সংবাদপত্রে পৌছাত।

১৮৩৫ সালে 'নেগেটিব' আবিস্কার করে ব্রিটিশ আবিস্কারক ট্যালবট ছবি তোলার প্রযুক্তিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছিলেন। আধুনিক ফটোগ্রাফির জনক হেনরি ফক্স ট্যালবট। অষ্টাদশ শতকের ত্রিশের দশকে পৃথিবীর প্রথমদিককার ছবিগুলো তাঁরই তোলা।

১৮৩৮ সালের ৬ জানুয়ারি, সামুয়েল মোর্স জনসমক্ষে প্রথম বৈদি্যুতিক টেলিগ্রাফের কাজ প্রর্দশণ করেন।

১৮৩৯ সালে ফ্রান্সে প্রথম ফটোগ্রাফি আবিস্কার হয়।

১৮৩৯ সালে সমাজবিজ্ঞান (ঝড়পরড়ষড়মু) শব্দটি প্রবর্তন করেন-আগাস্ট কোৎ। সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক ঘটনাবলির বিজ্ঞান। এ সংজ্ঞাটি হলো-এল. এফ. ওয়ার্ড ও গ্রাহাম সামনার। সমাজবিজ্ঞান হলো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান-এ উক্তিটি হলো-ডুর্খেইম। কোনটি ছাড়া মানুষ নিজের অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারে না-সমাজ। সাধারণ সমাজ বলতে কোনটি বুঝায়-সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি।

১৮৪০ সালের ৬ মে, ইংল্যান্ডে বিশ্বের প্রথম ডাকটিকিট চালু হয়।

১৮৪০ সালে প্রথম ইলেক্ট্রিসিটি জার্নাল প্রকাশিত হয়।

১৮৪৫ সালে বৈজ্ঞানিক ফ্যারাডের আবিস্কৃত ইলেকট্রিসিটি।

১৮৪৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, বৃটেন প্রথম অস্ত্রপাচারের জন্য এ্যানেসথেতিক্স ব্যবহার করে।

১৮৪৮ সালে সংবাদপত্রে প্রথম আবহাওয়া বার্তা ছাপা শুরু হয়।

১৮৫০ সালে বিশ্বের প্রথম রেফ্রিজারেটর জেমস হ্যারিসন গিলং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য রেফ্রিজারেটর নির্মাণ করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিকভাবে বরফ বিক্রি করা। গৃহস্থালির কাজে, অর্থাৎ রান্নঘরে ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য রেফ্রিজারেটর তৈরী করে ফ্রান্সের কারে অ্যান্ড কোং। তারা সেটি বাণিজ্যিকভাবে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় দেশে বিক্রি শুরু করে অষ্টাদশ শতকের ষাটের দশকে।

১৮৫১ সালের ৬ মে, জন গ্যারি র্কতৃক যান্ত্রিক রেফ্রিজারেটরের পেটেন্ট গ্রহণ।

১৮৫১ সালের মে-অক্টোবর মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য-শিল্প প্রদর্শীর কথা বলা হচ্ছে।

১৮৫৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর, উত্তমাশা অন্তরীপ থেকে বিশ্বের প্রথম ত্রিকোণ ডাকটিকিট ইস্যু হয়।

১৮৫৫ সালের ''মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন'' শ্রমিকের মৃত্যুর ফলে তার পরিবারের যে আর্থিক ক্ষতি হয়, এর সঙ্গে আণুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এ আইন দিয়ে উনিশ শতকের ৪৫টি বছর চলেছে, বিশ শতক চলে গেছে এবং একুশ শতক চলিতেছে। শ্রমিকের জন্য আইনের পরিবর্তন হয়নি।

১৮৫৬ সালে ''বিশ্বের প্রথম ব্যালট পেপার'' রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে সর্বপ্রথম নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হয়। মেলবোর্নের আইনজ্ঞ হেনরি চ্যাপম্যান ১৮৫৬ সালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের পরিকল্পনা করেন। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর নাম কাগজের স্স্নিপে লিখে দেন। পরবর্তী সময়ে ১৮৫৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পার্লােমন্ট নির্বাচনে প্রার্থীেদর ছাপানো নামসহ ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হয়।

১৮৫৬ সালের আগষ্ট মাসে জার্মানীর ডুসেলডর্ফের একটি পাহাড়ী উপত্যকায় প্রথম নিয়ানডারথাল যুগের মানুষের অস্তিত্বের নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রাপ্ত নিদর্শন থেকেই তৈরী করা হয় প্রাচীন পৃথিবীর মানুষের এ আকৃতি।

১৮৬০ থেকে ১৮৬৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে জার্মান ব্যবসায়ী ফিলিপ রেইস বিশ্বের প্রথম টেলিফোন নামের কিছু যন্ত্রের প্রদর্শনী করেন। এ যন্ত্রগুলো মানুষের স্বরকে তারের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে ট্রান্সমিট করতে পারত। যদিও শোনার পর সে শব্দ থেকে প্রকৃত অর্থ উদ্ধার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মূলত রিসিভারের কিছু ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হতো। তবুও টেলিফোনের প্রথম বাস্তব প্রয়োগের কারণে রেইসই এর আবিস্কারক হিসেবে স্বরণীয়।

১৮৬১ সালের ২৩ মার্চ, লন্ডনে প্রথম ট্রাম সার্ভিস চালু হয়।

১৮৬৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, সুইজারল্যান্ডের জেনেভার ব্যবসায়ী হেনরি ডুনান্টের উদ্যেগে রেডক্রস প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের ৯২টি দেশে সংস্থাটির ১৩ হাজার কর্মী কাজ করছেন। বিবিসি।

১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত এ বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৫০ বছর আগে মানে ১৯-১১-১৮৬৩ তারিখ পেনসিলভানিয়ার সেই গেটিসবার্গ নগরে। গৃহযুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেওয়া বক্তৃতাটি ছিল মাত্র ২৭২ শব্দের। আর স্থায়িত্ব ছিল তিন মিনিটেরও কম। কিন্তু ইতিহাসে অমর হয়ে রয়ে গেছে তা। রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান এবং মার্কিন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আব্রাহাম লিংকনের এ বক্তৃতাকে মাইলফলক বলে মনে করা হয়।

১৮৬৪ সালের ২২ আগস্ট, আন্র্তজাতিক রেডক্রস সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৬৬ সালে সর্বপ্রথম টেলিগ্রামের তার বসানো হয় আটলান্টিকের তলদেশ দিয়ে। এ কাজে সাহায্য নেয়া হয়েছিল ওই সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ দ্য ইষ্টার্নের। পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর মধ্যে আটলান্টিক বয়সে সবচেয়ে নবীন। ভূতাত্ত্বিকেরা ধারণা করেন, এর গঠন শুরু হয় জুরাসিক আমলে। মহাসাগরটির আয়তন প্রায় ১০৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন বর্গিকলোমিটার। এটি পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ এলাকাজুড়ে অবস্থিত। প্রথম যে মহাসাগর জাহাজ ও বিমানে পাড়ি দেওয়া হয়, সেটি আটলান্টিক। পুয়েতোির্রকো ট্রেঞ্চ আটলান্টিকের গভীরতম এলাকা। এর গভীরতা প্রায় সাড়ে আট হাজার মিটার। আটলান্টিক মহাসাগরের বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড।

১৮৬৮ সালে লন্ডনে বিশ্বের প্রথম ট্রাফিক লাইট রেলওয়ের সিগনাল ব্যবস্থা দেখেই ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। এতে দুটি বাহু ছিল, যা ওঠানামা করিয়ে চলাচলের দিকনির্দেশ করা হতো। রাতে ব্যবহারের জন্য ছিল লাল আর সবুজ গ্যাসলাইট। পথচারী রাস্তা পার হওয়ার আগে নিজেই সিগনাল পরিবর্তন করে নিত। তবে পুরো ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। বাতির গ্যাস শেষ হয়ে গেলে পুরো ব্যবস্থা পড়ত অকার্যকর। একবার তো গ্যাসে আগুন ধরে এক পুলিশ সদস্য মারাই গিয়েছিলেন।

১৮৭০ সালের দিকে বিশ্বে উন্নত বন্ধুক তৈরি হয়।

১৮৭২ সালের ১৫ আগষ্ট, ইংল্যান্ডে প্রথম গোপন ব্যালটে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক ব্যবস্থা চালু হয়।

১৮৭৫ সালের মধ্যেই দেখা যায়-নদীর ক্ষয়, হিমবাহ নেমে আসা, জমি গড়ে ওটা, ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে মোটামোটি মতের মিল হয়েছে।

১৮৭৫ সালে লন্ডনে প্রথম হকি অ্যাসোসিয়েশন স্থাপিত হয়।

১৮৭৬ সালের ১৫ মার্চ, সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ১১ জন করে খেলোয়ার নিয়ে প্রথম টেষ্ট ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয়।

১৮৭৬ সালে ইংল্যান্ডে স্থাপিত সবচেয়ে প্রাচীন হকি ক্লাবের নাম টেডিংটন হকি ক্লাব।

১৮৭৭ সালের ৯ জুলাই, প্রথম উইম্বলডন টেনিস প্রতিযোগিতায় সোলার গোর বিজয়ী হন।

১৮৭৭ সালে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে সর্বপ্রথম ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী দল দুটি ছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ওই খেলায় অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে হারায় ইংল্যান্ডকে। অস্ট্রেলিয়া দলের ব্যাটসম্যান চার্লস ১৬৫ রান করেন; এটাই টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম শত রান।

১৮৭৮ সালের ১৩ জুন, ইউরোপের মুখ্য রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে বার্লিন কংগ্রেস শুরু।

১৮৭৮ সালে ব্রিটেনের অধ্যাপক ডেভিড হিউজ বিশ্বের সর্বপ্রথম ''মাইক্রোফোন'' আবিস্কার করেন। তিনি শব্দগ্রাহকযন্ত্রের সঙ্গে কার্বেনর তার সংযুক্ত করে তাতে ব্যাটারি থেকে প্রবাহিত বিদ্যুৎ চালনা করেন। তিনি অতি উত্তম পারদের সঙ্গে উইলো কাঠের টুকরো মিশিয়ে একটি পরিবাহক তার তৈরি করেছিলেন, যা ছিল এ আবিস্কারের মূল চালিকাশক্তি।

১৮৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে প্রথম টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপিত হয়।

১৮৮১ সালের ১৬ মে, বার্লিেন বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাম সার্ভিস চালু হয়।

১৮৮২ সালে লন্ডনে প্রথম ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৮৪ সালে ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের(আইইই) প্রতিষ্ঠিত হয়-তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলীদের আন্তর্জািতক সংগঠন-এর ২০০৯ সালে ১২৫ বছর পূর্তিেত আইইইর আন্তর্জািতক প্রতিযোগিতা। ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশে আইইই বাংলাদেশ শাখা কাজ করে যাচ্ছে।

১৮৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর, রাস্তায় প্রথম মোটরগাড়ী চলাচল শুরু করে এবং গত ২০ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে ১০০(একশত) বছর পালিত হয়।

বিশ্বের প্রথম এ্যাসপিরিন জার্মান রসায়নবিদ ফেলিক্স হফম্যানের বাবা ১৮৯০ সাল থেকে বাতজ্বরে ভুগছিলেন। বাবার কষ্ট দেখে বিজ্ঞানী পুত্র পাশ্র্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন একটি ব্যাথানাশক ওষুদ তৈরীর চেষ্টা চালান। অবশেষে ১৮৯৭ সালে উইলো গাছের বাকল থেকে নিস্কাশিত স্যালিসাইলিক এসিড থেকে তৈরী করেন অ্যাসপিরিন নামের ব্যাথানাশক। অবশ্য দুই হাজার বছর ধরে ব্যথা নিবারণের জন্য উইলো আর বার্চ গাছের বাকলের সুনাম ছিল। তবে প্রথম বিশুদ্ধ স্যালিসাইলিক এসিড নিস্কাশন করেন ইতালির বিজ্ঞানি পিরিয়া, ১৮৩৮ সালে।

১৮৯৪ সালের ১৬ জুন, আন্তর্জািতক অলিম্পিক কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৯৫ সালের ২৬ জানুয়ারি, ইংল্যান্ডে পুরুষদের প্রথম আন্তর্জািতক হকি ম্যাচঃ ওয়েলস এবং আয়ারল্যান্ড দলের মধ্যে।

১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর, দর্শেন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এবং গণিত আর পদার্থিবদ্যার অধ্যাপক উইলিয়াম রন্টজেন ক্যাথড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় এক্স-রে মেশিন আবিস্কার করেন। তিনি এর নাম দেন এক্স-রে বা এক্স-রশ্মি দেন।