২০০৩ সালের ১৮ আগষ্ট, ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট: বড় ভূমিকম্পে ঢাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা। ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ৬০(ষাট) হাজার কোটি টাকার বাড়িঘর আছে এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীর শতকরা ৩০ ভাগ বাড়ীঘর ধ্বংস্তুপে পরিণত হবে। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৮(আঠার) হাজার কোটি টাকা। আর মানুষ মারা যাবে ১.৬ ভাগ। বিশ্বের ভূমিকম্প দুর্যোগ ইনডেক্স অনুযায়ী সারা বিশ্বে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতিজনিত প্রথম ২০(বিশ)টি ঝুঁকিপূর্ণ শহরের মধ্যে ঢাকা অন্যতম। ঢাকার অধিকাংশ ভবন ভূমিকম্পে টিকে থাকার উপযোগী করে তৈরী না করায় এ শহর ঝুঁকিপূর্ণ প্রথম ২০(বিশ)টি শহরের অন্যতম হিসেবে চিহিৃত হয়েছে। ভূমিকম্প বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঢাকায় ৬ রিখটার স্কেলে এবং তীব্রতায় ভূমিকম্প হলে এ নগরীর ৭(সাত) লক্ষ বাড়িঘরের মধ্যে অন্ততঃ ২৪(চব্বিশ) হাজার পুরোপুরি, ৩৮(আটত্রিশ) হাজার ভবন ব্যাপকভাবে এবং ১৪(চৌদ্দ) হাজার ভবন আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হবে।
২০০৩ সালের ২৫ জুলাই, ইত্তেফাক পত্রিকার সংবাদঃ স্বাধীনতার পর গত ৩০(ত্রিশ) বছরে ২৮(আটাশ) হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির মধ্যে মাত্র ৪(চার) হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির নিষ্পন্ন হয়েছে। আর ২৪ (চব্বিশ) হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি ৩০(ত্রিশ) বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। *সরকারী হিসাব কমিটির উদ্বেগ *সচিবরা জবাবদিহি করতে বাধ্য *মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক পর্যােলাচনা *বর্তমান সরকারের আয়-ব্যায়ের হিসাবও নেয়া হবে।
২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর, মহাকাল ব্যান্ডের জন্ম হয়।
।ইত্তেফাক পত্রিকার কিছু তথ্য:।
২০০৩-২০০৪ সালের বাজেটে ৩৩০টি রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২৩টি বন্ধ বা বিরাষ্ট্রীকরণের কথা বলা হয়েছে। অথচ শিল্পায়নের জন্য কোন পদক্ষেপের উল্লেখ নেই। এ বাজেটে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দূর করার কোন ব্যবস্থার কথা নেই। জনগনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য কোন পদক্ষেপ নেই। দেশের ৬০ ভাগ মানুষ মৃত্যুর পূর্বে এম.বি.বি.এস. ডাক্তারের সাক্ষাত পায়না। আমার মনে হয়-দেশের ৮০ ভাগ মানুষ মৃত্যুর আগে এম. বি. বি. এস. ডাক্তারের সাক্ষাত পায়না। প্রতিবছর যে, ৬(ছয়) লক্ষ মানুষ মারা যায় তারমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগই ৫(পাঁচ) বছরের কম বয়সের শিশু। এই ভয়াবহ অবস্থা পরিবর্তেনর জন্য বাজেটে কিছুই নেই। সীমিত আয়ের মানুষ সকলেই দূর্দশাগ্রস্থ। তাই তারা বাজেটকে ভয় পান কারণ বাজেট এলেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।
এ বাজেটও তার ব্যতিক্রম নয়। বাজেটে দাতা তোষণ করা হয়েছে। মূখে দেশজ সম্পদের উপর নির্ভরতার কথা বলা হলেও বাজেট বৈদেশিক ঋণ নির্ভর করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণ-সাহায্যের জন্য জনগণের স্ব্বার্থিবরোধী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সাহায্য প্রাপ্তির জন্য তা অপরিহার্য বলা হয়েছে। অথচ বিশ্বব্যাংক নিজ গরজেই ঋণ দেয়। কারণ ব্যাংকের কাজই অর্থের লেনদেন করা। গত ৩২(বত্রিশ) বছরে প্রাপ্ত বৈদেশিক ঋণ-সাহায্যের শতকরা ৭৫% ভাগ যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে-বর্তমানে প্রাপ্ত ঋণ-সাহায্য সেভাবে লুটপাট হবে না এ বাজেটে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই লুটপাটের অর্থনীতি অর্থাৎ অর্থৈনতিক দূর্বৃত্তায়ন বন্ধ হবে না। শিক্ষাখাতে ব্যয়বৃদ্ধির কথা বলা হলেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলা যায় প্রকৃতপক্ষে তা সঠিক নয়। শিক্ষার চেয়েও জনপ্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের ব্যয়বৃদ্ধি বেশি। আর সবচেয়ে বেশি প্রতিরক্ষা খাতেরমত অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়বৃদ্ধি বেশি।
এ অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে কোন বাজেটই জনগনের কল্যাণ, দেশ ও জাতির মঙ্গল সাধন করতে পারে না। এজন্য রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা সীমাহীন। শ্রমিক-কৃষক ও শ্রমজীবিদের সচেতন ও সংগঠিত উদ্যোগের সাথে দেশপ্রেমিক সামাজিক শক্তির সম্মিলণই একমাত্র ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে বলে আশা করা হয়। তাই শুধু বাজেট নিয়ে আলোচনার খুব একটা মূল্য নেই। কারণ, বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া জনগণের চাহিদা মাফিক বাজেট হবে না।
২০০৩-২০০৪ সালের বাজেট থেকে ২০০৫-২০০৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ব ১০৫টি শিল্প থেকে ১(এক) লক্ষ লোকের বাধ্যতামূলক অবসর দিয়ে দেয়া হবে বা তাদেরকে ছাঁটাই করা হবে। আদমজীরমত তাদেরকেও গোল্ডেন হেন্ডসেকের মাধ্যমে ছাঁটাই করা হবে। এসব মিলগুলি ব্যক্তিমালিকানায় বিক্রি করে দেয়া হবে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেকগুলি মিল-ফ্যাক্টরী বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। তা'হলে আমরা স্বাধীন হলাম কেন। যদি বিদেশীদের ফেলে যাওয়া মিল-ফ্যাক্টরীগুলি চালাতে না পারি। তা'হলে আমরা পৃথিবীতে টিকে থাকব কি করে আমার প্রশ্ন সকলের নিকট। কৃষি, শিল্প ও যোগাযোগের উন্নয়ন না করতে পারলে, আমরা জাতি হিসাবে টিকে থাকতে পারব কি? যদি টিকেও থাকি তা'হলে পুঙ্গ জাতি হিসেবে টিকে থাকব।
২০০৩ সালের ১৯ জুলাই, ইত্তেফাক পত্রিকার রির্পোট: দারিদ্র আর ঐশ্বর্যের নগ্ন সহাবস্থানের দেশ বাংলাদেশ-হিলারী ক্লিনটনের বই লিভিং হিস্ট্রি থেকে কিছু অংশ তুলে ধরলাম। হিলারী লিখেছেন, ঢাকা আসলে মানুষে মানুষে ঠাসা একটি নগরী। এত ঠাসাঠাসি করে লোক চলাচল করতে বিশ্বের আর কোথাও দেখিনি। রাস্তাগুলোতে লোক গিজগিজ করছে। ছোট ছোট গাড়িতে ভরে আছে রাস্তাঘাট। প্রচন্ড গরমে ঠাসাঠাসি করে হাঁটছে অসংখ্য মানুষ। অথচ এটাও এমন একটি দেশ, যে দেশ দেখার জন্য দীর্ঘকাল প্রতীক্ষা করছিলাম আমি।
সাবেক মার্কিন ফাষ্ট লেডি হিলারী রোডহ্যাম ক্লিনটন তার লিভিং হিষ্ট্রি নামক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে এমনই কঠিন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সম্পর্কে। সম্প্রতি প্রকাশিত এবং বহুল আলোচিত এ বইতে তিনি লিখেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে ঘন জনসংখ্যার এ দেশটির রাজধানী ঢাকার এক হোটেল কক্ষের জানালা দিয়ে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল যেন বিশ্ব অর্থনীতির এক ঘনসন্নিবেশিত চিত্র দেখছি আমি। হোটেলের এ জানালা দিয়েই দেখা যাচ্ছিল একদিকে বিলাসবহুল এ হোটেলের সুইমিংপুল আর আমার মত পর্যটকদের অবসর কাটানোর যায়গা। কিন্তু ঠিক-এর পাশেই দেখতে পাচ্ছিলাম বিশাল আবর্জনার স্তুপ এবং-এর গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ঘরগুলো।
২০০৩ সালের ২ আগষ্ট, গ্রাম সরকার গঠন শুরু: গ্রাম সরকারের সদস্যসংখ্যা হবে ১৫(পনের) জন। এরমধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বািচত সদস্যসংখ্যা পদাধিকারবলে গ্রাম সরকারের প্রধান থাকবেন। আর নির্বািচত মহিলা সদস্য হবেন উপদেষ্টা। বাকী ১৩(তের) জন। কর্মকর্তা থাকবেন। এ ১৩(তের) জন কর্মকর্তা মনোনীত হবেন। গ্রাম সরকার নির্বাচনের কোন বিধান রাখা হয়নি। ৪০,৩৯২টি ওয়ার্ডে ৫,২৫,০৯৬(পাঁচ লক্ষ পচিশ হাজার ছিয়ানব্বই) জন কর্মকর্তা মনোনীত হবেন। মোট ৪৫ দিন চলবে গ্রাম সরকার গঠন প্রক্রিয়া।
২০০৩ সালের ২০ আগষ্ট, ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট: বাংলাদেশে ৫৭-ভাগ মানুষ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত: অর্থাৎ স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করে শতকরা ৪৩-ভাগ মানুষ। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে শতকরা ৬১-ভাগ এবং গ্রামাঞ্চলে শতকরা ৪১-ভাগ লোক স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। শহর ও গ্রামের শতকরা ৩০-ভাগ পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে থাকে।
২০০৩ সালের আজ ২৭ আগষ্ট, ৬০(ষাট) হাজার বছর পূর্বে নিয়ানডারথাল যুগে জোতির্মন্ডলে ঘটে যাওয়া একটি মূহুর্তের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। বাংলাদেশ সময় অপরাহ্ন ৩টা ৫১-মিনিটে (গ্রীনিচ সময় সকাল ৯টা ৫১ মিনিট) সৌরমন্ডল পৃথিবীর প্রায় কাছাকাছি সবচেয়ে কাছে আসবে। সচরাচরের গড় ৫০-মিলিয়ন মাইলের দূরত্ব ঘূচিয়ে আজ পৃথিবী ও মঙ্গলের দূরত্ব হবে ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৮ মাইল অথবা ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার ০০৬ কিলোমিটার। রাতের আকাশে সকল গ্রহনক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্যকে হার মানিয়ে উজ্জল লালচে হলুদ বর্ণে মঙ্গল আজ পৃথিবীবাসীর কাছে খালি চোখে ধরা দেবে। উজ্জ্বলতায় মঙ্গল হবে শুকতারা কিংবা শুক্রগ্রহের কাছাকাছি। অপরাহ্ন ৩টা ৫১-মিনিটে মঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম হলেও বাংলাদেশের আকাশে মঙ্গল দৃশ্যমান হবে আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। প্রতিঘন্টায় ৪৫ হাজার মাইল বেগে ঘূর্ণায়মান মঙ্গল ততক্ষণে পৃথিবী থেকে দেড় লক্ষ মাইল দূরে চলে যাবে।
২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর: ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালু হয়। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৯ সালে ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস চালূ হয়।
২০০৩ সালের ১১ নভেম্বর, ইত্তেফাক পত্রিকার সংবাদ অনুসারে: রাজধানীর ঈদের বাজারে বিদেশী পণ্যের সমারোহ বেশী। একটি লেহেঙ্গার দাম ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রাইফেল'স স্কোয়ার মার্কেেট। আর একটি লেহেঙ্গার মূল্য ২(দুই) লক্ষ টাকা চেয়েছে এবং ১.৮(এক লক্ষ আশি হাজার) টাকায় বিক্রি হয়েছে এলিফ্যান্ট রোডের ইষ্টার্ণ পস্নাজায়।
২০০৩ সালের ১১ নভেম্বর, ইত্তেফাক পত্রিকার সংবাদ অনুসারে: ১৬০ কোটি টাকার জমির মূল্য ৬৪১ কোটি টাকা পরিশোধ। দায়ী কে? রাজউক, না জেলা প্রশাসন?
।ইত্তেফাক পত্রিকার গত এক বছরের সংবাদ সংক্ষেপ:।
২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি, সরকার একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বলিষ্ঠ সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর বলে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষণা।
২০০৩ সালের ১১ জানুয়ারি, প্রচন্ড শীতে এ পর্যন্ত ৩-শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যু।
২০০৩ সালের ২৬ জানুয়ারি, সীমান্তে ভারতের পুশইন ও বিডিআর-জনতার যৌথ প্রতিরোধ।
২০০৩ সালের ২৯ জানুয়ারি, সীমান্তে ভারতীয় কমান্ডো ও মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশেীরা।
২০০৩ সালের ৬ জুন, বাবুপুরা বস্তির ৩শ' ঘর ভস্মীভূত।
২০০৩ সালের ৭ আগষ্ট, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার কমলাপুরে বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেন।
২০০৩ সালের ১৩ আগষ্ট, প্রধানমন্ত্রী র্কতৃক রাজশাহী-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু।
যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে:
২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি, যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে: প্রতিদিনি গড়ে ১১টি খুন হয়েছে ২০০৩ সালে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ডকুমেন্টেশন ও গবেষণা বিভাগের জরিপ অনুযায়ী-২০০৩ সালের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দেশে মোট ৩,৯২০টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এরমধ্যে রাজনীতি সংশিস্নষ্ট ঘটনায় নিহত হয় মাত্র ২৬১ জন। কিন্তু লক্ষণীয়ভাবে বেশি মারা যায় গণপিটুনিতে। এছাড়াও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারা গেছে আরও ২,৪৯৬ জন। বিভিন্নভাবে নির্যািতত হয়েছেন ২০৮ জন সাংবাদিক। ২০০২ সালে হত্যাকান্ডের সংখা ছিল=৩,৪৪৯ জন।
।দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদমতে:।
২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারি, এএফপি, বিবিসি: যুক্তরাষ্ট্র তার ১১৫টি বিমানবন্দরে বিদেশীদের আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি নেয়া শুরু করেছে। চলতি সালে ২.৩০(দুই কোটি ত্রিশ লক্ষ) বিদেশী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারে। ২৮টি দেশ ছাড়া বিশ্বের আর সব দেশ থেকে আগত বিদেশীদের ক্ষেত্রে এ আইন কার্যকর হবে। ২৮টি দেশের মধ্যে অধিকাংশই ইউরোপীয়।
২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি, ইনকিলাব পত্রিকার অর্থৈনতিক রিপোর্ট: নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ৩০ ভাগ দাম চাঁদাবাজিতে বাড়ে।
২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি, প্রতি বছর শাহজালাল(র.)-এর বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।
১৫-০১-২০০৪ সালের সংবাদ: সংসদের আসন ৪৫০ হচ্ছে এবং চারদলীয় জোটের শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত: সংরক্ষিত মহিলা আসন-৫০টি আসন সাধারণ আসনে বিজয়ী সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সংখ্যানুপাতে বন্টন হবে।
২০০৪ সালের ১৬ জানুয়ারি, ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদ অনুসারে: অতিরিক্ত সংসদীয় আসনের জন্য এক মেয়াদে বাড়তি ব্যয় ৩৫০ কোটি টাকা।
২০০৪ সালের ১৬ জানুয়ারি, ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদ অনুসারে: গত ২ বছরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ৪০%। নতুন পে-স্কেল হয়নি।
২০০৪ সালের ১৮ জানুয়ারি, বর্তমান অর্থব্যবস্থায় ধনীরা লাভবান: নয়া মডেল চাই। দু'দিনব্যাপী আন্তর্জািতক বাণিজ্য সম্মেলন শুরু।
২০০৪ সালের ২০ জানুয়ারি, বিদ্যুৎখাত: মুনাফালোভীদের আরেক শ্বেতহস্তী বসছে সরকারের ঘাড়ে। আমি বলব যে, শ্বেতহস্তী বসছে সরকারের ঘাড়ে নয় বরং জনগণের ঘাড়ে।
২০০৪ সালের ২০ জানুয়ারি, আই. এম. এফ.-বিশ্বব্যাংকের নীতি জনগণের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করছে: ড. স্টিগলিজ।
২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি, বাংলাদেশ সীমান্তে মায়ানমারের বিশাল গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কার: এপারে বাংলাদেশের বস্নকে কোন অনুসন্ধান হয়নি।
২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি: বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ টাকা না দিলেও চলবে: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান বলেছেন।
২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি: সংসদে পূর্তমন্ত্রী: পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩৪-হাজার পস্নট দেয়া হবে।
২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি: বেসরকারী খাতে ৫০টি টেলিমেডিসিন সেন্টার হচ্ছে-জাইকা দেড় কোটি ডলার সাহায্য দেবে।
২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল অনুষ্ঠিত 'টয়োটা মোটর শোতে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক ''লেক্সাস'' গাড়ী।
২০০৪ সালের ১৬ মার্চের, হিসেব অনুযায়ী: ঢাকা শহরে ছিন্নমূল বালক অর্থাৎ আমাদেরই নামকরণ উপাধিপ্রাপ্ত টোকাইর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার।
২০০৪ সালের ১৬ মার্চের, হিসেব অনুযায়ী: আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লক্ষাধিক ফাইল আটক।
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নীরব অগ্রগতি মাথাপিছু প্রকৃত জাতীয় আয় এখন ১৮২০ ডলার। ঢাকা প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে নয়াদিল্লীর ৪.৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ২১.৮ শতাংশ। ২০০৩ সালের অর্থ বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু জাতীয় আয় ৪০৭ ডলার হলেও এ অর্থ দিয়ে আমেরিকার ১৮৯০ ডলারের সমমূল্যের পণ্য ও সেবা পাওয়া যায় বাংলাদেশে।
২০০৪ সালের ৮ এপ্রিল-এর সংবাদ: বাংলাদেশে ৪০,০০০ হাজার বর্গমাইল সমুদ্র এলাকা অরক্ষিত। মাত্র ২টি পেট্রোল বোট: আগাম তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে সেকেলে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক।
২০০৪ সালের ৯ এপ্রিল, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আমানত থেকে আসে ক্ষুদ্রঋণের ৪২ শতাংশের যোগান: বড় এনজিওগুলোর আমানত-ঋণের ব্যবধান ২৩ শতাংশ।
২০০৪ সালের ১০ এপ্রিল, রাজধানীর যানবাহন ব্যবস্থাপনায় বৈপস্নবিক উন্নয়ন: ভোগান্তি কমেছে বরং ভোগান্তি বেড়েছে। মেইন রোডে রিকসা বন্ধ: চলবে পৃথক রাস্তায়।
২০০৪ সালের ১২ এপ্রিল, আসালং (মাটিরাঙ্গা) থেকে ফিরে এইচ. এম. প্রফুল্ল: খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম সীমান্ত এলাকা আসালং-এ (মাটিরাঙ্গা সীমান্তে) বাংলাদেশের ১,৫০০(এক হাজার পাঁচশত) একর ভূখন্ড ভারতের দখলে।
। ইনকিলাব পত্রিকার রিপোর্ট:।
২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল, ইনকিলাব পত্রিকার রিপোর্ট: ভেতর থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মাসুমুর রহমান খলিলী: ১৯৮৩ সাল এবং ২০০৩ সাল-এই দুই দশকের ব্যবধানে দেশের মানুষের গড় আয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশী। ১৯৮৩ সালে প্রতিজন বাংলাদেশীর গড় আয় ছিল পৌঁনে ২০০শত আমেরিকান ডলার। আর ২০০৩ সালে মাথাপিছু জাতীয় আয় দাঁড়িয়েছে ৪১১ মার্কিন ডলার। ডলারের গতানুগতিক মূল্যে জাতীয় আয় বা জিএনআই হিসাবে একাধিক দেশের জনগণের প্রকৃত আয়ের তুলনা সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এজন্য ডলারের সমানুপাতিক ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে প্রকৃত জাতীয় আয় হিসাব করা হয়। যেমন, ঢাকায় ১ ডলারে ৩ ডজন সাগর কলা পাওয়া গেলেও ওয়াশিংটনে এ কলা কিনতে ১২ ডলারের প্রয়োজন হয়। যে বাসা ঢাকা শহরে ১০০ ডলারে ভাড়া পাওয়া যায় সেই একই বাসা ভাড়ার জন্য ৮০০ ডলার লাগে ওয়াশিংনটনে। ২০০১ সালে ক্রয়ক্ষমতা বিচারে জাতীয় আয় ছিল ১৬১০ ডলার এবং ২০০৩ সালে তা ১৮২০ ডলারে উন্নীত হয়। ১৯৮৩ সালে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ছিল-১.৫২(এক কোটি বায়ান্ন লক্ষ) টন থেকে বেড়ে ২.৬৭(দুই কোটি সাষট্টি লক্ষ) টনে উন্নীত হয়েছে। দেশের ৭৮ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে।