১৯২০ সালে পিটার্সবার্গ শহরে পৃথিবীর প্রথম নিয়মিত বেতার কেন্দ্র চালু হয়। ১৯২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ডে মার্কিনর নিয়মিত বেতার সম্প্রচার শুরু। ১৯২৬ সালে বিশ্বের প্রথম হৃদযন্ত্রের পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছিল। এর আবিস্কারক ছিলেন ক্রাউন স্ট্রিট ওমেনস হসপিটালের এক নাম না জানা ডাক্তার। মূলত এর প্রশ্নবিদ্ধ নৈতিকতা ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ করেননি। আজও আমরা তাঁর আবিস্কারের সুফল ভোগ করছি। কিন্তু মূল আবিস্কারক তাঁর নাম প্রকাশ না করায় তিনি যন্ত্রটি আবিস্কারের স্বীকৃতিও পাননি। ১৯২৬ সালে বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন আবিস্কার করেন স্কটিশ বিজ্ঞানী জন লুগি বেয়ার্ড ও তার দল সর্বপ্রথম লন্ডনে জনসমক্ষে টেলিভিশন সম্প্রচারে সফল হন। তখনকার ছবি ছিল সাদাকালো। তবে একই বছর তারা রঙিন ফিল্টার ব্যবহার করে টেলিভিশন রঙ্গিন ছবি সম্প্রচারেও সক্ষম হন। রাশিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, ব্রিটেন ও আমেরিকার বেশ কিছু বিজ্ঞানী একই সময় টেলিভিশন তৈরীর জন্য কাজ করছিলেন। তবে সর্বপ্রথম স্কটিশ উদ্ভাবক জন লুগি বেয়ার্ড ও তাঁর দল ১৯২৬ সালে টেলিভিশন আবিস্কার করেন। ১৯২৯ সালে বিবিসি'র প্রথম পরীক্ষামূলক টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্ব কাপ ফুটবল খেলা শুরু হয়। ১৯৩৫ সালের ৩০ জুলাই, বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'পেঙ্গুইন' প্রথম বইয়ের প্রকাশনা উৎসব পালন করে। ১৯৩৬ সালের ২৫ মে, নিগ্রো ক্রীড়াবিদ জেসি ওয়েনস বার্লিন অলিম্পিকের ৫টি বিশ্ব রেকর্ড ভঙ্গ করেন। ১৯৩৬ সালে বার্লিেন টেলিভিশনে একটি ফুটবল ম্যাচ প্রথমবারের মত দেখায়।
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ব হয় জার্মানীর পোলান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে; শেষ হয়-১৯৪৫ সালের ৯ মে, জার্মানীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জেনর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে বিশ্বব্যাপী বিজয় উৎসব পালিত হয় এবং ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর, জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পেনর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ৭০তম বার্ষিকীতে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল জার্মান টেলিভিশনে বলেন, 'জার্মািন পোলান্ডে হামলা চালিয়েছে, জার্মািন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেছে। আমরা বিশ্বের অন্তহীন দুভোের্গর কারণ ছিলাম। যার ফলাফল ছিল ছয় কোটি মানুষের মৃত্যু।' বিবিসি ও এএফপি। ১৯৩৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু, শেষ হয় ০৯-০৮-১৯৪৫ তারিখ। ১৯৪১ সালের ১ জুলাই, সর্বপ্রথম টেলিভিশনে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় ২০ সেকেন্ডে নয় ডলার দরে। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে বিশেষত যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের পুনর্গঠনকে সামনে রেখেই জাতিসংঘের প্রস্তাবে বিশ্বব্যাংক বা ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে এশিয়া এবং আফ্রিকান দেশগুলো বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন সহায়তা না পেলেও ১৯৬০-এর দশক থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন ঋণ সহায়তা সম্প্রসারিত হয় এবং আশির দশক থেকে বিশ্বব্যাংক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের কথা বলে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পসমূহে অর্থৈনতিক ঋণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৪ সাল থেকে বিবিসির খবর সারা পৃথিবীব্যাপী প্রচার করা হয়।
১৯৪৫ সালের ৬ আগষ্ট, জাপানের হিরোশিমা নগরীতে ''লিটল বয়'' নামে ২০ হাজার টনের পারমাণবিক বোমার আঘাত হেনেছিল আমেরিকা। ৬ আগষ্ট, হিরোশিমা দিবস। হিরোশিমা-আক্রমণের আগে লোকসংখ্যা-দুই লাখ ৫৫ হাজার। আহত-৬৯ হাজার-তাৎক্ষণিক মৃত্যু-৬৬ হাজার-পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা (১৯৪৫ সালের শেষ পর্যন্ত) ৭৪ হাজার। মোট মৃত্যু (১৯৫০ পর্যন্ত) প্রায় দুই লাখ। ১৯৪৫ সালের ৯ আগষ্ট, জাপানের নাগাসাকিতে ''ফ্যাট ম্যান'' আমেরিকার দ্বিতীয় আণবিক বোমা বর্ষণ। নাগাসাকি-আক্রমণের আগে লোকসংখ্যা-এক লাখ ৯৫ হাজার। আহত-২৫ হাজার। তাৎক্ষণিক মৃত্যু-৩৯ হাজার-পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা (১৯৪৫ সালের শেষ পর্যন্ত) ৪১ হাজার। মোট মৃত্যু (১৯৫০ পর্যন্ত) প্রায় ৮০ হাজার। ১৯৪৫ সালে জাতিসঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৫ সালের ৩ অক্টোবর, বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ৪ নভেম্বর, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর, ইউনিসেফ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর, আন্তর্জািতক শ্রম সংস্থা 'আই.এল.ও.' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সাল থেকে বিশ্বে প্রথম বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে, নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগেকে নিয়ে ও নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যার এডমন্ড হিলারি সর্বপ্রথম পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেষ্ট জয় করেন। শুক্রবার (১১-০১-২০০৮ তারিখ) এভারেষ্ট প্রথম বিজয়ী স্যার এডমন্ড হিলারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অকল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।
১৯৫৫ সাল থেকে প্রতিবছর বার্ষিকী হিসেবে সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংবাদ সংকলণ করে যে বই সেটিই ''গিনেস বুক অব ওয়াল্র্ড রেকর্ডস'' নামে পরিচিতি। বিশ্ব রেকর্ড করেছে এমন রেকর্ড এ বইয়ে স্থান পায়। বিশ্বের ৩১টি ভাষায় গিনেস বুক অণুদিত হয়। গিনেস বুকের হেড অফিস লন্ডনে। ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর প্রতিষ্ঠা। ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, দারির্দয বৃদ্ধির জন্য দায়ী বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আসন্ন সিঙ্গাপুর সম্মেলনকে সামনে রেখে ০৪-০৯-২০০৬ তারিখ এক সেমিনারে বক্তারা দারির্দয বিমোচনে এ দু'টি আন্তর্জািতক অর্থৈনতিক সংস্থার ভূমিকা ও কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। ১৯৬০ সালে বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোন সার্ভিস (প্রথমদিককার মোবাইল ফোনগুলো প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের কাজের একটা বিশেষ সহায়ক যন্ত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হতো) বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সর্বসাধারণের জন্য সর্বপ্রথম-এর প্রচলন হয়। সেবারই প্রথম ফ্রান্সের সরকারি রেল পরিবহন সংস্থা তাদের এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোয় সম্ভান্ত যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন সরবরাহ শুরু করে। ১৯৬০ সালের ২০ জুলাই, সিংহলের মিসেস শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে বিশ্বের সর্বপ্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বািচত হয়েছেন। ১৯৬৩ সালের ১০ জানুয়ারি, লন্ডনে বিশ্বের প্রথম পাতাল রেল চালু হয়।
১৯৬৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর, ইউনিভার্সিিট অব ক্যালিফোর্নিয়া ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিিটর গবেষকরা ছোট ল্যাবে দুটো কমপিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। ১৯৭০ সালে এর নাম দেয়া হয় ইন্টারনেট। ১৯৭২ সাল নাগাদ তা দাঁড়ায় ৩২টিতে। পরবর্তীেত ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে নেটওয়ার্কিট পুর্ণাঙ্গ রুপ লাভ করে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব জুড়ে। ১৯৭১ সালের ১৩ জুন, অস্ট্রেলিয়ার জেরাতিন ব্রডরিক একসঙ্গে ৯টি শিশু জন্ম দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এর মধ্যে ৫টি পুত্র ও ৪টি মেয়ে। ১৯৭৫ সালে বিশ্ব কাপ ক্রিকেট খেলা শুরু হয়। ১৯৭৬ সালের ২০ জুলাই, মার্কিন নভোযান ভাইকিং মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করেন। ১৯৭৬ সালের আগষ্ট মাসে-মন্ট্রিল অলিম্পিকের আগ পর্যন্ত জিমনেস্টিকসে কোনো পুরুষ কিংবা মহিলা প্রতিযোগীই পূর্ণ দশ বা পারফেক্ট টেন স্কোর করতে পারেননি। তার পরই এল চার ফুট ১১ ইঞ্চি দৈর্ঘয আর ৮৬ পাউন্ড ওজনের এক বালিকা-নাদিয়া কোমানিচি। ১৪ বছরের এ রোমানিয়ান প্রতিযোগী বিচারকদের এতটাই আচ্ছন্ন করে ফেললেন যে তাঁরা বাধ্য হলেন, অলিম্পিক ইতিহাসের প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে নাদিয়াকে পারফেক্ট টেন বা দশে দশ দিতে। এ আসরেই আরও ছয়বার পারফেক্ট টেন স্কোর করলেন এ বিস্ময় বালিকা। ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই, মাতৃগর্ভের বাইরে প্রথম নবজাতক ভ্রণ শিশুর জন্ম। ১৯৭৮ সালে বিশ্বের প্রথম সিডি জাপানের সনি করপোরেশন ও হল্যান্ডের ফিলিপস কোম্পানি যৌথ প্রচেষ্টায় সর্বপ্রথম কমপ্যাক্ট ডিস্ক বা সিডি উদ্ভাবিত হয়। সিডি তৈরির প্রযুক্তি উন্নয়ন ১৯৭৮ সালে সম্পন্ন হলেও ১৯৮২ সালে জাপানের খোলাবাজারে এটি বাণিজ্যিকভাবে বিপণন শুরু হয়। সিডিতে ধারণকৃত গান শোনার যন্ত্রও বাজারে ছাড়া হয় একই সময়ে। সিডি অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামোফোন রেকর্ডের জায়গা দখল করে নেয়।
১৯৮১ সালে পৃথিবীতে প্রথম এইড্স বা এইচ. আই. ভি'র জীবানু ধরা পড়ে। ১৯৮২ সালে গিনেস রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর দীর্ঘজীবী প্রাণী ছিল ২২০ বছর বয়সী একটি ঝিনুক। অবশ্য বেসরকারিভাবে আইসল্যান্ডের জাদুঘরে আরও একটি ঝিনুকের সন্ধান পাওয়া যায়, যার বয়স ছিল ৩৭৪ বছর। তবে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বয়সী প্রাণী হচ্ছে মিং, যার বয়স আনুমানিক ৪০৫ থেকে ৪১০ বছর। ছোট্ট টেপ রেকর্ডার আকৃতির এ সামুদ্রিক ঝিনুকটির খোঁজ পাওয়া গেছে আইসল্যান্ডের সমুদ্র উপকুলে। ধারনা করা হয়, চীনে যখন রাজতন্ত্র, তখন এর জন্ম। রানি প্রথম এলিজাবেথের শাসন এবং শেক্সপিয়ারকে নাটক ওথেলো ও হ্যামলেট লিখতে দেখতে দেখতে কেটেছে তার শৈশব। তবে মিং'ই সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকার রেকর্ড অর্জন করেছে-এ পৃথিবীতে। ১৯৮৫ সালের ১৯ জুলাই, ইংল্যান্ডে একটি ঘোড়া ৩০-জন মানুষকে টেনেছিল। ১৯৮৫ সালের ৩০ জুলাই, ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট-জাতিসংঘ তথ্য স্বীকৃতি, বিশ্বের যে পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় উহার অর্ধেক নারীর পরিশ্রমের ফসল। ১৯৮৭ সালের ৩ ডিসেম্বরের রিপোর্ট-পৃথিবীতে ১৬ লক্ষ ৩৪ হাজার প্রজাতির পাখি এবং ২ কোটি ৫০ হাজার প্রজাতির বৃক্ষের জন্ম হয়েছে। তারমধ্যে ৮,৫৮০ প্রজাতির পাখি এবং ১০,০০০ প্রজাতির বৃক্ষ বেঁচে আছে। ১৯৮৮ সালের ৫ জুনের রিপোট-বিশ্বে পুরুষ-স্ত্রীলোকের অনুপাত ৪৮: ৫২। ১৯৮৮ সালের ৫ আগষ্টের সংবাদ: মহিলারা পৃথিবীতে ৬৭% কাজ করে এবং পুরুষরা বাকি ৩৩% কাজ করে। তবু পুরুষ বলে যে, মহিলারা কোন কাজই করে না। ১৯৯৮ সালের ২৭ জুনের তথ্য: পারমাণবিক বোমার চেয়েও মারাত্মক বোমা দারিদ্র। ১৯৯৮ সালের ২২ অক্টোবরের তথ্য-বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেয়, ৬৯(উনসত্তর) সন্তানের জননী মস্কোর বাসিন্দা। ২০০৩ সালের ৬ মে, হ্যালো ইন্ডিয়াতে দেখানো হয় যে, ভারতের মনিকা শর্মা ১১ মাসে ৮২ কেজি ওজন কমান। বিশ্বে গিনেজ বুক অব ওয়াল্র্ড রেকর্ডস আছে যে, ১১ মাসে ৫০ কেজি ওজন কমানোর রেকর্ড। সে বর্তমানে রোজ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা হাটাহাটি করে। ২০০৬ সালের ১ আগষ্ট, ভারতের উত্তর প্রদেশের নীলাসর গ্রামের বিরমা রাম ৮৮ বছর বয়সে পুত্র সন্তান জন্ম দিলেন।
২৫০০-২০০০ খৃষ্টপূর্ব ভারতে বৈদিক সাহিত্যের চর্চা। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালে হিন্দু ধর্মের জন্ম। ৩২৭ খৃষ্টপূর্ব আলেকজান্ডারের ভারত-অভিযান। ৩২২ খৃষ্টপূর্ব চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসনে আরোহণ। ২৭৩ খৃষ্টপূর্ব অশোকের সিংহাসনে আরোহণ। ৫৭ খৃষ্টপূর্বের ২৩ ফেব্রুয়ারি, রাজা বিক্রমাদিত্য শক রাজাকে পরাজিত করেন। ৩১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য পাটলীপুত্রের সম্রাট হিসেবে কার্যভার গ্রহণ। ৩৮০ সালে বিক্রমাদিত্যের সিংহাসন লাভ। ৬২৯ সালে হিউ-এন-সাং-এর ভারতে আগমন। ৬৩২ সালের ১৬ জুন, ইরান ও ভারতীয় পারসিক সমাজে প্রচলিত জোরাস্তীয় পঞ্জিকা প্রবর্তিত হয়। ৭১২ সালের ২ জুলাই, রাওয়ার যুদ্ধ, মুহাম্মদ বিন ইবনে কাশিমের সিন্ধু বিজয়। ৭১২ থেকে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত ভারতবর্ষ পরাধীন ছিল। এ দীর্ঘসময় তাদের অতিবাহিত হয়েছে মুসলিম ও ইংরেজ শাসকদের অধীনে। ৭১২ সালের ২ জুলাই থেকে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের আগ পর্যন্ত ভারতবর্ষে মুসলমানের শাসন ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন থেকে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত ছিল ভারতবর্ষে ইংলিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ইংরেজ রাজ শক্তির শাসন। ১৯৪৭-পূর্ব দীর্ঘ এ দু'কাল মিলে ১২শ' বছরের অধিককাল ভারতবর্ষ পরাধীন ছিল। ১০৫২ সালে রাজপুতরা লালকেল্লা (জবফভড়ৎফ) নামে দুর্গ শহর গড়ে তুলেছিল দিল্লীতে। ১১৯২ সালে মুসলিম সুলতান শেহাবউদ্দীন মোহাম্মদ ঘোরীর সেনাপতি সে দুর্গ অধিকার করে কায়েম করেন সুলতানী শাসন। ১৩৯৮ সালে দুর্ধর্ষ আক্রমণকারী চেংগীজ খাঁ'র আক্রমণে ও লুন্ঠনে লন্ডভন্ড হয় দিল্লী। ১৬৩৮ সালে নির্মাণ করেন চারদিক ঘিরে সুউচ্চ প্রস্তর প্রাচীর এবং প্রাচীর অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠা করেন সুবিখ্যাত লালকেল্লা (জবফভড়ৎফ)। রেডফোর্ডের সম্মুখভাগে, অদূরে ১৬৪৪-৫৮ সালে সম্রাট শাহজাহান নির্মাণ করেন এ জামে মসজিদ। ১৬৪৮ সালের ১৩ মে, মুঘল সম্রাট শাহজাহান দিল্লীতে লালকেল্লার নির্মান কাজ শুরু করেন। ১৬৩১ সালে শাহজাহানের প্রিয়তম স্ত্রী মমতাজমহল সন্তান জন্মদানের সময় মারা গেলে আগ্রার যমুনা নদীর তীরে তাঁকে সমাহিত করা হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় তাজমহল গড়ার। আজও তাজমহল দুনিয়াজুড়ে প্রতীক হয়ে আছে প্রেম-ভালোবাসার। তাজমহল পরিদর্শেন এখন টিকিটের প্রয়োজন হয়। ১৬৫৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, তাজমহল নির্মাণ করা হয়। ১৬৫১ সালে শাহ্ সুজা ইংরেজদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যে সনদ দান করেন তা-ই তার শেষ পরিণতি। ১৭৩৯ সালে নাদীর শাহ র্কতৃক লুন্ঠিত হয় দিল্লী। তিনি ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর মনি নিয়ে যান নিজ দেশ পারস্যে। (১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ মানে প্রথম আজাদী লড়াই ব্যর্থ হওয়ার মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ ব্রিটিশ শাসন। ১৯১২-১৯৩১ পর্যন্ত পুরানা দিল্লীই থাকে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। নয়াদিল্লী নির্মাণ সমাপ্ত হলে সেখানে হয় রাজধানী স্থানান্তরিত। যে স্থানটিতে ক্রীড়াকেন্দ্র সেখানে শ্বেতাঙ্গ শাসকদের দিল্লী দরবার বসেছিল ১৮৭৭ সালে, ১৯০৩ সালে ও ১৯১১ সালে। ওই লালকেল্লায় ১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ডের মহারানী ভিক্টোরিয়াকে ঘোষণা করা হয়েছিল ভারতসম্রাজ্ঞী। তারপর ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট, ইউনিয়ন জ্যাক হল চিরদিনের জন্য অবনমিত, অপসারিত। উড্ডীন হল স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা)। ১১৯৩ সালে সুলতান কুতুবউদ্দীন আইবেক দিল্লীতে প্রতিষ্ঠা করেন একটি মসজিদ। তার নাম দেন কুওতুল ইসলাম। এর ১৬০ ফুট দূরে শুরু করেন একটি মিনার নির্মােণর কাজ। কিন্তু শেষ করে যেতে পারলেন না কুতুবউদ্দীন। তাঁর ইন্তেকালের পর সুলতান হলেন তাঁর জামাতা ইলতুতমিশ। তিনিই সমাপ্ত করলেন নির্মাণ কাজ (১২৩১-৩২ খ্রি.) এবং তাঁর পীর হযরত কুতুবউদ্দীন বখতিয়ার কাকীর(রহ.) নামানুসারে নামকরণ করলেন 'কুতুবমিনার'। স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন কুতুবমিনার। পৃথিবীর এ জাতীয় সুন্দরতম সৌধরাজির মধ্যে এটি একটি। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম স্মৃতিসৌধসমূহের মধ্যে কুতুবমিনার অন্যতম। এর উচ্চতা ২৪০ ফুট।
৯ম শতকের পূর্বে ঢাকাতে মানুষের বসবাস গড়ে উঠেনি। ইতিহাসবিদদের চোখে-সেদিনের 'ডবাক'ই আজকের ঢাকা। সাড়ে পাঁচশ' বছরের প্রাচীন জনপদ 'ঢাকা' আজ এক বিশাল নগরী। ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গমস্থল থেকে ১৩-কিলোমিটার উত্তরে বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এ মহানগরীর উত্থানের পেছনেও রয়েছে বিস্তৃত ইতিহাস। ১৪৩৩ সালে প্রথম ঢাকা মান্দা এলাকায় গণেসের ছেলে জালালউদ্দিন মোহাম্মদ শাহ-এর কর্মচারী শিকদার এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এ মসজিদটি ঢাকার প্রথম মসজিদ। ১৪৫৬ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয় ''নারিন্দায় বিনাত বিবি মসজিদ''। তাঁর নাম মুসাম্মৎ বখত বিন। ১৪৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার নারিন্দায় এ মসজিদটি মরহামত কন্যা নির্মাণ করেন। বিনাত বিবির মসজিদের আগে ঢাকায় একটি মসজিদ ছিল। ১৪৫৬ সালে নারিন্দায় বিনত বিবির মসজিদ নির্মােণর পূর্ব থেকেই মুসলমানরা ঢাকা নগরীতে বসতি স্থাপন করেন। যতীন্দ্রমোহন রায়ের লেখা 'ঢাকার ইতিহাস' বৃহত্তর ঢাকা জেলা গেজেটিয়ার থেকে জানা যায়, ঢাকা নগরীতে অন্তত ১৪৫৬ খ্রিষ্র্টােব্দর আগে থেকেই মুসলমানগণ বসতি স্থাপন করেছেন। (১২৮২ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ-দীন ঢাকার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাংলার রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন)। ১৬১০ সালে ইসলাম খাঁ র্কতৃক সোনারগাঁ থেকে রাজধানী বর্তমান ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন এবং ঢাকা মোঘল রাজধানী ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু। ১৬২০ সালে মগ রাজাদের বন্দী করা হয়েছিল। এরা আরাকানী, এদেরই নামানুসারে ঢাকার মগবাজারের নামকরণ করা হয়। ১৬২৬ সালে মিডফোর্ড হাসপাতালের লেডিজ হোস্টেলের নিকট বুড়িগঙ্গা নদীর পারে ঢাকা শহরের ২য় মসজিদ তৈরী হয়। ১৬২৬ সালে "ছোটকাটারা" ও "বড়কাটারা"র প্রাসাদ তৈরী করা হয় বাদশা জাহাঙ্গীরের ঢাকা আগমণ উপলক্ষে। ১৬৪১ সালের ১৬ মার্চ, বঙ্গের সুবাদার শাহজাদা সুজা ঢাকায় 'বড়কাটারা' নামে বিশাল সরাইখানা নির্মাণ করেন। ১৬৪২ সালে ঢাকায় হোসনী দালান তৈরী করা হয় (শাহ শুজার নৌ-সেনাপতি মীর মুরাদ নামক এক ব্যক্তি এ ইমারত তৈরী করেছিলেন)। ১৬৪২ সাল থেকে ঢাকায় মহরমের তাজিয়া মিছিল মোঘল সুবাদার শাহ সুজার শাসনামলে-সুবাদারের নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক শিয়া দরবেশ হিসেবে পরিচিতি সৈয়দ মির মুরাদ হজরত ইমাম হোসেন(রা.)-এর স্মৃতিস্মারক হিসেবে পুরান ঢাকায় নির্মাণ করেন হোসেনি দালান এবং এ হোসেনি দালানকে কেন্দ্র করেই শুরু করেন শোক পালন অনুষ্ঠান ও ইমাম হোসেনের প্রতীকী শরাধার অর্থাৎ তাজিয়া-সহযোগে শোভাযাত্রার। ভারত উপমহাদেশে প্রচলিত হয় ইরান থেকে ধর্মপ্রচারার্থে আগত মুসলমানদের মাধ্যমে। ১৬৪২ সালে (বাংলা ১০৪৯ সালে) শ্যামপুরের ফরিদাবাদ এলাকার ৫৬ নম্বর পশ্চিম জুরাইনে মন্দিরটি অবস্থিত।