১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল, সখীপুর উপজেলার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন, সা'দত কলেজের তিনজন ও সখীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন ছাত্র প্রথম মুক্তিবাহিনী গঠন করে যুদ্ধে জাঁপিয়ে পড়েন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের হুবুহু কার্যকর করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানা ছিল নাম ১৯৭১ সালে (পরে ১৯৮৩ সালে থানার নাম বদলিয়ে উপজেলা করা হয়) উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ভেলানগর গ্রামের উত্তরপাড়ার প্রাইমারী স্কুলের রাস্তার পশ্চিমপাড়ে খালেক হাঁজীরবাড়ি (মানে খালেক হাজীরা চার ভাই-(১) আবদুল বারিক (২) আবদুর রাজ্জাক (৩) আবদুল জব্বার ও (৪) আবদুল খালেক হাঁজী। আবদুল খালেক হাজীর ৩নং ভাই আবদুল জব্বারের তিন ছেলে (১) আবদুল জলিল (২) মোঃ ইসমাইল ও (৩) মোঃ ইব্রাহিম। এরা তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই বিবাহ করেছিল-যেমন (১) আবদুল জলিল ও (২) মোঃ ইসমইল। ওরা ব্যক্তিগতভাবে তাঁত শিল্পী ছিলেন। মানে ওরা তাঁতী ছিল। বঙ্গবুন্ধর ভাষণে বলেছিলেন যে-যার হাতে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে তোমরা শত্রুর মোকাবিলা করবা। আমি যদি তোমাদের হুকুম না দিবারও পারি-তাহলেও তোমরা শত্রুর মোকাবিলা করে যাবে। ১৯৭১ সালের ১৪ জুলাই বুধবার দিন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে পাকিস্তান আর্মীরা কালাইনগর হয়ে ভেলানগর গ্রাম দিয়ে রূপসদী গ্রামে যাওয়ার পথে ভেলানগর গ্রামের উত্তরপাড়ার আবদুল খালেক হাজীর ৩নং ভাই আবদুল জব্বারের বড় ছেলে আবদুল জলিল দা দিয়ে একজন আর্মীেক কোব মেরে তার একটি কান কেটে ফেলে। তখন আর্মীর অন্যান্য সৈনিকরা সাথে সাথে পাখিরমত আবদুল জলিলকে গুলি করে মেরে ফেলে। তার মেঝো ভাই মোঃ ইসমাইল লাটি দিয়ে আঘাত করতে গেলে তাকেও আর্মীরা পাখিরমত গুলি মেরে ফেলে এবং এভাবে তাদের ছোট ভাই মোঃ ইব্রাহিমকেও পাকিস্তান আর্মীরা পাখিরমত গুলি করে মেরে ফেলে। ঐদিন ১৯৭১ সালের ১৪ জুলাই ভেলা বারো ৫০ মিনিটের সময় ৪ জনকে পাকিস্তান আর্মীরা গুলি করে মেরে ফেলে। এর মধ্যে ৩(তিন) ভাই পাকিস্তান আর্মীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ করার সময়, পাকিস্তানী আর্মীর বন্ধুকের গুলিতে মারা যান। এ ঘটনা দেখতে যেয়ে বা মসজিদে নামায পড়ার জন্য হাজীবাড়ির আবদুল লতিফ মিঞা পাকিস্তান আর্মীর গুলিতে মারা যান মসজিদের নিকট রাস্তার পাশ্র্বে। মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকায় তাদের নাম নেই। আমার বিচারে তাদের চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা কে। সঠিক ইতিহাস একদিন মানুসের নিকট ধরা পড়বে। মানুষ একদিন জানতে চাইবে তাদের সম্পর্কে। তাদের অবদান এ দেশের জন্য বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাদের পরিবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার কোন প্রকার ভাতাও তারা পাননি। তারপর আর্মীরা রূপসদী গ্রামে আরো কয়েকজনকে গুলি করে মেরে ফেলে। এ হল ১৯৭১ সালের ১৪ জুলাই, ভেলানগর গ্রামের সঠিক ইতিহাস।

''ভেলানগর গ্রামের ইতিহাস (১৭৪০-২০১৩) এ বইয়ের কাজ ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শুরু করেছিলাম এবং শেষ করেছি ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ। বংশের নামকরণ যেমন-ভূঁইফোর থেকে 'ভূঁইয়াবাড়ি' খোশাল দিওয়ানের নামে 'দিওয়ানবাড়ি' মির্যা ভেলার নামে 'মির্যাবাড়ি' গোলাম রসুল খানের নামে 'খাঁবাড়ি' হাঁজীর নামে 'হাঁজীবাড়ি' মোল্লার নামে 'মোল্লাবাড়ি', বিয়ে পড়ানো কাজীর নামে 'কাজীবাড়ি', খনকার নামে 'খন্দকারবাড়ি' কবিরাজি চিকিৎসা যে করিত তার নামে 'কবিরাজবাড়ি' ফকিরের নামে 'ফকিরবাড়ি' মুন্সীর নামে 'মুন্সিবাড়ি', সুতারের নামে 'সুতারবাড়ি', খলিফার নামে 'খলিফাবাড়ি' আলাবক্সীর নামে 'বক্সবাড়ি' মাস্টারের নামে 'মাস্টারবাড়ি' দারোগার নামে 'দারোগাবাড়ি' জমিদারের অধীনে যারা সরকার ছিলেন, তাঁদের নামে 'সরকারবাড়ি' মৌলভীর নামে 'মৌলভীবাড়ি' ব্যাপারীর নামে 'ব্যাপারীবাড়ি' নাপিতের নামে 'নাপিতবাড়ি' দোঁপার নামে 'দোঁপাবাড়ি' কামারের নামে 'কামারবাড়ি' কুমারের নামে 'কুমারবাড়ি' জেলের নামে 'জেলেবাড়ি' দাসের নামে 'দাসবাড়ি' ম্যাজিস্ট্রেট ও সচিবের নামে বাড়ির নাম হয় প্রফেসরের নামে 'প্রফেসরবাড়ি' মেম্বার-চেয়ারম্যান-এমপি-মন্ত্রীর নামে বাড়ির নাম হয়।

আমার কিছু কথা বলার আছে-যেমন এ গ্রামটি হবে একটি ছবির মতন। গ্রামের মানুষের প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকবে এবং নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকতে হবে, প্রত্যেক বাড়ির সাথে পাঁকা রাস্তা থাকতে হবে, প্রত্যেক বাড়ির সাথে সোয়ারেজ কানেকশন থাকতে হবে, প্রত্যেক বাড়িতে সুপেয় পানির সংযোগ থাকতে হবে, প্রত্যেক বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ থাকতে হবে, প্রত্যেকটি মানুষের নিয়মিত কাজের ব্যবস্থা থাকতে হবে, গ্রামে তিনটি সরকারী প্রাইমারী স্কুল এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয় থাকতে হবে, গ্রামে একটি খেলার মাঠ থাকতে হবে, গ্রামে একটি কমিউনিটি সেন্টার থাকতে হবে, গ্রামে একটি বইয়ের লাইব্রেরী মানে বই পড়ার লাইব্রেরী থাকতে হবে, গ্রামে একটি বিনোদনমূলক পার্ক থাকতে হবে, গ্রামে বাজার ছিল না এখন বাজার আছে, গ্রামে ফ্যামিলি পস্নানিং-এর সার্ভিস সেন্টার থাকতে হবে, গ্রামে একটি ছোট-খাটো হসপিটাল থাকতে হবে। বাংলাদেশের বা ভেলানগর গ্রামের মানুষ যেদিন বিদেশে কাজের আশায় যাইতে হবেনা সেদিনই মনে করব ভেলানগর গ্রামের বা বাংলাদেশটির উন্নয়ন হয়েছে।

আমি কোন ইতিহাসের ছাত্র বা ইতিহাসবিদও না। আমি ভাল ছাত্রও ছিলামনা। ইতিহাস চর্চাও আমার নেই। আমি অনেক জায়গায় অনেক ভুল করতে পারি-এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আপনারা যাঁরা গুণিজন আছেন তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আমার ভুল সংশোধনের ব্যাপারে সাহায্য করবেন। আমি এ আশায় থাকিলাম। পরবর্তী সংখ্যাতে যাতে ভুল কম হয় এবং আরো তথ্যবহুল করা যায়-এ ব্যাপারে সাহায্য করবেন আশা করি।

আমি চেষ্টা করেছিলাম ভেলানগর গ্রামের একটি মাণচিত্র তৈরী করতে। মাণচিত্র তৈরী করতে পারি নাই। অনেককে বলেছিলাম মাণচিত্র তৈরী করে দিতে পারে নাই। গ্রামের মাণচিত্রে মেইন মেইন রাস্তাগুলো দেখানো, পুবের বিলটা দেখানো, মান্দালিয়ার বিলটা দেখানো, গ্রামের পশ্চিমে ছয়ফুল্লাকানির বিলটা দেখানো, গ্রামের কবরস্থানটি দেখানো, গ্রামের দুইটি ঈদগা দেখানো, গ্রামের সবগুলো মসজিদ দেখানো, গ্রামের সবগুলো পুকুর দেখানো, গ্রামে কয়টি কার্লভার্ট আছে তা দেখানো, গ্রামে কয়টি স্কুল আছে তা'দেখানো, গ্রামের সবগুলো ফসলের মাঠ দেখানো, বর্তমানে কয়টি ভাগ টিকে আছে তা'দেখানো, গ্রামের বাজারটি দেখানো, সারকারবাড়িতে একটি আধুনিক বিল্ডিং হয়েছে তা'দেখানো, গ্রামটি উত্তর-দক্ষিণে ভাগ হয়েছে সুতারবাড়ির খালটি দিয়ে এবং মানুষ বলে উত্তরপাড়া-দক্ষিণপাড়া ইত্যাদি। এ কাজটি আমি করতে পারি নাই। আমি সরকারি চাকরি করেও ভেলানগর গ্রামের গণমানুষের ইতিহাস লেখার চেষ্টা করেছি। কি করতে পেরেছি আর কি করতে পারি নাই। যা পারছি তা দিয়েই বিচার হবে। যা পারি নাই তা'দিয়ে বিচার করবে কি করে। আমি আপনাদেরকে কথা দিলাম ২০১৪ সালের ৩০ জুন থেকে এল.পি.আর.-এ যাব, তখন আমার হাতে অনেক সময় পাব। বেঁচে যদি থাকি তা'হলে যা বলেছি তা করার চেষ্টা করব।

এ গ্রামের বংশ তালিকা তৈরীতে যাঁরা আমাকে সবচেয়ে বেশী সহযোগিতা করেছেন যেমন-ভূইয়াবাড়ির ডা. মামুন, ইব্রাহিম মাষ্টারের নাতি মোঃ ইউনুস মিয়া, বড়বাড়ির মোঃ হাসান ও মোঃ মতিউর রহমান এজন্য আমি তাদের নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আরও সহযোগিতা করেছেন যারা তাঁরা হলেন, ভেলানগর গ্রামের হাঁজীবাড়ির মরহুম মোঃ আক্কেল আলীর ছেলে জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, এদেরকে ছাড়া আরও কয়েকজন আমার পরিবারের লোকজন আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তাঁদের মধ্যে প্রথমে আমার স্ত্রী সৈয়দা শামসুন নাহার বেগম, আমার মেয়ে তানিয়া ও আমার ছেলে আবির হোসেন জিয়ান-এর সহযোগিতা না পেলে এ বই প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ভেলানগর গ্রামের বংশ তালিকা লিখতে অনেকেই বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে সহযেগিতা করেছেন তার জন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

পরিশেষে এ তালিকা তৈরীতে কারো কারোর আসল ও ডাক নামের সংমিশ্রণ হ'তে পারে, ক্ষেত্র বিশেষে জন্ম ও মৃত্যু তারিখের গড়মিল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশার সমস্যা সম্বলিত কিছু ভুল-ক্রটি হতে পারে। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে প্রকৃত ও সঠিক তথ্যমূলক প্রতিবেদন প্রদান করে ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়া আরও সুন্দর ও সঠিক হবে বলে আমি আশা রাখছি।

প্রথমে ৩১-১২-২০১২ তারিখ পর্যন্ত লোকদেরকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে পুনঃরায় ৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে বই প্রকাশিত করা হয়। এ বই সাধু-চলতি ভাষার সংমিশ্রনে লেখা। ভাষা জ্ঞান আমার একেবারে নেই বললেই চলে।

মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর, ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।

বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর কথা:

৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগের মানুষ। বিবিসি: জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ আসছে পৃথিবীতে এবং আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগে। কেমব্রিজের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিও জেনেটিকসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. পিটার ফরস্টার বলেন, পূর্ব আফ্রিকায় এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে হোমোস্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানবের উদ্ভব ঘটে। আর জায়গাটি ছিল সম্ভবত বর্তমান ইথিওপিয়ার ওমো নদীর তীরবর্তী কোনো অঞ্চল। ৩১,৭০০ বছর আগে পৃথিবীতে কুকুর ছিল ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর, আন্তর্জািতক বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে। এরা তখন ঘোড়া, হরিণ খেয়ে বেঁচে থাকত। ১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয়। পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে। ১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন-ইরাক সভ্যতা আরম্ভ।

বিশ্বের প্রথম ধান কবে কখন কোথায় মানুষ সর্বপ্রথম ধান বা চালের ব্যবহার শুরু করে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া দায়। ধারণা করা হয়, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই চালের ব্যবহার শুরু হয়। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে উত্তর থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ চীন উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথম ধান চাষ হয়-বিভিন্ন গবেষণায় এ রকম তথ্যই পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম ফুটবল কোথায় সর্বপ্রথম ফুটবল খেলা হয় তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তবে বলা হয়ে থাকে, ফুটবলের সূতিকাগার হলো প্রাচীন চীন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ফুটবল খেলার প্রবর্তন হয়। প্রাচীনকালে মূলত দুই দল লোক একে অন্যকে আক্রমণের মহড়া হিসেবে ফুটবল খেলত। প্রাচীন ফুটবলে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতাব্দীর কিছু আগে বিনোদন হিসেবে বর্তমান ধারার ফুটবল খেলার সূত্রপাত হয়। ৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর।

খৃষ্টপূর্ব ৫০০০ সালে ইউরোপ মহাদেশের গ্রীসে প্রথম রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাফেরা শুরু করে। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। ৪৬০০-৪৮০০ খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ। (সাড়ে ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ।) জানাগেছে জার্মানী, অস্ট্রিয়া ও শেস্নাভাকিয়ার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিদর্শনগুলো আবিস্কৃত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শেনর মধ্যে রয়েছে ১৫০টির বেশি বিশালায়তনের উপাসনালয়। ধর্মীয় প্রয়োজন থেকে কোন জনগোষ্ঠী উপাসনালয়গুলো নির্মাণ করে থাকবেন, যাদের পেশা ছিল পশুপালন। উপাসনালয়সমূহের দৈর্ঘয ১৫০ মিটার। পূর্ব জার্মানীর লেইপনিং এলাকার আইথরা গ্রামে আবিস্কৃত উপাসনালয়ের চাঁরপাশে অন্ততঃ ২০টি ভবন পাওয়া গেছে। এসব ভবনে ৩শ' লোক বাস করতো বলে ধারণা করা হয়। সদ্য আবিস্কৃত এ জনপদের এখনও কোন নামকরণ করা হয়নি। টানা ৩-বছর খননকার্য চালিয়ে সম্প্রতি প্রাচীন-এ সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম দাবা বর্তমান পাকিস্তানের ইন্দাস উপত্যকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূত্রপাত হয়। সেকালে দাবাডূরা আজকের মতোই ৬৪ বর্গের ছক কাটা সিরামিক বোর্ডে দাবা খেলতেন। তাতে থাকত হাতি, রাজা, নৌকা ও ঘোড়া। হরপ্পার কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে এসবের নমুনা পাওয়া গেছে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে প্রায় যতদূর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম নগর পারস্য উপকুলে ইরিডু নামক একটি নগর গড়ে ওঠে। সুমেরিয়ান ভাষায় রচিত ইতিহাসে-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এর আগে কিছু ছোট শহরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; কিন্তু ইরিডুই সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের মর্যাদা পায়, যেখান থেকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসননীতি পরিচালিত হতো। খৃষ্টপূর্ব ৪০০০ হাজার সালে বিশ্বের প্রথম উন্মুক্ত খনন ভূগর্ভস্থ মূল্যবান পাথর অনুসন্ধানের জন্য প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা হতো। বেঁচে থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রকৃতির বিশাল ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়েছে তার প্রয়োজনের জিনিসটি। ৪০০০-৩০০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরের সভ্যতার উম্মেষ। মানুষ কিসের জোরে টিকল হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ জোর আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়। বিশ্বের প্রথম চাকা গুহাবাসী মানুষ চাকা তৈরীর পদ্ধতি জানত না। স্বাভাবিক ধারণার চেয়ে অনেক পরে আবিস্কৃত হয়েছে চাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায় (আজকের ইরাক)। তার মানে যানবাহনে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। আজও আমরা এর কোনো বিকল্প খুঁজে পাইনি।

৩৫০০ খৃষ্টপূর্বে ইতিহাস ঘাটিলে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়ায় লাইব্রেরীর প্রচলন ছিল। ৩৫০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময়ে এসে পালতোলা নৌকার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই গাধাকে পোষ মানানো হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ের যে সুমেরীয় যুদ্ধরথের ছবি পাওয়া যায় তা দেখে মনে হতে পারে যুদ্ধরথটি টানছে ঘোড়া-কিন্তু এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ তাঁদের ধারণা-ঘোড়া নয় গাধা। বিশ্বের প্রথম নীতিগল্প খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার সালে সুমেরীয় সাহিত্যে ছোটগল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল। নৈতিকথার শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই প্রধানত ওই সব গল্প লেখা হতো। ঈশপের গল্পে এ ধরনের নীতিকথার সন্ধান মেলে। কুকুর, শেয়াল, বাঁদর, গরু, হাতি, শূকর প্রভৃতি প্রাণী সেসব গল্পের চরিত্র হিসেবে উঠে আসত। বিশ্বের প্রথম কালি মানবসভ্যতার প্রথমদিককার দিনগুলোয় শক্ত তলে দাগ কেটে কিংবা কাদামাটিকে নানা আকার দিয়ে লেখা হতো। মিসরীয়রা প্যাপিরাস কাগজ আবিস্কারের আগেই ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বােব্দ কালি তৈরী করে। পরবর্তী কালে প্যাপিরাস উদ্ভাবনের পর কালিই হয়ে ওঠে লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম। তখনকার দিনে মূলত মৃত মানুষ ও পশুপাখির হাড় শুকিয়ে-পুড়িয়ে তরল কালি তৈরী করা হতো। বিশ্বের প্রথম পস্নাইউড প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম পস্নাইউড আবিস্কৃত হয়। সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সময়ে পালাইউডের প্রচলন ছিল। তখনকার পস্নাইউড অবশ্য বর্তমান সময়ের পস্নাইউডের মতো মসৃণ ও সুন্দর ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন ছয় ধরনের কাঠের সংমিশ্রণে ওই পস্নাইউড তৈরী করা হতো।