১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই, পাকিস্তান ইস্যুর উপর সিলেটে দু'দিনব্যাপী গণভোট শেষ হয়।

১৯৪৭ সালের আগষ্ট, মওলানা ভাসানী গ্রেফতার হন এবং পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসেও তিনি আসামের কারাগারে ছিলেন।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৭ সালের ১৬ আগষ্ট, কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'সাপ্তাহিক দেশ' পত্রিকায় 'স্বাধীন ভারত' সংখ্যায় লেখা হয়েছিল: ১৫ আগষ্টের উৎসব আমাদিগকে সেই আশাতেই উদ্দীপ্ত করিয়াছে যে, ভারত আবার এক হবে। ...আমরা পারস্পরিক মিলনের সেই শুভদিন গুনিতে থাকব। নতুবা আমাদের শান্তি নাই, তৃপ্তি নাই এবং নিবৃত্তি নাই। অখন্ড ভারতের আদর্শ আমরা ভুলিতে পারি না, তাহা আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়াইয়া গিয়েছে। সে আদর্শ ভুলিলে আমরা বাঁচিব না। চব্বিশ পরগনার একটি মেয়ে, কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এম. এ. ক্লাশের ছাত্রী রাজিয়া সুলতানা। কলকাতা থেকে প্রকাশিত ১৯৮২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, তারিখ শুক্রবারের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার একটা খবর দেখিয়েছিলেন। খবরটা এই যে, ১৯৬৫ সালের ১৬ জুন, তারিখ বুধবার ভারত সরকারের যে এক গোপন সরকারী নির্দেশ জারি করা হল-সে অনুসারে পূর্ব-পাকিস্তানের সমস্ত সংখ্যালঘুকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। (২০০৪ সালের ১১ নভেম্বরের ইনকিলাব পত্রিকার বৃহস্পতিবার, ঢাকা, ঈদ সংখ্যা-২০০৪-থেকে লেখা)।

১৯৪৭ সালের ১৭ আগষ্ট, পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর 'ইস্কান্দার মির্জা' ছিলেন।

১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর, প্রতিষ্ঠিত হয় এ অঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সংগঠন 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস'। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এতে যাদের লেখা ছিল তারা হলেন-অধ্যক্ষ আবুল কাসেম, প্রফেসর কাজী মোতাহার হোসেন ও সাহিত্যিক সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ।

১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, 'পাকিস্তান রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশ করে বাংলা ভাষার দাবীতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

১৯৪৭ সালে ঢাকা হাইকোর্ট জাজেস গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৭ সালের আগ পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় ৩৩৫টি বেসরকারি গণগ্রন্থাগার লক্ষ করা যায়।

১৯৪৭ সালে রাজশাহী বিভাগীয় অফিস গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে ১৮টি বিশেষ গ্রন্থাগার দেখতে পাওয়া যায়।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পূর্ব-বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশে) বেকার লোকের সংখ্যা ছিল ২.৯৫(দুই লক্ষ পঁচানব্বই হাজার)। ১৯৯৮ সালের ২৪ জুলাইয়ের তথ্য-বর্তমানে বাংলাদেশে ৪.৫(চার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) লোক কোন না কোনভাবে বেকার। ২০০৭ সালের রিপোর্ট হলো-বাংলাদেশে প্রায় ৫.৫(সাড়ে পাঁচ কোটি) লোক কোন না কোনভাবে বেকার।

১৯৪৭ সালে বাংলাদেশের ২৪ ভাগ বনাঞ্চল ছিল এবং তা থেকে কমে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ১৬ ভাগ বনের পরিমাণ ছিল। ২০০৭ সালে আছে মাত্র ৯ ভাগ কিন্তু প্রয়োজন শতকরা ২৫ ভাগ। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর স্থলভাগের শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন।

১৯৬২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান মধুপুর বনকে জাতীয় উদ্যানে পরিণত করেন।

২০০৪ সালের ৩১ মে, বৃক্ষমেলা উদ্ভোধনকালে ২০১৫ সালের মধ্যে বনাঞ্চল ২০ ভাগে উন্নীত করা হবে। বনমন্ত্রী-তরিকুল ইসলাম বলেছেন। আমি বলি বনাঞ্চল ১০ ভাগে উন্নীত করবে না।

২০০৬ সালের ৫ জুলাই, সংসদ রিপোর্টার: সংসদে মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম দেশে সংরক্ষিত বন এলাকা ৯১,৩৮১ একর। এরমধ্যে কৃষি উপযোগী কোন জমি নেই। এ বনভূমি চট্টগ্রামের কুমিরা, পাহাড়তলী, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, কক্সবাজার, নোয়াখালী, নীলফামারী, নওগাঁ জেলায় রয়েছে। সমগ্র দেশে বিভিন্ন শ্রেণীর বনাঞ্চলের পরিমাণ ২.৫৩ মিলিয়ন হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের শতকরা ১৭.৫০ ভাগ। এরমধ্যে বন বিভাগের সরাসরি আওতায় বনভূমির পরিমাণ ১.৫২ মিলিয়ন হেক্টর। যা মোট বনভমির পরিমাণ ১০.৩০ ভাগ।

২০১০ সালের ১৮ মে, প্রথম আলো: ২৭ জেলার ১৫ লাখ একর বনভূমিকে 'সংরক্ষিত এলাকা' ঘোষণার সিদ্ধান্ত। এ জন্য জেলা প্রশাসকদের বন আইনের ২০ ধারার বিধানমতে দ্রুত গেজেট নোটিফিকেশন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৭ জেলার নাম-ঢাকা, গাজীপুর, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।

১৯৯৫ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫-এর আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পলিথিন ব্যাগ যখন নিষিদ্ধ হয়: পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রাজধানী ঢাকায় এবং একই বছরের ১ মার্চ থেকে সারা দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।

১৯৯৫ সালে প্রথম জলবায়ু সম্মেলন (বার্লিন, জার্মািন, ১৯৯৫)। এবার জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন-২০০৯, স্থান: কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক (১৫তম সম্মেলন)।

২০১০ সালের ৫ আগষ্ট, প্রথম আলো: নোয়াখালীর উপকূলীয় বন নিশ্চিহ্ন। প্রভাবশালীদের দখলে দুই হাজার একর খাসজমি। ৭০ জনের মধ্যে ১৯ জন আওয়ামী লীগের, ১৩ জন বিএনপির ও জাতীয় পার্টির একজন।

২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: রাজধানীর অদূরে বন বিভাগের গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জের আওতাধীন রাথুরা মৌজায় তিন হাজার ৮১০ একর জমির ওপর পার্কিট নির্মােণর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০১৩ সালের মধ্যে পার্কিটর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে।

২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: জলবায়ু পরিবর্তেন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি খাত। কর্মশালায় অভিমত প্রায় ৮০ ভাগ উৎপাদন কমে যাবে।

২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর, দৈনিক জনকন্ঠ: কাওসার রহমান, ডারবাণ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রাতভর নাটকীয়তা শেষে জলবায়ু সম্মেলণে সমঝোতা।(১৭তম সম্মেলন)

২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর, বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ-২৫ লক্ষ হেক্টর বা ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার(প্রায়)।

১৯৪৭ সালে ঢাকা শহরে যন্ত্রচালিত গাড়ির সংখ্যা ছিল-২৮৪টি। পাকিস্তানের ২৪ বছরে যন্ত্রচালিত গাড়ির সংখ্যা ছিল-৩৮(আটএিশ) হাজার; বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত গত ১৫ বছরে যন্ত্রচালিত গাড়ির সংখ্যা ঢাকা শহরে-১(এক) লক্ষ; ২০০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর, পর্যন্ত ঢাকা শহরে যন্ত্রচালিত গাড়ির সংখ্যা ৩(তিন) লক্ষ)। ২০০৪ সালে ঢাকা শহরে যন্তচালিত গাড়ির সংখ্যা ৪(চার) লক্ষ। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এক হিসাবে ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দুইলাখ ১৬ হাজার। (৩০-০৪-২০১০) ঢাকায় নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এসব গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার প্রায় তিন লাখের ওপর। অন্য যেসব যান নিবন্ধন নিয়েছে সেগুলো হচ্ছে-বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকসা, ট্যাক্সিক্যাব, হিউম্যান হলার। এছাড়া মাইক্রোবাসেরও একটি বড় অংশ বাণিজ্যিক যান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সারা বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের হিসেব অনুসারে সাড়ে ১২ লাখ গাড়ী আছে। ৩১-১২-২০০৯ তারিখের সমকাল পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত যানবাহন: (১) প্রাইভেটকার-২,১৬,০০০টি। (২) মাইক্রোবাস-৫৮,৬০৯টি। (৩) ট্যাকসিক্যাব-১০,৬৮২টি। (৪) বাস-৮,২১০টি। (৫) মিনিবাস-৮,৩১৭টি। (৬) ট্রাক-৩০,০১৫টি। (৭) (৫) অটোরিকসা ও অটোটেমপু-১৪,৮২০টি ও (১০) মোটর সাইকেল-২,১৯,৪৪৩টি। + মোট=৫,২৭,০০০টি যানবাহন আছে। ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর, প্রথম আলো: বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণাকেন্দ্রের তথ্য। সারা দেশে যানবাহনের সংখ্যা সাড়ে ১৩ লাখ। এসব গাড়ির জন্য লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা সাড়ে নয় লাখ। সাড়ে চার লাখ অদক্ষ-অপ্রশিক্ষিত চালকের কারনেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

১৯৬১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তন সরকারের ৭-নম্বর অধ্যাদেশ বলে 'পূর্ব-পাকিস্তান রোড ট্রান্সপোর্ট কপোের্রশন ইপিআরটিসি' গঠিত হয়েছিল। ঐ বছরই ৮ মার্চ, মতিঝিল বাস ডিপো হতে মাত্র ৪টি বাস নিয়ে তৎকালীন ইপিআরটিসি যাত্রা শুরু করে। ১৯৭১ সালে-এর বহরে ৬৩টি ট্রাক যুক্ত হয়। ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, বিআরটিসির গাড়ীর সংখ্যা ৭৯৭টি। এরমধ্যে চলমান একতলা বাস ৪৫৪টি, দ্বিতল বাস ১৭৭টি। অত্যাধুনিক ভলভো দ্বিতল বাস আছে ৫০টি। খুব শিগগিরই ৩০টি সিএনজি ও ২১টি নন-সিএনজি বাস চলাচলের জন্য বহরে যুক্ত হবে। বিআরটিসি'র বাসের সংখ্যা হবে-৮৪১টি এবং ট্রাকেরসংখ্যা হবে-১,০১৫টি। আরো ৯৫টি দ্বিতল বাস খুব শিগগিরই বিআরটিসির বহরে যুক্ত হবে। এছাড়াও ৫০০টি সিএনজি বাস, ০০টি দ্বিতল বাস ও ৫০০টি ট্রাক সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে।

২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ইত্তেফাক পত্রিকার সংবাদ অনুসারে: বাংলাদেশে নৌযানের সংখ্যা ১.১৬(এক লক্ষ ষোল হাজার)। আর ১৯৮৩ সালে নৌযানের সংখ্যা ছিল ১,২০০(এক হাজার দুইশত)। নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন কাজে জনবলের অভাব।

২০০৪ সালের ১০ মার্চ, ইনকিলাব পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে: ঢাকায় ৪শ' যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ মাত্র ১(এক) জন। সোয়া কোটি জনঅধ্যুষিত রাজধানী নগরী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে মাত্র ২,৫০০(দুই হাজার পাঁচশত) ট্রাফিক পুলিশ। অর্থাৎ প্রতি ৫(পাঁচ) হাজার নাগরিকের জন্য মাত্র ১(এক) জন ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। ট্রাফিক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ঢাকার রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ১০-লক্ষাধিক বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, বেবী টেক্সি, ভ্যান, মোটর সাইকেল, সাইকেল ও রিকসাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে। সেই হিসাবে গড়ে ৪শ'টি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ১(এক) জন করে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে।

২০০৯ সালের ৩১ আগষ্ট, প্রথম আলো: ঢাকার রাস্তা থেকে ৭০ হাজার যানবাহন তুলে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত-২০ বছরের পুরোনো বাস-সিনিবাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলবে না। মেয়াদ থাকলেও লক্কড়ঝক্কড় ট্যাক্সিক্যাব তুলে নেওয়া হবে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০০৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা উত্তর (মিরপুর) ও ঢাকা দক্ষিণ (উকুরিয়া) বিআরটিএর কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নেওয়া গাড়ির সংখ্যা চার লাখ ৪৯ হাজার ৪৮২টি। প্রতিবছর গড়ে আরও প্রায় ৪৫ হাজার যানবাহন নিবন্ধন পাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকায় নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এসব গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার প্রায় তিন লাখের ওপর। অন্য যেসব যান নিবন্ধন নিয়েছে সেগুলো হচ্ছে-বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকসা, ট্যাক্সিক্যাব, হিউম্যান হলার। এছাড়া মাইক্রোবাসেরও একটি বড় অংশ বাণিজ্যিক যান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২০১১ সালের ২৩ মার্চ, প্রথম আলো: ঢাকায় রাস্তার তুলনায় দুই লাখ ৮৪ হাজার বেশি যান চলছে। এ শহরে প্রতিদিন গড়ে ২৩০টি গাড়ি রাস্তায় নামছে। ঢাকা শহরের মোট আয়তন ৮১৫ দশমিক ৮৫ বর্গিকলোমিটার। আন্তর্জািতক মানদন্ড অনুযায়ী ২০৪ কিলোমিটার রাস্তার প্রয়োজন হলেও ঢাকা শহরে প্রধান রাস্তার পরিমাণ ৮৮ কিলোমিটার। সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, বর্তমানে ৮৮ কিলোমিটার রাস্তায় প্রায় পাঁচ লাখ যানবাহন চলাচল করছে। আন্তর্জািতক মানদন্ড অনুযায়ী, ঢাকার প্রধান রাস্তাগুলোতে দুই লাখ ১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারে।

২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর, পর্যন্ত হিসেব (ইন্টারনেট): সূত্র-বি.আর.টি.এর রেকর্ডে ইঞ্জিচালিত মোটনযানের সংখ্যা-২২,০৭৬০৮টি। এরমধ্যে (১) হেভী মোটনযান(বাস, ট্রাক ও লরীর) সংখ্যা-৮,০১,৩৭৮টি (২) লাইট হেভীযানের (কাভার্ড ভ্যান ও তিন টন পিকআপ) সংখ্যা-৩,৯৬,৬৭০টি (৩) মিডিয়াম লাইট যানের (প্রাইভেটকার, জীপ ও পাজেরু) সংখ্যা-৯,১৬,৭৬০টি (৪) মোটরযান, সিএনজি (থ্রী হুইলার) সংখ্যা-২৩,৪৫২টি ও (৫) মোটর সাইকেল (টু হুইলার) সংখ্যা-৬৯,৩৪৮টি। নিবন্ধন বাতিল-১৮,৬০১টি। (১) ১৮,৫০০ হাজার স্বালোইঞ্জিলচালিত নৌকা আছে (২) ৩৮,০০০ হাজার স্ব্যালোইঞ্জিচালিত পাম্প আছে।

২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি, প্রথম আলোঃ বিআরটিএর হিসাব-দেশে বাণিজ্যিক যানের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ। এর এক লাখ অনুপযুক্ত। মোট বাণিজ্যিক যানের ১৮% অনুপযুক্ত। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন-১০টি স্থানে উপস্থিত থেকে যানবাহন পরীক্ষা করেছি। এর মধ্যে ৮০% অনুপযুক্ত ও কাগজপত্র ভুয়া।

২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: সারাদেশে ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এসব মহাসড়কে ২শটির অধিক দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে। সারাদেশের সড়ক মহাসড়কগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ রেজিস্ট্রেশনকৃত যানবাহন চলাচল করে। যদিও বেসরকারী হিসেবে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। সারাদেশে ৮০ হাজারের ওপর ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করে। পনের লাখ বৈধ যানের ৯ লাখ চালক বৈধ। বাকি অবৈধ। গতিসীমা অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। লক্ষ: সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস।

২০১২ সালের ১ আগস্ট, প্রথম আলো: ১ কোটি ২৫ লাখ জনসংখ্যার ঢাকা শহরে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাস-মিনিবাস, ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকসা ও ২ হাজার হিউম্যান হলার। বাস-মিনিবাসের ৮০% লক্কড়-ঝক্কড় ও চলাচলের অনুপযোগী। ৩,৩৫৮: জনশক্তির ট্রাফিক বিভাগকে সামলাতে হয় ২ হাজার ২৭৪ কিলোমিটার সড়ক। এসব সড়কে ৬৫০ ক্রসিং থাকলেও সংকেতবাতি রয়েছে মাত্র ৭০টি। ৩০% রাস্তা অব্যবহৃত থাকে যত্রতত্র গাড়ি রাখার কারণে। ফুটপাত উদ্ধারেও কোনো ব্যবস্থা নেই। যানজটে ক্ষতি: ২০ হাজার ৮০ কোটি টাকা বছরে ক্ষতি হচ্ছে। অতিরিক্ত জ্বালানির খরচ ৫৭৫ কোটি, সময় অপচয়ের কারণে ১২,৫৭৫ কোটি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ২৯৩০ কোটি এবং দেরিতে পণ্য পরিবহনে ক্ষতি আরও ২০০০ কোটি টাকা। গণপরিবহনে গণনৈরাজ্য।

২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: রাজনীতিকেরাই নিয়ন্ত্রক-রাজধানীর গণপরিবহনঃ ৪২% মানুষ যাতায়াতের জন্য যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে। যান্ত্রিক যানের মধ্যে বাস ও অটোরিকশার ব্যবহার-৮৭%। ব্যক্তিগত গাড়ি বা কারে যাতায়াত হয়-৫%। একটি কারে গড়ে ২.২ জন যাত্রী চড়ে। বাসে গড়ে ৪৪ জন। অথচ দুটি কার একটি বাসের সমান জায়গা দখল করে। আর ৫৮% মানুষ হেঁটে বা রিকশায় চলাচল করে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, (১৯-০২-২০১৪ তারিখ) ঢাকায় চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪০৭টি।

২০১৪ সালের ১২ মার্চ, দৈনিক জনকন্ঠ: সড়ক তৈরিতে আসছে পরিবর্তন-১(এক) লাখ কিলোমিটারের বেশি সড়ক কংক্রিটের ব্যবহারের আওতায় আনতে হবে: (১) মোট সড়ক: সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে-বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক আছে: (১) তিন হাজার ৫৪৪ কিলোমিটার। (২) আঞ্চলিক মহাসড়ক চার হাজার ২৭৮ কিলোমিটার ও জেলা সড়ক রয়েছে ১৩ হাজার ৬৫৯ দশমিক ১৩ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সড়ক ও জনপথের রাস্তার পরিমাণ ২১ হাজার ৪৮১ কিলোমিটার। (৩) ব্রিজের সংখ্যা-৭ হাজার ৭৪১টি (৪) কালবার্ট-এর সংখ্যা-১৩ হাজার ৭৫১টি। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এলজিইডি সূত্র জানায়, বর্তমানে সারাদেশে এলজিইডির ৮০ হাজার ১১৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত-পরিবহনের সংখ্যা-১৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮০২টি। এরমধ্যে অটোরিকসার সংখ্যা-এক লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৫টি, অটোটেম্পুর সংখ্যা-১৫ হাজার ৪৭২টি, বাস-৩২ হাজার ১৪৭টি, কার্গো-ভেন-৫ হাজার ১২২টি, কাভার্ড ভেন-১১ হাজার ৯৬০টি, হিউমেন হলার-আট হাজার ৭৮১টি, মাইক্রোবাস-৭৬ হাজার ২৬৬টি, মিনিবাস-২৬ হাজার ৩২৯টি, মোটর সাইকেল-১০ লাখ ৭০ হাজার ২২৫টি, প্রাইভেট পেসেঞ্জার কার-দুই লাখ ২৩ হাজার ৩৬৯টি, পেসেঞ্জার ভেহিকেল-সাত হাজার ২৪৫টি, টেক্সিক্যাব-৪৪ হাজার ৬৮৫টি, ট্রাক্টর-৩১ হাজার ২৩৩টি ও ট্রাকের সংখ্যা-এক লাখের বেশি। এ ছাড়াও অন্য যান্ত্রিক পরিবহনের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এক সিএফটি পাথরের দাম-১৪০/- টাকা থেকে ১৫০/- টাকা আর এক সিএফটি ইটের খোয়ার বাজার মূল্য ৮০/- টাকা। বাংলাদেশে-১,০০০(এক হাজার) মানুষের জন্য ১.৬ কিলোমিটার সড়ক আছে, ভারতের-১,০০০(এক হাজার) মানুষের জন্য ৩.৬ কিলোমিটার সড়ক আছে এবং ভূটানে-১,০০০(এক হাজার) মানুষের জন্য ৯.৭ কিলোমিটার সড়ক আছে।