১৯৫২ সালের ২২ জানুয়ারি 'ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ছাত্র সমাবেশের উপর পুলিশের গুলি বর্ষণ। জাতীয় আরকাইভসের প্রদর্শনী কক্ষে রয়েছে।
১৯৫২ সালের ২৮ জানুয়ারি, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন।
১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, খাজা নাজিমউদ্দিন পূর্ব-পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঢাকার এক জনসভায় বলেন-"উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা''।
১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, পূর্ব-বাংলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষারদাবীতে আন্দোলণরত জনতার উপর পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শহীদ হয়। এদের মধ্যে ৫(পাঁচ) জনের নাম জানা আছেঃ বরকত, সালাম, জব্বার, রফিক ও অহিউল্লাহ। বরকত ছিলেন ছাত্র, সালাম ছিলেন সচিবালয়ের পিয়ন, জব্বার ছিলেন ছোট চাকুরে, রফিক ছিলেন প্রেসের কর্মচারী আর অহিউল্লাহ ছিলেন কিশোর বালক। পাঁচ জনের মধ্যে চার জনই ছিলেন সাধারণ মানুষ, দরিদ্র কর্মচারী বা ছোট ব্যবসায়ী। বাংলা ভাষার জন্য তাঁরা প্রাণ দিলেন, তাঁদের রক্তের ওপর দিয়ে দেশ স্বাধীন হল; কত লোকের ভাগ্য খুলে গেল, কিন্তু বাংলা ভাষার মধ্যে পরিবর্তন এলনা। বাংলা ভাষায় বড়লোক-ছোটলোকের তারতম্য রয়ে গেল।
১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত শোক মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ।
১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনকারী জনতার উপর গুলীর প্রতিবাদে ''দৈনিক আজাদ' সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিনের প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ।
১৯৫২ সালের ২৯ মার্চ, ঢাকা বার এসাসিয়েশনে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জন্ম।
১৯৫২ সালের ২ মে, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রতিষ্ঠা হয়।
১৯৫৩ সালের ২০ মার্চ, 'ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক পেট্রল পাম্প' হলো বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম পেট্্রল পাম্প।
১৯৫৩ সালে মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী আচরণ মোকাবিলার জন্য, ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ভাসানী এবং ফজলুল হক আলোচনা করে মুসলিম লীগ বিরোধী একটা ফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেন এবং পত্রিকায় বিবৃতি প্রদান করে "ঐতিহাসিক ২১-দফার'' ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
১৯৫৩ সালে ঢাকায় নটরডেম ডিবেটিং ক্লাব গঠিত হয়।
১৯৫৩ সালে টাউন ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ''আজিমপুর কবরস্থান''। ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ, শুক্রবার রায়েরবাজারের কবস্থানটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম দেশের বৃহত্তম কবরস্থানটি চালু হয়। রায়েরবাজারের কবরস্থানটি নির্মাের্ম ব্যয় ৫২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ কবরস্থানের মোট জমির পরিমাণ ৯৬ দশমিক ২৩ একর।
১৯৫৪ সালে ঢাকা স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়।
১৯৫৪ সালে ঢাকার রাজারবাগ ২৫০ শয্যার পুলিশ হাসপাতার প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৪ সালের ১০ মে, পল্টন ময়দানে আওয়ামী মুসলিম লীগের আহবানে এক বিরাট জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক সভায় ঘোষণা দেন যে, তিনি ভাসানীর নির্দেেশই শাসনকার্য পরিচলনা করবেন। ৩০ মে, ফজলুল হকের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন। অজুহাত দেখান যে, কমিউনিষ্টরা বিশৃঙ্খলা করে-দমনে হক-মন্ত্রিসভা ব্যর্থ। ১৯৩৫ সালের 'ভারত শাসন আইন'-এর ৯২-ক ধারায় পূর্ববাংলায় গভর্নেরর শাসন জারি করেন।
১৯৫৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, ঢাকায় প্রথম অপ্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র নটরডেম বিজ্ঞান ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৪ সালে ঢাকায় প্রথম নিউমার্কেট তৈরী করা হয়।
১৯৫৪ সালের ২৮ জুন, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৫৬ সালের দিকে ডাকঘরের পরিধি আরও বাড়ে। তখন সদরঘাটে প্রধান ডাকঘর থাকলেও পোষ্টমাষ্টার জেনারেল (পিএমজি) অফিস, বৈদেশিক ডাকঘর বায়তুল মোকাররমের পাশের যায়গায় ডাকঘরকে জেনারেল পোষ্ট অফিস (জিপিও) হিসেবে গঠন করেন। ১৯৬৩ সালের ১০ মার্চ জিপিওর আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এ ভবনে এর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৬৫ সালে সদরঘাটের অফিসটিকে ঢাকা সদর হেড পোষ্ট অফিস হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
১৯৫৬ সালের দিকে আবাসিক এলাকা ধানমন্ডির প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৫৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ৫০ বছর পুর্তি অনুষ্ঠান।
১৯৫৬ সালের ১৩ আগস্ট, ঢাকা শহরে বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র "মুখ ও মুখোশ'' মুক্তি পায়; নির্মাতা মরহুম আব্দুল জব্বার খান।
১৯৫৬ সালে ঢাকায় ''ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন'' ভবনটি তৈরী করা হয়।
১৯৫৬ সালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৫৬ সালে আজিমপুর লেডিস ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৭ সালে ঢাকায় ১৫ জন লোক নিয়ে এফ.ডি.সি'র কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৫৮ সালের ৮ মার্চ, ঢাকা মুসলিম চেম্বার এবং ইউনাইটেড চেম্বার একত্রকরণের মাধ্যমে ''ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির'' আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
১৯৫৮ সালের ২৩ জুন, ঢাকায় প্রথম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৫৮ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট-এর মাস্টার প্ল্যান ১৯৫৯ সালে প্রণীত হয়। তখন ঢাকার আশে পাশে ৩২০ বর্গিকলোমিটার এলাকার জন্য এ মহাপরিকল্পনায় জনসংখ্যার বৃদ্ধির যে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়, তা সম্পূর্ণভাবে ভূল প্রমাণিত হয়। ১৯৯৫ সালে ডিএমডিপি নামে প্রণীত হয় এবং ১৯৯৭ সালে অনুমোদিত হয়। এ পরিকল্পনায় মোট ৫৯০ বর্গমাইল বা ১৫২৮ বর্গিকলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। উত্তরে গাজীপুর পৌরসভার উত্তর সীমানা, দক্ষিণে ধলেশ্বরী নদী, পশ্চিমে বংশী ও ধলেশ্বরী নদী, পূর্বে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদী এবং সোনারগাঁও উপজেলার কিয়দংশ। ২০১০ সালের ২৩ জুন, প্রথম আলো: রাজধানীর ২১ শতাংশ জায়গা থাকবে জলাশয়-জলাভূমি। ঢাকা মহানগরের বিশদ অব্জল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে গেজেট প্রকাশ। এটি বাস্তবায়িত না হলে রাজধানী পানিতে তলিয়ে যাবে: পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান বলেন। এর ফলে পর্যােলাচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৫৯০ বর্গমাইল (১৫২৮ বর্গিকলোমিটার) বিস্তৃত ঢাকা মহানগরের ২১ শতাংশ জায়গা জলাশয় ও জলাভূমি হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
১৯৫৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেসের শাখা খোলা হয়। স্বাধীনতার পর ঢাকায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেসের পূণাঙ্গ শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ জাতীয় মসজিদটি ২৫ লাখ টাকা দিয়ে ৮.৩০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৩ সালের দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বায়তুল মোকাররম মসজিদকে জাতীয় মসজিদ হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৬০ সালে আজীমপুর এস্টেট জনকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল, ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল ২৪-০৪-২০১৪ তারিখ বৃহস্পতিবার ঢাকায় তাপমাত্রা পৌঁছে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই তাপমাত্রাকে ৫৪ বছরের মধ্যে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এপ্রিলের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ দিনে গড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৭৩ বছরের মানে ১৯৪১ সাল থেকে তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরে।
১৯৬১ সালে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান প্রতিষ্ঠিত হয়। ফোন-৮০৩৩২৯২।
১৯৬১ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ১শ' ৪৩ জন।
১৯৬১ সালের ৮ মার্চ, মতিঝিল বাস ডিপো হতে মাত্র ৪টি বাস নিয়ে তৎকালীন ইপিআরটিসি যাত্রা শুরু করে। এবং বাংলাদেশে কাচা ও পাকা রাস্তা মিলিয়ে মোট সড়ক পথের দৈর্ঘয-২,৪১,২৮৬ কিলোমিটার (সূত্র-অর্থৈনতিক সমীক্ষা-২০০৯)।
১৯৬২ সালে ঢাকা শহরে প্রথম ফুটপাত তৈরী হয়।
১৯৬৪ সালে আনবিক শক্তি কমিশনের মাধ্যমে পূর্ব-পাকিস্তানে প্রথম যে কমপিউটারের যাত্রা শুরু সেই কমপিউটার আজ বাংলাদেশের মানুষের জীবনের একটি অন্যতম অংশ হয়ে যাচ্ছে।
১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে পার্সোনাল কমপিউটারের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। এরপর ১৯৯৮ সালে সরকার যখন কমপিউটার এবং অন্যান্য আইসিটি এক্সেসরিজের উপর থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেয় তখন থেকে এটি প্রচন্ডভাবে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের ইন্টারনেট যুগে প্রবেশের ঘটনা আইসিটি খাতে একটি বিরাট মাইলস্টোন ছিলো। ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৫-সদস্যের একটি শক্তিশালী আইসিটি টাস্কফোর্স গঠন করে।
১৯৬৪ সালে সমিরুননেছা ও নূরজাহান খাতুন চিড়িয়াখানা জামে মসজিদ নির্মাণ করেন।
১৯৬৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর,সাবেক পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় টেলিভিশন দেখা শুরু।
১৯৬৪ সালে ঢাকা সদরঘাটে ভাসমান জেটিতে লঞ্চ ভিড়ে।
১৯৬৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সমিতি গড়ে ওঠে ঢাকার পঞ্চায়েত সরদার আব্দুল মাজেদের প্রচেষ্টায়। ঢাকা সমিতির স্মরণিকা থেকে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় পঞ্চায়েত প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেল। সমিতির প্রথম আহবায়ক হন মাজেদ সরদার। মাজেদ সরদার ১৯৬৫ সালে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ঢাকার নাগরিক কমিটির ব্যানারে এক সভা আহবান করেন। ১৯১২ সালে প্রণীত সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) অনুযায়ী যারা ঢাকার বাসিন্দা, শুধু তারাই ঢাকা সমিতির সদস্য হতে পারে। সে অনুযায়ী আদি ঢাকাইয়াদের সংগঠন হলো এ সমিতি। সবাই একত্র হওয়া, ঢাকাইয়াদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা, সামাজিক ও কর্মেক্ষত্রে অবদান রাখার জন্যই-এ সমিতি গড়ে ওঠে।
১৯৬৬ সালে প্রথম ঢাকায় ফাইভ স্টার "শেরাটন হোটেল" প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৬৯ সালের ৬ জানুয়ারি, ছাত্র ইউনিয়ন(মেনন), ছাত্র ইউনিয়ন(মতিয়া) এবং ছাত্রলীগ-এর সমন্বয়ে "ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ'' গঠন এবং ডাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ১১-দফা কর্মসূচী ঘোষণা।
১৯৬৯ সালের ১৮ জানুয়ারি, ১১ দফার দাবীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্র সমাবেশের পর মিছিল। ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ।
১৯৬৯ সালের ১৯ জানুয়ারি, ই.পি.আর.-এর গুলিতে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদ আহত।
১৯৬৯ সালের ১৯ জানুয়ারি, ছাত্র মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ।
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি, আসাদুজ্জামান শহীদ হওয়ার সংবাদে মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটে প্রবেশের মূল ফটকের নামকরণ করা হয় "আসাদ গেট''।
১৯৬৯ সালে ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশন চালু হয়।
১৯৬৯ সালে ঢাকায় প্রথম 'দোতালা বাস' চালু হয়।
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, পল্টন ময়দানের এক বিশাল জনসভায় বিভিন্ন নেতা অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সারা দেশে অর্ধিদবস হরতাল পালিত হয়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, রমনা রেস কোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাসন দেন।
১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ,শেষবারের মতো ঢাকা সফরে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান।
১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচনা বৈঠক শুরু হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহানের আলোচনা।
১৯৭১ সালের ২০ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও শেখ মুজিবুর রহমান-এর মধ্যে প্রায় সোয়া দু'ঘন্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২২ মার্চ, ছিল এক বিভ্রান্তিপূর্ণ দিন। প্রেসিডেন্ট হাউজে ভুট্টোর সঙ্গে শেখ মুজিবের সাক্ষাৎকার ছিল ২২ মার্চের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পূর্ব-পাকিস্তানে গণহত্যর নির্দেশ দিয়ে আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান করাচির পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। পাক-বাহিনী রাতে ঢাকায় শুরু করে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বেরাচিত হত্যাকান্ড 'অপারেশন সার্চলাইট' নিরস্ত্র জনগণের উপর অমানসিক নির্যাতন শুরু।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ করেন।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রী পরিষদ মুজিবনগর থেকে ঢাকায়।
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিরুর রহমান জাতীয় স্মৃতিশোধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং স্মৃতিশোধের কাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে। স্মৃতিশোধের সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৫০ ফুট। ঢাকা শহর থেকে ২২ মাইল দূরে সাভারে ৪-একর জমির উপর নির্মিত হয় স্মৃতিশোধ। এর পাশ্র্ববর্তী আরো ৪২-একর জমি স্মৃতিসোধের পরিবেশ রক্ষণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়।
১৯৭৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর, মিল্ক ভিটার (বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড) প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে মিল্ক ভিটা দেশের ২৬টি জেলার ১০৫টি উপজেলায় কাজ করছে। সমবায়ের ভিত্তিতে প্রায় দুই লাখ কৃষক মিল্ক ভিটার সঙ্গে যুক্ত এবং ১০ লাখ লোক সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে।
১৯৭৪ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ১৬ লাখ। (আয়তন ছিল-২৮০ বর্গিকলোমিটার বা ১৭৫ বর্গমাইল)।
১৯৭৪ সালের ১৪ এপ্রিল, মিরপুর ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।
১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যাকান্ডে নিহত জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজারুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দিনকে জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে।
১৯৭৬ সালে কাঁচপুর ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।
১৯৭৮ সালে ঢাকা পৌরসভাকে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোেরশনে উন্নীত করা হয়।
১৯৭৮ সালে ওরিয়েন্ট স্পোটিং ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৭৯ সালের ৩০ জানুয়ারি, ঢাকার পরীবাগে 'বিশ্বসাহিত্য কেন্দ' প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৭৯ সালে শহীদ জিয়া শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮০ সালে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা(সার্ক)-এর সূচনা: সার্ক আণুষ্ঠানিক-ভাবে উহার যাত্রা শুরু করে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়।
১৯৮১ সালের ৫ জুলাই, লোক নাট্যদল প্রতিষ্ঠিত হয়।(লিয়াকত আলী লাকী গ্রুপ)।
১৯৮১ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ১শ' ৪৭ জন।
১৯৮২ সালে ঢাকার কাওরান বাজার সংলগ্ন ২য় পাঁচতারা সোনারগাঁও হোটেল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮২ সালের ৪ অক্টোবর, সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের মাধ্যমে ঢাকার বর্তমান বানান (উযধশধ) করা হয় এবং ৬ অক্টোবর বুধবার বাসস সূত্রে দৈনিক সংবাদের প্রথম পাতায় এ খবর ছাপা হয। তাতে উল্লেখ করা হয়, এখন থেকে ইংরেজীতে ঢাকার বানান উধপপধ-এর পরিবর্তে উযধশধ লিখতে হবে। প্রধান সামরিক প্রশাসক লে. জে. এইচ. এম. এরশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।