‹ আমার দেখা ঢাকা অংশ ৫২ / ৫২

জনাব মোঃ নওশের আলী তালুকদার-উচ্চমান সহকারী-শহীদুল্লা হল-৩০-০৬-১৯৭৫ সালে অবসরে গেছেন এবং এখনো বেঁচে আছেন।

জনাব এ. জেড. খান, ১৯৬৩ সাল থেকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং অবসর গ্রহণ করেন ১৯৯০ সালের ৩০ জুন। তারপর ১৯৯০ সালের ১ জুলাই থেকে পুনঃনিয়োগ পেয়েছিলেন এবং পুনঃনিয়োগ থাকা অবস্থায় ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আমার জানা মতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রায় ৩০ বছর ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং আর কোন ব্যক্তি উনার মত ৩০ বছর হেড অব দি অফিস হিসেবে কাজ করেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির পর থেকে ৩০-১১-২০০৯ তারিখ পর্যন্ত একটিমাত্র পরিবারের শতভাগ লোক চাকুরীতে ছিলেন। জনাব বদরউদ্দিন আহমেদ, উপ-রেজিস্ট্রার(প্রশাসন-৩) অবসর-তাঁর স্ত্রী-মিসেস লুৎফুন্নেছা, সিনিয়র গ্রন্থাগার সহকারী গ্রেড-১(অবসর) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উনাদের ৩(তিন)টি ছেলের পরিচয় দেয়া হলো-জনাব মোঃ বদরুল আহছান, উপ-পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, জনাব সাইফুল আহসান, সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রারের দপ্তর এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমূল আহসান, জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩(তের)টি অনুষদ, ১১(এগার)টি ইনস্টিটিউট, ৭২(বাহাত্তর)টি বিভাগ, ৪৫(পঁয়তাল্লিশ)টি রিসার্চ ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১৯টি আবাসিক হল, ৩(তিন)টি হোস্টেল, ১টি নির্মাধীন হল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাদানকল্প কলেজ ও ইনস্টিটিউটসমূহ-৮৪টি আর অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ৫টি রয়েছে। ট্রাস্ট ফান্ডের সংখ্যা-২৫৯টি। ল্যান্ড এরিয়া ২৬০.২৪ একরস। আরো ১৪ একর যায়গা যোগ হবে। কনস্টিটুয়েন্ট কলেজেস এবং ইনস্টিটিউটের ছাত্রছীরসংখ্যা-২৮,৯৮৪ হাজার এবং শিক্ষকসংখ্যা-৬,৪৩৮ জন। ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আসন সংখ্যা-৬,১৩৪টি এবং ভর্তি হয়েছিলেন ৬,৬৬৩ জন ছাত্র-ছাত্রী। ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩৪,০০০(চৌত্রিশ হাজার) জন এর মধ্যে ১১,০০০(এগার হাজার) ছাত্রীর সংখ্যা। ৩৪,০০০(চৌত্রিশ হাজার) জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য হলসমূহে আসন সংখ্যা মাত্র ১১,৯০০টি, পাঠদান ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন ৩০-০৮-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ১,৮৬৫ জন শিক্ষক(এরমধ্যে ৫১৫ জন নারী শিক্ষক) এর মধ্যে কর্মরত অধ্যাপকের সংখ্যা অধ্যাপক ইমেরিটাস, অধ্যাপক সংখ্যাতিরিক্ত, অধ্যাপক অনারারি, এল.পি.আর ও শিক্ষা ছূটিসহ প্রায় ৭৪০ জন। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন-১,০৯৯ জন এবং এমফিল করেছেন-১,১৫২ জন। অফিসারের অনুমোদিত পদেরসংখ্যা-৮৬৭ জন (ছূটিসহ)-(পুরুষ-৭২৯ ও মহিলা-১৩৭) মোট=৮৬৭ জন এরমধ্যে ১৪ জন ডক্টরেট ডিগ্রীধারী, ১৪ জন হেড অব দি অফিস, ২০০ জন উপ-রেজিস্ট্রার ও সামনানের অফিসার, ২৯৯ জন সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের অফিসার, ৩৪৫ জন সেকশন অফিসার ও সমমানের অফিসার এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর অফিসার-১০ জন। তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারীর অনুমোদিত পদেরসংখ্যা-১,১১৪ জন (পুরুষ ও মহিলা) এবং ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীর অনুমোদিত পদেরসংখ্যা-২,২০০ জন। (টেকনিকেল ও নন-টেকনিকেলসহ) (পুরুষ+মহিলা-২,২০০) মোট=২,২০০ জন। ১৯২১ সাল থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩,০৫০ জন(শিক্ষক, অফিসার ও কর্মচারী) কাজ করে গেছেন। এর মধ্যে কর্মরত আছেন, ছুটিজনিতসহ, শিক্ষক-অফিসার ও কর্মচারীর সংখ্যা-প্রায় ৬,০০০(ছয় হাজার) জন (৩০-০৮-২০১৩) তারিখ পর্যন্ত। আগামী ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট (১) বিমক থেকে পাবে=২৫৯.৫০ কোটি টাকা বা ৮২.৫০% (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়=৩১.০০ কোটি টাকা বা ০৯.৮৬% মোট=২৯০.৫০ কোটি টাকা বা ৯২.৩৬%। (৩) ঘাটতি ২৪.০৩ কোটি টাকা বা ০৭.৬৪%। ঘাটতিসহ সর্বেমাট=৩১৪.৫৩ কোটি টাকা বা ১০০.০০%। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ছাত্রের পিছনে জনগণের টাকা খরচ হয়=১,০৪,০০০(এক লাখ চার হাজার টাকা)। বাংলাদেশে ২০১৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭১টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে। প্রায় দুই লাখ ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে এর মধ্যে ১৯৯২ সালে প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ''নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়''। শুনাকথা ৩১-০৮-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যত কলেজ ছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এ., বি. কম., বি.এস-সি., বি.এস-সি. (ইঞ্জিনিয়ার), এম.বি.বি.এস., এলএলবি ও এম.এ., এম.কম, এম.এস-সি, এলএলএম পাস কোর্স এবং সম্মান ও মাস্টারর্স-এর সম্মানসহ ডিগ্রী প্রাপ্ত লোকের সংখ্যা প্রায় ১৬(ষোল) লাখ। ১৯২১ সালে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পর ১৮ হাজার বই নিয়ে কার্জন হলে লাইব্রেরী চালু হয়। ২০-০৪-২০০৯ তারিখে ছয় লাখ ২১ হাজার বই এবং ৩০ হাজার পান্ডুলিপি আছে। ১৯২৫ সালে পান্ডুলিপি শাখা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাতটি সংস্কৃত, চারটি বাংলা, তিনটি আরবি-ফার্সি-উর্দু পান্ডুলিপির সূচী বের করতে পেরেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পান্ডুলিপির বেশির ভাগ সংস্কৃত ভাষায় লেখা। প্রাচীন বাংলা, ফার্সি, উর্দু, আরবি ও মৈথিলী ভাষায় লেখা অনেক পান্ডুলিপি আছে। সংগ্রহে কলাপাতা, তালপাতা, ভূর্জপত্র, তোলট কাগজ, গাছের বাকলের ওপরে লেখা যেসব পান্ডুলিপি রয়েছে, তাতে তৎকালীন সমাজচিত্র, রাষ্ট্রদর্শন, ভাষা ও সংস্কৃতি, ধর্ম-ইতিহাস সস্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এ পান্ডুলিপির মধ্যে কিছু পান্ডুলিপি আছে প্রায় ৫ থেকে ৬শ বছর আগের পান্ডুলিপি। একটি পান্ডুলিপি ৫৬৯ বছর আগের।

শুরুতে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর আস্তে আস্তে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টি অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপ নেয়। ২৪-০৫-২০১০ তারিখের হিসেব অনুসারে, শিক্ষকের আবাসিক ভবনের সংখ্যা-৭০টিতে ৫৩৬ জন শিক্ষক আছেন, আর কর্মকর্তা-কর্মচারীর-৫৭টি ভবন আছে এর মধ্যে ফ্ল্যাটের সংখ্যা-৬৮১টি, কক্ষ সংখ্যা-২০২টি ও টিনসেড কক্ষ নং-৫২টি। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১৯টি আবাসিক হল ও ৩টি হোষ্টেল আছে এরমধ্যে আবাসিক ও দ্বৈতাবাসিকসহ সর্বেমাট ১৬,৮৫৩ জন থাকার সুবিধা পায়। এ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ বছরের আবাসিক ব্যবস্থা।

এ লেখা সাধু-চলতি ভাষার সংমিশ্রনে লেখা। ভাষা জ্ঞান আমার একেবারে নেই বললেই চলে। এ লেখার ক্ষেত্রে কিছু ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)