২৫০০ খৃষ্টপূর্বে জয়পুরহাট জেলার মহাস্থান গড়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বসতি গড়ে উঠেছিল।

১৫০০ খৃষ্টপূর্ব কুমিল্লার লালমাই পাহাড় থেকে প্রত্নতাত্তিকের আবিস্কৃত প্রাগৈতিহাসিক মানুষের ব্যবহার করা হাতকুঠার, ছুরি, ছাঁচুনী, বাটালী প্রভৃতি প্রমাণ করে যে, এ অঞ্চলে মানুষের আগমন ঘটেছিল।

১২০০ খৃষ্টপূর্ব মহাস্থানগড়ে ফটক পাওয়া গেছে। মানে ১২০০ খৃষ্টপূর্ব আগে মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে (১০-০২-২০১০ তারিখ প্রথম আলো)। প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন, ২০০৯ সালে এ মহাস্থানগড় খননে যে বৌদ্ধমন্দিরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল তার সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে।

৬৪৮ সালে বা ৬৯ হিজরী সনে লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস গ্রামে সাড়ে তেরো শ বছর আগের মসজিদ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ভুখন্ডের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে যে প্রাচীন সভ্যতা খ্রিষ্টপূর্ব সময় থেকে গড়ে উঠেছিল, তার সঙ্গে প্রাচীন রোমান ও আরব-সভ্যতার সম্পর্কেক ইতিহাসের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই দেখেন টিম স্টিল। টিম স্টিল ওয়েলসের অধিবাসী। বাংলাদেশ টাইগার ট্যুরিজম নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনাচক্রে তিনি লালমনিরহাটের ৬৯ হিজরি সনের হারানো মসজিদ আবিস্কারের সঙ্গে জড়িয়ে যান। নানা বইপত্র ঘেঁটে, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি নিশ্চিত হন মসজিদটি ৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দের বা ৬৯ হিজরি সনে। বাংলাদেশের ওই হারানো মসজিদের ওপর আরও গবেষণা হওয়া উচিত এই আকুতি রেখে টিম স্টিল বলেন, ওই মসজিদ নির্মােণর ইতিহাস খুঁজে পেলে হয়তো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্ব সভ্যতার সম্পর্কের আরেক ইতিহাস জানার পথ খুলে যাবে। রোমান, চৈনিক, আরব আর বাংলা-এই চার অঞ্চলের প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্ক জানা গেলে হয়তো পৃথিবীর ইতিহাস অন্যভাবে লিখতে হবে। টিম স্টিলের গবেষণায় প্রতীয়মান হচ্ছে, এটি এক হাজার তিন শ চৌষট্টি বছর আগের মসজিদ। যার সূত্র ধরে পাল্টে যাবে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের আগমণের ইতিহাস। ইটের গায়ে লেখা আরবিতে হিজরি সন উল্লেখিত শিলালিপি। (১৯-১১-২০১২ তারিখ)। এ আবিস্কার সঠিক কিনা বলা যাবেনা এখনও।

১০৪০ সালের সেই দিন থেকে হিমালয়ের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক। পন্ডিত শান্তিরক্ষিতের বোন মন্দরবা তাঁর স্বামী পদ্মসম্ভবার সঙ্গে তিব্বতের সাইথউলে গিয়ে হিমালয় গমনকারী প্রথম নারীতে পরিণত হন। আধুনিক সময়ে ১৮৫০ সাল থেকে বাঙালিদের হিমালয়ে যাওয়া শুরু। ১৮৫২ সালের একদিন ৩৯ বছর বয়সী বাঙালি জরিপকর্মী রাধানাথ সিকদার আবিস্কার করলেন ম্যাপে 'পিক-১৫' নামে পরিচিত পর্বত চুড়াটিই পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ। ১৮৫৬ সালে এর নামকরণ করা হয় মাইন্ট এভারেষ্ট। ১৯০৪ সালে এভারেষ্ট অঞ্চলে অভিযাত্রীদের আগমন ঘটে। ১৯১৩ সালে ক্যাপ্টেন নোয়েল এভারেষ্টে অভিযান চালানোর ব্যাপারে রয়েল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটিতে প্রতিবেদন জমা দেন। ১৯২১ সালে শুরু হয় অভিযান। চূড়ান্ত সাফল্য আসে ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকালে।

১২৮২ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ-দীন ঢাকার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাংলার রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন।

১৩০৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর, হযরত শাহ জালাল(রহ.) ছিলেন ইয়েমেনী। তাঁর সিলেট আগমনের সাতশ' বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৭-১২-২০০৩ তারিখ থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচী: হযরত শাহ জালাল(রহ.) সুরমা নদীর যে ঘাট দিয়ে সিলেট শহরে প্রবেশ করেছিলেন সেই ঐতিহ্যবাহী স্থান শেখঘাট মসজিদ থেকে দরগাহ পর্যন্ত শোভাযাত্রা হয়। হযরত শাহ জালাল (রহ.) মাত্র ৩২ বছর বয়সে ৩৬০(তিনশত ষাট) জন সঙ্গী নিয়ে সিলেটে আগমন করেন। কিন্তু ১৩৩৩ সালে ৬২ বছর বয়সে মারা গেছেন।

১৩০৫ সালের দিকে তৈরী হয় কুমিল্লার মাঝিগাছায় নন্দীর মসজিদটি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ মসজিদটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

১৩৩৮-১৩৪৯ সালে সোনারগাঁয়ের স্বাধীন সুলতান ফকরুদ্দীন মোবারক শাহের রাজত্বকালে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্য দৃঢ় হয়েছিল।

১৪৭৯ সালে শিবগঞ্জ, রাজশাহীর দরসবাড়ী মসজিদটি নির্মিত হয় ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের শাসন আমলে।

১৪৮০ সালে রাজশাহী জেলার তাহিরপুরের রাজা কংশ নারায়ন রায় ৯(নয়) লক্ষ টাকা ব্যয় করে একটি মন্দির তৈরী করেন। এ মন্দির ১৯৭৮ সাল থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় আছে।

১৪৮৩ সালে মালিক কাফুর নির্মিত বাবা আদম শহীদের মসজিদ নির্মিত হয়। এ মসজিদ মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রথম মসজিদ। মালিক কাফুর ছিলেন ঐ সময়ে এ এলাকার শাসনকর্তা।

১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ সালের মধ্যে ণির্মিত হয় দিনাজপুর ঘোড়াঘাট ঐতিহ্যবাহী সুরা মসজিদ। অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে এ মসজিদের অস্তিত্ব।

১৪৯৩ সাল থেকে ১৫৩৯ সাল পর্যন্ত আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নান্দাইলের মোয়াজ্জমপুর মসজিদটি নির্মিত।

১৫১৪-১৬০৫ সালের মধ্যে পাবনার জোড়বাংলো নির্মাণ করা হয়।

১৫১২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৫শ' বছরের মং রাজ পরিবারের ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে।

১৫১৭ সালে পর্তুগীজরা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলারোপা-বান্দুরাতে প্রথম বসতি স্থাপন করে।

১৫২৩ সালে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বাঘা মসজিদটি গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরৎশাহ নির্মাণ করেন।

১৫২৬ সালে সুলতান হোসেন শাহের পুত্র নুশরাত শাহ র্কতৃক বৃহত্তর রাজশাহীতে বড় সোনা মসজিদ তৈরী করে।

১৫৫৫ সালে প্রাচীন বাংলার মসনদে আলা ঈসা খাঁর রাজধানীর খোঁজে যেতে হয় সোনারগাঁয়ে।

।বাংলার বার ভূঁইয়াদের নাম দেয়া হলো:।

ক্রমিকবারভূূঁইয়াঅঞ্চল
মসনদ-ই-আলী ঈশা খাঁ, জুমা খাঁ (ঈশা খাঁর ভাই), মুসা খাঁ (ঈশা খাঁরখিজির, ঢাকা
পুত্র)
মহারাজা প্রতাপাদিত্যখুলনা-যশোর
ফজল গাজী, বাহাদুর গাজী, আনোয়ার গাজীভাওয়াল-গাজীপুর
কন্দপ নারায়ণ রায়, রামচন্দ্র রায়চন্দ্র দ্বীপ বাকেরগঞ্জ
লক্ষণ মাণিক্য, অনন্ত মাণিক্যভুলুয়া, নোয়াখালী
চাঁদগাজী, জুনাগাজীমানিকগঞ্জ
চাঁদ রায় ও কেদার রায়বিক্রমপুর, মুন্সিগঞ্জ
হামিদুর রহমানবাকুঁরা
পীতাম্বর রায়, রামচন্দ্র রায়পুটিয়া, রাজশাহী
গনেশ রায়, প্রমথ রায়দিনাজপুর
মুকুন্দ রাম, রঘুনাথভুষার, ফরিদপুর
কংস নারায়ণতাহিরপুর, নাটোর

১৫৫৫ সালে শেরপুরে প্রায় ৪৫০ বছর আগে নবাব মীর্জা মুরাদ খানের সহযোগিতায় খেরুয়া মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ তথ্য মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়। এছাড়া বগুরা জেলার শেরপুর উপজেলা ইতিহাসে আরো একটি কারণে বিশেষ স্থান লাভ করে আছে। তাহলেও এ ছোট্ট শহরে ৩৬০ জন ওলী আওলিয়ার আগমন ঘটেছিল। ১৫৯৫ সালে রচিত আইন এ আকবরীতে এ স্থানের উল্লেখ আছে। আকবরনামাতে বহুবার 'শেরপুর মুচ্র্ছা' নামে এ স্থানের উল্লেখ আছে।

১৫৬৯ সালে রিকাবী বাজারের টেঙ্গর শাহী মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ মসজিদটি মুন্সীগঞ্জ জেলার দ্বিতীয় মসজিদ।

১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই, হোসেন কুলি খান বাংলার শাসক নিযুক্ত হন।

১৫৮০ সালে (বা ৯৮৬ হিজরী সনে) মাছুম খাঁন কাবুলী পবিত্র কদমরসুল স্থাপন করলেও বহু শত বছর পূর্বে-এর সংগ্রাহক হাজী নূর মোহাম্মদ নামক এক তাপস ও সাধক পুরুষ পবিত্র পদচিহ্ন একজন আরবদেশীয় বণিকের কাছ থেকে কয়েক হাজার স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে লাভ করে নিয়ে আসেন এ গ্রামে। শীতলক্ষা নদীর পূর্ব তীরে বন্দর থানার নবীগঞ্জ এলাকায় পবিত্র কদমরসূল দরগাহ'র অবস্থান।

১৫৮২ সালে (হিজরী-৯৮৯) কোন এক সোমবার দিন শেরপুরের ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।

১৫৮৪ সালে বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে হারিকেনের রুদ্র তান্ডবে ঝরে যায় প্রায় ২ লাখ তাজা প্রাণ। এরমধ্যে মানুষ, গবাদিপশু এবং অন্যান্য সব রকমের প্রাণী। এ ঝড়ের কথা আইন-ই-আকবরী ও রিয়াজ-উস-সালাতিনে পাওয়া যায় এ ঝড়টি খুলনা-বরিশাল উপকুলে প্রলঙ্করী ধবংশলীলা ঘটিয়েছিল। ১৭৯৭ সালে ঘুর্ণিঝড় চট্টগ্রাম অঞ্চলে সবকিছু মিশিয়ে দিয়ে যায় মাটির সাথে। চট্টগ্রাম বন্দরে ২টি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। ১৮২২ সালের মে মাসে বরিশাল, হাতিয়া ও নোয়াখালী জেলার ওপর বয়ে গেল ভয়ঙ্কর এক ঘুর্ণিঝড়। কালেক্টরেট রের্কড থেকে জানা যায়, ৪০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ১ লাখ গবাদিপশু স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। ১৮৭৬ সালের সেই ঝড়ে ২ লাখ মানুষের জীবনদীপ নিভে যায়। ১৯৫০ সালে আবার দেখা মেলে ২০ ফুট জলোচ্ছ্বাসের। আঘাতস্থল চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী, প্রাণহানি ১০ হাজার। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান ঘুর্ণিঝড়ে ২ বার লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় উপকলীয় এলাকা। কেড়ে নেয় ১৯,২৭৯টি তাজা প্রাণ। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর, স্মরণকালের বৃহত্তম ঘুর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছিল ১০ লাখ লোক বা তারও বেশী মানুষের জীবন। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২২২ কিলোমিটার। ১৯৮৫ সালে ঘুর্ণিঝড়ে কেড়ে নিয়েছিল ১১,০৫৯ জন। ১৯৮৮ সালের ঘুর্ণিঝড়ে কেড়ে নিয়েছিল ৫,৭০৮ জন। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথমবারের মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার অব্যাবহিত পরই ২৯ এপ্রিল রাতে ভয়াল ঘুর্ণিঝড় গোটা দক্ষিণাঞ্চল লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায়। দেড় লাখ মানুষের প্রাণ জীবনপ্রদীপ নিভে যায় এক ফুৎকারে। তারপর ১৯৯৪, ১৯৯৫, ১৯৯৭, ১৯৯৮ এরপর এবার ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর, ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলীয় জেলাগুলো। এত অনেক মানুষের মৃত্যু হয় এবং বাড়ি-ঘর, জমির ফসল, গবাদিপশু ও চাষের মাছ-এর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ২২ লাখ মানুষকে টানা তিন মান ত্রাণ তৎপরতা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ। গত চারশ' বছরে ছোট বড় ৫০টির বেশী ঘুর্ণিঝড় হয়েছে।

১৯৮৫ সালের ১৮ জুনের, তথ্যমতে গত ২০০(দুইশত) বছরে (১৭৮৫ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত) বাংলাদেশে ৬৭ বার ঝড় ও জলোচ্ছাস হয়েছে।

।সাইক্লোন, হারিকেন, টাইফুন বাংলাদেশে কখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মারা গেছে তার বর্ণনা:।

সনলোকসংখ্যা
১৮৭৬২,০০,০০০
১৮৮২৪০,০০০
১৮৯৭১,৭৫,০০০
১৯৬০৫,১৯৬
১৯৬১১১,৪৬৮
১৯৬৩১১,৫২০
১৯৬৫১৯,২৭৯
১৯৭০২০,০০,০০০(১২ নভেম্বর)

।১৯৫৪ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে প্রলংকারী বন্যাসহ বিগত ৫০ বছরে ছোটবড় মিলে ২৯টি বন্যা বাংলাদেশে আঘাত।

।হেনেছে:।

।এরমধ্যে ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৮, ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৮০, ১৯৮৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮,১৯৯৮ এবং চলতি ২০০৪ সালের।

বন্যা এ তেরটি বন্যা প্রলয়ংকরী
এসব বন্যার মধ্যে ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৮৮, ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালের বন্যাকে মহাপস্নাবন আখ্যা দেয়া হয়েছে

।১৯৮৮ সালের মহাপস্নাবনের ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির যে মহাপ্রলয় ঘটেছিল সেটাকে ইতিহাসবিদ এবং ধর্মেবত্তারা হযরত।

নুহ(আ.)-এর মহাপ্লাবনের সাথে তুলনা করেছেন
তারপর ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালের মহাপস্নাবনএসব বন্যাকে এখন তুলনা করা হচ্ছে স্মরণকালের পৃথিবীতে কয়েকটি
ভয়াবহ বন্যার সাথেএগুলোর মধ্যে রয়েছে 'মিসরের দুঃখ' বলে পরিচিতি নীলনদের ওপর আসোয়ান বাঁধ নির্মােণর
আগের বন্যা১৬৫৮ এবং ১৯১০ সালে প্যারিসের মহাপস্নাবন, ১৮৬১ এবং ১৯৬১-তে ওয়ারসোর মহাপস্নাবন, ১৫৩০ এবং

।১৫৫৭ সালের রোমের মহাপস্নাবন, ১৭৮৮ সালে পর্তুগালের লিসবনের মহাপস্নাবন এবং ১৯২৪ সালে হাওয়াই-এর।

মহাপস্নাবন

।২০০৪ সালের ২৪ জুলাই, শনিবার রাত পর্যন্ত যেভাবে পানি বেড়েছে, যদি পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা অব্যাহত থাকে,।

।তাহলে ১৯৮৮, ১৯৯৮ এবং চলতি ২০০৪ সালের বন্যাকে গণচীনের 'হোয়াংহো নদীর বন্যা' রুপে আখ্যায়িত করা।

যাবে
এমন একটি পরিস্থিতিতে পথ রয়েছে ৪টিএগুলো হল: (১) বাহাদুরাবাদে ব্রহ্মপুত্র বাঁধ(২) হার্ডিজ ব্রিজে গঙ্গা
বাঁধ(৩) ভৈরব বাজারে মেঘনা বাঁধ ও (৪) নেপালে ৭টি জলাধারএগুলোর মধ্যে নেপালে জলাধার নির্মােণর
প্রস্তাব ভারত নাচক করে দিয়েছেফলে অবশিষ্ট রইল ৩টি বাঁধ নির্মাণ
অব্যাহত ভাঙ্গনে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত মারাত্মকভাবে বিপন্ন

১৯৬৩ সালের ২৯ মে, ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের উপকুলীয় এলাকায় ২২ সহস্রাধিক লোক মারা যায়।

১৯৬৫ সালের ১২ মে, বাংলাদেশে ঘুর্ণিঝড়ে ১৭ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৬৫ সালের ২ জুন, বাংলাদেশে ঘুর্ণিঝড়ে ৩০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর, দেশে ১৩৭ মাইল বেগে সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচছাস হয়েছিল। তাতে ১০ লক্ষাধিক লোক মারা গিয়েছিল।

১৯৮৮ সালের ৫ আগষ্টের সংবাদ: বাংলাদেশে বছরে নদীভাঙ্গনে প্রতিবছর ১০ লক্ষ লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

১৯৮৮ সালের ২১ নভেম্বর (রয়টার): সিডনীর ভাষ্যানুযায়ী-বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শতকরা ২৭ ভাগ এলাকা পানির নীচে তলিয়ে যাবে।

১৯৮৮ সালের ২১ নভেম্বর (রয়টার): সিডনী'র ভাষ্যানুযায়ী-২০৩০ সালের মধ্যে প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের ছোট দ্বীপগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর, এ দিনে প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় ও তীব্র জলোচ্ছাসে বিধ্বস্থ হয়েছিল দক্ষিণের জনপদ এবং দক্ষিণাঞ্চালের কয়েক লাখ মানুষের দুঃসহ স্মৃতি আর দুঃস্বপ্নের দিন।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), দিন সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ও সর্বনাশা গোর্কির ছোবলে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও ভোলার সমুদ্র উপকুল, চর ও দ্বীপাঞ্চলে জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। প্রায় ২ লাখ নর-নারী-শিশু-বৃদ্ধ উপকুলবাসী অসহায়ভাবে মারা যায়। রাত ১১টা থেকে ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঝড় বইতে থাকে।

১৯৯৬ সালের ১৩ নভেম্বরের হিসেব-১৫৮৪ সাল হ'তে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ভোলা জেলায় ঝড় ও জলোচ্ছাসে প্রায় ৬(ছয়) লক্ষ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।

১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বরের তথ্য-ষ্টিয়ারিং কমিটির অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠক: প্রায় ২,৫০০(দুই হাজার পাঁচশত) কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা সমন্বিত বণ্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মােণর কাজ চল্‌তি মওসুমে শুরু হবে। এ কাজ ০১-১১-২০০৮ সালেও হয়নি। এ কাজ ১১-১০-২০১১ সালেও শুরু হয়নি।

১৯৯৮ সালের ১৭ নভেম্বর, ইউ.এন.ডি.পি.'র মূল্যায়ন-বণ্যায় ক্ষতির পরিমাণ ১০(দশ) হাজার কোটি টাকা;প্রাপ্ত সাহায্য পাওয়ার পরও ঘাটতির পরিমাণ ২(দুই) হাজার কোটি টাকা।

২০০০ সালের হিসেবমতে-বাংলাদেশে ২৩০টি নদী ও ১৩ লক্ষ ১ হাজার পুকুর আছে।

২৮-১০-২০০২ তারিখে ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট: বাংলাদেশে বর্তমানে ২৪(চব্বিশ) হাজার কিলোমিটার নদী পথ আছে, এরমধ্যে ৬(ছয়) হাজার কিলোমিটার নদী পথ ব্যবহার হয়।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল, প্রলয়ঙ্কুরী ঘুর্নিঝড় ও জলোচ্ছাসে দেশের দক্ষিণের অনেক লোক মারা গেছেন।

২০০১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট: নদীভাঙ্গনে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১০ লক্ষ লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ২০০৩ সালের রির্পোটঃ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১(এক) কোটি লোক নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

২০০৩ সালের ৯ মার্চের খবর: বাংলাদেশে ২৩০টি নদী আছে। এরমধ্যে ৮০টি নদীর মরণদশা, কারণ নদীর পলি খননের পরিকল্পনা বারবার ফাইলবন্দী হচ্ছে। (১) রাজশাহী বিভাগে-৩০টি নদী, (২) খুলনা বিভাগে-২০টি নদী, (৩) ঢাকা বিভাগে-২০টি নদী এবং (৪) সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে-১০টি নদী, মোট ৮০টি নদ-নদীর মৃত্যু দশায় পড়ে বিলুপ্ত হতে চলেছে। বাংলাদেশের ২৩০টি নদীর সাথে ৫৭টি আন্তর্জািতক নদী মিলেছে।

২০০৪ সালের ৩০ জুলাই, স্টাফ রিপোর্টার: খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেছেন, বাংলাদেশের বন্যায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।