‹ বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য অংশ ১১৫ / ১১৬

১৯৭০ সালের ৮ জুন, আর্জেিন্টনায় সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে।

১৯৭১ সালের ৫ জুলাই, ভেনিজুয়েলার স্বাধীনতা দিবস।

১৯৭৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, গ্রানাডা স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, গ্রানাডা জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে।

১৯৭৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, গুয়াতেমালার ভূমিকম্পে ২৩ সহস্রাধিক লোকের মৃত্যু।

১৯৭৬ সালের ২৪ মার্চ, আর্জেিন্টনার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে।

১৯৭৬ সালের ৫ জুন, ৮-বছর বন্ধ থাকার পর সুয়েজখাল পুনরায় খুলে দেয়া হয়।

১৯৭৮ সালের ৪ জুলাই, ল্যাটিন আমেরিকার ৮টি দেশের আমাজান নদী সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর।

১৯৭৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, বলিভিয়ায় প্রলয়ঙ্করী বন্যায় হাজার হাজার লোকের মৃত্যু।

১৯৭৯ সালের ১ নভেম্বর, বলিভিয়ায় সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে।

১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল, আর্জেিন্টনা ফকল্যান্ড দ্বীপ দখল করে নেয়।

১৯৮২ সালের ১৫ জুন, ফকল্যান্ডে আর্জেিন্টনার সৈন্যরা বৃটিশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ।

১৯৮৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলের ৩৬-বছর পর ক্ষমতাসীন প্যারাগুয়ের স্বৈরশাসক আলফ্রেদো অপসারিত।

১৯৮৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর, ব্রাজিলে ২৯ বছর পর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ফার্নােন্দা কোলের ডি মেলো প্রেসিডেন্ট নির্বািচত হন।

১৯৯০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, নিকারাগুয়ার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল ওরতেগার পরাজয়।

১৯৯১ সালের ২৬ এপ্রিল, মাদকাসক্তির অভিযোগে বিশ্বনন্দিত ফুটবল তারকা আর্জেিন্টনার দিয়াগো ম্যারাডোনা গ্রেফতার হন।

১৯৯২ সালের ৪ অক্টোবর, ব্রাজিলের কারাগারে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় ১১১ বন্দী নিহত।

১৯৯৩ সালের ১৯ মে, মেডেলিনে কলম্বিয়া জেটলাইনার বিধ্বস্ত হয়ে ১৩২ জন নিহত।

১৯৯৭ সালের ২২ এপ্রিল, পেরুর জিম্মি সংকটের অবসান হয়।

২০০০ সালের ২১ জানুয়ারি, সামরিক অভ্যুত্থানে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট জামিল মাওয়াত ক্ষমতাচ্যুত। মুস্তাফা নওয়া নতুন প্রেসিডেন্ট।

২০০০ সালের ৩ জুলাই, মেস্কিকোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭১-বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয়।

২০০০ সালের ২২ আগষ্ট, লকারবিতে বিমান হামলার বিচার শুরু।

২০০০ সালের ২৩ জুলাই, আইভরিকোষ্টে নতুন সংবিধানের উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৩ সালের ১০ জুলাই, একটানা ৫০০শ' বছর পর গ্রানাডার সুবিশাল মসজিদের মিনার থেকে আজ প্রথম আজান ধ্বনিত হয়।

২০০৪ সালের ২৪ জানুয়ারি, কিংবদন্তী ফুটবলার, আর্জেন্টাইন দিয়াগো ম্যারাডোনাকে নিউজ এজেন্সি 'প্রেনসা ল্যাতিন' ল্যাতিন আমেরিকার 'শতাব্দী (বিংশ) সেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে হাভানায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ল্যাতিন আমেরিকার শতাব্দীসেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নির্দেশক পুরস্কার তুলে দেয়া হয় ম্যারাডোনার হাতে, যা তিনি ছবিতে প্রদর্শেনর জন্য মেলে ধরেছেন।-এএফপি।

২০০৪ সালের ২১ জুলাই, বিবিসি: আন্তর্জািতক শ্রম সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয়, ব্রাজিলে ২৫ হাজার লোক এখনও দাস হিসাবে সে দেশে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

২০০৪ সালের ৩০ জুলাই,রয়টার্স/এএফপিঃ বিশ্বের ফুসফুস আমাজন অরণ্য বৃক্ষহীন হয়ে যাচ্ছে।

২০০৪ সালের ৫ ডিসেম্বর, এএফপিঃ পেরুর মারিয়া জুলিয়া ম্যান্টিলা গার্সিয়া-২০০৪ সালের বিশ্বসুন্দরী নির্বািচত।

২০০৬ সালের ৬ জানুয়ারি, ইনকিলাব পত্রিকার-টাইমস অনলাইন: বিক্রি হবে এ দুই মাথাওয়ালা বিরল সাপ আলবিনো।

২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি, বিবিসি অনলাইন: মুক্তবাজার অর্থনীতি আমাদের জন্য নয়। বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইভো মোরালেস (২৩-০১-২০০৬) তারিখ শপথ গ্রহণ করেন। তিনি তার লোকজনের বিরুদ্ধে ৫শ বছরের অন্যায়ের সমাপ্তি টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এবার ইতিহাসের পরিবর্তন ঘটাবো। তিনি বলেন, আগামী ৫শ' বছরের জন্য আমরা ক্ষমতা গ্রহণ করছি। আমরা সকল অন্যায় ও অসাম্যের সমাপ্তি দেখতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই ভোটের মাধ্যমে, বুলেটের মাধ্যমে নয়।

২০০৬ সালের ৯ মার্চ, এএফপি: চিলিতে প্রাচীন অপূর্ব গুহাচিত্র আবিস্কার।

২০০৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, এএফপি: বিশ্ব শয়তান বুশ সারা দুনিয়া গ্রাস করতে চায় ইরাকে আগ্রাসনের জন্য তার বিচার হওয়া উচিত।-জাতিসংঘে ভেনিজুলেয়লার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ গত (২০-০৯-২০০৬) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।

২০০৬ সালের ২০ নভেম্বর, রিও ডি জেনিরো থেকে এএফপি। ব্রাজিলের কিংবদন্তী স্থপতি অস্কার নিয়েমেয়ার প্রমাণ করেছেন নতুন কিছু শুরুর জন্য বয়স কোন বিষয় নয়। তিনি ৯৮ বছর বয়সে তার সেক্রেটারীর সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন। নিয়েমেয়ার ১৫ ডিসেম্বর ৯৯ বছর পূর্ণ করবেন। তিনি বৃহস্পতিবার রিও'র নিজ বাড়িতে ৬০ বছর বয়সী সেক্রেটারী ভেরা লুসিয়া কাবরেইরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ জুটি তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে একে অপরকে জানেন এবং নিয়েমেয়ার এখনো কর্মরত। এর আগে তিনি আনিতা বালডোর সঙ্গে ৭৬-বছর সংসার করেন। আনিতা ২০০৪ সালে মারা যান।

২০০৭ সালের ৩০ মার্চ, এএফপি: কিউবার অসুস্থ নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ জৈব জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করে বিশ্বের ৩শ' কোটিরও বেশী মানুষকে অকালে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

২০০৭ সালের ২৬ জুন, এএফপি: কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর দেহে ১০ বারের বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে।

২০০৮ সালের ৩১ আগষ্ট, আমাজনের গভীর জঙ্গলে শহর ছিল। পঞ্চদশ শতকে ব্রাজিলে আমাজন অববাহিকার জিঙ্গু অঞ্চলে প্রথম ইউরোপীয় নাগরিকের পা পড়ারও অনেক আগে থেকেই সেখানে জনবসতি ছিল।

২০০৮ সালের ২১ অক্টোবর, সমকাল পত্রিকাঃ ব্রাজিলের এক মডেল ৫০ লক্ষ ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের ব্রেসিয়ার পড়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এ ব্রেসিয়াতে দামী দামী ডায়মন্ড ছিল।

২০০৯ সালের ২১ মার্চ, প্রথম আলো: জমির অধিকার ফিরে পেয়েছে ব্রাজিলের রাপোসাসেরা দেরা আদিবাসী গোষ্ঠী। আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের পক্ষে ব্রাজিলে ঐতিহাসিক রায়।

২০০৯ সালের ২ এপ্রিল, প্রথম আলো: আর্জেিন্টনার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল আলফোনসিন-এর মৃত্যু। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ১৯৮৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বািচত হন।

২০০৯ সালের ৬ জুন, প্রথম আলো: বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অপহরণ কলম্বিয়ায় সংঘটিত হয়।

২০০৯ সালের ২০ জুন, প্রথম আলো: চিলির বিখ্যাত মার্কসবাদী প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দের স্ত্রী হার্টেনসিয়া বুসি ১৮-০৬-২০০৯ তারিখ ৯৪ বছর বয়সে মারা যান।

২০১০ সালের ১ মার্চ, প্রথম আলো: চিলিতে ৮ দশমিক ৮ মাত্রায় ভূমিকম্প। নিহত ৩০০, ঘরছাড়া ২০ লাখ মানুষ।

২০১০ সালের ১২ মার্চ, প্রথম আলো: দক্ষিণ আমেরিকার বনাষ্ণলে ওদের বাস 'পিগমি বানর'। ওজন হয়ে থাকে চার-পাঁচ আউন্স। শরীরের গড় দৈর্ঘয সাড়ে চার থেকে ছয় ইষ্ণি।

২০১০ সালের ১০ মে, প্রথম আলো: কোস্টারিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লায়ুরা চিনচিলা।

২০১০ সালের ১৭ মে, প্রথম আলো: চিলিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আঘাত হানা ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং এর কারণে সৃষ্ট সুনামিতে ৫২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর, প্রথম আলো: চিলিতে ৬৯ দিন পূর্বে প্রায় ৭০০ মিটার বা ২০২১ ফুট মাটির নিচে শ্রমিকরা সোনা ও তামার খনিতে কাজ করতে যেয়ে মাটির চাপায় খনির মুখ ০৫-০৮-২০১০ তারিখ বন্ধ হয়ে যায়। চিলির চাপা পড়া খনি থেকে ৬৯ দিন পর ১৪-১০-২০১০ তারিখ ৩৩ শ্রমিক উদ্ধার।

২০১২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ প্রতিদিন: ৪০০ বছরেও এক ফোঁটা বৃষ্টি হয়নি। আতাকামা-মরুভূমি: চিলিতে ১৫৭০ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। আতাকামা-মরুভূমির আশে-পাশে ১০ লাখ লোক বাস করে।

এন্টারটিকা মহাদেশঃ দক্ষিণ মেরুর চতুর্দিেক ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার ব্যাপী এই মহাদেশ।

বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো এন্টারটিকা মহাদেশটি দখল করে রেখেছে। এ মহাদেশটি বরফে ডাকা। ৩১-১২-২০১২ তারিখ পর্যন্ত বসতি গড়ে ওঠেনি।

১৮৪১ সালে অ্যান্টার্কিটকার ভূভাগের কেন্দ্রস্থল সাউথ পোলেতে প্রথম মানুষের পা পড়ে। ৫১ লাখ বর্গমাইলের যায়গায় এখন মানে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুযারি, বাংলাদেশ প্রতিদিনে দেখলাম প্রায় ৫৪ লাখ বর্গমাইলের এই বিশাল মহাদেশে যে পরিমাণ বরফ আছে, তা পৃথিবীর মোট বিশুদ্ধ পানির প্রায় আটষট্টি শতাংশ। ব্রিটেনের পর্যটক জেমস ক্লার্ক রস প্রথম এ মহাদেশে বেড়াতে আসেন। পরে অপর সৌনন্দর্যের এ স্থানটিতে আন্তানী গড়ে তোলেন বিশ্বের ১৬টি দেশের গবেষকরা। এখানে অবস্থান করে তারা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৃতির নারা বিষয়ের ওপর। এখানে অঅছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পেংগুইনসহ অসংখ্য প্রজাতির পাখি। তিমির আরও ২০০ জাতির মাছ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এই অনিন্দ্য সুন্দর মহাদেশটি আজ হুমকির মুখে। বিজ্ঞানীদের নানান। ৫২ মিলিয়ন বছর অঅগে অ্যান্টার্কিটকায় বিশাল এক রেইন ফরেস্ট ছিল। ১৯৩০ সালে জার্মান বৈমানিকা পেনিনসুলাতে নেমে পুঁতেছিলেন নিজ দেশের জাতীয় পতাকা সংবলিত হাজার হাজার খুঁটি। ১৯৪৬ সালে আমেরিকাও এই মহাদেশটি নিজেদের দখলে নিতে হাজার হাজার সৈন্য, যুদ্ধবিমান নিয়ে দিয়েছে মহড়া। দখলদায়িত্বের রাজনীতিতে মজার কাজটি করেছে আর্জেিন্টনা। গর্ভবতী এক মহিলাকে তাদের গবেষণাগারে এনে রেখে দেয়। ওই মহিলা এখানেই প্রসব করে। ধারণ করা হয়, ওই শিশুটিই জন্মসূত্রে অ্যান্টার্কিটকার প্রথম স্থায়ী নাগরিক।

২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি, প্রথম আলো: নতুন তালিকায়ও শীর্ষ ধনী বিল গেটস। বিল গেটস তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮,৭৪০ কোটি বিলিয়ন ডলার। এবারের তালিকাটি তৈরি করেছে ওয়েলথ-এক্স এবং বিজনেস ইনসাইডার। শীর্ষ ধনীর ৫০ জনের মধ্যে ২৯ জনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এরপরে ২য় স্থানে আছে চীনের চারজন তারপরে তৃতীয় স্থানে আছে ভারত, তিনজন। তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ৫০ ধনীর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের ১ শতাংশ লোকের হাতে ৯৯ শতাংশ সম্পদ আছে। ২০০১ সালে ৩৮৮ জন ধনীর কাছে ছিল প্রথিবীর অর্ধেক মানুষের সম্পদের সমান। আর ২০১০ সালে এসে ৮৫ জন ধনীর কাছে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের সমান সম্পদ ছিল। আর ২০১৬ সালে এসে ৬২ জন ধনীর নিকট পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের সম্পদ। পৃথিবী আগাচ্ছে এমন বৈষম্যভাবে।

আমার চাওয়া-পাওয়া:

আমি যা ভাবি তা' করতে পারি না, যা করি তা' ভাবি না। প্রতিদিন বিবেকের সাথে লড়াই করতে করতে হেরে যাই। প্রতিদিন এভাবে বিবেকের সাথে হারতে থাকলে আমার কি কোন সত্ত্বা থাকে? আমার কাছে একটা জিনিষ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, একটা সমাজব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে মানুষের চিন্তা-চেতনা বা চরিত্র গড়ে উঠে। আর যারা চাকুরী করে তাঁদের অধিকাংশেরই বিবেক বলতে কিছুই থাকে না। তার উপরওয়ালা যা বলে তা করতে হয় প্রতি মুহূর্তে-এর বাইরে কিছু করতে চাইলে তার চাকুরী থাকে না বা প্রমোশন হবে না। তার ওপরের বস যদি তাকে ভাল বলে তাহলে সে ভাল নতুবা ভাল না। এ সমাজে কাজের বিচার হয় না, বিচার হয় তার বসের কতটুকো মন রক্ষা করতে পারলো। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ কেউ কাকে বিশ্বাস করে না। পুঁজিবাদী সমাজে বিশ্বাস বলতে কিছু নেই। কাজ দিয়ে বিচার করতে হয়। একবার একটা লোক যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করে ফেলে, তাকে আর বিশ্বাস করা যায় না। অনেকে বাধ্য হয় বিশ্বাস ভঙ্গ করতে। তা'প্রমাণ করতে পারলে তাকে ক্ষমা করা যায়, একবার কি দু'বার, তিনবারের মাথায় নয়। আমি যা করতে চাই তা'করতে পারলে আমার স্বাধীনতা আছে বা আমি স্বাধীন মানুষ। কিন্তু আমার কাজ এমন হবে না যা অপরের জন্য ক্ষতিকর হয়। আমি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আর আসবো না।

চাকুরী করা চাকর খাটার সমান। কেউ বড় চাকর, কেউ ছোট চাকর। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ যা বলে তা করে না, আর যা করে তা'বলে না। আমিও আমার জীবনের সাথে আপস করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার দ্বারা এ পৃথিবীতে কিছু হবে বলে মনে হয় না। আর কিছু করতে হলে প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যার শত্রু নেই তার কোন মিত্রও নেই। যার শত্রু আছে তার মিত্রও আছে। সমাজে সৎ এবং অসতের লড়াই চলে। আর জোর যার মুল্লুক তার। সরকার নির্ধািরত বেতন কাঠামোর সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সৎভাবে চাকুরী করলে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। আমাদের দেশে সৎভাবে সম্পদের মালিক হওয়া কঠিন কাজ। সমাজের কিছু মানুষের লক্ষ্য একই, কিভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। কিভাবে ভবিষ্যৎ সুন্দর করা যায়। সমাজে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য জোর প্রতিযোগিতা চলছে। সম্পদের মালিক হতে হলে ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হলে সহজে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ গরীব ও শোষিত। তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমাদের ৪দেশের কিছু লোকের নিকট সম্পদ জমা হচ্ছে। আর সমগ্র দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি নেই। যে সম্পদ মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়না-সে সম্পদ দেশে অপচয় বাড়ায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন-মানের অবনতি ঘটায়। এদেশে কিছু মানুষের ভোগবিলাসের সীমাপরিসীমা নেই। আর অন্যদিকে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ চরম দুঃখ দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের ভবিষ্যত বলতে কিছু নেই। এক মানুষ আরেক মানুষের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে বৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। শ্রমজীবী মানুষ নিজেকে চালাক মনে করে। আসলে আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষই বোকা। কিন্তু দেশের বেশীরভাগ মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা রাখা যাবে না। আমার বিশ্বাস এক সময় দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ জেগে উঠবে।

আমার ছোট সময়ের স্মৃতিগুলি মনে হয় বারবার। মরতে চাইনা তবু মরতে হবে। চিরন্তন বলে কোন কিছু নেই, সবকিছুই রূপান্তর। সমাজের নিয়ম হলো উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন। নিরপেক্ষ বলতে কোন বস্তু নেই এ পৃথিবীতে এবং ৫০(পঞ্চাশ), ৫০(পঞ্চাশ) বলতে কোন বস্তু নেই, ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং তা প্রমাণ করেছে। আমি কিছু একটা করতে চাই। কিন্তু কী করব তা স্পষ্ট করে বলতে পারি না। রাজনীতি করা মহান কাজ। যদি সাম্যের রাজনীতি হয়। সকল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করা মহান কাজ। মানুষের মাঝে সাম্য আনা শ্রেষ্ঠ কাজ। আমার মাঝে এ দেশের আসল চিত্রগুলি বারবার ভেসে উঠে। গ্রাম এবং শহরের গরীব মানুষের মুখের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারি তাদের চাহিদা কি। তাদের চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এর বেশী কিছু নয়। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে তাদিয়ে বাংলাদেশের ১৭(সতের কোটি) জন মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এ সব মৌলিক চাহিদার গ্যারান্টি দেয়া যায়। তখনই আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হবে। নতুবা মুক্তিযুদ্ধের অর্থ বা এ স্বাধীনতার অর্থ ফাঁকাবুলি ছাড়া আর কিছু নয়। প্রত্যেকটা মানুষের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। কোন বিষয়ই বিচ্ছিন্ন নয়। আমাদের গ্রামের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতে হবে নতুবা কিছুই সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তবু বাংলাদেশের একটি আলাদা বর্ডার বা সীমানা আছে। এ সীমানা বাংলাদেশকে পৃথিবী থেকে আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা। আর যতদিন পৃথিবীতে শোষণ টিকে থাকবে, ততদিন রাষ্ট্রের অবসান হবে না। আমরা মায়ের পেট থেকে কেউ সম্পদ নিয়ে আসিনি। শ্রমজীবী মানুষের উৎপাদিত সম্পদ শোষণ আর অসম বিনিময়ের মাধ্যমে বুর্জোয়ারা তার মালিক হয়েছে। যে যায়গায় মানুষ আছে-সে যায়গায় খাদ্য আছে। যে যায়গায় খাদ্য আছে-সে যায়গায় মানুষ আছে। বেশীরভাগ মানুষ বলে খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, আসলেই কি কথাটা তাই? যদি খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যেত-তা'হলে সবগুলো মানুষই মারা যেত। আসলে কথাটা হবে ক্রয়-ক্ষমতার অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে। ক্রয়-ক্ষমতা নাই কেন? কিছু মানুষ দ্বারা ব্যাপক মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় বলে। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করে দুর্ভিক্ষ। সম্পদের সুষম বন্টন করা হলে-কেউ না খেয়ে মারা যেতো না। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যা কিছু হয়-সবকিছুর জন্য দায়ী ধনীরা। ধনীদের অপচয় বন্ধ করতে পারলে এ দেশে কেউ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষার অভাবে মৃত্যুবরণ করতো না বা কাজের আশায় কাউকে আজ বিদেশে যেতে হতো না বা কেউ এদেশে বেকার থাকত না। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ভোগবিলাসের জন্য গরীবদের শাসন-শোষণ করছে। এ অন্যায় বৈষম্য যারা সৃষ্টি করেছে তারা অপরাধী। স্বার্থপর শাসক ও বিলাসী ধনীদের সৃষ্টি এ বৈষম্য মেনে নেওয়াও এক ধরনের অপরাধ। এ অন্যায় বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। বেশীরভাগ মানুষ বলে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলে দেশ শান্তির পথে চলবে কিন্তু আমি বলি যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পূর্বশর্ত হল মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি। মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি না আসলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আসবে না।