২০০০ খৃষ্টপূর্বে জুডাইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ১৫০০ খৃষ্টপূর্বে হিন্দুইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ৫২৫ খৃষ্টপূর্বে বুদ্ধইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ ডিসেম্বর, যীশু খৃষ্ট্রের জন্ম, মৃত্যু-৩১ খ্রিষ্টাব্দে। ৬১০ খৃষ্টাব্দে মুহাম্মদ(স.) মুসলিম ধর্মের ভিত্তিস্থাপন করেন। ১৫০০ শতকে গুরু নানক দেব জি, সিকিইজমের ভিত্তিস্থাপন করেন। মিড ১৯ শতকে মির্জা হুসাইন আলী নুরী, বাহা ধর্মের প্রবর্তক। ১৭০০ খ্রিষ্টপূর্ব বিশ্বের প্রথম বর্ণমালা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং সিনাই অঞ্চলের সেমাইট আদিবাসীরা সর্বপ্রথম বর্ণমালার একটি অখন্ড রূপ দেয়। এতে ছিল মোট ৩০টি বর্ণ। মিসরের খনি অঞ্চলে ব্যবহৃত হিরেটিক লিপি থেকে নেওয়া হয়েছিল এ বর্ণমালার অক্ষরগুলো। মজার ব্যাপার এতে কোনো স্বরবর্ণ ছিল না। পাঠক পড়ার সময় নিজেই সুবিধামতো স্বরবর্ণ যোগ করে নিত। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম-'বলত' শব্দটিতে স্বরবর্ণ যোগে তাঁদের পড়তে হতো 'বালতি'। খ্রিষ্টপূর্ব চৌদ্ধ শতকে বিশ্বের প্রথম কফি ওষুধ হিসেবে কফি ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইয়েমেনবাসী কফিকে কোমল পানীয় হিসেবে পছন্দ করতে শুরু করেন। কফি ফল অনেকটা শিমের মতো। প্রথমদিকে, কফি ফলের খোসা ছাড়িয়ে গরম জলে মিশিয়ে কফি তৈরি করা হতো। পরবর্তী সময়ে পনেরো শতকে কফি ফল তাপে ঝলসিয়ে গরম জলে মিশিয়ে পান করার রীতি চালু হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রচলিত কফি প্রথম তৈরি হয় সিরিয়াতে।

বিশ্বের প্রথম চশমা খ্রিষ্টপূর্ব ১২৮০ সালে ইতালিতে সর্বপ্রথম চশমা আবিস্কৃত হয়। ওই চশমাটি ছিল উত্তল লেন্সের এবং তা দূরের জিনিস দেখতে সাহায্য করত। ফ্লোরেন্সের অ্যালমানডো ডেলা স্পিনাকে এর উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও কোনো অপেশাদার ব্যক্তি সেটি তৈরি করেছিলেন-এমন ভিন্ন মতও প্রচলিত রয়েছে। ১৪০০ খৃষ্টপূর্বের আগে পৃথিবীর কোনো অংশেই ব্যাপকভাবে লোহার ব্যবহার শুরু হয়নি। প্রাচীন মিশরে খৃষ্টপূর্ব ১০৫০ অব্দে বেনি হাসানে ১৭নং সমাধিতে একটি ভাস্কর্যে স্টিক হাতে দু'জন খেলোয়াড়ের দাঁড়ানো অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। হকি খেলার ইতিহাস খুব প্রাচীন। খৃষ্টপূর্ব ১০০০ হাজার বছরের আগে এমন কোনো স্পস্ট সাক্ষ্য নেই যা দেখে ঘোড়সওয়ার মানুষের কথা ভাবা যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ সালে বিশ্বের প্রথম চিনি উত্তর ভারতে আখের ব্যাপক প্রচলন ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই সময়ে আখ-নিস্কাশিত নানা ধরনের মিষ্টিজাত দ্রব্য খুবই জনপ্রিয় ছিল। তখনকার অধিবাসীরা ঘরোয়া পরিবেশে আখ থেকে গুড় তৈরি করতেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আখ থেকে গুড়ের পাশাপাশি চিনিও তৈরি করেন। তবে বর্তমান সময়ে প্রচলিত দানাদার চিনি যান্ত্রিক সভ্যতার বিকাশের ফল। বিশ্বের প্রথম ক্যালেন্ডার রোমান সম্রাট রোমূলাস খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে ৩৬০ দিনে এক বছর ধরে ১০ মাসের বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার চালূ করেন। পরে রাজা নুমা পমপিলিয়াস খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নামে দুটি মাস ক্যালেন্ডারের শুরুতে সংযোজন করেন। শাসক অগাষ্টাস ও জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর সেকটিলিস ও কুইনটিলিস মাসের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে আগষ্ট ও জুলাই করা হয়। বর্তমান যুগের ক্যালেন্ডারে পৌঁছাতে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যােয় অনেক সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে।

৭৭৬ খৃষ্টপূর্ব গ্রীসে অলিম্পিক খেলাধুলার প্রর্বতন। ৩৯৩ খৃষ্টপূর্ব রোমান বর্বতার মুখে বন্ধ হওয়ার পর পিয়ের ডি কুবার্তিেনর প্রচেষ্টায় ১৮৯৬ সালে আবারও সে গ্রীসেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল আধুনিক অলিম্পিকের প্রথম আসর। এ প্রাচীন টুর্নােমন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট-১০০ মিটার দৌড়। বিশ্বের প্রথম নারীদের খেলাধুলা: প্রাচীন অলিম্পিক আসরে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। তবে সে সময় 'হেরিণ গেমস' নামের অন্য একটি খেলায় নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারতেন। প্রতি চার বছর পরপর 'হেরিণ গেমসের' আয়োজন করা হতো এবং লোকমুখে তা 'সিক্সটিন ওমেন' নামে পরিচিতি লাভ করে। সঠিক সময় না জানা গেলেও ধারণা করা হয়, প্রথম অলিম্পিকের সময় থেকেই ওই গেমস শুরু হয়। প্রত্যেক অবিবাহিত নারী এতে অংশগ্রহণ করতেন। ৭৫৩ খৃষ্টপূর্ব রোমের প্রতিষ্ঠা। খৃষ্টপূর্ব ৬৯৫ সালে অ্যাসিরিয়া সাম্রাজ্যের নিনেভাতে বিশ্বের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল অ্যাসিরিয়া সাম্রাজ্যোর সমস্ত প্রজাতির গাছপালা এক আঙ্গিনায় রোপন করা। কিন্তু বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভম হলেও জোর চেষ্টা চলেছিল সে সময়। কারণ বর্তমানের জর্ডান, ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, আরবের উত্তরাঞ্চল, কুয়েত, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল ও ইরানের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে অ্যাসিরিয়া গঠিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বিশ্বের প্রথম দেয়াশলাই প্রাচীন চীনে সর্বপ্রথম তৈরী হয়। পাইনগাছের ছোট ছোট কান্ডের ভেতর সালফার ঢুকিয়ে শলাকা বানানো হতো। যা আগুনের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে উঠত। ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দী পর্যন্ত অনেক ধরনের দেয়াশলাই তৈরী হয়েছিল কিন্তু কোনোটাই ঘর্ষেণ আগুন উৎপন্ন করতে পারত না। ৬০৬ খৃষ্টপূর্ব মিডিস ও চালডিয়া র্কতৃক নিনেভে শহর জয়।

খৃষ্টপূর্ব ৬০৫-৫৬২ সময়ে বিশ্বের প্রথম ব্যাংক ব্যাবিলনীয় এক সম্রাটের আমলে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রম চালু ছিল। কিন্তু খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে পারস্য শাসকদের শাসনামলে ওই ব্যাংকের বিলুপ্তি ঘটে। ওই ব্যাংকের প্রায় সব নথিপত্র বিলুপ্ত হলেও বেশ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা গেছে, যা থেকে জানা যায় ওই ব্যাংকে অনেক কেরানি কর্মরত ছিলেন। ৬০০ খৃষ্টপূর্ব বিশ্বের প্রথম ঝুলন্ত উদ্যান রাজা নেবুচাদনেজার দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার ব্যাবিলন নগরে ঝুলন্ত উদ্যান স্থাপন করেন। যা ছিল বিশ্বের বিস্ময়কর স্থাপনার মধ্যে, অন্যতম। রাজা নেবুচাদনেজার ইচ্ছে ছিল উদ্যানটিতে পাহাড়ি অঞ্চলের অবস্থা বিরাজ করবে, যেখানে তাপমাত্রা ও আদ্র্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যাতে করে সহজাতভাবে গাছপালার বৃদ্ধি ঘটে। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে তবে ধারণা করা হয়, গ্রিক নগরীতে বিশ্বের প্রথম রিলে দৌড় চালু করা হয়: রিলেদৌড় শুরুর সঠিক দিনক্ষণ জানা যায় না। তখনকার রিলেদৌড় বর্তমান রিলেদৌড় থেকে কিছুটা ভিন্নতর ছিল। সে সময়ে দৌড়বিদেরা জ্বলন্ত মশাল বহন করত এবং প্রতিযোগিতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা জ্বালিয়ে রাখত। বিশ্বের প্রথম খাবার মেনু প্রাচীন গ্রিসে খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে বিভিন্ন রাজকীয় অনুষ্ঠানে নৈশভোজের ব্যবস্থা থাকত। নৈশভোজে যোগদানকারী প্রত্যেক সদস্যকে আসন গ্রহণ করার সময় খাবারের মেনু দেওয়া হতো, যেখানে উল্লেখ থাকত কী কী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকে যে-কেউ তাঁর পছন্দের খাবারটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতেন।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৫ অব্দে বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথেন্সে অ্যারিস্টোটলের শিক্ষাদান কেন্দ্র লাইসিয়ামই সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৫ অব্দে অ্যারিস্টোটলসহ কয়েকজন শিক্ষক, একটি গ্রন্থাগার ও বিপুল পরিমাণ ইতিহাসের প্রাকৃতিক নিদর্শন নিয়ে গ্রিক ও ল্যাটিন সাহিত্য এবং বিজ্ঞানসহ নীতিশাস্ত্র, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থিবদ্যা, প্রাণিবিদ্যা ও গণিত বিষয়ে শিক্ষাদান শুরু করে। ২৭১-২১৩ খ্রিষ্টপূর্ব যতদূর জানা যায়, গ্রিসের সিসায়ন বিশ্বের প্রথম আত্মজীবনী রচয়িতা হচ্ছেন। সিসায়ন দক্ষিণ গ্রিসের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, যোদ্ধা ও কূটনীতিক। প্রাণঘাতী বিষে তাঁর মৃত্যুর আগেই তিনি আত্মজীবনী লেখা শেষ করেছিলেন। অনেক অসংগতি সত্ত্বেও এটিই পৃথিবীর প্রথম আত্মজীবনী। তিনি তাঁর লেখায় অপ্রিয় মানুষের সমালোচনা করতে ছাড়েননি। ২০০ খ্রিষ্টপূর্ব সময়কালে বিশ্বের প্রথম আয়না ব্রোঞ্জের আয়না দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। সেটিতে প্রতিফলনের জন্য টিনের প্রলেপ দেওয়া হতো। কাচের আয়না, সে তুলনায় বেশ নতুনই বলা চলে। ত্রয়োদশ শতকে এক ইতালীয় বিজ্ঞানী কাচের আয়না তৈরী করেন। তিনি কাচের পাতে পারদের (মারকারি) প্রলেপ দিয়ে তৈরি করেন আয়না। এটি সারা বিশ্বে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্বের প্রথম কাগজ প্রাচীন চীনে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমভাগে হার্ন রাজবংশের শাসনামলে সর্বপ্রথম কাগজ তৈরি হয়। ওই সময়ের উৎপাদিত কাগজ বর্তমান সময়ে প্রচলিত কাগজের মতো পাতলা ও মসৃণ ছিল না। ওই সময় কাগজ তৈরি হতো এক ধরনের শণ থেকে এবং তা ছিল বেশ পুরু ও অমসৃণ। বিশ্বের প্রথম মাস গণনা গ্রিক জ্যোতির্বিদ হিপার্কাস খৃষ্টপূর্ব ১৯৫-১২৫ সর্বপ্রথম সূক্ষ্ণভাবে চান্দ্র মাসের ব্যাপ্তি গণনা করেন। তিনি রোডস এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় দীর্ঘিদন গবেষণা করেন। তাঁর গণনা থেকে প্রাপ্ত চান্দ্র মাসের দৈর্ঘয ও এর প্রকৃত মাপের মধ্যে ব্যবধান মাত্র এক সেকেন্ডের। তিনি ত্রিকোণমিতির পথিকৃৎ হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

৩২৩ খৃষ্টপূর্ব থেকে ৩০ খৃষ্টপূর্বের মধ্যে বিশ্বের প্রথম স্বাস্থ্য বীমা যত দুর জানা যায়, প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম স্বাস্থ্য বীমার প্রচলন হয়। টলেমীয় রাজবংশের রাজত্বকালে রাষ্ট্রীয়ভাবে সব নাগরিকের জন্য বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা প্রদান হতো এবং তালিকাভুক্ত সব নাগরিকই স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা পেত। এ ক্ষেত্রে রাজকোষাগার থেকে সব চিকিৎসা-খরচ বহন করা হতো। ধারণা করা হয়, এটিই ছিল পৃথিবীর প্রথম স্বাস্থ্য বীমা। বিশ্বের প্রথম ছাত্র আন্দোলন খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০ অব্দে চীনের ইমপিরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সর্বপ্রথম সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের আন্দোলনের ভাষা ছিল রাজপথে দেয়াল-লিখন আর স্স্নোগান। ছাত্রনেতা গও তাই এবং তাঁর সহযোগী জি বাইওর নেতৃত্বে ওই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে সিংহভাগ ওই আন্দোলনে শামিল হন। পরে সাধারণ জনতাও তাতে সহমত পোষণ করেন। ৬৪ খৃষ্টপূর্ব সম্রাট নিরোর আমলে রোমে ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। আট দিনব্যাপী এ অগ্নিকান্ডে ১৪টি প্রশাসনিক অঞ্চলের ১০টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বের প্রথম জন্মদিনের কেক-প্রাচীন গ্রিসের চাঁদের দেবী আর্তেিমসের উপাসকেরা দেবীর জন্মদিনে মধু দিয়ে তৈরি গোল কেক নিবেদন করত। প্রতি মাসে নতুন চাঁদ উঠলে পালিত হতো দেবীর জন্মদিনের উৎসব। কেকের ওপর মোমবাতি জ্বালানো হতো চাঁদের প্রতিরূপ হিসেবে পরবর্তীকালে এ আচারটিকেই সাধারণ মানুষ নিজেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের এক অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছে। নতুন পরিচয়ে দু'হাজার বছরের প্রাচীন শহর 'বন'।

১০০ খিষ্টাব্দে বিশ্বের প্রথম অভিধান হিউ শেন নামে এক চীনা গবেষক সর্বপ্রথম অভিধান বের করেন। এতে ৯ হাজার ৩৫৩টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ভুক্তি ছিল। অভিধানটিতে অন্তর্ভুিক্তগুলো ছিল অক্ষরের ক্রমানুসারে। প্রাচীন অভিধানগুলো এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদের কাজে ব্যবহৃত হতো। সব ধরনের গুণাবলিসমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ অভিধানের প্রচলন শুরু হয় অনেক পরে। প্রথম অভিধানের খবর মেলে চীনে। ৭ সালের ৭ জুলাই ছিল (০৭-০৭-০৭) প্রথম লাকী ট্রিপল সেভেনের দিন। সন গণনার পর থেকে এ ট্রিপল সেভেনের দিনটি ছিল অঙ্কের ৭ সংখ্যাটিকে সৌভাগ্য প্রতীক হিসাবে বলা হয় লাকী সেভেন। এক হাজার বছর পর আবার এ দিনটি ফিরে আসে ০৭-০৭-১০০৭ তারিখ। আবার এক হাজার বছর পর এ দিনটি ফিরে আসে ০৭-০৭-২০০৭ তারিখ। আবার এক হাজার বছর পর এ দিনটি ফিরে আসবে ০৭-০৭-৩০০৭ তারিখ। ০৭-০৭-২০০৭ তারিখ জাপানে ভালবাসা দিবস। জনকন্ঠ পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লাকী ট্রিপল সেভেনে ০৭-০৭-২০০৭ তারিখ ৮০,০০০ হাজার বিয়ে হচ্ছে। আবার এ দিনটি ফিরে আসবে ০৭-০৭-৩০০৭ তারিখ মানে ১,০০০(এক হাজার) বছর পর। চীনে দ্বিতীয় শতাব্দীতে যদ্দুর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম মই আবিস্কৃত হয়। মই আবিস্কার চাষাবাদকে সহজতর করে তোলে। প্রচীনকালে চাষাবাদের প্রক্রিয়া সুসংগঠিত ছিল না। মাটির ঢেলা ভাঙার জন্য মই আবিস্কৃত হওয়ার পর চাষাবাদ আরও সহজ হয়ে যায়। ওই সময়ের মই ছিল ধাতব কাঁটাযুক্ত এবং প্রধানত কৃষিকাজের জন্য।

২৬৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, প্রাচীন রোমান সম্রাট ক্লাডিয়াসের আমলে ভ্যালেন্টাইন এক ধর্মযাজক বিয়ের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের আয়োজন করায় তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। সেই ঘটনার স্মরণেই প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা হয় পাশ্চাত্যে। ৪৯৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, পোপ জেলাসিয়াস সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন ধর্মোৎসব ঘোষণা করেন। সম্প্রতি তার হাওয়া এদেশেও লেগেছে। আমাদের দেশে গত ২০০২ সাল থেকে এ দিবসটি নিয়ে তরুণ-তরুণীদের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে এবং দিন দিন বাড়ছে। এ দিবসটির নাম করণ করা হয়েছে ভ্যালেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস। ৩৩০ সালের ১১ মে, কনষ্টান্টিনোপলকে রোম সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানী করা হয়। ৪২৪ থেকে ৪৫২ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রথম তাই উয়ের শাসনামলে উত্তর উইয়ের রাজধানীতে সর্বপ্রথম স্থানান্তরযোগ্য কাচের প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণ করতে পশ্চিমা কাচ উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় এবং মধ্য এশিয়া থেকে প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে আসা হয়। কয়েক শ শ্রমিক এতে অংশ নেন। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা প্রথম ওয়ালিদের শাসনামলে সেনাপতি মুসার অধিনস্থ সেনাপতি তারিক বিন রিয়াদ তার মাত্র ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে তৎকালীন স্পেনের শাসক রডরিক এবং তার ১ লাখ সদস্যের চৌকস বাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করে ইউরোপ তথা স্পেনের বুকে ইসলামের পতাকা উত্তোলন করেন। ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল, স্পেনকে দখল করে নেয় পর্তুগীজ রাণী ইসাবেলা এবং তার পাশ্র্ববর্তী রাজ্যের রাজা ফার্ডিন্যান্ড এক বিশাল খ্রিষ্টান বাহিনী গঠন করে অতর্কিেত স্পেনের মুসলমানদের উপর প্রচন্ড আক্রমণ, এক ভয়াবহ ও নির্মম ধ্বংস যজ্ঞ চালায়। প্রতারণার মাধ্যমে অসহায় মুসলিম নরনারীকে মসজিদে বন্ধী করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় হাজারো নিস্পাপ মানুষকে-এরপর মুসলমানদেরকে 'এপ্রিল ফুল' বলে গালি দেয়। এপ্রিল ফুল হচ্ছে স্পেনে ৭ লাখ মুসলিম হত্যার কলঙ্কিত অধ্যায়।

১৭০০ বছর আগে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় গবেষণা কাজে রত থাকাকালে এ আবিস্কার করেন। বায়ু সংকোচনের এ নীতি তিনি এয়ারগানের পাশাপাশি পিস্টন, পাম্প ও আরও কিছু যন্ত্রে ব্যবহার করেন। বিশ্বের প্রথম এয়ার গান সংকুচিত বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাথর ছুড়ে মারার অস্ত্র প্রথম তৈরি করেন গ্রিক বিজ্ঞানি টিসিবিয়াস। বিশ্বের প্রথম হাতঘড়ি আবিস্কৃত হয়েছিল প্রায় ১৩০০ বছর আগে। তবে তাকে ছোট করতে করতে হাতের কব্জিতে নিয়ে আসতে আরো অনেক সময় লেগে যায়। প্রায় ৫০০ বছর আগে প্রথম হাতঘড়ি তৈরী সম্ভব হয়। তবে ঠিক কোথায়, কে তা তৈরী করেছিল, তা জানা যায়নি। ধারণা করা হয় ফ্রান্সের বয়েস, জার্মািনর নুরেমবার্গ কিংবা উত্তর ইতালিতে তৈরী হয়েছিল প্রথম হাতঘড়িটি। বিশ্বের প্রথম কাগজের নকশা কাগজ ভাঁজ করে নানান আকৃতি ও নকশা করার এক ধরনের জাপানি শিল্পকলার নাম ওরিগ্যামি। নানা ধরনের পশুপাখি, ফুল-ফল ইত্যাদি এমনকি মানুষেরও নিখুত আকৃতি দান করা যায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে। এটি জাপানে জনপ্রিয় হলেও সর্বপ্রথম এর প্রচলন শুরু হয়েছিল প্রাচীন চীনে টার্গ রাজবংশের (৬১৮-৯০৬) আমলে। বিশ্বের প্রথম মুদ্রণশিল্প প্রাচীন চীনে টারং রাজবংশের (৬১৮-৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ) আমলে সর্বপ্রথম মুদ্রণ যন্ত্রের মাধ্যমে ছাপার কাজ হয়। সেখানে ছবি ও লেখা দুটোই একসঙ্গে ছাপানো হতো। সেরওয়ান স্রাং (৬০২-৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দ) চীন থেকে ভারতে আসেন বৌদ্ধ ধর্মের দীক্ষা নিতে। চীনে তাঁর সংগৃহীত ছবি ও ভ্রমণবৃত্তান্ত নিয়ে সর্বপ্রথম ছাপার কাজ হয় ৬৪৫ সালে। ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে জাপানের একই রাজপরিবারের সদস্য রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে আসছেন। ১৯৯০ সালের ১১ নভেম্বর-জাপানের রাজতন্ত্রের ইতিহাসে সম্রাট আকিহিতো ১২৫তম রাজা। বর্তমান রাজা আকিহিতো হলেন এ পরিবারের ১২৫তম রাজা। ৭৫৬ সালের ৮ মার্চ, স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।