১৭১০ সালে (ইবাহিম মাস্টারের বংশের প্রথম পুরুষ) মাহমুদ হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। (তাঁর ছেলে মাহমুদ সুফিকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর বা জোসাত্মা গ্রাম থেকে ভেলানগর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।) তাঁর ছেলে-১৭৩৫ সালে ২য় পুরুষ মাহমুদ সুফির জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে-১৭৬০ সালে ৩য় পুরুষ ভেলানগরে মাহমুদ রুফির জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে-১৭৮৬ সালে ৪র্থ পুরুষ ভেলানগরে তহীমের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর চার ছেলে-৫ম পুরুষ (১) মহীম (২) নিজামউদ্দিন (৩) আজীমউদ্দিন ও (৪) দানিশ। একজনের পরিচয়-১৮১২ সালে (৫ম পুরুষ) মহীমের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে দুই ছেলে ৬ষ্ঠ পুরুষ-(১) নাদিরুজ্জামান ও (২) নুরুজ্জামান। বড় ছেলের পরিচয়-১৮৪০ সালে ভেলানগরে নাদিরুজ্জানের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর তিন ছেলে (৭ম পুরুষ)-(১) আনোয়ার আলী (২) আলতাফ আলী ও (৩) হানিফ মিয়া। বড় ছেলের পরিচয়ঃ ১৮৬৭ সালে ৭ম পুরুষ ভেলানগরে আনোয়ার আলীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর এক ছেলে-(১) মালু মিয়া (৮ম পুরুষ) বড় ছেলের পরিচয়-(১) ১৮৯৬ সালে ভেলানগর গ্রামে (ইব্রাহিম মাষ্টারেরবাড়িতে) মালু মিয়ার জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর তিন ছেলে-(১) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান(সিদ্দিক আমীন), মারা গেছেন (২) রেজাই রব্বানী মাস্টার (৯ম পুরুষ) ও (৩) মোঃ ফারুক মিয়া। তাঁর বড় ছেলের পরিচয়-১৯২৮ সালে ভেলানগর গ্রামে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান(সিদ্দিক আমিনের) জন্ম। তাঁর বড় ছেলের পরিচয়-(১) শাহআলম মিয়া (১০ম পুরুষ)। তার বড় ছেলের পরিচয়ঃ (১) ১৯৫৭ সালে শাহআলম মিয়ার জন্ম, মারা গেছেন। তার ছেলের পরিচয় ১৯৯১ সালে শাওনের জন্ম। শাওন ১১তম পুরুষ ইব্রাহিম মাস্টারের বংশের।

১৭১২ সালে রিয়াজউদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-১৭৮০ সালে। তাঁর ছেলে ১৭৪২ সালে ইয়াজউদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-১৮০৮ সালে। তাঁর ছেলে ১৭৬৯ সালে সরল্লা ভূঁইয়ার জন্ম, মৃত্যু-১৮৪০ সালে। তাঁর ছেলে ১৭৯৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর গ্রামে গরিব উল্লা ভূঁইয়ার জন্ম, মৃত্যু-১৮৬৭ সালে। তাঁর ছেলে ১৮২৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে জান মোহাম্মদ ভূঁইয়ার জন্ম, মৃত্যু-১৮৯৫ সালে। তাঁর ছেলে ১৮৫০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে আমজাদ আলী ভূঁইয়ার জন্ম, মৃত্যু-১৯২১ সালে। তাঁর ছেলে ১৮৭৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে আকরাম আলী ভূঁইয়ার জন্ম, মৃত্যু-১৯৫০ সালে। তাঁর ছেলে ১৯০৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে মালু মিয়া ভূঁইয়ার জন্ম, মৃত্যু-১৯৬১ সালে। তাঁর ছেলে ১৯৪৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে ডা. হাকিম ভূঁইয়ার জন্ম। তাঁর ছেলে ১৯৭৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে মাঈনউদ্দিন ভূঁইয়ার জন্ম। তাঁর মেয়ে ২০০২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে মাহমুদা বেগমের জন্ম (১১তম পুরুষের বাস)।

১৭৩০ সালে তুরস্কে গাযী আহমদের জন্ম। উনার দুই ছেলে-(১) খান মাহমুদ চৌধুরী ও (২) সালেহ আহমদ চৌধুরী। ১৭৫৭ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার পইরাংকুল গ্রামের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান খান মাহমুদ চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৪০ সালে। ১৭৮৫ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে আলী আকবর চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৬৬ সালে। ১৮১৩ সালে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে তোরাফ-উদ-দীন চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৯১ সালে। ১৮৪০ সালে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে হাফিজ-উদ-দীন চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯২২ সালে। ১৮৬৮ সালে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে সুন্দল হোসেন চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৫ সালে। ১৮৯৭ সালে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৭৪ সালে। ১৯২৫ সালে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে আবদুর রহমান চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৯৫২ সালে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরীর জন্ম। ১৯৭৯ সালে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়িতে মোহাম্মদ তোফায়েল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম। পইরাংকুল চৌধুরীবাড়ির ১০ম পুরংষের বংশ লতিকা দেয়া হলো।

১৭৩০ সালে তুরস্কে গাযী আহমদের জন্ম। উনার দুই ছেলে-(১) খান মাহমুদ চৌধুরী ও (২) সালেহ আহমদ চৌধুরী। ১৭৬০ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার পইরাংকুল গ্রামের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান সালেহ আহমদ চৌধুরীর জন্ম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার আহমদপুর গ্রামে মৃত্যু-১৮৪৩ সালে। ১৭৯০ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার পইরাংকুল গ্রামে (তুর্কি মুসলমান) হাফেজ বকতিয়ার আহমদ চৌধুরীর জন্ম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার আহমদপুর গ্রামে মৃত্যু-১৮৬৯ সালে। ১৮১৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে মোহাম্মদ রহিমউল্লাহ চৌধুরী (রমল্লা চৌধুরীর) জন্ম, মৃত্যু-১৮৯৪ সালে। ১৮৪৬ সালে মোহাম্মদ রেহান-উদ-দীন চৌধুরীর (রেনোল্লা চৌধুরী) জন্ম, মৃত্যু-১৯২৭ সালে। ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী (রেসত আলী), মৃত্যুবরণ করেন ১৯৪৫ সালে। ১৯২৪ সালে মোঃ শফিউদ্দিন চৌধুরী (ফেকু চৌধুরী)র জন্ম, মৃত্যু-০৫-০৫-১৯৯৭ তারিখ। ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আলহাজ আবদুল মোমেন চৌধুরীর জন্ম। ১৯৯৮ সালের ২২ জুলাই, চৌধুরী ইকতিয়ারউদ্দিন মোহাম্মদ বকতিয়ার খিলজীর জন্ম। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির লোকজনরা ৯(নবম) পুরুষ শিক্ষিত। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ৯ম পুরুষের বংশ লতিকা দেয়া হলো।

১৭৩০ সালে তুরস্কে মুন্সেফ নাসির-উদ-দীন মুনশির জন্ম, মৃত্যু-১৮০০ সালে। ঢাকার সোনারগাঁও-এ কবর। নাসির-উদ-দীস মুনশি ঢাকার নায়েব-ই-নাযিম-এর মুনশি ছিল। তিনি তাঁর সাত ছেলেকে যুগোপযোগী শিক্ষাদান করেন। তাঁর বড় ছেলে শমশির-উদ-দীন মুনশি ও তাঁর ছোট ভাই বাহরাম মুনশি ফারসি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে মুন্সেফের চাকুরী লাভ করেন। কালক্রমে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বলদাখালের জমিদার মির আশরাফ আলী খান সাহেবের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা হয়। মির সাহেব কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় তাঁকে একটি বড় তালুক, ২২ দ্রোণ(৩৫২ বিঘা) লাখেরাজ ভূমি ও দিঘিরপাড় গ্রামে অবস্থিত ২৮৮ বিঘা আয়তনের দিঘির অর্ধেকটা এবং বসত বাড়ির জন্য প্রচুর জমি দান করলে শমশের-উদ-দীন মুনশি দিঘীরপাড় গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর আর দুই ভাই কেরানিগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। কলাতিয়া মিঞা বাড়ির অধিবাসীগণ তাঁদের বংশধর। নাসির-উদ-দীন মুনশির বাকি তিন পুত্রের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন (১৮০৬-২০০৬) আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবের একটি লেখা থেকে উল্লেখ করলাম। নাসির-উদ-দীস মুনশি হলো আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবের বাবা ইমদাদ আলী মিঞার দাদার দাদা। উনি আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবের পূর্ব-পুরুষ। আবুল কালাম যাকারিয়ার পূর্ব-পুরুষ তুরস্ক থেকে এদেশে এসেছিলেন। তাঁর উধ্র্বতন নমম পুরুষ নাসিরউদ্দিন মুনশি ছিলেন ঢাকার নায়েবে নাজিম-এর খাস মুনশি বা প্রইভেট সেক্রেটারী। তাঁর ছেলে শমশের উদ্দিন মুনশি ছিলেন মুন্সেফ। ১৭৫৯ সালে তুরস্কে (কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার দীঘিরপাড় গ্রামের জমিদার) শমসের-উদ-দীন মুনশির জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৭৮৮ সালে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার দীঘিরপাড় গ্রামে মুনশি ফসিহ-উদ-দীন মিঞার জন্ম, মৃত্যু-১৮৫৯ সালে। ১৮১৭ সালে দিঘীরপাড় গ্রামে মুনশি গোলাম রসুল মিঞার জন্ম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর দিওয়ানবাড়িতে মৃত্যু-১৮৭৩ সালে। ১৮৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামে মুনশি এমদাদ আলী মিঞার জন্ম, মৃত্যু-২৫-১০-১৯৬৫ তারিখ। ১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামের আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার জন্ম ভেলানগর বড়বাড়িতে (উনার নানার নাম-হাঁজী আসকর আলী মুনশি), ২৪-০২-২০১৬ তারিখ বার্ধক্যজণিত কারণে শমরিতা হাসপাতালে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে মারা গেছেন। উনি বর্তমানে বসবাস করেন ১৬নং লেক সাকার্স, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫। উনাকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ১৯৭৬ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে সরকার বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ করিয়েছেন। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া অনেকগুলি গবেষণামূলক বইয়ের লেখক এবং বাঞ্ছারামপুর থানা কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতি নাম করণ করা হয়েছে এবং উনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির সাথে জড়িত আছে। যাকারিয়ার ছেলে ১৯৬০ সালে ঢাকাতে মাহমুদের জন্ম। ১৯৯২ সালে ১৬নং লেক সার্কাস, কলাবাগানে অনন্তের জন্ম। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বংশ ৮(অষ্টম) পুরুষ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে এবং উনার বড় ভাই সাবু দারোগার দিক দিয়ে বংশ নবম পুরুষ বিস্তার পেয়েছে। তাঁরা নবম পুরুষ শিক্ষিত।

১৭৩০ সালের ২ সেপ্টেম্বর, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে (বাংলা ১১৩৭ সনের ১৮ ভাদ্র) লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্ম, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী গ্রামে মৃত্যু-০২-০৬-১৮৯০ তারিখ (বাংলা ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১২৯৭ সন)। মারা যান ১৬০ বছর বয়সে। সিদ্ধ মহাপুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারী জীবনের শেষ দিনগুলো এ গ্রামেই অতিবাহিত করেন। আজকের বারদী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমের কারণেই বিখ্যাত। জ্যোতিবসুর পৈতৃক ভিটা এ গ্রামেই অবস্থিত। ঢাকা থেকে বারদী খুব একটা দূরের পথ নয়। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব হবে।

১৭৩০ সালে কাশ্মীরে আবদাল হাকিমের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ভাই ১৭৩৫ সালে কাশ্মীরে আব্দুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর পুত্র ১৭৭০ সালে সিলেটে খাজা হাফিজুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। এই পরিবারের আদি পুরুষ আবদাল হাকিম নবাব আলীবর্দী খানের সময়ে প্রথমে বসতি স্থাপন করেছিলেন সিলেটে। পরে তাঁরা ঢাকায় আসেন। লবণ ও চামড়ার কারবারে প্রভূত ধনসম্পদ অর্জন করেন। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ঐতিহাসিকের নোটবুক বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আবদাল হাকিমের ভাই আব্দুল্লাহ সিলেট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তাঁর পুত্র হাফিজুল্লাহ আর্মেনীয়দের সঙ্গে যৌথ কারবার করে বিত্তবৈভব বাড়িয়ে তোলেন এবং ১৮১২ সালে বাকেরগঞ্জে জমিদারি ক্রয় করেন। নিঃসন্তান হাফিজুল্লাহর পর উত্তরাধিকারী হন তাঁর ভাই খাজা আলিমুল্লাহ। তাঁর পুত্র নবাব আবদুল গনি। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বংশপরস্পরায় নবাব উপাধি লাভ করেন। ঢাকায় যেসব কাশ্মীরি ধনে-মানে খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছিল, তাদের মধ্যে ঢাকার নবাব পরিবার অন্যতম। তাঁর পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ এবং তাঁর পুত্র নবাব সলিমুল্লাহ। ১৭৮০ সালে (লবণ, চামড়া ইত্যাদির ব্যবসায় প্রভূত অর্থিবত্ত লাভ করে) ঢাকার নবাব বংশের প্রতিষ্ঠাতা খাজা আলিমুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮১৮ সালে ঢাকায় স্যার নবাব খাজা আবদুল গনির জন্ম, মৃত্যু-১৮৭৩ সালে। খাজা আবদুল গনি বংশানুক্রমিক নবাব উপাধি লাভ করেন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ১৮৬৫ সালে। ১৮৪৬ সালে ঢাকার নবাব স্যার খাজা আহসান-উল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-১৬-১২-১৯০১ তারিখ। ১৮৭০ সালের ৭ জুন, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-১৬-০১-১৯১৫ তারিখ। (রাত আড়াই ঘটিকায় কলকাতায় চৌরঙ্গীস্থ বাসভবনে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। পরদিন ১৭ জানুয়ারি বিকেলে বিশেষ স্টীমারযোগে নবাবের মরদেহ ঢাকায় আনা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম বাজারস্থ পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ'র বাবা ১৯০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, নবাব আহসান-উল্লাহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। বাবার মৃত্যুর পর পিতার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ১৯০৩ সালে দিল্লীর দরবারে সপ্তম অ্যাডওয়ার্ডের মুকুট পরিধান উৎসবে সলিমুল্লাহকে নবাব বাহাদুর উপাধি প্রদান করে ইংরেজ সরকার। ১৮৮৫ সালে ঢাকার নবাব খাজা আহসানউল্লাহর কন্যা মেহের বানু খানমের (নবাব সলিমুল্লাহর ছোট বোন এবং মায়ের নাম ছিল কামরুন্নেসা) জন্ম, মৃত্যু-০৩-১০-১৯২৫ তারিখ। মেহের বানু খানম ঢাকার প্রথম মুসলিম নারী চিত্রশিল্পী। সম্ভবত, ১৯১২-১৩ সাল থেকে মেহের বানু ছবি আঁকা শুরু করেন। মেহের বানুর বিয়ে হয় ১৯০২ সালে। বেগম সাহেবার দুটি চিত্র ও নজরুলের কবিতা এবং এমদাদ আলীর চিত্র-পরিচয় নিয়ে ১৯২০ সালের আগষ্টে অর্থাৎ বাংলা ১৩২৭ সালের শ্রাবণ মাসে কলকাতায় মোসলেম ভারতের আলোচিত সংখ্যাটি বের হয়। ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা চালূসহ চিকিৎসা, শিক্ষাবিস্তার, সংস্কৃতির চর্চা ও নগর উন্নয়নে এ পরিবারের অবদান বিপুল। তাদের বংশধরেরা এখনো ঢাকায় বসবাস করছেন।

১৭৩৩ সালে তুর্কি মুসলমান জনাব শের মাহমুদের জন্ম, মৃত্যু জানা নেই। বাবার সাথে চার ছেলেসহ ভেলানগর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। ১৭৬৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান জনাব খোশাল দিওয়ানের জন্ম, মৃত্যু-০৫-০১-১৮৪৪ তারিখ। (খোশাল দিওয়ানের ১৮ কন্যার কথা শুনা যায়)। শের মাহমুদ ৪(চার) ছেলেসহ ভেলানগর-এ আসেন। খোশাল দিওয়ান বলদাখাল পরগনার (জমিদার মির আশরাফ আলী খাঁন) জমিদারের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন। ১৭৭০ সালে ভেলানগরের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান জনাব আকিল মাহমুদের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। আকিল মাহমুদের এক ছেলে (১) আবদুল কাদির মুনশি। আবদুল কাদির মুনশির দুই ছেলে (১) মুনশি কান্দু মিয়া ও (২) মুনশি চাঁন মিয়া। কান্দু মিয়ার এক ছেলে (১) আবদুল্লাহ ডিপটি। আবদুল্লাহ ডিপটির ৮ ছেলে। (১) ড. মাহমুদ (২) গেদু মিয়া ও (৩) ব্রিগেডিয়ার রেজা। ১৭৭৫ সালে ভেলানগরের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান মুনশি আকরাম-উদ-দীনের জন্ম, মৃত্যু-দরিকান্দি গ্রামে (আকরাম-উদ-দীন মুনশি ছিলেন ইজারাদার)। তার মেয়ে বিয়ে দিয়েছে হোমনা থানার দৌলতপুর মিয়াবাড়িতে। আকরাম-উদ-দীন মুনশির মেয়ের ঘরের নাতিন বিয়ে করে যাকারিয়া সাহেবের দাদা এবং আরেক মেয়ে বিয়ে করে মুরাদনগর থানার ভুবন ঘরের উকিল আবদু মিয়ার বাবা। যাকারিয়া সাহেবরা বাস করে দাদার নানার বাড়িতে দরিকান্দি। ১৭৮৫ সালে ভেলানগরের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান মুন্সেফ হোসাইন-উদ-দীন মুনশির জন্ম, মৃত্যু-১৮৬৩ সালে। উনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রথম মুন্সেফ। মুন্সেফ হোসাইন-উদ-দীন মুনশির ছেলে-দিওয়ান ইউসুফ আলীর জন্ম-১৮২০ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে-দিওয়ান মখলুক আহাদের জন্ম-১৮৬০ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর পাঁচ ছেলে(১) দিওয়ান লাল মিঞা (২) দিওয়ান কালা মিঞা (৩) দিওয়ান দুধ মিয়া (৪) দিওয়ান সুন্দর মিঞা ও (৫) দিওয়ান ফিরোজ মিঞা। ১৮৯৫ সালে দিওয়ান লাল মিঞার জন্ম, মৃত্যু-১৯৫৪ সালে। তাঁর দুই ছেলে-(১) দিওয়ান পেশকার মিঞা (২) দিওয়ান আরফান মিঞা। ১৯৩০ সালে পেশকার মিঞার জন্ম, মৃত্যু-১৯৯৮ সালে। তার ছেলেরা-(১) ১৯৬৪ সালে দিওয়ান মোঃ আনিসুর রহমান (সমীর)-এর জন্ম ও (২) দিওয়ান ফেরদৌসুর রহমান (স্বপন)। সমীরের ছেলে-মেয়েরা (৮ম পুরুষ)। খোশাল দিওয়ানের বাবাসহ তাঁদের ৮(আট) পুরুষের বংশ লতিকা।