ও মাদ্রাসা আছে-৬৭১টিউপজেলা ও থানাতে কয়টি আছে তা দেখানো হলো: ১. ফুলছড়ি-২৮টি, ২.
গাইবান্ধা সদর-৯১টি, ৩. গোবিন্দগঞ্জ-১৫৬টি, ৪. পলাশবাড়ি-৭০টি, ৫. সাদুল্লাপুর-১১৫টি, ৬.
সাঘাটা-৬৬টি ও ৭. সুন্দরগঞ্জ-১৪৫টি
দিনাজপুর জেলাতে জাতীয় সংসদ সদস্যের আসন আছে-০৬টিদিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের ২ ভাগস্কুল,
কলেজ ও মাদ্রাসা আছে-১,০৭৫টিউপজেলা ও থানাতে কয়টি আছে তা দেখানো হলো: ১. বিরল-৭১টি, ২.
বিরামপুর-৬৭টি, ৩. বীরগঞ্জ-১০০টি, ৪. বোচাগঞ্জ-৭০টি, ৫. চিরিরবন্দর-১২৬টি, ৬. দিনাজপুর সদর-১২১টি,
৭. ফুলবাড়ি-৫৮টি, ৮. গোড়াঘাট-৪৩টি, ৯. হাকিমপুর-৩৬টি, ১০. কাহারোল-৬৬টি, ১১. খানসামা-৯০টি,
১২. নবাবগঞ্জ-১০৮টি ও ১৩. পার্বতীপুর-১১৯টি
ঠাকুরগাঁও জেলাতে জাতীয় সংসদ সদস্যের আসন আছে-০৩টিঠাকুরগাঁও জেলা বাংলাদেশের ১ ভাগস্কুল,
কলেজ ও মাদ্রাসা আছে-৫৮২টিউপজেলা ও থানাতে কয়টি আছে তা দেখানো হলো: ১. বালিয়াডাঙ্গি-৭৬টি,
২. হরিপুর-৮৪টি, ৩. পীরগঞ্জ-১১৯টি, ৪. রানীশিঙ্গাইল-৯৬টি ও ৫. ঠাকুরগাঁও সদর-২১৭টি
পঞ্চগড় জেলাতে জাতীয় সংসদ সদস্যের আসন আছে-০২টিরংপুর জেলা বাংলাদেশের ০.৬৭ ভাগস্কুল, কলেজ ও
মাদ্রাসা আছে-৩৮২টিউপজেলা ও থানাতে কয়টি আছে তা দেখানো হলো: ১. আটোয়ারী-৬৭টি, ২.
বোদা-১০৫টি, ৩. দেবীধস-৭২টি, ৪. পঞ্চগড় সদর-৯৮টি ও ৫. তেতুলিয়া-৪০টি

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে এ দেশে মাদ্রাসা, ডিগ্রী মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ এবং কলেজসহ বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-১০,০৩৫টি। আমার বইয়ে ৭টি বিভাগের প্রত্যেক জিলা হিসেবে কয়টি মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের তা'দেখানো হলো।

ভবিষ্যতের কথা ভেবে বা ২০৫০ সালের কথা চিন্তা করে, এ দেশে ২০(বিশ) বা ২২(বাইশ) কোটি জনসংখ্যা ধরে প্রাইমারী/কিন্ডারগার্টেন, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করতে হবে। যত প্রকার প্রাইমারী বিদ্যালয় আছে প্রায় ২(দুই) লক্ষ প্রয়োজন হবে, যত প্রকার উচ্চ বিদ্যালয় আছে তা' ৫০(পঁঞ্চাশ) হাজার প্রয়োজন হবে, যত প্রকার কলেজ আছে তা' ১০(দশ) হাজার প্রয়োজন হবে, যত প্রকার বিশ্ববিদ্যালয় আছে তা' সরকার প্রদত্ত মানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ২৫০(দুইশত পঁঞ্চাশ)টি প্রয়োজন হবে। এরমধ্যে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মত ২,৫০০(দুই হাজার পাঁচশত)টি হসপিটাল করতে হবে। এ গুলো প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি ক্ষেত্রে অপচয় বন্ধ করতে হবে। আর যত প্রকার দুর্নীিত ও ভোগবিলাশ আছে বন্ধ করতে হবে নতুবা এ কাজগুলো হবে না। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপস্নব হবে না বা সবাই শিক্ষার সুযোগ পাবে না। দেশের সবাইকে শিক্ষিত করে তুলতে হলে সমাজের দুর্নীিত, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত অপচয়, সন্ত্রাস ও ভোগবিলাশ বন্ধ করতে হবে নতুবা কোনকিছুই লক্ষ্যে পৌঁছবে না। এ দেশের ব্যাপক জনগণকে অশিক্ষিত হিসেবেই থাকতে হবে। ষাটের দশক থেকে এ দেশের উন্নয়ন হবেই শুনে আসছি। কিন্তু পাকিস্তান চলে গেল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর-এর বিকেল ৫টার পর। বাংলাদেশের কাল শুরু হল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাত্রি থেকে আজ অবদি ০৬-০৬-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত কেন আমাদের দেশের মানুষের বেকারত্ত্ব দারিদ্র দূর হলো না বা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি হলো না। এখন পর্যন্ত আশার বাণী শুনে যাচ্ছি। দেশের সব সমস্যার জট বাধছে। বাস্তবে কিন্তুু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। তবে স্বাধীনতার পর যতগুলো সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা সবাই ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের অবস্থা ভালো বলে-আর ক্ষমতা থেকে চলে গেলে দেশের অবস্থা খারাপ বলে। এ হল আমাদের দেশের সরকার সাহেবদের কথা। এ ভাবেই দেশের সকল সাধারণ মানুষের সাথে প্রত্যেক সরকারই প্রতারণা করে। স্বাধীনতার ৪২ বছর চলে গেল। এখনও এ দেশ থেকে মানুষ পাচার হয়। এ দেশ থেকে বিদেশে মানুষ যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এবং দেশের ৮৫ লক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করে। আমাদের দেশে শিক্ষার হার শতকরা কতভাগ ৩০ ভাগ এবং স্বাক্ষরতার হার কতভাগ ৬০ ভাগ। লিখতে পড়তে পারে তাকে শিক্ষিত বলা হয় এবং শুধু স্বাক্ষর করতে পারে মানে নিজের নাম লিখতে পারে তাকে বলা হয় স্বাক্ষর করতে পারে। এ বইটি আমার ৫ নম্বর বই হিসেবে বেড়িয়েছে।

ইংরেজী তালিকা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার নাম, সন ও তারিখসহ বইটি আমি রচনা করেছি। এতে অনেক ভুল থাকতে পারে। যাঁরা ইংরেজীতে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের নামগুলো লিখেছে তাঁদের উচ্চারণ এবং আমার মত ইংরেজী না জানা লোক বাংলায় ভাষান্তর করা অনেক ক্ষেত্রে ভুল উচ্চারণ হতে পারে তাঁর জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ভাষা জ্ঞান আমার একেবারে নেই বললেই চলে।

মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর

ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।

বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর কথা:

৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগের মানুষ। বিবিসি: জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ আসছে পৃথিবীতে এবং আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগে। কেমব্রিজের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিও জেনেটিকসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. পিটার ফরস্টার বলেন, পূর্ব আফ্রিকায় এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে হোমোস্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানবের উদ্ভব ঘটে। আর জায়গাটি ছিল সম্ভবত বর্তমান ইথিওপিয়ার ওমো নদীর তীরবর্তী কোনো অঞ্চল। ৩১,৭০০ বছর আগে পৃথিবীতে কুকুর ছিল ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর, আন্তর্জািতক বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে। এরা তখন ঘোড়া, হরিণ খেয়ে বেঁচে থাকত। ১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয়। পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে। ১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন-ইরাক সভ্যতা আরম্ভ।

বিশ্বের প্রথম ধান কবে কখন কোথায় মানুষ সর্বপ্রথম ধান বা চালের ব্যবহার শুরু করে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া দায়। ধারণা করা হয়, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই চালের ব্যবহার শুরু হয়। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে উত্তর থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ চীন উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথম ধান চাষ হয়-বিভিন্ন গবেষণায় এ রকম তথ্যই পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম ফুটবল কোথায় সর্বপ্রথম ফুটবল খেলা হয় তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তবে বলা হয়ে থাকে, ফুটবলের সূতিকাগার হলো প্রাচীন চীন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ফুটবল খেলার প্রবর্তন হয়। প্রাচীনকালে মূলত দুই দল লোক একে অন্যকে আক্রমণের মহড়া হিসেবে ফুটবল খেলত। প্রাচীন ফুটবলে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতাব্দীর কিছু আগে বিনোদন হিসেবে বর্তমান ধারার ফুটবল খেলার সূত্রপাত হয়। ৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর।

খৃষ্টপূর্ব ৫০০০ সালে ইউরোপ মহাদেশের গ্রীসে প্রথম রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাফেরা শুরু করে। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। ৪৬০০-৪৮০০ খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ। (সাড়ে ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ।) জানাগেছে জার্মানী, অস্ট্রিয়া ও শেস্নাভাকিয়ার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিদর্শনগুলো আবিস্কৃত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শেনর মধ্যে রয়েছে ১৫০টির বেশি বিশালায়তনের উপাসনালয়। ধর্মীয় প্রয়োজন থেকে কোন জনগোষ্ঠী উপাসনালয়গুলো নির্মাণ করে থাকবেন, যাদের পেশা ছিল পশুপালন। উপাসনালয়সমূহের দৈর্ঘয ১৫০ মিটার। পূর্ব জার্মানীর লেইপনিং এলাকার আইথরা গ্রামে আবিস্কৃত উপাসনালয়ের চাঁরপাশে অন্ততঃ ২০টি ভবন পাওয়া গেছে। এসব ভবনে ৩শ' লোক বাস করতো বলে ধারণা করা হয়। সদ্য আবিস্কৃত এ জনপদের এখনও কোন নামকরণ করা হয়নি। টানা ৩-বছর খননকার্য চালিয়ে সম্প্রতি প্রাচীন-এ সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম দাবা বর্তমান পাকিস্তানের ইন্দাস উপত্যকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূত্রপাত হয়। সেকালে দাবাডূরা আজকের মতোই ৬৪ বর্গের ছক কাটা সিরামিক বোর্ডে দাবা খেলতেন। তাতে থাকত হাতি, রাজা, নৌকা ও ঘোড়া। হরপ্পার কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে এসবের নমুনা পাওয়া গেছে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে প্রায় যতদূর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম নগর পারস্য উপকুলে ইরিডু নামক একটি নগর গড়ে ওঠে। সুমেরিয়ান ভাষায় রচিত ইতিহাসে-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এর আগে কিছু ছোট শহরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; কিন্তু ইরিডুই সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের মর্যাদা পায়, যেখান থেকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসননীতি পরিচালিত হতো। খৃষ্টপূর্ব ৪০০০ হাজার সালে বিশ্বের প্রথম উন্মুক্ত খনন ভূগর্ভস্থ মূল্যবান পাথর অনুসন্ধানের জন্য প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা হতো। বেঁচে থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রকৃতির বিশাল ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়েছে তার প্রয়োজনের জিনিসটি। ৪০০০-৩০০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরের সভ্যতার উম্মেষ। মানুষ কিসের জোরে টিকল হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ জোর আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়। বিশ্বের প্রথম চাকা গুহাবাসী মানুষ চাকা তৈরীর পদ্ধতি জানত না। স্বাভাবিক ধারণার চেয়ে অনেক পরে আবিস্কৃত হয়েছে চাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায় (আজকের ইরাক)। তার মানে যানবাহনে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। আজও আমরা এর কোনো বিকল্প খুঁজে পাইনি।

৩৫০০ খৃষ্টপূর্বে ইতিহাস ঘাটিলে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়ায় লাইব্রেরীর প্রচলন ছিল। ৩৫০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময়ে এসে পালতোলা নৌকার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই গাধাকে পোষ মানানো হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ের যে সুমেরীয় যুদ্ধরথের ছবি পাওয়া যায় তা দেখে মনে হতে পারে যুদ্ধরথটি টানছে ঘোড়া-কিন্তু এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ তাঁদের ধারণা-ঘোড়া নয় গাধা। বিশ্বের প্রথম নীতিগল্প খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার সালে সুমেরীয় সাহিত্যে ছোটগল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল। নৈতিকথার শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই প্রধানত ওই সব গল্প লেখা হতো। ঈশপের গল্পে এ ধরনের নীতিকথার সন্ধান মেলে। কুকুর, শেয়াল, বাঁদর, গরু, হাতি, শূকর প্রভৃতি প্রাণী সেসব গল্পের চরিত্র হিসেবে উঠে আসত। বিশ্বের প্রথম কালি মানবসভ্যতার প্রথমদিককার দিনগুলোয় শক্ত তলে দাগ কেটে কিংবা কাদামাটিকে নানা আকার দিয়ে লেখা হতো। মিসরীয়রা প্যাপিরাস কাগজ আবিস্কারের আগেই ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বােব্দ কালি তৈরী করে। পরবর্তী কালে প্যাপিরাস উদ্ভাবনের পর কালিই হয়ে ওঠে লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম। তখনকার দিনে মূলত মৃত মানুষ ও পশুপাখির হাড় শুকিয়ে-পুড়িয়ে তরল কালি তৈরী করা হতো। বিশ্বের প্রথম পস্নাইউড প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম পস্নাইউড আবিস্কৃত হয়। সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সময়ে পালাইউডের প্রচলন ছিল। তখনকার পস্নাইউড অবশ্য বর্তমান সময়ের পস্নাইউডের মতো মসৃণ ও সুন্দর ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন ছয় ধরনের কাঠের সংমিশ্রণে ওই পস্নাইউড তৈরী করা হতো।

খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছর আগে মিসর সরকার বিশেষ ধরনের পুলিশ বাহিনী নিয়োগ দেয়। প্রাচীন মিসরে বিশ্বের প্রথম পুলিশ বাহিনীর প্রচলন ছিল-এমন তথ্য জানা গেছে। সমগ্র মিসরের বিভিন্ন অঞ্চল ছিল তাদের কর্মেক্ষত্র। প্রত্যেক জেলা প্রশাসনে একজন করে পুলিশ কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং কিছু আইনগত দিকও ওই পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই প্রত্নবিদদের মতে সিরিয়ার বা মেসোপটেমিয়ার রোদে শুকিয়ে নেওয়া মাটির ইটের প্রচলন হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ সালে এসে নিশ্চিতভাবে বলা চলে, ভূমধ্যসাগর বা আরবসাগরের ওপর দিয়ে পালতোলা নৌকার রীতিমত যাতায়াত শুরু হয়েছে। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় কাদা দিয়ে তৈরি আয়তাকার বস্নকে মানচিত্র আঁকা হতো। খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগেকার এমনই একটি মানচিত্র পাওয়া গেছে ইরাকের কিরকুক শহরে। তাতে ১২৭টি আলাদা ভূখন্ড, কিছু পাহাড় এবং একটি নদীর ছবি আছে। এর চারকোণায় আছে কম্পাসের দিকনির্দেশনা, তবে ওপরের দিকে ধরা হয়েছে পূর্ব। কাছাকাছি সময়ের আরেকটি মানচিত্রে নয়টি গ্রাম ও তার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদী ও রাস্তার ছবি খুব স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০(তিন হাজার) শতকে মানুষ দৈনন্দিন প্রক্ষালন-কর্মে ফ্লাশের ব্যবহার করেছে তা ভাবতেও অবাক লাগে। কী ভাবে এল ফ্লাশ টয়লেট: আজ ফ্লাশের ব্যবস্থা ছাড়া আমরা টয়লেট কল্পনাও করতে পারি না। কিন্তু জানেন কি, পৃথিবীতে প্রথম ফ্লাশ টয়লেট ব্যবহৃত হয়েছিল কবে? সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীনতম সভ্যতা। পাকিস্তানের সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা কিন্তু নিজেদের তুলে নিয়েছিল অন্য এক উচ্চতায়। সেই সিন্ধু সভ্যতার নগরী হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর অধিবাসীরা নিজেদের বাড়িতে ব্যবস্থা করেছিল এই ফ্লাশ টয়লেট।

খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ ভারতবর্ষের মানুষ রাস্তা দিয়ে প্রথম চলাচল শুরু করে। বিশ্বের প্রথম চা প্রাচীন চীনের সমাজ-জীবনে চা একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পানীয় হিসেবেই প্রচলিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন চীনের সাহিত্যে-বিশেষ করে কবিতায়-চায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। টারং রাজবংশের শাসনামলে লু উও 'দ্য টি ক্লাসিক' নামে একটি বই রচনা করেন খ্রিষ্টপূর্ব আট শতাব্দীতে। বইটিতে চা-গাছের উৎপাদন, চা তৈরির পদ্ধতি, নানা ধরনের চায়ের স্বাদ ও গন্ধ ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ২৮০০ খৃষ্টপূর্ব পৃথিবীতে সম্ভবত বাগান করার কাজে প্রথম পথিকৃৎ চীন সম্রাট শেন নুঙ বিভিন্ন যায়গায় লোক পাঠিয়ে নানারকম গাছ সংগ্রহ করতেন। ২৭০০ খ্রিষ্টপূর্ব আকুপাংচার প্রথম আবিস্কার করেন কিংবদন্তির চীনা সম্রাট সেন নাং। গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ওষধগুলোর প্রথম তালিকাও প্রস্ত্তত করেন তিনি। ২৫০০ খৃষ্টপূর্ব বছর আগে পৃথিবীর আকার গোল, সকলের জানা মাত্র এ কথাটিও নতুন ও অভিনব শোনাত। ২৫০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরে কাঠের লাঙ্গল ব্যবহার। খৃষ্টপূর্ব ২৫০০ বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে বিশ্বের প্রথম পেশাজীবী নারীদের আয়মূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। তবে সে সময় পুরুষের মতো পেশাজীবী নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সব কাজ করার সুযোগ পেতেন না। বিশেষ করে নারীদের বিচারক পদে কাজ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা ছিল।