বিশ্ব ও
দেশ-বিদেশের তথ্য
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা:
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
সহযোগিতায়:
আবির হোসেন জিয়ান।
জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনী, ঢাকা।
বিশ্ব ও
দেশ-বিদেশের তথ্য
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা:
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
মোবাঃ ০১৭১৬৬৫৪৮৪৪
সহযোগিতায়:
আবির হোসেন জিয়ান।
প্রকাশকাল: ১৭ পৌষ-১৪২২ বাংলা সন,
৩১ ডিসেম্বর-২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রকাশক: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
স্বত্ত্ব: লেখক র্কতৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
কমপিউটার কম্পোজ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
প্রচ্ছদ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।
মুদ্রণে: জিয়ান বড়বাড়ি কমপিউটার।
মূল্য: ১৫০০.০০(এক হাজার পাঁচশত) টাকা মাত্র।
সুলভ মূল্য: ১,০০০(এক হাজার) টাকা মাত্র।
উৎসর্গ
বাবা মরহুম মৌলভী আবদুস সোবহান
মা মরহুমা চৌধুরী শামসুন নাহার বেগম
ও
দাদা মরহুম মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলী-
স্মরণে
| ক্রমিক | বিষয়সূচী: | পৃষ্ঠা |
| মুখবন্ধ: | ০৫-০৭ |
| বিশ্বের ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং কিছু মহান ব্যক্তিদের | ০৮-১২৪ |
| জন্ম-মৃত্যুর কথা: |
| ঃ | কিছু কথা: | ১২৫-১৩৬ |
| বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য: | ১৩৭-৬৬২ |
| বিশ্বের কিছু কিছু ঘটনা ও তথ্য: | ১৩৭-৩৩৪ |
| বিশ্বের সবগুলো রাষ্ট্রের কিছু কিছু তথ্য দেয়া আছে: | ৩৩৫-৪২৩ |
| এশিয়া মহাদেশের কিছু কিছু ঘটনা ও তথ্য: | ৪২৪-৪৫৯ |
| ভারতের কিছু ঘটনা ও তথ্য: | ৪৬০-৫৫১ |
| পাকিস্তানের কিছু ঘটনা ও তথ্য: | ৫৫২-৫৬৭ |
| আফ্রিকা মহাদেশের কিছু ঘটনা ও তথ্য: | ৫৬৮-৫৭৬ |
| ইউরোপ মহাদেশের কিছু ঘটনা ও ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের নামগুলি (১৮৯৫ থেকে | ৫৭৭-৬২৩ |
| ২০১৬ পর্যন্ত)ঃ |
| অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের কিছু তথ্য: | ৬২৪-৬২৬ |
| উত্তর আমেরিকা মহাদেশের কিছু তথ্য, ১৭৭৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের | ৬২৭-৬৫৬ |
| প্রেসিডেন্টের নামঃ |
| দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের কিছু তথ্য: | ৬৫৭-৬৬১ |
| এন্টারটিকা মহাদেশের কিছু কথা: | ৬৬২-৬৬২ |
| আমার চাওয়া-পাওয়া: | ৬৬৩-৬৬৫ |
।মুখবন্ধ:।
মানুষই শ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট, ভারতবর্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য হলে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বলে (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের আয়ুস্কাল ছিল ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন) পরবর্তী পর্যােয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস (২৬৬ দিন) মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মানুষ শহরে বাস করে ৩৪ ভাগ আর গ্রামে বাস করে ৬৬ ভাগ মানুষ। বাংলাদেশে বিভাগ-৮টি, জেলা-৬৪টি, থানা-১৪৪টি(ঢাকা শহরে ৩১-১২-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত থানার সংখ্যা-৪৯টি এর মধ্যে ঢাকার উত্তরে-২৭ ও দক্ষিণে-২২টি) এবং কর্ণফুলী উপজেলা-৪৯০তম(সর্বেমাট থানা ও উপজেলার সংখ্যা-৬৩৪টি) এরমধ্যে বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরও একটি উপজেলা। এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১২৪টি গ্রামের মধ্যে ভেলানগরও একটি গ্রাম। ভেলানগর গ্রামের মোট জীবিত ও মৃতসহ জনসংখ্যা ১২,৯৬৩ জন, মারা গেছেন-৩,৫০৩ জন, জীবিত আছেন-৯,৪৬০ জন এরমধ্যে জীবিত বিবাহিত মেয়েরা ১,৯০৪ জন স্বামীরবাড়িতে বাস করে। ভেলানগর গ্রামের প্রকৃত লোকসংখ্যা হলো-৭,৫৫৬(সাত হাজার পাঁচশত ছাপ্পান্ন) জন এবং শহর ও বিদেশে বাস করে ৩,০৫০(তিন হাজার পঁঞ্চাশ) জন এরমধ্যে বিদেশে বাস করে-৬৫০(ছয়শত পঁঞ্চাশ) জন। ৪,৫০৬(চার হাজার পাঁচশত ছয়) জন। এ গ্রামেরও একটি ইতিহাস রয়েছে। মির্যা ভেলার নামে 'ভেলানগর' গ্রামের নামকরণ করা হয়। মির্যা ভেলা তুর্কি মুসলমান ও বলদাখাল পরগনার জমিদার ছিলেন (বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার পরিচয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর, দেবিদ্বার উপজেলার আংশিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা)। আকা বাকের (জ্যেষ্ঠ)-এর আনুমানিক জন্ম-১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আকা বাকের তুর্কি মুসলমান ছিলেন, ঢাকার বিখ্যাত বাখরখানি রুটির প্রবর্তক ছিলেন তিনি নিজেই। আকা বাকেরের পুত্রের নাম পাওয়া যায়নি-আকা বাকের-এর নাতি আহসান উল্লাহ খান-এর আনুমানিক জন্ম-১৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আহসান উল্লাহ খান মুর্শিদকুলিখানের সময়ে হুগলীর ফৌজদার ছিলেন। আহসান উল্লাহ খান-এর পুত্র আকা সাদেক-এর আনুমানিক জন্ম-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। (৩৮৬ বর্গমাইল এলাকা) বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আকা সাদেক-এর পুত্র মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার আনুমানিক জন্ম-১৭২৯ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নাই। তিনিও ৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার জমিদার ছিলেন। মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের পরিচয় আযি-উন-নিসা খানম-এর জন্ম-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। পতি মীর আশরাফ আলী খান-এর বাড়ি-ইরানের সিরাজনগর, জন্ম-১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে। মীর আশরাফ আলী খানের ঢাকার বাদামতলিতে বিরাট অট্টালিকা ছিল। তিনিও বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আযি-উন-নিসা খানম-এর দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলের পরিচয় খান বাহাদুর সৈয়দ আলী মেহেদি খান(বড়ে খান)-জন্ম-১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। বড়ে খান সাহেবের এক ছেলে সৈয়দ আসাদ-উদ-দীন হায়দর ওরফে আসাদ উল্লাহ খান (জন্ম-১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে। আসাদ উল্লাহ খান সাহেবের তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের পরিচয় নবাব সৈয়দ মোহাম্মদ খান(নান্না সৈয়দ)-এর জন্ম-১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু-১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। নান্না সৈয়দ-এর পাঁচ ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ের পরিচয় (১) ১ম কন্যা-পতি-শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক-এর জন্ম-২৬-১০-১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যুঃ ২৭-০৪-১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে, (২) দ্বিতীয় কন্যা-পতি-স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী(জাতীয় নেতা স্যার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জ্যোষ্ঠ ভাই) এবং (৩) বিখ্যাত সাংবাদিক ড. সৈয়দ হোসেন-এর জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে(কায়রোতে)। সৈয়দ হোসেন-এর পত্নী-বিজয় লক্ষী পন্ডিত হলো ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহর লাল নেহেরুর ছোট বোন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর একমাত্র ফুফু। খোশাল দিওয়ান তাঁর প্রভুর বাবার নামে মির্যা ভেলার নামে ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করেন। মির্যা ভেলা তুর্কি মুসলমান এবং বলদাখাল পরগনার জমিদার ছিলেন। ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয় ১৮০০ থেকে ১৮১০ সালের মধ্যে। গ্রাম এবং শহর মিলে প্রায় ভেলানগর গ্রামের ১,৫১৫টি পরিবার আছে। ভেলানগর গ্রামে বাস করে ১,১৩৫টি আর বিদেশ ও শহরে বাস করে ৩৮০টি পরিবার। আর বংশ, ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৯টি। ২৯টির মধ্যে বড়বাড়িও একটি বংশ। ১৭৮০ সালের দিকেও ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়নি। ভারতবর্ষে তখনও ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন ছিল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন পাশ হয়নি। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ-এ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনটি পাশ হয়েছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের অর্থ জমি-জমা, ক্রয়-বিক্রয় করাকে বুঝায়।
এ বইতে বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য তৈরীতে যাঁরা আমাকে সবচেয়ে বেশী সহযোগিতা করেছেন তাঁরা হলেন দৈনিক পত্রিকা পাঠ, দৈনিক লাইব্রেরী ওয়ার্ক, কলকাতার দেশ পত্রিকা পাঠ, দি ওয়াল্র্ড এলমেনাক এন্ড বুকস অব ফেক্ট, বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গে-বাই পন্ডিত জওহর লাল নেহেরু এবং মৌলিক অনেক কিছু থেকে এগুলো নিতে হয়েছে এবং বেশী সহযোগিতা করেছেন যাঁরা তাঁরা হলেন দৈনিক পত্রিকা পাঠ। এজন্য আমি তাঁদের নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। এদেরকে ছাড়া আরও কয়েকজন আমার পরিবারের লোকজন আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে আমার স্ত্রী সৈয়দা সামসুন নাহার বেগম, আমার মেয়ে তানিয়া, আমার ছেলে আবির হোসেন জিয়ান, আমার স্ত্রীর ছোটবোন হামিদা বাণু(ঝর্ণা) এবং আমার বাসা দেখাশুনা করতো যে মেয়েটি তার নাম হাসিনা বেগম এও আমাকে সহযোগিতা করেছে। প্রথমে এ তথ্যের কালেক্টের কাজ শুরু করি ১৯৮২ সাল থেকে...। অনেকেই বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন তার জন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
পরিশেষে এ কথা বলতে চাই যে, যতদূর পারছি এ পৃথিবীর অনেক তথ্য এ বইয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। ক্ষেত্র বিশেষে কিছু ভুল-ত্রুটি হতে পারে, এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমি মনে করি প্রকৃত তথ্য-প্রকৃত উন্নয়ন। প্রকৃত ও সঠিক তথ্যমূলক প্রতিবেদন প্রদান করে ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়া আরও সুন্দর ও সঠিক হবে বলে আমি আশা রাখছি।
প্রথমে ৩১-১২-২০১৪ তারিখ পর্যন্ত এ তথ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে পুনরায়ঃ সময় বাড়িয়ে ৩১-১২-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত এবং পরে আরও সময় বাড়িয়ে ৩১-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রকাশ করা যায়নি। এবং পরে ''বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য'' ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক কপি প্রকাশ করা হয়। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। এ বই সাধু-চলতি ভাষার সংমিশ্রনে লেখা। ভাষা জ্ঞান আমার একেবারে নেই বললেই চলে।
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর, ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।
বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর কথা:
৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগের মানুষ। বিবিসি: জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ আসছে পৃথিবীতে এবং আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগে। কেমব্রিজের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিও জেনেটিকসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. পিটার ফরস্টার বলেন, পূর্ব আফ্রিকায় এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে হোমোস্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানবের উদ্ভব ঘটে। আর জায়গাটি ছিল সম্ভবত বর্তমান ইথিওপিয়ার ওমো নদীর তীরবর্তী কোনো অঞ্চল। ৩১,৭০০ বছর আগে পৃথিবীতে কুকুর ছিল ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর, আন্তর্জািতক বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে। এরা তখন ঘোড়া, হরিণ খেয়ে বেঁচে থাকত। ১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয়। পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে। ১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন-ইরাক সভ্যতা আরম্ভ।
বিশ্বের প্রথম ধান কবে কখন কোথায় মানুষ সর্বপ্রথম ধান বা চালের ব্যবহার শুরু করে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া দায়। ধারণা করা হয়, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই চালের ব্যবহার শুরু হয়। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে উত্তর থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ চীন উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথম ধান চাষ হয়-বিভিন্ন গবেষণায় এ রকম তথ্যই পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম ফুটবল কোথায় সর্বপ্রথম ফুটবল খেলা হয় তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তবে বলা হয়ে থাকে, ফুটবলের সূতিকাগার হলো প্রাচীন চীন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ফুটবল খেলার প্রবর্তন হয়। প্রাচীনকালে মূলত দুই দল লোক একে অন্যকে আক্রমণের মহড়া হিসেবে ফুটবল খেলত। প্রাচীন ফুটবলে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতাব্দীর কিছু আগে বিনোদন হিসেবে বর্তমান ধারার ফুটবল খেলার সূত্রপাত হয়। ৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর।
খৃষ্টপূর্ব ৫০০০ সালে ইউরোপ মহাদেশের গ্রীসে প্রথম রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাফেরা শুরু করে। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। ৪৬০০-৪৮০০ খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ। (সাড়ে ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ।) জানাগেছে জার্মানী, অস্ট্রিয়া ও শেস্নাভাকিয়ার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিদর্শনগুলো আবিস্কৃত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শেনর মধ্যে রয়েছে ১৫০টির বেশি বিশালায়তনের উপাসনালয়। ধর্মীয় প্রয়োজন থেকে কোন জনগোষ্ঠী উপাসনালয়গুলো নির্মাণ করে থাকবেন, যাদের পেশা ছিল পশুপালন। উপাসনালয়সমূহের দৈর্ঘয ১৫০ মিটার। পূর্ব জার্মানীর লেইপনিং এলাকার আইথরা গ্রামে আবিস্কৃত উপাসনালয়ের চাঁরপাশে অন্ততঃ ২০টি ভবন পাওয়া গেছে। এসব ভবনে ৩শ' লোক বাস করতো বলে ধারণা করা হয়। সদ্য আবিস্কৃত এ জনপদের এখনও কোন নামকরণ করা হয়নি। টানা ৩-বছর খননকার্য চালিয়ে সম্প্রতি প্রাচীন-এ সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম দাবা বর্তমান পাকিস্তানের ইন্দাস উপত্যকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূত্রপাত হয়। সেকালে দাবাডূরা আজকের মতোই ৬৪ বর্গের ছক কাটা সিরামিক বোর্ডে দাবা খেলতেন। তাতে থাকত হাতি, রাজা, নৌকা ও ঘোড়া। হরপ্পার কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে এসবের নমুনা পাওয়া গেছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে প্রায় যতদূর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম নগর পারস্য উপকুলে ইরিডু নামক একটি নগর গড়ে ওঠে। সুমেরিয়ান ভাষায় রচিত ইতিহাসে-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এর আগে কিছু ছোট শহরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; কিন্তু ইরিডুই সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের মর্যাদা পায়, যেখান থেকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসননীতি পরিচালিত হতো। খৃষ্টপূর্ব ৪০০০ হাজার সালে বিশ্বের প্রথম উন্মুক্ত খনন ভূগর্ভস্থ মূল্যবান পাথর অনুসন্ধানের জন্য প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা হতো। বেঁচে থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রকৃতির বিশাল ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়েছে তার প্রয়োজনের জিনিসটি। ৪০০০-৩০০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরের সভ্যতার উম্মেষ। মানুষ কিসের জোরে টিকল হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ জোর আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়। বিশ্বের প্রথম চাকা গুহাবাসী মানুষ চাকা তৈরীর পদ্ধতি জানত না। স্বাভাবিক ধারণার চেয়ে অনেক পরে আবিস্কৃত হয়েছে চাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায় (আজকের ইরাক)। তার মানে যানবাহনে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। আজও আমরা এর কোনো বিকল্প খুঁজে পাইনি।
৩৫০০ খৃষ্টপূর্বে ইতিহাস ঘাটিলে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়ায় লাইব্রেরীর প্রচলন ছিল। ৩৫০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময়ে এসে পালতোলা নৌকার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই গাধাকে পোষ মানানো হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ের যে সুমেরীয় যুদ্ধরথের ছবি পাওয়া যায় তা দেখে মনে হতে পারে যুদ্ধরথটি টানছে ঘোড়া-কিন্তু এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ তাঁদের ধারণা-ঘোড়া নয় গাধা। বিশ্বের প্রথম নীতিগল্প খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার সালে সুমেরীয় সাহিত্যে ছোটগল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল। নৈতিকথার শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই প্রধানত ওই সব গল্প লেখা হতো। ঈশপের গল্পে এ ধরনের নীতিকথার সন্ধান মেলে। কুকুর, শেয়াল, বাঁদর, গরু, হাতি, শূকর প্রভৃতি প্রাণী সেসব গল্পের চরিত্র হিসেবে উঠে আসত। বিশ্বের প্রথম কালি মানবসভ্যতার প্রথমদিককার দিনগুলোয় শক্ত তলে দাগ কেটে কিংবা কাদামাটিকে নানা আকার দিয়ে লেখা হতো। মিসরীয়রা প্যাপিরাস কাগজ আবিস্কারের আগেই ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বােব্দ কালি তৈরী করে। পরবর্তী কালে প্যাপিরাস উদ্ভাবনের পর কালিই হয়ে ওঠে লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম। তখনকার দিনে মূলত মৃত মানুষ ও পশুপাখির হাড় শুকিয়ে-পুড়িয়ে তরল কালি তৈরী করা হতো। বিশ্বের প্রথম পস্নাইউড প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম পস্নাইউড আবিস্কৃত হয়। সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সময়ে পালাইউডের প্রচলন ছিল। তখনকার পস্নাইউড অবশ্য বর্তমান সময়ের পস্নাইউডের মতো মসৃণ ও সুন্দর ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন ছয় ধরনের কাঠের সংমিশ্রণে ওই পস্নাইউড তৈরী করা হতো।