আর্মেিনয়ানরা-যেমন ফরাশগঞ্জ, তেমনি আরমানিটোলা এবং সেকানকার প্রাচীন গির্জা, পোগজ স্কুল, রুপলাল হাউস ঢাকায় আর্মেনীয়নের স্বর্ণযুগের সাক্ষী দেয়। ঢাকায় গোড়ার গাড়ী চালুর কৃতিত্বও তাদের। আরমানিটোলার গির্জািট নির্মিত হয়েছিল ১৭৮১ সালে। উনিশ শতকের শেষ দিকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেয়। অনেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যায়।

কাশ্মীরিরা-ঢাকায় যেসব কাশ্মীরি ধনে-মানে খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছিল, তাদের মধ্যে ঢাকার নবাব পরিবার অন্যতম। এই পরিবারের আদি পুরুষ আবদাল হাকিম নবাব আলীবর্দী খানের সময়ে প্রথমে বসতি স্থাপন করেছিলেন সিলেটে। পরে তাঁরা ঢাকায় আসেন। লবণ ও চামড়ার কারবারে প্রভূত ধনসম্পদ অর্জন করেন। আবদাল হাকিমের ভাই আবদুল্লাহ সিলেট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তাঁর পুত্র হাফিজুল্লাহ আর্মেনীয়দের সঙ্গে যৌথ কারবার করে বিত্তবৈভব বাড়িয়ে তোলেন এবং ১৮১২ সালে বাকেরগঞ্জে জমিদারি ক্রয় করেন। নিঃসন্তান হাফিজুল্লাহর পর উত্তরাধিকারী হন তাঁর ভাই খাজা আলিমুল্লাহ। তার পুত্র আবদুল গনি। তার পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ। তার পুত্র নবাব সলিমুল্লাহ।

চীনা ও অন্যান্যারা ঢাকায় যখন আসে-চীনারা ঢাকায় জুতার ব্যবসায় বেশ অগ্রগতি লাভ করেছিল। মিডফোর্ড এলাকায় ছিল তাদের কারখানা। এ ছাড়া তারা লন্ড্রির ব্যবসায়ও নিয়োজিত ছিল। ইরানিরা ঢাকায় আসেন সপ্তদশ শতকে। ইরাকিরা এখানে এসেছিল প্রধানত দিল্লি থেকে। তারা মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের। হোসনি দালান। ইমামবাড়াকেন্দ্রিক তাদের সম্প্রদায়ের কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। ঢাকার বেনারসি কারিগরদের পূর্বপুরুষ এসেছিল ভারতের বেনারস থেকে। মিরপুরে তাদের প্রধান বসতি। তেলেগু সম্প্রদায়ের ঢাকা আগমন উনিশ শতকে। সায়েদাবাদ এলাকায় এখনো তাদের বংশধরদের বসবাস। রাজধানী হিসেবে ৪০০ বছরের মাইলফলক পেরিয়ে গেল এই শহর। ঢাকার প্রথম সেশন জজ শেরম্যান বার্ড।

১৬১৫ সালে আকা বাকের (তুর্কি মুসলমান)-এর জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-১৭০১ সালে। আকা বাকর-এর নামে ঢাকায় বাকরখানী রুটির নামকরণ করা হয়।

১৬২০ সালে মগরাজাদের বন্দী করা হয়। এরা আরাকানী। এদের নামানুসারেই নামকরণ করা হয় "মগবাজার"।

১৬২৬ সালে মিডফোর্ড হাসপাতালের লেডিজ হোস্টেলের নিকট বুড়িগঙ্গা নদীর পারে ঢাকা শহরের ২য় মসজিদ তৈরী হয়।

১৬২৬ সালে "ছোটকাটারা" ও "বড়কাটারা"র প্রাসাদ তৈরী করা হয় বাদশা জাহাঙ্গীরের ঢাকা আগমণ উপলক্ষে।

১৬৩৯ সালে সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সূজা ঢাকায় বাংলার সুবাদার নিযুক্ত।

১৬৪১ সালের ১৬ মার্চ, বঙ্গের সুবাদার শাহজাদা সুজা ঢাকায় 'বড়কাটারা' নামে বিশাল সরাইখানা নির্মাণ করেন।

১৬৪২ সালে ঢাকায় হোসনী দালান তৈরী করা হয় (শাহ শুজার নৌ-সেনাপতি মীর মুরাদ নামক এক ব্যক্তি এ ইমারত তৈরী করেছিলেন।

১৬৪২ সাল থেকে ঢাকায় মহরমের তাজিয়া মিছিল মোঘল সুবাদার শাহ সুজার শাসনামলে-সুবাদারের নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক শিয়া দরবেশ হিসেবে পরিচিতি সৈয়দ মির মুরাদ হজরত ইমাম হোসেন(রা.)-এর স্মৃতিস্মারক হিসেবে পুরান ঢাকায় নির্মাণ করেন হোসেনি দালান এবং এ হোসেনি দালানকে কেন্দ্র করেই শুরু করেন শোক পালন অনুষ্ঠান ও ইমাম হোসেনের প্রতীকী শরাধার অর্থাৎ তাজিয়া-সহযোগে শোভাযাত্রার। ভারত উপমহাদেশে প্রচলিত হয় ইরান থেকে ধর্মপ্রচারার্থে আগত মুসলমানদের মাধ্যমে।

১৬৪২ সালে (বাংলা ১০৪৯ সালে) শ্যামপুরের ফরিদাবাদ এলাকার ৫৬ নম্বর পশ্চিম জুরাইনে মন্দিরটি অবস্থিত।

১৬৪৩-৪৪ সালে বড় কাটরা নির্মাণ করেছিলেন সুবাদার সুলতান মুহম্মদ সুজার প্রধান স্থপতি আবুল কাশিম। মোগল আমলে ঢাকার রাজধানী হলে যে স্থাপনাটি সবার দৃষ্টি কাড়ে, তার অন্যতম বুড়িগঙ্গার তীরের বড় কাটরা। ব্রিটিশ লাইব্রেরির ওয়েবসাইটে ১৮৭০ সালের বড় কাটরার একটি ছবিও পাওয়া গেল। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, মধ্য এশিয়ার ক্যারাভান সরাই-এর ঐতিহ্য অনুসরণে নির্মিত হয়েছিল বড় কাটরা। মোগল রাজকীয় স্থাপত্য-রীতির সব বৈশিষ্ট্য এতে ছিল। বড় কাটরায় ফারসি ছন্দোবদ্ধ পঙতিযুক্ত দুটি শিলালিপি আছে। তবে অনিন্দাসুন্দর এই ভবনটিতে সুলতান সুজা না থেকেসরাইখানা হিসেবে ব্যবহারের জন্য আবুল কাশিমকে দান করেন। অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটক তখন এর স্থাপত্যশৈলী দেখে মুগ্ধ হতেন। তাঁদের অনেকের লেখাতেই এই কাটরার কথা আছে। সুজা ঢাকায় এলে কাটরার উত্তর অংশে থাকতেন। নওয়াব সায়েস্তা খাঁ ও মীর জুমলা এখান থেকেই দেশ শাসন করতেন। ১৭৬৫ সালে নিমতলী প্রাসাদ নির্মােণর আগ পর্যন্ত এই কাটরাতেই দরবার চলত। ঐতিহাসিক এসব বর্ণনা পড়ে কেউ যদি এখন চকবাজারে বড় কাটরা দেখতে যান, তিনি যথেষ্ট হতাশ হবেন। মুল ফটকটি ছাড়া প্রায় পুরোটাই ধ্বংসের পথে। কাটরার বিশাল অংশজুড়ে এখন একটি মাদ্রাসা। ছাদে নতুন করে ঘরও তোলা হয়েছে। এ ছাড়া মালের আড়ত, ঝালাই কারখানাসহ নানা রকমের দোকানও রয়েছে সেখানে। তবে দোকানদার ও এলাকাবাসী বলছেন, তাঁরাও চান মোগল স্থাপত্যের এই নিদর্শন সংরক্ষণ করা হোক।

১৬৬৪ সালের ১৯ মার্চ, শায়েস্তা খাঁ বঙ্গের সুবাদার হিসেবে ঢাকায় আসেন।

১৬৬৭ সালে লালবাগ দুর্গ তৈরী করা হয়।

১৬৬৮ সালে ইংরেজ কুঠি স্থাপিত।

১৬৭১ সালে ছোট কাটরা প্রাসাদ নির্মিত।

১৬৭৫/১৬৭৬ সালে ঢাকার চকবাজার মসজিদ তৈরী করা হয়।

১৬৭৮ সালে শাহজাদা মোহাম্মদ আজম র্কতৃক লালবাগ দুর্গের নির্মাণ শুরু।

১৬৭৮-৭৯ সালে যুবরাজ মুহম্মদ আজম ঢাকায় প্রথম পাকা রাস্তা নির্মাণ করেন।

১৬৮০ সালে মোহাম্মদপুর এলাকায় সাত গম্বুজ মসজিদ তৈরী করা হয়।

১৬৯৭ সালে ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় 'মরিয়ম-সালেহা' মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

১৭০০-১৭০৪ সালে নির্মিত হয় বেগমবাজার মসজিদ।

১৭০০ সালে ঢাকা থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে নিয়ে যায়।

১৭৪০-এর দশকে ঢাকায় ঘুড়ি উড়ানোর রেওয়াজ নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে শুরু হয়।

১৭৪২ সালে ঢাকা শহরে ফরাসিরা প্রথম ফরাসগঞ্জ বাজার প্রতিষ্ঠা করেন।

১৭৪৯ সালে ওয়ারেন হেস্টিংসের নিজ হাতে লেখা চাকরির জন্য দরখাস্ত রয়েছে জাতীয় আরকাইভসের প্রদর্শনী কক্ষে।

১৭৫৪ সালে ঢাকায় আগা সাদেক ময়দানের উত্তর পাশ্র্বের একটি সমাধিতে আগা বাকের সমাহিত আছেন।

১৭৫৬ সালে ঢাকা শহরের সোয়ারীঘাটে বাজার প্রতিষ্ঠা করে। এ বাজারে মাছের আরত।

১৭৬৩ সালে ফকির সন্ন্যাসীদের আক্রমণ এবং ঢাকা ফ্যাক্টরি দখল।

১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ আমলে তৈরি ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার অন্যতম সাক্ষী ভারত উপমহাদেগশের অন্যতম পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের এ কারাগারটি-এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় সরিয়ে নেয়া হবে। ১৭৬৫ সালে ১০টি ওয়ার্ড সির্মাণ করে সাধারণ বন্দীদের রাখা হতো। এরপর ১৭৮৮ সালে এই ওয়ার্ডগুলোতে বড় অপরাধীদের রাখা শুরু হয়। সেই থেকেই শুরু হয় ঢাকা কারাগারের যাত্রা। ১৯০২ সালে ৩৯ একর জমি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে যাত্রা শুরু করে বর্তমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি। ১১২ বছরের বেশি সময় ধরে এই কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হচ্ছে বন্দীদের। পাকিস্তান আমলে এই কারাগারের অনেক জমি বেদখল হয়ে যায়। এখন সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ একর জমি রয়েছে। ১৯৮০ সালে আশপাশে বড় ভবন হওয়ার কারনে কারাগারটি সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ১৯৯৪ সাল থেকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে এবং ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চলে যাবে নাজিমউদ্দীন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারটি।

১৭৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।

১৭৭৭ সালে তৎকালীন ঢাকার জমিদার গোলাম নবী টিলার উপরে সুরম্য একতলা ইমারত নির্মান করেন।

১৭৮০ সালে ঢাকায় প্রথম আলিয়া-ই-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৭৮১ সালে নির্মিত পুরান ঢাকার আরমানিটোলার আর্মেিন গির্জা। সাড়ে সাত শ ফুট লম্বা চারটি দরজা ও ২৭টি জানালার এ গির্জা কালের প্রহারে আজ কিছুটা মলিন ও জীর্ণ। ওয়াইজের গ্রন্থ থেকে আরও জানা যায়, ১৮৭২ সালে সারা বাংলায় বসবাসরত ৮৭৫ জন আর্মেনীয়র ৭১০ জন কলকাতায় এবং ১১৩ জন ঢাকায় বাস করত। ১৮৭০ সালে আই.জি.এন. পোগোজের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকার আর্মেনীয়দের সংখ্যা ছিল ১০৭, যাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ, ২৩ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু। ২০০৮ সালের ১৪ আগষ্ট, ঢাকার শেষ আর্মেনীয়-মিখাইল মার্টিেরাসেন-এর জন্ম ঢাকায়। পড়াশুনা করেছে ক্যালকাটা আর বোম্বাইয়ে। এ দেশটা চোখের সামনে কত বদলায়ে গেল।

১৮০৯ সাল থেকে দুর্গাপুজা শুরু করে। পুরান ঢাকার ২৫ নম্বর শাঁখারীবাজারে বাড়িটির অবস্থান। নাম দুর্গাবাড়ি। প্রায় ২০০ বছর ধরে এ বাড়িতে দুর্গা পুজা হচ্ছে।

১৮১৬ সালের এপ্রিলে, ছোট কাটরায় স্থাপিত লিওনার্দোর স্কুল।

১৮১৯ সালে তৈরি হয় ঢাকার জনসন রোডে সাধু থোমার ক্যাথেড্রাল গির্জা। ১৮৫৩ সালে 'বিগ বেন' ঘড়িটি তৈরি হয়েছিল লন্ডন শহরে। আর সাধু থোমার ক্যাথেড্রালের ঘড়িটি তৈরি করা হয়েছিল ১৮৬৩ সালে। মজা করে কেউ কেউ ক্যাথেড্রালের ঘড়িটিকে 'ইয়ংগার ব্রাদার অব বিগ বেন' বলে ডাকেন। মানে বড় বেনের ছোট ভাই আরকি। ঘড়িটি নিয়ে ১৯০৮ সালে দি ইম্পেরিয়াল গ্যাজেট অব ইন্ডিয়া-এর জুলাই সংস্করণে লেখা হয়, ''চার্চের জুড়ায় ঘড়িটি ১৮৬৩ সালে বসানো হয়েছিল, যা কিনা লন্ডনের বিখ্যাত 'বিগ বেন'-এর কারিগরদের দ্বারা প্রস্ত্ততকৃত।'' ঘড়িটি নষ্ট অনেক বছরের বেশি সময় ধরে।

১৮২৪ সালের ৪ জুনের ঘটনা লর্ড বিশপ রেজিল্যান্ড হেবার নৌকায় করে সুদূর কলকাতা থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছেন। ঢাকায় নেমেই হাতির ডাক শুনে চমকে গেলেন এক বিদেশি অতিথি। ডায়েরিতে ঢাকায় বেড়ানোর স্মৃতি লিখতে গিয়ে হাতির কথা উল্লেখ করতে ভোলেননি। বিশপ হেবার বেশ কদিন ছিলেন ঢাকায়। সদরঘাট হাতির ডাকে উচ্চকিত থাকত। কারণ বুড়িগঙ্গায় গোসল করাতে আনা হতো হাতির পাল।

১৮২৫ সালে ঢাকা জেলের কয়েদিদের লাগিয়ে তিন মাসের পরিশ্রমে রমনার জঙ্গল পরিস্কার করে স্থাপন করা হয় রেসকোর্স ময়দান। এ রেসকোর্সের প্রবেশপথে ডস দুটি স্তম্ভ তৈরী করেছিলেন। এ গেটকে বলা হতো 'রমনা গেট'। এ গেটঁটি এখনো অঁটুট অবস্থায় ঢাকার দোয়েল চত্বরের সামনে দেখা যায়। ১৮৭০ সালে রমনা রেসকোর্স গেট তৈরী হয়। রমনার কালীবাড়িটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তুানী সেনারা ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করে দেয়।

১৮২৫ থেকে ১৮৩০ সাল পর্যন্ত ঢাকায় ছিলেন মি. ওয়াল্টার সাহেব ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর আমলে লোহারপুল তৈরী কাজ শুরু হয়েছিল ১৮২৮ সালে। দুই বছর লেগেছিল শেষ হতে। পুল তৈরির জন্য নির্মাণসমগ্রী এনেছিল ইংল্যান্ড থেকে। লোহারপুলের খ্যাতি কর্ণেল ডেভিডসন ১৮৪০ সালে ঢাকায় এসে লোহারপুল দেখতে গিয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন পুল ও পাশ্র্ববর্তী এলাকার সৌন্দর্যে।

১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই, মিস্টার রিজ নামের এক ইংরেজ কলেজিয়েট স্কুলটি ঢাকার প্রথম সরকারি বিদ্যালয়।

১৮৪০ সালে জেমস টেলরের মতে, এ দেশের বস্ত্রশিল্প যখন ধ্বংসের মুখে, তখনো ৩৬ রকম কাপড় বুনন হতো ঢাকায়। এরমধ্যে বেনারসি অবশ্যই ছিল। তবে তা এশবারেই স্বল্প পরিসরে। ১৯৪৩ সালে পুরান ঢাকার মালিটোলা, দক্ষিণ মুহসেন্দি, ভজহরি সাহা স্ট্রিটের অল্পকিছু পরিবারই শুধু যুক্ত ছিল বেনারসি বুননের সঙ্গে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারতের বেনারস থেকে ব্যাপকসংখ্যক মুসলিম মোহাজের ঢাকায় এসে যখন বসতি স্থাপন করে, প্রধানত মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে।

১৮৪০ সালে ঢাকা মিউনিসিপাল কমিটি। ১৮৬৪-এর দিকে-এর প্রথম চেয়ারম্যান হন এডওয়ার্ড ড্রামন। 'বাবা ড্রামনের' হাত ধরে আজ আমরা উপনীত হয়েছি সিটি কপোের্রশন-এর মেয়র।

১৮৪০ সালে কলকাতা থেকে ডেভিডসন ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন। লিখেছেন 'ঢাকার সবুজ এবং সুন্দর রেজিমেন্টের সব অফিসারের মধ্যে একজন বা দু'জন থাকেন সেনানিবাসের ভেতরে। বাকীরা জ্বরে ভুগে বা জ্বরের ভয়ে থাকেন শহরে। সেনানিবাসের পাশে আছে বেশ বড় এক জলাভূমি যা মারাত্মক ম্যালেরিয়ার উৎস।' পল্টনে আরও বেশ কটি বড় পুকুর ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ১৮৪০ সালের দিকে জনস্বার্থে সেনানিবাস পুরানা ও নয়াপল্টন থেকে (পর্যায়ক্রমে রমনা থেকে লালবাগ ও মিরপুরে সেনানিবাসটি স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে ঐতিহাসিককেরা উল্লেখ করেছেন) সরিয়ে নেওয়া হলেও এর নাম পল্টন থেকে যায়। ১৮৬০ সালে ঢাকা এসে জর্জ গ্রাহাম নামের এক সিভিলিয়ান পল্টনকে দেখেছেন একটা 'ম্যালেরিয়া পরিত্যক্ত সেনানিবাস' হিসেবে। এরপর এলাকাটি ঢাকা পৌরসভার অধীনে চলে আসে। মুনতাসীর মামুনের বিবরণ থেকে জানা গেছে, ১৮৭৪ সালে ঢাকায় নওয়াব খাজা আহছান উল্লাহ ৮০ বিঘা জমি পত্তন নিয়ে বাগান করেন, যা দিলকুশা হিসেবে নতুন নামকরণ হয়। কোম্পানি বাগিচা থেকে সেগুনবাগিচা বলে, তার আদি পরিচয় ছিল 'কোম্পানি বাগিচা' নামে। এ খালি মাঠটি দীর্ঘিদন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। একসময় ফুটবল খেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠলে মাঠটিতে খেলাধুলা শুরু হয়। পাকিস্তান আমলে সেখানে একটি স্টেডিয়াম গড়ে তোলে সরকার। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় মওলানা ভাসানীর বিখ্যাত জনসভাগুলোর স্থান হিসেবে পল্টন ময়দান বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে পল্টন ময়দান গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে আছে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা ভরাট করে তিনি বিরাট মাঠ নির্মাণ করেন। কোম্পানি বাগান থেকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। সবুজ পল্টন এখন দূর অতীতের স্মৃতিমাত্র।

১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর, ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত।

১৮৫০ সালের আগে এলাকাবাসীর পানির সমস্যা সমাধানের জন্য বংশালের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও জমিদার হাজি বদরুদ্দীন ভুট্টো নিজ জমিতে পুকুর খনন করেন ৬-বিঘা জমির ওপর। এ কারণে পুকুরটি ভুট্টো হাজির পুকুর হিসেবেও পরিচিত। এখনো পুকুরটি টিকে আছে

১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল, সাপ্তাহিক 'ঢাকা নিউজ'-এর প্রকাশনা শুরু।

১৮৫৭ সালের ২২ নভেম্বর,ঢাকার লালবাগ দূর্গে বিপস্নবী সিপাহী ও ইংরেজদের মধ্যে যুদ্ধ।

১৮৫৮ সালের ১ মে, পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার পারে মিডফোর্ড হাসপাতাল পূর্ববঙ্গের প্রথম আধুনিক চিকিৎসানির্ভর হাসপাতাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৮৫৪ সালের শুকনো মৌসুমে হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। মাত্র ১৮,৫৩৬ টাকায় ১৮৫৮ সালের মধ্যে ঠিকাদার কোম্পানি একটি প্রধান হাসপাতাল তৈরী করেন। ১৮৭২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ, হাওড়া হাসপাতাল এবং মিটফোর্ড হাসপাতালে যত 'মেজর' অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তার মধ্যে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী মৃতের হার মিটফোর্ড হাসপাতালেই সবচেয়ে কম। ১৮৭৫ সালের ১৫ জুন, মিটফোর্ড হাসপাতালের বলয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম মেডিকেল স্কুল, যা পর্যায়ক্রমে আজকের স্যার সলিমূল্লাহ মেডিকেল কলেজ। ১৯২০ সালের ১ এপ্রিল, সরকারি হাসপাতালে পরিণত হয় মিটফোর্ড হাসপাতাল। বর্তমানে ৬০০ শয্যায় উন্নীত হয় মিটফোর্ড হাসপাতালটি। রবার্ট মিটফোর্ড ছিলেন ঢাকা জেলার প্রাদেশিক আপিল ও সার্কিট আদালতের দ্বিতীয় বিচারক। লন্ডনে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ১৭৯৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির 'রাইটার'-এর চাকরি নিয়ে ভারতবর্ষে আসেন রবার্ট। ১৮১৬ সালের সেপ্টেম্বরে কালেক্টর হিসেবে ঢাকায় আসেন মিটফোর্ড। রাজনৈতিক ক্ষমতা, ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে ঢাকা তখন এক গুরুত্বহীন শহর। এ শহরেই ১২টি বছর কাটিয়ে দেন রবার্ট মিটফোর্ড। ঢাকার চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে যান। সেখানে আট বছরের মত বেঁচে ছিলেন রবার্ট মিটফোর্ড। ১৮৩৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারিসে বেড়াতে যান মিটফোর্ড, সেখানেই মারা যান। জীবনের শেষ সময়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।