পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি প্রায় ২০০(দুইশত) কোটি বছর আগে।
জীবের সৃষ্টি প্রায় ৬০(ষাট) কোটি বছর আগে।
৩৭ কোটি বছর আগে পানিতে মাছের বিচরণ শুরু হয়।
২০(কুড়ি) কোটি বছর আগে থেকে শুরু করছি যখন পৃথিবীতে ডাইনোসরদের আধিপত্য চলছিল এবং পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একসঙ্গে আঁটা ছিল। কুড়ি কোটি বছর আগে-তার মানে সময়টা ছিল মধ্যজীবীয় অধিযুগের জুরাসিক যুগ।
১৮(আঠারো) কোটি বছর আগে প্যানজিয়ায় ভাঙ্গন ধরে। তারপরে টুকরো টুকরো অংশগুলো আলাদা হয়ে যেতে থাকে। আফ্রিকার একদিক থেকে আলাদা হয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকা, অন্যদিক থেকে কুমেরু। ইউরোপ থেকে আলাদা হয়ে যায় উত্তর আমেরিকা। দুই আমেরিকা আলাদা হয়ে যেতে পিছনে তৈরী হয় আটলান্টিক মহাসাগর। আর ভারতের ভূখন্ড যাত্রা শুরু করে এশিয়ার দিকে-টেথিস মহাসাগর পেরিয়ে। যেতে যেতে সামনের দিকে টেথিস মহাসাগরকে ধ্বংস করে আর পিছনের দিকে তৈরী হয় ভারত মহাসাগর। প্রায় ছয়কোটি বছর আগে ভারতের ভূখন্ড এসে এশিয়ার দক্ষিণ উপকুলে ধাক্কা মারে। তার ফলে প্রচন্ড একটা ঠেলা তৈরী হয়ে যায়। আর তারই ফলে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি।
১৪.৭০(চৌদ্ধ কোটি সত্তর লাখ) বছর আগে এ পৃথিবীতে ডাইনোসরের মত অতিকায় প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল। ডাইনোসরই ছিল পৃথিবীর প্রথম পাখি।
হিমালয় হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নবীন পর্বত, ৬(ছয়) কোটি বছরও বয়স হয়নি।
চুয়াল্লিশ লাখ বছর আগে মানুষ হাঁটতে শিখেছে। ডেসটিনি পত্রিকার খবর-০৬-১২-২০০৯।
৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগের মানুষ। বিবিসি: জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ আসছে পৃথিবীতে এবং আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগে।
৩৫ লক্ষ বছর আগে মানুষ ঘাস খেয়ে বেঁচে ছিল ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফল।
৩৪ থেকে ৩৮ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে বিড়াল আসছে।
৩২ লক্ষ বছর আগে বাগের প্রজাতিটি পৃথিবীতে আসছে।
১৫ লাখ বছর আগের মানুষের পায়ের ছাপ-কেনিয়ায় আধুনিক মানুষের পূর্বসূরিদের প্রায় ১৫ লাখ বছর আগের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। এ যাবৎকালের মধ্যে পাওয়া আধুনিক মানুষের নিকট পূর্বসূরিদের পায়ের ছাপের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাচীন। যুক্তরাজ্যের বর্নিমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথিউ বেনেতের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৯ সালের ১ মার্চ, প্রথম আলো ডেস্ক।
১০(দশ) লক্ষ বছর পূর্বে মানুষের দাঁত পাওয়া গিয়েছে স্পেনে (০১-০৭-২০০৭ তারিখের আমার দেশ পত্রিকার রিপোর্ট)।
৭৫ হাজার বছর আগের অলংকার: এএফপি: এটি একটি অলংকারের ছবি। বিজ্ঞান সাময়িকী 'সাইন্স' ছবিটি প্রকাশ করে। তবে এ যুগের নয়। এর মালিক অন্তত ৭৫ হাজার বছর আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তখন ছিল প্রস্তর যুগের মাঝামাঝি সময়। প্রাচীন যুগের অলংকারের অন্তত মূল্যবান এ নিদর্শনটি বিজ্ঞানীরা খুঁজে পান দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লোমবোসের একটি গুহায়। এ থেকে ধারণা করা হয়, এ অঞ্চল থেকে সভ্য জনগোষ্ঠীর পূর্ব পুরুষদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ অলংকারের উপরের দিকটি দেখে অনায়াসে বুঝা যায় এটি একটি কানের দুল জাতীয় কোন গহনা। এর নীচের দিকে পুঁতির মতো গোল করে তৈরী। এটাই সম্ভবত আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন অলংকার।
৩১,৭০০ বছর আগে পৃথিবীতে কুকুর ছিল ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর, আন্তর্জািতক বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে। এরা তখন ঘোড়া, হরিণ খেয়ে বেঁচে থাকত।
১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয়।
পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে।
১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন, ইরাক সভ্যতা আরম্ভ।
বিশ্বের প্রথম ধান কবে কখন কোথায় মানুষ সর্বপ্রথম ধান বা চালের ব্যবহার শুরু করে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া দায়। ধারণা করা হয়, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই চালের ব্যবহার শুরু হয়। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে উত্তর থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ চীন উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথম ধান চাষ হয়-বিভিন্ন গবেষণায় এ রকম তথ্যই পাওয়া যায়।
বিশ্বের প্রথম ফুটবল কোথায় সর্বপ্রথম ফুটবল খেলা হয় তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তবে বলা হয়ে থাকে, ফুটবলের সূতিকাগার হলো প্রাচীন চীন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ফুটবল খেলার প্রবর্তন হয়। প্রাচীনকালে মূলত দুই দল লোক একে অন্যকে আক্রমণের মহড়া হিসেবে ফুটবল খেলত। প্রাচীন ফুটবলে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতাব্দীর কিছু আগে বিনোদন হিসেবে বর্তমান ধারার ফুটবল খেলার সূত্রপাত হয়।
৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে।
গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর।
৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ।
খৃষ্টপূর্ব ৫০০০ সালে ইউরোপ মহাদেশের গ্রীসে প্রথম রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাফেরা শুরু করে।
৪৬০০-৪৮০০ খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ। (সাড়ে ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ।) জানাগেছে জার্মানী, অস্ট্রিয়া ও শ্লোভাকিয়ার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিদর্শনগুলো আবিস্কৃত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শেনর মধ্যে রয়েছে ১৫০টির বেশি বিশালায়তনের উপাসনালয়। ধর্মীয় প্রয়োজন থেকে কোন জনগোষ্ঠী উপাসনালয়গুলো নির্মাণ করে থাকবেন, যাদের পেশা ছিল পশুপালন। উপাসনালয়সমূহের দৈর্ঘয ১৫০ মিটার। পূর্ব জার্মানীর লেইপনিং এলাকার আইথরা গ্রামে আবিস্কৃত উপাসনালয়ের চাঁরপাশে অন্ততঃ ২০টি ভবন পাওয়া গেছে। এসব ভবনে ৩শ' লোক বাস করতো বলে ধারণা করা হয়। সদ্য আবিস্কৃত এ জনপদের এখনও কোন নামকরণ করা হয়নি। টানা ৩-বছর খননকার্য চালিয়ে সম্প্রতি প্রাচীন-এ সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়।
বিশ্বের প্রথম দাবা বর্তমান পাকিস্তানের ইন্দাস উপত্যকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূত্রপাত হয়। সেকালে দাবাডূরা আজকের মতোই ৬৪ বর্গের ছক কাটা সিরামিক বোর্ডে দাবা খেলতেন। তাতে থাকত হাতি, রাজা, নৌকা ও ঘোড়া। হরপ্পার কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে এসবের নমুনা পাওয়া গেছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে প্রায় যতদূর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম নগর পারস্য উপকুলে ইরিডু নামক একটি নগর গড়ে ওঠে। সুমেরিয়ান ভাষায় রচিত ইতিহাসে-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এর আগে কিছু ছোট শহরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; কিন্তু ইরিডুই সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের মর্যাদা পায়, যেখান থেকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসননীতি পরিচালিত হতো।
খৃষ্টপূর্ব ৪০০০ হাজার সালে বিশ্বের প্রথম উন্মুক্ত খনন ভূগর্ভস্থ মূল্যবান পাথর অনুসন্ধানের জন্য প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা হতো। বেঁচে থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রকৃতির বিশাল ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়েছে তার প্রয়োজনের জিনিসটি।
মানুষ কিসের জোরে টিকল হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ জোর আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিগে এগিয়ে গেল মানুষ।
কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়।
বিশ্বের প্রথম চাকা গুহাবাসী মানুষ চাকা তৈরীর পদ্ধতি জানত না। স্বাভাবিক ধারণার চেয়ে অনেক পরে আবিস্কৃত হয়েছে চাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায় (আজকের ইরাক)। তার মানে যানবাহনে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। আজও আমরা এর কোনো বিকল্প খুঁজে পাইনি।
৩৫০০ খৃষ্টপূর্বে ইতিহাস ঘাটিলে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়ায় লাইব্রেরীর প্রচলন ছিল।
৩৫০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময়ে এসে পালতোলা নৌকার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়।
৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই গাধাকে পোষ মানানো হয়েছিল।
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ের যে সুমেরীয় যুদ্ধরথের ছবি পাওয়া যায় তা দেখে মনে হতে পারে যুদ্ধরথটি টানছে ঘোড়া-কিন্তু এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ তাঁদের ধারণা-ঘোড়া নয় গাধা।
বিশ্বের প্রথম নীতিগল্প খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার সালে সুমেরীয় সাহিত্যে ছোটগল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল। নৈতিকথার শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই প্রধানত ওই সব গল্প লেখা হতো। ঈশপের গল্পে এ ধরনের নীতিকথার সন্ধান মেলে। কুকুর, শেয়াল, বাঁদর, গরু, হাতি, শূকর প্রভৃতি প্রাণী সেসব গল্পের চরিত্র হিসেবে উঠে আসত।
বিশ্বের প্রথম কালি মানবসভ্যতার প্রথমদিককার দিনগুলোয় শক্ত তলে দাগ কেটে কিংবা কাদামাটিকে নানা আকার দিয়ে লেখা হতো। মিসরীয়রা প্যাপিরাস কাগজ আবিস্কারের আগেই ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বােব্দ কালি তৈরী করে। পরবর্তী কালে প্যাপিরাস উদ্ভাবনের পর কালিই হয়ে ওঠে লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম। তখনকার দিনে মূলত মৃত মানুষ ও পশুপাখির হাড় শুকিয়ে-পুড়িয়ে তরল কালি তৈরী করা হতো।
বিশ্বের প্রথম পস্নাইউড প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম পস্নাইউড আবিস্কৃত হয়। সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সময়ে পস্নাইউডের প্রচলন ছিল। তখনকার পস্নাইউড অবশ্য বর্তমান সময়ের পস্নাইউডের মতো মসৃণ ও সুন্দর ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন ছয় ধরনের কাঠের সংমিশ্রণে ওই পস্নাইউড তৈরী করা হতো।
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছর আগে মিসর সরকার বিশেষ ধরনের পুলিশ বাহিনী নিয়োগ দেয়। প্রাচীন মিসরে বিশ্বের প্রথম পুলিশ বাহিনীর প্রচলন ছিল-এমন তথ্য জানা গেছে। সমর্গ মিসরের বিভিন্ন অঞ্চল ছিল তাদের কর্মেক্ষত্র। প্রত্যেক জেলা প্রশাসনে একজন করে পুলিশ কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং কিছু আইনগত দিকও ওই পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।
৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই প্রত্নবিদদের মতে সিরিয়ার বা মেসোপটেমিয়ার রোদে শুকিয়ে নেওয়া মাটির ইটের প্রচলন হয়েছিল।
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ সালে এসে নিশ্চিতভাবে বলা চলে, ভূমধ্যসাগর বা আরবসাগরের ওপর দিয়ে পালতোলা নৌকার রীতিমত যাতায়াত শুরু হয়েছে।
৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় কাদা দিয়ে তৈরি আয়তাকার বস্নকে মানচিত্র আঁকা হতো। খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগেকার এমনই একটি মানচিত্র পাওয়া গেছে ইরাকের কিরকুক শহরে। তাতে ১২৭টি আলাদা ভূখন্ড, কিছু পাহাড় এবং একটি নদীর ছবি আছে। এর চারকোণায় আছে কম্পাসের দিকনির্দেশনা, তবে ওপরের দিকে ধরা হয়েছে পূর্ব। কাছাকাছি সময়ের আরেকটি মানচিত্রে নয়টি গ্রাম ও তার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদী ও রাস্তার ছবি খুব স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে।
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ ভারতবর্ষের মানুষ রাস্তা দিয়ে প্রথম চলাচল শুরু করে।
বিশ্বের প্রথম চা প্রাচীন চীনের সমাজ-জীবনে চা একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পানীয় হিসেবেই প্রচলিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন চীনের সাহিত্যে-বিশেষ করে কবিতায়-চায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। টারং রাজবংশের শাসনামলে লু উও 'দ্য টি ক্লাসিক' নামে একটি বই রচনা করেন খ্রিষ্টপূর্ব আট শতাব্দীতে। বইটিতে চা-গাছের উৎপাদন, চা তৈরির পদ্ধতি, নানা ধরনের চায়ের স্বাদ ও গন্ধ ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
২৮০০ খৃষ্টপূর্ব পৃথিবীতে সম্ভবত বাগান করার কাজে প্রথম পথিকৃৎ চীন সম্রাট শেন নুঙ বিভিন্ন যায়গায় লোক পাঠিয়ে নানারকম গাছ সংগ্রহ করতেন।
২৭০০ খ্রিষ্টপূর্ব আকুপাংচার প্রথম আবিস্কার করেন কিংবদস্তির চীনা সম্রাট সেন নাং। গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ওষধগুলোর প্রথম তালিকাও প্রস্ত্তত করেন তিনি।
২৫০০ খৃষ্টপূর্ব বছর আগে পৃথিবীর আকার গোল, সকলের জানা মাত্র এ কথাটিও নতুন ও অভিনব শোনাত।
২৫০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরে কাঠের লাঙ্গল ব্যবহার।
খৃষ্টপূর্ব ২৫০০ বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে বিশ্বের প্রথম পেশাজীবী নারীদের আয়মূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। তবে সে সময় পুরুষের মতো পেশাজীবী নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সব কাজ করার সুযোগ পেতেন না। বিশেষ করে নারীদের বিচারক পদে কাজ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
বিশ্বের প্রথম সুইমিং পুল-এর ধারণা সর্বপ্রথম মাথায় এসেছিল সিন্ধু নদীর তীরবর্তী মহেঞ্জোদারো সভ্যতার অধিবাসীদের মধ্যে। প্রকৃত দিন-তারিখ জানা না গেলেও ধারণা করা হয় তা খ্রিষ্টের জন্মেরও আড়াই হাজার বছর আগে তৈরী। ১২ মিটার লম্বা এবং ৭ মিটার চওড়া এ সুইমিংপুলের সর্বোচ্চ গভীরতা ৮ ফুট। আজকের পাকিস্তানে এর ধবংসাবশেষ আজও দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখতে পারেন।
২৫০০-২০০০ খৃষ্টপূর্ব ভারতে বৈদিক সাহিত্যের চর্চা।
বিশ্বের প্রথম ভিজিটিং কার্ড হান শাসকদের আলমে (খ্রিষ্টপূর্ব ২০০৬ অব্দ থেকে ২২০ খ্রিষ্টাব্দ) চীনে ভিজিটিং কার্ড নতুন ফ্যাশন হিসেবে প্রচলন লাভ করে। সে সময় কাগজের মান যাচ্ছেতাই ছিল। তাই দুই থেকে তিন ইঞ্চি প্রস্থের ফালি করে কাটা কাঠের টুকরোতেই তৈরী হতো কার্ড। সাদা পটভূমিতে তাতে লেখা থাকত কার্ডধারীর নাম, পদবি আর ঠিকানা।
২০০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময় চীনে ধানের চাষ শুরু, তা ভারতবর্ষের কাছ থেকেই শেখা।
বিশ্বের প্রথম পরিচয়পত্র নির্বািচত বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির জন্য পরিচয়পত্র প্রবর্তন করে অ্যাসেরিয়ান সরকার। সঠিক দিনক্ষণ জানা না থাকলেও ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের গোড়ার দিকে ওই ব্যবস্থা চালু করা হয়। ওই পরিচয়পত্র ছিল মূলত ছোট মাটির ফলকের ওপর কিলকাকার বর্ণ খোদাই করা।
বিশ্বের প্রথম জলঘড়ি সময় মাপার জন্য খ্রিষ্টের জন্মের ২০০০ বছরেরও বেশি আগে জলঘড়ির ব্যবহার শুরু হয়। বিরাট এক পাত্রের গায়ে দাগ কাটা থাকত সময়ের হিসাব। আর পানিপূর্ণ সে পাত্রের ছিদ্র দিয়ে পানি বেরিয়ে এসে সময় নির্দেশ করত। মেসোপটেমিয়ায় এ ধরনের জলঘড়ির নির্মাণ পাওয়া গেলেও ঠিক কবে এর ব্যবহার শুরু হয় বা কে আবিস্কার করেন তা জানা যায়নি।
২০০০ খৃষ্টপূর্বের অনেক আগে থেকেই গৃহপালিত পশু হিসেবে ঘোড়ার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়।
২০০০ খৃষ্টপূর্ব পর্যন্ত মিশরের প্রায় সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে কবর থেকে।
বিশ্বের প্রথম বক্সিং প্রাচীন মিসরে বক্সিং খেলার প্রচলন ছিল বলে জানা গেছে। মিসরীয় ১৮তম রাজবংশের আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব ১৩৫০ সালে বিভিন্ন রাজার সমাধিগাত্রে যেসব চিত্র পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, রাজা তৃতীয় এমেনোফিসের সিংহাসনে আরোহণের সময় বক্সিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সমাধিগাত্রে বক্সিং খেলার বিভিন্ন কৌশলের উল্লেখ রয়েছে।
২০০০ খৃষ্টপূর্বে জুডাইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ১৫০০ খৃষ্টপূর্বে হিন্দুইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ৫২৫ খৃষ্টপূর্বে বুদ্ধইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ ডিসেম্বর, যীশু খৃষ্ট্রের জন্ম, মৃত্যু-৩১ খ্রিষ্টাব্দে। ৬১০ খৃষ্টাব্দে মুহাম্মদ (স.) মুসলিম ধর্মের ভিত্তিস্থাপন করেন। ১৫০০ শতকে গুরু নানক দেব জি, সিকিইজমের ভিত্তিস্থাপন করেন। মিড ১৯ শতকে মির্জা হুসাইন আলী নুরী, বাহা ধর্মের প্রবর্তক।
১৭০০ খ্রিষ্টপূর্ব বিশ্বের প্রথম বর্ণমালা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং সিনাই অঞ্চলের সেমাইট আদিবাসীরা সর্বপ্রথম বর্ণমালার একটি অখন্ড রূপ দেয়। এতে ছিল মোট ৩০টি বর্ণ। মিসরের খনি অঞ্চলে ব্যবহৃত হিরেটিক লিপি থেকে নেওয়া হয়েছিল এ বর্ণমালার অক্ষরগুলো। মজার ব্যাপার এতে কোনো স্বরবর্ণ ছিল না। পাঠক পড়ার সময় নিজেই সুবিধামতো স্বরবর্ণ যোগ করে নিত। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম-'বলত' শব্দটিতে স্বরবর্ণ যোগে তাঁদের পড়তে হতো 'বালতি'।