এতদিন বেকারত্ব দূর করার পথ হিসাবে শ্রমশক্তি রপ্তানিকে সর্বািধক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদেশে চাকরি পাওয়া নিয়ে এদেশের তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীদের মধ্যে রীতিমত উম্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশে চাকরি পাওয়ার জন্য কর্মক্ষম মানুষেরা সর্বস্ব বিক্রি করে টাকা জুগিয়েছে। অনেকেই এভাবে বিদেশে গিয়েছে। কিছু লোক সর্বস্বান্তও হয়েছে। বিদেশে চাকরি পাওয়ার জন্য এখানকার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে উম্মাদনা সৃষ্টির জন্য দায়ী এখানকার সরকার। এদেশে কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীদের কাজ নেই। বিদেশে যেতে পারলেই কাজ পাওয়া যায় এবং সেই সাথে ডলার, রিয়াল, রিঙ্গিত, বাথ ও লিরায় পকেট ভারী হয়ে উঠবে। এমন একটা ধারণা দেশের কোটি কোটি বেকারদের দেওয়া হয়েছে। এদেশের কোটি কোটি বেকারকে কাজ দেওয়ার ক্ষমতা যে কোন দেশের এমনকি আমেরিকা ও ইউরোপের নই সেটা বেকারদের স্পষ্ট করে বলা হয়নি। বিদেশে যেতে পারলেই কাজ পাওয়া যায় না, এই ধারণা বেকারদের দেওয়া হয়নি। সব দেশে চাকরি পাওয়া(বা না পাওয়া) নির্ভর করে ওই দেশের অর্থনীতির উপর। সামাজিক দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ থেকে যদি সমাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়।(যেমন নিজের দেশে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি) তাহলে বিদেশীদের ওইসব দেশে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের কাজ দেওয়া হবে না। কিন্তু এখানকার বেকাররা বৈধ অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার জন্য মরীয়া হয়ে বিদেশে গিয়ে হাজির হয়। এদের সবাই চাকরি পায় না। অনেকে ফিরে এসেছে বা জেলখানায় ও বন্দী শিবিরে আটক আছে। তারপরও এখানকার তরুণদের বিদেশে পাড়ি দেওয়া বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলির উদ্দেশ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে বাংলাদেশী পাড়ি জমায়। কিন্তু হঠাৎ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েছে। এসব দেশগুলিই(কোরিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া) বাংলাদেশের বেকারদের টারগেট। এখন এসব দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। সেখানে বিদেশীদের চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অতএব, শ্রমশক্তি রপ্তানি বেকার সমস্যা সমাধানের পথ নয়। এই পরিস্থিতিতে এখানকার বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন পথ বেছে নিতে হবে। বেকার সমস্যা সমাধানের প্রকৃত পথ হলো দেশে, প্রচুর শিল্পকারখানা সৃষ্টি করা। এই কাজটা ''অতি দ্রুত করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের বেকার লোকদের সংখ্যা ইতিমধ্যে বিপদজনক সীমা অতিক্রম করে গেছে। বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে অচিরেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই বেকার সমস্যার সমাধান জরুরী এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। সেজন্যই অতি দ্রুত শিল্পায়নের প্রয়োজন। দেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান পলিসি সময়ের উপযোগী নয়। দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির বিপর্যয় থেকে এটা স্পষ্ট যে বিদেশী বিনিয়োগ ও রপ্তানির উপর নির্ভর করে অর্থৈনতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদেশী বিনিয়োগ ও রপ্তানির উপর নির্ভরতাই কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার অর্থৈনতিক উন্নয়নের সঠিক পথ জানে না। ফলে দেশের জনগণকেই নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে এবং বিকল্প পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে বিকারদের নতুন করে চিন্তা করতে হবে এবং এগিয়ে আসতে হবে।

--------

নভেম্বর-১৯৯৮

হরতালের চুক্তি:

এদেশে এক সময় সব দুষ্টু ছেলেই প্রতিপক্ষকে ইট মেরেছে। এইসব দুষ্টু ছেলেকে ইট মারা থেকে নিবৃত্ত করার জন্যই মনে হয় একটা প্রবাদ চালু ছিল। ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়। পাটকেল ইটেরই টুকরা।

সমাপনী:

আমি যা ভাবি তা' করতে পারি না, যা করি তা' ভাবি না। প্রতিদিন বিবেকের সাথে লড়াই করতে করতে হেরে যাই। প্রতিদিন এভাবে বিবেকের সাথে হারতে থাকলে আমার বলে কি কোন সত্ত্বা থাকে। আমার কাছে একটা জিনিষ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, একটা সমাজব্যবস্থার উপর নির্ভর করে মানুষের চিন্তা-চেতনা বা চরিত্র গড়ে উঠে। আর যারা চাকুরী করে তাদের বিবেক বলতে কিছুই থাকে না। তার উপরওয়ালা যা বলে তা করতে হয় প্রতি মহুর্তে-এর বাহিরে কিছু করতে চাইলে তার চাকুরী থাকে না বা তার প্রমোশন হবে না। তার উপরের বস যদি তাকে ভাল বলে তা'হলে সে ভাল নতুবা ভাল না। এ সমাজে কাজের বিচার হয় না, বিচার হয় তার বসের কতটুকো মন রক্ষা করতে পাড়লো। বাংলাদেশের গরীব মানুষ কেউ কাকে বিশ্বাস করে না। পুঁজিবাদী সমাজে বিশ্বাস বলতে কিছু নেই। কাজ দিয়ে বিচার করতে হয়। একবার একটা লোক যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করে ফেলে, তাকে আর বিশ্বাস করা যায়না। যদি সে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারে যে, তাঁর জীবন চলে যাবে, এখন যদি সে তাদের পক্ষে মিথ্যা স্বাক্ষী না দেয়। তবে তা'প্রমাণ করতে পারলে তাঁকে ক্ষমা করা যায়, একবার কি দু'বার ভুল করলে, তিনবারের মাথায় নয়। আমি যা চাই করতে তা'করতে পারলে আমার স্বাধীনতা আছে বা আমি স্বাধীন মানুষ। কিন্তু আমার কাজ এমন হবে না যা অপরের জন্য ক্ষতিকর হয়। আমি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আর আসবো না। আমি এ বয়স পর্যন্ত আমি আমার ওয়াদা ভঙ্গ করছি বলে মনে হয় না, কিন্তু আমার সাথে অনেকে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। চাকুরী করা চাকর খাটার সমান। কেউ বড় চাকর, কেউ ছোট চাকর। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ যা বলে তা করে না, আর যা করে তা'বলে না। আমিও আমার জীবনের সাথে আপোষ করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার দ্বারা এ পৃথিবীতে কিছু হবে বলে মনে হয় না। আর কিছু করতে হলে প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যার শত্রু নেই তার কোন মিত্রও নেই। যার শত্রু আছে তার মিত্রও আছে। সমাজে সৎ এবং অসতের লড়াই। জোর যার মুল্লুক তার। সরকার নির্ধািরত বেতন কাঠামোর সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সৎভাবে চাকুরী করলে সম্পদের মালিক হওয়া যায়না। আমাদের দেশে সৎভাবে সম্পদের মালিক হওয়া কঠিন কাজ। সমাজের বেশীরভাগ মানুষের লক্ষ্য একই, কিভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। কিভাবে ভবিষ্যৎ সুন্দর করা যায়। সমাজে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য এ এক প্রতিযোগিতা চলছে। সম্পদের মালিক হতে হলে রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে বা রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হলেই সম্পদের মালিক হওয়া যায়। আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ভাগ মানুষ গরীব ও শোষিত। তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমাদের দেশের কিছু লোকের নিকট সম্পদ জমা হচ্ছে। আর সমগ্র দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি নেই। যে সম্পদ মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়না-সে সম্পদ দেশে অপচয় বাড়ায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন-মানের অবনতি ঘটায়। এদেশে কিছু মানুষের ভোগবিলাসের সীমাপরিসীমা নেই। আর অন্যদিকে শতকরা ৯৫ভাগ মানুষের কোন ভবিষ্যত বলতে নেই। এক মানুষ আরেক মানুষের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে বৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। গরীব মানুষ সবাই আমরা নিজেকে চালাকভাবী মনে মনে। আসলে আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষই বোকা। কিন্তু দেশের বেশীরভাগ মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা রাখা যাবেনা। এক সময় দেশের ৯৫ভাগ মানুষ যেগে উঠবে। আমার ছোট সময়ের স্মৃতিগুলি মনে হয় বারবার। মরতে চাইনা তবু মরতে হবে। চিরন্তন বলে কোন কিছু নেই, সবকিছুই রূপান্তর। সমাজের নিয়ম হলো উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন। নিরপেক্ষ বলতে কোন বস্তু নেই এ পৃথিবীতে এবং ৫০(পঞ্চাশ), ৫০(পঞ্চাশ) বলতে কোন বস্তু নেই, ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং তা প্রমাণ করেছে। কিছু একটা করতে চাই। কি করব তা স্পষ্ট করে বলতে পারি না। রাজনীতি করা মহান কাজ। যদি সাম্যের রাজনীতি হয়। সকল শ্রমজীবি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করা মহান কাজ। মানুষের মাঝে সাম্য আনা শ্রেষ্ঠ কাজ। আমার মাঝে এ দেশের আসল চিত্রগুলি বারবার ভেসে উঠে। গ্রাম এবং শহরের গরীব মানুষের মুখের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারি তাদের চাহিদা কি? তা'দের চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এর বেশী কিছু নয়। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে তা'দিয়ে বাংলাদেশের ১৫(পনের) কোটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা এ সব মৌলিক চাহিদার গ্যারান্টি দেয়া যায়। তখনই আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন। নতুবা মুক্তিযুদ্ধের অর্থ বা এ স্বাধীনতার অর্থ ফাঁকাবুলি ছাড়া আর কিছু নয়। প্রত্যেকটা মানুষের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। কোন জিনিষই বিছিন্ন নয়। আমাদের গ্রামের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতে হবে নতুবা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে বিছিন্ন নয়। তবু বাংলাদেশের একটি আলাদা বর্ডার বা সীমানা আছে। এ সীমানা থাকায় সাময়িকভাবে বাংলাদেশকে পৃথিবী থেকে আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা। তাই আধুণিক রাষ্ট্রগুলি ভেঙ্গে যদি পৃথিবীটা একটা দেশে পরিণত হত, তা'হলে আজকেরমত এ অবস্থা বিরাজ করত না। যেদিন পৃথিবীটা একটা দেশে পরিণত হবে সেদিন মানুষে মানুষে এত বৈষম্য বিরাজ করবে না। আর যতদিন পৃথিবীতে শোষণ টিকে থাকবে, ততদিন রাষ্ট্রের অবসান হবেনা। আমরা মায়ের পেট থেকে কেউ সম্পদ নিয়ে আসিনি। শ্রমজীবি মানুষের উৎপাদিত সম্পদ, অসম বিনিময়ের মাধ্যমে বুর্জোয়ারা সম্পদের মালিক হয়েছে। যে যায়গায় মানুষ আছে-সে যায়গায় খাদ্য আছে। যে যায়গায় খাদ্য আছে-সে যায়গায় মানুষ আছে। বেশীরভাগ মানুষ বলে খাদ্যের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, আসলেই কি কথাটা তাই? যদি খাদ্যের অভাবে মানুষগুলি মারা যেত-তা'হলে সবগুলি মানুষ মারা যেত। আসলে কথাটা হবে ক্রয়-ক্ষমতার অভাবে মানুষগুলি মারা যাচ্ছে। ক্রয়-ক্ষমতা নাই কেন? কিছু মানুষ দ্বারা ব্যাপক মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় বলে। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করে দুর্ভিক্ষ। সম্পদের সুষম বন্টন করা হলে-কেউ না খেয়ে মারা যেতো না। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যা কিছু হয়-সবকিছুর জন্য দায়ী ধনীরা। ধনীদের অপচয় বন্ধ করতে পারলে এ দেশে কেউ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষার অভাবে মৃত্যুবরণ করতো না বা কাজের আসায় কাউকে আজ বিদেশে যেতে হতো না বা কেউ এদেশে বেকার থাকত না। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ভোগবিলাশের জন্য গরীবদের শাসন-শোষণ করছে। এ অন্যায় বৈষম্য যারা সৃষ্টি করেছে তারা অপরাধী। স্বার্থপর শাসক ও বিলাসী ধনীদের সৃষ্টি। এ বৈষম্য মেনে নেওয়াও এক ধরণের অপরাধ। এ অন্যায় বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। বেশীরভাগ মানুষ বলে যে দেশে রাজনৈতিক স্থিথিশীলতা আসলে দেশ শান্তির পথে চলবে ঠিকই-কিন্তু আমি বলি যে রাজনৈতিক স্থিথিশীলতা আসার পূর্ব শর্ত হল মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি। মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি না আসলে দেশে রাজনৈতিক স্থিথিশীলতাও আসবে না।

মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)।

ছবি:

মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)-এর জন্ম ১ নভেম্বর, ১৯৪৮ সালে নানাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে। শৈশব কেটেছে দাদাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর বড়বাড়িতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। এস.এস.সি. পাশের পর কুমিলা ভিক্টোরিয়া কলেজে-এ ভর্তি হয়ে পড়া-লেখা করা হয়নি। ঢাকায় আসেন ১৯৬৬-তে।

১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন-এ অংশগ্রহণ করেন। প্রায় প্রতিদিন মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ ও ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন। তারপর ১৯৭৯ সাল থেকে জনমুক্তি পার্টির বক্তব্যের সাথে একমত। ২০০২ সালে জীবনে প্রথম রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতি'র বার্ষিক স্মরণিকাতে ২টি লেখা ছাপা হয় তারপর ২০০৩ সালে বড়বাড়ি প্রকাশনীর মাধ্যমে ''ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি ও দেশ-বিদেশের তথ্য'' এবং ২০০৫ সালে রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০-বছর পূর্তির স্মরণিকাতে দুটি লেখা ছাপা হয়। ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারিতে জাকির হুসেন (আলমগীর) আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা। এ গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা-পর্যােলাচনা ও গবেষণা করা হয়। পৃথিবীর ২৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা বা পৃথিবীর ২০০ জাতির মধ্যে বাংলাদেশের স্থান কোন যায়গায়। পৃথিবীর লোকসংখ্যার ৪৪ ভাগের ১ ভাগ লোক বাংলাদেশে বাস করে। পৃথিবীতে লোকসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ৭ম স্থানে এবং অর্থনীতির আকারে ৫৬তম স্থানে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কিভাবে উজ্জ্বল করা যায়। এ ধরনের গবেষণা করা হয়। (১) ১৭৮০-২০০৩ সাল পর্যন্ত ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি ও দেশ-বিদেশের তথ্য (২) ১৮০৬-২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনীর মাধ্যমে ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন'' (৩) ১৭৪০-২০০৭ সালের জুলাই মাসে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তথ্যাবলী (৪) ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনীর মাধ্যমে ''আমার দেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮-২০০৮)-এ বইটিও প্রকাশিত (৫) ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল, ''ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি(১৭৮০-২০১০)''-এর দ্বিতীয় সংস্করণটিও (৬) ''দেশ-বিদেশের স্মরণীয় কিছ লোকের নাম জন্ম ও মৃত্যু'' (৭) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১-২০১৩ ও আমার দেখা ১৯৬৮ থেকে (৮) 'বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য' (৯) 'ভেলানগর গ্রামের ইতিহাস' (১৭৪০-২০১৩) (১০) বাংাদেশের কিছু কিছু ঘটনা ও তথ্য (১১) ১৭৫৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে এ দেশে কয়টি মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-নাম, সন তারিখ দিয়ে একটি বই রচনা করা হয়েছে এবং এ বইটি আমার ১১ নম্বর বই। (১২) খেয়া পত্রিকার কিছু লেখার সংকলন দিয়ে একটি বই রচনার কাজ চলছে। ও (১৩) বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য: (পার্ট-২) এ বইটিরও কাজ চলছে। (১৪) এ পৃথিবীর চেনা-জানা মানুষ-এ বইটিরও কাজ চলছে (১৫) আমার দেখা ঢাকা-এ বইটিরও কাজ চলছে (১৬) মোঃ জাকির হুসেন আলমগীরের আত্মজীবনী-এ বইটিরও কাজ চলছে। তাঁর স্বপ্ন বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি দেয়া।

-প্রকাশকের কথা